Uncategorized

আইএস, দায়েশ: শেষ জামানার খারেজী গোষ্ঠী – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যৎবাণী

Spread the love
image_pdfimage_print
আইএস, দায়েশ সন্ত্রাসী দল : এরা শেষ জামানার খারেজী গোষ্ঠী – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যৎবাণী’র সাথে মিলিয়ে নিন
 

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته

 

আমার মতে, আইএস/দায়েশ গোষ্ঠিটি একটি চরম পথভ্রষ্ঠ সন্ত্রাসী গ্রুপ। আপনি আপনার নিজকে এবং আপনার সন্তান-সন্ততি, পরিবার-পরিজন, পাড়া প্রতিবেশি সকলকে এদের চক্রান্ত ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ব্যাপারে সচেতন করুন। আমার মতে, এরা হল শেষ জামানার খারেজী গোষ্ঠি।  

খারেজী গোষ্ঠির ব্যাপারে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার সবগুলো এখানে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। তবে আমরা এখানে বিশেষ বিশেষ কিছু বিষয় উল্লেখ করার চেষ্টা করবো।

খারেজী সম্পর্কে সম্ভাব্য সকল হাদিস ও আছার সমূহকে একত্র করলে বোঝা যায়-

(১) খারেজী গোষ্ঠীর ‘কায়েদে আজম/জাতির পিতা’ হল বনু তামীম গোত্রের যুল খুওয়াইসিরাহ, যে খোদ রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে এসে ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বন্টনকার্যে ইনসাফ হচ্ছেনা’ মর্মে দোষারোপ করে গিয়েছিল এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে, এই ব্যাক্তির বংশ থেকে খারেজীদের আবির্ভাব হবে।

(২) রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জামানার আরব’রা মদিনার পূর্ব দিকস্থ ইরাকের নজদ এলাকা বলতে যা বুঝতো, হাদিসের বর্ণনা মতে, রাসুলুল্লাহ ﷺ সেদিকে ইশারা করে বলেছিলেন যে, সেখানে ফিতনা হবে, সেখান থেকে শয়তানের শিং উত্থিত হবে এবং সেখান থেকে এমন একটি গোষ্ঠীর আবির্ভাব হবে, যারা কুরআন পড়বে কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। 

(৩) চতুর্থ খলিফা আলী রা. প্রথমবারের মতো খারেজীদের সঙ্গবদ্ধ গ্রুপের সাথে যুদ্ধ করে তাদেরকে পাইকারী হারে কতল করেন।

(৪) খারেজীদের দৌরাত্বের শিং যতবারই ভেঙ্গে ফেলা হবে, ততবারই বিভিন্ন জামানায় নতুন করে গজিয়ে উঠবে। এমনকি খারেজীদের শেষাংশের মধ্যে দাজ্জাল বেড় হবে।

ইবনু আবি আউফা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- الْخَوَارِجُ كِلَابُ النَّارِ . روى ابن ماجة: ١٧٣ و صححه الألباني في “صحيح ابن ماجة ، و أحمد: ١٩١٣٠, الترمذي: ٣٠٠٠ من حديث أبي أمامة رضي الله عنه . وصححه الألباني في “صحيح الترمذي – ‘খারেজী’রা হল দোযখের কুকুর’। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৭৩; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ৩০০০; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৯১৩০]

প্রথম জামানার খারেজী গোষ্ঠী

# ইউসাইর বিন আমর রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- قُلْتُ لِسَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ هَلْ سَمِعْتَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي الْخَوَارِجِ شَيْئًا قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ ـ وَأَهْوَى بِيَدِهِ قِبَلَ الْعِرَاقِ ـ ‏ يَخْرُجُ مِنْهُ قَوْمٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلاَمِ مُرُوقَ السَّهْمِ مِنَ الرَّمِيَّةِ . رواه البخاري: ٦٩٣٤ و مسلم: ١٠٦٨ – ‘আমি সাহল বিন হুনায়েফ রা.-কে জিজ্ঞেস করলাম: ‘আপনি কি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে খারেজীদের ব্যাপারে কিছু বলতে শুনেছেন?’ তিনি বললেন: আমি তাঁকে ইরাকের দিকে ইশারা করে বলতে শুনেছি: ‘সেখান থেকে একটি গোষ্ঠীর আবির্ভাব হবে, যারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু (কুরআনের মর্ম ও আহকামের বুঝ) তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না, (তা অন্তরে প্রবেশ করা-তো আরো পরের কথা)। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে ছিটকে বেড়িয়ে যাবে, যেভাবে তীর শিকারকে ভেদ করে (অপর দিক দিয়ে) ছিটকে বেড়িয়ে যায়’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৬৯৩৪; সহিহ মুসলীম, হাদিস ১০৬৮]
 
# আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُشِيرُ بِيَدِهِ يَؤُمُّ الْعِرَاقَ : هَا ، إِنَّ الْفِتْنَةَ هَاهُنَا ، هَا ، إِنَّ الْفِتْنَةَ هَاهُنَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ . رواه أحمد في مسنده:١٠/٣٩١ رقم ٦٣٠٢ و ٦١٢٩ , واسناد صحیح علی شرط الشیخین- ‘আমি দেখেছি, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরাকের দিকে ইশারা করে বললেন: ওখানে, নিশ্চই ফিতনা ওখানে, নিশ্চই ফিতনা ওখানে, যেখানে শয়তানের শিং উত্থিত হবে’। [মুসনাদে আহমদ- ১০/৩৯১ হাদিস ৬৩০২, ৬১২৯]
 
# আবু যর রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- إِنَّ بَعْدِي مِنْ أُمَّتِي أَوْ سَيَكُونُ بَعْدِي مِنْ أُمَّتِي قَوْمٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ حَلَاقِيمَهُمْ يَخْرُجُونَ مِنْ الدِّينِ كَمَا يَخْرُجُ السَّهْمُ مِنْ الرَّمِيَّةِ ثُمَّ لَا يَعُودُونَ فِيهِ هُمْ شَرُّ الْخَلْقِ وَالْخَلِيقَةِ . رواه مسلم في الصحيح, كتاب الزكاة, باب الخوارج شر الخلق والخليقة: رقم ١٠٦٧; و ابن ماجه: رقم ١٧٠ – ‘আমার (ইন্তেকালের) পরে আমার উম্মতের মধ্যে অথবা (বলেছেন) অচিরেই আমার পরে আমার উম্মতের মধ্যে থেকে একটি গোষ্ঠীর আবির্ভাব হবে। তারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু (কুরআনের মর্ম ও আহকামের বুঝ) তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না, (তা অন্তরে প্রবেশ করা-তো আরো পরের কথা)। তারা (এক সময়) দ্বীন থেকে এমনভাবে (ছিটকে) বেড়িয়ে যাবে, যেভাবে তীর শিকারকে ভেদ করে (অপর দিক দিয়ে) বেড়িয়ে (চলে) যায়। তারা আর তাতে ফিরে আসবে না। ওরা হচ্ছে নিকৃষ্ট সৃষ্টি ও সৃষ্ট-প্রাণি’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১০৬৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৭০]
 
# আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي اخْتِلَافٌ وَفُرْقَةٌ قَوْمٌ يُحْسِنُونَ الْقِيلَ وَيُسِيئُونَ الْفِعْلَ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنْ الدِّينِ مُرُوقَ السَّهْمِ مِنْ الرَّمِيَّةِ لَا يَرْجِعُونَ حَتَّى يَرْتَدَّ عَلَى فُوقِهِ هُمْ شَرُّ الْخَلْقِ وَالْخَلِيقَةِ طُوبَى لِمَنْ قَتَلَهُمْ وَقَتَلُوهُ يَدْعُونَ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ وَلَيْسُوا مِنْهُ فِي شَيْءٍ مَنْ قَاتَلَهُمْ كَانَ أَوْلَى بِاللَّهِ مِنْهُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا سِيمَاهُمْ قَالَ التَّحْلِيقُ . رواه ابو داؤد في سننه, كتاب السنة, باب في قتال الخوارج: رقم ٤٧٦٥ و صححه الالباني في صحيح أبى داود; و الحاكم في المستدرك: ٢/١٧٦ رقم ٢٧٠٦ – ‘শিঘ্রই আমার উম্মাতের মধ্যে মতদ্বন্দ্ব ও দলাদলীর সময় একটি গোষ্ঠীর আবির্ভাব হবে। তারা কথাবার্তা সুন্দর করে বলবে, তবে (দ্বীনের নামে) মন্দ কাজ করবে।তারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু (কুরআনের মর্ম ও আহকামের বুঝ) তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না, (তা অন্তরে প্রবেশ করা-তো আরো পরের কথা)। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে ছিটকে বেড়িয়ে যাবে, যেভাবে তীর শিকারকে ভেদ করে (অপর দিক দিয়ে) বেড়িয়ে চলে যায়’ এবং তারা আর (দ্বীনের ভিতরে) ফিরে আসবে না যেমনিভাবে (তীর) অার (ধনুকের) উপর ফিরে আসে না। ওরা হচ্ছে নিকৃষ্ট সৃষ্টি ও সৃষ্ট-প্রাণি। সুসংবাদ তার জন্য যে তাদেরকে কতল করবে এবং তারাও তাকে কতল করবে। তারা আল্লাহ’র কিতাবের দিকে (মানুষকে) ডাকবে, কিন্তু তাদের (নিজেদের) মধ্যে তার কিছুই থাকবে না। যে ব্যাক্তি তাদেরকে কতল করবে সে আল্লাহ’র কাছে তাদের চেয়ে উত্তম (বিবেচিত) হবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! তাদের চিহ্ন কী? তিনি বললেন: (তাদের মাথা) মুন্ডানো (থাকবে)’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৭৬৫; মুসতাদরাকে হাকিম- ২/১৭৬ হাদিস ২৭০৬]
 

# অন্য হাদিস সমূহে তাদের আরো কিছু বৈশিষ্টের কথা বর্ণিত আছে, যেমন: আবু সাঈদ খুদরী রা. -এর হাদিসে আছে: يقتلون أهل الإسلام ويدعون أهل الأوثان، لئن أنا أدركتهم لأقتلنهم قتل عاد . أخرجه البخاري في باب: قتل الخوارج والملحدين بعد إقامة الحجة عليهم رقم: ٣١٦٦; و مسلم في الزكاة، باب: ذكر الخوارج وصفاتهم، رقم: ١٠٦٤ – ‘তারা মুসলমানদেরকে হত্যা করবে, আর মুর্তিপুজকদেরকে (নিরাপত্তা ও বন্ধুত্বের জন্য) আহবান করবে। আমি যদি তাদের সাক্ষাত পেতাম, তাহলে অবশ্যই আমি তাদেরকে আদ (জাতিকে পাইকারী হারে) কতল করার ন্যায় কতল করতাম’[সহিহ বুখারী, হাদিস ৩১৬৬; সহিহ মুসলীম, হাদিস ১০৬৪]

# আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- بينما نحنُ عند رسولِ اللهِ صلَّى اللهُ عليهِ وسلَّمَ وهو يَقْسِمُ قِسْمًا ، أتاهُ ذو الخويصرةِ ، وهو رجلٌ من بني تميمٍ ، فقال : يا رسولَ اللهِ اعدلْ ، فقال : ويلكَ ، ومن يعدلْ إذا لم أعدلْ ، قد خبتُ وخسرتُ إن لم أكن أعدلُ . فقال عمرُ : يا رسولَ اللهِ ، ائذن لي فيهِ فأضربُ عنقَهُ ؟ فقال : دَعْهُ ، فإنَّ لهُ أصحابًا يُحَقِّرُ أحدكم صلاتَهُ مع صلاتهم ، وصيامَهُ مع صيامِهم ، يقرؤونَ القرآنَ لا يُجاوزُ تراقيهم ، يمرقونَ من الدِّينِ كما يمرقُ السهمُ من الرَّمِيَّةِ ، ينظرُ إلى نصلِهِ فلا يوجد فيهِ شيٌء ، ثم ينظرُ إلى رِصَافِهِ فما يوجد فيهِ شيٌء ، ثم ينظرُ إلى نَضِيِّهِ – وهو قَدَحُهُ – فلا يوجد فيهِ شيٌء ، ثم ينظرُ إلى قُذَذِهِ فلا يوجد فيهِ شيٌء ، قد سبقَ الفرثُ والدمُ ، آيتهم رجلٌ أسودُ ، إحدى عضديْهِ مثلُ ثديْ المرأةِ ، أو مثلُ البضعَةِ تَدَرْدَرُ ، ويخرجونَ على حين فُرْقَةٍ من الناسِ . قال أبو سعيدٍ : فأشهدُ أني سمعتُ هذا الحديثَ من رسولِ اللهِ صلَّى اللهُ عليهِ وسلَّمَ ، وأشهدُ أنَّ عليَّ بنَ أبي طالبٍ قاتلهم وأنا معهُ ، فأمر بذلكَ الرجلَ فالتُمِسَ فأُتِيَ بهِ ، حتى نظرتُ إليهِ على نَعْتِ النبيِّ صلَّى اللهُ عليهِ وسلَّمَ الذي نَعَتَهُ . أخرجه مسلم : ١٠٦٤; البخاري: ٣٦١٠; ابن حبان: ٦٧٤١ – ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ (একবার সম্পদ) বন্টন করে দিচ্ছিলেন, তখন আমরা তাঁর কাছেই ছিলাম। (এমন সময়) যুল খুওয়াইসিরাহ এলো (রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে)। সে ছিল বনু তামীম গোত্রের লোক। সে বললো: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! (বন্টনে) ইনসাফ করেন, (আপনি-তো ইনসাফ করছেন না)’। এতে রাসুলুল্লাহ ﷺ বললে: ‘দুর্ভোগ তোমার। আমি (নবী হয়ে) যদি ইনসাফ না করি, তাহলে আর কে ইনসাফ করবে? আমি যদি ইনসাফ না করি, তবে তো আমি (দুনিয়া ও আখেরাতে) বরবাদ ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাবো’। তখন ওমর রা. বলে উঠলেন: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে ওর গর্দানটা নেয়ার অনুমতি দিবেন না’ !? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: ‘ওকে যেতে দাও (তোমরা)! নিশ্চই তার (এমন সব) সঙ্গী-সাথী রয়েছে, যাদের নামাযের কাছে তোমাদের যে কারো নামায এবং যাদের রোযার কাছে তোমাদের রোযা তুচ্ছ মনে হবে। (অথচ বাস্তবতা হল) তারা কুরআন পাঠ করে, কিন্তু (কুরআনের মর্ম ও আহকামের বুঝ) তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করে না, (সেখানে অন্তরে প্রবেশ করা-তো আরো পরের কথা)। তারা (এক সময়) দ্বীন থেকে এমনভাবে ছিটকে বেড়িয়ে যাবে, যেভাবে তীর শিকারকে ভেদ করে (অপর দিক দিয়ে) ছিটকে বেড়িয়ে (চলে) যায়; (এবং তখন) সেটির (চোখা) ফলকের দিকে তাকালে তাতে (শিকারের রক্ত, চর্বি, গোস্তের) কিছুই পাওয়া যায়না, অতঃপর সেটির রিসাফের দিকে তাকালে তাতেও কিছু পাওয়া যায় না, অতঃপর সেটির নাযী’ -আর সেটা হল ক্বিদহ- এর দিকে তাকালে তাতেও কিছু পাওয়া যায় না, অতঃপর সেটির কুযাযে’র দিকে তাকালে তাতেও কিছু পাওয়া যায়না। অথচ, (তীরটি আগা গোড়া পশুর) গোশত ও রক্তের ভিতর দিয়ে চলে গেছে। এদের চিহ্ন হবে, (এদের মধ্যে এমন) একজন কালো ব্যাক্তি থাকবে, যার এক হাতের কনুই’-এ নারীর স্তনের মতো বা গোস্তের সামান্য টুকড়ার মতো থাকবে, (যা) নড়াচড়া করবে। এরা লোকজনের মাঝে বিভক্তির সময় আত্বপ্রকাশ করবে’। আবু সাঈদ (খুদরী) রা. বলেন: ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এই হাদিসটি আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে শুনেছি। আমি (এও) সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী বিন আবি ত্বালেব আমার উপস্থিতিতে তাদেরকে হত্যা করেন। তখন তিনি (ওই কালো) লোকটির (খোঁজ বেড় করার) নির্দেশ দেন। পরে (তাকে মৃত অবস্থায়) পাওয়া যায়। এমনকি আমি তাকিয়ে দেখলাম যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ তার যেমনটা বর্ণনা দিয়েছিলেন, সে তেমনই (দেখতে)’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ১৭৩; সহিহ মুসলীম, হাদিস ৩০০০; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ১৯১৩০]
 
# ইউসুর বিন সাঈদ রহ. উবাইদুল্লাহ বিন আবি রাফে’ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে- أَنَّ الْحَرُورِيَّةَ لَمَّا خَرَجَتْ وَهُوَ مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالُوا لَا حُكْمَ إِلَّا لِلَّهِ قَالَ عَلِيٌّ كَلِمَةُ حَقٍّ أُرِيدَ بِهَا بَاطِلٌ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصَفَ نَاسًا إِنِّي لَأَعْرِفُ صِفَتَهُمْ فِي هَؤُلَاءِ يَقُولُونَ الْحَقَّ بِأَلْسِنَتِهِمْ لَا يَجُوزُ هَذَا مِنْهُمْ وَأَشَارَ إِلَى حَلْقِهِ مِنْ أَبْغَضِ خَلْقِ اللَّهِ إِلَيْهِ مِنْهُمْ أَسْوَدُ إِحْدَى يَدَيْهِ طُبْيُ شَاةٍ أَوْ حَلَمَةُ ثَدْيٍ فَلَمَّا قَتَلَهُمْ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ انْظُرُوا فَنَظَرُوا فَلَمْ يَجِدُوا شَيْئًا فَقَالَ ارْجِعُوا فَوَاللَّهِ مَا كَذَبْتُ وَلَا كُذِبْتُ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا ثُمَّ وَجَدُوهُ فِي خَرِبَةٍ فَأَتَوْا بِهِ حَتَّى وَضَعُوهُ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ وَأَنَا حَاضِرُ ذَلِكَ مِنْ أَمْرِهِمْ وَقَوْلِ عَلِيٍّ فِيهِمْ زَادَ يُونُسُ فِي رِوَايَتِهِ قَالَ بُكَيْرٌ وَحَدَّثَنِي رَجُلٌ عَنْ ابْنِ حُنَيْنٍ أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ ذَلِكَ الْأَسْوَدَ . رواه مسلم, كتاب الزكاة, باب التحريض على قتل الخوارج : رقم ١٠٦٦ – ‘হারুরিয়্যাহ’রা যখন বেড় হল, তখন তিনি (তথা উবাইদুল্লাহ বিন আবি রাফে) আলী রা.-এর সাথে ছিলেন। তারা বললো: لَا حُكْمَ إِلَّا لِلَّهِ – ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো হুকুমদাতা নেই’। তখন: আলী রা. বললেন: ‘কথাটা বরহক্ব-সত্য, (কিন্তু) তা বাতিল উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। নিশ্চই রাসুলুল্লাহ ﷺ (আমাদের কাছে এক শ্রেণির) মানুষের বৈশিষ্ট বর্ণনা করেছিলেন (যে, নিকট ভবিষ্যতে তাদের আবির্ভাব হবে এবং মুসলীম উম্মাহ’র মাঝে ফিতনা ঘটাবে)। আমি অবশ্যই এইসব লোকদের মধ্যে (সেসব বিশেষ) বৈশিষ্ট (দেখে বিলক্ষন) চিনে নিতে পারছি। তারা তাদের মুখে (কুরআনের) হক্ব কথা বলে বটে, (কিন্তু সেটা) তাদের কারো এই অংশ অতিক্রম করে না -একথা বলে তিনি কন্ঠনালীর দিকে ইশারা করলেন। (আরো বললেন:) আল্লাহ’র সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে ক্রধের পাত্র তারা। তাদের মধ্যে একজন কালো ব্যাক্তি হবে, যার এক হাতে ভেড়া’র স্তনবৃন্ত বা (নারীর) স্তনের বোঁটার মতো থাকবে’। (এরপর এক সময় যখন বাস্তবেই তাদের আবির্ভাব হল এবং) আলী রা. (যুদ্ধ করে) তাদেরকে কতল করলেন, তখন বললেন: তোমরা (ওই কালো ব্যাক্তিটিকে) খোঁজো’। ফলে (মৃতদেহ গুলোর মধ্যে) তার খোঁজ করা হল, কিন্তু (সম্ভাব্য কারো হাতের মধ্যে সেরকম) কিছুই পাওয়া গেল না। তিনি বললেন: ‘তোমরা (ওখানে আবার) ফিরে যাও, (সে অবশ্যই আছে)। আল্লাহ’র কসম, আমি মিথ্যা বলিনি এবং আমাকেও মিথ্যা বলা হয়নি’। (একথা তিনি) দুবার বা তিন বার বললেন। অতপর (তারা সেখানে আবার ফিরে গিয়ে খুঁজতে লাগলো। অবশেষে) তাকে তারা (মৃত দেহের) স্তুপের মধ্যে (মড়া অবস্থায় পড়ে) পেলো। তখন তারা তাকে এনে একেবারে তাঁর সামনে রেখে দিলো’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১০৬৬; সুনানুল কুবরা, বাইহাকী– ৮/২৯৬ হাদিস ১৬৭০১]
 
ফায়দা: খারেজীদের ব্যাপারে বহু হাদিস রয়েছে, যার মধ্য থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস এখানে উল্লেখ করলাম। এসকল হাদিসে এবং নিম্নের মূল হাদিসগুলোতে দেখা যায়, সকল খারেজীদের একটি বিশেষ common বৈশিষ্ট রয়েছে, আর সেটা হল: ‘তারা কুরআন পড়ে, কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করে না’। অর্থাৎ, কুরআনের মর্ম ও আহকামের সঠিক বুঝ ও প্রয়োগবিধি তাদের হৃদয়ঙ্গম হয় না।
 
কিন্তু প্রশ্ন হল, খারেজীরা ছাড়াও-তো অপরাপর জাহেল-মূর্খদের কুরআনের মর্ম ও আহকামের সঠিক বুঝ ও প্রয়োগবিধি হৃদয়ঙ্গম হয় না এবং এর ফলে আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাই যে, সমাজের সর্বসাধারণ মুসলমানরা সামান্য কিছু আয়াত বা  হাদিসের অনুবাদ পড়ে অথবা অ-মুহাক্কেক আলেমরা কুরআন সুন্নাহ’র উপর অগভীর পড়াশোনার উপর ভিত্তি করে -এবং সাথে কিছুটা নিজেদের বিবেকের যুক্তি’কে কাজে লাগিয়ে- শরীয়তের কোনো মাসআলাহ’র ব্যাপারে অহরহ তর্ক করছে বা  নিজের মতামত দিচ্ছে, অথচ, বড় আলেমগণ জানেন যে ওগুলোর একটাও শরয়ী ফাতওয়া/সমাধানের আওতায় পড়ে না, তাহলে ওইসকল সর্বসাধারণ মুসলমান এবং অ-মুহাক্কেক আলেমরা সবাই কি ‘খারেজী’র হুকুমে পড়ে?

এর উত্তর হল: ‘না’। খারেজীদের কন্ঠনালী দিয়ে কুরআনের মর্ম ও আহকামের সঠিক বুঝ ও প্রয়োগবিধি হৃদয়ঙ্গম না হওয়ার অর্থ আপনারা যেমনটা বুঝেছেন, ব্যাপার তেমনটা নয়। খারেজীদের বিভিন্ন বৈশিষ্টের মধ্যে মূল দুটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট হল:

(১) সাহাবায়ে কেরাম রা., তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন ও মুহাক্কিক ওলামায়ে কেরামগণ -যাঁরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তুর্ভূক্ত- তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহ’র আলোকে নূন্যতম যে যে বৈশিষ্টের অধিকারী নারী ও পুরুষ’কে ‘মুসলীম’-এর মধ্যে গণ্য হওয়ার আক্বিদা পোষন করেন এবং তাদেরকে ইসলামের সীমা থেকে বেড় হয়ে গেছে বলে মর্মে আক্বিদা পোষন করেন না, খারেজীরা তাদেরকেই ‘কাফের/মুরতাদ’ হয়ে গেছে মর্মে আক্বিদা পোষন করে খোদ কুরআনের আয়াতের দলিল দেখিয়েই।

ফলে খারেজীদের মতে, খাঁটি মুসলমান বলতে শুধু তারাই, আর যারা তাদের মতাদর্শ ও কর্তৃত্ব অস্বীকার করে, তারা ‘কাফের/মুরতাদ’ এবং তাদেরকে মুরতাদ হিসেবে কতল করা হালাল, তাদের ধ্বনসম্পদ ‘মুরতাদের’ গ্রহন করা হালাল ইত্যাদি।

(২) সাহাবায়ে কেরাম রা., তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন ও মুহাক্কিক ওলামায়ে কেরামগণ -যাঁরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তুর্ভূক্ত- তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহ’র আলোকে নূন্যতম যে যে বৈশিষ্টের অধিকারী আমীর/খলিফা/শাসক’কে ‘মুসলীম’-এর মধ্যে গণ্য করে তার অনুগত্যাধীনে থাকাকে  সর্বসাধারণ মুসলমান নর-নারীর উপর ওয়াজিব মনে করেন এবং উক্ত আমীর/খলিফা/শাসক’কের তার অনুগত্য থেকে বেড় হয়ে বিদ্রোহ ঘোষনা করাকে হারাম মনে করেন, খারেজীরা সেই একই বৈশিষ্টের আমীর/খলিফা/শাসক’কে কুরআন থেকে দলিল দিয়েই ‘কাফের/মুরতাদ’ গণ্য করে তার অনুগত্যাধীনে থাকাকে হারাম ও কুফর বলে বিশ্বাস করে এবং তার অনুগত্য থেকে বেড়িয়ে যাওয়াকে ফরয ও ইমানের অঙ্গ বলে বিশ্বাস করে। যে সকল মুসলমান নর-নারী তার অনুগত্য স্বীকার করে, খারেজীরা তাদেরকেও পাইকারী হারে ‘কাফের/মুরতাদ’ হয়ে গেছে মর্মে বিশ্বাস করে।

ফলে খারেজীদের মতে, এসকল মুরতাদ আমীর/খলিফা/শাসক’-কে উৎখাত করার জন্য তার বিরুদ্ধে জিহাদ/কিতাল করা হালাল ও ফরয, সেই জিহাদ/কিতালে পরাজিতদের নারীদেরকে দাসী বানানো ও তাদের সাথে যৌন-সঙ্গম করা হালাল, তাদেরকে দাস-দাসী হিসেবে ক্রয়-বিক্রয় করা হালাল, তাদের পরিত্যাক্ত সকলপ্রকার ধ্বনসম্পদ ‘গণীমতের মাল’ হিসেবে ভোগ করা হালাল ইত্যাদি!!! 

মূলতঃ তারা উগ্র জাহেল-পন্ডিত হওয়ার কারণে খিলাফত, জিহাদ/কিতাল, কিসাস, হদ্, অন্যান্য বিচার কার্য প্রভৃতি বিষয়ে কুরআন থেকে নিজেদের উগ্র ভাসা ভাসা বুঝ মতো এমন সব ব্যাখ্যা ও আইন তৈরী করে সেটাকে ‘ইসলামী শরীয়ত’ মনে করে চলে, যেগুলো বাস্তবে কুরআন নির্দেশিত ‘ইসলামী শরীয়ত’ নয়। বরং ওটা হল তাদের অপব্যাখ্যা মূলক একটা কাট্টা ‘খারেজী শরীয়ত’। ‘ইসলামী শরীয়ত’ হল কুরআন-সুন্নাহ’র সেই ব্যাখ্যা ও আইনের নাম, যার উপর সাহাবায়ে কেরাম থেকে নিয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র আইম্মায়ে মুহাদ্দেসীন, মুজতাহিদীন ও মুহাক্কিক আলেমে-দ্বীনগণের ইজমা (ঐক্যমত) রয়েছে এবং শরয়ী ইজতিহাদের আলোকে ইস্তেম্বাত করা হয়।   

ফলে তারা কুরআন মানার নামে বাস্তবে পদে পদে আল্লাহ’র কুরআনের বিভিন্ন নির্দেশ অমান্য করতে থাকে এবং (শরীয়তশিদ্ধ) ‘খলিফা/আমীর/শাসক ও তার অনুগত্যাধীন মুসলীম উম্মাহ’র’ ইজমায়ী জামাআতের মাঝে ফাটল ধরিয়ে নতুন একটা স্বতন্ত্র পথভ্রষ্ঠ তাকফিরি (অর্থাৎ সামান্য কারণেই কাফের কাফের বলার) ফেরকা/দল/Cult তৈরী করে, আর ভাবে যে তারাই কুরআনের সাচ্চা অনুসারী ও আল্লাহ’র প্রিয় মুসলীম বান্দা! কিন্তু বাস্তবে তারাই দ্বীন ইসলাম থেকে ছিটকে বেড় হয়ে যায় এবং তারাই হল দোযখের কুকুর।

কিন্তু এদের বড় সমস্য হল, এরা একদমই বোঝে না যে, তারা বোঝেনা। তারা শুধু এতটুকুই বোঝে যে, তারাই শুধু বোঝে। এই জাতীয় ব্যাক্তিদেরকে একথা বোঝানো মুশকিল যে, তারা বোঝে না এবং ভূল পথের উপর রয়েছে।

তাদের মনমগজে উগ্রতা ও ক্রধধারী এররোখা কট্টর মনমানষিকতার অন্ধকার হল কুরআন বোঝার পথে প্রথম অন্তরায়দ্বিতীয় অন্তরায় হল, তারা কুরআন ও সুন্নাহ’কে ওইসকল মুহাক্কিক ওস্তাদগণের কাছ থেকে শিক্ষা করাকে জরুরী মনে করে না, যে ধারাটির শুরুতে রয়েছে বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সা., তারপর সাহাবায়ে কেরাম এবং তার পরে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তুভূক্ত আইম্মায়ে মুহাদ্দেসীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন ও মুহাক্কেক আলেমে দ্বীন, যাঁদের কাঁধে থাকে ইলমের ঝান্ডা বহনের দায়িত্ব। আর তৃতীয় অন্তরায় হল, নিজে কুরআন থেকে যা বুঝেছে, সেটাই একমাত্র সহিহ বুঝ মনে করে গর্বীত হওয়া, আর সেই বুঝের বিপরীত পাশে থাকা সকল সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুহাদ্দেসীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন ও মুহাক্কেক আলেমে দ্বীনের বুঝ ভুল মনে করা। চতুর্থ অন্তরায় হল, অন্যের মতের কাছে নিজের মতকে পরাজিত হওয়াটাকে মেনে নিতে পারে না -চাই অপরজনের মতটি যত সহিহই হোক না কেনো। 

এই খারাপ স্বভাবগুলিকে শয়তান যখন খারেজীদের নিজেদের চোখে সুন্দর, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সহিহ বানিয়ে দেয়, তখন সেটার পরিণতি অত্যন্ত ভয়ঙ্করী এক কট্টর রূপ ধারণ করে।  

চতুর্থ খলিফা আলী রা.-এর জামানার খারেজীরা- (১) সকল সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের অনুসারী সাধারণ মুমিন মুসলমানদের সবাই ‘কাফের/মুরতাদ’ হয়ে গেছেন- বলে বিশ্বাস করতো এবং শুধু নিজেদেরকে মুসলমান মনে করতো। (২) এই বিশ্বাস থেকেই তারা খলিফা আলী রা. সহ তাঁর অধিনস্ত সকল প্রশাসকের অনুগত্য থেকে বেড় হয়ে গিয়ে আলাদা ফেরকা/দল গঠন করেছিল। (৩) এই বিশ্বাস থেকেই তারা সকল সাহাবী ও তাদের অনুসারী সাধারণ মুমিন মুসলমানদের বিরুদ্ধে (মানে তাদের মতে কাফেরদের বিরুদ্ধে) জিহাদ করাকে ফরয মনে করতো। (৪) সাহাবীগণের কেউ কুরআনের আয়াত ও সুন্নাহ’র ভিত্তিতে কিয়াস করে কোনো মাসআলায় রায় দিলে তারা সূরা মায়েদা’র নং ৪৪ আয়াত – وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ – ‘আর আল্লাহ’ যা নাজিল করেছেন, যা তা দিয়ে বিচার করে না, তারাই কাফের’ -তেলাওয়াত করে বলতো যে, এভাবে নিজের রায় দেয়ার কারণে রায় দাতা কাফের হয়ে গেছে। (৫) তারা প্রকৃত মুসলমানদেরকে তো কাফের/মুরতাদ বলতো, আর অন্য দিকে কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করে মুশরেক কাফেরদের সমর্থন করতো। ইত্যকার পথভ্রষ্ঠতা ছিল তাদের দ্বীন তাদের শরীয়ত, যার সাথে দ্বীন ইসলাম ও শরীয়তের কোনো সম্পর্ক ছিল না। দ্বীন ইসলামকে এদের থেকে হিফাজত করা ছিল সময়ের অপরিহার্য দাবী। এজন্য হযরত অালী রা. তাঁর খিলাফত কালে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে তাদেরকে পাইকারী হারে কতল করেন। খারেজীদের ব্যাপারে খোদ রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছিলেন- لَئِنْ أَدْرَكْتُهُمْ لأَقْتُلَنَّهُمْ قَتْلَ ثمود – ‘আমি যদি তাদের সাক্ষাত পেতাম তাহলে অবশ্য অবশ্যই তাদেরকে ছামুদ (জাতি)কে (পাইকারী হারে) কতল করার ন্যায় কতল করতাম’[সহিহ বুখারী, সহিহ মুসলীম]

খারেজী গোষ্ঠী’র দৌরাত্ব শেষ জামানায় দাজ্জাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে

আজ থেকে প্রায় চোদ্দ’শ বছর আগে আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী রা.-এর খিলাফতের জামানায় খারেজী গোষ্ঠি’র প্রথম দলবদ্ধ আবির্ভাব ও গণ পতন হলেও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অন্য ভবিষ্যৎবাণী থেকে বোঝা যায়, খারেজীদের উত্তরসূরীদের দৌরাত্ব বিভিন্ন জামানায় প্রকাশ পাবে, এমনকি ওদের শেষাংশের মধ্যেই ‘মাসিহ দাজ্জাল’ -এর আবির্ভাব হবে।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- سَمِعْتُ رسولَ اللَّهِ صلَّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ يقولُ : يَخرجُ قومٌ من قَبَلِ المشرقِ ، يقرَؤونَ القرآنَ لا يجاوِزُ تراقيَهُم ، كلَّما قُطِعَ قرنٌ نشأَ قَرنٌ حتَّى يخرُجَ في بقيَّتِهِمُ الدَّجَّالُ . اخرجه أحمد في المسند: ٦/٤١٣ رقم ٦٩٥٢, و قال أحمد شاكر: إسناده صحيح ; و الحاكم في المستدرك: رقم ٨٥٥٨ ; قال الهيثمي في مجمع الزوائد: ٦/٢٣٠: رواه الطبراني وإسناده حسن; و ابو داود طيالسي: رقم ٢٢٩٣ و رواته ثقات كما في إتحاف الخيرة ألبوصيرى :٨/١١٨ رقم ٧٦٢٢ – ‘আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে এরশাদ করতে শুনেছি: পূর্ব দিক থেকে একটি গোষ্ঠী বেড় হবে, তারা কুরঅান পড়বে, (কিন্তু আয়াতগুলো) তাদের (গলার) কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। (প্রকৃত অর্থ ও মর্ম কলবে ঢোকা তো পরের কথা)। যতবারই (তাদের দৌরাত্বের) শিং-কে কেটে ফেলা হবে, (ততবারই তাদের) নতুন শিং গজাবে। এমনকি (এভাবে চলতে চলতে) তাদের অবশিষ্ঠাংশের মধ্যে দাজ্জাল বেড় হবে’[মুসনাদে আহমাদ-৬/১৫৩ হাদিস ৬৯৫২; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস ৮৫৫৮; আবু দাউদ তায়ালিসী, হাদিস ২২৯৩; ত্বাবরাণী: মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৬/২৩০]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: كُلَّمَا خَرَجَ قَرْنٌ قُطِعَ , أَكْثَرَ مِنْ عِشْرِينَ مَرَّةً حَتَّى يَخْرُجَ فِي عِرَاضِهِمُ الدَّجَّالُ . رواه ابن ماجة: ١٧٤ ; وصححه البوصيري في “الزوائد”: ١/٢٦ ، وحسنه الألباني في “صحيح ابن ماجة – ‘আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে এরশাদ করতে শুনেছি: ‘যতবারই তাদের (দৌরাত্বের) শিং বেড় হবে, (ততবারই তা) কেটে ফেলা হবে’। (এই একই কথা তিনি বিশ বারেরও বেশি বললেন। তারপর বললেন:) এমনকি (এভাবে চলতে চলতে) তাদের শেষাংশের মধ্যে দাজ্জাল বেড় হবে’[সুনানে ইবনে মাজাহ- ১/৪৭ হাদিস ১৭৪]

এই হাদিসেও আপনার দেখেতে পেলেন যে, সব খারেজীদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট রয়েছে, আর সেটা হল: ‘তারা কুরআন পড়ে কিন্তু কুরআনের মর্ম তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করে না’।

শেষ জামানার খারেজী গোষ্ঠী / ফেরকা : আইএস, দায়েশ

আলী রা. থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- سَيَخْرُجُ قَوْمٌ فِي آخِرِ الزَّمَانِ، أَحْدَاثُ الأَسْنَانِ، سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ، يَقُولُونَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ البَرِيَّةِ، لاَ يُجَاوِزُ إِيمَانُهُمْ حَنَاجِرَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ، كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ، فَأَيْنَمَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاقْتُلُوهُمْ، فَإِنَّ فِي قَتْلِهِمْ أَجْرًا لِمَنْ قَتَلَهُمْ يَوْمَ القِيَامَةِ . رواه بخاري , كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم, باب قتل الخوارج والملحدين بعد إقامة الحجة عليهم: رقم ٦٩٣٠ ; و مسلم: رقم ١٠٦٦; احمد: ١/٤٣١ رقم ٦١٦ بإسناد صحيح, تحقيق: حمزة أحمد الزين; – ‘শিঘ্রই শেষ জামানায় (এমন একটি) গোষ্ঠীর আবির্ভাব হবে, (যারা হবে) কাঁচা- বয়সের (সব ছেলেপুলে/উর্তি যুবক এবং) জ্ঞান-বুদ্ধিতে অপরিপক্ক/নির্বোধসূলভ। তারা কথা বলবে উৎকৃষ্ট কথা (কিন্তু কথাগুলোর সহিহ ব্যাখ্যা না বোঝার কারণে তারা মুর্খতা বসতঃ তা গলত স্থানে প্রয়োগ করবে)। তারা কুরআন পাঠ করবে, (কিন্তু আয়াতগুলো) তাদের (গলার) কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না, (ক্বলবে ঢোকা তো পরের কথা)। তারা দ্বীন (ইসলাম) থেকে (এমনভাবে) ছিটকে বেড় হয়ে যাবে, যেভাবে তীর শিকার ভেদ করে ছিটকে বেড় হয়ে যায়। তোমরা তাদেরকে যেখানেই সাক্ষাত পাবে, কতল করে ফেলবে। কারণ, যে তাদের কতল করবে, নিশ্চই তার জন্য কেয়ামতের দিন আল্লাহ’র কাছে তাদেরকে কতলের মধ্যে পুরষ্কার রয়েছে ’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৬৯৩০; সহিহ মুসলীম, হাদিস ১০৬৬; মুসনাদে আহমদ– ১/৪৩১ হাদিস ৬১৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৭৬৭; সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৪১১৩; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২১৮৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৬৮]

এরা হল শেষ জামানার খারেজী গোষ্ঠি এবং তাদেরও ওই বিশেষ বৈশিষ্টটি রয়েছে, অর্থাৎ: ‘তারা কুরআন পড়ে কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করে না’। 

ইমাম হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. يَقُولُونَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ البَرِيَّةِ – ‘তারা কথা বলবে উৎকৃষ্ট কথা’ -এর ব্যাখ্যায় লিখেছেন যে, এর অর্থ: কুরআন। [ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার- ৬/৬১৯] অর্থাৎ, এই শেষ জামানার খারেজীরাও কুরআনের আয়াত দিয়েই তাদের কথা ও কাজের স্বপক্ষে দলিল দিবে বা মানুষকে তাদের দিকে ডাকবে, যেমন: ইসলামী খিলাফত, কিতাল/জিহাদ, কেসাস, শরীয়াহ ভিত্তিক বিচার ইত্যাদির কথা বলবে বা সেদিকে মানুষকে ডাকবে, কিন্তু বাস্তবতা হবে তা-ই যা হযরত আলী রা. বলেছিলেন: كلمة حق يراد بها باطل — কথা সত্য, (কিন্তু) তা বাতিল উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত। 

তবে শেষ জামানার খারেজীদের চেনার আরো দুটি বিশেষ বৈশিষ্টের কথা উল্লেক করা হয়েছে যে, তারা হবে  أَحْدَاثُ الْأَسْنَانِ এবং سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ। এই বৈশিষ্ট দুটি শেষ জামানার খারেজী ছাড়া ইতিপূর্বেকার অন্য কোনো জামানার খারেজীদের ব্যাপারে কোনো হাদিসে বর্ণিত হয়েছে মর্মে আমার ক্ষুদ্র চোখে ধরা পরেনি। 

শব্দগুচ্ছ أَحْدَاثُ الْأَسْنَانِ -এর মধ্যে আরবী শব্দ حدث অর্থ: নভিস, নতুন, প্রারম্ভ, আরম্ভ ইত্যাদি যার বহুবচন হল أحداث । আর سن অর্থ (বয়স/বৎসর) এবং এর বহুবচন হল اﻷسنان । আমি এর বঙ্গানুবাদ করেছি: কাঁচা- বয়সের (সব ছেলেপুলে/উর্তি যুবক)’আর শব্দগুচ্ছ سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ -এর মধ্যে আরবী শব্দ حلم অর্থ: আকল, আক্কেল-জ্ঞান, বিবেক-বোধ, বুদ্ধি ইত্যাদি যার বহুবচন হল الأحلام। আর سَفِيه অর্থ নির্বোধ, বেউকুফ (stupid), আহাম্মক, বুদ্ধিভ্রষ্ট, স্থুলবুদ্ধিসম্পন্ন ইত্যাদি এবং এর বহুবচন হল سُفَهاءُ । আমি এর বঙ্গানুবাদ করেছি:জ্ঞান-বুদ্ধিতে অপরিপক্ক/নির্বোধসূলভ’।

এই শেষ জামানার খারেজী গোষ্ঠিকে চেনা মুসলীম উম্মাহ’র জন্য অপরিহার্য। আর আমরা ‘নবীজীর ভবিষ্যৎবাণী’ সিরিজে দেখিয়ে এসেছি যে, আমরা নিঃসন্দেহে শেষ জামানায় ঢুকে পড়েছি। এখন দেখার বিষয়, এই জামানায় এই সবগুলো বৈশিষ্টের কোন গোষ্ঠি রয়েছে?

এ জামানার অনেকে বিভিন্ন বই, পত্রপত্রিকা, ওয়েবপেজ ইত্যাদিতে মুসলীম উম্মাহ’র মাঝে বিদ্যমান বিভিন্ন গ্রুপকে শেষ জামানার ‘খারেজী গোষ্ঠী’ বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ওগুলোর বেশিরভাগই এমন যে, তাদের কারো কারো মধ্যে খারেজীদের বিশেষ বৈশিষ্টের কম-বেশি সাদৃশ্যতা রয়েছে মর্মে অনুভূত হলেও, তাদেরকে আমার মন ‘খারেজী ফেরকা/দল’ বলতে পুরোপুরি সায় দেয় না। সন্দেহ নিয়ে নিশ্চিত কোনো মত দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তবে যাদেরকে কোনো সন্দেহ ছাড়াই শেষ জামানার খারেজী বলা যায় (এবং বিশ্বের বহু ওলামায়ে কেরাম যাদেরকে শেষ জামানার খারেজী বলে মত প্রকাশ করেছেন,) তারা হল: ইরাক ও সিরিয়ায় আস্তানা গাড়া ‘আইএসআইএস’ বা ‘দায়েশ’ নামক সেই তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি

আল্লাহ তাআলা আমাদের আইম্মায়ে মুহাদ্দেসীনের কবরকে নূরে নূরান্নীত করুন। তাঁরা আমাদের জন্য সহিহ ও নির্ভরযোগ্য সনদে বর্ণিত হাদিস ও আছারগুলোকেই শুধু সংরক্ষন করে যান নি, তাঁদের অনেকে দূর্বল সনদ বা অতীব দূর্বল সনদ কিংবা জাল সনদে বর্ণিত হাদিস ও আসারগুলোকেও তাঁদের কিতাবে উল্লেখ করে গেছেন, যাতে তাঁদের পরবর্তী মুসলীম প্রজন্মরা -(১) সনদের আলোকে যাচাই বাঁছাই করে সম্ভাব্য জাল, মিথ্যা, অনির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত রেওয়ায়েত সমূহ থেকে যথাসম্ভব বেঁচে থাকতে পারে, (২) সহিহ ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত রেওয়ায়েত গুলো থেকে শরীয়ত বুঝতে ও আহকাম ইস্তেম্বাত করতে পারে, (৩) দূর্বল বা অতীব দূর্বল সনদে বর্ণিত রেওয়াতেরগুলো থেকে উসূলের আলোকে ফায়দা হাসিল করতে পারে।

এমনই একজন হলেন, তৎকালীন ইরাকের মুহাদ্দেস ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:)। ইমাম আহমদ, ইমাম ইবনে মুঈন, ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম প্রমূখের মতে তিনি ‘সিকাহ’ (নির্ভরযোগ্য) রাবী। খোদ সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলীমে তাঁর বর্ণিত হাদিস রয়েছে। তাঁর একটি প্রসিদ্ধ কিতাব হল الفتن (আল ফিতান)। তবে এই কিতাবে তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ, বিভিন্ন সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন বা তাবে তাবেয়ীন থেকেমারফু ও মুরসাল সূত্রে এবং সহিহ, হাসান, ফয়ীফ, মুনকার, মাউযু -সকল প্রকার সনদে ‘ফিতনা’ সম্পর্কিত প্রায় ২০০০ রেওয়ায়েত উদ্ধৃত করেছেন, যার মধ্যে এমন কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়, যা বিশ্বের বহু আলেমে দ্বীনের মত এই শেষ জামানার কালো পতাকাধারী আইএস বা দায়েশদের দিকে ইশারা করে। নিম্নের রেওয়ায়েত গুলোর প্রতি লক্ষ্য করুন:-

ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ হাসান সনদে হযরত যুহরী রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَرْوَانَ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ التَّنُوخِيِّ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، قَالَ : “ تُقْبِلُ الرَّايَاتُ السُّودُ مِنَ الْمَشْرِقِ ، يَقُودُهُمْ رِجَالٌ كَالْبُخْتِ الْمَجَلَّلَةِ ، أَصْحَابُ شُعُورٍ ، أَنْسَابُهُمُ الْقُرَى ، وَأَسْمَاؤُهُمُ الْكُنَى ، يَفْتَتِحُونَ مَدِينَةَ دِمَشْقَ ، تُرْفَعُ عَنْهُمُ الرَّحْمَةُ ثَلاثَ سَاعَاتٍ . رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن: رقم ٥٦٤, قال مجدى بن منصور بن سيد الشوري: ص١٣٤ رقم ٥٥٠: اسناده حسن – ‘পূর্বদিকে কালো পতাকা(ধারী একটি গোষ্ঠি)র আবির্ভাব হবে, (তাদের) পুরুষরা -কাপড়ে ঢাকা বুখতী উটের (কুঁজের) মতো (তাদের মাথা ও মুখকে) পেঁচিয়ে রাখবে, তারা হবে (লম্বা) চুলধারী, তাদেরকে সম্মোধন করা হবে (শহর/গ্রামের) এলাকার সাথে (সম্পর্কযুক্ত করে), তাদের নামগুলো হবে কুনিয়া-যুক্ত (উপনাম বিশিষ্ট), তারা (সিরিয়ার) দামেষ্ক দখল করবে, তাদের (অন্তর) থেকে তিনটি (বিশেষ) সময়ে দয়া-মায়া উঠে যাবে’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, আছার ৫৬৪]

এই ভবিষ্যতবাণীটি  বিশিষ্ট তাবেয়ী ও হাদিসের নির্ভরযোগ্য রাবী ইমাম যুহরী রহ. থেকে উত্তম সনদে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েত। তবে তিনি কার কাছ থেকে শুনে তা বর্ণনা করেছেন -তার কোনো উল্লেখ নেই। ইমাম যুহরীর এই বর্ণনার সমর্থন হয় নিম্নোক্ত রেওয়ায়েত থেকে। 

 

ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. নিজ সনদে হযরত আলী রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ ، وَرِشْدِينُ ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ ، عَنْ أَبِي قَبِيلٍ ، عَنْ أَبِي رُومَانَ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : ” إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّايَاتِ السُّودَ فَالْزَمُوا الأَرْضَ فَلا تُحَرِّكُوا أَيْدِيَكُمْ ، وَلا أَرْجُلَكُمْ ، ثُمَّ يَظْهَرُ قَوْمٌ ضُعَفَاءُ لا يُؤْبَهُ لَهُمْ ، قُلُوبُهُمْ كَزُبَرِ الْحَدِيدِ ، هُمْ أَصْحَابُ الدَّوْلَةِ ، لا يَفُونَ بِعَهْدٍ وَلا مِيثَاقٍ ، يَدْعُونَ إِلَى الْحَقِّ وَلَيْسُوا مِنْ أَهْلِهِ ، أَسْمَاؤُهُمُ الْكُنَى ، وَنِسْبَتُهُمُ الْقُرَى ، وَشُعُورُهُمْ مُرْخَاةٌ كَشُعُورِ النِّسَاءِ ، حَتَّى يَخْتَلِفُوا فِيمَا بَيْنَهُمْ ، ثُمَّ يُؤْتِي اللَّهُ الْحَقَّ مَنْ يَشَاءُ . رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن: رقم ٥٧٣, و إسناده ضعيف جدا; و ذكرالمتقي الهندي في كنز العمال: ١١/٢٨٣ رقم ٣١٥٣٠‘যখন তোমরা (পূর্ব দিক থেকে আবির্ভূত একটি গোষ্ঠির হাতে) কালো পতাকা দেখতে পাবে, তখন জমিনকে আঁকড়ে ধরে থেকো, (কোনো অবস্থাতেই) তোমাদের হাত’কে নড়াচড়া করো না, তোমাদের পা’কেও না। (তোমরা তাদেরকে কোনো রকম সাহায্য করবে না)। এরপর একটি দূর্বল গোষ্ঠির আবির্ভাব হবে, তাদের কোনো মূল্য থাকবে না, তাদের অন্তরগুলো হবে লোহার টুকড়ার মতো (শক্ত; দয়া-মায়া বলে কিছু থাকবে না)। তারা (একটি) রাষ্ট্রের হর্তাকর্তা (হয়ে বসবে)। এরা না কোনো ওয়াদা/অঙ্ঘিকার পূরণ করবে, আর না কোনো চুক্তি। তারা আল-হক্ব (আল-কুরআন/দ্বীন ইসলাম)-এর দিকে আহবান করবে, কিন্তু (বাস্তবে) তারা (নিজেরা) তার ধারকবাহক হবে না, (তারা হবে মূলতঃ গোমরাহী ও ফিতনা-ফ্যাসাদে’র ধারকবাহক)। তাদের নামগুলো হবে কুনিয়া-যুক্ত (উপনাম বিশিষ্ট), তাদেরকে সম্মোধন করা হবে (শহর/গ্রামের) এলাকার সাথে (সম্পর্কযুক্ত করে), তাদের চুলগুলো হবে নারীদের চুলের মতো লেপানো। একসময় তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিরোধ দেখা দিবে। এরপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আল-হক্ব (সত্য দ্বীনের বুঝ ও তাঁর কবুলিয়াত) দান করবেন’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, আছার ৫৭৩; কাঞ্জুল উম্মাল- ১১/২৮৩ ক্রমিক নং ৩১৫৩০]

# ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে আলী বিন আবি ত্বালহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন – حدثنا ابن أبي هريرة عن أبيه عن علي بن أبي طلحة قال يدخلون دمشق برايات سود عظام فيقتتلون فيها مقتلة عظيمة شعارهم بكش بكش . رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن: رقم ٥٦٥; قال مجدى بن منصور بن سيد الشوري: ص١٣٤ رقم ٥٥١: فيه مجهول; و ذكرالمتقي الهندي في كنز العمال: ١١/٢٨٣ رقم ٣١٥٢٩ – ‘তারা কালো পতাকা নিয়ে (শাম/সিরিয়ার) দামেশকে ব্যাপক সংখ্যায় প্রবেশ করবে। পরে সেখানে তারা খুনাখুনি ও যুদ্ধবিগ্রহের মারাত্মক এক ময়দান/মৌসুম বানিয়ে ফেলবে। তাদের পরিচয়-চিহ্ন হবে, (তারা সামান্যতেই বলবে:) হত্যা করো, হত্যা করো’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, আছার ৫৬৫; কাঞ্জুল উম্মাল- ১১/২৮৩ ক্রমিক নং ৩১৫২৯]

# ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- حدثنا يحيى بن سعيد العطار عن ضرار بن عمرو عن إسحاق بن عبد الله بن أبي فروة عمن حدثه عن أبي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم: تَأْتِيكُمْ بَعْدِي أَرْبَعُ فِتَنٍ ، الأُولَى يُسْتَحَلُّ فِيهَا الدِّمَاءُ ، وَالثَّانِيَةُ يُسْتَحَلُّ فِيهَا الدِّمَاءُ ، وَالأَمْوَالُ ، وَالثَّالِثَةُ يُسْتَحَلُّ فِيهَا الدِّمَاءُ ، وَالأَمْوَالُ ، وَالْفُرُوجُ ، وَالرَّابِعَةُ صَمَّاءُ عَمْيَاءُ مُطْبِقَةٌ ، تَمُورُ مَوْرَ الْمَوْجِ فِي الْبَحْرِ ، حَتَّى لا يَجِدَ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ مِنْهَا مَلْجَأً ، تُطِيفُ بِالشَّامِ ، وَتَغْشَى الْعِرَاقَ ، وَتَخْبِطُ الْجَزِيرَةَ بِيَدِهَا وَرِجْلِهَا ، وَتُعْرَكُ الأُمَّةُ فِيهَا بِالْبَلاءِ عَرْكَ الأَدِيمِ ، ثُمَّ لا يَسْتَطِيعُ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ يَقُولُ فِيهَا : مَهْ مَهْ ، ثُمَّ لا يَعْرِفُونَهَا مِنْ نَاحِيَةٍ إِلا انْفَتَقَتْ مِنْ نَاحِيَةٍ أُخْرَى . رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن: رقم ٨٩, اسناده ضعيف جداً , اورده المتقي في كنز العمال: ١١/١٦٣ رقم ٣١٠٤٧ – ‘আমার পর তোমরা (মুসলমানরা) চারটি ফিতনার সম্মুখিন হবে। প্রথমটির ক্ষেত্রে (মুসলমানদের) রক্ত’কে হালাল বানানো হবে। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে (মুসলমানদের) রক্ত ও সম্পদ’কে হালাল বানানো হবে। তৃতীয়টির ক্ষেত্রে (মুসলমানদের) রক্ত, সম্পদ ও লজ্জাস্থান’কে হালাল বানানো হবে। আর চতুর্থ (ফিৎনা)টি হবে ‘(রাতের ঘন) অন্ধকারময় সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে (-র তোড়ে) রধির হয়ে দৃষ্টিশক্তিহীন অবস্থায় (কখনো) এদিক (কখনো) ওদিক ভেসে যাওয়া(র ন্যায় একটি মারাত্মক ফিতনা)। এমনকি (অবস্থা এমন হবে যে,) লোকেরা এ থেকে (নিরাপদ থাকার) কোনো আশ্রয় (খুঁজে) পাবে না। এ(ফিতনা)টি শাম-এর চার পাশ প্রদক্ষিন করবে, আর ইরাক’কে আচ্ছন্ন করে নিবে। সে তার হাত-পা দ্বারা জাজিরাতুল-আরবে যত্রতত্র বিচরন করে বেড়াবে। (মুসলীম) উম্মাহ’কে এর মধ্যে বালা-মুসিবতের দ্বারা চামড়া কষানোর মতো কষিত করা হবে। (তখন জালেমদের পক্ষ থেকে চাপানো বালা-মুসিবত এত চরমে পৌছবে যে, এসব পরিবর্তনের জন্য) কেউ সে সময় টুহ্-টাহ্ করার (মতো) সামর্থ রাখবে না। অতঃপর তারা এ(ফিতনা)টির এক দিক চিনতে পারবে না – যাবৎ না এর অপর দিকটি উন্মুক্ত করা হয়’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, হাদিস ৮৯ ; কাঞ্জুল উম্মাল- ১১/১৬৩ হাদিস ৩১০৪৭]

# ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন – قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ : وَحَدَّثَنِي الْجُنَيْدُ بْنُ مَيْمُونٍ ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : “ الْفِتْنَةُ الرَّابِعَةُ عَمْيَاءُ مُظْلِمَةٌ تَمُورُ مَوْرَ الْبَحْرِ ، لا يَبْقَى بَيْتٌ مِنَ الْعَرَبِ وَالْعَجَمِ إِلا مَلأَتْهُ ذُلا وَخَوْفًا ، تُطِيفُ بِالشَّامِ ، وَتَغْشَى بِالْعِرَاقِ ، وَتَخْبِطُ بِالْجَزِيرَةِ بِيَدِهَا وَرِجْلِهَا ، تُعْرَكُ الأُمَّةُ فِيهَا عَرْكَ الأَدِيمِ ، وَيَشْتَدُّ فِيهَا الْبَلاءُ حَتَّى يُنْكَرَ فِيهَا الْمَعْرُوفُ ، وَيُعْرَفَ فِيهَا الْمُنْكَرُ ، لا يَسْتَطِيعُ أَحَدٌ ، يَقُولُ : مَهْ مَهْ ، وَلا يَرْقَعُونَهَا مِنْ نَاحِيَةٍ إِلا تَفَتَّقَتْ مِنْ نَاحِيَةٍ ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا ، وَلا يَنْجُو مِنْهَا إِلا مِنْ دَعَا كَدُعَاءِ الْغَرَقِ فِي الْبَحْرِ ، تَدُومُ اثْنَيْ عَشَرَ عَامًا ، تَنْجَلِي حِينَ تَنْجَلِي وَقَدِ انْحَسَرَتِ الْفُرَاتُ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ ، فَيَقْتَتِلُونَ عَلَيْهَا حَتَّى يُقْتَلَ مِنْ كُلِّ تِسْعَةٍ سَبْعَةٌ . رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن: رقم ٦٧٦, رجاله ثقات غير جنيد أو حميد بن ميمون أبو عبد الحميد لم يُترجم له غير الدولابي وخرج له الضياء في المختارة محتجا به، وقد ذكر أبو حاتم أن بقية روى عن أبي عبد الحميد، فالله اعلم ، وصفوان بن عمرو الحمصي ثقة صدوق، وقد ورد هذا الحديث عن ضرار بن عمرو أيضا وضرار ضعيف

‘চতূর্থ ফিৎনাটি হবে ‘(রাতের ঘন) অন্ধকারময় সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে (-র তোড়ে রধির হয়ে ও) দৃষ্টিশক্তিহীন অবস্থায় (কখনো) এদিক (কখনো) ওদিক ভেসে যাওয়া(র ন্যায় একটি মারাত্মক ফিতনা, যা) আরব-আজম (অনারব) কারো ঘরকে এর জিল্লতী (অপদস্থতা) ও ভয়-ভীতিতে আচ্ছন্ন না করে ছাড়বে না, তা শাম-এর চারপাশে প্রদক্ষিন করে বেড়াবে, আর ইরাক’কে আচ্ছন্ন করে নিবে, সে তার হাত-পা দ্বারা জাজিরাতুল-আরবে যত্রতত্র বিচরন করে বেড়াবে। (মুসলীম) উম্মাহ’কে এর মধ্যে চামড়া কষানোর মতো কষিত করা হবে, তখন (জালেমদের পক্ষ থেকে চাপানো) বালা-মুসিবত চরমে পৌছবে। এমনকি সেই ফিতনায় (এমন অবস্থা হবে যে, কুরআন-সুন্নাহ’র নির্দেশিত বহু) মা’রুফ (ভাল বিষয়)কে মুনকার (অপছন্দনীয়/ঘৃনার্হ) মনে করা হবে এবং (কুরআন-সুন্নাহ’র দৃষ্টিতে বহু) মুনকার (বাতিল/অপছন্দনীয়/ঘৃনার্হ বিষয়)কে ভাল মনে করা হবে। (এসব পরিবর্তনের জন্য) কেউ টুহ-টাহ করার (মতো) সামর্থ রাখবে না। এ(ফিতনা)র এক দিক ঢাকতে গেলে অপর দিক উন্মুক্ত করা ছাড়া তা (পুরোপুরি আচ্ছাদিত) করা যাবে না। তখন মানুষ সকাল কাটাবে মুমিন অবস্থায়, আর সন্ধা কাটাবে কাফের অবস্থায়। সেই ফেতনা থেকে শুধু ওই ব্যাক্তি বাঁচতে পারবে, যে সমুদ্রে ডুবন্ত অবস্থায় করা দোয়ার ন্যায় (আল্লাহ’কে) ডাক দিবে। এ অবস্থা বার বছর বহাল থাকবে। এটা গড়াতে গড়াতে (একসময়) ফুরাত নদী (তার বুক চিড়ে) স্বর্ণের পাহাড় উন্মুক্ত করে দিবে। তখন লোকজন তা নিয়ে লড়াই করবে এবং প্রতি নয় জনের সাতজন মারা পড়বে’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, আছার ৬৭৬]

এই রেওয়ায়েত গুলোকে এবারে ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামী রাষ্ট্রের দাবীদার আইএস/দায়েশ’দের সাথে মিলিয়ে দেখিা যাক। 

(১) বলা হয়েছে- إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّايَاتِ السُّودَ  ‘যখন তোমরা (পূর্ব দিক থেকে আবির্ভূত একটি গোষ্ঠির হাতে) কালো পতাকা দেখতে পাবে….’। আইএস/দায়েশ’দের ঝান্ডা/পতাকার রং কালো -একথা সচেতন কাউকে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই।

(২) বলা হয়েছে- يَقُودُهُمْ رِجَالٌ كَالْبُخْتِ الْمَجَلَّلَةِ – ‘(তাদের) পুরুষরা -কাপড়ে ঢাকা বুখতী উটের (কুঁজের) মতো (তাদের মাথা ও মুখকে) পেঁচিয়ে রাখবে’। আইএস/দায়েশ’দের মধ্যে -পুরো মুখকে কাপড় দিয়ে ঢেকে শুধু চোখদুটোকে বেড় করে রাখার অভ্যাস উল্লেখযোগ্য মাত্রায় লক্ষনীয়।

http://islamic-culture.faith/wp-content/uploads/2018/10/দায়েশ-আইএস-আইএসএল-জঙ্গি-নারীর-মতো-লম্বা-চুল কলো পতাকা

(৩) বলা হয়েছে- شُعُورُهُمْ مُرْخَاةٌ كَشُعُورِ النِّسَاءِ তাদের চুলগুলো হবে নারীদের চুলের মতো লেপানো’। আইএস/দায়েশ’দের মধ্যে মেয়েদের মতো লেপানো লম্বা লম্বা চুল রাখার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় লক্ষনীয়।

(৪) বলা হয়েছে- أَسْمَاؤُهُمُ الْكُنَى – ‘তাদের নামগুলো হবে কুনিয়া-যুক্ত (উপনাম বিশিষ্ট)’। আইএস/দায়েশ’দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যাক্তিদের নামগুলো আজ কুনিয়া/উপনাম (আবু অমুক, আবু অমুক) দিয়েই সমধিক পরিচিত। যেমন: আবু বকর আল-বাগদাদী (মূল নাম: ইব্রাহীম  আওআদ ইব্রাহীম আলী), আবু আব্দুর রহমান আল-বাইলাবী (মূল নাম: আদনান ইসমাঈল), আবু বিলাল আল-মাসহাদানী (মূল নাম: সামির), আবু আইমান আল-ইরাকী, আবু আলী আল-আম্বারী, আবু মুসআব আল-আলুস, আবু উমার আশ-শিসানী, আবু নাসের আল-আমনী  ইত্যাদি।

(৫) বলা হয়েছে- نِسْبَتُهُمُ الْقُرَى – ‘তাদেরকে সম্মোধন করা হবে (শহর/গ্রামের) এলাকার সাথে (সম্পর্কযুক্ত করে)’। আইএস/দায়েশ’দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যাক্তিদের পরিচয় বিভিন্ন শহর বা গ্রাম বা এলাকার সাথে যুক্ত করে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। যেমন: ইরাকের বাগদাদ শহরের সাথে সম্মন্ধযুক্ত করে বলা হয় আবু বকর আল-বাগদাদী।

(৬) বলা হয়েছে- قُلُوبُهُمْ كَزُبَرِ الْحَدِيدِ তাদের অন্তরগুলো হবে লোহার টুকড়ার মতো (শক্ত; দয়া-মায়া বলে কিছু থাকবে না)’। এখানে পাথরের সাথে তুলনা না করে তার থেকেও শক্ত পদার্থ লোহার টুকড়োর সাথে তুলনা করা হয়েছে। তার মানে লোহার মতো শক্ত নির্দয় অন্তরের প্রমাণ দিতে হলে নারী পুরুষ ও শিশুদের সাথে কী পরিমাণ ভয়ঙ্কর দয়ামায়াহীন আচোরণ করতে হবে -একবার ভেবে দেখেছেন? আইএস/দায়েশ’রা কি জঘন্য ভাবে নারী পুরুষ ও শিশুদেরকে হত্যা করেছে তার কিছু জ্বলজ্যান্ত ভিডিও দেখলে গা শিউরে ওঠে। 

(৬) বলা হয়েছে- هُمْ أَصْحَابُ الدَّوْلَةِ – ‘তারা (একটি) রাষ্ট্রের হর্তাকর্তা (হয়ে বসবে)’। ২০০৬ ইং সালে আইএস/দায়েশ’রা তাদের প্রধান নেতা আবুবকর আল-বাগদাদী’র আবির্ভাবের পর তার নেতৃত্বে ৮ এপ্রিল ২০১৩ ইং তারিখে প্রথম ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড লেভান্ত (আই এসআইএল) গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়, পরে তারা সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিরাট এলাকায় দখলদারী স্থাপন করে। ২৯ জুন ২০১৪ ইং সালে তাদের দখলকৃত এলাকাকে তথাকথিত ‘ইসলামী খিলাফত’ (ইসলামীক স্টেট/ইসলামী রাষ্ট্র) এবং আবুবকর আল-বাগদাদী’কে ‘খলিফা’ ঘোষণা করা হয়।

(৮) বলা হয়েছে চতুর্থ ফিতনাটি- تَغْشَى الْعِرَاقَ ইরাক’কে আচ্ছন্ন করে নিবে। আইএস/দায়েশ’দের ফিতনা’র মূল ঘাটিই হল ইরাক। ইরাক দখল করার পরই তারা সেটাকে ‘ইসলামী খিলাফত’ (ইসলামীক স্টেট/ইসলামী রাষ্ট্র) নাম দিয়ে তার হর্তাকর্তা হয়ে বসেছে। 

(৯) বলা হয়েছে চতুর্থ ফিতনাটি- تُطِيفُ بِالشَّامِ তা শাম-এর চারপাশে প্রদক্ষিন করে বেড়াবেশাম বলতে এখানে ‘বালাদে শাম’ (সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, জর্ডান -এর বিভিন্ন এলাকার সামগ্রীক রূপ)ও উদ্দেশ্য হতে পারে, আবার শুধু সিরিয়ার দামেষ্কও উদ্দেশ্য হতে পারে। (১) যদি শুধু সিরিয়ার দামেষ্ক উদ্দেশ্য হয়, তাহলে ফিতনাটি তার চারপাশে ঘোরা/ প্রদক্ষিন করার অর্থ হয়তো দামেশকে ঢুকতে না পেরে তার চারপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে তৎপড় থাকা, যেমনটা দেখা যাচ্ছে যে, আইএস/দায়েশ’রা বাশার আল-আসাদের কর্তৃত্বাধীন দামেশক ও তার আশে পাশে অঞ্চলগুলোকে দখলে নিতে পারে নি, বাদ বাকি সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিরাট এলাকায় তারা দখলদারী স্থাপন করে নিয়েছে ও তৎপড়তা চালাচ্ছে। (২) আর যদি ‘বালাদে শাম’ (সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, জর্ডান -এর বিভিন্ন এলাকার সামগ্রীক রূপ) উদ্দেশ্য হয়, তাহলে হাদিসটির উদ্দেশ্য হয়তো এসব এলাকা জুড়ে শিয়া-সুন্নি কেন্দ্রিক সৃষ্ট হারাজ ও ফিতনা’র দিকে ইংগীত করা। এ দু’য়ের যে অর্থই নিন না কেনো তা ওখানকার বাস্তব অবস্থার সাথে দারুন ভাবে মিলে যায়। আল্লাহ’ই ভাল জানেন।

(১০) বলা হয়েছে চতুর্থ ফিতনাটি- تَخْبِطُ بِالْجَزِيرَةِ بِيَدِهَا وَرِجْلِهَا – ‘সে তার হাত-পা দ্বারা জাজিরাতুল-আরবে যত্রতত্র বিচরন করে বেড়াবে। রাসুলুল্লাহ সা.- এর সময়ে যেসব আরবী অঞ্চলগুলোকে নিয়ে ‘জারিরাতুল আরব’ বোঝানো হতো, তা বর্তমান জামানায় এই দেশগুলোকে অন্তর্ভূক্ত করে নিয়ে বিভক্ত: সৌদি আরব, ইয়ামেন, বাহরাঈন, ইউনাইটেড আরব আমিরাত, কাতার, ওমান এবং কুয়েত, যা আজ Arabian Peninsula হিসেবে পরিচিত। আজ আমেরিকা, ইসরাঈল ও ইউরোপিয়ান দেশগুলো শিয়া-সুন্নির রক্তের উপর অস্ত্র-বিজনেস করার জন্য সুন্নি আইডিওলজীর সৌদি আরব, কাতার ও ইউনাইটেড আরব আমিরাতকে এতে মোটা অংকের বিনিয়োগ করিয়েছে এবং তারা সন্ত্রসী আইএস/দায়েশকে অস্ত্র, অর্থ, গাড়ি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। এদিকে শিয়া আইডিওলজীর সন্ত্রসীদেরকে ইরান, সিরিয়া, ইরাক, ইয়ামেন ও লেবানন অর্থ, সৈন্য, অস্ত্র ইত্যাদি দিচ্ছে শিয়া আইডিওলজীর সন্ত্রসীদেরকে; আর এর সাথ দিচ্ছে রাশিয়া ও চিন। আর জর্ডানের কিং আব্দুল্লাহ এই যুদ্ধ মৌসুমে তার দেশে খুলে বসেছে অস্ত্র-মেলা; ধুমিয়ে ব্যবসা করে নিচ্ছে। আমেরিকা ও সৌদি আরবের মধ্যে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি হয়েছে। 

(১১) বলা হয়েছে চতুর্থ ফিতনাটি- لا يَبْقَى بَيْتٌ مِنَ الْعَرَبِ وَالْعَجَمِ إِلا مَلأَتْهُ ذُلا وَخَوْفًا – ‘আরব-আজম (অনারব) কারো ঘরকে এর জিল্লতী (অপদস্থতা) ও ভয়-ভীতিতে আচ্ছন্ন না করে ছাড়বে না। আইএস/দায়েশ’দের যাবতীয় অকাম-কুকামের কারণে পৃথিবীর কোনো আরব ও অনারব ঘর নেই, যারা তাদেরকে ভয় করে না। তারা গোটা মুসলীম উম্মাহর মুখকে বিশ্বের সামনে লজ্জিত করে দিয়েছে, তাদেরই কারণে সাধারণ মুসলমানদেরকে পৃথিবীর কোণে কোণে বিভিন্ন ভাবে অপদস্থ ও হেনস্ত হতে হচ্ছে। 

আমার মতে বিভিন্ন হাদিসে শেষ জামানায় ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ ও ‘হারাজ (খুনাখুনি)’, যা ‘আরব জাহানের দিকে ধেয়ে আসবে বলে ইংগীত দেয়া হয়েছে, সেটা একটি উল্লেখযোগ্য অংশীদার হল এই দায়েশ/আইএস/আইএসএল/আইএসআইএস। নিচের হাদিসগুলোর প্রতি লক্ষ্য করুন।

আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- 

وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدْ اقْتَرَبَ ، فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا ، يَبِيعُ قَوْمٌ دِينَهُمْ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا قَلِيلٍ , الْمُتَمَسِّكُ يَوْمَئِذٍ بِدِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ ” ، أَوْ قَالَ : عَلَى الشَّوْكِ  . رواه الإمام أحمد في المسند, مُسْنَدُ الْعَشَرَةِ الْمُبَشَّرِينَ بِالْجَنَّةِ, بَاقِي مُسْنَد المُكْثِرِينَ مِنَ الصَّحَابَةِ : رقم ٩٠٤٩, و قال حمزة احمد الزين: ٩/٩٥ اسناده حسن

আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এমন এক (ঘন অন্ধকারময়) মন্দ ফিতনা ধেয়ে আসছে, (যার একেকটা) যেন রাতের অন্ধকারের ফালি/খন্ড। (সে সময়) লোকের সকাল হবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধা হবে কাফের অবস্থায়। (তখন) মানুষ দুনিয়ার সামান্য কোনো গরজে তাদের দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে। সে সময় দ্বীনকে আঁকড়ে-ধারনকারী ব্যাক্তি হবে জ্বলন্ত কয়লাকে মুষ্টিবদ্ধকারী অথবা বলেছেন শল্যধারনকারী ব্যাক্তির মতো’। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস৯/৯৫ হাদিস ৯০৪৯]

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- تَكُونُ فِتْنَةٌ تَسْتَنْظِفُ الْعَرَبَ قَتْلَاهَا فِي النَّارِ، اللِّسَانُ فِيهَا أَشَدُّ مِنْ وَقْعِ السَّيْفِ . اخرجه أحمد فى المسند: ١١/١٧٠, قال أحمد شاكر: إسناده صحيح; و أبو داود فى سننه: ٤٢٦٥ و سكت عنه و قد قال في رسالته لأهل مكة كل ما سكت عنه فهو صالح; – ‘(এমন) ফিতনা হবে (যা) আরব’কে একেবারে গ্রাস/সাবার করে ফেলতে চাইবে। (এই ফেতনায় অংশ নেয়া খুনিদের মতো)  নিহত ব্যাক্তিও দোযখে যাবে, (কারণ খুনি ও নিহত উভয়-ই একে অপরকে হত্যা করার নিয়তে এই ফিতনায় জড়িয়েছিল)। এই (ফিতনা’র আগুনকে ভরকিয়ে দেয়ার প্রশ্নে মানুষের বেসামাল) জবান -তরবারীর আঘাতের চাইতেও অধিক শক্তিশালী (ও কার্যকরী) ভূমিকা রাখবে’। [মুসনাদে আহমদ– ১১/১৭০; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৬৫; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২১৭৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৬৭; আল-ইবানাতুল কুবরা, ইবনুল বাত্তাহ- ৩৭৬; তারিখে দামেশক, ইবনুল আসাকীর- ৩১৪৭০; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা- ৭/৪৪৮]

# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন-

ويل للعرب من شر قد اقترب من فتنة عمياء صماء بكماء القاعد فيها خير من القائم والقائم فيها خير من الماشي والماشي فيها خير من الساعي ويل للساعي فيها من الله يوم القيامة . اخرجه ابن حبان فى الصحيحه : ١٥/٩٨ رقم ٦٧٠٥ , قال شعيب الأرنؤوط : إسناده صحيح على شرط مسلم

আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক অন্ধত্বময় বধিরতাপূর্ণ বোবা মন্দ ফিতনা ধেয়ে আসছে। এ ফিতনায় বসে থাকা ব্যাক্তি দাড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, দাড়ানো ব্যাক্তি   চলমান ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, চলমান ব্যাক্তি দৌড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। আর কেয়ামতের দিন আল্লাহ’র পক্ষ থেকে এ ফিতনায় দৌড়ানো ব্যাক্তির জন্য  দূর্ভোগ-দূর্গতি রয়েছে’। [সহিহ ইবনে হিব্বান– ১৫/৯৮ হাদিস ৬৭০৫]

# হযরত আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন-

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُنَا أَنَّ بَيْنَ يَدَيْ السَّاعَةِ الْهَرْجَ . قِيلَ : وَمَا الْهَرْجُ ؟ قَال : الْكَذِبُ وَالْقَتْلُ . قَالُوا : أَكْثَرَ مِمَّا نَقْتُلُ الْآنَ ؟ قَالَ : إِنَّهُ لَيْسَ بِقَتْلِكُمْ الْكُفَّارَ ، وَلَكِنَّهُ قَتْلُ بَعْضِكُمْ بَعْضًا ، حَتَّى يَقْتُلَ الرَّجُلُ جَارَهُ ، وَيَقْتُلَ أَخَاهُ ، وَيَقْتُلَ عَمَّهُ ، وَيَقْتُلَ ابْنَ عَمِّهِ . قَالُوا : سُبْحَانَ اللَّهِ ! وَمَعَنَا عُقُولُنَا ؟ قالَ : لَا ، إِلَّا أَنَّهُ يَنْزِعُ عُقُولَ أَهْلِ ذَاكَ الزَّمَانِ ، حَتَّى يَحْسَبَ أَحَدُكُمْ أَنَّهُ عَلَى شَيْءٍ وَلَيْسَ عَلَى شَيْءٍ . رواه أحمد في ” المسند: ١٤/٥٣٤ رقم ١٩٥٢٦, إسناده صحيح، رجاله ثقات رجال الشيخين غير أسِيد بن المتشمس، فمن رجال ابن ماجه، وهو ثقة, وصححه المحققون في طبعة مؤسسة الرسالة، وصححه الشيخ الألباني في ” السلسلة الصحيحة: رقم ١٦٨٢

‘রাসুলুল্লাহ সা. আমাদেরকে বলেছিলে যে, কেয়ামতের আগে আগে হারজ হবে। জিজ্ঞেস করা হল: হারজ কি? তিনি বললেন: (ব্যাপক হারে) মিথ্যা (কথা ও প্রচারনা) ও হত্যাকান্ড। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: আজ আমরা (জিহাদে) যেসব (কাফেরদেরকে) হত্যা করি (তারা সেই জামানায়) তার চেয়েও বেশি (কাফেরকে জিহাদে হত্যা করবে)? তিনি বললেন: বস্তুত: এটা তোমাদের (জীহাদে) কাফেরকে হত্যা করা (-র মতো) হত্যাকান্ড নয়। বরং এটা হল তোমাদের (সেই জামানার মুসলমানদের) একে অন্যকে (করা) হত্যাকান্ড। এমনকি (এই ফিতনা’র ক্রমধারায় এমনও হবে যে,) এক ব্যাক্তি তার প্রতিবেশিকে হত্যা করবে, তার ভাইকে হত্যা করবে, তার চাচাকে হত্যা করবে, তার চাচাত ভাইকে হত্যা করবে’। লোকেরা বললো: আল্লাহ পবিত্র!!! ( এমনও ঘটবে)!!! (সে সময় কি) আমাদের (মুসলমানদের) কাছে বিবেক-বোধ (বলতে কিছু) থাকবে না? তিনি বললেন: না (থাকবে না)। সেই জামানায় (বিবেকবোধের সাথে উপর্যুপরি খেয়ানত করার কারণে শাস্তি স্বরূপ) মানুষদের বিবেক-বোধ উঠিয়ে নেয়া হবে। এমন কি (তখন) তোমাদের (মুসলমানদের) কেউ (এমনও) মনে করবে যে, সে (যেন সেইরকম কোনো সঠিক ও গৌরবজনক) কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছে, কিন্তু (বাস্তবে সে আল্লাহ চোখে) কোনো কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) থাকবে না। (শয়তান তাদের পাপগুলোকে তাদের চোখে সুন্দর ও গৌরবজনক বানিয়ে ধোকা দিবে)। [মুসনাদে আহমদ– ১৪/৫৩৪, হাদিস ১৯৫২৬; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস ২০৭৪৪; মুসনাদে আবু ইয়া’লা, হাদিস ৭২৪৭; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৬৭১০]

 

 

 

 

 

الله اعلم بالصواب و أخر دعوانا عن الحمد لله رب العالمين و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته و استغفر الله و أتوب إليه

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *