আখেরী জামানা’র ফিতনা ফ্যাসাদ – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যতবাণী ২

Spread the love
image_pdfimage_print

আখেরী জামানা’র ফিতনা – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যৎ বাণী ২

 بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و كفى و سلام على عباده الذين اصطفى

 

আমরা ইতিপূর্বে কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে (এখানে ক্লিক করুন) কিছু হাদিস ও আছার পেশ করেছি। এখানে আখেরী জামানার ফিতনা ফাসাদ সম্পর্কে কিছু হাদিস ও আছার উল্লেখ করছি। [উল্লেখ্য, এখানে উল্লেখিত হাদিসসমূহ  ও তার অনুবাদকে কোনো বিজ্ঞ মুহাদ্দেস আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এগুলো শুধু উল্লেখ করছি, যাতে এই রেওয়ায়েতসমূহে বর্ণিত কোনো ঘটনা ঘটতে দেখলে তা চিনে নিতে পারেন এবং রেওয়াতের হক্ব আদায় করতে পারেন।

 

# হযরত হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত,  তিনি বলেন-  تَكُونُ فِتْنَةٌ ، فَيَقُومُ لَهَا رِجَالٌ فَيَضْرِبُونَ خَيْشُومَهَا حَتَّى تَذْهَبَ , ثُمَّ تَكُونُ أُخْرَى ، فَيَقُومُ لَهَا رِجَالٌ فَيَضْرِبُونَ خَيْشُومَهَا حَتَّى تَذْهَبَ , ثُمَّ تَكُونُ أُخْرَى ، فَيَقُومُ لَهَا رِجَالٌ فَيَضْرِبُونَ خَيْشُومَهَا حَتَّى تَذْهَبَ ، ثُمَّ تَكُونُ الْخَامِسَةُ ، دَهْمَاءُ مُجَلَّلَةٌ ، تَنْشِّقُ فِي الْأَرْضِ كَمَا يَنْشَّقُ الْمَاءُ . اخرجه ابن أبي شيبة فى المصنف: ١٤/٥٠ رقم ٣٨٢٤٤ , اسناده حسن كما جاء في زوائد ابن أبي شيبه على الكتب الستة لغالب بن محمد مهدلي : ص ٣٠٣ رقم ١٨٦ – ‘(প্রথমে একটি) ফিতনা হবে। তখন এর বিরুদ্ধে লোকেরা রুখে দাঁড়াবে, তারপর সেটার নাকে আঘাত হানতে থাকবে যাবৎ না তা দূরিভূত হয়ে যায়’। এরপর (কিছু কাল অতিবাহিত হবে এবং অন্য) আরেকটি (দ্বিতীয় ফিতনা) দেখা দিবে, তখন এর বিরুদ্ধে লোকেরা রুখে দাঁড়াবে, তারপর সেটার নাকে আঘাত হানতে থাকবে যাবৎ না তা দূরিভূত হয়ে যায়। এরপর (কিছু কাল অতিবাহিত হবে এবং অন্য) আরেকটি (তৃতীয় ফিতনা) দেখা দিবে, তখন এর বিরুদ্ধে লোকেরা রুখে দাঁড়াবে, তারপর সেটার নাকে আঘাত হানতে থাকবে যাবৎ না তা দূরিভূত হয়ে যায়’। [এরপর (কিছু কাল অতিবাহিত হবে এবং অন্য) আরেকটি (চতুর্থ ফিতনা) দেখা দিবে, তখন এর বিরুদ্ধে লোকেরা রুখে দাঁড়াবে, তারপর সেটার নাকে আঘাত হানতে থাকবে যাবৎ না তা দূরিভূত হয়ে যায়।-অনুবাদক] এরপর পঞ্চম (আরেকটি ফিতনা) দেখা দিবে, (ফিতনাটি হবে) দাহমাউ-মুজাল্লালাহ (ঘন কালো অন্ধকার); এই (ফিতনাটি) এমনভাবে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, যেমনিভাবে পানি (উপর থেকে নিচের দিকে যেদিকে পথ পায় তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে) ছড়িয়ে পড়ে’। [আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা- ১৪/৫০, হাদিস ৩৮২৪৪]

ফায়দা: উপরের হাদিসে ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ বলতে যে ফিতনা বোঝানো হয়েছে, তার চাইতে গাঢ় ও ঘন অন্ধকারময় ফিতনা হল  ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ (ঘন কালো অন্ধকার)। [মাআলিমুস সুনান, খাত্তাবী– ৪/৩৩৭; আন-নিহায়া, ইবনুল আছির- ২/১৪৬; মিরক্বাতুল মাফাতিহ, আলী ক্বারী– ১০/৩৫, কিতাবুল ফিতান] আখেরী জামানা সম্পর্কিত হাদিসগুলোকে পর্যালোচনা করে দেখলে অনুমিত হয় যে, এই ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ’ -এর শেষ পর্যায়ে ইমাম মাহদী রা.আবির্ভূত হবেন, (ইনশাআল্লাহ)। এরপর সবচেয়ে ভয়ানক ফিতনা সৃষ্টি করতে আসবে তারপর দাজ্জাল।  الله اعلم بالصواب

#হযরত উমায়ের বিন হানী আল-আনশী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-  سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: كُنَّا قُعُودًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ، فَذَكَرَ الْفِتَنَ فَأَكْثَرَ فِي ذِكْرِهَا حَتَّى ذَكَرَ فِتْنَةَ الْأَحْلَاسِ، فَقَالَ قَائِلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا فِتْنَةُ الْأَحْلَاسِ؟ قَالَ: ” هِيَ هَرَبٌ وَحَرْبٌ، ثُمَّ فِتْنَةُ السَّرَّاءِ، دَخَنُهَا مِنْ تَحْتِ قَدَمَيْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يَزْعُمُ أَنَّهُ مِنِّي، وَلَيْسَ مِنِّي، وَإِنَّمَا أَوْلِيَائِي الْمُتَّقُونَ، ثُمَّ يَصْطَلِحُ النَّاسُ عَلَى رَجُلٍ كَوَرِكٍ عَلَى ضِلَعٍ، ثُمَّ فِتْنَةُ الدُّهَيْمَاءِ، لَا تَدَعُ أَحَدًا مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ إِلَّا لَطَمَتْهُ لَطْمَةً، فَإِذَا قِيلَ: انْقَضَتْ، تَمَادَتْ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا، وَيُمْسِي كَافِرًا، حَتَّى يَصِيرَ النَّاسُ إِلَى فُسْطَاطَيْنِ، فُسْطَاطِ إِيمَانٍ لَا نِفَاقَ فِيهِ، وَفُسْطَاطِ نِفَاقٍ لَا إِيمَانَ فِيهِ، فَإِذَا كَانَ ذَاكُمْ فَانْتَظِرُوا الدَّجَّالَ، مِنْ يَوْمِهِ، أَوْ مِنْ غَدِهِ “. سنن أبي داود – الفتن والملاحم: ٤٢٤٢; و الحاكم: ٤/٤٦٧ و قال: صحيح الإسناد”.ووافقه الذهبي; وأحمد: ٢/١٣٣; قال الألباني في “السلسلة الصحيحة: ٢/٧٠٢ – إسناده صحيح رجاله كلهم ثقات رجال البخاري غير العلاء بن عتبة و هو صدوق –‘আমি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-কে বলতে শুনেছি: আমরা রাসুলুল্লাহ -এর কাছে বসা ছিলাম। তখন তিনি ‘ফিতনা সমূহের কথা আলোচনা করছিলেন। তার আলোচনার বেশির ভাগই ছিল ফিতনা নিয়ে। একসময় তিনি ‘ফিতনায়ে আহলাস’ -এর কথা বললেন। তখন এক ব্যাক্তি জিজ্ঞেস করলো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! ‘ফিতনায়ে আহলাস’ কি? তিনি বললেন: ওটা হল পলায়ন ও লড়াই (-এর ফিতনা)। এরপর হবে ‘ফিতনায়ে সাররা’ যার ধোঁয়া আমার আহলে-বায়েতের এক ব্যাক্তির পায়ের নিচ থেকে বেড় হবে। সে দাবী করবে যে, সে আমার (আহলে-বায়েতের) একজন। কিন্তু সে আমার কেউ নয়। আমার বন্ধু হল শুধুমাত্র মুত্তাকিগণ। এরপর লোকজন (এমন) এক ব্যাক্তির উপর সংঘবদ্ধ হবে, যেন পাঁজর (rib)-এর উপর নিতম্ব-হাড় (hip-bone)। এরপর হবে ‘ফিতায়ে-দুহাইমা’ (ঘন কালো অন্ধকারময় ফিতনা) যার চপেটাঘাতের পর চপেটাঘাত থেকে এই উম্মতের কেউ মুক্ত থাকবে না। যখন বলা হবে: (ওমুক ফিতনা) শেষ হয়ে গেছে, (তখন দেখা যাবে যে, তা আরো) বেড়ে গেছে। সেসময় (অবস্থা এমন হবে যে,) কোনো লোক সকালে মুমিন থাকবে, আবার (কোনো ফিতনায় ইমান নষ্ট করে) সন্ধায় হবে কাফের। (এভাবে) একসময় তারা দুটি তাবুতে বিভক্ত হয়ে যাবে। (একটি হচ্ছে) ইমানী-তাবু যার মধ্যে কোনো মুনাফেকী থাকবে না এবং (আরেকটি হল) মুনাফেকী-তাবু যার মধ্যে কোনো ইমান থাকবে না। যখন এমনটা হবে, তখন তোমরা দাজ্জালের অপেক্ষায় থেকো -সেই দিন (থেকেই) বা তার পরের দিন’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৪২; মুসতাদরাকে হাকিম-৪/৪৬৭; মুসনাদে আহমদ-২/১৩৩; অাল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ৯২]

ফায়দা: ফিতনায়ে সাররা’র ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, এটা হল মুসলমানদের মাঝে স্বচ্ছলতা, অপ্রতুল ধ্বনসম্পদ ও পার্থিব আরাম-আয়েশী জীবন লাভ করার পর তাদের গতিপথ পরিবর্তনের ফিতনা। অনেকের মতে, মূল্যবান সব খনিজ পদার্থ (যেমন: তেল, কয়লা, স্বর্ণ ইত্যাদি)র কল্যানে আরব জাহানে যখন চড়ম স্বচ্ছলতার মৌসুমের সূচনা হয়, সেটাই ছিল ‘ফিতনায়ে সাররা‘র গিজা/উপাদান, যার পরিণতিতে আজ আরব জাহান হয়ে গেছে -নারী, মদ ও মাদক, অশ্লীলতার মোহড়া, জেনা-ব্যাভিচার, ধোকা প্রতারনা বাটপারী, সূদ, জুয়া এবং ইরাক ও সিরিয়া সহ পৃথিবীতে মুসলমানের রক্ত নিয়ে ধুমিয়ে ব্যবসা করার কেন্দ্র।

হাদিসটিতে আরো বলা হয়েছে যে, এই ‘ফিতনায়ে সাররা’র ধোঁয়া বেড় হবে এক আহলে-বাইত (ফাতেমা রা.-এর বংশধর সাইয়্যেদ) -এর দাবীদারের পায়ের নিচ থেকে। বলা বাহুল্য, একটা আখেরী জামানার ছোট বা মাঝারী আলামত বলে কথা। সুতরাং, এই ব্যাক্তি নিছক সাধারণ কোনো মানুষ কেউ নয়, বরং অবশ্যই বেশ পরিচিত Figure হবে। এই শেষ জামানার সেরকম কোনো সাইয়্যেদ’ হওয়ার দাবীদারকে  এই হাদিসের সাথে মেলানোর চেষ্টা করেছেন, তাদের বক্তব্যের মধ্য থেকে  হওয়ার দাবীদা কেউ কেউ মনে করেন: (১) শরীফ হোসাইন, যিনি একজন সাইয়্যেদ এবং ব্রিটিশদের সাহায্য নিয়েছিলেন তৎকালীন আরবের হিযাযে ‘ওসমানী খিলাফত’ বিলুপ্ত করার জন্য। কিন্তু ব্রিটিশরা তাদের খাসলত অনুযায়ী ‘ওসমানী খিলাফত’ ধ্বংসের পর তাদের সাথে প্রতারণা করে, (২) আব্দুল্লাহ (সাবেক বাদশাহ, জর্ডান; শরীফ হোসাইন-এর পুত্র), যে একজন সাইয়্যেদ এবং দূর্ভাগ্যবসত: সে তুরষ্কের ওসমানী খিলাফত ধ্বংসের জন্য ব্রিটিশদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছিল এই আশ্বাসের বদৌলতে যে তাকে আরব, ইরাক, সিরিয়া ইত্যাদির প্রধান বানানো হবে। কিন্তু এক প্যালেস্টানী তাকে খোদ বায়তুল মাকদিসের ভিতরে খুন করে। (৩) হোসেইন (সাবেক বাদশাহ আব্দুল্লাহ’র পূত্র, জর্ডান), যে জায়োনিষ্ট ইসরাঈলদের সাথে হাত মেলায় এবং ৪০টিরও বেশি গোপন বৈঠকের কথা আল-জাজিরা’র ডকুমেন্টারীতে রয়েছে। (৪) সাদ্দাম হোসেন (সাবেক প্রেসিডেন্ট, ইরাক), যে নিজকে সাইয়্যেদ বলে দাবী করতো। অবশ্য তার এই দাবী খোদ একটি ইরাকী সাইয়্যেদ প্রতিষ্ঠান দাপ্তরীকভাবে নাকোচ করে দেয়। এদের মধ্যে কোনো একজনের দিকে হাদিসে ইশারা করা হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করেন। আল্লাহ’ই ভাল জানেন। 

আমার মতে, আমরা এখন ‘ফিতনায়ে-দুহাইমা’র সময় অতিক্রম করছি। ইরাকের পর সিরিয়া’য় সাধারণ মুসলমানদের সাথে যা হচ্ছে তা এদিকেই ইঙ্গীত করে। সেখানে পুরুষ, নারী, শিশুদের হত্যা করা হয়েছে, বোমা মেড়ে বাড়ি-ঘর তছনছ করে দেয়া হয়েছে, খাবার আসা যাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, বাচ্চাদের অনেকে ঘাস-পাতা চিবিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। আর আলীয়াতি-শিয়া (যারা হযরত আলী রা.-কে মনে করে যে আল্লাহ তালালাই আলীর রূপ নিয়ে এসেছেন) বাশার-আল-আসাদের লোকজন সুন্নী মুসলমানদেরকে উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে, বাচ্চা, শিশুকিশোর যুবক , বৃদ্ধ কাউকেই রেহাই দেয়নি, মেড়ে-পিটিয়ে বাশআল-আসাদ’কে ‘খোদা’ বলানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে, ছবিকে সিজদাহ করার জন্য কিংবা ‘বাশার ছাড়া কোনো উপাস্য নাই’ -একথা বলানোর জন্য চেষ্টা চালানো হয়েছে, এমনকি এজন্য জীবন্ত মাটি চাঁপা দিয়ে মেড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে সিরিয়ায়। এও হতে পারে যে, এটি ফিতনায়ে-দুহাইমা’র শুরুর দিককার সব ঘটনা, সামনে হয়-তো আরো কঠিন অবস্থা হবে এবং হয়-তো হাদিসের ইংগীত সেই কঠিন অবস্থার দিকে। (আল্লাহ রক্ষা করুন)

আমার ধারনা, ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র রেশ সামনে আগমনকারী গিয়ে ফিতনায়ে-দাহমা’ (যার আলোচনা নিচের হাদিসটিতে রয়েছে) পর্যন্ত গিয়ে ঠেঁকবে। যেমন: ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- ستكون بعدي فتن منها فتنة الأحلاس يكون فيها حرب وهرب ثم بعدها فتن أشد منها ثم تكون فتنة كلما قيل انقطعت تمادت حتى لا يبقى بيت إلا دخلته ولا مسلم إلا صكته حتى يخرج رجل من عترتي . رواه نعيم بن حماد في “الفتن: رقم ٩٥, قال مجدى بن منصور بن سيد الشوري: ص٣٣ رقم ٩٣: اسناده ضعيف ‘অচিরেই আমার পর ফিতনা সমূহ হবে। ওগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিতনায়ে-আহলাস। ওর মধ্যে পলায়ন ও লড়াই (-এর ফিতনা হবে)। এর পরে (যে) ফিতনা সমূহ হবে, (সেটা হবে) তার চেয়েও কঠিন (এক ফিতনা)। এরপর একটি ফিতনা হবে, যখন বলা হবে- ‘(যাক, ফিতনাটি) কেটে গেল, তখন সেটা আরো বেড়ে যাবে। এমনকি (এর ক্রমধারায় অবস্থা এমন হবে যে,) এমন কোনো ঘর থাকবে না যার ভিতরে তা প্রবেশ করবে না এবং এমন কোনো মুসলমান হবে না যাকে সে চপেটাঘাত করবে না। এমনকি (শেষ পর্যন্ত এই অবস্থা খতম করার জন্য) আমার বংশধরের মধ্য থেকে একজন বেড় হবেন, (যিনি হলেন আল-মাহদী)’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, হাদিস ৯৫] 

বিভিন্ন হাদিসের ইশারা-ইঙগীত থেকে বোঝা যায়, ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের পর ‘মালহামাতুল-কুবরা’ (তৃতীয় মহাযদ্ধ) হবে এবং তাঁর অধীনে এই ফিতনা’র পরিসমাপ্তি ঘটবে, ইনশাআল্লাহ। সে সময় মুমিনগণের তাবুতে অবস্থানকারী মুসলমানদের আমীর/দলপ্রধান থাকবেন ইমাম মাহদী। আর বে-ইমানদের তাবুতে থাকা জনমানুষ হবে মূলতঃ ইমাম মাহদীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া  কাফের, মুশরেক ও খাঁটি মুনাফেকরা। ইমাম মাহদীর নেতৃত্বে মুমিনগণ তুরষ্কের ইস্তাম্বুলকে তৎকালীন কাফেরদের হাত থেকে মুক্ত করার পর দাজ্জাল বেড় হবে, যেমনটা উপরের হাদিসে ইংগীত রয়েছে । الله اعلم بالصواب

# হযরত হুযাইফা রা. থেকে উত্তম সনদে বর্ণিত হয়েছে,  তিনি বলেন- تَكُونُ ثَلَاثُ فِتَنٍ , الرَّابِعَةُ تَسُوقُهُمْ إِلَى الدَّجَّالِ , الَّتِي تَرْمِي بِالنَّشْفِ ، وَالَّتِي تَرْمِي بِالرَّضْفِ , وَالْمُظْلِمَةُ الَّتِي تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ . اخرجه ابن أبي شيبة فى المصنف, كِتَابُ الْفِتَنِ: ١٤/١٦ رقم ٣٨١٢٨, و اسناده حسن كما في زوائد ابن أبي شيبه على الكتب الستة لعبد الرحمان مهدلى: ص ٢٥١ رقم ١٤١; و نعيم بن حماد في “الفتن: رقم  ٩٢; أبو نعيم في حلية الأولياء: ٢/٢٧٣ – ‘তিনটি ফিতনা হবে। (তারপর) চতুর্থ (ফিতনা)টি (লোক জনকে) দাজ্জালের (ফিতনার) দিকে পৌছিয়ে দিবে। (প্রথম ফিতনাটি হবে এমন) যা (তাদেরকে যেন) নাশফ্ (কালো পাথর) নিক্ষেপ করা হবে। (দ্বিতীয় ফিতনাটি হবে এমন) যা (তাদেরকে যেন) রাযফ্ (অগ্নী শীলা) নিক্ষেপ করা। (তৃতীয় ফিতনাটি হবে এমন ঘন কালো) অন্ধকারময় (এক ফিতনা), যা সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মতো উথালপাতাল করবে’। [আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা১৪/১৬, হাদিস ৩৮১৬৮; অাল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ– ৯২ ; হিলইয়াতুল আউলিয়াহ, আবু নুআইম২/২৭৩]

ফায়দা: এই রেওয়ায়েতের একটি ব্যাখ্যা এই করা হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পর থেকে নিয়ে দাজ্জাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মুসলীম উম্মাহ’র উপর এই উল্লেখযোগ্য চারটি ফিতনা ঘটবে, যার প্রথম পর্যায়ে নাশফ্-এর ফিতনা, দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো কঠিন রাযফ্-এর ফিতনা, তারপর তৃতীয় পর্যায়ে আরো কঠিনতর অন্ধকারময় ফিতনা (যা সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মতো উথালপাতাল করবে) এবং সর্বশেষে চতুর্থ পর্যায়ে দাজ্জাল-এর ফিতনা হবে।  

তবে আরো কিছু রেওয়াতের দিকে তাকালে অনুমিত হয় যে,  এই হাদিসে চারটি ফিতনা বলতে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পর থেকে নিয়ে দাজ্জাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যেকার ফিতনা উদ্দেশ্য নয়, বরং শেষ জামানায় ঘটা ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ থেকে নিয়ে ‘দাজ্জাল’ পর্যন্ত সময়কে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, একেকটি ভাগকে একেকটি ফিতনা বলা হয়েছে, যার শেষ ভাগে দাজ্জাল বেড় হবে। যেমন ইমাম আবু উবাইদ আল-কাসেম রহ. (মৃ: ২২৪ হি:) নিজ সনদে হুযাইফা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন- أتتكم الدهيماء ترمي بالنشف ثم التي تليها ترمي بالرضف . رواه أبو عبيد القاسم بن سلام الهروي في غريب الحديث: ٢/٢٣٢ – তোমদের (মুসলমানদের) উপর (ফিতনায়ে) দুহাইমা আবির্ভূত হবে। (তখন) নাশফ্ (কালো পাথর) নিক্ষেপ করা হবে। এর পরে আসবে রাযফ্ (অগ্নী শীলা)-এর নিক্ষেপন’। [গারিবুল হাদিস, ইমাম আবু উবায়েদ- ২/২৩২] এই রেওয়ায়েত থেকে অনুমিত হয় যে, প্রথম পর্যায়ে ফিতনায়ে দুহাইমা হবে, তারপর নাশাফ (কালো পাথর) দিয়ে নিক্ষেপ, তারপর রাযাফ (অগ্নী শীলা) দিয়ে দিয়ে নিক্ষেপ করার মতো ফিতনা হবে।

এই মতের সমর্থন আসকারী রহ. (মৃ: ৩৮২ হি:)-এর আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত আরেকটি রেওয়ায়েত দ্বারা হয়, যেখানে রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে বলা হয়েছে যে- اتَتْكُمُ الدُّهَيْمَاءُ ، قَالَهَا ثَلاثًا ، تَرْمِي بِالنَّشَفِ ، وَالثَّانِيَةُ : تَرْمِي بِالرَّضْفِ ، وَالثَّالِثَةُ : سَوْدَاءُ مُظْلِمَةٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ، قَتْلاها قَتْلَى جَاهِلِيَّةٍ . خرجه العسكري في تصحيفات المحدثين: ص ٣٢٧ تحقيق: محمود أحمد ميرة ; و الدوري في ’تاريخ ابن معين، عن عمر بن راشد عن يحيى بن أبي كثير عن أبي سلمة عن أبي هريرة رضي الله عنه: ١/٣٣٥ رقم ٢١٢٦, تحقيق: د. أحمد محمد نور سيف . – ‘তিনি ﷺ তিনবার বললেন: তোমদের (মুসলমানদের) উপর (ফিতনায়ে) দুহাইমা আবির্ভূত হবে। (তখন) নাশফ্ (কালো পাথর) নিক্ষেপ করা হবে। দ্বিতীয় বারে রাযফ্ (অগ্নী শীলা) নিক্ষেপ করা হবে। তৃতীয়ত পর্যায়ে ঘন কালো অন্ধকার (রূপে এক ফিতনা আগমন করবে যা) কেয়ামত পর্যন্ত (সময়ের পূর্বে আল্লাহ যতদিন চান থাকবে। সে সময়) জাহেলিয়াতের হত্যার ন্যায় হত্যা (সংঘটিত) হবে’। [তাসহিকাতুল মুহাদ্দিসীন, আসকারী- ১/৩২৭; তারিখে ইবনে মুয়াইয়েন– ১/৩২৭] আমার কাছে এই শেষোক্ত ব্যাখ্যাটিই মনে ধরে এবং আমি মনে করি, এই চারটি ফিতনার শুরু হবে ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ থেকে এবং এর রেশ ফিতনায়ে দাজ্জাল পর্যন্ত গিয়ে ঠেঁকবে।

রেওয়ায়েত গুলিতে আরো বলা হয়েছে, প্রথমে تَرْمِي بِالنَّشَفِ – নাশফ (কালো পাথর)  নিক্ষেপ করা হবে النَّشْفُ (নাশফ্)-এর এক অর্থ কালো পাথড় যা দিয়ে হাম্মামে গা পরিষ্কার করা হয়। [তাজুল আরুস– ২৪/৪০৬, আল-ফায়েক- ১/৪২২] আমি অর্থ করেছি ‘কালো পাথড়’। আমার মনে হয়, এখানে মুসলীম উম্মাহ’র উপরে النَّشْفُ  (নাশফ্ /কালো পাথড়) নিক্ষেপ বলতে হয়-তো যুদ্ধাস্ত্রের বুলেট বোঝানো হয়েছে। হতে পারে ‘ফিতনায়ে-দুহাইমা’র প্রথম পর্যায়ে যত্রতত্র বুলেটের গুলিতে মুসলীম নারী পুরুষ ও শিশু রক্ত ঝড়ানোর মতো তুলনামূল ছোট ফিতনা শুরু হবে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ترمي بالرضف – রাযফ্ (অগ্নী শীলা) নিক্ষেপ করা হবেالرَّضْفُ (রাযফ্)-এর এক অর্থ আগুনে গরম/দগ্ধ হওয়া পাথর/শীল। আমি অর্থ করেছি অগ্নী শীলা। [আল-ফায়েক- ১/৪২২, ৪৮০] আমার মনে হয়, এখানে মুসলীম উম্মাহ’র উপরে الرَّضْفُ  (রাযফ্/অগ্নী শীলা) নিক্ষেপ বলতে হয়-তো মিসাইল জাতীয় অত্যাধুনিক ক্ষেপনাস্ত্র  বোঝানো হয়েছে। হতে পারে ‘ফিতনায়ে-দুহাইমা’র প্রথম পর্যায়ে বুলেটের রেশ মুসলীম নারী পুরুষ ও শিশুদেরকে দ্বিতীয় পর্যায়ের আরো কঠিন ফিতনার দিকে ঠেলে দিবে, যেখানে শুধু বুলেট নয়, সাথে আকাশ থেকে ড্রন ফাইটার প্লেন দিয়ে এবং পাতাল থেকে ট্যাঙ্ক ও কামান দিয়ে বোম-শেল, মিসাইল ইত্যাদি দিয়ে মুসলমানদের বাড়িঘর, কলকারখানা, হাসপাতাল সব ধ্বংস করে দেয়া হবে, লাশের পর লাশ পড়ে থাকবে ইত্যাদি।

বর্তমানকার ইরাক ও সিরিয়ায় যা হচ্ছে, তার শুরু কিভাবে হয়েছে এবং এখন কোন পর্যায় অতিক্রম করছে -তার ডকুমেন্টারীগুলোর সাথে শেষ জামানার বিভিন্ন হাদিসগুলোকে মিলিয়ে চিন্তা করে দেখুন, দেখবেন হাদিসগুলোর ইঙ্গিত এদিকেই করা হয়েছে বলে অনুমিত হয়। এটা শুধু আমার মত নয়, বিশ্বের বহু সচেতন আলেমে দ্বীন তা-ই মনে করেন। الله اعلم بالصواب

# অালী রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন- جُعِلَتْ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ خَمْسُ فِتَنٍ : فِتْنَةٌ عَامَّةٌ ، ثُمَّ فِتْنَةٌ خَاصَّةٌ ، ثُمَّ فِتْنَةٌ عَامَّةٌ ، ثُمَّ فِتْنَةٌ خَاصَّةٌ ، ثُمَّ تَأْتِي الْفِتْنَةُ الْعَمْيَاءُ الصَّمَّاءُ الْمُطْبِقَةُ الَّتِي تَصِيرُ النَّاسُ فِيهَا كَالْأَنْعَامِ . رواه والحاكم في المستدرك على الصحيحين ,كتاب الفتن والملاحم: ٤/٦٠٢ رقم ٨٤١٧ و قال:هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ ، وَلَمْ يُخْرِجَاهُ ، و وافقه الذهبي في “تلخيصه ; و عبد الرزاق في “مصنفه: ١١/٣٥٦ رقم ٢٠٧٣٣; – ‘এই উম্মতের মধ্যে পাঁচটি (উল্লেখযোগ্য) ফিতনা হবে: (১) আম/ব্যাপক ফিতনা, (২) তারপর খাস/ নির্দিষ্ট ফিতনা, (৩) তারপর আম/ব্যাপক ফিতনা, (৪) তারপর খাস/ নির্দিষ্ট ফিতনা। এরপর (পঞ্চম পর্যায়ে) আসবে বধিরতাপূর্ণ অন্ধকারময় আচ্ছন্নকারী (একটি) ফিতনা, যার মধ্যে (লিপ্ত) মানুষজন (গৃহপালিত) চতুষ্পদ প্রাণির মতো (অসহায় ও নির্বাক) হয়ে যাবে’। [মুসতাদরাকে হাকিম– ৪/৬০২ হাদিস ৮৪১৭; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ১১/৩৫২ হাদিস ২০৭৩৩]

ফায়দা: ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বা রহ. নিজ সনদে এই রেওয়ায়েতটি উল্লেখ করেছেন, তবে সেখানে চতুর্থ ফিতনা’র পর রয়েছে: ، ثُمَّ فِتْنَةً تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ ، يُصْبِحُ النَّاسُ فِيهَا كَالْبَهَائِمِ .رواه ابن أبي شيبة في “مصنفه: ١٥/٢٤ رقم ١٩٠٠٤, اسناده حسن كما في زوائد ابن أبي شيبه على الكتب الستة لعبد الرحمان مهدلى: ص ٢٦٩ رقم ١٥٥; و الحاكم: ٤/٤٣٧ – এরপর (পঞ্চম একটি) ফিতনা হবে, (যা) সাগরের (উত্তাল) ঢেউয়ে (অন্ধ ও বধিরের মতো কখনো) এদিক (কখনো) ওদিক ভেসে যাওয়া (র মতো এক আচ্ছন্নকারী ফিতনা), যার মধ্যে (লিপ্ত) মানুষজন গৃহপালিত জানোয়ারের মতো ভেসে বেড়াবে’ । [মুসান্নাফে ইবনু আবি শায়বাহ- ১৫/২৪ হাদিস ১৯০০৪; মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৩৪৭]

এখানে পঞ্চম ফিতনা বলতে সম্ভবতঃ ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ এবং ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ’ -উভয় ফিতনাকে এক সাথে একই ফিতনার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ পঞ্চম ফিতনা’র প্রথম দিকটা হল ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ এবং শেষ দিকটা হল ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ’, যা অধিকতর কঠিন হবে। যেমন: আবু মুওয়াইহাবাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- أتت الفتن كقطع الليل؛ يركب بعضها بعضًا، الآخرة أشد من الأولى . رواه الإمام أحمد: ١٢/٤٠٨ رقم ١٥٩٣٨, و قال حمزة احمد الزين: اسناده حسن; و ابن الأعرابي في معجم شيوخ: ١/١٠٨ رقم ٩٣; الطبراني: ٢٢/٣٤٧; الخطيب: ٨/٢٢٢; و الحاكم: ٣/٥٥; البيهقي في دلائل: ٧/١٦٢ – রাতের (ঘন কালো অন্ধকারময়) টুকরা মতো একের উপর আরেকটা ফিতনা আবির্ভূত হতে থাকবে, (যার) প্রথমটির চাইতে শেষটি কঠিনতর হবে’। [মুসনাদে আহমদ- ১২/৪০৮ হাদিস ১৫৯৩৮; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৫৫; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ২২/৩৪৭; তারিখে বাগদাদ, খতীব- ৮/২২২; দালায়েলুন নাবুয়ত, বাইহাকী- ৭/১৬২] الله اعلم بالصواب

# আবু হুরায়রাহ রা. রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ أَفْلَحَ مَنْ كَفَّ يَدَهُ . رواه في سننه, كتاب الفتن والملاحم, باب ذكر الفتن ودلائلها: رقم ٤٢٤٩, اسناده صحيح كما في المرقاة : ١٠/٣٦ رقم ٥٤٠٤ – আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক (অন্ধত্বময় বধিরতাপূর্ণ বোবা) মন্দ (ফিতনা) ধেয়ে আসছে। যে ব্যক্তি (ওই ফিতনা থেকে) তার হাত’কে সরিয়ে রাখবে, সে সফলকাম হবে’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৪৯; আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ-৩৪৪]

# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدْ اقْتَرَبَ يَنْقُصُ الْعِلْمُ وَيَكْثُرُ الْهَرْجُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْهَرْجُ قَالَ الْقَتْلُ . أخرجه أحمد في المسنده, باقي مسند المكثرين , مسند أبي هريرة رضي الله عنه : ٢/٥٣٦ ; قال حمزه احمد الزين : ٩/٦٠٦ رقم ١٠٨٦٨: اسناده صحيح ; و ابو يعلي في المسنده: ٥/٥٠٩ رقم ٦٦١٤ – ‘আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক (অন্ধত্বময় বধিরতাপূর্ণ বোবা) মন্দ (ফিতনা) ধেয়ে আসছে। ইলমকে উঠিয়ে নেয়া হবে এবং ব্যাপক ভাবে হারাজ হবে’। বলা হল: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ ! হারাজ কি’? বললেন: ‘কতল’। [মুসনাদে আহমদ- ২/৫৩৬; মুসনাদে আবু ইয়া’লা– ৫/৫০৯ হাদিস ৬৬১৪]

# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন- ويل للعرب من شر قد اقترب من فتنة عمياء صماء بكماء القاعد فيها خير من القائم والقائم فيها خير من الماشي والماشي فيها خير من الساعي ويل للساعي فيها من الله يوم القيامة . اخرجه ابن حبان فى الصحيحه : ١٥/٩٨ رقم ٦٧٠٥ , قال شعيب الأرنؤوط : إسناده صحيح على شرط مسلم – ‘আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক অন্ধত্বময় বধিরতাপূর্ণ বোবা মন্দ ফিতনা ধেয়ে আসছে। এ ফিতনায় বসে থাকা ব্যাক্তি দাড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, দাড়ানো ব্যাক্তি   চলমান ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, চলমান ব্যাক্তি দৌড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। আর কেয়ামতের দিন আল্লাহ’র পক্ষ থেকে এ ফিতনায় দৌড়ানো ব্যাক্তির জন্য  দূর্ভোগ-দূর্গতি রয়েছে’। [সহিহ ইবনে হিব্বান– ১৫/৯৮ হাদিস ৬৭০৫]

# আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- تَكُونُ فِتْنَةٌ تَسْتَنْظِفُ الْعَرَبَ قَتْلَاهَا فِي النَّارِ، اللِّسَانُ فِيهَا أَشَدُّ مِنْ وَقْعِ السَّيْفِ . احمد في مسنده : ٢/٢١٢ , قال أحمد شاكر في تحقيقه : ٦/٣٢٩ رقم ٦٩٨٠ : إسناده صحيح ; رواه أبو داود ايضا في سننه , كتاب الفتن والملاحم , باب في كف اللسان : ٤/٤٦٠ رقم ٤٢٦٥ و قال رَوَاهُ الثَّوْرِيُّ عَنْ لَيْثٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنِ الأَعْجَمِ ، و الترمذي في سننه : ٢١٧٨ و ابن ماجه في سننه : ٣٩٦٧  – ‘(এমন) ফিতনা হবে (যা) আরব’কে একেবারে গ্রাস/সাবার করে ফেলতে চাইবে। (এই ফেতনায় অংশ নেয়া খুনিদের মতো)  নিহত ব্যাক্তিও দোযখে যাবে, (কারণ খুনি ও নিহত উভয়-ই একে অপরকে হত্যা করার নিয়তে এই ফিতনায় জড়িয়েছিল)। এই (ফিতনা’র আগুনকে ভরকিয়ে দেয়ার প্রশ্নে মানুষের বেসামাল) জবান -তরবারীর আঘাতের চাইতেও অধিক শক্তিশালী (ও কার্যকরী) ভূমিকা রাখবে’। [মুসনাদে আহমদ– ১১/১৭০; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৬৫; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২১৭৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৬৭; আল-ইবানাতুল কুবরা, ইবনুল বাত্তাহ- ৩৭৬; তারিখে দামেশক, ইবনুল আসাকীর- ৩১৪৭০; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা- ৭/৪৪৮]

ফায়দা: শেষ জামানা সম্পর্কিত হাদিসগুলোকে পর্যালোচনা করে দেখলে অনুমিত হয় যে, আখেরী জামানায় আরবদের উপরে যে ফিতনা’টি আপতিত  হওয়ার ইশারা রয়েছে, সেটাই হলফিতনায়ে দুহাইমা’, যার মধ্যে ‘হারাজ’ (তথা মুসলীম উম্মাহ’র একে অপরের মধ্যে হত্যা) সংঘটিত হবে। এই শেষ জামানায় এসে গোটা পৃথিবী -বিশেষ করে ‘আরব জাহান’ তথা ইরাক, সিরিয়া, সৌদি আরব, ইয়ামেন, কাতার, ইউনাইটেড আরব আমিরাত, কুয়েত, মিশর, জরদান, লেবানন ও হাবশাভুক্ত আরব দেশগুলো এজাতীয় খুনাখুনির যে বিষবাষ্প বৃষ্টি করেছে, বহু বিজ্ঞ সচেতন আলেমের মতে এটা ফিতনায়ে দুহাইমা’র একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। আমি এব্যাপারে সহমত পোষন করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এটাই সেই ফিতনা এবং এই ফিতনাটি’র রেশ সামনে আগমনকারী ‘মালহামাতুল-কুবরা’ (তৃতীয় মহাযদ্ধ) পর্যন্ত গিয়ে ঠেঁকবে, হাদিসের ইশারা-ইংগীত থেকে বোঝা যায়, ইমাম মাহদীর অধীনে এই ফিতনা’র পরিসমাপ্তি ঘটবে, ইনশাআল্লাহ। الله اعلم بالصواب

# হযরত আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُنَا أَنَّ بَيْنَ يَدَيْ السَّاعَةِ الْهَرْجَ . قِيلَ : وَمَا الْهَرْجُ ؟ قَال : الْكَذِبُ وَالْقَتْلُ . قَالُوا : أَكْثَرَ مِمَّا نَقْتُلُ الْآنَ ؟ قَالَ : إِنَّهُ لَيْسَ بِقَتْلِكُمْ الْكُفَّارَ ، وَلَكِنَّهُ قَتْلُ بَعْضِكُمْ بَعْضًا ، حَتَّى يَقْتُلَ الرَّجُلُ جَارَهُ ، وَيَقْتُلَ أَخَاهُ ، وَيَقْتُلَ عَمَّهُ ، وَيَقْتُلَ ابْنَ عَمِّهِ . قَالُوا : سُبْحَانَ اللَّهِ ! وَمَعَنَا عُقُولُنَا ؟ قالَ : لَا ، إِلَّا أَنَّهُ يَنْزِعُ عُقُولَ أَهْلِ ذَاكَ الزَّمَانِ ، حَتَّى يَحْسَبَ أَحَدُكُمْ أَنَّهُ عَلَى شَيْءٍ وَلَيْسَ عَلَى شَيْءٍ . رواه أحمد في ” المسند: ١٤/٥٣٤ رقم ١٩٥٢٦, إسناده صحيح، رجاله ثقات رجال الشيخين غير أسِيد بن المتشمس، فمن رجال ابن ماجه، وهو ثقة, وصححه المحققون في طبعة مؤسسة الرسالة، وصححه الشيخ الألباني في ” السلسلة الصحيحة: رقم ١٦٨٢ – ‘রাসুলুল্লাহ আমাদেরকে বলেছিলে যে, কেয়ামতের আগে আগে হারজ হবে। জিজ্ঞেস করা হল: হারজ কি? তিনি বললেন: (ব্যাপক হারে) মিথ্যা (কথা ও প্রচারনা) ও হত্যাকান্ড। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: আজ আমরা (জিহাদে) যেসব (কাফেরদেরকে) হত্যা করি (তারা সেই জামানায়) তার চেয়েও বেশি (কাফেরকে জিহাদে হত্যা করবে)? তিনি বললেন: বস্তুত: এটা তোমাদের (জীহাদে) কাফেরকে হত্যা করা (-র মতো) হত্যাকান্ড নয়। বরং এটা হল তোমাদের (সেই জামানার মুসলমানদের) একে অন্যকে (করা) হত্যাকান্ড। এমনকি (এই ফিতনা’র ক্রমধারায় এমনও হবে যে,) এক ব্যাক্তি তার প্রতিবেশিকে হত্যা করবে, তার ভাইকে হত্যা করবে, তার চাচাকে হত্যা করবে, তার চাচাত ভাইকে হত্যা করবে’। লোকেরা বললো: আল্লাহ পবিত্র!!! ( এমনও ঘটবে)!!! (সে সময় কি) আমাদের (মুসলমানদের) কাছে বিবেক-বোধ (বলতে কিছু) থাকবে না? তিনি বললেন: না (থাকবে না)। সেই জামানায় (বিবেকবোধের সাথে উপর্যুপরি খেয়ানত করার কারণে শাস্তি স্বরূপ) মানুষদের বিবেক-বোধ উঠিয়ে নেয়া হবে। এমন কি (তখন) তোমাদের (মুসলমানদের) কেউ (এমনও) মনে করবে যে, সে (যেন সেইরকম কোনো সঠিক ও গৌরবজনক) কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছে, কিন্তু (বাস্তবে সে আল্লাহ চোখে) কোনো কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) থাকবে না। (শয়তান তাদের পাপগুলোকে তাদের চোখে সুন্দর ও গৌরবজনক বানিয়ে ধোকা দিবে)। [মুসনাদে আহমদ– ১৪/৫৩৪, হাদিস ১৯৫২৬; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস ২০৭৪৪; মুসনাদে আবু ইয়া’লা, হাদিস ৭২৪৭; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৬৭১০]

ফায়দা: আমার মতে, এই ‘হারাজ’ হল ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র ভিতরে ঘটে যাওয়া আরব জাহানে মুসলীম উম্মাহ’র পরষ্পরের মাঝে ব্যাপক হারে ঘটে যাওয়া সব খুনখারাবি গুলো। তবে অন্যান্য আরব-অনারব দেশগুলোতে যেসব দুনিয়াবী কারণে মুসলমানে মুসলমানে খুনা-খুনি করেছে, সেগুলোও হাদিসে বর্ণিত হারজ-এর মধ্যে গণ্য হতে পারে। الله اعلم بالصواب

# হযরত হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত,  তিনি বলেন- سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الساعة فقال علمها عند ربي لا يجليها لوقتها الا هو ولكن أخبركم بمشاريطها وما يكون بين يديها فتنة وهرجا قالوا يا رسول الله الفتنة قد عرفناها فالهرج ما هو قال بلسان الحبشة القتل ويلقى بين الناس التناكر فلا يكاد أحد أن يعرف أحدا .اخرجه الإمام أحمد: ٥/٣٨٩ ; قال الهيثمي في “مجمع الزوائد”: ٧/٣٠٩ – ورجاله رجال الصحيح – ‘(একবার) রাসুলুল্লাহ কে কেয়ামত সম্পর্ক জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন: এর জ্ঞান (শুধুমাত্র) আমার রবের কাছে আছে; তিনি ছাড়া এর সময়-ক্ষন প্রকাশ করে দেয়ার (দ্বিতীয়) কেউ নেই। তবে আমি তোমাদেরকে এর কিছু আলামত ও লক্ষনের খবর দিচ্ছি। এর আগে আগে (প্রকট অন্ধকারময়) ফিতনা এবং হারজ হবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! ফিতনা (কী -তা)তো অামরা চিনে নিয়েছি, তবে এই ‘হারজ’টা কি? তিনি বললেন: হাবশী ভাষায় কতল (খুনাখুনি’কে বলা হয় হারজ), যা একে-অপরকে ঘৃনাকারী জনমানুষের মাঝে নিক্ষেপীত হবে। তখন (এমন হবে যে, তাদের) একজন আরেকজনের একেবারে কাছে গিয়েও তাকে চিনতে পারবে না (যে, সে তার মুসলীম ভাই বা বোন, যাদেরকে হত্যা করা হারাম। সে শুধু এতটুকু উপলব্ধি করবে যে, অমুক তার বিপক্ষবাদী, তাই তাকে হত্যা করতে হবে মনে করে হত্য করে ফেলবে)। [মুসনাদে আহমদ- ৫/৩৮৯; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩০৯]

# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- سَتَكُونُ فِتَنٌ ، الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنْ الْقَائِمِ ، وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنْ الْمَاشِي ، وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنْ السَّاعِي ، وَمَنْ يُشْرِفْ لَهَا تَسْتَشْرِفْهُ ، وَمَنْ وَجَدَ مَلْجَأً أَوْ مَعَاذًا فَلْيَعُذْ بِهِ . رواه البخاري في الصحيح , كتاب المناقب , بَابُ عَلَامَاتِ النُّبُوَّةِ فِي الإِسْلَامِ : رقم ٣٦٠١ ، و مسلم في الصحيح : رقم ٢٨٨٦  – “শঘ্রিই (বধিরতাপূর্ণ বাকশক্তিহীন অন্ধত্ববাদী ঘন কালো অন্ধকারময় একটি) ফিতনা সমূহ হবে। এ ফিতনায় বসে থাকা ব্যাক্তি দাড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, দাড়ানো ব্যাক্তি চলমান ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, চলমান ব্যাক্তি দৌড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। যে ব্যাক্তি (এর ভয়াবহতার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে) ওর দিকে চোখ তুলে তাকাবে, সেটা তাকে গ্রাস করে ফেলবে। (সে জামানায়) যে ব্যাক্তি (কোনো) ঠিকানা (Refuge) কিংবা নিরাপদালয় পেয়ে যায়, সে যেন তাতে আশ্রয় নেয়”। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৩৬০১; সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৮৮৬]

# আবু বকরাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتَنٌ : أَلَا ثُمَّ تَكُونُ فِتْنَةٌ الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي فِيهَا ، وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي إِلَيْهَا . أَلَا ، فَإِذَا نَزَلَتْ أَوْ وَقَعَتْ ، فَمَنْ كَانَ لَهُ إِبِلٌ فَلْيَلْحَقْ بِإِبِلِهِ ، وَمَنْ كَانَتْ لَهُ غَنَمٌ فَلْيَلْحَقْ بِغَنَمِهِ ، وَمَنْ كَانَتْ لَهُ أَرْضٌ فَلْيَلْحَقْ بِأَرْضِهِ قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ مَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ إِبِلٌ وَلَا غَنَمٌ وَلَا أَرْضٌ ؟ قَالَ : يَعْمِدُ إِلَى سَيْفِهِ فَيَدُقُّ عَلَى حَدِّهِ بِحَجَرٍ ، ثُمَّ لِيَنْجُ إِنِ اسْتَطَاعَ النَّجَاءَ ، اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ ؟ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ ؟ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ ؟ قَالَ : فَقَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ أُكْرِهْتُ حَتَّى يُنْطَلَقَ بِي إِلَى أَحَدِ الصَّفَّيْنِ ، أَوْ إِحْدَى الْفِئَتَيْنِ ، فَضَرَبَنِي رَجُلٌ بِسَيْفِهِ ، أَوْ يَجِيءُ سَهْمٌ فَيَقْتُلُنِي ؟ قَالَ : يَبُوءُ بِإِثْمِهِ وَإِثْمِكَ ، وَيَكُونُ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ . رواه مسلم في الصحيح , كتاب الفتن وأشراط الساعة : رقم ٢٨٨٧ , وأبو داود في سننه , كتاب الفتن والملاحم : رقم ٤٢٥٦ , و أحمد في مسنده : ٥/٤٨ , و رجالهما رجال الصحيح – “নিশ্চই অচিরেই (বেশ) কিছু ফিতনা হবে। শুনে রাখো, অত:পর (বধিরতাপূর্ণ বাকশক্তিহীন অন্ধত্ববাদী ঘন কালো অন্ধকারময় একটি) ফিতনা হবে। তাতে বসে থাকা ব্যাক্তি হেটে চলা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে এবং হেটে চলা ব্যাক্তি তার দিকে দৌড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে’। সাবধান! যখন তা নাজিল হবে বা (বাস্তবে) ঘটবে, তখন যার (নিজের) উট থাকবে, সে যেন তার উটকে নিয়েই (সন্তুষ্ট) থাকে। আর যার ভেড়া থাকবে, সে যেন তার ভেড়াকে নিয়েই (সন্তুষ্ট) থাকে। আর যার জমি থাকবে, সে যেন তার জমিকে নিয়েই (সন্তুষ্ট) থাকে। তখন এক ব্যাক্তি জিজ্ঞেস করলো: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! (সে জামানায়) যার উট, ভেড়া, জমি (কিছুই) থাকবে না, তার ব্যাপারে আপনি কী বলেন’? তিনি বললেন: ‘সে তার তরবারী (অস্ত্র)’র কাছে যাবে, তারপর সে সেটার ধারাল অংশকে পাথড় দিয়ে ভেঙ্গে ফেলবে। অত:পর সে যথাসম্ভব কোনো নিরপদস্থলে আশ্রয় নিবে। হে আল্লাহ, আমি কি (তোমার বার্তা আমার উম্মতের কাছে) পৌছিয়ে দিয়েছি? আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছি? আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছ ‘? তখন এক ব্যাক্তি জিজ্ঞেস করলো: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি যদি (ফিতনায় লিপ্ত দলগুলোকে) ঘৃনা করি, (কিন্তু) শেষ পর্যন্ত দু’ সারির কোনো এক সারিতে কিংবা দু’দলের কোনো একদলের দিকে আমাকে (জোর করে) টেনে নিয়ে যায়, তারপর আমাকে (তাদের) এক ব্যাক্তি তার তরবারী দিয়ে আঘাত করে কিংবা (কারোর নিক্ষেপিত) তীর (আমার দিকে ধেয়ে) আসে, ফলে সে আমাকে হত্যা করে ফেলে’? তিনি বললেন: ‘(এমতাবস্থায় যে তোমাকে হত্যা করবে), সে তার (নিজের) গোনাহ এবং তোমার (জীবনের কৃত) গোনাহ (উভয়টাই) বহন করবে এবং সে হবে দোযখের অধিবাসী”। [সহিহ মুসলীম– ৪/২২১২ হাদিস ২৮৮৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৫৬; মুসনাদে আহমদ- ৫/৪৮; সুনানে ইবনে মাজাহ- ২/১৩০৮ হাদিস ৩৯৫৮]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- تَكُونُ فِتْنَةٌ، النَّائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمُضْطَجِعِ، وَالْمُضْطَجِعُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَاعِدِ، وَالْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنِ الْقَائِمِ، وَالْقَائِمُ خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي، وَالْمَاشِي خَيْرٌ مِنَ الرَّاكِبُ، وَالرَّاكِبُ خَيْرٌ مِنَ الْمُجْرِي، قَتْلاهَا كُلُّهَا فِي النَّارِ “، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَتَى ذَلِكَ؟ قَالَ: ” ذَلِكَ أَيَّامَ الْهَرْجِ “، قُلْتُ: وَمَتَى أَيَّامُ الْهَرْجِ؟ قَالَ: ” حِينَ لا يَأْمَنُ الرَّجُلُ جَلِيسَهُ ” قَالَ: فَبِمَ تَأْمُرُنِي إِنْ أَدْرَكْتُ ذَلِكَ الزَّمَانَ؟ قَالَ: ” اكْفُفْ نَفْسَكَ وَيَدَكَ وَادْخُلْ دَارَكَ ” قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ دَخَلَ رَجُلٌ عَلَيَّ دَارِي؟ قَالَ: ” فَادْخُلْ بَيْتَكَ “، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ دَخَلَ عَلَيَّ بَيْتِي؟ قَالَ: ” فَادْخُلْ مَسْجِدَكَ، وَاصْنَعْ هَكَذَا ” فَأَتَى بِيَمِينِهِ عَلَى الْكُوعِ، وَقُلْ: ” رَبِّيَ اللَّهُ، حَتَّى تَمُوتَ عَلَى ذَلِكَ . رواه عبد الرزاق في مصنفه:١١/٣٥٠ رقم ٢٠٧٢٧, و الحاكم فى المستدرك:٣/٣٩٣ رقم ٥٤٦٥ و وقال: “صحيح الإسناد ولم يخرجاه “، ووافقه الذهبي في “تلخيصه كما في إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة:١/٣٤ ; و أحمد في مسنده:١/٤٤٨ رقم٤٢٨٦, والطبراني فى المعجم الكبير:١٠/٩; الخطابي في العزلة: ١/١٨ رقم ١١ و قال العراقى: إسناده عند الخطابي انقطاع; و نعيم بن حماد فى الفتن: ص ٧٨; و ابن عساكر في تاريخ مدينة دمشق:٦٢/٣٣٦ رقم ١٢٨٥٥; صححه الألباني فى السلسلة الصحيحة: رقم ٣٢٥٤– ‘আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, (সেদিন বেশি দূরে নয়, যখন এমন) ফিতনা হবে যে, (তাতে) ঘুমন্ত ব্যাক্তি (বিছানায় জেগে জেগে) শুয়ে থাকা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, শুয়ে থাকা ব্যাক্তি বসে থাকা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, বসে থাকা ব্যাক্তি দাঁড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, দাঁড়ানো ব্যাক্তি হেটে চলা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, হেটে চলা ব্যাক্তি আরোহীত ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, আরোহী ব্যাক্তি (বাহনকে নিয়ে) চালিত ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। (সেই ফিতনা’য়) কতল হওয়া প্রত্যেকেই দোযখে যাবে। (ইবনে মাসউদ রা) বলেন, আমি জেজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! সেটা কখন ঘটবে? তিনি বললেন: সেটা হবে হারজ-এর দিনগুলোতে। আমি জেজ্ঞেস করলাম:  হারজ-এর দিনগুলো কখন হবে? তিনি বললেন: যখন একজন ব্যাক্তি তার পাশে বসা ব্যাক্তি থেকেও নিরাপদ থাকবে না। আমি বললাম: আমি যদি সেই জামানা পাই তাহলে আপনি আমাকে কি করার নির্দেশ দেন? তিনি বললেন: তুমি (যথাসম্ভব তোমার) নিজকে ও তোমার হাতকে (মানুষজনের বিষয়াবলি থেকে) বাঁচিয়ে রাখবে এবং তোমার বাড়িতে ঢুকে পড়বে (জরুরত ছাড়া বাড়ির সীমানার বাইরে বেড়ুবে না)। (ইবনে মাসউদ রা) বলেন, আমি জেজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! যদি কোনো ব্যাক্তি আমার বাড়িতে ঢুকে আমার কাছে চলে আসে, (সেক্ষেত্রে) আপনোর মত কি? তিনি বললেন: তাহলে তুমি তোমার ঘরে ঢুকে পড়বে। তিনি বলেন, আমি জেজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! সে যদি আমার ঘরে ঢুকে পড়ে আমার কাছে চলে আসে, (সেক্ষেত্রে) আপনোর মত কি? তিনি বললেন: তাহলে (তোমার ঘরের) নামাযের স্থানে ঢুকে পড়বে এবং এরকম করবে (-একথা বলে) তিনি তাঁর ডান হাতকে কব্জির উপর রাখলেন। আর বলবে: আল্লাহ আমার রব। (এটা করবে,) যাবত না এর উপরই তোমার মৃত্যু হয়। (তবুও প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে যাবে না)’। [মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক -১১/৩৫০ হাদিস ২০৭২৭; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৩৯২ হাদিস ৫৪৬৫; আল-উযলাহ, খাত্তাবী- ১/১৮ হাদিস ১১; মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ১০/৯; আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ-৭৮ পৃ:; তারিখে দামেশক, ইবনে আসাকীর- ৬২/৩৩৬ ক্র:নং ১২৮৫৫]

# আবু যর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- كَيْفَ أَنْتَ يَا أَبَا ذَرٍّ وَمَوْتًا يُصِيبُ النَّاسَ حَتَّى يُقَوَّمَ الْبَيْتُ بِالْوَصِيفِ؟ – يَعْنِي الْقَبْرَ – قُلْتُ: مَا خَارَ اللَّهُ لِي وَرَسُولُهُ – أَوْ قَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ – قَالَ: تَصَبَّرْ، قَالَ: كَيْفَ أَنْتَ، وَجُوعًا يُصِيبُ النَّاسَ، حَتَّى تَأْتِيَ مَسْجِدَكَ فَلَا تَسْتَطِيعَ أَنْ تَرْجِعَ إِلَى فِرَاشِكَ، وَلَا تَسْتَطِيعَ أَنْ تَقُومَ مِنْ فِرَاشِكَ إِلَى مَسْجِدِكَ؟ قَالَ: قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ – أَوْ مَا خَارَ اللَّهُ لِي وَرَسُولُهُ – قَالَ: عَلَيْكَ بِالْعِفَّةِ ثُمَّ قَالَ: كَيْفَ أَنْتَ، وَقَتْلًا يُصِيبُ النَّاسَ حَتَّى تُغْرَقَ حِجَارَةُ الزَّيْتِ بِالدَّمِ؟ قُلْتُ: مَا خَارَ اللَّهُ لِي وَرَسُولُهُ، قَالَ: الْحَقْ بِمَنْ أَنْتَ مِنْهُ ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا آخُذُ بِسَيْفِي، فَأَضْرِبَ بِهِ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ، قَالَ: شَارَكْتَ الْقَوْمَ إِذًا، وَلَكِنِ ادْخُلْ بَيْتَكَ ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَإِنْ دُخِلَ بَيْتِي؟ قَالَ: إِنْ خَشِيتَ أَنْ يَبْهَرَكَ شُعَاعُ السَّيْفِ، فَأَلْقِ طَرَفَ رِدَائِكَ عَلَى وَجْهِكَ، فَيَبُوءَ بِإِثْمِهِ وَإِثْمِكَ، فَيَكُونَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ . اخرجه ابن ماجه في سننه , كتاب الفتن , بَاب التَّثَبُّتِ فِي الْفِتْنَةِ : رقم ٣٩٥٨ و صححه الألباني في صحيح ابن ماجه ، وأحمد في مسنده : ٢١٣٢٥ و صححه محققو المسند على شرط مسلم ، وابن حبان في صحيحه : ٦٦٨٥ ; أبو داود في سننه , كتاب الفتن والملاحم : ٤٢٦١، – “হে আবু যর! (তখন) তোমার কী (অবস্থা) হবে, (যখন) লোকজন (ফিতনা ফ্যাসদের মাঝে পাইকারী হারে) মড়তে থাকবে, এমনকি (তখন অবস্থা এমন হবে যে, একটি) ঘর -তথা কবর(-এর সমান জায়গার জন্য তার মূল্য)কে গোলামের (দামের) সাথে সমন্বয় করে নেয়া হবে’! আমি বললাম: ‘যা আল্লাহ আমার জন্য পছন্দ করেন এবং তাঁর রাসুল (ভাল মনে করেন), অথবা তিনি বলেছেন: ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভাল জানেন’। তিনি বললেন: ‘তুমি সবর করো’। (আবার) বললেন: ‘(তখন) তোমার কী (অবস্থা) হবে, (যখন) মানুষজন (ভীষন) ভোগন্তিতে পড়বে, এমনকি তুমি (নামায ও আল্লাহ’র স্মরণের জন্য জন্য) তোমার মসজিদে আসবে, কিন্তু (সেখান থেকে) তোমার না বিছানায় ফিরে যাওয়ার সামর্থ হবে, আর না তুমি তোমার বিছানা থেকে দাঁড়িয়ে তোমার মসজিদের দিকে যাওয়ার সামর্থ রাখবে। আমি বললাম: ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভাল জানেন’ অথবা ‘যা আল্লাহ আমার জন্য পছন্দ করেন এবং তাঁর রাসুল (ভাল মনে করেন)’। তিনি বললেন: ‘(তখন) তুমি (শরীয়তের যাবতীয়) নিষিদ্ধ-বিষয় থেকে বিরত থাকাকে নিজের উপরে অপরিহার্য করে নিও’। অত:পর বললেন: ‘(তখন) তোমার কী (অবস্থা) হবে, (যখন) লোকজন (গণ হারে) নিহত হবে, এমনকি (এতে করে) ‘হিজারাতুয-যাইত’ (মানুষের) রক্তে ডুবে যাবে’! আমি বললাম: ‘যা আল্লাহ আমার জন্য পছন্দ করেন এবং তাঁর রাসুল (ভাল মনে করেন)’। তিনি বললেন: ‘তুমি (আজ) যাদের, (সে সময়ও) তাদের সাথেই যুক্ত থেকো’। আবু যর রা. বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! (ওই অবস্থার মুকাবেলা করার জন্য) আমি কি আমার তরবারী ধারন করবো না? তখন যারা সেটা ঘটাবে, আমি তাদেরকে (আমার তরবারী দিয়ে) আঘাত করবো’! (একথা শুনে) তিনি বললেন: ‘তাহলে তখন তুমিও ওই গোষ্ঠির (পাপের) সাথে শরীক হয়ে যাবে। বরং তুমি (তখন) তোমার ঘরে প্রবেশ করবে’। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! তখন যদি (কেউ আমাকে হত্যার জন্য খোদ) আমার ঘরে প্রবেশ করে’? তিনি বললেন: ‘যদি তোমার এই ভয় হয় যে, (ওই ব্যাক্তির) তরবারীর ঝলকানী তোমার চোখ ধাঁদিয়ে দিবে, তাহলে তুমি তোমার চাদরের কিনারাকে তোমার মুখের উপরে রেখে দিও, (তবুও তাকে হত্যা করার জন্য তোমার তরবারী বের করবে না)। সে (যদি তখন তোমাকে হত্যা করে, তাহলে সে) তার নিজের পাপ এবং তোমার পাপ (দুটোই কেয়ামতের দিন) বহন করবে। পরে সে হবে দোযখের অধিবাসী”। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৫৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৬১; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২১৩২৫; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৬৬৮৫]

# খালেদ বিন উরফুতাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেনيَا خَالِدُ إِنَّهَا سَتَكُونُ بَعْدِي أَحْدَاثٌ وَفِتَنٌ وَاخْتِلَافٌ فَإِنْ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَكُونَ عَبْدَ اللَّهِ الْمَقْتُولَ لَا الْقَاتِلَ فَافْعَلْ  . أخرجه أحمد في مسنده :٥/٢٩٢ ; و الحاكم في مستدركه : ٣/٢٨١ , ٤/٥١٧ وقال الألباني في إرواء الغليل ٨/١٠٤: سكت عنه الحاكم والذهبي، وعلي بن زيد هو ابن جدعان، سئ الحفظ لكن الأحاديث التي قبله تشهد له; و أخرجه ايضا الطبراني في المعجم الكبير: رقم ٤٠٩٩ ; قال الهيثمي: ٧/٣٠٢ : رواه احمد و البزار والطبراني و فيه علي بن زيد، وفيه ضعف، وهو حسن الحديث، وبقية رجاله ثقات – “হে খালেদ! নিশ্চই আমার পর অচিরেই নতুন নতুন বিষয়, ফিতনা সমূহ ও বিরোধ হবে। তখন যদি খুনী না হয়ে আল্লাহ’র এক মৃত বান্দা হওয়া তোমার পক্ষে সম্ভব হয়, তাহলে সেটাই হয়ো, (তবুও মুসলমানের রক্তে নিজ হাতকে রঞ্জিত করো না)’। [মুসনাদে আহমদ- ৫/২৯২; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/২৮১, ৪/৫১৭; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী ৪০৯৯; আল-আহাদ ওয়াল মাছনা, ইবনু আবি আসিম, হাদিস ৬৪৬; মা’রিফাতুস সাহাবাহ, আবু নুআইম, হাদিস ২৪৫৫; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩০২; আদ-দুররুল মানসুর, সুয়ূতী- ২/৪৮৭]

# আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَقْتُلَ الرَّجُلُ جَارَهُ وَأَخَاهُ وَأَبَاهُ . أخرجه البخاري في الأدب المفرد : رقم ١١٨ ; و ذكره الديلمي في مسند الفردوس : ٣/١٦٨ ; إسناده جيد كما في سلسلة الأحاديث الصحيحة : رقم ٣١٨٥  – ‘কেয়ামত কায়েম হবে না -যাবৎ না কোনো ব্যাক্তি তার প্রতিবেশিকে, তার ভাইকে এবং তার পিতাকে হত্যা করে ফেলে’। [আল-আদাবুল মুফরাদ, ইমাম বুখারী, হাদিস ১১৮; মুসনাদে ফিরদাউস, ইমাম দাইলামী- ৩/১৬৮]

# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَدْرِي الْقَاتِلُ فِي أَيِّ شَيْءٍ قَتَلَ، وَلَا يَدْرِي الْمَقْتُولُ عَلَى أَيِّ شَيْءٍ قُتِلَ . رواه مسلم, كتاب الفتن وأشراط الساعة: رقم ٢٩٠٨; و الدانى فى السنن الواردة في الفتن وغوائلها والساعة وأشراطها: ٢٢٠ – ‘ওই সত্ত্বার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন, মানুষের উপর অবশ্যই এমন এক জামানা আসবে, যখন (এমনও হবে যে,) একজন খুনি জানবে না যে সে কিজন্য খুন করেছে এবং নিহত ব্যাক্তি জানবে না যে, কী প্রেক্ষিতে সে নিহত হল’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯০৮; আস-সুন্নাহ, ইমাম দানী, হাদিস ২২০]

ফায়দা: আমার ব্যাক্তিগত ক্ষুদ্র গবেষনা মতে, এই খুন বলতে ‘হারজ’ উদ্দেশ্য। অবশ্য পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে দুনিয়াবী কারণে মুসলমানে মুসলমানে খুনা-খুনি করেছে, সেগুলোও এই হাদিসের উদ্দেশ্য হতে পারে। الله اعلم بالصواب  

# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا تَذْهَبُ الدُّنْيَا، حَتَّى يَأْتِيَ عَلَى النَّاسِ يَوْمٌ لَا يَدْرِي الْقَاتِلُ فِيمَ قَتَلَ، وَلَا الْمَقْتُولُ فِيمَ قُتِلَ  فَقِيلَ: كَيْفَ يَكُونُ ذَلِكَ؟ قَالَ: الْهَرْجُ، الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ. رواه مسلم, كتاب الفتن وأشراط الساعة: رقم ٢٩٠٨ – ‘ওই সত্ত্বার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন, দুনিয়া ধ্বংস হবে না, যাবৎ না মানুষের উপর এমন দিন আসে যে, একজন হত্যাকারী জানবে না যে সে কিজন্য খুন করেছে এবং নিহত ব্যাক্তি জানবে না যে, কী প্রেক্ষিতে সে নিহত হল’। তখন বলা হল: সেটা কিভাবে হবে? তিনি বললেন: হারজ (হবে। আর তাদের মধ্যে) হত্যাকারী ও নিহত (উভয়ই) দোযখে যাবে।  [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯০৮]

ফায়দা: ইমাম কুরতুবী রহ. বলেছেন- بيَّنَ هذا الحديث أن القتال إذا كان على جهل من طلب دنيا ، أو اتباع هوى ، فهو الذي أريد بقوله : القاتل والمقتول في النار  -এই হাদিসটি বলছে যে,  যখন (কুরআন-সুন্নাহ’য় কোন অবস্থায় কাকে হত্যা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে -সে ব্যাপারে সহিহ ইলম ব্যতীত নিছক বিবেকপ্রসূত) মুর্খতা ও অজ্ঞতার ভিতিতে (কোনো) পার্থিব স্বার্থে বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে কোনো লড়াই বা হত্যাকান্ড ঘটানো হয়, তখন সেটা (হয়ে দাঁড়ায় মানুষ হত্যাকান্ডের পাপ), যার দিকে ইশারা করে বলা হয়েছে- الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ –  ‘হত্যাকারী ও নিহত (উভয়ই) দোযখে যাবে’। [ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার- ১৩/৩৪] যেমন: আবু বকরা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- إِذَا تَوَاجَهَ الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَكِلَاهُمَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ قِيلَ فَهَذَا الْقَاتِلُ فَمَا بَالُ الْمَقْتُولِ قَالَ إِنَّهُ أَرَادَ قَتْلَ صَاحِبِهِ . رواه البخاري في الصحيح , كتاب الفتن , باب إذا التقى المسلمان بسيفيهما: ٤/٣١٧ رقم ٧٠٨٣  — ‘যখন (হত্যা করার উদ্দেশ্যে) দুজন মুসলমান তাদের তরবারী নিয়ে পরষ্পরের মুখোমুখী হয়, তখন তাদের দুজনই দোযখের অধিবাসীর অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়। জিজ্ঞেস করা হল: এটা-তো হত্যাকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; নিহত ব্যাক্তির উপর কেনো আরোপিত হল? তিনি বললেন: (কারণ) সেও ওই ব্যাক্তিকে হত্যা করার ইচ্ছায় ছিল’। [সহিহ বুখারী- ৪/৩১৭ হাদিস ৭০৮৩]

ইমাম নববী রহ. বলে-  وأما كون القاتل والمقتول من أهل النار فمحمول على من لا تأويل له ، ويكون قتالهما عصبية ونحوها  – হত্যাকারী ও নিহত (উভয়ই) দোযখবাসী হবে -এটা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের (হত্যাকান্ডটির স্বপক্ষে শরয়ীসম্মত কোনো) ব্যাখ্যা নেই, (বরং তারা কুরআন-সুন্নাহ’য় কোন অবস্থায় কাকে হত্যা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে -সে ব্যাপারে সহিহ ইলম ব্যতীত নিছক তাদের মুর্খতা ও অজ্ঞতার ভিত্তেতি কোনো পার্থিব স্বার্থে বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে কোনো লড়াই বা হত্যাকান্ডে জড়িত হয়)। এমতাবস্থায় তাদের উভয়ের লড়াই বা হত্যাকান্ডটি হবে আসাবিয়াত (এলাকাপ্রীতি, জাতিপ্রীতি, গোত্রপ্রীতি) জাতীয় (পাপ)। [শারহু মুসলীম, নববী- ১৮/১৫] 

এক কথায়, আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল -এর মাধ্যমে যে অবস্থায় যার সাথে যে শর্ত সাপেক্ষে জিহাদ/কিতাল করার কিংবা কাউকে হত্যা করার অনুমতি দিয়েছেন, তা বাদে সকল প্রকার যুদ্ধ, দাঙ্গা, হত্যাকান্ডের প্রতিটি একেকটা ‘ফিতনা’ কিংবা ফ্যাসাদের অংশ বৈ নয়।

মুসলমানরা পরষ্পরে এরকম ফিতনা-ফ্যাদসাদে আজ জর্জরিত, আরব-অনারব কেউ বাকি নেই। কেউ হত্যাযজ্ঞে জড়িত হচ্ছে মানুষের রক্তের উপর বিজনেস করার জন্য, কেউ দেশ বা জাতিপ্রীতির জন্য, কেউ ইসলাম- বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র কায়েমের জন্য, আর কেউ-বা ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে নিরপরাধ মানুষের গলা কেটে মুজাহিদ সাজার জন্য, আর বুক ফুলিয়ে তাতে মাড়া যাওয়া লোকদেরকে বলছে ‘শহিদ’ !!!!

‘বুক ফুলিয়ে’ কথাটি এজন্য বললাম যে, এরা সবাই তাদের নিজ নিজ অবস্থানের উপর সন্তুষ্ট এবং গৌরবাহ্নিত বোধ করে থাকে যে, তারা খুব ভাল কাজ করছে। কিন্তু আসলে শরীয়তের সহিহ ইলম না থাকার কারণে তারা বুঝতে পারে না যে, তারা যে অবস্থায় যার সাথে যেভাবে যুদ্ধ, দাঙ্গা বা খুন-খারাবি’তে লিপ্ত হওয়াকে বৈধ মনে করে বসে আছে, সে অবস্থায় ওসব কাজ আল্লাহ’র দৃষ্টিতে বৈধ নয়। উপরের হাদিসে এদিকেই ইশারা করা হয়েছে- حَتَّى يَحْسَبَ أَحَدُكُمْ أَنَّهُ عَلَى شَيْءٍ وَلَيْسَ عَلَى شَيْءٍ – এমন কি (তখন) তোমাদের  কেউ (এমনও) মনে করবে যে, সে (যেন সেইরকম কোনো সঠিক ও গৌরবজনক) কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছে, কিন্তু (বাস্তবে সে আল্লাহ চোখে) কোনো কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) থাকবে না। (শয়তান তাদের পাপগুলোকে তাদের চোখে সুন্দর ও গৌরবজনক বানিয়ে ধোকা দিবে)। الله اعلم بالصواب

# হযরত আবু হুরায়রাহ রা.-এর  সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- بَادِرُوا بِالأَعْمَالِ فِتَنا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ. يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيْهَا مُؤْمِناً وَيُمْسِي كَافِراً. أَوْ يُمْسِي مُؤْمِناً وَيُصْبِحُ كَافِراً. يَبِيعُ دِينَهُ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا – ‘তোমরা আমলের ব্যাপারে যত্নবান হও। (কারণ তোমাদের সামনে) ফিতনা সমূহ হবে; (যার একেকটা) যেন রাতের অন্ধকারের ফালি/খন্ড। (সে সময়) লোকের সকাল হবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধা হবে কাফের অবস্থায়। অথবা সন্ধা হবে মুমিন অবস্থায় এবং সকাল হবে কাফের অবস্থায়। সে দুনিয়ার (সামান্য) কোনো গরজে তার দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১১৮; জামে’ তিরমিযী, হাদিস ২১৯৫; মুসনাদে আহমাদ- ২/৩৯০; সহিহ ইবনে হিব্বান- ১৫/৯৬ হাদিস ৬৭০৪]

# আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ الصَّابِرُ فِيهِمْ عَلَى دِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ . رواه الترمذي, أبواب الفتن: حديث رقم ٢٢٦٠ , اسناده ضعيف و لكن هذا حديث صحيح لشواهده كما صححه الألباني في السلسلة الصحيحة: ٢/٦٨٢ رقم ٩٥٧; قال الحافظ : وقال الترمذي قاله البخاري مقارب الحديث كذا في تحفة الأحوذي – ‘মানুষের উপর এমন জামানা আসবে, যখন একজন ধৈর্যশীল ব্যাক্তির পক্ষে তার দ্বীনের উপর (কায়েম হয়ে) থাকাটা জ্বলন্ত কয়লাকে মুষ্টিবদ্ধ করে রাখনেওয়ার মতো (মনে) হবে’। [সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২২৬০]

# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدْ اقْتَرَبَ ، فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا ، يَبِيعُ قَوْمٌ دِينَهُمْ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا قَلِيلٍ , الْمُتَمَسِّكُ يَوْمَئِذٍ بِدِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ ، أَوْ قَالَ : عَلَى الشَّوْكِ  . رواه الإمام أحمد في المسند, مُسْنَدُ الْعَشَرَةِ الْمُبَشَّرِينَ بِالْجَنَّةِ, بَاقِي مُسْنَد المُكْثِرِينَ مِنَ الصَّحَابَةِ : رقم ٩٠٤٩, و قال حمزة احمد الزين: ٩/٩٥ اسناده حسن – আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; (এমন ঘন অন্ধকারময়) মন্দ ফিতনা সমূহ ধেয়ে আসছে, (যার একেকটা) যেন রাতের অন্ধকারের ফালি/খন্ড। (সে সময়) লোকের সকাল হবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধা হবে কাফের অবস্থায়। (তখন) মানুষ দুনিয়ার সামান্য কোনো গরজে তাদের দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে। সে সময় দ্বীনকে আঁকড়ে-ধারনকারী ব্যাক্তি হবে জ্বলন্ত কয়লাকে মুষ্টিবদ্ধকারী অথবা বলেছেন শল্যধারনকারী ব্যাক্তির মতো’। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস৯/৯৫ হাদিস ৯০৪৯]

ফায়দা: উপরে উমায়ের বিন হানী আল-আনশী রহ. বর্ণিত সুনানে আবু দাউদের হাদিসটি ইংগীত করে যে, এই অবস্থা হবে ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র ভিতরে থাকা মুসলমানদের মধ্যে। সম্ভবতঃ কাফের মুনাফেকদের পক্ষ থেকে তাদের উপর জেঁকে বসা অসহনীয় জুলুম-অত্যাচারের কারণে তারা কখনো মুমিন থাকবে আবার কখনো কাফের হয়ে যাবে। অাবার ইমান বিরোধী আক্বীদা গ্রহন করা কিংবা জাহালাত ও বিবেকশুন্য উগ্রতার জোসে আল্লাহ’র হারামকৃত মুসলমানদের রক্ত, সম্পদ ও আব্রু’কে হালাল মনে করার কারণেও কাফের হয়ে যেতে পারে (যেমনটা ইমাম হাসান বসরী রহ. বলেছেন)। 

আমার মতে, এই ফিতনাটি এখন বিশেষ করে সিরিয়ায় শুরু হয়ে গেছে। উপরে বলে এসেছি যে, সেখানে আলীয়াতি-শিয়া (যারা হযরত আলী রা.-কে মনে করে যে আল্লাহ তালালাই আলীর রূপ নিয়ে এসেছেন) বাশার-আল-আসাদের লোকজন সুন্নী মুসলমানদেরকে উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে, বাচ্চা, শিশুকিশোর যুবক , বৃদ্ধ কাউকেই রেহাই দেয়নি, মেড়ে-পিটিয়ে বাশআল-আসাদ’কে ‘খোদা’ বলানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে, ছবিকে সিজদাহ করার জন্য কিংবা ‘বাশার ছাড়া কোনো উপাস্য নাই’ -একথা বলানোর জন্য চেষ্টা চালানো হয়েছে, এমনকি এজন্য জীবন্ত মাটি চাঁপা দিয়ে মেড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে সিরিয়ায়। এত অত্যাচারের মাঝে ইমান কি করে তারা রক্ষা করবে? এও হতে পারে যে, এটি ফিতনায়ে-দুহাইমা’র শুরুর দিককার সব ঘটনা, সামনে হয়-তো আরো কঠিন অবস্থা হবে এবং হয়-তো হাদিসের ইংগীত সেই কঠিন অবস্থার দিকে, যেটাকে হাদিসে ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ’ বলা হয়েছে। যেমন: আবু মুওয়াইহাবাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- أتت الفتن كقطع الليل؛ يركب بعضها بعضًا، الآخرة أشد من الأولى . رواه الإمام أحمد: ١٢/٤٠٨ رقم ١٥٩٣٨, و قال حمزة احمد الزين: اسناده حسن; و ابن الأعرابي في معجم شيوخ: ١/١٠٨ رقم ٩٣; الطبراني: ٢٢/٣٤٧; الخطيب: ٨/٢٢٢; و الحاكم: ٣/٥٥; البيهقي في دلائل: ٧/١٦٢ – রাতের (ঘন কালো অন্ধকারময়) টুকরা মতো একের উপর আরেকটা ফিতনা আবির্ভূত হতে থাকবে, (যার) প্রথমটির চাইতে শেষটি কঠিনতর হবে’। [মুসনাদে আহমদ- ১২/৪০৮ হাদিস ১৫৯৩৮; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৫৫; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ২২/৩৪৭; তারিখে বাগদাদ, খতীব- ৮/২২২; দালায়েলুন নাবুয়ত, বাইহাকী- ৭/১৬২] الله اعلم بالصواب

# আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا، وَيُمْسِي كَافِرًا، وَيُمْسِي مُؤْمِنًا، وَيُصْبِحُ كَافِرًا، الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ، وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي، فَكَسِّرُوا قِسِيَّكُمْ، وَقَطِّعُوا أَوْتَارَكُمْ، وَاضْرِبُوا سُيُوفَكُمْ بِالْحِجَارَةِ، فَإِنْ دُخِلَ – يَعْنِي – عَلَى أَحَدٍ مِنْكُمْ، فَلْيَكُنْ كَخَيْرِ ابْنَيْ آدَمَ . رواه أبو داود, كتاب الفتن والملاحم , باب في النهي عن السعي في الفتنة: رقم ٤٢٥٩ و صححه الألباني في “صحيح أبي داود: ٣/١١ ; و الترمذي: ٢٢٠٤ ; وابن ماجة: ٣٩٦١ صححه الألباني في “صحيح ابن ماجة: رقم ٣٩٦١ – ‘নিশ্চই কেয়ামতের আগে আগে (এমন) ফিতনা সমূহ হবে, যেন রাতের (ঘনকালো) অন্ধকারের টুকড়া। (সে সময়) লোকের সকাল হবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধা হবে কাফের অবস্থায়। আবার সন্ধায় মু’মিন থাকলে সকালে হয়ে যাবে কাফের। (তখন) বসে থাকা ব্যাক্তি দাঁড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, হেটে চলা ব্যাক্তি দৌড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। তখন তোমরা তোমাদের ধনুক ভেঙ্গে ফেলো, ধনুকের তারটিকে কেটে দিও এবং তোমাদের তরবারীকে পাথড় দিয়ে নষ্ট করে ফেলো। তখন কেউ যদি প্রবেশ করে -অর্থাৎ তোমাদের কারো কাছে আসে- তাহলে অবশ্যই আদমের দুই পুত্রের মধ্যে সর্বোত্তম জনের মতো হয়ে যেও’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৫৯; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২২০৪; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৬১]

# সা’দ বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرَ مَالِ المُسْلِمِ غَنَمٌ يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الجِبَالِ وَمَوَاقِعَ القَطْرِ، يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الفِتَنِ . رواه البخاري في صحيحه, كتاب الفتن. باب التعرب في الفتنة. رقم ٧٠٨٨; و النسائي: ٥٠٣٦; و ابن ماجة: ٣٩٨٠; و مالك في موطأ: ١٨١١; أحمد: ١٠٨٦١ – ‘অচিরেই (এমন জামানা আসবে) যে, (তখন দ্বীন নিয়ে মানব সমাজে বসবাস করা অনেক দ্বীনদার মুসলমানরে জন্য আগুনের কয়লা মুষ্টিবদ্ধ করে ধরে রাখার মতো সুকঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ফলে তখন) মুসলমানের সর্বোত্তম সম্পদ হবে (তার) বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের উঁচু স্থানে চলে যাবে এবং (বেঁচে থাকার মতো দানা) পানির ব্যবস্থা থাকা। সে (ধেয়ে আসা ঘন কালো অন্ধকারময়) ফিতনা সমূহ থেকে (বাঁচার জন্য) তার দ্বীনকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াবে’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৭০৮৮; সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৫০৩৬; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৮০; মুআত্তা, ইমাম মালেক, হাদিস ১৮১১; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১০৮৬১]

ফায়দা: আমার ব্যাক্তিগত ক্ষুদ্র তাহক্বিক/গবেষনা মতে, বিংশ শতকে বসে আমরা ইরাক ও সিরিয়ায় সর্বজন ঘৃনীত সন্ত্রাসী গোষ্ঠি আইএস/দায়েশদ’দের দ্বারা যে ‘হারাজ’ ও ফিতনা হতে দেখছি, সেটা হল ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র প্রথম বা মাঝামাঝি পর্যায়। ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র শেষ ভাগের শুরুতে যখন মুসলমান নারী পুরুষ ও শিশুদেরকে পাইকারী হারে কতল করা শুরু হবে, সম্ভবতঃ তখন মুমিন মুসলমানদের মধ্যে যারা দ্বীন বাঁচানোর স্বার্থে পাহাড়ের পাড়ে বা গুহায় কিংবা গুপ্ত কোনো আশ্রয়ে যেতে সমর্থ হবে, তাদের কথা বলা হচ্ছে। 

ইমাম আবু সুলইমান খাত্তাবী রহ. (মৃ: ২৮৮ হি:) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ النَّجَّادُ , قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ الْكُدَيْمِيُّ , قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْجُشَمِيُّ , قَالَ : حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ سَالِمٍ , قَالَ : حَدَّثَنَا السَّرِيُّ بْنُ يَحْيَى ، عَنِ الْحَسَنِ ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ , قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لا يَسْلَمُ لِذِي دِينٍ دِينُهُ إِلا مَنْ فَرَّ بِدِينِهِ مِنْ قَرْيَةٍ إِلَى قَرْيَةٍ , وَمِنْ شَاهِقٍ إِلَى شَاهِقٍ , وَمِنْ جُحْرٍ إِلَى جُحْرٍ كَالثَّعْلَبِ الَّذِي يَرُوغُ ” , قَالُوا : وَمَتَى ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ :  إِذَا لَمْ تُنَلِ الْمَعِيشَةُ إِلا بِمَعَاصِي اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ , فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ الزَّمَانُ حَلَّتِ الْعُزُوبَةُ , قَالُوا : وَكَيْفَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَقَدْ أَمَرْتَنَا بِالتَّزَوُّجِ ؟ قَالَ : ” لأَنَّهُ إِذَا كَانَ ذَلِكَ الزَّمَانُ كَانَ هَلاكُ الرَّجُلِ عَلَى يَدَيْ أَبَوَيْهِ ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ أَبَوَانِ فَعَلَى يَدَيْ زَوْجَتِهِ وَوَلَدِهِ ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ زَوْجَةٌ وَلا وَلَدٌ فَعَلَى يَدَيْ قَرَابَتِهِ , قَالُوا : وَكَيْفَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” يُعَيِّرُونَهُ بِضِيقِ الْمَعِيشَةِ فَيَتَكَلَّفُ مَا لا يُطِيقُ حَتَّى يُورِدَهُ مَوَارِدَ الْهَلَكَةِ . رواه أبو سليمان الخطابي فى العزلة, بَابُ : مَا جَاءَ فِي الْعُزْلَةِ:١/١٠ رقم ٩; قال الحافظ العراقي في “تخريج أحاديث الإحياء: ١/٣٧١ : ذكره الخطابي في “العزلة” من حديث ابن مسعود، والبيهقي في “الزهد” نحو من حديث أبي هريرة وكلاهما ضعيف  – ‘অবশ্যই মানুষের উপর (এমন একটি) জামানা আসবে, (যখন বদদ্বীনীর কারণে দ্বীন মতো চলা এত কঠিন হয়ে যাবে যে), দ্বীনদার ব্যাক্তির জন্য তার দ্বীনকে নিয়ে শিয়ালের কৌশলে পালানোর ন্যায় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে, এক চুড়া থেকে অন্য চুড়া’য় এবং এক পাহাড়ী-গুহা থেকে অন্য পাহাড়ী-গুহা’য় পালিয়ে ফেরা ছাড়া (কেউ তার দ্বীনকে) নিরাপদে রাখতে পারবে না। জিজ্ঞেস করা হল: সেটা কখন হবে -ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন: যখন (উপার্জনের উপায়-উপকরণের মধ্যে নাজায়েয বিষয় এত ব্যপকভাবে জড়িত থাকবে যে, তখন) আল্লাহ তাআলা’র (অসন্তুষ্টি ও) ক্রধ ব্যতীত আয়-রোজগার করা যাবে না। যখন এরকম জামানা হবে, তখন অবিবাহীত থাকাকে হালাল করে নিবে। বলা হল: সেটা কেমন করে হতে পারে -ইয়া রাসুলাল্লাহ, অথচ আপনি আমাদেরকে বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছেন!? তিনি বললেন: কারণ, যখন সেই জামানাটি আসবে, তখন পুরুষ তার পিতা-মাতার হাতে বরবাদ হয়ে যাবে। যদি সে তার পিতা-মাতার হাতে (বরবাদ) না হয়, তাহলে সে তার স্ত্রী ও সন্তানের হাতে (বরবাদ হবে)। যদি তার স্ত্রীর হাতেও না হয়, সন্তানের হাতে না হয়, তাহলে সে তার আত্বীয়-স্বজনের হাতে (বরবাদ হবে)। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: (সেটা) কেমন করে হবে -ইয়া রাসুলাল্লাহ! রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ বললেন: তারা তাকে (সামাজিকতার খাতিরে ভাল মানের) আয়-রোজগার করার জন্য কঠর পরিশ্রম করতে জোড়াজুড়ি করতে থাকবে, পরে তারা তার উপর (এমন মানুষিক ও সামাজিক) বোঝা চাপিয়ে দিবে, যা সে ধারন করতে পারবে না। অবশেষে সে (অর্থকড়ি উপার্জনের জন্য নাজায়েয ও) বরবাদীর উপকরনাদির দিকে ধাবিত হবে’। [আল-উযলাহ, ইমাম খাত্তাবী– ১/১০ হাদিস ৯; আল-যুহদুল কাবীর, বাইহাকী, হাদিস ৪৪৫] الله اعلم بالصواب

# আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- سَتَكُونُ فِتْنَةٌ صَمَّاءُ بَكْمَاءُ عَمْيَاءُ مَنْ أَشْرَفَ لَهَا اسْتَشْرَفَتْ لَهُ وَإِشْرَافُ اللِّسَانِ فِيهَا كَوُقُوعِ السَّيْفِ ‏. رواه أبو داود في سننه , كتاب الفتن والملاحم , باب في كف اللسان : ٤/٤٦٠ رقم ٤٢٦٤ و سكت عنه و قد قال في رسالته لأهل مكة كل ما سكت عنه فهو صالح ، و احمد في مسنده : ٥/٤٠٦، و الطبراني في المعجم الأوسط : رقم ٨٧١٧، ضعفه الألباني في تخريج سنن أبي داود – “শঘ্রিই বধিরতাপূর্ণ বাকশক্তিহীন অন্ধত্ববাদী (ঘন কালো অন্ধকারময় একটি) ফিতনা হবে। যে ব্যাক্তি (এর ভয়াবহতার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে) ওর দিকে চোখ তুলে তাকাবে, সেটা তাকে গ্রাস করে ফেলবে। (সে সময়) এই (ফিতনা’র আগুনকে ভরকিয়ে দেয়ার প্রশ্নে মানুষের বেসামাল) জবান চালনা -তরবারীর আঘাতের মতো (শক্তিশালী ও কার্যকরী) ভূমিকা রাখবে”। [সুনানে আবু দাউদ– ৪/৪৬০ হাদিস ৪২৬৪; মুসনাদে আহমদ- ৫/৪০৬]

# আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- ويل للعرب من شر قد اقترب، موتوا إن استطعتم . رواه الحاكم في المستدرك : ٤/٤٣٩ و قال: صحيح على شرط مسلم ولم يخرجاه ، و وافقه الذهبي في تلخيصه كذا في إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة : ١/٢٧، و الداني في السنن الواردة في الفتن : ١/٢٦٦ رقم ٥٣ – “আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক (ঘন কালো অন্ধকারময়) মন্দ (ফিতনা) ধেয়ে আসছে। তোমাদের সম্ভব হলে তোমরা (তার আগেই) মড়ে যেও”। [মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৪৩৯; আস-সুনানুল ওয়ারিদাহ, ইমাম দানী- ১/২৬৬ হাদিস ৫৩]

ফায়দা: এই হাদিসের উদ্দেশ্য কাউকে আত্বহত্যা করার অনুমতি দেয়া নয়, বরং উদ্দেশ্য হল ওই জামানার ফিতনার ভয়াবহতা বর্ণনা করা যে, ইমান টিকিয়ে রাখা এতটাই কঠিন হবে যে, সে সময় বেঁচে থাকার চাইতে মৃত্যুই উত্তম হবে। الله اعلم بالصواب

# যায়েদ বিন ওয়াহবের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, হুযাইফা রা. বলেছেন- إِنَّ لِلْفِتْنَةِ وَقَفَاتٍ وَبَعَثَاتٍ ، فَإِنَ اسْتَطَعْت أَنْ تَمُوتَ فِي وَقَفَاتِهَا فَافْعَلْ . رواه ابن أبي شيبة في مصنفه , كتاب الفتن : ٢٢/٣٠ رقم ٣٨٢٧٣ ، إسناده صحيح – “নিশ্চই ফিতনা’র ওয়াকাফাত (বিরতি কাল সমূহ) এবং বায়াছাত (ধেয়ে আসার মুহূর্ত সমূহ) থাকে। তোমার পক্ষে যদি তার ওয়াকাফাত-এ(র সময়ে) মড়ে যাওয়া সম্ভব হয়, তাহলে তুমি তাই করো”। [আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ- ২২/৩০ হাদিস ৩৮২৭৩]

ফায়দা: অন্য রেওয়ায়েতে যায়েদ বিন ওয়াহবের সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে যে- قِيلَ لِحُذَيْفَةَ : مَا وَقَفَاتُ الْفِتْنَةِ ، وَمَا بَعَثَاتُهَا ، قَالَ : بَعَثَاتُهَا سَلُّ السَّيْفِ ، وَوَقَفَاتُهَا إغْمَادُهُ . رواه ابن أبي شيبة في مصنفه , كتاب الفتن : ٢٢/٤٣ رقم ٣٨٢٩٤ ، إسناده حسن – “হুযাইফ (রা.)কে জিজ্ঞেস করা হল: ফিতনার ‘ওয়াকাফাত’ কী? আর তার ‘বায়াছাত(ই-বা) কী’? তিনি বললেন: ‘বায়াছাত হল (গন্ডগোলের জন্য) তরবারী খাপমুক্ত করা, আর তার ওয়াফাকাত হল সেটাকে খাপের ভিতরে ঢুকানো”। [আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ- ২২/৪৩ হাদিস ৩৮২৯৪]

# আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لتغشين أمتي بعدي فتن يموت فيها قلب الرجل كما يموت بدنه . رواه نعيم بن حماد في الفتن : رقم ١١٥ ; ضعفه الألباني في ضعيف الجامع : ٤٦٥٧ – “আমার পরে অবশ্যই আমার উম্মত (রাতের ঘন কালো অন্ধকারের মতো ভয়ঙ্কর) ফিতনা সমূহে আচ্ছন্ন হয়ে যাবে। সে সময় মানুষের অন্তর এমন ভাবে মড়ে যাবে যেভাবে তার শরীর মড়ে (পঁচে নি:শ্বেস হয়ে) যায়”। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, হাদিস ১১৫; কানজুল উম্মাল- ১১/১৩৪]

ফায়দা: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এরশাদ করেন- أخاف عليكم فتنا كأنها الليل؛ يموت فيها قلب الرجل كما يموت بدنه . رواه نعيم بن حماد في الفتن :  – “আমি (আখেরী জামানায়) তোমাদের (মুসলমানদের) উপরে (আগত সেই) ফিতনা সমূহকে ভয় করি, যা রাতের (ঘন কালো অন্ধকারের) মতো (আবির্ভূত হবে)। সে সময় মানুষের অন্তর এমন ভাবে মড়ে যাবে যেভাবে তার শরীর মড়ে (পঁচে নি:শ্বেস হয়ে) যায়”। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, হাদিস ১১৭; জামেউল জাওয়ামি, ইমাম সুয়ূতী- ১৫/২২৬ হাদিস ১৩৪২২; কানজুল উম্মাল– ৬/১১৩ হাদিস ৩১৪২৪]