Uncategorized

ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা আ.-এর আগমন অচিরেই : দলিল ও সত্য স্বপ্ন

Spread the love
image_pdfimage_print
৩য় বিশ্বযুদ্ধের রেশ ধরে ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা আ.-এর আবির্ভাব অচিরেই : মহানবী ﷺ-এর বহু ভবিষ্যৎবাণী এবং সত্য স্বপ্ন সাক্ষ্য দিচ্ছে
 

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته

 

ইমাম মাহদী রা. তবে কখন আসবেন তা শুধু শুধু আল্লাহ তাআলাই জানেন। তবে নির্ভরযোগ্য বহু রেওয়ায়েত দ্বারা প্রমাণিত যে, ইমাম মাহদী রা. আসবেন আখেরী জামানায়। (রেওয়ায়েতগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন)।

এখন প্রশ্ন হল, ইমাম মাহদী রা. আসার সময় কি হয়ে গেছে, নাকি আরো বহু দেরি রয়েছে? আজ ২০১৯ ইং সালে এসে আমরা এব্যাপারে ৩ ধরনের মত দেখতে পাচ্ছি।

(১) একটি মত হল, আমরা এখনো আরেখী জামানাতে প্রবেশই করিনি, সেখানে ইমাম মাহদী রা-এর আগমনের সময় হয়ে আসার দাবী করাটাই অযৌক্তিক।

(২) দ্বিতীয় একটি মত হল, ইমাম মাহদী রা. আসার পূর্বের প্রায় সকল আলামত ও লক্ষন প্রকাশ পেয়ে গেছে এবং দু-একটি যা বাকি আছে তার প্লাটফরমও তৈরী হতে চলেছে বলে অনুভূত হচ্ছে।

পৃথিবীর বহু ওলামায়ে কেরাম যাঁরা হাদিস ও আছারের প্রসস্থ ভান্ডারের উপরে গভীর নজর রাখার পাশাপাশি বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির উপরেও যথেষ্ঠ ভাল ধারনা রাখেন, তাদের অনেককেই এই ধরনের মত পোষন করতে দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তানের মুফতিয়ে আজম মুফতি মওলানা রফি উসমানী সাহেবের একটি বয়ান শোনার পর আমার মনে হয়েছে, তিনিও এই এরকম মত পোষন করেন। [বয়ানটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন]।

(৩) তৃতীয় একটি মত হল, আমরা আখেরী জামানার ভিতরে প্রবেশ করেছি আজ থেকে বহু আগেই, এখন-তো ইমাম মাহদী রা. আসার পর্বটি একেবারেই দারগোড়ায় চলে এসেছে।

বিশ্বের অনেকই- ‘আখেরী জামানা’, ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ইত্যাদি সম্পর্কিত রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণিত বহু ভবিষ্যৎবাণী, বর্তমান বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে ওগুলোর অভাবনীয় মিল ও নির্ভরোযোগ্য বহু মুমিন নারী-পুরুষের বহু স্বপ্নের উপরে দৃষ্টি রেখে ইশারা দিচ্ছেন যে, ইমাম মাহদী রা. আনুমানিক ২০১৯ ইং থেকে ২০২৪ ইং-এর হজ্জের মৌসুমেই আসার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। (সঠিক সময় আল্লাহই ভাল জানেন)

এ সম্পর্কে আমার ঝোঁক -৩য় মতটির দিকে:

‘জি হ্যাঁ, আমার সুচিন্তিত মত হল, উপরের ৩য় মতটি ফলার সম্ভাবনা অধিক এবং এত বড় দাবীর স্বপক্ষে পেশ করার মতো অনেক কিছুই রয়েছে, যা আমি নিচে পেশ করছি। শুধু অনুরোধ, সংকীর্ন মন নিয়ে নয়, অনেক বড় খোলা মন নিয়ে আলোচনাটি পড়ুন।

(১) আমরা আখেরী জামানায় প্রবেশ করেছি বহু আগেই:-

আমরা এই ওয়েবসাইটের ‘‘ভবিষ্যৎবাণী’ সিরিজে প্রমাণ করে এসেছি যে, আমরা আখেরী জামানার সীমার ভিতরে ঢুকে পড়েছে আজ থেকে বহু আগেই। [আমার মতে, কম করে হলেও আজ ২০১৯ ইং থেকে প্রায় ৭০/৮০ বছর আগে। আমি-তো আরো সাহস করে বলতে চাই যে, আখেরী জামানায় প্রবেশ করার আজ প্রায় ১’শ বছর হয়ে আসছে, কিংবা তারও বেশি। এ দাবী কেনো করছি, তার মজবুৎ একটা ধারণা পাবেন -এ বর্ণিত হাদিস ও আছারগুলোর অধিনে লিখিত ‘ফায়দা’ সমূহের মধ্যে]।

আমাদের ‘‘ভবিষ্যৎবাণী’ সিরিজ থেকে দিবালোকের ন্যায় প্রমাণিত হয় যে, যারা মনে করেন যে, ‘আমরা এখনো আখেরী জামানার ভিতরেই প্রবেশ করিনি’, তারা একটা বড়সড় ভুলের উপরে রয়েছেন’। [তাদের এরকম চিন্তাধারার কারণ কী -তা আমরা নিচে শেষের দিকে তুলে ধরার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ]।

(২) ইমাম মাহদী রা. আসবেন আখেরী জামানার প্রথম অংশে:-

বহু হাদিস ও আছার প্রমাণ করে যে, ইমাম মাহদী রা. আসবেন আখেরী জামানায়। যেমন, আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- يَخْرُجُ فِي آخِرِ أُمَّتِي الْمَهْدِيُّ يَسْقِيهِ اللَّهُ الْغَيْثَ ، وَتُخْرِجُ الْأَرْضُ نَبَاتَهَا، وَ يُعْطِي الْمَالَ صِحَاحًا ، وَتَكْثُرُ الْمَاشِيَةُ وَتَعْظُمُ الْأُمَّةُ ، يَعِيشُ سَبْعًا أَوْ ثَمَانِيًا . اخرجه الحاكم فى المستدرك , كتاب الفتن والملاحم , المهدي يعيش سبعا أو ثمانيا : ٤/٦٠١ , وقال : هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه ، ووافقه الذهبي . وقال الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة : ٢/٣٣٦ رقم ٧١١ : هذا سند صحيح رجاله ثقات – ‘আমার উম্মতের শেষভাগে আল-মাহদী’র আবির্ভাব হবে। আল্লাহ তাকে প্রচুর (বরকতের) বৃষ্টি চাখাবেন এবং জমিন তার ফলন দিবে। তিনি (মানুষকে) সহিহ ভাবে ধ্বনসম্পদ দান করবেন। গবাদী পশু বেড়ে যাবে, উম্মত সম্মানীত হবে। তিনি সাত কিংবা আট বছর জীবিত থাকবেন’। [মুস্তাদরাকে হাকিম-৪/৬০১]

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে- ইমাম মাহদী রা. আখেরী জামানায় আসবেন -হাদিসের আলোকে তাতে-তো কোনো সন্দেহ নেই, এর সাথে আপনাদের ‘‘ভবিষ্যৎবাণী’ সিরিজে বর্ণিত ব্যাখ্যাগুলোর আলোকে যদি ধরেও নেই যে, আমরা আখেরী জামানায় প্রবেশ করেছি আজ থেকে কমপক্ষে ৭০/৮০ বছর কিংবা তারও বহু আগে, তারপরও কি করে বলা যায় যে, ‘অচিরেই ইমাম মাহদীর আগমন ঘটতে যাচ্ছে’, যেখানে আখেরী জামানার শুরু থেকে কেয়ামত কায়েমের দিন পর্যন্ত সময়ের দৈর্ঘ কতবড় তা আল্লাহ ছাড়া কারোরই জানা নেই এবং ইমাম মাহদী আ. এই দীর্ঘ সময়ের ভিতরে ঠিক কখন কোন সময় আসবেন তাও পরিষ্কার বলা নেই ?!!!

এখন প্রশ্ন হল, শেষ জামানার কোন অংশে ইমাম মাহদী রা. আসবেন। এর জবাব এক পৃষ্ঠার মধ্যেই কি করে দেয়া সম্ভব? আপনি বরং আমাদের ‘নবীজীর ভবিষ্যৎবাণী’ সিরিজের যাবতীয় হাদিস ও আছারগুলো ভাল করে পড়ুন, একটা আইডিয়া পাবেন। সংক্ষেপে ধারাটি হবে এই:-

(৩) মুসলমানদের নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন স্বপ্ন ও সুখবর:-

আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ لَمْ تَكَدْ تَكْذِبُ رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ وَرُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنْ النُّبُوَّةِ . رواه بخاري في صحيحه , كتاب التعبير , باب القيد في المنام : رقم ٧٠١٧ ، ومسلم في صحيحه : رقم ٢٢٦٣ – “যখন (কেয়ামতের নিকটবর্তী) জামানা ঘনিয়ে আসবে, (সেই আখেরী জামানায়) মুমিনের স্বপ্ন কদাচই মিথ্যা হবে’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৭০১৭; সহিহ মুসলীম, হাদিস ২২৬৩]

এই হাদিসে ‘আখেরী জামানা’র মুমিন নর-নারীদের স্বপ্নের দিকে ইশারা করা হয়েছে। আর আমরা যখন বহু আগেই ‘আখেরী জামানা’য় প্রবেশ করে ফেলেছি, তখন এ জামানার কিছু মুমিনের স্বপ্ন -যা অন্ততঃ আমার কাছে নির্ভরযোগ্য বলে অনুভূত হয়েছে- আমি তা এখানে যুক্ত করে দিচ্ছি, যা আমাদের উপরোক্ত দাবীকে আরো শক্তিশালী করে তোলে। [ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন ]

আমার অনুরোধ, সামনে অগ্রসর হওয়ার আগে প্রথমেই এখানে ক্লিক করুন এবং ভিডিওটি আগা-গোড়া ভাল করে দেখে নিন, এতে করে আমাদের সামনের আলোচনাটি বোঝা আপনার জন্য অনেকটা সহজ হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি। কারণ, এই ভিডিওটিতে যে গুটি কয়েক স্বপ্ন ও খবর বর্ণিত হয়েছে, তার প্রত্যেকটিকেই অন্ততঃ আমার কাছে সন্দেহাতীত মাত্রার নির্ভরযোগ্য সুসংবাদ বলে মনে হয়েছে, এজন্য আমি তা দায়িত্ব নিয়ে তা এই ব্লগে যুক্ত করে দিয়েছি।

এই ভিডিওতে যা পাবেন:-

(ক) জানুয়ারী ৬, ২০০৭ ইং সালে আমেরিকার নিউ-জার্সিতে অনুষ্ঠিত একটি ঘরোয়া মজলিসে ১৫ বছর বয়সী এক মুসলীম মেয়ে তার দেখা একটি আশ্চর্যজনক স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে আলোচক শায়েখ সুফী হিশাম কাব্বানীর কাছে। স্বপ্নের সার-সংক্ষেপ হল, মেয়েটি স্বপ্নে তার উট হারিয়ে ফেলে। পরে সে উম্মুল মু’মিনিন আয়েশা রা.-এর দেখা পায় এবং আয়েশা রা. তাকে রাসুলুল্লাহ সা.-এর কাছে নিয়ে যান। এরপর সে দেখে যে, আকাশ থেকে একটি সিংহাসন নেমে এসে আবু-জাহলের পায়ের কাছে এল, তারপর সেটা আবু-জাহলের পা থেকে তার পায়ের মধ্যে চলে এত, যার কারণে সে পায়ে ব্যাথা অনুভব করছিল। তখন সে দেখে যে, নবী ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. তার কাছে এসে বলছেন যে, ‘হে ছোট মেয়ে, তুমি কোনো চিন্তা করো না, তুমি আমার স্ত্রী হবে’।

শায়েখ সুফী হিশাম কাব্বানীর এই স্বপ্নের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দানের চেষ্টা করেছেন এবং বলেছেন যে, ইমাম মাহদী ও ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. আগমনের সময় খুবই কাছে চলে এসেছে। কারণ, ২০০৭ ইং সালে মেয়েটির বয়স যদি ১৫ বছর হয়, তাহলে গত ২০১৭ ইং সালে তার বয়স দাঁড়ায় ২৫ বছর। আর আমরা জানি ইমাম মাহদী’র আবির্ভাবের প্রায় ৬/৭ বছর পর ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. আসমান থেকে দ্বিতীয়বারের মতো নাজিল হবেন (যখন তাঁর বয়স থাকবে ৩৩ বছর বয়সী যুবক), বিয়ে করবেন, বাচ্চাও হবে এবং ৪০( চল্লিশ) বছর পর্যন্ত জীবিত থাকবেন (আমার ব্যাক্তিগত গবেষনা মতে, তাঁর ৩৩ বছর + আরো ৪০ বছর= মোট ৭৩ বছর বয়সের হিসেবে নয়, বরং ৩৩ বছর + আরো ৭ বছর = মোট ৪০ বছর পর্যন্ত বয়স হওয়ার হিসাব হবে। আল্লাহই ভাল জানেন)। সে যাই হোক, ঈসা আ. কত বছর বয়সী মেয়ে বিয়ে করবেন,মেয়েটি তাঁর চেয় বয়সে বড় হবে না ছোট -তার কোনো উল্লেখ কোনো রেওয়ায়েতে আছে মর্মে আমার নজরে পরেনি। তবে ঈসা আ. যদি তাঁর নাজিল হওয়ার বছরেই তাঁর একেবারে সমবয়সী মেয়েকে বিয়ে করেন, তাহলেও ২০১৭ ইং সালে উপরোক্ত প্রশ্নকারী মেয়েটির ২৫ বছর বয়স হিসেবে ২০১৭ ইং থেকে মাত্র (৩৩ বছর – ২৫ বছর = ৮ বছর) হাতে থাকার কথা ঈসা আ. নাজিল হওয়ার। অর্থাৎ, উপরোক্ত স্বপ্নটি যদি সত্য হয়, তাহলে ২০১৭ ইং সালের প্রায় ৮ বছর পর ২০২৫ ইং সালের দিকে ঈসা আ. নাজিল হওয়ার আশা করা যায়। আর যেহেতু ঈসা আ.-এর প্রায় ৬/৭ বছর আগে ইমাম মাহদী রা. আসবেন, তাহলে ২০২৫ ইং থেকে ৬/৭ বছর বিয়োগ দিলে-তো ২০১৯ ইং সালের দিকেই ইমাম মাহদী রা. আসার ইশারা পাওয়া যায় !!! ঈসা আ.-এর ৩৩ বছর বলতে-তো একেবারে ৩৩ বছরের ১লা মহররম নয়, ৩৩-এর সাথে কিছু মাসও তো যক্তি থাকতে পারে। এমনি ভাবে ইমাম মাহদীর আগমের ৬/৭ বছর বলতে-তো একেবারে কাটায় কাটায় ৬/৭ বছর বোঝায় না, বরং সাথে কিছু মাস ও দিনও তো যুক্ত থাকবে। এই হিসেবে ২০১৯ বা ২০২০ ইং -এর মধ্যে ইমাম মাহদী রা. আসার কি ইংগীত আমরা উক্ত স্বপ্ন থেকে পাই না ? আর যদি ওই মেয়ে স্বপ্ন দেখার দ্বারা শায়েখ কাব্বানীর ব্যাখ্যা মতে সে নিজে উদ্দেশ্য না হয়ে তারই অন্য কোনো পরিচিত মেয়ের সাথে (যার বয়স আমরা জানিনা) ঈসা আ.-এর বিয়ের ইংগীত উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলেও কি আমরা ২০১৯ ইং থেকে ২০২৪/২৫ ইং সালের মধ্যে ইমাম মাহদী রা. আগমের সম্ভাবনা দেখতে পাইনা ?

(খ) বাংলাদেশের পরিচিত মুখ মুফতি কাজি ইব্রাহীম দা:বা: বলছেন যে, তার ভাই ইউসুফ (যিনি মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র) তার এক বন্ধুর দেখা একটি স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলেন, যে বন্ধুটি একসময় (মুহাম্মাদুল্লাহ) হাফিজজী হুজুর রহ.-এর সাথে সম্পর্ক রাখতো। বন্ধুটি একবার স্বপ্নে দেখেন যে, ‘হাফিজজী হুজুর রহ. তাকে স্বপ্নে বলছেন যে, ২০১৯ সালে ইমাম মাহদী রা.-এর বয়স হবে ৪০ (চল্লিশ) বছর’। ইউসুফ সাহেব তার বড় ভাই মুফতি কাজি ইব্রাহীম দা:বা:-এর কাছে এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলেন।

মুফতি কাজি ইব্রাহীম দা:বা: এই ভিডিওতে বলেছেন যে, (স্বপ্নটি অনুসারে) এটা শুধু হাফিজজী হুজুরের কথা নয়, বরং এটা বিশ্বের বহু স্কলারদেরও ধারনা। দেখুন, এই স্বপ্নটিও বলছে ২০১৯ ইং সালের কথা। আমরা উপরোক্ত মেয়ের স্বপ্নটির যে হিসেব কষে দেখিয়েছে, তার সাথে এই স্বপ্নের কি কোনো মিল নেই।

(গ) শায়েখ ঈসা বাদওয়ান ফিলিস্তিনী গত ৬ ফেবৃুয়ারী ২০০৮ ইং তারিখে গাজা’র ‘আল-আকসা টিভি’তে অনুষ্ঠিত এক সাক্ষাতকারে (যা https://www.memri.org -এ “PALESTINIAN CLERIC ISSA BADWAN: THE MAHDI WAS BORN IN PALESTINE FOUR YEARS AGO; MUSLIM CONQUEST OF ROME IS IMMINENT” নামে ইংরেজী অনুবাদ সহ সংযুক্ত করা রয়েছে) বলছিলেন যে, তার বিশ্বস্ত এক পরিচিত ব্যাক্তি (যার নাম তিনি নিরাপত্তার জন্য উল্লেখ করতে চাননি) তাকে (২০০৮ ইং-এর) ৪ বছর আগে ওনার নিজের সামনে ঘটে যাওয়া একটি আশ্চর্যজনক ঘটনার কথা শুনিয়েছেন। ঘটনাটি হল, ওই ব্যাক্তিটি একদিন গাড়িতে করে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথে এক বৃদ্ধা মহিলা অনুরোধ জানায় তাকে একটি হাসপাতালে পৌছে দিতে, যেখানে তার মেয়ে একটি শিশু প্রসব করেছে। লোকটি দয়াপরবশ হয়ে তাকে সেই হাসপাতালে পৌছে দেয়। কিন্তু বৃদ্ধা মহিলাটি অনুরোধ জানায় তাকে তার মেয়ে ও নাতি সহ বাড়িতে পৌছে দিতে। লোকটি সেই অনুরোধও রক্ষা করেন। ফলে হাসপাতালে কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর বৃদ্ধাটি তার মেয়ে ও নাতি সহ বেড়িয়ে এসে গাড়িতে চড়ে। তখন শিশুটি গাড়ির সকলকে সালাম দিয়ে একথা বলেছে যে, ‘আমিই হলাম সে যাকে দাজ্জাল কতল করবে এবং তারপর আর কাউকে কতল করতে পারে না’। শায়েখ ঈসা বাদওয়ান ফিলিস্তিনী সেই সাক্ষাতকারে আরো বলেছেন যে, ঘটনাটি তিনি শায়েখ নিসার সহ আরো অনেকের কাছে আলোচনা করেছিলেন, বাচ্চাটি ফিলিস্তিনে আছে, তার যত্ন নেয়া হচ্ছে এবং তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

[উল্লেখ্য, এই সাক্ষাতকারের পর ২০০৮/০৯ ইং-এ ইসরাঈল কর্তৃক রাসায়নীক গ্যাস ও বোমা নিক্ষেপের ফলে প্রায় ১৪০০ শিশু নিহত হয় এবং প্রায় ৪০০০ শিশু আহত হয়। এই সাক্ষাতকারের প্রায় ১১ মাস পর ইসরাঈল তাদের এফ-১৬ ফাইটার বিমানের ২০০০ পাউন্ড শেল-বোমা দিয়ে গাজা’র অন্যতম প্রভাবশালী শায়েখ নেসারকে তার স্ত্রী ও ১১ সন্তান সহ শহিদ করে দেয়। এরপর ২০১২ ইং সালের ১৯ নভেম্বর তারিখে ইসরাঈল গাজা’র ‘আল-আকসা টিভি চ্যানেলের মূল বিল্ডিং-কে বোমা মেড়ে ধ্বংস করে দেয়।]

উপরের বর্ণনা অনুসারে, শিশুটির বয়স এখন (২০১৯ ইং সালে) প্রায় ১৫ বছরের মতো। সে যদি বাস্তবেই ওই যুবক হয়ে থাকে যাকে দাজ্জাল কতল করে আবার জীবিত করবে মর্মে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তাহলে সে একজন ২০ বছর বয়সী যবক হবে আগামী ২০২৪/২০২৫ ইং সালের দিকে এবং একজন ২৫ বছর বয়সী যবক হবে আগামী ২০২৯/২০৩০ ইং সালের দিকে। আমার এমন কোনো রেওয়ায়েত চোখে পড়েনি, যেখানে উল্লেখ আছে যে, তার কত বছর বয়সে দাজ্জাল তাকে কতল করবে। যদি অনুমান করে তার ২৫ বছর বয়সটিকে ধরি, তাহলে ২০২৯/২০৩০ ইং সালের প্রায় ৭ বছর আগে ইমাম মাহদী রা. আসার একটা আইডিয়ামূলক সময় পাওয়া যায় প্রায় ২০২২/২০২৩ ইং সালের দিকে। আর যদি যুবকটি ২৫ বছরের আগেই (যেমন ২২/২৩ বছরের দিকে) কতল হয়, তাহলে ইমাম মাহদী রা. আসার সময় আরো এগিয়ে ২০১৯/২০২০ ইং সালের দিকে অনুভূত হয়, যে সাল টি উপরের অপরাপর স্বপ্নগুলোর সম্ভাব্য সালের অনুরূপ।

(ঘ) আখেরী জামানার উপরে মশহুর আলোচক শায়েখ ইমরান হোসেইন ২০০২ ইং সালে এক আলোচনায় তার নিজের দেখা দুটি স্বপ্ন এভাবে বর্ণনা দেন। তিনি বলেন যে, তিনি ১৯৯৯ ইং সালে একটি স্বপ্ন দেখেন যে, ‘তিনি আমেরিকার ম্যানহ্যাটেন দ্বীপের এক পাশে দাঁড়িয়ে আছেন এবং অনেকগুলো অতীব উচু উচু বিল্ডিং-এর উপরে আগুনের কুন্ডলি আছড়ে পড়ছে এবং ওই আগুনের কুন্ডলিগুলো এক বিল্ডিং থেকে আরেক বিল্ডিং-এ লাফিয়ে লাফিয়ে চলতে চলতে অবশেষে ম্যানহ্যাটেনের বাইরে গিয়ে তা গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লো’। এই স্বপ্নের প্রায় ২ বছর পর ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইনটাওয়ারে হামলার ঘটনা ঘটে, যা ‘৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা’ নামে বিশ্বে পরিচিত। তিনি আরো বলেন যে, ওই ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই তাকে যেতে হয় ইরানে একটি নকফারেন্সে শরিক হতে। সেখানে তিনি একই রাতে একই স্বপ্ন দুই দুইবার দেখেন। তিনি দেখেন যে, ‘অনেকগুলো নিউক্লিয়ার মিসাইল আকাশের দিকে ছোড়া হল, যা নিউক্লিয়ার যুদ্ধের দিকে ইংগীত করলো। তিনি আরো দেখলেন যে, পাকিস্তান সেই নিউক্লিয়ার যুদ্ধে অংশ নিয়েছে’।

শায়েখ ইমরান হোসেইন উপরোক্ত আলোচনায় বলেছেন যে, ১৯৯৯ সালে তার দেখা স্বপ্নটি মাত্র ২ বছর পর তথা ২০০১ সালে ‘আমেরিকার টুইনটাওয়ারে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা’ আকারে ফলে যায়। তার ধারনা, ২০০১ সালে ইরানে দেখা তার “নিউক্লিয়ার যুদ্ধ বিষয়ক” স্বপ্নটি আল্লাহ’র পক্ষ থেকে তার প্রতি একটি আগাম ইশারা যে, সামনে অচিরেই গোটা পৃথিবীতে “নিউক্লিয়ার যুদ্ধ” শুরু হতে যাচ্ছে এবং তার মতে এই “নিউক্লিয়ার যুদ্ধ”টিই হবে আখেরী জামানার সেই ‘মালহামাতুল কুবরা’ (মহাযুদ্ধ) যার রেশ ধরে ইমাম মাহদীর আবির্ভূত হবেন। শায়েখ ইমরান হোসেইন ধারনা করেছিলেন, ১৯৯৯ সালের স্বপ্নটির মতো পরের স্বপ্নটিও ২ বছর পর (২০০৩ ইং সালে) ফলতে পারে। আজ (২০১৯ সালে) তার স্বপ্নটি দেখার প্রায় ১৮ বছর হতে চলেছে, কিন্তু আমরা আজ পর্যন্ত কোনো “নিউক্লিয়ার যুদ্ধ” হতে দেখিনি। কিন্তু বর্তমানে ২০১৯ সালে ইরানের তেল উপরে আমেরিকার স্যাংশনের কর্তৃক ‘নিউক্লিয়ার বোমা’ বানানোর প্রকাশ্য ঘোষনা দেয়ার পর আমেরিকা ইরানের চারপাশে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার সৈন্য পাঠিয়ে দিয়েছে ইরানকে ‘নিউক্লিয়ার বোমা’ তৈরী থেকে বিরত রাখার হুমকি দেয়ার জন্য, সাথে আমেরকিার ‘নিউক্লিয়ার বোমা’বাহী প্লেন বোম্বার-কেও পাঠানো হয়েছে। আল্লাহই ভাল জানেন যে, ২০১৯ থেকে ২০২২ -এর মধ্যে ঘটনার মোর কোন দিকে যায়। তাহলে কি শায়েখ ইমরান হোসেইনের ২য় স্বপ্নটি ২ বছর পর নয় বরং ২০ বছর পর ঘটার দিকে ইংগীত রয়েছে ?! দেখা যাক, সামনে কি হয়। হাদিসে বর্ণিত ‘মালহামাতুল কুবরা’ (মহাযুদ্ধ)-তো অবশ্যই ঘটবে।

(ঙ) মুফতি কাজি ইব্রাহীম দা:বা: নিজের দেখা একটি স্বপ্ন বর্ণনা করছেন যে, তিনি দেখেছেন যে, তিনি মরুভূমিতে দাড়িয়ে আছেন, এমন সময় আরবের একটি সরল সোজা পথ ধরে ৭০-৮০ জন যুবক ঘোড়ায় চড়ে এগিয়ে আসছেন, তাদের মাথার উপরে ট্রাফিকের ছাতার মতো ছাতা রয়েছে। তারা তার থেকে ২০-২৫ গজ দূরে এসে থেমে গেলো। তখন মুফতি সাহেব নিজকে বলছেন যে, (এই দলের প্রধান) ইনিই ইমাম মাহদী।

মুফতি কাজি ইব্রাহীম দা:বা: আরো বলেছেন যে, কয়েকদিন আগেই বায়তুল মাকদিসের খতিব সাহেব তার দেখা একটি স্বপ্নের কথা শুনালেন যে, তিনি স্বপ্নে দেখেন যে, “রাসুলুল্লাহ ﷺ ইমাম মাহদীকে এমনটা বলছেন যে, আমার উম্মতকে বলো, গোটা পৃথিবীর উম্মত আমার যেন এক হয়ে যায়। আর তাদেরকে বলো তারা যেন এক বছরের খাদ্য প্রস্তুত রাখে”। [এই খাদ্য প্রস্তুত করে রাখার ইংগীতবহ একটি হাদিস ব্যাখ্যা সহ আমারা এখানে বর্ণনা করেছি, পড়ে দেখুন]

(চ) শায়েখ বেলাল হোসাইন সাহেব মসজিদের মিম্বরে ববসে একটি আশ্চর্য ঘটনার কথা শুনিয়েছেন এভাবে যে, তিনি ২০০৬ সালে (মাদ্রাসার জালালাইন জামাআতের ছাত্র থাকাবস্থায়) তাবলীগের কাজে বেড় হওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকার কাকরাইল মারকাজ মসজিদে আসেন। সেখানে ওলামাগণের কামড়ায় এক আরব আলেম আব্দুর রহমান আল-কুরাইশী (যিনি কুরাইশ বংশের লোক) ছিলেন, যিনি তখন তাবলীগের উদ্দেশ্যে কাকরাইলে আসেন নি, তিনি এসেছিলেন অন্য একটি সফরে, পরে তাবলীগ জামাআতের ওলামায়ে কেরামের আমন্ত্রনে কাকরাইল মসজিদে আসেন। শায়েখ আব্দুর রহমান আল-কুরাইশী সেদিন কামড়ায় উপস্থিত ব্যাক্তিদেরকে একটি আশ্চর্যজনক ঘটনার কথা শোনান, (উপস্থিত লোকদের মধ্যে আলোচ্য শায়েক বেলাল হোসাইন সাহেবও সেখানে ছিলেন)। শায়েখ আব্দুর রহমান আল-কুরাইশী বলেছিলেন যে, সৌদি আরবের তার একজন বড় ওস্তাদ (যাঁর নাম বেলাল হোসাইন সাহেবের স্মরণে নেই) একদিন তাদেরকে বলেছেন যে, “তিনি একবার অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে একটি হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলার একটি রূমে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তিনি ‘কিভাবে উম্মতকে হেদায়েতের পথে নিয়ে আসা যায়’ -এই চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েন। স্বপ্নে দেখেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে এমনটা বলছেন যে, ‘চিন্তা করো না, আল্লাহ’র খলিফা আসছেন, যিনি তোমাদের মুসলমানদেরকে সর্বাবস্থায় বিজয় দান করবেন’। এরকম একটি স্বপ্ন দেখার পর তার ঘুম ভেঙে যায় এবং প্রায় এক-দেড় ঘন্টা ধরে শুধু চিন্তা করতে থাকেন যে, এটা কী দেখলেন ! এরপর একসময় তার কেবিনের দরজাটা খোলা হয়, ঘটনাক্রমে তার রূমের সামনের রূমটির দরজাটাও খোলা ছিল। তিনি দেখতে পেলেন ৫/৬ বছরের একটি বাচ্চা খাটে ঘুমিয়ে আছে -কিছুটা তার দিকে উপরে মুখ করে। বাচ্চাটাকে দেখেই তিনি আঁতকে উঠলেন; কেন যেন তার কাছে মনে হচ্ছিল যে, মুখটা খুব চেনা-পরিচিত, বাচ্চার কপাল ও নাকটাও কেন যেন মনে হচ্ছিল রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কপালের মতো। তারপর তিনি চোখ সরিয়ে নিয়ে ভাবতে থাকলেন, ‘এসব আমি কী দেখছি! হয়-তো রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে কিছুক্ষন আগে স্বপ্নে দেখার কারণে (অতি আবেগে) এমনসব মনে হচ্ছে’। তারপর যখন দরজাটা বন্ধ করে দেয়া হয়, তার কিছুক্ষন পরেই পাশের রূম থেকে একজন পুরুষের আওয়াজ আসে: ‘আমেনা ! তাড়াতাড়ি রেডি হও, (আমাদেরকে এখনিই বেড়ুতে হবে)’। একথা শুনতেই তিনি হতচকিত হয়ে উঠলেন এবং মনে হল যেন তার সব অসুস্থ্যতা দূর হয়ে গেছে। তিনি দরজার দিকে উঠে যেতে থাকলে শায়েখ আব্দুর রহমান আল-কুরাইশী তার উস্তাদকে বললেন: ‘ওস্তাদ, কোথায় যাচ্ছেন (এই অসুস্থ্য অবস্থায়)’। ওস্তাদ তাকে বললেন যে, ‘তুমি এখানে থাকো’। এরপর তার ওস্তাদ হাসপাতালের একেবারে নিচে নেমে হাসপাতালের রিসিপশন ডেস্কের কাউকে জিজ্ঞেস করলেন যে, এখানে কিছুদিন আগে ‘আব্দুল্লাহ’ নামের কেউ বুকিং দিয়েছিল কিনা। তারা কনফার্ম করে বললো যে, ‘আব্দুল্লাহ’ নামের একজন ৬ তলার অমুক রূমটি বুকিং করেছিল। একথা শুনেই তার ওস্তাদ সাহেব সেখানেই অজ্ঞান হয়ে যান। পরে ধরাধরি করে তাকে ৬ তলায় তার রূমে পৌছে দেয়া হয়। ওস্তাদ সাহেব কিছুক্ষন পর জ্ঞান ফিরে পেলে তিনি উঠে ৬ তলার ওই রূমে গিয়ে খটখটান, যে রূমে ওই শিশুটিকে দেখেছিলেন। কিন্তু তাকে হাসপাতালের লোক জানায় যে, ওই কেবিনের লোকজন কিছুক্ষন আগেই চলে গেছেন। একথা শুনে ওস্তাদ আক্ষেপ করলেন যে, এমন একটি বাচ্চা যার কপাল ও নাকটি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কপাল ও নাকের মতো দেখতে মনে হল, বাচ্চার বাবার নাম ‘আব্দুল্লাহ’ আর মায়ের নাম ‘আমেনা’ -এমন একটি ঘটনা হাতের কাছে ঘটেও পুরোপুরি কিছু জেনে নিশ্চিত হতে পারলেন না !!! এর কিছুদিন পর শায়েখ আব্দুর রহমান আল-কুরাইশ’র উস্তাদ মহোদয় মাড়া যান।

বি:দ্র: আবারো আনুরোধ জানাচ্ছি, ভিডিওটি এখনো না দেখে থাকলে একবার হলেও তা অবশ্যই দেখুন। (এখানে ক্লিক করুন)।

এজাতীয় আরো বহু স্বপ্ন আমাদের উপরের দাবীকে শক্তিশালী করে তোলে যে, ইমাম মাহদী রা. ও ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. আসার সময় একেবারে সন্নিকটে চলে এসেছে, এবং তাঁরা এই জামানাতেই আসবেন, ইনশাআল্লাহ; এটাই শেষ জামানা

দেখুন, যদিও স্বপ্ন কোনো দলিল নয়, কিন্তু যখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যাক্তি একই (common) কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বপ্ন দেখে চলে, তখন সেটাকে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া অহেতুক অবহেলার চোখে দেখা চলে না, বরং মনে করা উচিত গায়েবী ভাবে কোনো বিশেষ কিছুর দিকে ইশারা করা হচ্ছে।

উপরে স্বপ্ন সম্পর্কে যে হাদিসটি উল্লেখ করেছি, তার পূর্ণ অংশটি এই, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ لَمْ تَكَدْ تَكْذِبُ رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ وَرُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنْ النُّبُوَّةِ . رواه بخاري في صحيحه , كتاب التعبير , باب القيد في المنام : رقم ٧٠١٧ و ، ومسلم في صحيحه : رقم ٢٢٦٣ – “যখন (কেয়ামতের নিকটবর্তী) জামানা ঘনিয়ে আসবে, (সেই আখেরী জামানায়) মুমিনের স্বপ্ন কদাচই মিথ্যা হবে। আর মুমিনের স্বপ্ন (একজন নবী’র) নবুওতের (মর্তবাস্তরে দেখা স্বপ্নের) ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ (পরিমাণ সত্যতা রাখে)”। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৭০১৭; সহিহ মুসলীম, হাদিস ২২৬৩]

নবী’গণের ঘুমের সময়ও তাঁদের অন্তকরণ থাকে ইমান, নূর ও হেদায়েতে ভরপুর, তাঁদের অন্তরের ভিতরে শয়তানের কোনো আনাগোনার সুযোগ নেই যে, তাতে মিথ্যা ও ধোকামূলক কোনো খবর শয়তান প্রক্ষেপ করতে সমর্থ হবে। এজন্য নবীগণ যা ঘুমন্ত অবস্থায়ও দেখতে বা শুনতে বা অনুভব করে বুঝতে পান, সেটাও আল্লাহ’র তরফ থেকে প্রদত্ত ওহী’র মর্যাদা রাখে -চাই আল্লাহ তাআলা সেই ওহীটিকে সেই নবী আ.-এর অন্তরে সরাসরি ঢেলে দিন, কিংবা জিবরীল আ.-এর মাধ্যমে প্রক্ষেপিত করে দেয়ার ব্যবস্থা করে দিন না কেনো। কিন্তু বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সা.-এর মৃত্যুর মাধ্যমে যদিও নবুয়তের ধারা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার দ্বারা ওহী নাজিলের ধারাও বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে স্বপ্নের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাল-মন্দ বিষয়ের ইশারা ইংগীত দানের ব্যবস্থা আজও খোলা রেখেছেন। হাদিসে এই বিষয়টির দিকেই ইংগীত করে বলা হয়েছে- وَرُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنْ النُّبُوَّةِ – “আর মুমিনের স্বপ্ন (একজন নবী’র) নবুওতের (মর্তবাস্তরে দেখা স্বপ্নের) ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ (পরিমাণ সত্যতা রাখে)”

আমার নিজের দেখা একটি স্বপ্ন: আমি ২০১৯ ইং সালের খুব সম্ভবতঃ জানুয়ারীর শেষের দিকে একটি স্বপ্ন দেখি যে, “আমি আমার দাদার বাড়ির কলের পারের উঠানে দাঁড়িয়ে আছি এবং আমার আব্বাকে ডাক দিলাম। স্বপ্নে আমার এই অনুভুতি ছিল যে, তখন সকাল সারে ছয়টার মতো বাজে। তখন আরো মনে হচ্ছিল যে, ওটা ফজরের ওয়াক্তের শেষ দিককার সময়টি, যখন সূর্য ওঠা শুরু হওয়ার কথা কিংবা আকাশে আলো উঁকি দেয়ার কথা, কিন্তু আকাশটা অন্ধকারই থেকে যাচ্ছে। স্বপ্নেই আমার মনে হচ্ছিল যে, এই অন্ধকারটি আরো একদিন (বা দুদিন) বিরাজমান থাকবে, আমাদেরকে সূর্য বিহীন অন্ধকারচ্ছন্ন অবস্থাতেই ঘুম না হওয়ার ছটফটানিতে কাটাতে হবে ওই দুই/তিন দিন। তারপর সূর্য উঠবে পশ্চিম দিক থেকে !!! তখন স্বপ্নে আমার মনকে (বা আমার আব্বাকে) বলছিলাম যে, ইমাম গ্রহনের শেষ সময় শুরু হয়ে গেছে, পশ্চিমাকাশে সূর্য উঠলে আর কারো ইমান কবুল করা হবে না। সাথে আমি আরো দেখলাম, ওই অন্ধকার আকাশের কিছু তারা’র মাঝে একটি হালকা রক্ত/খয়েরী বর্ণের গোলাকার চাঁদ; যেমনটা কোরবানীর পশুর রক্ত শুকিয়ে যাওয়ার পর কিছুটা কালচে লাল বা খয়েরী বর্ণের হয়, তার একটা হালকা বর্ণের আকারে দেখলাম চাঁদটিকে। তখন স্বপ্নে আমার মনকে (বা আমার আব্বাকে) বলছিলাম যে, ওই যে ইমাম মাহদী রা. আসার সময় হয়ে গেছে…এটা তারই একটা নিদর্শন”। এরপর ঘুম ভেঙ্গে যায়। [আমি জানি না হালকা লালচে রঙের ‘চাঁদ’ কেনো দেখেছি, তবে মোটের উপরে ওই স্বপ্নে অনুভূত হয়েছে যে, ইমাম মাহদী রা. অচিরেই আসছেন এবং পশ্চিম দিকে সূর্য উদয়ের সময়ও ঘটিনে আসছে]

(৪)আহলে কিতাব’ (ইহুদী ও খুষ্টান) আলেমরাও অচিরেই ‘মাসিহ’ আবির্ভূত হবেন মর্মে সময় গুণছে:-

‘আহলে কিতাব’ তথা ইহুদী ও খৃষ্টানদের বহু পন্ডিত এই মত পোষন করছেন যে, এটাই তাদের কিতাবের প্রতিশ্রুত ‘মাসিহ’ আসার শেষ জামানা (End Time) এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তার আবির্ভাব ঘটবে।

ইসরাইলের নামকরা খাবালী ইহুদী পন্ডিত ইযহাক কাদুরী (Yitzchak Kaduri / יצחק כדורי‎) ১০৬ বছর বয়সে গত ২৮ জানুয়ারী ২০০৬ ইং তারিখে জেরুজালেমের এক হাসপাতালে মাড়া যায়। তিনি মাড়া যাওয়ার আগে বলে গেছেন যে, তার ধারনা, ইহুদীদের প্রতিক্ষিত ‘মাসিহ’ অচিরেই আগমন করবেন। তিনি আরো বলেছেন যে, এক বছর আগে (সম্ভবত: স্বপ্নে) ‘মাসিহ’র সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটেছে। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তার ছেলে ‘ডেভিড কাদুরী’ন কাছে একটি খামে ভরা সিলকৃত লিখিত কাগজ দিয়ে যান এবং বলে যান, এটা যেন তার মৃত্যুর ১ বছর পর খোলা হয়। ২০০৭ ইং সালে খামটি খুলে দেখা যায় যে, একটি কাগজে ‘মাসিহ’র নাম ‘ইয়েহোসুয়া’ (ঈসা) হবে মর্মে ইংগীত করা হয়েছে। অনেক ইহূদী পন্ডিত-তো এ দাবীও করছেন যে, তাদের প্রতিক্ষিত ‘মাসিহ’ (দাজ্জাল, যাকে তারা মাসিহ মনে করে অনুসরণ করবে মর্মে হাদিসে ইশারা রয়েছে) এখন পৃথিবীতেই আছে; নির্ধারিত মুহূর্তে শুধু নিজকে প্রকাশ করার পালা; আর সে সময়টিও খুব নিকটে চলে এসেছে।

খৃষ্টান পন্ডিতদের অনেকে মনে করছেন যে, তাদের ‘মাসিহ’ Jesus (ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.) দ্বিতীয়বারের মতো আসমান থেকে পৃথিবীতে এসে Anti-Christ (দাজ্জাল)-কে হত্যা করার শেষ জামানা এটাই এবং অচিরেই Anti-Christ বেড় হবে এবং তার দলকে হত্যা করতে Jesus (ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.) আসমান থেকে আগমন করবেন। [আমার কথা বিশ্বাস না হলে নিজেই এব্যাপারে সময় নিয়ে রিসার্স করে দেখুন]

এখানে কারো একথা বলা চরম মুর্খতা হবে যে, ‘ইহুদী ও খৃষ্টানদের কাছে যেসব কিতাব রয়েছে সেগুলো-তো তাদের পূর্বপুরুষরা কলুষিত করে ফেলেছে, ওগুলোর বর্ণনা এবং তাদের পন্ডিতদের ব্যাখ্যায় কি এসে যায়’?! এরকম ধারনা করা এজন্য মুর্খতার পরিচায়ক, কারণ (১) তাদের কিতাবাদি বুহুলাংশে কলুসিত হয়ে গেলেও আজও তা আসমানী হেদায়েত থেকে একেবারে সম্পূর্ণ রূপে বঞ্চিত হয়ে যায়নি, বরং আল্লাহ’র ফজলে তাতে বিবৃত বহু বর্ণনা ও ভবিষ্যৎবাণীর মধ্যে হেদায়েতের আলো আজও চকমক করতে দেখা যায়, যার জন্য কেবল দরকার তা বোঝার মতো অন্তকরণ ও ইলম। (২) একথা কি সত্য নয় যে, আল্লাহ তাআলার সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর জন্মেরও বহু বছর আগে ইহূদী পন্ডিতগণ মদিনায় এসে বসবাস করা শুরু করেছিল শুধু এজন্য যে, তাদের ‘তাওরাত’-এ (চাই তা যতই কলুসিত হোক না কেনো) বর্ণিত প্রতিক্ষিত ‘নবী’ আসার সময় ঘনিয়ে এসেছে মর্মে তারা গন্ধ পাচ্ছিল। তারা কি এই নবীর অচিরেই আগমনের কথা উল্লেখ করেই মক্কার মুশরেকদেরকে থ্রেট করে কথা বলতো না যে, তাদের প্রতিক্ষিত নবী যখন আসবে, তখন মক্কাওয়ালাদেরকে মজা চাখাবে! ইহুদীরা সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ-কে তাদের তাওরাতে বর্ণিত সেই নবী হিসেবে চিনতে পারার সত্ত্বেও শুধু এজন্য গ্রহন করেনি যে, তাদের কামনা ছিল উক্ত প্রতিক্ষিত নবী তাদের নবী ইসহাক আ.-এর বংশধর থেকে হবেন, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নবীকে পাঠালেন ইসমাঈল আ.-এর বংশ থেকে। তার মানে তাদের তাওরাতে তারা উক্ত নবীর বংশ সম্পর্কে কোনো আলামত পায়নি, বাদ বাকি নবীকে চিনতে পারার জন্য যা বোঝা দরকার তা ঠিকই বুঝে ফেলেছিল। শুধু বংশের কারণে মুহাম্মাদ ﷺ-কে কবুল না করে আল্লাহ’র সাথে কুফরী করলো।

সুতরাং, একথা ভাবা অমুলক যে, আহলে কিতাবদের মধ্যে ‘মাসিহ’ আসার জামানার গন্ধ পাওয়ার মতো কোনো পন্ডিত কেউ থাকবে না। যদি থাকে (আর অবশ্য আছেও), তাহলে কি করে ধারনা করতে পেলেন যে, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর উম্মতের মধ্যে ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর আসার জামানার গন্ধ পাওয়ার মতো আলেমগণ বিদ্যমান থাকবেন না, বরং অবশ্যই আছেন এবং তারা ঠিকই দেখতে পাচ্ছেন যে, আমরা শেষ জামানার মালহামাতুল কুবরা, ইমাম মাহদী, গাজওয়াতুল হিন্দ, দাজ্জাল এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর একেবারে দারগোড়ায় চলে এসেছি।

(৫) বিশ্ব রাজনীতি একেবারে মোড় নিয়ে ফেলেছে -ইমাম মাহদীর নেতৃত্বে ‘মালহামাতুল কুবরা’ ও ‘গাজওয়াতুল হিন্দে’র দিকে

হযরত সওবান রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- عِصَابَتَانِ مِنْ أُمَّتِي أَحْرَزَهُمَا اللَّهُ مِنَ النَّارِ: عِصَابَةٌ تَغْزُو الْهِنْدَ، وَعِصَابَةٌ تَكُونُ مَعَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلَام. روى النسائي فى سننه: ٣١٧٥ ، و أحمد فى المسند:١٨/٣٧ رقم ٢٢٣٩٦, وهو حديث صحيح، صححه الإمام السيوطي في الجامع الصغير، والألباني في صحيح الجامع: ٤٠١٢ والصحيحة: ١٩٣٤ – ‘আমার উম্মতের মধ্যে দুটি দল রয়েছে, আল্লাহ তাদের উভয়কে দোযখ থেকে মুক্তি দিবেন। (১) হিন্দ (ভারত)-এর সাথে গাজওয়া (জিহাদ) করনেওয়ালা দল এবং (২) ঈসা ইবনে মানইয়াম আ.-এর সঙ্গী দল (যারা দাজ্জালের বাহিনীর সাথে জিহাদ করবে)’। [সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৩১৭৫; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২২৩৯৬]

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য হাদিসে আখেরী জামানায় যে ‘মালহামাতুল-কুবরা (মহাযুদ্ধ) হবে মর্মে ইশারা করা হয়েছে, উপরোক্ত হাদিসে সেই ঘটনার দিকেই ইংগীত করা হয়েছে। মালহামাহ’ (মহাযুদ্ধ)-এর সময় ইমাম মাহদী রা. গোটা মুসলীম উম্মাহ’র খিলাফতের নেতৃত্ব দিবেন এবং তাঁর হাতে আবির্ভাবের পর থেকে প্রায় ৬/৭ বছর টানা জিহাদ করতে থাকবেন পৃথিবী জুড়ে কাফের মুশরেকদের সাথে । সে সময় মুমিনদের একটি অংশ হিন্দ (ভারত)-এর মুশরেকদের বিরুদ্ধে লড়তে থাকবে (যে যুদ্ধটি ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ নামে সমধিক পরিচিত) এবং মুমিনদের বাকি আরেকটি অংশ দাজ্জাল ও ইহুদীদের সাথে লড়বে শাম (সিরিয়া, জর্ডান, ফিলিস্তিন, লেবানন ইত্যাদি কেন্দ্রিক) এলাকায়।

অন্য হাদিসে নাহিক বিন সুরাইম আস-সাকুনী থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- لتقاتلن المشركين حتى تقاتل بقيتكم الدجال ، على نهر بالأردن ، أنتم شرقيه ، و هم غربيه ، و ما أدري أين الأردن يؤمئذ من الأرض . اخرجه البزار في كشف الأستار: ٤/١٣٨ رقم ٣٣٨٧ ; و و الطبراني في مسند الشاميين: رقم . قال الهيثمي في في ” مجمع الزوائد : ٧/٣٤٩ : رواه الطبراني والبزار ورجال البزار ثقات ; و اخرجه ايضا ابن سعد في الطبقات: ٧/٤٢٢ ; والديلمي في مسند الفردوس: ٤/١٨٦ ; وابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني برقم ٧٧٣ ; و قال الألباني في ” السلسلة الضعيفة و الموضوعة: ٣/٤٦٠ رقم ١٢٩٧ – ‘অবশ্যই (তোমাদের মুসলমানদের একটি অংশ) মুশরেকদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে। এমনকি (এরই ক্রমধারায় এক সময় দাজ্জাল বেড় হবে এবং) তোমাদের বাকি অংশ দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে -উরদুনে অবস্থিত (একটি) নহরের ধারে, যার পূর্ব পার্শ্বে থাকবে তোমরা, আর তার পশ্চিম পার্শ্বে থাকবে ওরা। (রাবী বলেন:) আমি জানি না, সেদিন উরদুন (অঞ্চলটি) পৃথিবীর কোথায় হবে’[মুসনাদে বাযযার -৪/১৩৭ হাদিস ৩৩৮৭; মুসনাদে শামেঈন, ত্বাবরাণী ; আল-আহাদ ওয়াল মাছানী, ইবনু আবি আসিম, হাদিস ৭৭৩; আত-ত্ববাকাত, ইবনে সা’দ- ৭/৪২২; মুসনাদে ফিরদাউস, দাইলামী- ৪/১৮৬; তারিখে দামেশক, ইবনু আসাকীর -৬২/৩২৩; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩৪৯]

এই হাদিসে ‘উরদুন’ বলতে বর্তমান সময়কার জর্দান দেশ উদ্দেশ্য। জর্দান ও ইসরাইলের মাঝখানে যে নহর/নদীটি উভয় দেশকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে, হাদিসের উরদুনে অবস্থিত নহর/নদী বলতে সেই নহরটিই উদ্দেশ্য। ২৫১ কিমি. দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট জর্দান নদীটি এশিয়া মহাদেশ এর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে দীর্ঘতম নদী, যা শেষ হয়েছে মৃত সাগর বা Dead sea তে। এই নদীর কাছেই ইমাম মাহদী ও মুমনি মুজাহিদগণ জিহাদ করতে থাকবেন দাজ্জাল ও ইহুদী বাহিনীর সাথে। এক পর্যায়ে ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. আসমান থেকে সিরিয়ার দামেশক জামে’ মসজিদের মিনারে অবতরণ করবেন এবং ইমাম মাহদীর পিছনে ফজরের নামায আদায় করে মুসলমানদের নেতৃত্ব দিবেন। পরে ফিলিস্তিনের লুদ নামক স্থানে দাজ্জালকে ধরে হত্যা করবেন। খুব সম্ভবতঃ দাজ্জালের মৃত্যুর পর ইহূদীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালাতে থাকবে, তখন মুসলমানরা তাদেরকে পাইকারী হারে হত্যা করবে। যেমন, আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ الْيَهُودَ ، فَيَقْتُلُهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى يَخْتَبِئَ الْيَهُودِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْحَجَرِ وَالشَّجَرِ، فَيَقُولُ الْحَجَرُ أَوِ الشَّجَرُ: يَا مُسْلِمُ يَا عَبْدَ اللهِ هَذَا يَهُودِيٌّ خَلْفِي ، فَتَعَالَ فَاقْتُلْهُ ، إِلَّا الْغَرْقَدَ، فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرِ الْيَهُودِ . رواه مسلم , كتاب الْفِتَنِ وَأَشْرَاطِ السَّاعَةِ, بَاب لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ فَيَتَمَنَّى أَنْ يَكُونَ مَكَانَ الْمَيِّتِ مِنْ الْبَلَاءِ: رقم ٢٩٢٢ ; و الدانى في السنن الواردة في الفتن, بَابُ مَا جَاءَ فِي قِتَالِ هَذِهِ الأُمَّةِ أَهْلَ: ٤٥١; و أحمد في المسنده: رقم ٢٧٥٠٢ ; و الخطيب البغدادي في تاريخ: ٨/١١٤ – ‘কেয়ামত কায়েম হবে না, যাবৎ না মুসলমানরা ইহুদীদের সাথে ক্বিতাল (স্বসস্ত্র জিহাদ) করে। পরে মুসলমানরা তাদেরকে কতল করবে। এমনকি (মুসলমানদের ধাওয়া খেয়ে) ইহূদীরা পাথর ও গাছের পিছনে লুকিয়ে পড়বে। তখন পাথর বা গাছ বলবে: ‘হে মুসলীম! ওহে আল্লাহ’র বান্দা ! এই যে আমার পিছনে ইহূদী (লুকিয়ে আছে)’। তখন সে এসে তাকে কতল করবে। শুধু বাবলা গাছ স্বতন্ত্র (সে একথা বলবে না), কারণ সে ইহূদীদের গাছ’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯২২; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২৭৫০২; আস-সুনানুল ওয়ারিদাহ, ইমাম দানী, হাদিস ৪৪৯; তারিখে বাগদাদ, খতীব- ৮/১১৪]

হাদিসটিতে মুশরেকদের সাথে যুদ্ধ বলতে আমার মতে ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ (হিন্দুস্থানের মুর্তিপুজারী মুশরেকদের সাথে জিহাদ) উদ্দেশ্য। মুজাহিদগণ হিন্দুস্থানের মুশরেকদের উপরে জয় লাভ করার পর তাদের লিডারদেরকে বেঁধে নিয়ে যখন শাম-এ যাবেন তখন সেখানে গিয়ে তাঁরা ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-কে দেখে ধন্য হবেন।

যেমন, হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- وَعَدَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَزْوَةَ الْهِنْدِ فَإِنْ أَدْرَكْتُهَا أُنْفِقْ فِيهَا نَفْسِي وَمَالِي فَإِنْ أُقْتَلْ كُنْتُ مِنْ أَفْضَلِ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ أَرْجِعْ فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ. روى النسائي ٣١٧٣ ، وأحمد ٢/٢٢٩, والحديث ضعفه الألباني في ضعيف سنن النسائي ٢٠٢ ، ٢٠٣ . وكذلك الشيخ شعيب الأرنؤوط في تخريجه لمسند أحمد ١٢/٢٩ , البداية والنهاية لابْنُ كَثِيرٍ: ١٩/١٠ – ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে গাজওয়ায়ে-হিন্দ -এর ওয়াদা করেছেন। সুতরাং আমি যদি তা পেয়ে যাই, তাহলে আমি আমার জান ও মাল (আল্লাহ’র রাস্তায়) দিয়ে দিবো। আর যদি আমাকে (ওই যুদ্ধে) কতল করে ফেলা হয়, তাহলে আমি হবো সর্বোত্তম শহিদগণের মধ্যে একজন। আর আমি যদি (ওই জিহাদে বেঁচে) ফিরে আসি, তাহলে আমি আবু হুরায়রাহ হবো (দোযখের শাস্তি থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত ’। [সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৩১৭৩; মুসনাদে আহমদ- ২/২২৯; আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ইবনে কাসির- ১০/১৯]

ইমাম নুআইম বিন হাম্মাদ (মৃ: ২২৮ হি:) নিজ সনদে হযরত আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- عن صفوان بن عمرو ، عن بعض المشيخة ، عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم – وذكر الهند – فقال : ليغزون الهند لكم جيش يفتح الله عليهم ، حتى يأتوا بملوكهم مغللين بالسلاسل ، يغفر الله ذنوبهم ، فينصرفون حين ينصرفون فيجدون ابن مريم بالشام . قال أبو هريرة : إن أنا أدركت تلك الغزوة بعت كل طارف لي وتالد وغزوتها ، فإذا فتح الله علينا وانصرفنا فأنا أبو هريرة المحرر ، يقدم الشام فيجد فيها عيسى بن مريم ، فلأحرصن أن أدنوا منه فأخبره أني قد صحبتك يا رسول الله . قال : فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم وضحك ثم قال : هيهات ، هيهات . رواه نعيم بن حماد في ” الفتن ” : ص/٤٠٩, وفي سنده إبهام الراوي عن أبي هريرة ، كما أن في سنده بقية بن الوليد مدلس وقد عنعن – ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ (একবার) হিন্দ-এর উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: অবশ্যই তোমাদের (মুসলমানদের একটি) সৈন্যদল হিন্দে’র সাথে গাজওয়া (জিহাদ) করবে (এবং) আল্লাহ (তাআলা তোমাদের মুজাহিদগণকে) তাদের উপর বিজয় দান করবেন। এমন কি তারা ওদের রাষ্ট্রনায়কদেরকে শিকলে বেঁধে নিয়ে আসবে। আল্লাহ তাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। এরপর তারা (তাদেরকে রেখে) চলে যাবে এবং শাম-এ (গিয়ে) তারা ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পাবে’। (রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর একথা শুনে) হযরত আবু হুরায়রাহ রা. বলেন: আমি যদি (আমার জীবনকালে) সেই গাজওয়া (জিহাদ) পেয়ে যাই, তাহলে আমার নতুন-পুরাতন তল্পিতল্পা সব বিক্রি করে দিয়ে সেই গাজওয়ায় অংশ নিবো। এরপর আল্লাহ তাআলা যখন আমাদেরকে বিজয় দান করবেন এবং আমরা সেখান থেকে ফিরে আসবো, তখন আমি আবু হুরায়রাহ হবো (দোযখের আগুন থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত। (আহা ! সেই সময়ে আবু হুরায়রাহ’র কি আনন্দ হত, যখন) সে শাম-এ গিয়ে সেখানে ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পেতো! ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার খুব ইচ্ছে হয় তাঁর সান্নিধ্যে যেতে এবং তাঁকে এই খবর দিতে যে আমি আপনরা সাহাবী। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺ (আমার একথা শুনে) মুচকি হেসে দিলেন, অতঃপর বললেন: এমনটা হবার নয় ! এমনটা হবার নয়’! [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, হাদিস ১২৩৬]

ইমাম ইসহাক বিন রাহওয়াই (মৃ: ২৩৮ হি:) নিজ সনদে হযরত আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى ، أنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو السَّكْسَكِيِّ ، عَنْ شَيْخٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يوْمًا الْهِنْدَ ، فَقَالَ : لَيَغْزُوَنَّ جَيْشٌ لَكُمُ الْهِنْدَ ، فَيَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ حَتَّى يَأْتُوا بِمُلُوكِ السِّنْدِ مُغَلْغَلِينِ فِي السَّلاسِلِ ، فَيَغْفِرُ اللَّهُ لَهُمْ ذُنُوبَهُمْ فَيَنْصَرِفُونَ حِينَ يَنْصَرِفُونَ ، فَيَجِدُونَ الْمَسِيحَ ابنَ مَرْيَمَ بِالشَّامِ ” ، قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : فَإِنْ أَنَا أَدْرَكْتُ تِلكَ الْغَزْوَةَ بِعْتُ كُلَّ طَارِد وَتَالِدٍ لِي وَغَزَوتُهَا ، فَإِذَا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْنَا انْصَرَفْنَا ، فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرِّرُ يَقْدَمُ الشَّامَ فَيَلْقَى الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ ، فَلأَحْرِصَنَّ أَنْ أَدْنُوَ مِنْهُ ، فَأُخْبِرَهُ أَنِّي صَحِبْتُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ : فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَاحِكًا . اخرجه إسحاق بن راهويه فى المسند, رقم الحديث ٤٧١, – ‘‘রাসুলুল্লাহ ﷺ একদিন হিন্দ-এর উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: অবশ্যই তোমাদের (মুসলমানদের একটি) সৈন্যদল হিন্দে’র সাথে গাজওয়া (জিহাদ) করবে, এতে আল্লাহ (তাআলা তোমাদের মুজাহিদগণকে) তাদের উপর বিজয় দান করবেন। এমন কি তারা সিন্দ- এর (এলাকাভুক্ত) রাষ্ট্রপ্রধানদেরকে শিকলে বেঁধে নিয়ে আসবে। আল্লাহ তাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। এরপর তারা (তাদেরকে রেখে) চলে যাবে এবং শাম-এ (গিয়ে) তারা ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পাবে’। (রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর একথা শুনে) হযরত আবু হুরায়রাহ রা. বলেন: আমি যদি (আমার জীবনকালে) সেই গাজওয়া (জিহাদ) পেয়ে যাই, তাহলে আমার নতুন-পুরাতন তল্পিতল্পা সব বিক্রি করে দিয়ে সেই গাজওয়ায় অংশ নিবো। এরপর আল্লাহ তাআলা যখন আমাদেরকে বিজয় দান করবেন এবং আমরা সেখান থেকে ফিরে আসবো, তখন আমি আবু হুরায়রাহ হবো (দোযখের আগুন থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত। (আহা ! সেই সময়ে আবু হুরায়রাহ’র কি আনন্দ হত, যখন) সে শাম-এ গিয়ে সেখানে আল-মাসিহ ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পেতো! আমার খুব ইচ্ছে হয় তাঁর সান্নিধ্যে যেতে এবং তাঁকে এই খবর দিতে যে আমি আপনরা সাহাবী -ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺ (আমার একথা শুনে) মুচকি হেসে দিলেন’ [মুসনাদে ইসহাক বিন রাহুবিয়্যা – ১/৪৬২ হাদিস ৫৩৭]

ইমাম নুআইম বিন হাম্মাদ (মৃ: ২২৮ হি:) নিজ সনদে হযরত সাফওয়ান রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو ، عَمَّنْ حَدَّثَهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : ” يَغْزُو قَوْمٌ مِنْ أُمَّتِي الْهِنْدَ ، يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ حَتَّى يَأْتُوا بِمُلُوكِ الْهِنْدِ مَغْلُولِينَ فِي السَّلاسِلِ ، فَيَغْفِرُ اللَّهُ لَهُمْ ذُنُوبَهُمْ ، فَيَنْصَرِفُونَ إِلَى الشَّامِ ، فَيَجِدُونَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلامُ بِالشَّامِ ” . رواه نعيم بن حماد في ” الفتن ” (ص/٣٩٩) قال : حدثنا الوليد ، عن صفوان بن عمرو ، عمن حدثه عن النبي صلى الله عليه وسلم . وهذا إسناد ظاهر الضعف بسبب عنعنة الوليد بن مسلم ، وظاهره ـ أيضا ـ الإرسال ، لأنه ليس فيه أن من حدث صفوان بن عمرو سمع النبي صلى الله عليه وسلم ، ولا أنه كان صحابيا – ‘অবশ্যই আমার উম্মতের একটি গোষ্ঠি হিন্দ-এর সাথে গাজওয়া (জিহাদ) করবে।আল্লাহ (তাআলা ওই মুজাহিদগণকে) তাদের উপর বিজয় দান করবেন। এমনকি তারা হিন্দে’র রাষ্ট্রনায়কদেরকে শিকল দিয়ে বেঁধে নিয়ে আসবে। আল্লাহ তাদের গোনাহ সমূহ ক্ষমা করে দিবেন। এরপর তারা শাম-এর দিকে ড়ওনা হবে। তারা শামে (গিয়ে) ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পাবে’[আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ৩৯৯ পৃ:]

সুদীর্ঘ ১০ বছরের গবেষনার আলোকে আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, বর্তমান ইহুদী রাষ্ট্র ‘ইসরাইল’ এবং হিন্দু রাষ্ট্র ‘ভারত’ পৃথিবী জুড়ে মুসলমানদের রক্তের নদীল উপরে যে খবিসী রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরী করতে সমর্থ হয়েছে, তা থেকে সুদৃঢ়তার সাথে বলা যায়, মালহামাহ’র রেশ ধরে ইমাম মাহদী রা. আসা মাধ্যমে পাকা ধান কাটার প্লাটফর্ম প্রস্তুত হয়ে রয়েছে। এর বহু কারণ রয়েছে:-

প্রথমত: বর্তমান ইসরাঈলের ইহূদীরা সুদীর্ঘ প্রায় ২০০০ হাজার বছর পর জেরুজালেমের উপরে তাদের ক্ষমতা গেড়ে নিতে সমর্থ হয়েছে। ইহুদীদের বিগত ৫০০০ বছরের ইতিহাসে বর্তমান ইসরালের ইহূদীদের মতো ক্ষমতাধর ইহুদী জাতির কোনো নজির দেখা যায়নি। এরা অর্থবল, অস্ত্রবল, ক্ষমতাবল, আধুনিক জ্ঞানবল, প্রশাসিনিক বল, মিডিয়া বল ইত্যাদি এমন কোনো প্রয়োজনীয় ফিল্ড নেই, যেখানে তাদের একচ্ছত্র রাজতত্ব নেই। তাদের ক্ষমতাবল অনুমান করা যায় যে, খোদ আমেরিকার মতো শক্তিধর দেশকে তারা নাকে দড়ি দিয়ে নিজের কাজে লাগিয়ে থাকে। আজ ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, সুদান, লিবিয়া, সোমালিয়া সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের রক্ত ও ইজ্জতের উপরে আমেরিকার যে দাপট দেখতে পাচ্ছেন, সেই আমেরিকা এসব করছে মূলত: ওই জায়োনিষ্ট ইহুদীদের কথা মতো।

এর আগে (রাসুলুল্লাহ সা. এর নবুওতের বহু পূর্বে) দুনিয়াতে ফিতনা ফ্যাসাদের বাজার গরম করায় আল্লাহ’র সাময়ীক দুনিয়াবী আযাব হিসেবে ইহূদীরা দু’ দুবার ভিন্ন ভিন্ন শক্রু দ্বারা চরম ভাবে আক্রান্ত হয় এবং তাদের ওই শক্রুরা তাদের রক্তের বন্যা বইয়ে দেয়। ফলে তারা দুই বার পবিত্র ভূমি থেকে বিতারিত হয় এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পরে। সুদীর্ঘ প্রায় ২০০০ বছর তারা কোনো দেশেই স্থির হয়ে জিড়িয়ে নিতে পারেনি, বরং এখানে ওখানে ঠোকড় খেয়ে বেড়িয়েছে। ফলে দীর্ঘ ২০০০ বছর পর ইহূদী ধর্ম গ্রহনকারী একটি ইউরোপিয়ান ধ্বনকুবের ব্যাংকার ইহূদী গোষ্ঠি (যাদেরকে জায়োনিষ্ট ইহূদী বলা হয় এবং যাদের সাথে বাস্তবেই প্রকৃত বনী ইসরাঈলদের বংশধারাগত কোনো সম্পর্ক নেই, যা আজ ডিএনএ টেষ্ট দ্বারাও বৈজ্ঞানীক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তারা) বিশ্বের ইহূদীদেরকে একটি একজোট শক্তিশালী জাতি হিসেবে দুনিয়ার বুকে পূণরায় দাঁড় করিয়ে তোলার একটি সুবর্ণ সুযোগের গন্ধ পায় এবং তাদের সকল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল ব্যবহার করে (যার বহু গবেষনাধর্মী ডকুমেন্টারী রয়েছে) গত শতাব্দিতে তথা ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনের মুসলমানদেরকে জোর করে তাড়িয়ে দিয়েে ইসরাঈল নামক একটি দেশ বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিস্থাপন করিয়ে নিতে পূর্ণভাবে সমর্থ হয়। এরপর থেকে আরব আজমে মুসলমানদের যে করুন দশা শুরু হয়েছে, তার পিছনে এই জায়োনিষ্ট ধ্বনকুবেড় ইহূদিদের প্রত্যক্ষ কলকাঠি নাড়ার বিষয়টি আজ সচেতন মানুষের কাছে অজানা নয়। বাহ্যতঃ সকলের মনে হচ্ছে যে, ইউরোপ আমেরিকার শয়তান পলিটিশিয়ানরা মুসলমানদের রক্ত ও ইজ্জত আব্রু নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, কিন্তু বাস্তবে দাবার গুটি চালছে এই ইহুদীরা। ইহূদীরা তৃতীয় বারের মতো পৃথিবীতে পূণরায় ফিতনা ফ্যাসাদের বাজার গরম করার প্রায় শেষ সীমায় এসে পৌচেছে। আমার ব্যাক্তিগত ক্ষুদ্র গবেষনা মতে, এই জায়োনিষ্ট ইহুদীরাই হল সেই ইহুদী যাদের কথা উপরোক্ত হাদিসে ইংগীত করা হয়েছে, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা তৃতীয়বারের মতো চুড়ান্ত শিক্ষা দিবেন মুসলমানদের হাত দ্বারা।

দ্বিতীয়ত: ইসরাইলের জায়োনিষ্ট ইহুদী গোষ্ঠি এবং ভারতের হিন্দু মুশরেক গোষ্ঠির মাঝে বর্তমানে দহরম মহরম রাজনৈতিক মিত্রতা ও জিগরী বন্ধন সৃষ্টি হয়ে গেছে। ইসরাইলের পিচাশ রাষ্ট্রপ্রধান বেনজামিন নেতাননিয়াহু এবং ভারতের পিচাশ রাষ্ট্রপ্রধান নরেন্দ্র মোদি উভয়ে মিলে আমেরিকাকে চিরতরে কুপকাত করার উদ্দেশ্যে নজর দিয়েছে ইউ.এস ডলারের পতন ঘটানোর দিকে। কারণ সকলেই জানে, ইন্টারনেশনাল ডোমিনেন্ট কারেন্সির পতন মানে ইন্টারনেশনাল মুরুব্বির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া। এক সময় একই কায়দায় আমেরিকা ব্রিটেনের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছিল সে সময়কার ব্রিটেনের ইন্টারনেশনাল ডোমিনেন্ট কারেন্সি স্টারলিন পাউন্ড-এর স্থলে ডলারকে প্রতিস্থাপন করে এবং এটার জন্য বিশ্ব যুদ্ধের দরকার হয়েছিল। আর আজ ইসরাইল ও ভারত উভয়ে মিলে পৃথিবীতে মুরুব্বি হয়ে বসার মানসে ডলারের পতন ঘটানের জন্য বিশ্ব জুড়ে বিটকয়েন নামক এক ডিজিটাল কারেন্সি চালুর পায়তারায় লেগে আছে। এর কার্যক্রম ইতিমধ্যে ব্যাপক ভাবে শুরু হয়েছে এবং হয়-তো কিছুদিনের মধ্যেই পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে তাদের এই ডিজিটাল কারেন্সি সিস্টেমের আওতায় জড়িয়ে যাবে। তখন এমন অবস্থা হবে যে, কেউ টাকা পয়সা দিয়ে চাইলেও কিছু কেনা বেচা করতে পারবে না, কারণ কেউ তা নিবে না। বরং কেনা বেচা করতে হলে তাকে ওদের ওই ডিজিটাল কারেন্সি ব্যবহার করেই লেনদেন করতে হবে। ফল দাঁড়াবে এই যে, তাদের কাছে আপনার ডিজিটাল তথ্য থাকবে, আপনার একাউন্ট তাদের কন্ট্রোলে থাকবে, আপনি সর্বদা তাদের ডিজিটাল নজরদারিতে থাকবেন এবং তাদের কথা মতো না চললে তারা যে কোনো সময় আপনার একাউন্ট বন্ধ করে দিবে -যাবৎ না আপনি তাদের দাস হয়ে যেতে রাজি হন। এরা যখন দাজ্জালের অধিনে আসবে, তখন এই পুরো ডিজিটাল সিস্টেমকে ব্যবহার করে মানুষকে হাতে রাখতে চাইবে। ডলারের পুরোপুরি পতন ঘটাতে হলে দরকার হবে একটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। আমার মতে এই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধটিই হবে ‘মালহামাতুল কুবরা’ এবং এ যুদ্ধ ইতিপূর্বেকার ইতিহাসের যে কোনো যুদ্ধের চাইতে সাংঘাতিক হবে -এতে কোনো সন্দেহ নেই। দুনিয়া যে কি পরিমান তছনছ হবে -তা ভাবতেই গা শিওরে ওঠার কথা। পুথিবীর মানুষের দূর্ভিক্ষ ও চরম দুরাবস্থার মধ্যেই দাজ্জাল বেড় হবে তার খাদ্য-পানিয় ও পার্থিব সুখ সামগ্রী নিয়ে। একেবারে খাঁটি ইমানদার ব্যাক্তি ছাড়া কে আছে যে তার ওই প্রলভনে তার বস্যতা স্বীকার না করে নিজকে বিরত রাখবে !!!

হযরত মুয়ায বিন যাবাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- عمران بيت المقدس خراب يثرب، وخراب يثرب خروج الملحمة، وخروج الملحمة فتح القسطنطينية، وفتح القسطنطينية خروج الدجال. أخرجه أبو داود في “السنن: ٤٢٩٤ و حسّنه الألباني في صحيح أبي داود: رقم ٤٢٩٤ ; وأحمد في “مسنده: ٥/٢٤٥ رقم ٢٢١٢١; الطحاوي في “شرح مشكل الآثار: ٥١٩, ; ابن أبي شيبة في “المصنف:١٥/١٣٥ رقم ٣٨٤٧٣ ;;الطبراني في “المعجم الكبير: ٢٠/١٠٨;الحاكم في “المستدرك:٨٢٩٧ ; الديلمي في “الفردوس: ٤١٢٧; قال الحافظ ابن كثير في النهاية:١/٥٩ : وهذا إسناد جيد وحديث حسن، وعليه نور الصدق وجلالة النبوة – ‘বায়তুল-মাকদিস’-এর গড়ন (হলে ঘটনার ক্রমধারায়) ইয়াসরিব’-এর খারাবী (হবে)। ইয়াসরিব’-এর খারাবী (হলে ঘটনার ক্রমধারায়) মালহামাহ’র সূত্রপাত (হবে)।মালহামাহ’র সূত্রপাত (হলে এর ক্রমধারায় মুসলমানদের হাতে) কুসতুনতুনিয়া (তথা কনসটেন্টিনোপল, তুরষ্ক)’র বিজয় (সংঘটিত হবে), আর কুসতুনতুনিয়া’র বিজয় (সংঘটিত হলে তার কিছু কাল পর) দাজ্জালের আবির্ভাব (হবে)। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৯৪; মুসনাদে আহমদ-৫/২৪৫, হাদিস ২২১২১; শারহু মুশকিলিল আছার, ত্বাহাবী, হাদিস ৫১৯; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ- ১৫/১৩৫, হাদিস ৩৮৪৭৩; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ২০/১০৮; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস ৮২৯৭; মুসনাদে ফিদোউস, দাইলামী, হাদিস ৪১২৭]

এই হাদিসে عمران بيت المقدس – ‘বায়তুল মাকদিসের গড়ন’ বলতে কিছু বছর আগেও অনেকে মনে করতেন যে, বর্তমান ইসরাইল সেখানকার মুসলীম অমুসলীম পুরাণো বাসিন্দাদেরকে জোর করে হটিয়ে দিয়ে সেখানে অবৈধ ভাবে তাদের যেসব বিল্ডিং বাড়ি নির্মান করছে, সম্ভবতঃ ‘বায়তুল মাকদিসের গড়ন’ বলতে সেদিকেই ইংগীত করা হয়েছে, পবিত্র বায়তুল মাকদিস অতীব দীর্ঘ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। কিন্তু এখন-তো দেখা যাচ্ছে, ইসরাইলী ইহূদীরা আরো এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে খোদ বায়তুল মাকদিসে অবস্থিত মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান ‘মসজিদুল আকসা’ (যা ‘মসজিদে ওমর’ এবং কুব্বাতুস সাখরা -দুই মসজিদকেই অন্তর্ভূক্ত করে নেয়)-কে প্রশাসনিক ভাবে পূর্ণভাবে গুড়িয়ে দিয়ে সেখানে তাদের ইহূদী গীর্যাকে প্রতিস্থাপনের প্রহর গুণছে। প্রহর গুণছে এজন্য বললাম, কারণ তাদের এবাবদ প্লান ও কাঠামোগত কার্যক্রম শেষ, এখন শুধু একটি সুবর্ণ সুযোগের অপেক্ষা। যখন তারা ভাল করে বুঝতে পারেবে যে, মুসলমানরা তাদের এই কার্যক্রম ঠেকানোর মতো শক্তি হারিয়ে ফেলেছে, তখন তারা এটা করবে বলে অনেকে অনুমান করছেন। বহু ডকুমেন্টারী এর সাক্ষ্য বহন করে যে, আজকের মুসলীম বিশ্বের মাঝে হারাজ (খুনাখুনি ও কোন্দল) লাগিয়ে দেয়ার পিছনে ইহূদীরাই সক্রিয় রয়েছে, যাতে মুসলমানরা দলে দলে বিভক্ত হয়ে পরষ্পরে পরষ্পরের শত্রু হয়ে দূর্বল হয়ে থাকে; কখনো এক হয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। আর এদিকে পাক ভারত বাংলাদেশ সহ আশেপাশের দেশগুলোতে একই মিশন নিয়ে কাজ করছে ভারতের হিন্দু রাজনীতিক ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থা ‘’। এদিক থেকে গাজওয়াতুল হিন্দ ও দাজ্জালের ইহূদী লষ্করদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ বাঁধার প্লাটফর্ম তৈরী হতে চলেছে।

 

সার কথা:

এই হাদিসে ‘আখেরী জামানা’র মুমিন নর-নারীদের স্বপ্নের দিকে ইশারা করা হয়েছে। আর আমরা যখন বহু আগেই ‘আখেরী জামানা’য় প্রবেশ করে ফেলেছি, তখন এ জামানার কিছু মুমিনের স্বপ্ন -যা অন্ত

হাদিসে বর্ণিত আলামতগুলির পাশাপাশি উপরোক্ত পয়েন্টগুলো কি ইশারা করেনা যে, ইমাম মাহদী, দাজ্জাল এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর আগমন বার্তা এসে আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে? الله اعلم بالصواب

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *