Uncategorized

একদম ছোটদের (الأصَاغِرُ) থেকে ইলমে দ্বীন শিক্ষা কেয়ামতের আলামত

Spread the love
image_pdfimage_print

একদম ছোটদের (الأصَاغِرُ) থেকে ইলমে দ্বীন শিক্ষা কেয়ামতের আলামত

ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. তাঁর কিতাব ‘আল-যুহদ’-এ উত্তম সনদে হযরত আবু উমাইয়্যাহ আল-যামহী রা.-এর  সূত্রে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন-

إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ ثَلاثًا : إِحْدَاهُنَّ أَنْ يُلْتَمَسَ الْعِلْمُ عِنْدَ الأصَاغِرِ- أخرجه ابن المبارك في ” الزهد ” ٦١ , و عنه أبو عمرو الداني في ” السنن الواردة في الفتن “٢/٦٢ رقم ٤٣٨, و اللالكائي في ” شرح أصول السنة ” ١/٢٣٠ كواكب ٥٧٦, قال الألباني في “السلسلة الصحيحة” ٢/٣١٦: قلت اسناده جيد, والطبراني في الكبير ٢٢/٣٦١، ابن عبد البر في جامع بيان العلم وفضله: ٢/٢٤٩ , الهيثمي في المجمع ١/١٣٥,

‘কেয়ামতের লক্ষনসমূহের মধ্যে তিনটি লক্ষন আছে, যার একটি হল- (দ্বীনের) ইলম’কে একদম ছোটদের কাছে তলব করা হবে’। [আল-যুহদ, ইবনুল মুবারকহাদিস ৬১; ‘আস-সুন্নাহ, ইমাম দানী-২/৬২, হাদিস ৪৩৮; শারহু উসূলীস সুন্নাহ, আলকানী-১/২৩০, কাওয়াকিব ৫৭৬; আল-মু’জামুল কাবির, ত্বাবরানী-২২/৩৬১; জামেঊ বায়ানিল ইলম, ইবনে আব্দল বার-২/২৪৯; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ১/১৩৫]

এখানে الأَصَاغِرُ (একদম ছোট) বলতে বুঝানো হয়েছে তাদেরকে যারা দ্বীনের ইলমী ময়দানে বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ নয় বরং শিশু ; যাদের ইলমী বিষয়ে মুখ খোলা সাজে না, বরং একদম অনধিকারচর্চার পর্যায়ে পড়ে। এখানে বেশি বা কম বয়স মুখ্য বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হল ইলমী পান্ডিত্ব ও গভীরতা থাকা-নাথাকা। যদি বয়সে কম হয়েও কেউ বয়ষ্কদের চাইতে ইলমী ময়দানে বেশি পান্ডিত্ব ও গভীরতার অধিকারী হয়, তাহলে সে এর মধ্যে গণ্য নয়।

ইমাম ইবনে আব্দুল বার রহ. উপরোক্ত হাদিসটি সনদ সহ বর্ণনা করার পর লিখেছেন- . قَالَ نُعَيْمٌ : قِيلَ لابْنِ الْمُبَارَكِ : مَنِ الأَصَاغِرُ ؟ قَالَ : الَّذِينَ يَقُولُونَ بِرَأْيِهِمْ ، فَأَمَّا صَغِيرٌ يَرْوِي عَنْ كَبِيرٍ فَلَيْسَ بِصَغِيرٍ . وَذَكَرَ أَبُو عُبَيْدٍ فِي تَأْوِيلِ هَذَا الْخَبَرِ ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُ كَانَ يَذْهَبُ بِالأَصَاغِرِ إِلَى أَهْلِ الْبِدَعِ وَلا يَذْهَبُ إِلَى السِّنِّ ، – নুয়াইম রহ. বলেছেন যে, ইবনে মোবারক রহ.-কে জিজ্ঞেস করা হলالأَصَاغِرُ (একদম ছোট) কারা? তিনি বললেন- الَّذِينَ يَقُولُونَ بِرَأْيِهِمْ ، فَأَمَّا صَغِيرٌ يَرْوِي عَنْ كَبِيرٍ فَلَيْسَ بِصَغِيرٍ যারা (শরীয়তের ইলমে বিশেষজ্ঞ না হওয়া সত্ত্বেও শরীয়তের ব্যাপারে) নিজেদের মত/রায় পেশ করে কথা বলে। তবে যে সকল ছোটরা (নিজেরা কোনো দেওয়ানী না করে বরং শরীয়তের ইলমে অভিজ্ঞ আলেম যাঁরা সেই) বড়দের কাছ থেকে (কোনো বিষয়ে শরয়ী সিদ্ধান্ত কী -তা জেনে নিয়ে অন্যকে ) মতামতটি বলে দেয় সে (হাদিসে উল্লেখিত) ছোট’র মধ্যে গণ্য নয়  ইমাম আবু  উবাইদ রহ. এব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা এনেছেন। ইবনে মুবারক রহ. থেকে الأَصَاغِرُ (একদম ছোট) সম্পর্কে এই ব্যাখ্যাও বলা হয়েছে যে, তারা হল أَهْلِ الْبِدَعِ (বিদআত-এর ধারক-বাহক), আর এটা কোনো বয়সের সাথে সম্পৃক্ত নয়, (বরং বয়ষ্ক, যুবক, বালক যে কোনো বয়সের হতে পারে)। [জামেঊ বায়ানিল ইলম, ইবনে আব্দল বার-২/২৪৯]

الأَصَاغِرُ (একদম ছোট)-এর মধ্যে যারা অেন্তর্ভূক্ত হতে পারে তাদের নমুনা নিম্নরূপ-

(ক) জাহেল (মুর্খ)– শুধুমাত্র মস্তিষ্কের যুক্তি দিয়ে শরীয়তের বিভিন্ন বিষয়ে মত দেয়, আর বলে যে -‘আমার মতে (!) অমুক ব্যাখ্যা বা মতটি সঠিক!! অমুক অমুক আলেমের মতটি ভুল!!’

(খ) কিছু ইলম আছে– এর উপর ভিত্তি করেইে সে ভেবে আছে যে সে ‘জানে’, আর এর সাথে কিছুটা মস্তিষ্কের যুক্তি দিয়ে শরীয়তের বিভিন্ন বিষয়ে মত দেয়, আর বলে যে -‘আমার মতে (!) অমুক ব্যাখ্যা বা মতটি সঠিক!! অমুক অমুক আলেমের মতটি ভুল!!’

(গ) ফাসেক আলেম– ইলমের প্রসস্থতা আছে কিন্তু বাছিরাত/গভীরতা নেই। নেকির সাথে সাথে স্বভাবে ফিসক ও গোনাহ’র মাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমানে থাকায় অন্তকরণ ইলমী গাম্ভির্যতা ও নূর থেকে মাহরুম হয়ে আছে, কিন্তু তার ধারনা সে আলেম এবং যে কোনো ইলমী বিষয়ে মুখ খোলার অধিকার তার আছে। ফলে বলে যে -‘আমার মতে (!) অমুক ব্যাখ্যা বা মতটি সঠিক!! অমুক অমুক আলেমের মতটি ভুল!!’ এদের থেকে বিদআত ও পথভ্রষ্ঠতা ছড়ায় বেশি। 

(ঘ) মুনাফেক আলেম: শাসকদের দরবারী আলেম (!), যারা শরীয়তের হিফাজত না করে উল্টো শাসকদের মনতুষ্টির জন্য শরীয়তের অপব্যাখ্যা করে শাসকদের শরীয়ত-বিরোধী মতবাদ ও কু’কর্মগুলোর তোষামেদি করে এবং এর বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে যত সামান্য কিছু সম্মান ও সম্পদ লাভ করে থাকে। এরা দুনিয়ার বিনিময়ে আখেরাতকে পরিত্যাগ করে। 

উপরোক্ত এই শ্রেণীগুলি বাস্তবে আলেম নয়, এরা হল বিদআত ও গোমরাহীর একেকটা দোকানদার। যারাই এদের থেকে ইলম গ্রহন করবে, তারাও বিদআত ও পথভ্রষ্ঠতার আরো অতল গহবরে তলিয়ে যাবে।

 

 

الله اعلم بالصواب و أخر دعوانا عن الحمد لله رب العالمين و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته و استغفر الله و أتوب إليه

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *