বিবাহ রেজিস্ট্রেশন : ইসলামী শরীয়ত বনাম আইয়ূব খানের পাশকৃত আইন

Spread the love
image_pdfimage_print

বিবাহ রেজিস্ট্রেশন : ইসলামী শরীয়তে স্বাভাবিক বিয়ে বনাম আইয়ূব খানের পাশকৃত আইন

[লেখক: শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মাদ তাক্বী উসমানী দা:বা:]

 

বিবাহ রেজিস্ট্রেশন (নথিভুক্তকরন)

এ দফা মোতাবেক বিয়ের রেজিষ্ট্রেশনকে (১)অপরিহার্য বলে ঘোষনা দেয়া হয়েছে। ‘‘ইউনিয়ন-কাউন্সিল’’ বিয়ের রেজিস্ট্রারার (নথিভুক্তকারক) নিয়োগ করবে এবং সেই রেজিস্ট্রারার-ই বিয়ে পড়িয়ে দিবে। যদি অন্য কোনো ব্যক্তি বিয়ে পড়ায়, তবুও রেজিস্ট্রারর’দেরকে সে খবর দান করা এবং বিয়েটিকে তাদের কাছে রেজিষ্টর্ড (নথিভুক্ত) করে নেয়া অপরিহার্য। এমনকি যদি সংশ্লিষ্ট বিয়েটিকে রেজিষ্টার্ড করে নেয় না হয়, তাহলে সেটা হবে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার ভিত্তিতে ৩ মাসের জেল, অথবা ১ হাজার রুপী অর্থদন্ড, কিংবা উভয় প্রকার শাস্তিও দেয়া যেতে পারে।

ইসলামী শরীয়তে বিয়ে বনাম আইয়ূব খানের বিবাহ রেজিস্ট্রেশন আইন ৪ে

এ দফা সম্পর্কে কথা হল, এর উদ্দেশ্য সম্ভবত: ওই সমস্ত ফেতনা-ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলাগুলোকে দূর করা, যা রেজিস্ট্রেশন না করা বিয়ে গুলোর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। বলা বাহুল্য, এই উদ্দেশ্যের উপকারীতা ও কল্যানকে কেউই অস্বীকার করতে পারে না।

কিন্তু দফা’টি যে আঙ্গিকে আমাদের সামনে এসেছে, তাতে যে সমস্ত বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করা হবে না তার বিধানটি সংক্ষিপ্ত। এমতাবস্থায় প্রশ্ন দাঁড়ায়, এধরনের (রেজিস্ট্রেশন বিহীন) বিয়ে’গুলোকে গ্রহন করে নেয়া হবে কি-না? এক্ষেত্রে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন না করার উপর শাস্তির যে বিধান দেয়া হয়েছে, তা থেকে এ কথাই প্রতিভাত হয় যে, সরকারের দৃষ্টিতে এ ধরনের বিয়েগুলোকেও গ্রহন করে নেয়া হবে। 

ব্যপার যদি এ-ই হয়, আর আল্লাহ যেন তা-ই করেন- তাহলে অত্র দফাটিকে আমরা শরীয়ত পরিপন্থী বলতে পারি না। তবে এতটুকু অবশ্যই আরেজ করবো যে, এর জন্য নির্ধারনকৃত শাস্তিটি মুনাসেব (যথার্থ) নয়। এক্ষেত্রে এই শাস্তিই অনেক যথেষ্ট যে, রেজিষ্ট্রেশনবিহীন বিয়েগুলোকে আদালতে প্রমাণ করাটাকে কঠিনতর বানিয়ে দেয়া হোক। এতে করে লোকজন নিজেদের অসুবিধা ও প্রয়োজন সমূহের উপর দৃষ্টি দিয়ে নিজেরাই রেজিষ্ট্রেশন করাকে জরুরী মরে করবে।

এ দফা সম্পর্কে আমাদের নিবেদন শুধু এতটুকুই। আশা করি, এর উপর মহানুভবতার সাথে চিন্তাভাবনা করে দেখা হবে।

 

 


টিকা: বিবাহ রেজিস্ট্রেশন

((টিকা-১)) : মুসলীম নর-নারী ভাই বোনদেরকে সচেতন করে দেয়ার সুবাদে আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়া হচ্ছে যে, ইসলামের ‘বিয়ে ও তালাক’ বিধানটি একটি শরয়ী ইবাদত। তাই একজন মুসলমান পুরুষ বা নারীর বিয়ে সম্পাদিত হওয়া বা নাহওয়াটা সম্পূর্ণরূপে নির্ভর শুধুমাত্র এবং কেবলমাত্র কুরআন-সুন্নাহ’র নির্দের্শিত পন্থায়ই তা যদি সম্পাদিত হয় -তবেই কুরআন-সুন্নাহ’ পরিপন্থি অন্য কোনো মানবরচিত বিধান দ্বারা কোনো মুসলমানের বিয়ে সম্পাদিত হওয়া বা নাহওয়া বিন্দুমাত্র নির্ভর করে না। সুতরাং, কোনো সরকার যদি এমন এক রাষ্ট্রিয় বিধান কার্যকর করে দেয় যে, “শুধুমাত্র সরকারী রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সম্পাদিত ‘বিয়ে’ ও ‘তালাক/ডিভোর্স’ ই গ্রহনযোগ্য হবে, রেজিষ্ট্রেশন-বিহীন কোনো ‘বিয়ে বা তালাক’ কার্যকর হবে না, তাবুও সেই সরকারী আইনটি ইসলামী শরীয়তসম্মত বিয়ে বা তালাক আইনের মুকাবেলায় কোনোই ধর্তব্য হবে না। বিধায়, এমতাবস্থায় ইসলামী শরীয়তসম্মত পন্থায় কারো বিয়ের আক্বদ সম্পাদিত হয়ে গেলে পর কেউ নিছক সরকারী বিবাহ-রেজিস্ট্রেশন-আইন দেখিয়ে বলতে পারবে না যে -“আমার বিয়ে হয়নি, কারণ সরকারী আইন মতে আমি বিাবহিত নই”। একই ভাবে, ইসলামী শরীয়তসম্মত পন্থায় কারো তালাক/ডিভোর্স সম্পাদিত হয়ে গেলে পর কেউ নিছক সরকারী বিবাহ রেজিস্ট্রেশন আইন দেখিয়ে বলতে পারবে না যে -“আমার তালাক/ডিভোর্স হয়নি, কারণ সরকারী আইন মতে আমি  এখনও বিবাহিতা”। [ফাতাওয়ায়ে উসমানী, মুফতী তক্বী উসমানী- ২য় খন্ড/ ৩১৬ পৃষ্ঠা] কারণ, যে কোনো মুসলমান নর-নারীর বিয়ে বা তালাক শরয়ী মানদন্ডে উত্তির্ণ হয়ে গেলে, তা যথারীতি সম্পাদিত হয়ে যাবে। বিয়ে বা তালাকের রেজিষ্ট্রেশনটা হল নিছক এই কথার একটি সার্টিফিকেট যে- ‘অমুক বিবাহিত’ বা ‘‘অমূক তালাকপ্রাপ্ত’’। কোনো ‘সরকার’ বা ‘সরকারী আইন বিভাগ’ যদি ‘মদ’ জেনা-ব্যাভিচার‘ বৈধ হওয়ার সার্টিফিকেট দেয়, তাহলেই কি ‘হারাম” কাজ হালাল’ হয়ে যাবে?!!! – (অনুবাদক)

 

 


মুফতী মুহাম্মাদ তাক্বী উসমানী দা:বা: লিখিত ‘মুসলমি পারিবারিক আইন’ বিষয়ক আলোচনা পড়তে নিম্নে ক্লিক করুন।

# ইসলামী শরীয়ত বনাম আইয়ূব খানের মুসলিম পারিবারিক আইন