পবিত্র কুরআনে জিহাদের আয়াত সমূহ ও তার বাংলা অনুবাদ

আল্লাহ তাআলার কিতাব পবিত্র কুরআনে জিহাদের আয়াত সমূহ ও তার বাংলা অনুবাদ 

 

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَليٰ مُحَمَّدٍ النبي الأمي عَدَدَ خَلْقِك وَ رِضَا نَفْسِك وَزِنَةَ عَرْشِك وَ مِدَادَ كَلِمَاتِك، صَلِّ عَليه صَلاَةً كَامِلَةً دَائِمَةً كَمَا يَنْبَغِي أَنْ يُصَلَّى عَلَيهِ وَ سَلِّمْ تَسلِيمَاً بِقَدرِ عَظَمَةِ ذَاتِكَ فِى كُلِّ وَقتٍ وَ حِين، صلاة تكون لك رضاء و له جزاء، صلاة لا غاية لها ولا منتهى ولا انقضاء باقية ببقائك الى يوم الدين ، و اعطه الوسيلة و الفضيلة و المقام المحمود الذي وعدته، و اجزه عنا ما هو اهله، و على اله وأصحابه و أزواجه و ذريته و أهل بيته و سلم تسليما مثل ذلك، اَللّٰهُمَّ اجمعني معه في الفردوس و جنة المأوى، اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَليٰ مُحَمَّدٍ صَلوٰةً تُنَجِّيْنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ الْأَهْوَالِ وَاْلآفَاتِ وَتَقْضِيْ لَنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ الْحَاجَاتِ وَتُطَهِّرُنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ السَّيِّاٰتِ وَتَرْفَعُنَا بِهَا عِنْدَكَ اَعْليٰ الدَّرَجَاتِ وَتُبَلِّغُنَا بِهَا اَقْصىٰ الْغَايَاتِ مِنْ جَمِيْعِ الْخَيْرَاتِ فِي الْحَيَاتِ وَبَعْدَ الْمَمَاتِ- اِنَّكَ عَليٰ كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٍ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ

 

[উল্লেখ্য, এখানে উল্লেখিত আয়াত সমূহ ও অনুবাদ’কে কোনো বিজ্ঞ মুহাক্কেক আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে আমার অযোগ্যতার কারণে এখানে কোনো উল্লেখযোগ্য ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধন করে নেয়ার আগেই মানব সমাজে ছড়িয়ে না যায়। এগুলো পড়ুন ইলম অর্জনের জন্য এবং যোগ্য আলেম থেকে এর সহিহ ব্যাখ্যা বুঝিয়ে নিন। আর কোনো যোগ্য চোখে উল্লেখযোগ্য ভুল ধরা পড়লে তা আমাকে অবগত করুন।]

 
আল্লাহ তাআলা  এরশাদ করেন-
 
أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا ۚ وَإِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ – الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِم بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَّا أَن يَقُولُوا رَبُّنَا اللَّهُ ۗ وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا ۗ وَلَيَنصُرَنَّ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ – الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ ۗ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ  
(৩৯)(যাদের বিরুদ্ধে) ক্বিতাল (যুদ্ধ) করা হচ্ছে, তাদেরকে (আল্লাহ’র পক্ষ থেকে ক্বিতাল/যুদ্ধ চালানোর) অনুমতি দেয়া হল। তা এজন্য যে, তারা  (কাফেরদের দ্বারা) নির্যাতিত হচ্ছে। আর নিশ্চই আল্লাহ (তাআলা) তাদেরকে সাহায্য করতে পূর্ণ ক্ষমতাবান। (৪০) যাদেরকে নাহক্ব (অন্যায়) ভাবে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বেড় করে দেয়া হয়েছে, (তাদের দোষ ছিল এই যে,) তারা শুধু বলতো – ‘আল্লাহ আমাদের রব (প্রভু); (কোনো মুর্তিও নয়, কোনো মানুষও নয়)। আর আল্লাহ যদি তাদের কতককে কতকের মাধ্যমে প্রতিহত (করার ব্যবস্থা) না করতেন, (তাহলে) তারা অবশ্যই বিধ্বস্ত করে দিতো উপাসনালয়গুলোকে, গীর্জা, ইহুদীদের উপাসনালয়গুলোকে এবং মসজিদগুলোকে -যেগুলোর মধ্যে অধিক পরিমাণে আল্লাহ’র নাম স্মরণ করা হয়। আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে সাহায্য করবে, যারা তাঁকে (তাঁর দ্বীন কায়েমের কাজে) সাহায্য করবে। (৪১) (তারা হল আমার সেই সকল মুমিন বান্দা) যারা (এমন গুণের অধিকারী যে,) যদি তাদেরকে জমিনে শাসন-কর্তৃত্ব (খিলাফত) দেয়া হয়, তাহলে তারা নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, মা’রুফ (সৎ বিষয়)-এর নির্দেশ দেয় এবং মুনকার (নাজায়েয ও হারাম বিষয়) থেকে নিষেধ করে। আর সকল বিষয়ের পরিণতি আল্লাহ’র কাছে’। [সূরা হজ্জ ৩৯-৪১]
 

  كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰ أَن تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

‘(হে মুসলমানগণ) তোমাদের উপরে ক্বিতাল’কে বিধিবদ্ধ (ফরয) করে দেয়া হল। অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়/কষ্টকর ঠেঁকছে। এমনও হতে পারে যে, তোমরা কোনো কিছুকে অপছন্দ করছো, আর (বাস্তবে) সেটাই তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক। আবার এমনও হতে পারে যে, তোমরা কোনো কিছুকে পছন্দ করছো, আর (বাস্তবে) সেটাই তোমাদের জন্য অমঙ্গলজনক। আর আল্লাহ (সব কিছুর পরিণতি সম্পর্কে খুব ভালকরে) জানেন, আর তোমরা জানো না’। [সূরা বাকারাহ ২১৬]
 

 وَلَوْلَا دَفْعُ اللهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَفَسَدَتِ الأَرْضُ

‘আর আল্লাহ যদি তাদের কতককে কতকের মাধ্যমে প্রতিহত (করার ব্যবস্থা) না করতেন, (তাহলে) তারা অবশ্যই (জুলুম অত্যাচার ও অবিচার দ্বারা) পৃথিবীটাকে ফ্যাসাদপূর্ণ বানিয়ে দিতো’। [সূরা বাকারাহ ২৫১]
 

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ ۚ إِن يَكُن مِّنكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ ۚ وَإِن يَكُن مِّنكُم مِّائَةٌ يَغْلِبُوا أَلْفًا مِّنَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَفْقَهُونَ 

“হে নবী (মুহাম্মাদ)! তুমি মুমিনদেরকে (আল্লাহ’র পথে) ক্বিতালের জন্য উৎসাহিত করো। (আল্লাহ’র ওয়াদা হল,) যদি তোমাদের (মুমিনদের) মধ্যে বিশ জন সাবের (সবরকারী/ধৈর্যশীল) থাকে, (তাহলে) তারা (কাফেরদের) দু’শ জনের উপরে গালেব (বিজয়ী/প্রভাবশালী) থাকবে। আর যদি তোমাদের (মুমিনদের) মধ্যে এক’শ জন (সাবের/সবরকারী/ধৈর্যশীল) থাকে, (তাহলে) যারা (আল্লাহ’র সাথে) কুফরী করেছে, তাদের দু’শ জনের উপরে তারা গালেব (বিজয়ী/প্রভাবশালী) থাকবে। কেননা, (এইসকল কাফের লোকগুলি হল) তারা (যারা এমন বস্তুবাদী দুনিয়াদার যে, মুমিনদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের সাহায্যের ওয়াদার হিকমত সম্পর্কে তারা কিছুই) বুঝে উঠতে সক্ষম হয় না”। [সূরা আনফাল ৬৫]
 
 
وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ   
“আর তোমরা (মুসলমানরা) সকলে মিলে যুদ্ধ করো মুশরিকদের সাথে, যেমনি ভাবে তারা সকলে মিলে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে। আর তোমরা জেনে রাখো যে, নিশ্চই আল্লাহ মুত্তাকী (পরহেজগার)দের সাথে রয়েছেন”। [সূরা তাওবা ৩৬]
 
 
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ ۚ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ ۖ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ – يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ مَا قَالُوا وَلَقَدْ قَالُوا كَلِمَةَ الْكُفْرِ وَكَفَرُوا بَعْدَ إِسْلَامِهِمْ وَهَمُّوا بِمَا لَمْ يَنَالُوا ۚ وَمَا نَقَمُوا إِلَّا أَنْ أَغْنَاهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ مِن فَضْلِهِ ۚ فَإِن يَتُوبُوا يَكُ خَيْرًا لَّهُمْ ۖ وَإِن يَتَوَلَّوْا يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ عَذَابًا أَلِيمًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۚ وَمَا لَهُمْ فِي الْأَرْضِ مِن وَلِيٍّ وَ لَا نَصِيرٍ   
(৭৩) হে নবী (মুহাম্মাদ), তুমি জিহাদ করো কাফের ও মুনাফিকদের সাথে এবং তাদের উপরে কঠোর হও। আর তাদের ঠিকানা  হল জাহান্নাম। আর তা কতই না নিকৃষ্টস্থান। (৭৪) তারা আল্লাহ’র নামে শপথ করে বলে (যে,) তারা (অমুক অন্যায় কথা) বলে নি। অথচ তারা অবশ্যই কুফরী কথা বলেছিল, আর তারা কুফরী করেছিল তাদের ইসলাম গ্রহনের পর ! আর তারা (তোমার সাথে এমন কিছু ষঢ়যন্ত্র করার) ইচ্ছে করেছিল যা তারা (বাস্তবে) করতে সমর্থ হয়নি। আর তারা কেবল এজন্য বদলা নিচ্ছে না যে, আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে ও তাঁর রাসুল তাদেরকে অমুকাপেক্ষি হতে দিয়েছেন। সুতরাং, তারা যদি (তাদের মুনাফেকী ও কু-কর্ম থেকে) তওবা করে, (তাহলে সেটা) তাদের জন্যই উত্তম হবে। আর তারা যদি (তওবা থেকে) ফিরে যায়, তাহলে আল্লাহ তাদেরকে কঠিন আযাব দিবেন -দুনিয়ায় এবং আখেরাতে। আর জমিনে(র বুকে) তাদের জন্য না থাকবে (কোনো) ওলী (অভিভাবক/বন্ধু) আর না থাকবে (কোনো) সাহায্যকারী”। [সূরা তাওবা ৭৩, ৭৪]
 
 
لَّيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَىٰ وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ ۚ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِن سَبِيلٍ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ  
“দূর্বল ব্যাক্তিবর্গ, রোগাক্রান্ত ব্যাক্তিবর্গ এবং যারা (জিহাদে) খরচ করার (মতো সম্বল) পায়না, তাদের উপরে (জিহাদে শরিক না হওয়াতে) কোনো দোষ বর্তায় না -যদি তারা কল্যান কামনা করে আল্লাহ’র জন্য ও তাঁর রাসুলের জন্য। (এরকম) এহসানকারীদের/সৎকর্মশীলদের উপরে (কারোর পক্ষ থেকেই অভিযোগ করার) কোনো অবকাশ নেই। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাশীল দয়ালু।”। [সূরা তাওবা ৯১]
 
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ ۚ أَرَضِيتُم بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ ۚ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ – إِلَّا تَنفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْئًا ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ – إِلَّا تَنصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا ۖ فَأَنزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَّمْ تَرَوْهَا وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَىٰ ۗ وَكَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ – انفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ   
(৩৮) ওহে -যারা ইমান এনেছো ! কী হয়েছে তোমাদের, তোমাদেরকে যখন বলা হয় (যে,) তোমরা আল্লাহ’র রাস্তায় বেরিয়ে পড়ো; (তখন) তোমরা (এই ক্ষনস্থায়ী) পৃথিবীর দিকে (যেন পার্থিব সব) বোঝায় নুয়ে পড়ো, (পৃথিবীকে ছাড়তেই চাওনা) ! তোমরা কি (তবে) আখেরাতের পরিবর্তে পার্থিব জীবন নিয়েই খুশি হয়ে গেলে ?! বস্তুত: আখেরাতের প্রশ্নে পার্থিব জীবনের ভোগটা নিতান্তই সামান্য বৈ নয়। (৩৯) (কাজেই) তোমরা যদি (আল্লাহ’র পথে) বের না হও, (তাহলে) তোমাদেরকে কঠিন আযাব দেয়া হবে এবং (দ্বীনের সাহায্যের জন্য) তোমাদের পরিবর্তে অন্য কওমকে আনা হবে, আর তোমরা তাঁর কিছুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আর আল্লাহ সব কিছুর উপরে ক্ষমতাবান। তোমরা যদি তাকে সাহায্য না করো, তাহলে (এর আগেও) আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছেন যখন কাফেররা তাঁকে (মক্কা) থেকে বেড় করে দিয়েছিল। সে ছিল দুজনের একজন; যখন তারা দুজনে গুহার ভিতরে ছিল, যখন সে তার সাথীকে বলেছিল: তুমি ভয় পেও না, নিশ্চই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। পরে আল্লাহ তার উপরে স্বীয় সাকিনাহ (রহমতী প্রশান্তি) নাজিল করলেন এবং তাকে সাহায্য করলেন (এমন) সৈন্যবাহীনি দিয়ে যা তোমরা দেখোনি। আর যারা (আল্লাহ’র সাথে) কুফরী করেছিল, তিনি তাদের কালেমাকে নীচু করে দিলেন। বস্তুত: আল্লাহ’র কালেমাই (যুগে যুগে) সমুন্নত হবে। আর আল্লাহ হলেন মহাপরাক্রমশালী মহাবিজ্ঞ। (৪০) (ওহে -যারা ইমান এনেছো, তোমাদেরকে যখন নবী ও আমীর/খলীফাগণ জিহাদের জন্য তলব করবে, তখন) তোমরা (আল্লাহ’র রাস্তায়) বেরিয়ে পড়ো -হালকা অবস্থায় এবং ভারী অবস্থায় এবং তোমাদের ধ্বনসম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহ’র পথে জিহাদ করো। এটাই তোমাদের জন্য কল্যানের, যদি তোমাদের (কিছুমাত্র) জ্ঞান থেকে থাকে”। [সূরা তাওবা ৩৮-৪১]
 
 وَ إِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُم مُّصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِن بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ ۖ فَلَمَّا جَاءَهُم بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا هَٰذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ (٦) وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُوَ يُدْعَىٰ إِلَى الْإِسْلَامِ ۚ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ (٧) يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ (٨) هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ (٩) يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَىٰ تِجَارَةٍ تُنجِيكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ (١٠) تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ (١١) يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (١٢) وَأُخْرَىٰ تُحِبُّونَهَا ۖ نَصْرٌ مِّنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ ۗ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ (١٣) يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا أَنصَارَ اللَّهِ كَمَا قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ لِلْحَوَارِيِّينَ مَنْ أَنصَارِي إِلَى اللَّهِ ۖ قَالَ الْحَوَارِيُّونَ نَحْنُ أَنصَارُ اللَّهِ ۖ فَآمَنَت طَّائِفَةٌ مِّن بَنِي إِسْرَائِيلَ وَكَفَرَت طَّائِفَةٌ ۖ فَأَيَّدْنَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَىٰ عَدُوِّهِمْ فَأَصْبَحُوا ظَاهِرِينَ
(৬) আর যখন (নবী ও রাসুল) ঈসা ইবনু মারইয়াম (বনী ইসরাঈলের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে) বললো: ‘হে বনী ইসরাঈল! তোমাদের কাছে (ইতিপূর্বে নবী মুসার উপরে নাজিলকৃত) তাওরাতের যে(টুকুন) অংশ (আজও সহিহ সালামত অবস্থায়) রয়েছে, নিশ্চই আমি সে(ই অংশ)টির সত্ত্বায়নকারী হিসেবে তোমাদের কাছে (প্রেরিত) আল্লাহ’র (একজন) রাসুল; সাথে (অন্য আরেকজন) রাসুলের সুসংবাদদাতা হিসেবে(ও প্রেরিত হয়েছি, যিঁনি) আমার পরে আসবেন; তাঁর নাম হবে আহমদ। পরে যখন সেঁ(ই রাসুল আহমদ মক্কায়) তাদের কাছে আল-বাইয়্যেনাহ (সুস্পষ্ট দলিল ও মুজিজা) সহকারে এল, (তখন) তারা বললো: ‘এটা সুস্পষ্ট জাদু (বৈ নয়)’। (৭) আর তার চাইতে বেশি জালেম আর কে হতে পারে, যাকে ইসলামের দিকে আহবান করার পরও সে আল্লাহ’র উপরে মিথ্যা (কথা আরোপ করে)? আর আল্লাহ (তাআলা কোনো) জালেম লোকদেরকে হেদায়েত দেননা।  (৮) তারা (তোমাদের প্রভু) আল্লাহ’র আল-নূর’কে তাদের মুখের-ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিতে চায়। আর আল্লাহ হলেন তার আল-নূর’কে পরিপূর্ণকারী -যদিও (তা) কাফেররা অপছন্দ করুক (না কেনো)। (৯) তিঁনিই (আল্লাহ তাআলা, যিঁনি) তাঁর রাসুলকে আল-হুদা এবং দ্বীনে হক্ব (সত্য দ্বীন ইসলাম) সহকারে পাঠিয়েছেন এজন্য যাতে তা (পৃথিবীর বুকে বিদ্যমান) প্রতিটি দ্বীন (ধর্ম ও মতবাদ/ism)-এর উপরে প্রবল হয়ে যায় -যদিও (তা) মুশরিকরা অপছন্দ করুক (না কেনো)। (১০) ওহে -যারা ইমান এনেছো! আমি কি তোমাদেরকে (এমন একটি) ব্যবসার খবর দিবো, (যা) তোমাদেরকে সুকঠিন আযাব থেকে বাঁচিয়ে দিবে? (১১) (এমনটা করতে চাইলে) তোমরা ইমান আনো আল্লাহ’র প্রতি ও তাঁর রাসুলের প্রতি এবং আল্লাহ’র রাস্তায় তোমরা তোমাদের ধ্বনসম্পদ এবং তোমাদের জীবন দিয়ে জিহাদ করো (কাফের মুশরিকদের বিরুদ্ধে)। (আর) ওটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা জেনে (বুঝে) থাকো। (১২) (আল্লাহ’র জন্য এতটুকু করো, তাহলে) তিঁনি (এর বিনিময়ে) তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দিবেন এবং তোমাদেরকে (বেহেশতের এমন এক হৃদয়গ্রাহী) উদ্যানে প্রবেশ করাবেন, (যার) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় (বিভিন্ন মনমুগ্ধকর) নহর সমূহ এবং (তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন এমন এক) পবিত্র বসবাসস্থল(-এ, যেটা হবে) জান্নাত-ই-আদনের মধ্যে (অবস্থিত)। (আর) ওটাই হল মহা সাফল্য। (১৩) আর (এ দায়িত্ব পালনের পরিপ্রেক্ষিতে তোমাদের জন্য রয়েছে অন্য) আরেকটি (নগদ প্রতিফল) যা তোমরা (নিশ্চই) খুব পছন্দ করবে, (আর সেটা হল, পৃথিবীর বুকে তোমাদের দুশমনের বিপক্ষে তোমরা লাভ করবে) আল্লাহ’র পক্ষ থেকে (বিশেষ) সাহায্য এবং আসন্ন বিজয়; আর (হে নবী), মু’মিনগণকে (এই) সুসংবাদ(টি শুনিয়ে) দিন। (১৪) ওহে -যারা ইমান এনেছো! তোমরা (সকলেই) আল্লাহ’র (দ্বীনের) সাহায্যকারী হয়ে যাও, যেমনি ভাবে ঈসা ইবনু মারইয়াম হাওয়ারীগণকে বলেছিল: ‘(তোমাদের মধ্যে) কে (আছো, যে) আল্লাহ’র (দ্বীনের) দিকে (মানুষকে আহবানের দায়িত্ব আদায়ের ক্ষেত্রে) আমার সাহায্য করবে’? (তখন) হাওয়ারীগণ বলেছিল: ‘আমরা (হবো) আল্লাহ’র (দ্বীনের) সাহায্যকারী’। তখন বনী ইসরাঈলের মধ্যে থেকে কিছু লোক ইমান আনলো, আর কিছু লোক কুফরী করলো। ফলে যারা ইমান এনেছিল, আমরা তাদেরকে তাদের দুশমনদের বিরুদ্ধে সাহায্য করলাম, ফলে তারা (কাফেরদের উপরে) প্রবল হয়ে গেল”। [সূরা আস-সফ ৬-১৪]
 
 لَّا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ ۚ فَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ عَلَى الْقَاعِدِينَ دَرَجَةً ۚ وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَىٰ ۚ وَفَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ أَجْرًا عَظِيمًا – دَرَجَاتٍ مِّنْهُ وَمَغْفِرَةً وَرَحْمَةً ۚ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا 
“মুমিনদের মধ্যে থেকে উপযুক্ত অক্ষমতা ব্যতীত (ঘরে) বসে থাকা ব্যাক্তিরা এবং আল্লাহদর পথে নিজেদের ধ্বনসম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদকারীগণ (মোটেও) সমান নয়। আল্লাহ -(ঘরে) বসে থাকা ব্যাক্তিদের উপরে নিজেদের ধ্বনসম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদকারীগণকে (আলাদা শ্রেষ্ঠ) মর্যাদাস্তরে ভুষীত করেছেন। আর আল্লাহ (মুমিনদের) প্রত্যেকের (জন্যেই তাদের আমল অনুপাতে) কল্যানের ওয়াদা করেছেন। তবে আল্লাহ -(ঘরে) বসে থাকা ব্যাক্তিদের উপরে জিহাদকারীগণকে বিরাট পুরুষ্কারে ভুষীত করবেন। তাঁর পক্ষ থেকে (জিহাদকারীগণের জন্য) রয়েছে (বিশেষ) মর্যাদা, ক্ষমা ও রহমত। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাশীল ও দয়ালু”   । [সূরা নিসা ৯৫, ৯৬]