কেয়ামতের আলামত ও লক্ষন সমূহ – ৮ – মহানবী (সা.) এর ভবিষ্যতবাণী

Spread the love
image_pdfimage_print

কেয়ামতের আলামত ও লক্ষন সমূহ – ৮ – মহানবী ﷺ -এর ভবিষ্যতবাণী

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته

 

আমরা ইতিপূর্বে কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে (এখানে ক্লিক করুন) কিছু হাদিস ও আছার পেশ করেছি। এখানেও কিছু উল্রেখ করা হল। [উল্লেখ্য, এখানে উল্লেখিত হাদিসসমূহ কোনো বিজ্ঞ মুহাদ্দেস আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এগুলো শুধু উল্লেখ করছি, যাতে এই রেওয়ায়েতসমূহে বর্ণিত কোনো ঘটনা ঘটতে দেখলে তা চিনে নিতে পারেন এবং রেওয়াতের হক্ব আদায় করতে পারেন।

# যায়নাব বিনতে জাহাশ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-  خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فَزِعًا مُحْمَرًّا وَجْهُهُ يَقُولُ ‏‏ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ فُتِحَ الْيَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مِثْلُ هَذِهِ ‏ ‏.‏ وَحَلَّقَ بِإِصْبَعِهِ الإِبْهَامِ وَالَّتِي تَلِيهَا ‏.‏ قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ إِذَا كَثُرَ الْخَبَثُ . أخرجه البخاري، كتاب أحاديث الأنبياء، باب قصة يأجوج ومأجوج : ٤/١٣٨ رقم ٣٣٤٦ ; و مسلم, كتاب الفتن وأشراط الساعة, باب اقتراب الفتن وفتح ردم يأجوج ومأجوج: رقم ٢٨٨٠; و الترمذي , كتاب الفتن عن رسول الله صلى الله عليه وسلم, باب ما جاء في خروج يأجوج ومأجوج: رقم ٢١٨٧ ; و الطبراني في المعجم الكبير: ١٥/٢٣; و الإمام احمد في المسند: ٦/٤٢٨; الحميدي في المسند: ١/٣١٥ رقم ٣١٠  – ‘একদিন রাসুলুল্লাহ ﷺ (উম্মতের চিন্তায়) ভীত-সন্ত্রস্ত লাল মুখ নিয়ে বেড় হয়ে এসে এরশাদ করলেন: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লহ ! আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক মন্দ (ফিতনা তাদের দিকে) ধেয়ে আসছে। আজ ইয়াজুজ মাজুজ এই পরিমান উন্মুক্ত করে ফেলেছে। (একথা বলে বোঝানোর জন্য) তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি ও শাহাদাত আঙ্গুলি দিয়ে গোলাকার রৃত্ত বানালেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের মাঝে নেককাররা থাকা সত্ত্বেও কি আমরা (আরবরা) ধ্বংস হবো? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যখন (তোমাদের মুসলমানদের মধ্যে) খবিস (মুনকার/মন্দ বিষয়াদি) ব্যাপক ভাবে হতে থাকবে’। [সহিহ বুখারী– ৪/১৩৮ হাদিস ৩৩৪৬; সহিহ মুসলীম– ৪/২২০৭ হাদিস ২৮৮০; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২১৮৭; আল-মুজামুল কাবির, ত্বাবরাণী- ১৫/২৩; মুসনাদে হুমাইদী- ১/৩১৫ হাদিস ৩১০; মুসনাদে আহমদ- ৬/৪২৮]

# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدْ اقْتَرَبَ ، فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا ، يَبِيعُ قَوْمٌ دِينَهُمْ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا قَلِيلٍ , الْمُتَمَسِّكُ يَوْمَئِذٍ بِدِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ ” ، أَوْ قَالَ : عَلَى الشَّوْكِ  . رواه الإمام أحمد في المسند, مُسْنَدُ الْعَشَرَةِ الْمُبَشَّرِينَ بِالْجَنَّةِ, بَاقِي مُسْنَد المُكْثِرِينَ مِنَ الصَّحَابَةِ : رقم ٩٠٤٩, و قال حمزة احمد الزين: ٩/٩٥ اسناده حسن – আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এমন এক (ঘন অন্ধকারময়) মন্দ ফিতনা ধেয়ে আসছে, (যার একেকটা) যেন রাতের অন্ধকারের ফালি/খন্ড। (সে সময়) লোকের সকাল হবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধা হবে কাফের অবস্থায়। (তখন) মানুষ দুনিয়ার সামান্য কোনো গরজে তাদের দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে। সে সময় দ্বীনকে আঁকড়ে-ধারনকারী ব্যাক্তি হবে জ্বলন্ত কয়লাকে মুষ্টিবদ্ধকারী অথবা বলেছেন শল্যধারনকারী ব্যাক্তির মতো’। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস৯/৯৫ হাদিস ৯০৪৯]

# হযরত সওবান রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- يُوشِكُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ الْأُمَمُ مِنْ كُلِّ أُفُقٍ كَمَا تَدَاعَى الْأَكَلَةُ عَلَى قَصْعَتِهَا ” , قَالَ : قُلْنَا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَمِنْ قِلَّةٍ بِنَا يَوْمَئِذٍ ؟ قَالَ : ” أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ ، وَلَكِنْ تَكُونُونَ غُثَاءً كَغُثَاءِ السَّيْلِ يَنْتَزِعُ الْمَهَابَةَ مِنْ قُلُوبِ عَدُوِّكُمْ ، وَيَجْعَلُ فِي قُلُوبِكُمْ الْوَهْنَ ” , قَالَ : قُلْنَا : وَمَا الْوَهْنُ ؟ قَالَ : ” حُبُّ الْحَيَاةِ ، وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ . أخرجه أحمد في مسنده بإسناد جيّد: ٥/٢٧٨, رقم , و أبو داود في سننه رقم ٤٢٩٧ , أبو نعيم في حلية الأولياء ١/١٨٢, البيهقي في دلائل النبوة ٦/٥٣٤, الهيثمي في مجمع الزوائد ٧/٢٨٧ – ‘অচিরেই প্রত্যেক প্রান্তের জাতিসমূহ তোমাদের (মুসলমানদের) বিরুদ্ধে (অবস্থান নেয়ার জন্য) একে অপরকে ডাক দিবে, যেভাবে তোমরা খাওয়ার মাদুরের উপর বিদ্যমান খাবারের দিকে একে অপরকে ডেকে থাকো। হযরত সওবান বলেন: আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! সেদিন আমরা (মুসলমানরা) কি সংখ্যায় কম হবো? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: সেদিন তোমরা সংখ্যায় অনেক হবে, তবে তোমরা হবে ভাসমান খড়কুটোর মতো। তোমাদের দুশমনের অন্তর থেকে (তোমাদের প্রতি) গুরুত্ব উঠে যাবে। আর তোমাদের অন্তরগুলোর ভিতরে ওয়াহন জন্মে যাবে। হযরত সওবান বলেন: আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ‘ওয়াহন কি জিনিস’? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: ‘(আখেরাতের বিপরীতে পার্থীব) জীবনকে ভালবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা’। [মুসনাদে আহমাদ- ৫/২৭৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৯৭; হিলইয়া, আবু নুআইম-১/১৮২; দালায়েলুন নাবুয়াত, বাইহাকী- ৬/৫৩৪; মাজমাউয যাওয়ায়িদ, হাইছামী- ৭/২৮৭] 

জাতিসংঘ রাষ্ট্রসংঘ ইউনাইটেড নেশনস আখেরী জামানা ভবিষ্যৎবাণীফায়দা: বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে উপরোক্ত হাদিসটিতে বর্তমান জামানার ‘জাতিসংঘ’ (UN / United Nations) কিংবা ‘ন্যাটো’ (NATO /North Atlantic Treaty Organization)-এর মতো ‘বহু দেশীয় আন্তর্জাতিক জোট’ প্রতিষ্ঠান গুলির দিকে ইশারা করা হয়েছে, যাদের উপরে উপরে দাবী হবে পৃথিবীতে মানব-কল্যান ও শান্তি প্রতিষ্ঠা, কিন্তু তলে তলে মুসলমানদের তাহজিব-তামুদ্দুন সহ তাদের ঐক্য ও এক-শরীরী চেতনাকে তছনছ করে দেয়ার মাধ্যমে তাদের অস্তিত্বকে হুমকী তলে ফেলে দেয়া। এরা মুসলমানদেরকে গেলে খাওয়ার কোনো ষঢ়যন্ত্র-সুযোগকে হাতছাড়া করতে চাইবে না, প্রয়োজনে সম্মিলিত ভাবে বিরুদ্ধে লাগবে। কারণ, তারা ভাল করেই জানে যে, ইসলামই একমাত্র ধর্ম, যা নিছক ব্যাক্তি-জীবন কেন্দ্রিক কোনো সন্নাসী ধর্ম নয়, বরং সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতিও এ ধর্মের একটি অতপ্রত অপরিহার্য অঙ্গ। এজন্য, অন্যান্য ধর্মগুলো নিয়ে তাদের এই টেনশন নেই যে, তাদের স্বার্থবাদী রাজনীতির সামনে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরা হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাদের টেনশন হল, ইসলাম ধর্ম ও তার সচেতন অনুসারীদেরকে নিয়ে। সুতরাং, দ্বীন-ইসলাম ও তার অনুসারী দেরকে টুকরো টুকরো করে দেয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্বার্থবাদী জাতি একে অপরকে ডাক দিবে, যেভাবে খানার আসরে আত্বীয়-আহবাব দেরকে ডাকা হয়ে থাকে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীতে বৈশ্বিক শান্তি রক্ষার নামে সর্বপ্রথম ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘লীগ অব নেশন্স’ (League of Nations/সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ) নামক সংস্থাটি। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৫ ইং-এর মধ্যেই ৫৮টি দেশ এই সংস্থাটির সদস্য হয়েছিল। এ সংস্থার অধীনে তখন কোন আলাদা সৈন্যবাহিনী ছিল না, বরং এর সদস্য-দেশ গুলোর মধ্যে বৃহৎ-শক্তিধর-দেশগুলোই নিজেদের খবরদারীর সুবিধা ও স্বার্থ রক্ষার্থে বিভিন্ন কৌশলে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহন, সংশোধন ও সংস্কার, অন্য দেশের ওপর অর্থনৈতিক শাস্তি/চাপ আরোপ বা প্রয়োজনবোধে শক্তি প্রয়োগ করতো। ইতালির তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান বেনিতো মুসোলিনি বলেছিলেন: “চড়ুই যখন চিৎকার-চেঁচামেচি করে তখন লীগ-অব-নেশন্স সরব হয়, আর ঈগল আহত হলে চুপ করে বসে থাকে”। লীগ-অব-নেশনসের হাক্বিক্বত উপলব্ধি করে পরে একে একে জার্মানি, জাপান, ইতালি, স্পেন সহ আরো বেশ কয়েকটি দেশ সংস্থাটি থেকে সরে পড়ে। সংস্থাটি মাত্র ২৭ বছর টিকে ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পূণরায় আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ও সংঘাত প্রতিরোধের নামে ১৯৪৫ ইং সালে ‘লীগ-অব-নেশন্স’ -এরই আপডেটেড ভার্শন হিসেবে ‘জাতিসংঘ’ (UN / United Nations) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৯ সালের আগে পর্যন্ত লন্ডন ও নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে জাতিসংঘ বা রাষ্ট্রসঙ্ঘের কার্যালয়ের অবস্থান ছিল। বর্তমানে জাতিসংঘের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে অবস্থিত। ২০১৬ ইং সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মোট সদস্য দেশের সংখ্যা ১৯৩ টি। এর প্রধান অঙ্গ-সংস্থা গুলো হলো: সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, সচিবালয়, ট্রাস্টিশীপ কাউন্সিল এবং আন্তর্জাতিক আদালত। এছাড়াও রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ইত্যাদি। যে জাতিসংঘ ‘গণতন্ত্র গণতন্ত্র করে মুখে ফেনা তোলে’, খোদ তাদের এই প্রতিষ্ঠানের ভিতরেই দুই নম্বরীর প্রথম প্রমাণ হল, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী-সদস্য হল ৫টি দেশ (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও চীন) এবং কোনো মতের বিরুদ্ধে ভেটো প্রদানের ক্ষমতা শুধু এদেরই হাতে। বাকিরা মদন।

ন্যাটো’ (NATO)-এর পূর্ণ অর্থ হল ‘উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট’ (North Atlantic Treaty Organization), যা ১৯৪৯ ইং সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এর জোটভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা প্রদানের উদ্দেশ্যে। আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ে অবস্থিত উত্তর আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা এবং (তুরস্ক সহ) ইউরোপের অধিকাংশ দেশ মিলে বর্তমান সদস্য-দেশের সংখ্যা ২৯। এর সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থিত। ন্যাটোর সম্মিলিত সামরিক বাহিনীর খরচ পৃথিবীর সকল দেশের সামরিক খরচের প্রায় ৭০ ভাগ এবং এর মোট সামরিক সংখ্যা প্রায় ৭৪ লক্ষ ২০ হাজার। ন্যাটোর প্রথম মহাসচিব লর্ড ইসমে ১৯৪৯ সালে বলেছিল- ‘এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য হল রাশিয়ানদের দূরে রাখা, আমেরিকানদের কাছে আনা এবং জার্মানদের দাবিয়ে রাখা’।

এই দুই প্রতিষ্ঠানের মোড়লদের পেশকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং কথাবার্তা সবই মিঠা মিঠা, কিন্তু তলে তলে উদ্দেশ্য হল- “পৃথিবীতে থাকতে হলে জায়োনিষ্ট ইহূদী-খৃষ্টানদের চাহিদার অনুগত হয়ে থাকতে হবে, নয়-তো দুনিয়া থেকে বিদায় নাও অথবা মারধর খেয়ে হাত-পা ভাঙ্গা অবস্থায় প্যারালাইজড হয়ে চুপটি মেড়ে থাকো থাকো; কোনো রকম উচ্চবাচ্চ করো না”। যখনই কোনো দেশের লিডার/পাতি লিডার বা কোনো গোষ্ঠি (চাই মুসলীম হোক বা অমুসলীম) এদের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, এরা হয় তাদেরকে দুনিয়া থেকে একেবারে বিদায় করার ব্যবস্থা করেছে, নয়-তো তাদের ক্ষমতা ও একতাকে বিভিন্ন ষঢ়যন্ত্রমূলক কৌশলে অকেযো/দুর্বল করে দিয়েছে। ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন মহল জানেন যে, এসব ষঢ়যন্ত্র করার ক্ষেত্রে এরা ‘কাটা দিয়ে কাটা তোলা’, ‘আমার শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু’ ইত্যাদি নীতিগুলো মেনে উদ্দেশ্য সাধনে বেশ সফলতা অর্জন করেছে। সৌদি আরবের কিং ফয়সাল, পাকিস্তানের ভুট্টো ও পরে জেনারেল জিয়াউল হক্ব, ইরাকের সাদ্দাম হোসেন, লিবিয়ার মুআম্মার গাদ্দাফী প্রমুখকে এই জায়োনিষ্টরাই দুনিয়া থেকে বিদায় করার প্লান-প্রগ্রাম করে এই দুই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করেছে। আজ যে ইরাক, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, লিবিয়া, লেবানন, সুদান, মিশর, ইয়ামেন, কেনিয়া, সোমালিয়া প্রভৃতি দেশগুলোতে যত হত্যাযজ্ঞ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখতে পাচ্ছেন, তা এই দুই প্রতিষ্ঠানের মোড়ল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ষঢ়যন্ত্রে সৃষ্টি। এরাই আই.এস.আই.এস বা  আই.এস. আই.এল অথবা রিবেল নামের সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোকে ইসলামের নামে তৈরী করে, তাদের ফান্ড ও ট্রেনিং দিয়ে মুখোশ পড়িয়ে ওইসব দেশে ছেড়ে দেয়, পরে এরা গিয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে গোলাগুলি ও বোমাবাজী করে মানুষ হত্যা করে, নারী ধর্ষন করে, আল্লাহু-আকবার বলে গলা কাটে। এরাই বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন ছেলে মেয়েদের ব্রেইন-ওয়াশ করে দলে যুক্ত করায়। পরে বিভিন্ন অমানবিক ও কুৎসিৎ অপরাধ করে তার ভিডিও বানিয়ে জনসম্মুখে ছেড়ে দেয়। এদেরই টাকায় চালিত বা ঘুষ খাওয়া বিশ্বের দালাল মিডিয়াগুলো এসব নাটক ভাল করে জানা সত্ত্বেও মুসলীম সমাজকে কলঙ্কিত করার জন্য এসব কুৎসিৎ অপরাধগুলোকে মিডিয়ায় তুলে ধরে বিশ্বের জনমানুষকে বুঝায় যে – ‘ইসলাম মানুষকে এসব শিক্ষা দেয়’ বা ‘ইসলামেই এসব সন্ত্রাসী তৈরীর উপকরণ রয়েছে’ বা ‘মুসলমানরা সন্ত্রাসী’। অথচ উম্মাহ’র মধ্যে যারা সন্ত্রাসের পথ বেঁছে নিয়েছে, তারা গোটা বিশ্বের মুসলীম সমাজের ১%ও হবে না, বাদবাকি ৯৯% মুসলমান এসব কাজকে ঘৃনা করে এবং অমানবিক ও অনৈসলামীক মনে করে। কিন্তু ওসব দালাল মিডিয়া ৯৯% -এর কথা মিডিয়ায় তুলে ধরে না। الله اعلم بالصواب

# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- سيَأتي علَى النَّاسِ سنواتٌ خدَّاعاتُ يصدَّقُ فيها الكاذِبُ ويُكَذَّبُ فيها الصَّادِقُ ويُؤتَمنُ فيها الخائنُ ويُخوَّنُ فيها الأمينُ وينطِقُ فيها الرُّوَيْبضةُ قيلَ وما الرُّوَيْبضةُ قالَ الرَّجلُ التَّافِهُ في أمرِ العامَّةِ . رواه ابن ماجه رقم ٤٠٤٢, الحاكم في المستدرك ٤/٤٦٥, المعجم الأوسط للطبراني  ٣٢٥٨, مسند أحمد ٢/٢٩١ , الطحاوى في “مشكل الآثار : ١/٤٠٥, والبزار ٢٧٤٠ , و الطبراني في “معجمه الكبير”١٢٥/٦٨/١٨ , وفي مسند الشاميين  ٤٨,  , وأبو يعلى ٣٧١٥ – ‘অতি শিঘ্রই মানুষের উপর এমন সব প্রতারনাপূর্ণ বছর সমূহের আগমন ঘটবে, যখন (পৃথিবীর মানুষের সামনে আসল) মিথ্যুককে সত্যবাদি আর (প্রকৃত) সত্যবাদিকে মিথ্যুক গণ্য করানো হবে, এমনিভাবে (আসল) খেয়ানতকারীকে আমানতদার আর (প্রকৃত) আমানতদারকে খেয়ানতকারী গণ্য করানো হবে। (ফলে আসল প্রতারক ও খেয়ানতকাররা সমাজে মান্যবর হিসেবে পরিচিতি পাবে, আর প্রকৃত আমানতদার ও সত্যপন্থিরা লাঞ্চনা ও জিল্লতির বোঝা নিয়ে সমাজে চলবে)। আর সে জামানায় রুওয়াইবাজা ‘কে কথা বলতে দেয়া হবে। জিজ্ঞেস করা হল: রুওয়াইবাজাহ কি? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন- الرَّجلُ التَّافِهُ في أمرِ العامَّةِ – সর্বসাধারণ মানুষের বিষয়-আসয়ে (কথা বলার) একদম অযোগ্য-অপদার্থ ব্যাক্তি। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪০৪২; মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৪৬৫; আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরানী- ৩২৫৮; মুসনাদে আহমাদ- ২/২৯১; শারহু মুশকিলিল আছার, ত্বাহাবী- ১/৪০৫; মুসনাদে বাযযার, হাদিস ২৭৪০; আল-মু’জামুল কাবির, ত্বাবরানী-১৮/৬৮/১২৫; মুসনাদে শামেয়ীন, ত্বাবরানী ৪৮; মুসনাদে আবু ইয়া’লা ৩৮১৫; মুসনাদে আহমদ- ২/৩৩৮]

ফায়দা: অন্য আরো বেশ কিছু হাদিস থেকে বোঝা যায়, উক্ত প্রতারনাপূর্ণ বছরগুলো ও তাতে রুওয়াইবাজাহ’দের দেখা মিলবে শেষ জামানায়; চরম-প্রতারক ও ধোকাবাজ কানা-দাজ্জাল বেড় হওয়ার বেশ কিছু বছর আগে। যেমন: হযরত আওফ বিন মালেক আশযায়ী রা.-এর বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন-  إِنَّ أَمَامَ الدَّجَّالِ سِنِينَ خَوَادِعَ يَكْثُرُ فِيهَا الْمَطَرُ ، وَيَقِلُّ فِيهَا النَّبْتُ ، وَيُصَدَّقُ فِيهَا الْكَاذِبُ ، وَيُكَذَّبُ فِيهَا الصَّادِقُ ، وَيُؤْتَمَنُ فِيهَا الْخَائِنُ ، وَيُخَوَّنُ فِيهَا الأَمِينُ ، وَيَنْطِقُ فِيهَا الرُّوَيْبِضَةُ ” , قِيلَ وَمَا الرُّوَيْبِضَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : ” مَنْ لا يُؤْبَهُ لَهُ ” . وَبِهِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ ، عَنْ أَنَسٍ ، مِثْلَهُ , غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ : ” قِيلَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَمَا الرُّوَيْبِضَةُ ؟ قَالَ : الْفُوَيْسِقُ يَتَكَلَّمُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ . أخرجه الطحاوى في “مشكل الآثار : ١/٤٠٥, والبزار ٢٧٤٠ , و الطبراني في “معجمه الكبير”١٢٥/٦٨/١٨ , وفي مسند الشاميين ٤٨ , و الروياني ٥٨٨ -‘নিশ্চই (শেষ জামানায়) দাজ্জালের (আগমনের) আগে কিছু প্রতারনাপূর্ণ বছর এমন হবে, যখন তাতে অনেক বৃষ্টিপাত হবে, কিন্তু তাতে শস্য-ফলন হবে কম। তখনকার  মিথ্যুককে সত্যবাদি বলে গণ্য করানো হবে এবং সত্যবাদিকে গণ্য করানো হবে মিথ্যুক রূপে। এমনিভাবে তখনকার খেয়ানতকারীকে আমানতদার হিসেবে গণ্য করানো হবে, আর আমানতদারকে গণ্য করানো হবে খেয়ানতকারী রূপে। সেসময় রুওয়াইবাজাহ’কে কথা বলতে দেয়া হবে। জিজ্ঞেস করা হল: রুওয়াইবাজাহ কি – ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন- مَنْ لا يُؤْبَهُ لَهُ -‘‘এমন ব্যাক্তি যার (বাস্তবে আল্লাহ’র দৃষ্টিতে) মূল্য নেই, (যে বাস্তবে কথা বলারও উপযুক্তই নয়)’আর হযরত আনাস রা.-এর বর্ণনায় আছে: জিজ্ঞেস করা হল: রুওয়াইবাজাহ কি – ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন: الْفُوَيْسِقُ يَتَكَلَّمُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ – ফাসেক (পাপাবিষ্ঠ ও মনুষ্যত্বে পচনধরা সব) ব্যাক্তিরা, যারা সর্বসাধারণ মানুষের বিষয়-আসয়ে কথা বলবে। [শারহু মুশকিলিল আছার, ইমাম ত্বাহাবী-১/১৩৪ হাদিস ৪৪৯; মুসনাদে আহমদ- ২/২২০; মুসনাদে বাযযার, হাদিস ২৭৪০; আল-মু’জামুল কাবির, ত্বাবরানী- ১৮/৬৮; মুসনাদে শামেয়ীন, ত্বাবরানী ৪৮; মুসনাদে রুইয়ানী, হাদিস ৫৮৮; মুসনাদে আবু ইয়া’লা ৩৮১৫] 

উপরের হাদিসে শেষ জামানার ওই প্রতারনাপূর্ণ বছরগুলো সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তখন- يصدَّقُ فيها الكاذِبُ ويُكَذَّبُ فيها الصَّادِقُ ويُؤتَمنُ فيها الخائنُ ويُخوَّنُ فيها الأمينُ  ‘(পৃথিবীর মানুষের সামনে আসল) মিথ্যুককে সত্যবাদি আর (প্রকৃত) সত্যবাদিকে মিথ্যুক গণ্য করানো হবে, এমনিভাবে (আসল) খেয়ানতকারীকে আমানতদার আর (প্রকৃত) আমানতদারকে খেয়ানতকারী গণ্য করানো হবে’– এর অর্থ হল, সে সময় গোটা পৃথিবীটাই ধূর্ত প্রতারকদের প্রতারনা এবং ধোকাবাজদের ধোকার গাঢ় কালো অন্ধকার তখনকার মানব সমাজকে এতটাই ঘোলাটে ও কিংকর্তব্যবিমুড় করে রাখবে যে, মানুষের পক্ষে একথা বোঝাই মুশকিল হয়ে যাবে যে, কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা, কোনটা উপকার আর কোনটা প্রতারনা।

আর আমি ইতিপূর্বে বারবার দেখিয়ে এসেছি যে, আমরা অনেক আগেই শেষ জামানায় ঢুকে পড়েছি। ইউরোপ আমেরিকার জায়োনিষ্ট গোষ্ঠিটির খবিস  রাজনীতি সম্পর্কে বিশ্ব গবেষকদের তৈরীকৃত ডকুমেন্টারী ও তথ্য উপাত্ত নিয়ে আমি সুদীর্ঘ প্রায় দশ বছর ধরে যতটুকু খঁতিয়ে দেখেছি, তাতে আমি আমানতদারীর সাথে বলতে পারি, আমার মতে উপরোক্ত হাদিসের ইশারা হল আমাদের এই ধোকা ও প্রতারনাপূর্ণ জামানাটির দিকে। এ জামানায় ধোকাপূর্ণ দাবার গুটি চালা এবং তা দিয়ে কৌশলে পানি ঘোলা করার  দায়িত্বটা বেশ দক্ষভাবে আঞ্জাম দিচ্ছে এজামানার বিশ্ব মোড়ল রাজনীতিকরা। ধোকাবাজী রাজনীতির এই নোংরা ময়দানে জায়োনিষ্ট ইসরাইল, আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ভারতের মতো উচ্চ মার্গের ধূর্ত-ধোকাবাজ কোনো গোষ্ঠি আর আমি কাউকে পাইনি।  

ইসলাম ও মুসলমানদের উপরে ‘সন্ত্রাসের’ কলঙ্ক লেপন করে দুনিয়া থেকে এর শক্তি চিরতরে মিটিয়ে দেয়ার মানসে এই ধূর্ত ধোকাবাজ গোষ্ঠিটে এই শেষ জামানায় যতগুলো অভূতপূর্ব ধূর্ত প্রতারনাময় রাজনীতির চাল চেলেছে, আমার মতে সেগুলোর মধ্যে ‘অস্কার পুরুষ্কার’ পাওয়ার যোগ্য হল ‘২০০১ ইং সালের ১১ই সেপ্টেম্বর তারিখে টুইন টাওয়ার হামলা’র সাজানো নাটকটি। আমি আমানতদারীর সাথে বলছি, এই নাটকটির আগা-গোড়া পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নিয়ে ৯/১১-এ ঘটনাটি ঘটানো পর্যন্ত সকল কাজ আঞ্জাম দিয়েছে বুশ সরকার নিজেই। আমার কথা বিশ্বাস না হলে, আপনি নিজেই এব্যাপারে গবেষনায় নামার জন্য প্রাথমিক ভাবে নিম্নক্ত ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য ও তাদের নির্মিত ডকুমেন্টারীগুলো দিয়ে যাত্রা শুরু করুন।(১) www.citizeninvestigationteam.com (২) pilotsfor911truth.org (৩) www.scientistsfor911truth.com (৪) www.ae911truth.org (৫) 911truth.org (৬) 911scholars.org । এগুলোর তথ্যসমৃদ্ধ আর্টিকেল ও গরেষনাধর্মী ভিডিও ডকুমেন্টারীগুলো ভাল করে দেখলে উপলব্দি করতে পারবেন যে, ৯/১১ তারিখে টুইন টাওয়ারের নিচে ফেলে বুশ সরকার নিজের দেশের প্রায় আড়াই হাজার নাগরিককে হত্যা করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল এই ঘটনাটিকে ‘মুসলীম সন্ত্রাসীদের দ্বারা ঘটিত হামলা’ বলে বিশ্বের কাছে তুলে ধরে প্রথমে আফগানিস্তান, তারপর লিবিয়া, ইরাক, সিরিয়া, ইরান প্রভৃতি দেশে একের পর এক হামলা চালানোর গ্রহনযোগ্য অযুহাত তৈরী করা। ২০১৯ ইং-এ এসে আমরা দেখতে পাচ্ছি ইরান ছাড়া বাদ বাকি ওই দেশগুলোতে আমেরকিা হামলা চালিয়েছে।

একইভাবে ‘৭/৭-এ লন্ডনে বোম ব্লাষ্ট’, ভারতে রেলগাড়িতে বোম্বব্লাষ্ট ও বাবরী মসজীদ কোন্দ্রীক দাঙ্গা, ইরাক ও সিরিয়া কেন্দ্রিক আই.এস.আই.এস (দায়েশ) সৃষ্টি ইত্যাদির মতো গরম টপিকগুলোকে হাতে নিন এবং এক এক করে পর্যাপ্ত রিসার্স করে দেখুন, দেখবেন এর সবগুলোর দাবার চাল চেলে যাচ্ছে জায়োনিষ্ট ইসরাঈল, আমেরিকা, ব্রিটেন, ভারত ইত্যাদি দেশের খবিস রাজনীতিকরা। এর পিছনে উদ্দেশ্য হল ইসলামকে ‘সন্ত্রাসের ধর্ম’ এবং মুসলমানদেরকে ‘সন্ত্রাসী ধর্মাবলম্বী’ হিসেবে বিশ্বের চোখে তুলে ধরা, এই সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে উম্মাহ’র মাঝে অন্তদ্বন্দ্ব ও গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে মুসলমানদের রক্তের উপরেই বাম্পার বিজনেস করে নেয়া এবং এক সময় ইসলাম ও মুসলমানদেরকে দুনিয়া থেকে মিটিয়ে দেয়া। দুঃখের সাথে বলতে হয়, তাদের এসব অপকর্মগুলো তাদের নিজ নিজ ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (যেমন: মোসাদ, সিআইএ, র’), ইনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (পুলিশ, আর্মী ইত্যাদি), প্রশাসনীক কর্মী প্রমুখদের প্রত্যক্ষ ব্যবহার ছাড়া সম্পাদিত হওয়া সম্ভব হয়নি। আর এই প্রোপাগান্ডাগুলোকে মানুষে ঘরে ঘরে ঢুকে তাদের মনমগজে ঢুকিয়ে দেয়ার জন্য সবচেয়ে ফলপ্রশু সহযোগী প্রমাণিত হয়েছে এদের দালাল মিডিয়াগুলো। 

আর এরকম ঘনকালো অন্ধকারময় ফিতনার জামানায় -যখন সত্য থেকে মিথ্যাকে এবং উপকারীতা থেকে ধোকা-প্রতারনাকে আলাদা করা দূষ্কর হয়ে গিয়েছে- তখন এসব ধোকা ও প্রতারনার জ্বলন্ত আগুনে তেল দিতে এসেছে রুওয়াইবাজা’রা। এরা হল মূলতঃ এযুগের ধর্মনিরপেক্ষ বা ধর্মহীন ঘরানার আধুনিক শিক্ষিত পথভ্রষ্ঠ লোকগুলি, যাদেরকে সমাজ বুদ্ধিজীবী কিংবা শুশিল সমাজ বা জ্ঞানীগুণি মহল বলে বিশ্বাস করে অথবা মিডিয়ার জোরে এসব উপাধি গলায় বাঁধিয়ে দেয়া হয়, যাদেরকে বিভিন্ন টক-শো, ইন্টারভিউ-শো, আলোচনা মঞ্চ, বক্তৃতা মঞ্চ, গোল-টেবিল, শালিশ ময়দান বা মিটিং ও জনসভা গুলোত দেখা যায় জাতি ও জনগণকে -সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, সভ্যতা, সংষ্কৃতি ও উন্নয়নের পথ কী হওয়া উচিত- তার জ্ঞান খয়রাত করতে।

আমার মতে, শেষ জামানার এসব খবিস পলিটিশিয়ান, খবিস ইন্টেলিজেন্স  ও ইনফোর্সমেন্ট এজেন্সিজ, খবিস মিডিয়া এবং খবিস রুওয়াইবাজাহ’দের যৌথ তৎপরতা ও সহযোগীতায় শয়তান তার প্রিয়তম চুড়ান্ত ফিতনাবাজ কানা-দাজ্জালের আগমনের আগের স্টেজ ও প্লাটফর্ম তৈরী করছে। দাজ্জাল বেড় হলে এরাই তার সহযোগী হবে। হয়-তো দেখা যাবে, এরা তখন আরো জোরে শোরে ইমাম মাহদী রা. ও তাঁর সহযোগী মর্দে মুমিনগণকে ‘বিশ্ব সন্ত্রাসী গোষ্ঠি’ হিসেবে কলঙ্ক লেপন করে তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপকে বাঁধাগ্রস্থ করতে কোমড় বেঁধে নামবে।  الله اعلم بالصواب

# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يَظْهَرَ الْفُحْشُ وَالشُّحُّ ، وَيُؤْتَمَنَ الْخَائِنُ ، وَيُخَوَّنَ الأَمِينُ ، وَتَظْهَرَ ثِيَابٌ كَأَفْوَاجِ السَّحَرِ ، يَلْبَسُهَا نِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ ، وَيَعْلُو التُّحُوتُ الْوُعُولَ . أَكَذَاكَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ سَمِعْتَهُ مِنْ حِبِّي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟ قَالَ : نَعَمْ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ . قُلْتُ : وَمَا ” التُّحُوتُ الْوُعُولَ ” ؟ قَالَ : فُسُولُ الرِّجَالِ ، وَأَهْلُ الْبُيُوتَاتِ الْغَامِضَةِ ، يُرْفَعُونَ فَوْقَ صَالِحِيهِمْ وَأَهْلِ الْبُيُوتَاتِ الصَّالِحَةِ . أخرجه الطحاوى في شرح مشكل الآثار : ٩/١٩٥ رقم ٣٩٣٣ قال شعيب أرناؤوط في تخريج و تعليق شرح مشكل الآثار : ١٠/٧٩ اسناده حسن ; والطبراني في المعجم الأ وسط : ١/٢٢٨ رقم ٧٤٨ ; قال الهيثمي في مجمع الزوائد : ٧/٣٢٧ : رجاله رجال الصحيح غير محمد بن الحارث بن سفيان وهو ثقة ; اورده الألباني : في سلسلة الأحاديث الصحيحة : رقم ٣٢١١ ; والحديث يشهد له الذي سبقه – ‘কেয়ামতের লক্ষনসমূহের মধ্যে এও রয়েছে যে, (মানুষজনের মধ্যে ব্যাপক ভাবে) ফহ্শ (বাজে বিষয়/জিনিস, অশ্লীলতা) এবং শুহহুন (কৃপনতা) প্রকাশ পাবে। (সে জামানায়) খেয়ানতকারীকে (সমাজের চোখে) আমানতদার বানানো হবে,  আর আমানাতদারকে বানানো হবে খেয়ানতকারী। এমন সব কাপড়-চোপড় প্রকাশ পাবে, (যেগুলো দেখলে মনে হবে) যেন (তা একঝাক) জাদুময়-মন্ত্রমুগ্ধকারীতার ভিড়; এমন নারী তা পরিধান করবে, যারা কাপড় পড়েও উলঙ্গই থাকে। (সমাজের চোখে) ‘আত-তুহুত’কে ‘আল-উঊল’(-এর চাইতে) উচ্চে তুলে ধরা হবে। (আবু হুরায়রাহ রা. বললেন:) হে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ! আপনি কি আমার মাহবুব রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে একথা শোনেন নি ? তিনি বললেন: ‘কা’বার রবের শপথ, হ্যাঁ (আমিও রাসুলুল্লাহ ﷺ কে একথা বলতে শুনেছি)। (রাবী বলেন:) আমি জিজ্ঞেস করলাম: ‘আত-তুহুত’(কে) ‘আল-উঊল’(-এর চাইতে উচ্চে তুলে ধরাটা) কি? তিনি বললেন: فُسُولُ الرِّجَالِ ، وَأَهْلُ الْبُيُوتَاتِ الْغَامِضَةِ ، يُرْفَعُونَ فَوْقَ صَالِحِيهِمْ وَأَهْلِ الْبُيُوتَاتِ الصَّالِحَةِ – ‘(সমাজের) ফুসুল (নির্বোধ-অপদার্থ ফাসেক কিসিমের সব) লোকজন এবং রহস্যময়/গোপনীয় ঘরসমূহের আহাল, যাদেরকে তাদের (সমাজের) সালেহ (নেককার মুমিন লোক)দের ও নেককার ঘরসমূহের আহালদের (চাইতে) উপরে(-র মর্যাদা-স্তরে) তোলা হবে (সম্মান-শ্রদ্ধা করা হবে)’। [শারহু মুশকিলিল আছার, ইমাম ত্বাহাবী- ৯/১৯৫ হাদিস ৩৯৩৩; আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরাণী- ৪/১২১ হাদিস ৭৪৮; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩২৭

ফায়দাআরেক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ ، لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَظْهَرَ الْفُحْشُ وَالْبُخْلُ ، وَيُخَوَّنُ الأَمِينُ وَيُؤْتَمَنُ الْخَائِنُ ، وَيَهْلِكُ الْوُعُولُ وَيَظْهَرُ التُّحُوتُ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَمَا الْوُعُولُ وَمَا التُّحُوتُ ؟ قَالَ : الْوُعُولُ : وُجُوهُ النَّاسِ وَأَشْرَافُهُمْ ، وَالتُّحُوتُ : الَّذِينَ كَانُوا تَحْتَ أَقْدَامِ النَّاسِ لا يُعْلَمُ بِهِمْ . أخرجه الحاكم في مستدركه، كتاب الفتن و الملاحم : ٤/٥٤٧ و قال: رواته كلهم مدنيون ممن لم ينسبوا إلى نوع من الجرح , و قال الذهبي في التلخيصه : سنده مدني ما فيه مجروح ; و البخاري في التاريخ : ١/٩٨، وابن حبان رقم ٦٨٤٤، ، والطبراني في المعجم الأ وسط : ٤/١٢١ ; و أبو نعيم في حلية الأولياء : ٥٨٩٦ ; و ابن أبي الدنيا في العقوبات : ٣٤٣ . اورده الألباني : في سلسلة الأحاديث الصحيحة : رقم ٣٢١١  – ‘ওই সত্ত্বার কসম যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন, কেয়ামত কায়েম হবে না, যাবৎ ফহ্শ (বাজে বিষয়/জিনিস, অশ্লীলতা) এবং বুখলুন (কৃপনতা) প্রকাশ না পায়। (যাবৎ না) আমানাতদারকে (সমাজের চোখে) খেয়ানতকারী বানানো হয় এবং খেয়ানতকারীকে বানানো হয় আমানতদার। আর (যাবৎ না) الوُعُولُ (আল-উঊল)কে হালাক/বরবাদ করা হয় এবং التَّحُوتُ (আত-তুহুত)কে (সমাজে উচ্চে তুলে ধরে) প্রকাশ করা হয়’। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ ! الوُعُولُ (আল-ওয়াউল) এবং التَّحُوتُ (আত-তাহুত) কি’? তিনি বললেন: الوُعُولُ (আল-ওয়াউল) হল (সাধারণ মুমিন) লোকজন এবং তাদের (মধ্যে যারা সমাজে) আশরাফ (ভদ্রলোক বলে পরিচিত, তাদের)দের চেহারা, (যেগুলোর উপরে বিভিন্ন কৌশলে কলঙ্ক লেপন করা হবে, তারপর তাদেরকে সমাজের চোখে খেয়ানতকারী সাজিয়ে তাদের মানসম্মান কিংবা বা জীবনটাকে বরবাদ করে ফেলা হবে)। আর التَّحُوتُ (আত-তাহুত) হল তারা যারা (মূলত: তখনকার সমাজে প্রথম দিকে) লোকজনের পায়ের নিচে থাকবে, যারা (সমাজের উল্লেখযোগ্য লোক হিসেবে) চেনা-পরিচিত থাকবে না, (কিন্তু পরে এক সময় তাদেরকেই সমাজের চোখে উচ্চে তুলে ধরা হবে)’। [মুসতাদরাকে হাকিম– ৪/৫৪৭; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৬৮৪৪; আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরাণী- ৪/১২১; তারিখুল কাবীর, বুখারী- ১/৯৮; হিলইয়াতুল আউলিয়াহ, আবু নুআইম, হাদিস ৫৭৯৬; আল-উকুবাত, ইবনু আবিদ্দুনিয়া- ৩৪৩]

এখানে الْوُعُولُ‘আত-তুহুত বলতে যাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে- وُجُوهُ النَّاسِ وَأَشْرَافُهُمْ – ‘(সাধারণ মুমিন) লোকজন এবং তাদের (মধ্যে যারা সমাজে) আশরাফ (ভদ্রলোক বলে পরিচিত, তাদের)দের চেহারা, (যেগুলোর উপরে বিভিন্ন কৌশলে কলঙ্ক লেপন করা হবে, তারপর তাদেরকে সমাজের চোখে খেয়ানতকারী সাজিয়ে তাদের মানসম্মান কিংবা বা জীবনটাকে বরবাদ করে ফেলা হবে)’ –মর্মে যাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, তাদেরকেই উপরের মূল হাদিসে বলা হয়েছে- صَالِحِيهِمْ وَأَهْلِ الْبُيُوتَاتِ الصَّالِحَةِ – ‘তাদের (সমাজের) সালেহ (নেককার মুমিন লোক)দের ও নেককার ঘরসমূহের আহালগণ’। শেষ জামানার উম্মাহ’র এই সকল মুমিনগণ ৭৩ ফেরকার মধ্যে একমাত্র ‘নাজাতপ্রাপ্ত দল ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র মধ্য থেকে হবে, যাঁরা সে সময় সমাজে সমাজে কোণঠাঁসা ‘সংখ্যা-লঘু’ হয়ে বিদ্যমান থাকবে, যাদের উপরে সমাজের বিভিন্ন স্তরের সংখ্যাগুরু কাফের ও মুনাফেকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাত্রায় মনস্তাত্বিক ও শরীরীক জুলুম, অন্যায়, অবিচার ও অত্যাচার আপতিত হবে।

একই ভাবে এখানে التَّحُوتُ(আত-তাহুত) বলতে الَّذِينَ كَانُوا تَحْتَ أَقْدَامِ النَّاسِ لا يُعْلَمُ بِهِمْ – ‘যারা (মূলত: তখনকার সমাজে প্রথম দিকে) লোকজনের পায়ের নিচে থাকবে, যারা (সমাজের উল্লেখযোগ্য লোক হিসেবে) চেনা-পরিচিত থাকবে না, (কিন্তু পরে এক সময় তাদেরকেই সমাজের চোখে উচ্চে তুলে ধরা হবে)’ -মর্মে যাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, তাদেরকেই উপরের মূল হাদিসে বলা হয়েছে- فُسُولُ الرِّجَالِ ، وَأَهْلُ الْبُيُوتَاتِ الْغَامِضَةِ ، يُرْفَعُونَ فَوْقَ صَالِحِيهِمْ وَأَهْلِ الْبُيُوتَاتِ الصَّالِحَةِ – ‘(সমাজের) ফুসুল (নির্বোধ-অপদার্থ ফাসেক কিসিমের সব) লোকজন এবং রহস্যময়/গোপনীয় ঘরসমূহের আহালরা, যাদেরকে তাদের (সমাজের) সালেহ (নেককার মুমিন লোক)দের ও নেককার ঘরসমূহের বাসিন্দাদের (চাইতে) উপরে(-র মর্যাদা-স্তরে) তোলা হবে (সম্মান-শ্রদ্ধা করা হবে)’। এরা শেষ জামানায় উম্মাহ’র ৭২ ফেরকার মুনাফেক ও ফসেক-ফাজের (তথা ইমান আমলে পঁচন ধরা) লোকজনের মধ্যে থেকে হবে, যারা আল্লাহ তাআলার চোখে নিচ, হীন মানের হবে, কিন্তু সমাজের বেশির ভাগে মানুষের চোখে হবে উচ্চ আসনে সমাসীন। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন- أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ – ‘তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াধারীই আল্লাহ’র কাছে অধিক সম্মানীত’। [সুরা হুযরাত ১৩]

‘রহস্যময়/ গোপনীয় ঘরসমূহ’ বলতে আমার মতে এখানে বিভিন্ন দেশের ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (যেমন: রাশিয়ার ‘কেজিবি’, আমেরিকার ‘সিআইএ’, ইসরাঈলের ‘মোসাদ’, ভারতের ‘র’ ইত্যাদি)র মতো গোপনীয় ষঢ়যন্ত্রকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ উদ্দেশ্য হতে পারে, যারা দ্বীন ইসলাম ও মুসলমােনদের কোমড় ভেঙে দেয়ার জন্য খোদ মুসলমানদের মাঝ থেকেই বিভিন্ন ‘মুনাফেক’দেরকে লিডার/শাসক বানিয়ে দিয়ে পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ে। এই মুনাফেকরাই এখানে ‘রহস্যময়/ গোপনীয় ঘরসমূহের আহাল (সদস্য)’ বলে ইংগীত করা হয়ে থাকতে পারে। এসব এজেন্সিগুলো তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মুসলীম নামধারী মুনাফেক নেতা/শাসকদের সমর্থনে জনমত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যাপকভাবে তাদের মিডিয়াগুলোকে লেলিয়ে দেয়, জনগণের মাঝে অর্থ ঢালে, অস্ত্র যোগান দেয়, ট্রেনিং দেয়ায়, তারপর সুযোগ বুঝে দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের যা সারে-সর্বনাশ করার করতে থাকে।

আমার এ তথ্য বোঝা আপনার পক্ষে সম্ভব হবে তখন, যখন আপনি এসব খুফিয়া/গোপনীয় এজেন্সিগুলোর তৎপরতা জানার জন্য নাক-ডুবানো গবেষনায় নামবেন। আপনাকে এখানে নমুনা স্বরূপ এখানে তৎকালীন কমুইউনিষ্ট রাশিয়ার ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি ‘কেজিবি’র একজন বিখ্যাত রাশিয়ান এজেন্ট ‘ইউরি বেজমেনোভ’ (Yuri Bezmenov)  -এর একটি ইন্টারভিউয়ের লিঙ্ক দিচ্ছি (এখানে ক্লিক করুন) -যাকে তৎকালীন ভারত উপমহাদেশে প্রপাগান্ডা চালানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল- সে তার এই ইন্টারভিউয়ে ছবি সহ দেখিয়েছে যে, তৎকালীন ভারত ও পাকিস্তানের কিছু ব্যাক্তিকে কিভাবে কমিউনিষ্ট রাশিয়ার এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদারী দেয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ভারতের বিখ্যাত মহাত্মা (!) গান্দিও ছিল !!!!!!!!!!!!!!!!!

এরকম বিভিন্ন কায়দায় তারা আমানতদার মুমিনদের মধ্যে যাকে যখন সমাজের চোখে খেয়ানতকারী/মিথ্যাবাদী/গাদ্দার বানানো দরকার তারা তা সুচারু রূপে করে, আবার যে মিথ্যুক/খেয়ানতকারী/গাদ্দার মুনাফেকদের মধ্যে যাকে যখন সমাজের চোখে আমানতদার/বিশ্বস্ত/সত্যবাদী/বিজ্ঞ বানানো দরকার তারা সেটাও সুচারু রূপে করে। এব্যাপারে তাদের বুদ্ধিজীবী, মিডিয়ারা খুবই শুক্তিশালী ভূমিকা পালন করে থাকে।  الله اعلم بالصواب

# হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- كُنَّا عِنْدَ عُمَرَ فَقَالَ أَيُّكُمْ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ الْفِتَنَ فَقَالَ قَوْمٌ نَحْنُ سَمِعْنَاهُ ‏.‏ فَقَالَ لَعَلَّكُمْ تَعْنُونَ فِتْنَةَ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَجَارِهِ قَالُوا أَجَلْ ‏.‏ قَالَ تِلْكَ تُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ وَالصِّيَامُ وَالصَّدَقَةُ وَلَكِنْ أَيُّكُمْ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ الْفِتَنَ الَّتِي تَمُوجُ مَوْجَ الْبَحْرِ قَالَ حُذَيْفَةُ فَأَسْكَتَ الْقَوْمُ فَقُلْتُ أَنَا ‏.‏ قَالَ أَنْتَ لِلَّهِ أَبُوكَ ‏.‏ قَالَ حُذَيْفَةُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ تُعْرَضُ الْفِتَنُ عَلَى الْقُلُوبِ كَالْحَصِيرِ عُودًا عُودًا فَأَىُّ قَلْبٍ أُشْرِبَهَا نُكِتَ فِيهِ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ وَأَىُّ قَلْبٍ أَنْكَرَهَا نُكِتَ فِيهِ نُكْتَةٌ بَيْضَاءُ حَتَّى تَصِيرَ عَلَى قَلْبَيْنِ عَلَى أَبْيَضَ مِثْلِ الصَّفَا فَلاَ تَضُرُّهُ فِتْنَةٌ مَا دَامَتِ السَّمَوَاتُ وَالأَرْضُ وَالآخَرُ أَسْوَدُ مُرْبَادًّا كَالْكُوزِ مُجَخِّيًا لاَ يَعْرِفُ مَعْرُوفًا وَلاَ يُنْكِرُ مُنْكَرًا إِلاَّ مَا أُشْرِبَ مِنْ هَوَاهُ ‏….‏.‏ قَالَ أَبُو خَالِدٍ فَقُلْتُ لِسَعْدٍ يَا أَبَا مَالِكٍ مَا أَسْوَدُ مُرْبَادًّا قَالَ شِدَّةُ الْبَيَاضِ فِي سَوَادٍ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ فَمَا الْكُوزُ مُجَخِّيًا قَالَ مَنْكُوسًا ‏.‏ رواه مسلم , كتاب الإيمان , باب بيان أن الإسلام بدأ غريبا وسيعود غريبا وأنه يأرز بين المسجدين , رقم ١٤٤ ; و احمد في المسند : ٢٢٧٦٨ , ٢٢٩٢٩ ; و أبو عوانة في المسنده : ١٤٣; و البزار في البحر الزخار : ٢٨٤٤ ; و أبو نعيم الأصبهاني في حلية الأولياء : ٩٣٤ و ٦١٥٢ ; و البغوي في شرح السنة: ٤٢١٨ – ‘আমরা (একদিন) ওমর রা.-এর কাছে (উপস্থিত) ছিলাম। এমন সময় তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ‘তোমাদের (মধ্যে এখানে) কে রাসুলুল্লাহ ﷺকে (বিশেষ) ফিতনাহ সমূহের ব্যাপারে আলোচনা করতে শুনেছে’? একদল বললেন: ‘আমরা তাঁকে (বলতে) শুনেছি’। তিনি বললেন: ‘তোমরা হয়তো  -(আমার প্রশ্ন থেকে সেই) ব্যাক্তির (উপরে আপতিত) ফিতনাহ (সম্পর্কিত হাদিসটি)র কথা মনে করেছো, (যা) সে তার পরিবার ও তাঁর প্রতিবেশির মাঝে (জীবন অতিবাহিত কালে আক্রান্ত হবে মর্মে রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে শুনেছো) ! তারা বললেন: ‘জি হ্যাঁ’। তিনি বললেন: ‘(তার) নামায, রোযা এবং (যাকাত) সদকাহই-তো ওসবের কাফফারা করে দিবে। কিন্তু (আমি যেটা জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছি, সেটা হল) তোমাদের কেউ কি রাসুলুল্লাহ ﷺকে (শেষ জামানার ওই বিশেষ) ফিতনাহ সমূহের ব্যাপারে আলোচনা করতে শুনেছে, যা (কালো অন্ধকারময়) সাগরের (উত্তাল) ঢেউয়ের মতো (ভয়ঙ্কর আকৃতি নিয়ে উম্মাহ’র সামনে) উথলে উঠবে’ ? হুযাইফা রা. বলেন: ‘এতে লোকেজন চুপ হয়ে গেলেন। তখন আমি বললাম: ‘আমি (শুনেছি)’। তিনি (আমাকে দেখে) বললেন: ‘তুমি ও তোমার পিতা আল্লাহ’র জন্য উৎসর্গিত হও! (বলো, আমি তোমার মুখ থেকে শুনতে আগ্রহী)’। হুযাইফা রা. বললেন: ‘আমি রাসুলুল্লাহ ﷺকে বলতে শুনেছি: ‘(মানুষ জনের) অন্তগুলোর কাছে চাটাইয়ের (গাঁথুনির) মতো আড়াআড়ি হওয়া ফিতনা সমূহকে প্রদর্শন/পেশ করানো হবে। তখন যে অন্তরই তা আস্বাদন করে নিবে, তার মধ্যে একটি কালো দাগ অঙ্কিত হয়ে যাবে। আর যে অন্তরই তা প্রত্যাক্ষান করবে, তার মধ্যে একটি উজ্জল দাগ অঙ্কিত হয়ে যাবে। (এভাবে সে সময়কার মানুষজন ওই কালো অন্ধকারময় ফিতনার উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে কখনো এদিকে কখনো ওদিকে হাবুডুবু খেতে খেতে) অবশেষে (তাদের দুই পক্ষের) দুই (ধরনের) অন্তকরন হয়ে যাবে। একটি হবে (ওই ফিতনার কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে থাকা) সফেদ পাথরের মতো চকচকে-উজ্জল (অন্তর);  যেটিকে (কোনো) ফিতনাহই (আর) ক্ষতি করতে পারবে না -যাবৎ আসমানসমূহ ও জমিন কায়েম থাকবে। অপর (অন্তর)টি হবে কয়লার মতো প্রকট কালো -যেন উল্টানো কলসী, (যে অন্তরটি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ কর্তৃক প্রদর্শিত কোনো) মা’রুফ (ভাল কিছুকে) না ভাল (বলে) চিনে নিতে পারবে, আর না (কোনো) মুনকার (নাজায়েয কিছুকে) ইনকার/প্রত্যাক্ষান করতে পারবে, (সে) শুধু (সেদিকেই পরিচালিত হবে) যা তার কুপ্রবৃত্তি (তাকে) আস্বাদন করাবে’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১৪৪; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২২৭৬৮, ২২৯২৯; মুসনাদে আবু আউয়ানাহ, হাদিস ১৪৩; মুসনাদে বাযযার, হাদিস ২৮৪৪; হিলইয়াতুল আউলিয়াহ, আবু নুআইম-৯৩৪, ৬১৫২; শারহুস সুন্নাহ, বাগাভী- ৪২১৮]

# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন: تَكُونُ فِتْنَةٌ يَقْتَتِلُونَ عَلَيْهَا عَلَى دَعْوَى جَاهِلِيَّةٍ ، قَتْلَاهَا فِي النَّارِ . رواه الحاكم في مستدركه, كتاب الفتن و الملاحم : ٣/٤٦٥ رقم ١٤٨٨ ، و قال هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ ، وَلَمْ يُخْرِجَاهُ ووافقه الذهبي في تلخيصه – ‘(ওই দিন বেশি দূরে নয়, যখন মানুষের উপরে এমন অন্ধকারময় এক) ফিতনা (আবির্ভূত) হবে যে, উক্ত ফিতনায় জাহেলিয়্যাতের (মুর্খতার) আহবানের উপরে (ভিত্তি করে আমার উম্মাতের এক গোষ্ঠি আরেক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে) যুদ্ধ করবে। ওই (যুদ্ধের) উভয় (পার্শ্বের) খুনীই দোযখে যাবে’। [মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৪৬৫ হাদিস ১৪৮৮]

ফায়দা: এই ভবিষ্যৎবাআমাদের এই শেষ জামানায় পূর্ণ হয়ে গেছে এবং এ ধারা এখনো চলছে। ইমাম মাহদী রা. আসার আগে এধারা খতম হওয়ার কোনো পথ পরিদৃষ্ট হচ্ছে না এবং বিভিন্ন রেওয়ায়েত একত্রিত করলে বোঝা যায় যে, ইমাম মাহদী রা. আগমনের আগে তা খতম হবেও না। কারণ, ‘জাহেলিয়্যাতের (মুর্খতার) ফিতনা’র উপর ভিত্তি কলহ-গন্ডোগোল এবং এর জের ধরে পরে যুদ্ধ-বিগ্রহ বাঁধিয়ে উম্মাহ’ আজ টুকরো টুকরো হয়ে দেশে দেশে বিভক্ত হয়ে গেছে। ইমাম মাহদী রা.-এর আগমনের পর আবারো এই এক-দেহী উম্মাহ হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। আর ওসব ‘মুর্খতা বা জাহেলিয়্যাতের আহবান’ হল এই শেষ জামানায় পথভ্রষ্ঠ সব লিডার/নেতাদের দ্বারা আহবানকৃত মতবাদ-মতাদর্শ গুলো, যেমন: সেকুলারিজস (ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ), ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্র), সোসালিজম (সমাজতন্ত্র), কমিউনিজম, ‘জাতীয়তাবাদ’ ইত্যাদি। এসব পথভ্রষ্ঠ বিশ্বাস ও চেতনা প্রতিষ্ঠার জন্যই তারা পরষ্পরে লড়বে, প্রয়োজনে জীবন দিয়ে দিবে।  হযরত আম্মার বিন ইয়াছির রা.-এর  সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- سَيَكُونُ بَعْدِي أُمَرَاءُ يَقْتَتِلُونَ عَلَى الْمُلْكِ ، يَقْتُلُ بَعْضُهُمْ عَلَيْهِ بَعْضًا ,قال الهيثمي ,رواه أحمد والطبراني وأبو يعلى ، ورجاله رجال الصحيح غير ثروان ، وهو ثقة – ‘আমার পর অতি শিঘ্রই এমনসব শাসকদের (আভির্ভাব) হবে, যারা (দ্বীন ইসলামের মাথা উঁচু করার জন্য নয়, বরং নিছক) দেশের জন্য যুদ্ধ-বিগ্রহ বাঁধাবে; এর জন্যই তারা একে অপরকে হত্যা করবে। [মুসনাদে আহমাদ- ৪/২৬৩; মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১/৯৫; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শাইবা- ৮/৬০৭; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/২৯৩]  

বলা হয়েছে- قَتْلَاهَا فِي النَّارِ – ‘ওই (যুদ্ধের) উভয় (পার্শ্বের) খুনীই দোযখে যাবে’। সহিহ মুসলীমের ২৯০৮ নং রেওয়ায়েতেও একই জাতীয় একটি হাদিস এসেছে, যেখানে রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ – ‘(তাদের মধ্যে) হত্যাকারী ও নিহত (উভয়ই) দোযখে যাবে’। ইমাম কুরতুবী রহ. হাদিসের এই অংশটি সম্পর্কে চমৎকার বলেছেন- بيَّنَ هذا الحديث أن القتال إذا كان على جهل من طلب دنيا ، أو اتباع هوى ، فهو الذي أريد بقوله : القاتل والمقتول في النار “এই হাদিসটি বলছে যে, যখন (কুরআন-সুন্নাহ’য় কোন অবস্থায় কাকে হত্যা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে -সে ব্যাপারে সহিহ ইলম ব্যতীত নিছক বিবেকপ্রসূত) মুর্খতা ও অজ্ঞতার ভিতিতে (কোনো) পার্থিব স্বার্থে বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে কোনো লড়াই বা হত্যাকান্ড ঘটানো হয়, তখন সেটা (হয়ে দাঁড়ায় মানুষ হত্যাকান্ডের পাপ), যার দিকে ইশারা করে বলা হয়েছে- الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ – হত্যাকারী ও নিহত (উভয়ই) দোযখে যাবে’। [ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার- ১৩/৩৪] যেমন: আবু বকরা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- إِذَا تَوَاجَهَ الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَكِلَاهُمَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ قِيلَ فَهَذَا الْقَاتِلُ فَمَا بَالُ الْمَقْتُولِ قَالَ إِنَّهُ أَرَادَ قَتْلَ صَاحِبِهِ . رواه البخاري في الصحيح , كتاب الفتن , باب إذا التقى المسلمان بسيفيهما: ٤/٣١٧ رقم ٧٠٨٣ — ‘যখন (হত্যা করার উদ্দেশ্যে) দুজন মুসলমান তাদের তরবারী নিয়ে পরষ্পরের মুখোমুখী হয়, তখন তাদের দুজনই দোযখের অধিবাসীর অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়। জিজ্ঞেস করা হল: এটা-তো হত্যাকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; নিহত ব্যাক্তির উপর কেনো আরোপিত হল? তিনি বললেন: (কারণ) সেও ওই ব্যাক্তিকে হত্যা করার ইচ্ছায় ছিল’। [সহিহ বুখারী- ৪/৩১৭ হাদিস ৭০৮৩]

ইমাম নববী রহ. বলে- وأما كون القاتل والمقتول من أهل النار فمحمول على من لا تأويل له ، ويكون قتالهما عصبية ونحوها – হত্যাকারী ও নিহত (উভয়ই) দোযখবাসী হবে -এটা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের (হত্যাকান্ডটির স্বপক্ষে শরয়ীসম্মত কোনো সহিহ) ব্যাখ্যা নেই, (বরং তারা কুরআন-সুন্নাহ’য় কোন অবস্থায় কাকে হত্যা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে -সে ব্যাপারে সহিহ ইলম ব্যতীত নিছক তাদের মুর্খতা ও অজ্ঞতার ভিত্তিতে কোনো পার্থিব স্বার্থে বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে কোনো লড়াই বা হত্যাকান্ডে জড়িত হয়)। এমতাবস্থায় তাদের উভয়ের লড়াই বা হত্যাকান্ডটি হবে আসাবিয়াত (এলাকাপ্রীতি, জাতিপ্রীতি, গোত্রপ্রীতি) জাতীয় (পাপ)। [শারহু মুসলীম, নববী- ১৮/১৫]

এক কথায়, আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল -এর মাধ্যমে যে অবস্থায় যার সাথে যে শর্ত সাপেক্ষে জিহাদ/কিতাল করার কিংবা কাউকে হত্যা করার অনুমতি দিয়েছেন, তা বাদে বাদ বাকি সকল প্রকার যুদ্ধ, দাঙ্গা, হত্যাকান্ডের প্রতিটি একেকটা ‘ফিতনা’ কিংবা ফ্যাসাদের অংশ।

মুসলমানরা পরষ্পরে এরকম ফিতনা-ফ্যাদসাদে বহুকাল থেকে আজ জর্জরিত, আরব-অনারব কেউ বাকি নেই। কেউ হত্যাযজ্ঞে জড়িত হচ্ছে মানুষের রক্তের উপর বিজনেস করার জন্য, কেউ দেশ বা জাতিপ্রীতির জন্য, কেউ ইসলাম-বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র কায়েমের জন্য, আর কেউ-বা ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে নিরপরাধ মানুষের গলা কেটে মুজাহিদ সাজার জন্য। এরা তাদের এসব ফিতনা ফ্যাসাদে নিহত হওয়া লোকদেরকে বুক ফুলিয়ে দাবী করে যে, তারা নাকি ‘শহিদ’ !!!!

‘বুক ফুলিয়ে’ কথাটি এজন্য বললাম যে, এরা সবাই তাদের নিজ নিজ অবস্থানের উপর সন্তুষ্ট এবং গৌরবাহ্নিত বোধ করে ধারনা থাকে যে, তারা খুব ভাল কাজ করছে। কিন্তু আসলে শরীয়তের সহিহ ইলম না থাকার কারণে তারা বুঝতে পারে না যে, তারা যে অবস্থায় যার সাথে যেভাবে যুদ্ধ, দাঙ্গা বা খুন-খারাবি’তে লিপ্ত হওয়াকে বৈধ মনে করে বসে আছে, সে অবস্থায় হয়তো ওসব কাজ আল্লাহ’র দৃষ্টিতে হারাম ও নাজায়েয হিসেবে বিবেচিত।

হযরত আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُنَا أَنَّ بَيْنَ يَدَيْ السَّاعَةِ الْهَرْجَ . قِيلَ : وَمَا الْهَرْجُ ؟ قَال : الْكَذِبُ وَالْقَتْلُ . قَالُوا : أَكْثَرَ مِمَّا نَقْتُلُ الْآنَ ؟ قَالَ : إِنَّهُ لَيْسَ بِقَتْلِكُمْ الْكُفَّارَ ، وَلَكِنَّهُ قَتْلُ بَعْضِكُمْ بَعْضًا ، حَتَّى يَقْتُلَ الرَّجُلُ جَارَهُ ، وَيَقْتُلَ أَخَاهُ ، وَيَقْتُلَ عَمَّهُ ، وَيَقْتُلَ ابْنَ عَمِّهِ . قَالُوا : سُبْحَانَ اللَّهِ ! وَمَعَنَا عُقُولُنَا ؟ قالَ : لَا ، إِلَّا أَنَّهُ يَنْزِعُ عُقُولَ أَهْلِ ذَاكَ الزَّمَانِ ، حَتَّى يَحْسَبَ أَحَدُكُمْ أَنَّهُ عَلَى شَيْءٍ وَلَيْسَ عَلَى شَيْءٍ . رواه أحمد في ” المسند: ١٤/٥٣٤ رقم ١٩٥٢٦, إسناده صحيح، رجاله ثقات رجال الشيخين غير أسِيد بن المتشمس، فمن رجال ابن ماجه، وهو ثقة, وصححه المحققون في طبعة مؤسسة الرسالة، وصححه الشيخ الألباني في ” السلسلة الصحيحة: رقم ١٦٨٢ – ‘রাসুলুল্লাহ সা. আমাদেরকে বলেছিলে যে, কেয়ামতের আগে আগে হারজ হবে। জিজ্ঞেস করা হল: হারজ কি? তিনি বললেন: (ব্যাপক হারে) মিথ্যা (কথা ও প্রচারনা) ও হত্যা। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: আজ আমরা (জিহাদে) যেসব (কাফেরদেরকে) হত্যা করি (তারা কি সেই জামানায়) তার চেয়েও বেশি (কাফেরকে জিহাদে হত্যা করবে)? তিনি বললেন: বস্তুত: এটা তোমাদের (শরীয়ত সমর্থিত জিহাদে) কাফেরকে হত্যা করা (-র মতো) হত্যাকান্ড নয়। বরং এটা হল তোমাদের (সেই জামানার মুসলমানদের পরষ্পরের মাঝে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব কলহ গন্ডোগোল বা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে) একে অন্যকে (করা) হত্যাকান্ড। এমনকি (এই ফিতনা’র ক্রমধারায় এমনও হবে যে,) এক ব্যাক্তি তার প্রতিবেশিকে হত্যা করবে, তার ভাইকে হত্যা করবে, তার চাচাকে হত্যা করবে, তার চাচাত ভাইকে হত্যা করবে’। লোকেরা বললো: আল্লাহ পবিত্র!!! ( এমনও ঘটবে)!!! (সে সময় কি) আমাদের (মুসলমানদের) কাছে বিবেক-বোধ (বলতে কিছু) থাকবে না? তিনি বললেন: না (থাকবে না)। সেই জামানায় (বিবেকবোধের সাথে উপর্যুপরি খেয়ানত করার কারণে শাস্তি স্বরূপ) মানুষদের বিবেক-বোধ উঠিয়ে নেয়া হবে। এমন কি (তখন) তোমাদের (মুসলমানদের) কেউ (এমনও) মনে করবে যে, সে (যেন সেইরকম কোনো সঠিক ও গৌরবজনক) কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছে, কিন্তু (বাস্তবে সে আল্লাহ চোখে) কোনো কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) থাকবে না। (শয়তান তাদের পাপগুলোকে তাদের চোখে সুন্দর ও গৌরবজনক বানিয়ে ধোকা দিবে)। [মুসনাদে আহমদ– ১৪/৫৩৪, হাদিস ১৯৫২৬; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস ২০৭৪৪; মুসনাদে আবু ইয়া’লা, হাদিস ৭২৪৭; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৬৭১০] الله اعلم بالصواب

# হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন-  سَيَجِيءُ أَقْوَامٌ فِي آخِرِ الزَّمَنِ وُجُوهُهُمْ وُجُوهُ الآدَمَيِّينَ ، وَقُلُوبُهُمْ قُلُوبُ الشَّيَاطِينِ ، أَمْثَالُ الذِّئَابِ الضَّوَارِي ، لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ شَيْءٌ مِنَ الرَّحْمَةِ ، سَفَّاكُونَ الدِّمَاءَ ، لا يَرْعَوُونَ عَنْ قَبِيحٍ ، إِنْ بَايَعْتَهُمْ وَارَبُوكَ ، وَإِنْ تَوَارَيْتَ عَنْهُمُ اغْتَابُوكَ ، وَإِنْ حَدَّثُوكَ كَذَّبُوكَ ، وَإِنِ ائْتَمَنْتَهُمْ خَانُوكَ ، صَبِيُّهُمْ عَارِمٌ ، وَشَابُّهُمْ شَاطِرٌ ، وَشَيْخُهُمْ لا يَأْمُرُ بِمَعْرُوفٍ وَلا يَنْهَى عَنْ مُنْكَرٍ ، الاعْتِزَازُ بِهِمْ ذُلٌّ ، وَطَلَبُ مَا فِي أَيْدِيهِمْ فَقْرٌ ، الْحَلِيمُ فِيهِمْ غَاوٍ ، وَالآمِرُ فِيهِمْ بِالْمَعْرُوفِ مُتَّهَمٌ ، وَالْمُؤْمِنُ فِيهِمْ مُسْتَضْعَفٌ ، وَالْفَاسِقُ فِيهِمْ مُشَرَّفٌ ، السُّنَّةُ فِيهِمْ بِدْعَةٌ ، وَالْبِدْعَةُ فِيهِمْ سُنَّةٌ ، فَعِنْدَ ذَلِكَ يُسَلِّطُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ شِرَارَهُمْ ، فَيَدْعُو خِيَارُهُمْ فَلا يُسْتَجَابُ لَهُمْ ” . اخرجه الطبراني فى المعجم الصغير:٣/١٠ رقم ٨٧٠ , و المعجم الأوسط: ٦٢٥٩ و المعجم الكبير: ١١٦٩; الخطيب البغدادي فى تاريخ بغداد: ٣/٦٩٨ ; وقال الهيثمي في مجمع الزوائد: ٧/٢٧٥ – رواه الطبراني في الصغير والأوسط وفيه محمد بن معاوية النيسابوري وهو متروك; الأمالي الخميسية للشجري: ٢٠١٤, – ‘আখেরী জামানয় শিঘ্রই এমন গোষ্ঠি সমূহের আবির্ভাব হবে, যাদের চেহারাগুলি-তো হবে মানুষদের চেহারা, কিন্তু তাদের অন্তরগুলি হবে একেকটা শয়তানের অন্তর। (তারা হবে) হিংস্র নেকড়ের মতো। তাদের অন্তরগুলোতে দয়া বলতে কিছু থাকবে না। তারা (নির্দয়ভাবে মানুষের) রক্ত ঝড়াবে। তারা (মানুষের) সমালোচনায় অনুতপ্ত হবে না। তুমি যদি তাদের বশ্যতা স্বীকার করো, তাহলে তারা (সুযোগ বুঝে) তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। তুমি যদি তাদের থেকে (বাঁচার জন্য) গা-ঢাকা দাও, তাহলে তারা (তোমাকে মানুষের সামনে ছোট করার জন্য) তোমার (সমালোচনা, কুৎসা রটনা ও) গীবতে লেগে যাবে। তারা যদি (তাদের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে) তোমার সাথে কথা বলবে, তাহলে তোমাকে তারা চরম-মিথ্যা কথা বলবে। তুমি যদি তাদের কাছে আমানত রাখো, তাহলে তারা তোমার সাথে খেয়ানত করবে। এদের (সময়কার সমাজের) কিশর (বয়সের ছেলে)গুলি হবে কঠোর (ও উগ্র মন-মানষিকতার) এবং এদের (সময়কার সমাজের) তরুন (বয়সের ছেলে)গুলি হবে ধুর্ত। এদের (সময়কার সমাজের) বয়ষ্করা (মানুষকে শরীয়ত নির্দেশিত) সৎ কাজের কথা বলবে না এবং (শরীয়ত-বিরোধী) অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে না। যিল্লত-লাঞ্চনাকে তারা সাধুবাদ জানাবে। …..। তাদের মাঝে (জীবনযাপনকারী) স্থিরচিত্ম/শান্ত-মনমানষিকতার লোকগুলি হবে পথভ্রষ্ঠ-বিপথগামী। তাদের (সমাজের) মধ্যে (সেসময়) একজন (বিখ্যাত ও) পরিচিত সন্দেহভাজন প্রধান থাকবে। তাদের মাঝে (জীবন অতিবাহিতকারী) মুমিনরা হবে নিপীড়িত-নির্যাতিত হওয়া দূর্বল মানুষ। তাদের মধ্যে ফাসেক (পাপী, দূর্বৃত্ব, পঁচনধরা) লোক হবে (সমাজের) সম্মানীত ব্যাক্তি। তাদের মধ্যে (শরীয়ত বিরোধী মন্দ রীতি-নীতি ও কু-আদর্শের এত চর্চা হবে যে, তাদের সমাজে প্রচলিত) নব-উদ্ভাবিত বিষয় হবে (তাদের চেতনাগত) আদর্শ-রীতি, আর (আমার আনীত সুন্নাহ ও) আদর্শ হবে (তাদের চোখে সমাজের বোঝা স্বরূপ এক) নব-উদ্ভাবিত বিষয়। এরকম যখন হবে, তখন আল্লাহ তাদের নিকৃষ্টসব লোকগুলিকে তাদের উপর চাপিয়ে দিবেন (যারা বাজার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কর্ণধার হয়ে বসবে)। তখন তাদের ভাল’রা (এসব থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ তাআলা’র কাছে) দোয়া করবে , কিন্তু তাদের ডাকে সারা দেয়া হবে না’। [আল-মু’জামুস সাগীর, ত্বাবরাণী- ৩/১০, হাদিস ৮৭০ ; তারিখে বাগদাদ, খতীব- ৩/৬৯৮; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/২৭৫]

ফায়দা: আমার মতে, এখানে الآمِرُ فِيهِمْ بِالْمَعْرُوفِ مُتَّهَمٌ – ‘তাদের (সমাজের) মধ্যে (সেসময়) একজন (বিখ্যাত ও) পরিচিত সন্দেহভাজন প্রধান থাকবে’– বলতে সম্ভবতঃ উসামা বিন লাদেন-এর দিকে ইশারা করা হয়েছে। আমার জানা মতে, এই শেষ জামানায় গোটা বিশ্বের কাছে উসামা বিন লাদেন’ই হল এমন একটি সুপরিচিত মুখ, যাকে গোটা পৃথিবী এক নামে ‘আল-কায়দা’র লিডার হিসেবে চেনে। ৯/১১ -এ টুইন টাওয়ারের বিমান হালার নেপথ্যে তাকে প্রধান সন্দেভাজন হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে খোদ সি.আই.এ-দের ওয়েবসাইটে, (যদিও বাস্তবে উসামা বিন লাদেন-এর সাথে ৯/১১-এর কোনোই সম্পর্ক নেই, যেমনটা উপরে প্রদত্ত ৯/১১ সম্পর্কিত ডকুমেন্টারীগুলোতে আপনারা হয়তো দেখেছেন)। আমেরিকার মতো পাওয়ারফুল দেশের খবিস রাজনীতিকদের এ দুনিয়ায় কে বিচার করবে? ওদের ওসব মিথ্যা, ধোকাবাজী, প্রতারনা, বিভিন্ন ধরনের কষ্ট ও খুনের বিচার ইনশাআল্লাহ কেয়ামতের দিন হবে, তবে এই দুনিয়াতে উসামা বিন লাদেন-এর গলায় ‘সন্ত্রাসী দলের প্রধান সন্দেভাজন সন্ত্রাসী লিডার’-এর পরিচিতিটা নিয়েই হয়-তো তাকে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়েছে বা বা হবে। (কারণ, অনেকে মনে করেন যে, আমেরিকা কর্তৃক পাকিস্তানে উসামা বিন লাদেন’কে মাড়ার ঘটনাটাও ছিল সাজানো নাটক, সে আগেই মাড়া গেছে, নাকি এখনো আমেরিকার করায়ত্বে জীবিতই আছে -সে ব্যাপারে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানা নেই। কার সংবাদ বিশ্বাস করবেন!!! )। الله اعلم بالصواب

# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- مَنَعَتِ الْعِرَاقُ دِرْهَمَهَا وَقَفِيزَهَا، وَمَنَعَتِ الشَّأْمُ مُدْيَهَا وَدِينَارَهَا، وَمَنَعَتْ مِصْرُ إِرْدَبَّهَا وَدِينَارَهَا، وَعُدْتُمْ مِنْ حَيْثُ بَدَأْتُمْ، وَعُدْتُمْ مِنْ حَيْثُ بَدَأْتُمْ، وَعُدْتُمْ مِنْ حَيْثُ بَدَأْتُمْ . ورواه مسلم, كتاب الفتن وأشراط الساعة:٤/٢٢١٩ رقم ٢٨٩٦; سنن أبي داود, كتاب الخراج والإمارة والفيء, باب في إيقاف أرض السواد وأرض العنوة: رقم ٣٠٣٥; مسند أحمد, باقي مسند المكثرين , مسند أبي هريرة رضي الله عنه:٢/٢٦٢ رقم ٧٥١١ – ‘(এমন এক জামানা আসবে যখন) ইরাক তার দেরহাম (রৌপ্য মূদ্রা/অর্থকড়ি) ও তার কাফীয নিষিদ্ধ করে দিবে। শাম তার মুদ ও তার দিনার (স্বর্ণমূদ্রা) নিষিদ্ধ করে দিবে। মিশর তার ইরদাব ও তার দিনার (স্বর্ণমূদ্রা) নিষিদ্ধ করে দিবে। আর তোমরা (মুসলমানরা তখন অসহায়ত্ব ও মুসিবতের সেই অবস্থায়) ফিরে যাবে যে অবস্থা থেকে (একসময় ইসলামের) সূচনা করেছিলে। আর তোমরা (মুসলমানরা তখন অসহায়ত্ব ও মুসিবতের সেই অবস্থায়) ফিরে যাবে যে অবস্থা থেকে (একসময় ইসলামের) সূচনা করেছিলে। আর তোমরা (মুসলমানরা তখন অসহায়ত্ব ও মুসিবতের সেই অবস্থায়) ফিরে যাবে যে অবস্থা থেকে (একসময় ইসলামের) সূচনা করেছিলে।’। [সহিহ মুসলীম- ২/২২১৯, হাদিস ২৮৯৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩০৩৫; মুসনাদে আহমদ- ২/২৬২ হাদিস ৭৫১১]

ফায়দা: দিনার (স্বর্ণমূদ্রা) ও দেরহাম (রৌপ্যমূদ্রা) হল রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জামানায় ব্যবহৃত ইসলামী শরীয়তের মৌলিক অর্থনৈতিক মূদ্রা (currency)। আর ‘কাফীয’,  ‘মূদ’ ও ‘ইরদাব’ হল রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জামানায় যথাক্রমে ইরাক, শাম ও মিশর-এ ব্যবহৃত খাদ্য-দ্রব্যের একেকটা পরিমাপক।

এসব জিনিসের উদাহরণ দিয়ে মূলত: ভবিষ্যতে কোনো এক জামানার ইরাক, শাম ও মিশর-এ সেসময়ে ব্যবহৃত মূদ্রা (currency)খাদ্য-দ্রব্যের উপর কোনো কোনো মাতব্বর মহলের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করে মুসলমানদেরকে অর্থ ও খাদ্য সঙ্কটে জর্জরিত ও কোনঠাঁসা করে দেয়া হবে মর্মে ইঙ্গিত করা হয়েছে। বিশ্বের বহু গবেষক আলেমের মতে, এখানে আমাদের এই শেষ জামানায় ইউ.এন কর্তৃক সাদ্দাম হোসেনের ইরাকী সরকারের উপরে ১৯৯০ ইং সালে আরোপিত স্যাংশনের দিকে ইশারা করা হয়েছে, এর সাথে ইরাকের যুদ্ধ মিলে ২০১২ ইং সাল পর্যন্ত মোট ইরাকীর মৃত্যু সংখ্যা দাড়িয়েছে প্রায় ৩২ লক্ষ, যার মধ্যে শিশুই রয়েছে প্রায় ৭.৫ লক্ষ 

হাদিসটিতে বলা হয়েছে যে, এই ঘটনাগুলো ঘটানো হবে তখন, যখন- عُدْتُمْ مِنْ حَيْثُ بَدَأْتُمْ – ‘তোমরা (মুসলমানরা তখন অসহায়ত্ব ও মুসিবতের সেই অবস্থায়) ফিরে যাবে যে অবস্থা থেকে (একসময় ইসলামের) সূচনা করেছিলে’। এটা মূলতঃ এই হাদিসেরই প্রতিদ্ধনী- بَدَأَ الإِسْلامُ غَرِيبًا ، وَسَيَعُودُ كَمَا بَدَأَ غَرِيبًا ، فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ‘ইসলাম শুরু হয়েছিল অপরিচিত অবস্থায়। অচিরেই তা (আবারো) পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে, যেমনি ভাবে তা অপরিচিত অবস্থায় শুরু হয়েছিল। সুতরাং, সুসংবাদ (রইলো সেই সময়কার আহলে-ইসলাম তথা দ্বীনের ধারক বাহক) অপরিচিতদের জন্য’। [সহিহ মুসলীম- ১/১৩১ হাদিস ১৪৫]  الله اعلم بالصواب

# হযরত যাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- يُوشِكُ أَهْلُ الْعِرَاقِ أَنْ لاَ يُجْبَى إِلَيْهِمْ قَفِيزٌ وَلاَ دِرْهَمٌ ‏.‏ قُلْنَا مِنْ أَيْنَ ذَاكَ قَالَ مِنْ قِبَلِ الْعَجَمِ يَمْنَعُونَ ذَاكَ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ يُوشِكَ أَهْلُ الشَّأْمِ أَنْ لاَ يُجْبَى إِلَيْهِمْ دِينَارٌ وَلاَ مُدْىٌ ‏.‏ قُلْنَا مِنْ أَيْنَ ذَاكَ قَالَ مِنْ قِبَلِ الرُّومِ ‏.‏ ثُمَّ سَكَتَ هُنَيَّةً ثُمَّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ يَكُونُ فِي آخِرِ أُمَّتِي خَلِيفَةٌ يَحْثِي الْمَالَ حَثْيًا لاَ يَعُدُّهُ عَدَدًا ‏”‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ لأَبِي نَضْرَةَ وَأَبِي الْعَلاَءِ أَتَرَيَانِ أَنَّهُ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَقَالاَ لاَ . ورواه مسلم, كتاب الفتن وأشراط الساعة, باب لا تقوم الساعة حتى يمر الرجل بقبر الرجل، فيتمنى أن يكون مكان الميت من البلاء: حديثرقم ٢٩١٣ – ‘অচিরেই ইরাকীদের (অবস্থা এমন হবে) যে, তাদেরকে না কাফীয দেয়া হবে, আর না দেরহাম (রৌপ্যমূদ্রা)’। আমরা বললাম: কাদের দিক থেকে এটা ঘটবে? বললেন: অনারবদের দিক থেকে, তারা এটা নিষিদ্ধ করবে। এরপর বললেন: ‘অচিরেই শামবাসীদের (অবস্থা এমন হবে) যে, তাদেরকে না দিনার (স্বর্ণমূদ্রা) দেয়া হবে, আর না মুদ। আমরা বললাম: কাদের দিক থেকে এটা ঘটবে? বললেন: রোম’দের দিক থেকে। এরপর তিনি কিছুক্ষন চুপ থেকে বললেন: রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন: আমার উম্মতের শেষাংশে (এমন এক) খলিফা হবেন, যিনি (মানুষজনকে) মুঠ ভরে ধ্বনসম্পদ দিবেন, কোনো গণনা করবেন না। (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি আবু নাদরাহ এবং আবু আলা’কে জিজ্ঞেস করলাম: তিনি কি ওমর বিন আব্দুল আযিয? তারা উভয়ে বললেন: না’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯১৩]