কেয়ামতের আলামত ও লক্ষন সমূহ – ৯ – মহানবী ﷺ -এর ভবিষ্যতবাণী

Spread the love
image_pdfimage_print

কেয়ামতের আলামত ও লক্ষন সমূহ – ৯ – মহানবী ﷺ -এর ভবিষ্যতবাণী

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته

 

আমরা ইতিপূর্বে কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে (এখানে ক্লিক করুন) কিছু হাদিস ও আছার পেশ করেছি। এখানেও কিছু উল্রেখ করা হল। [উল্লেখ্য, এখানে উল্লেখিত হাদিসসমূহ কোনো বিজ্ঞ মুহাদ্দেস আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এগুলো শুধু উল্লেখ করছি, যাতে এই রেওয়ায়েতসমূহে বর্ণিত কোনো ঘটনা ঘটতে দেখলে তা চিনে নিতে পারেন এবং রেওয়াতের হক্ব আদায় করতে পারেন।

# আব্দুল্লাহ বিন যাবিব আয-যুনদী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- عبد الرزاق عن كثير بن عطاء الجندي قال حدثني عبد الله بن زبيب الجندي قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : يَا أَبَا الْوَلِيدِ ، يَا عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ إِذَا رَأَيْتَ الصَّدَقَةَ كُتِمَتْ ، وَقَلَّتْ وَاسْتُؤْجِرَ فِي الْغَزْوِ ، وَعُمِّرَ الْخَرَابُ ، وَخُرِّبَ الْعَامِرُ ، وَالرَّجُلُ يَتَمَرَّسُ بَأَمَانَتِهِ كَمَا يَتَمَرَّسُ الْبَعِيرُ بِالشَّجَرِ ، فَإِنَّكَ وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ ، وَأَشَارَ بِإِصْبَعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالَّتِي تَلِيهَا . رواه عبد الرزاق في المسنف , كتاب الجهاد , باب الجعائل : ٥/٢٣١ رقم ٩٤٦٤، اسناده مرسل كما في زوائد مصنف الإمام عبدالرزاق الصنعاني على الكتب الستة من الاحاديث المرفوعة : رقم ٣٩ ; أخرجه ايضا ابن مندة، حكاه عنه ابن حجر في الإصابة ٣: ١٣٢. و اورده في الدر المنثور: ٧/٤٦٩ ; و في كنز العمال : ١٤/٢٥١ رقم ٣٨٦٠٨ ; و في إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة : ٢/٢٩ – “হে আবু ওলিদ! হে উবাদাহ বিন সামেত! যখন তুমি দেখবে যে, সদকাহ (যাকাত)কে (জরিমানা মনে করে তা আদায় না করার জন্য বিভিন্ন ছলেবলে) লকিয়ে রাখা হচ্ছে এবং (কিছু আদায় করলেও তাতে) কম (করে আদায়) করা হচ্ছে, (নাজায়েয সব খুনাখুনি মূলক) যুদ্ধ-বিগ্রহে (খুনি/গুন্ডা/হানাদার দেরকে) ভাড়া করা হচ্ছে; ধ্বংসস্থানকে মেরামত করা হচ্ছে এবং মেরামতাস্থানকে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে, মানুষ তার আমানতের সাথে এমনভাবে ঘষাঘষি করছে, যেভাবে উট বৃক্ষের সাথে (তার দেহ) ঘষাঘষি করে থাকে, তখন তোমার ও কিয়ামতের মাঝে (এই) দুই-এর মতো (ব্যাবধান থাকবে মাত্র। একথা বলে) তিনি তার (হাতের) প্রথমা আঙ্গুলী ও সেটির নিচেরটার দিকে ইশারা করলেন’। [আল-মুসান্নাফ, ইমাম আব্দুর রাজ্জাক- ৫/২৩১ হাদিস ৯৪৬৪; ইসাবাহ, ইবনে হাজার- ৩/১৩২; দুররে মানসুর, সুয়ূতী- ৭/৪৬৯; কানজুল উম্মাল- ১৪/২৫১ হাদিস ৩৮৬০৮]  

ফায়দা: এখানে কেয়ামতের আগে আগে শেষ জামানার কিছু অবস্থার দিকে ইশারা করা হচ্ছে কথা বলা হচ্ছে। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, যাকাতকে জরিমানা মনে করা হবে। অর্থাৎ, কারো উপরে জরিমানা কো হলে যেমন তার মনে কষ্ট লাগে এই ভেবে যে, “হায় রে! জরিমানার কারণে আমার টাকাটা অযথা চলে গেল, থাকলে এটা ওটা অনেক কিছু করতে পারতাম, জরিমানাটার সিস্টেম না থাকলেই ভাল হত”, ঠিক একই ভাবে শেষ জামানার উম্মাহ’র বেশিরভাগের অন্তরে দুনিয়ার প্রতি চরম লোভ ও আসক্তি কিংবা মুনাফেকির কারণে শরয়ী যাকাত/সদকাহ আদায়ের সময়ও তার উপরে সেটা একটা বোঝা স্বরূপই মনে হবে। এ ভবিষ্যৎবাণী আমাদের এ জামানায় ব্যাপকভাবে পূরণ হয়ে গেছে।

এখানে আরেকটি বিষয় হল- اسْتُؤْجِرَ فِي الْغَزْوِ – ‘(নাজায়েয সব খুনাখুনি মূলক) যুদ্ধ-বিগ্রহে (খুনি/গুন্ডা/হানাদার দেরকে) ভাড়া করা হবে’। আমার গবেষনা মতে, এই ভবিষ্যৎবাণীটিও আমাদের এ জামানায় পূরণ হয়ে গেছে। এ জামানায় ইরাক, সিরিয়া সহ উম্মাহ’র মাঝে যুদ্ধবিগ্রহের আবরণে যেসকল হারাজ (পরষ্পর খুনাখুনি) দেখছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে যে, আমেরিকা, ইসরাঈল ও অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশগুলো তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থ ও অস্ত্র সরঞ্জাম ইত্যাদি সহ শরিক থাকছে এবং তাতে নিজেদের দেশীয় সৈন্যসামন্তর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রভাবশালী মাফিয়া এজেন্সিগুলোর সাথে কন্ট্রাক্ট করে তাদের ট্রেনিংপ্রাপ্ত ভাড়াটে খুনি/গুন্ডাদেরকে ভাড়া করে যুদ্ধবিগ্রহের ময়দানে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এদেরকে প্যারামিলিটারী গ্রুপ, প্রাইভেট মিলিটারী কনট্রাক্টর ইত্যাদি নামে নামকরণ করা হয়ে থাকে। এদেরকে ভাড়া করার পিছনে স্বার্থবাদীদের বেশি আগ্রহের কারণ হল, দেশের সৈন্যদেরকে কোনো যুদ্ধে ঢুকিয়ে দিলে তাদের পিছনে একটি মোটা অংকের সরকারী বাজেট রাখতে হয়, তদুপরি তাদের যে কোনো ক্ষয়-ক্ষতির ব্যাপারে দেশের কাছে জবাবদিহিতার আশংকা-তো থাকেই। অপরদিকে মাফিয়া এজেন্সিগুলোর অধিনে প্রতিপালিত খুনিদেরকে ভাড়া করার ফায়দা এই যে, এদেরকে শুধু চুক্তিকৃত ভাড়াটুকু ও প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র সামগ্রী দিতে হয়, বাদবাকি ময়দানের খাবার-দাবার, শারীরীক ক্ষয়ক্ষতির চিকিৎসা ইত্যাদি কিছুই দিতে হয় না, কেউ ভ্রুক্ষেপও করে না যে, ওরা মড়ে আছে, নাকি কোথাও বিকলাঙ্গ হয়ে কাতড়াচ্ছে। গবেষনায় দেখা গেছে, অনেক দেশের সৈন্য সরকারী চাকুরী ছেড়ে দিয়ে এসব এজেন্সির হয়ে যুদ্ধবিগ্রহ করে বেড়ায় শুধু বেশি অর্থ কামানোর জন্য! কিছুটা ধারনা পেতে এখানে ক্লিক করুন। এই উম্মাহ’র ‍একটি অংশও এই ন্যাক্কারজনক কাজে যুক্ত, যারা অর্থের বিনিময়ে কখনো এদের বিরুদ্ধে কখনো ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-বিগ্রহ করে বেড়ায়। আমার ধারনা, হাদিসটিতে এই দিকেই ইংগীত করা হয়েছে। الله اعلم بالصواب

# হযরত অাবু উমামা বাহেলী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا طَغَى نِسَاؤُكُمْ ، وَفَسَقَ شَبَابُكُمْ ، وَتَرَكْتُمْ جِهَادَكُمْ ؟  قَالُوا : وَإِنَّ ذَلِكَ لَكَائِنٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ ، قَالَ :  نَعَمْ ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، وَأَشَدُّ مِنْهُ سَيَكُونُ  ، قَالُوا : وَمَا أَشَدُّ مِنْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ ، قَالَ : ” كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا لَمْ تَأْمُرُوا بِالْمَعْرُوفِ ، وَلَمْ تَنْهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ ؟ ” ، قَالُوا : وَكَائِنٌ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ ، قَالَ : ” نَعَمْ ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ وَأَشَدُّ مِنْهُ سَيَكُونُ ” ، قَالُوا : وَمَا أَشَدُّ مِنْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ ، قَالَ : ” كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا رَأَيْتُمُ الْمَعْرُوفَ مُنْكَرًا ، وَرَأَيْتُمُ الْمُنْكَرَ مَعْرُوفًا ؟ ” ، قَالُوا : وَكَائِنٌ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : ” نَعَمْ ، وَأَشَدُّ مِنْهُ سَيَكُونُ ، يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى : بِي حَلَفْت ، لأُتِيحَنَّ لَهُمْ فِتْنَةً , يَصِيرُ الْحَلِيمُ فِيهِمْ حَيْرَانًا . أخرجه ابن أبي الدنيا في موسوعة رسائل: ٥/٥٨٨ رقم ٨٥ و في الأمر بالمعروف و النهي عن المنكر , رقم الحديث : ٣٢ . الحافظ العراقي قال عنه إنه ضعيف الإسناد كما جاء في تخريجه لأحاديث الإحياء برقم ٢/٣٨٠ ; و اخرجه ايضا أبو يعلى مختصرا في مسنده: ١١/٣٠٤ رقم ٦٤٢٠ ; و الطبراني في المعجم الأوسط : ٩/١٢٩ رقم ٩٣٢٥ ; و ابن أبي حاتم في العلل : ٢/٤١٧ ; و أورده الهيثمي في مجمع الزوائد : ٧/٢٨٠ ; و الالباني في سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة وأثرها السيئ في الأمة : ١١/٣٤٣ – ‘তখন তোমাদের কেমন অবস্থা হবে, যখন নারীরা ত্বাগুতীপনা (ঔদ্ধত্যপনা, আল্লাদ্রোহিতা) করবে এবং কিশর’রা ফাসেকী (পাপ ও অপরাধমূলক) কাজ করবে, আর তোমরা তোমাদের জিহাদকে পরিত্যাগ করে বসবে! (উপস্থিত) সাহাবাগণ বললেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, এমন ঘটনাও ঘটবে?! রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: হ্যা, যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ, বরং অতিশিঘ্রই এর থেকেও কঠিক অবস্থা হবে। তারা জিজ্ঞেস করলেন: এর থেকেও কঠিন কি হবে, ইয়া রাসুলাল্লাহ ?  রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: তখন তোমাদের কেমন অবস্থা হবে, যখন তোমরা আমর বিল মা’রুফ (নেকির কাজের নির্দেশ) এবং নাহি আনিল মুনকার (বদ কাজের নিষেধ করার দায়িত্ব) পালন করবে না ! তারা বললেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, এমন ঘটনাও ঘটবে?! রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: হ্যা, যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ, বরং অতিশিঘ্রই এর থেকেও কঠিন অবস্থা হবে। তারা জিজ্ঞেস করলেন: এর থেকেও কঠিন কি হবে, ইয়া রাসুলাল্লাহ ? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: তখন তোমাদের কি অবস্থা হবে, যখন তোমরা সৎকাজকেই অসৎকাজর দৃষ্টিতে দেখবে এবং অসৎকাজকে সৎকাজের দৃষ্টিতে দেখবে! তারা বললেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, এমন ঘটনাও ঘটবে?! রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: হ্যা, যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ, বরং  অতি শিঘ্রই এর থেকেও কঠিন অবস্থা হবে। আল্লাহ তাআলা বলবেন- আমি শপথ করে বলছি, তাদেরকে এমন পরীক্ষায় ফেলে দিবো যে, সেসময়কার ধৈর্যশীল মানুষও দিশেহারা হয়ে যাবে। [মাউসুআত, ইবনে আবিদ্দুনিয়া- ৫/৫৮৮ হাদিস ৮৫; আমর বিল মা’রুফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকার, ইবনে আবিদ্দুনিয়া, হাদিস ৩৩; মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১১/৩০৪ হাদিস ৬৪২০; আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরাণী- ৯/১২৯ হাদিস ৯৩২৫; আল-ইলাল, ইবনু আবি হাতিম- ২/৩১৭; মুসনাদে ফিরদাউস, দাইলামী- ৩/২৯৫ হাদিস ৪৮৮৩; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/২৮০]

ফায়দা: যে তাগুতীপনা করে তাকে বলা হয় ‘তাগুত’। তাগুত বলতে মূলত: শয়তানকে বোঝানো হয়ে থাকে, কারণ সে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক ‘আদম আ.-কে সিজদাহ করার নির্দেশকে’ প্রত্যাক্ষান করেছিল অহংকার ও ঔদ্ধত্য দেখিয়ে এবং কেয়ামত পর্যন্ত সে আল্লাহ’র বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তার অহংকার ও ঔদ্ধত্যর প্রমাণ পেশ করেছে। কুরআনে ফেরআউনকেও তাগুত বলা হয়েছে। আর এই হাদিসে ‘একটি জামানায় নারীরা তাগুত হবে’ মর্মে ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছে। অর্থাৎ, সে জামানার নারীরাও অহংকার ও ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে, তাঁর রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে, দ্বীন-ইসলাম ও শরীয়তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে।

আজ ইহুদী খৃষ্টানদের শেখানো মন্ত্র ‘নারীর সম-অধিকার’, ‘নারী’র ক্ষমতায়ন’, ‘নারী স্বাধীনতা’ ইত্যাদি স্লোগানের পতাকা তলে সমবেত হয়ে এই উম্মাহ’র এক শ্রেণির নারীদেরকে বিভিন্ন দেশে দেশে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহনের যেসকল ঝংকার ও কুজকাওয়াজ দেখছেন, তা উপরের হাদিসটির إِذَا طَغَى نِسَاؤُكُمْ – “যখন নারীরা ত্বাগুতীপনা (আল্লাদ্রোহিতা) করবে” – এরই বাস্তব প্রতিচ্ছবি। আজ এই উম্মাহ’র মধ্যে আধুনিক শিক্ষাধারার লিবারেল ধাঁচের নারীরা যে পরিমান ‘তাগুত’ (ঔদ্ধত্যবাদী, আল্লাদ্রোহি) হয়ে উঠেছে, বিগত প্রায় ১৪৫০ বছরের ইতিহাসে কেউ কোনো দিন তা প্রত্যক্ষ করেনি। আমার মতে, এই হাদিসের ভবিষ্যৎবাণীটি আমাদের এই আখেরী জামানার দিকেই দ্ব্যার্থহীন ভাবে ইংগীত করছে। الله اعلم بالصواب

# আলী রা. থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- سَيَخْرُجُ قَوْمٌ فِي آخِرِ الزَّمَانِ، أَحْدَاثُ الأَسْنَانِ، سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ، يَقُولُونَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ البَرِيَّةِ، لاَ يُجَاوِزُ إِيمَانُهُمْ حَنَاجِرَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ، كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ، فَأَيْنَمَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاقْتُلُوهُمْ، فَإِنَّ فِي قَتْلِهِمْ أَجْرًا لِمَنْ قَتَلَهُمْ يَوْمَ القِيَامَةِ . رواه بخاري , كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم, باب قتل الخوارج والملحدين بعد إقامة الحجة عليهم: رقم ٦٩٣٠ ; و مسلم: رقم ١٠٦٦; احمد: ١/٤٣١ رقم ٦١٦ بإسناد صحيح, تحقيق: حمزة أحمد الزين; – ‘শিঘ্রই শেষ জামানায় (এমন একটি) গোষ্ঠির আবির্ভাব হবে, (যারা হবে) কাঁচা- বয়সের (সব ছেলে/যুবক এবং) জ্ঞান-বুদ্ধিতে অপরিপক্ক/নির্বোধসূলভ। তারা কথা বলবে উৎকৃষ্ট কথা (কিন্তু কথাগুলোর সহিহ ব্যাখ্যা না বোঝার কারণে তারা তা গলত স্থানে প্রয়োগ করবে)। তারা কুরআন পাঠ করবে, (কিন্তু আয়াতগুলো) তাদের (গলার) কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না, (ক্বলবে ঢোকা তো পরের কথা)। তারা দ্বীন (ইসলাম) থেকে (এমনভাবে) ছিটকে বেড় হয়ে যাবে, যেভাবে তীর শিকার ভেদ করে বেড় হয়ে যায়। তোমরা তাদেরকে যেখানেই সাক্ষাত পাবে, কতল করে ফেলবে। কারণ, যে তাদের কতল করবে, নিশ্চই তার জন্য কেয়ামতের দিন আল্লাহ’র কাছে তাদেরকে কতলের মধ্যে পুরষ্কার রয়েছে ’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৬৯৩০; সহিহ মুসলীম, হাদিস ১০৬৬; মুসনাদে আহমদ– ১/৪৩১ হাদিস ৬১৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৭৬৭; সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৪১১৩]

ফায়দা: হাদিসের শব্দগুচ্ছ أَحْدَاثُ الْأَسْنَانِ -এর মধ্যে আরবী শব্দ حدث অর্থ: নভিস, নতুন, প্রারম্ভ, আরম্ভ ইত্যাদি যার বহুবচন হল أحداث । আর سن অর্থ (বয়স/বৎসর) এবং এর বহুবচন হল اﻷسنان । আমি এর বঙ্গানুবাদ করেছি: কাঁচা- বয়সের (সব ছেলে/যুবক)’ । আর শব্দগুচ্ছ سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ -এর মধ্যে আরবী শব্দ حلم অর্থ: আকল, আক্কেল-জ্ঞান, বিবেক-বোধ, বুদ্ধি ইত্যাদি যার বহুবচন হল الأحلام। আর سَفِيه অর্থ নির্বোধ, বেউকুফ (stupid), আহাম্মক, বুদ্ধিভ্রষ্ট, স্থুলবুদ্ধিসম্পন্ন ইত্যাদি এবং এর বহুবচন হল سُفَهاءُ । আমি এর বঙ্গানুবাদ করেছি: ‘জ্ঞান-বুদ্ধিতে অপরিপক্ক/নির্বোধসূলভ’। 

এরা হল শেষ জামানার খারেজী গোষ্ঠি। এদের প্রথম আবির্ভাব হয়েছিল আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী রা.-এর খিলাফতের জামানায় প্রায় চোদ্দশ বছর আগে। আলী রা. তাদের সাথে যুদ্ধ করে তাদেরকে গণহারে কতল করেন। তবে বিভিন্ন হাদিস থেকে বোঝা যায়, তাদের দৌরাত্ব বিভিন্ন জামানায় প্রকাশ পাবে, এমনকি এই খারেজীদেরই শেষাংশের মধ্যে মাসিহ দাজ্জালের আবির্ভাব হবে। 

আমার ব্যাক্তিগত (এবং বিশ্বে বহু ওলামায়ে কেরামের) তাহ্বকীক মতে, আমরা নিঃসন্দেহে শেষ জামানার ভিতরে রয়েছি, শুধু তাই নয়, আমরা ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর একেবারে নিকটে এসে পৌছে গেছি। বিশ্বের অনেক  আলেমের মতে, এই শেষ জামানার খারেজী গোষ্ঠি হল ইরাক ও সিরিয়ায় তথাকথিত ইসলামী খিলাফতের দাবীদার আই.এস (দায়েশ)’রা। এদের নেটওয়ার্ক খুবই দ্রুত পৃথিবী ব্যাপি ছড়িয়ে গেছে। এদের প্রায় সবাই কঁচি বয়সের সব যুবক শ্রেণির ছেলে পুলে, যাদের বলতে গেলে কেউই কুরআন-সুন্নাহ’কে কোনো মুহাক্কেক আলেমের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহন করেনি। বিভিন্ন গবেষনা বলছে, এদের শিক্ষা গ্রহনের মাধ্যম হল কুরআনের নিছক অনুবাদ, ইন্টারনেটের ওয়েবপেজ বা ভিডিও-অডিও ইত্যাদি। এদের না আছে কোনো মুহাক্কেক শিক্ষক, না আছে কোনো মুহাক্কেক আমীর। এরা যে আবু বকর আল-বাগদাদী’কে খলিফা/আমীর বলে বিশ্বাস করে, অনেক গবেষনা মতে, সেই আবু বকর আল-বাগদাদী হল ইহূদী-খৃষ্টান জায়োনিষ্টদের একজন ছদ্দবেশী এজেন্ট। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে >>>এখানে ক্লিক করুন >>> । الله اعلم بالصواب