কেয়ামতের আলামত ও লক্ষন সমূহ – ৯ – মহানবী ﷺ -এর ভবিষ্যতবাণী

Spread the love
image_pdfimage_print

কেয়ামতের আলামত ও লক্ষন সমূহ – ৯ – মহানবী ﷺ -এর ভবিষ্যতবাণী

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته

 

আমরা ইতিপূর্বে কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে (এখানে ক্লিক করুন) কিছু হাদিস ও আছার পেশ করেছি। এখানেও কিছু উল্রেখ করা হল। [উল্লেখ্য, এখানে উল্লেখিত হাদিসসমূহ কোনো বিজ্ঞ মুহাদ্দেস আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এগুলো শুধু উল্লেখ করছি, যাতে এই রেওয়ায়েতসমূহে বর্ণিত কোনো ঘটনা ঘটতে দেখলে তা চিনে নিতে পারেন এবং রেওয়াতের হক্ব আদায় করতে পারেন।

# আলী রা. থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- سَيَخْرُجُ قَوْمٌ فِي آخِرِ الزَّمَانِ، أَحْدَاثُ الأَسْنَانِ، سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ، يَقُولُونَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ البَرِيَّةِ، لاَ يُجَاوِزُ إِيمَانُهُمْ حَنَاجِرَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ، كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ، فَأَيْنَمَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاقْتُلُوهُمْ، فَإِنَّ فِي قَتْلِهِمْ أَجْرًا لِمَنْ قَتَلَهُمْ يَوْمَ القِيَامَةِ . رواه بخاري , كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم, باب قتل الخوارج والملحدين بعد إقامة الحجة عليهم: رقم ٦٩٣٠ ; و مسلم: رقم ١٠٦٦; احمد: ١/٤٣١ رقم ٦١٦ بإسناد صحيح, تحقيق: حمزة أحمد الزين; – ‘শিঘ্রই শেষ জামানায় (এমন একটি) গোষ্ঠির আবির্ভাব হবে, (যারা হবে) কাঁচা- বয়সের (সব ছেলে/যুবক এবং) জ্ঞান-বুদ্ধিতে অপরিপক্ক/নির্বোধসূলভ। তারা কথা বলবে উৎকৃষ্ট কথা (কিন্তু কথাগুলোর সহিহ ব্যাখ্যা না বোঝার কারণে তারা তা গলত স্থানে প্রয়োগ করবে)। তারা কুরআন পাঠ করবে, (কিন্তু আয়াতগুলো) তাদের (গলার) কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না, (ক্বলবে ঢোকা তো পরের কথা)। তারা দ্বীন (ইসলাম) থেকে (এমনভাবে) ছিটকে বেড় হয়ে যাবে, যেভাবে তীর শিকার ভেদ করে বেড় হয়ে যায়। তোমরা তাদেরকে যেখানেই সাক্ষাত পাবে, কতল করে ফেলবে। কারণ, যে তাদের কতল করবে, নিশ্চই তার জন্য কেয়ামতের দিন আল্লাহ’র কাছে তাদেরকে কতলের মধ্যে পুরষ্কার রয়েছে ’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৬৯৩০; সহিহ মুসলীম, হাদিস ১০৬৬; মুসনাদে আহমদ– ১/৪৩১ হাদিস ৬১৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৭৬৭; সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৪১১৩]

ফায়দা: হাদিসের শব্দগুচ্ছ أَحْدَاثُ الْأَسْنَانِ -এর মধ্যে আরবী শব্দ حدث অর্থ: নভিস, নতুন, প্রারম্ভ, আরম্ভ ইত্যাদি যার বহুবচন হল أحداث । আর سن অর্থ (বয়স/বৎসর) এবং এর বহুবচন হল اﻷسنان । আমি এর বঙ্গানুবাদ করেছি: কাঁচা- বয়সের (সব ছেলে/যুবক)’ । আর শব্দগুচ্ছ سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ -এর মধ্যে আরবী শব্দ حلم অর্থ: আকল, আক্কেল-জ্ঞান, বিবেক-বোধ, বুদ্ধি ইত্যাদি যার বহুবচন হল الأحلام। আর سَفِيه অর্থ নির্বোধ, বেউকুফ (stupid), আহাম্মক, বুদ্ধিভ্রষ্ট, স্থুলবুদ্ধিসম্পন্ন ইত্যাদি এবং এর বহুবচন হল سُفَهاءُ । আমি এর বঙ্গানুবাদ করেছি: ‘জ্ঞান-বুদ্ধিতে অপরিপক্ক/নির্বোধসূলভ’। 

এরা হল শেষ জামানার খারেজী গোষ্ঠি। এদের প্রথম আবির্ভাব হয়েছিল আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী রা.-এর খিলাফতের জামানায় প্রায় চোদ্দশ বছর আগে। আলী রা. তাদের সাথে যুদ্ধ করে তাদেরকে গণহারে কতল করেন। তবে বিভিন্ন হাদিস থেকে বোঝা যায়, তাদের দৌরাত্ব বিভিন্ন জামানায় প্রকাশ পাবে, এমনকি এই খারেজীদেরই শেষাংশের মধ্যে মাসিহ দাজ্জালের আবির্ভাব হবে। 

আমার ব্যাক্তিগত (এবং বিশ্বে বহু ওলামায়ে কেরামের) তাহ্বকীক মতে, আমরা নিঃসন্দেহে শেষ জামানার ভিতরে রয়েছি, শুধু তাই নয়, আমরা ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর একেবারে নিকটে এসে পৌছে গেছি। বিশ্বের অনেক  আলেমের মতে, এই শেষ জামানার খারেজী গোষ্ঠি হল ইরাক ও সিরিয়ায় তথাকথিত ইসলামী খিলাফতের দাবীদার আই.এস (দায়েশ)’রা। এদের নেটওয়ার্ক খুবই দ্রুত পৃথিবী ব্যাপি ছড়িয়ে গেছে। এদের প্রায় সবাই কঁচি বয়সের সব যুবক শ্রেণির ছেলে পুলে, যাদের বলতে গেলে কেউই কুরআন-সুন্নাহ’কে কোনো মুহাক্কেক আলেমের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহন করেনি। বিভিন্ন গবেষনা বলছে, এদের শিক্ষা গ্রহনের মাধ্যম হল কুরআনের নিছক অনুবাদ, ইন্টারনেটের ওয়েবপেজ বা ভিডিও-অডিও ইত্যাদি। এদের না আছে কোনো মুহাক্কেক শিক্ষক, না আছে কোনো মুহাক্কেক আমীর। এরা যে আবু বকর আল-বাগদাদী’কে খলিফা/আমীর বলে বিশ্বাস করে, অনেক গবেষনা মতে, সেই আবু বকর আল-বাগদাদী হল ইহূদী-খৃষ্টান জায়োনিষ্টদের একজন ছদ্দবেশী এজেন্ট। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে >>>এখানে ক্লিক করুন >>> । الله اعلم بالصواب