কেয়ামতের আলামত – নেতা, শাসক , মন্ত্রী, সৈন্য, কোষাধক্ষ, কর-উসূলকারী

Spread the love
image_pdfimage_print

কেয়ামতের আলামত -(৩) নেতা, শাসক , মন্ত্রী, সৈন্য, কোষাধক্ষ, কর-উসূলকারী সম্পর্কিত হাদিস

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و كفى و سلام على عباده الذين اصطفى

 

আমরা ইতিপূর্বে কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে (এখানে ক্লিক করুন) কিছু হাদিস ও আছার পেশ করেছি। এখানেও কিছু উল্রেখ করা হল। [উল্লেখ্য, এখানে উল্লেখিত হাদিসসমূহ কোনো বিজ্ঞ মুহাদ্দেস আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এগুলো শুধু উল্লেখ করছি, যাতে এই রেওয়ায়েতসমূহে বর্ণিত কোনো ঘটনা ঘটতে দেখলে তা চিনে নিতে পারেন এবং রেওয়াতের হক্ব আদায় করতে পারেন।

 

# হযরত হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন-  রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেন-قلت يا رسول الله إنا كنا فى شر فجاء الله بخير فنحن فيه فهل من وراء هذا الخير شر ؟ قال نعم .قلت فهل وراء ذلكالشر خير ؟قال: نعم فهل وراء ذلك الخير شر قال:نعم قلت: كيف؟ قال: يكون بعدى أئمة لا يهتدون بهداى ولا يستنون بسنتى وسيقوم فيهم رجال قلوبهم قلوب الشياطين فى جثمان أنس – ‘আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমরা (একসময়) মন্দ জামানায় ছিলাম। পরে আল্লাহ (আপনার বরকতে) কল্যান নিয়ে এলেন। ফলে (এখন) আমরা তাতে আছি। এই কল্যানের পর কি কোনো মন্দ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ওই মন্দের পর কি কোনো কল্যান আছে। তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ওই কল্যানের পর কি কোনো মন্দ রয়েছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি  জিজ্ঞেস করলাম: কিভাবে? তিনি বললেন: আমার পর এমন নেতা/লিডার’রা আসবে, যারা না আমার দেখানো পথে চলবে আর না আমার সুন্নাহ মতো চলবে। তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক দাঁড়াবে যাদের মনুষ্য দেহের ভিতরে বিদ্যমান অন্তরগুলো হবে একেকটা শয়তানের অন্তর’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১৮৪৭]

# যাবির বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- أعاذك الله من إمارة السفهاء. قال: وما إمارة السفهاء؟ قال: “أمراء يكونون بعدي لا يهتدون بهديي ولا يستنون بسنتي، فمن صدقهم بكذبهم وأعانهم على ظلمهم؛ فأولئك ليسوا مني ولست منهم، ولا يردون علي حوضي، ومن لم يصدقهم بكذبهم ولم يعنهم على ظلمهم؛ فأولئك مني وأنا منهم، وسيردون علي حوضي . رواه: الإمام أحمد: ١١/٤٤٩رقم ١٤٣٧٨ إسناده صحيح, تحقيق: حمزة أحمد الزين ، والبزار: ٢/٢٤١ رقم ١٦٠٩, و قال الهيثمي في مجمع الزوائد: ٥/٢٤٧ رجالهما رجال الصحيح; عبد الرزاق في مصنفه: ١١/٣٤٥; ابن حبان في صحيحه: ٥/٩ رقم ١٧٢٣ و قال الأرنؤوط: صحيح على شرط مسلم ; الحاكم في المستدرك: ٣/٣٧٩ و صححه و وافقه الذهبي; وصححه أحمد شاكر في تعليقه على سنن الترمذي: ٢/٥١٤ – ‘(হে কা’ব!) তুমি নির্বোধ আমীর (শাসক) থেকে আল্লাহ’র আশ্রয় চেও। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: নির্বোধ অামীর কে? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: (ওরা হল) এমন সব অামীর যারা আমার পরে আসবে। তারা না আমার দেখানো পথে চলবে, আর না আমার আদর্শ মাফিক রীতি-নীতি চালু করবে। কাজেই যে ব্যাক্তি তাদের মিথ্যাকে সত্ত্বায়ন করবে এবং তাদের জুলুম-অন্যায়-অবিচার -এর সহায়তা করবে, ওরা আমার (কেউ) নয়, আমিও তাদের (কেউ) নই এবং তারা (কেয়ামতের দিন আমার) হাউজ (-ই-কাউসার)-এর নিকটে আসতে পারবে না। আর যে ব্যাক্তি তাদের মিথ্যাকে সত্ত্বায়ন করবে না এবং তাদের জুলুম-অন্যায়-অবিচার -এর সহায়তা করবে না, ওরা আমার , আমিও তার এবং (কেয়ামতের দিন) তারা আমার হাউজ (-ই-কাউসার)-এর নিকটে সহজে আসতে পারবে’ – [মুসনাদে আহমদ, ৩/৩২১  ; সহিহ ইবনে হিব্বান– ৫/৯ হাদিস ১৭২৩; মুসনাদে বাযযার- ২/২৪১ হাদিস ১৬০৯; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ১১/৩৪৫; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৩৭৯; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৫/২৪৭]

# হযরত আবু হুরায়রাহ ও আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- ليأتين عليكم أمراء يقربون شرار الناس ويؤخرون الصلاة عن مواقيتها فمن أدرك ذلك منكم فلا يكونن عريفا ولا شرطيا و لا جابيا ولا خازنا – رواه ابن حبان في “صحيحه” رقم ٤٥٨٦, وقال الهيثمي في “مجمع الزوائد: ٥/٢٤٠ – رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ خَلَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مَسْعُودٍ وَهُوَ ثِقَةٌ – ‘অবশ্যই তোমাদের (মুসলমানদের) উপর এমন এমন শাসকের আগমন ঘটবে, যারা নিকৃষ্ট নিকৃষ্ট লোকদেরকে কাছে রাখবে এবং নামাযকে তার ওয়াক্ত থেকে বিলম্বে (কাযা করে) আদায় করবে। তোমাদের মধ্যে যারা এটা দেখতে পাবে, তারা (ওদের) আরেফসৈন্য, কর-উসূলকারী এবং কোষাধক্ষ হতে যেও না। [সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৪৫৮৬; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৫/২৪]

ফায়দা: আমি এখানে عريف (আরেফ) অর্থ হল যে ব্যাক্তি কোনো কিছু সম্পর্কে জ্ঞান রাখে। ইমাম হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন- وسمي العريف عريفا لأنه يعرّف الإمام أحوال العسكر আরেফ-কে এজন্য আরেফ বলা হয় যেহেতু সে বাদশাহ ও (তার) সৈন্যবাহীনির হাল-হালত সম্পর্কে ভাল জানাশোনা রাখে। [ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার-৬/৬০১] তিনি আরো বলেছেন- وسمي بذلك لكونه يتعرف أمورهم ، حتى يعرف بها من فوقه عند الاحتياج  – আরেফ-কে এজন্য আরেফ বলা হয় যেহেতু তাদের বিষয়আসয় সম্পর্কে তার ভাল জানাশোনা থাকে। বরং কোথায় কী প্রয়োজন – সে সম্পর্কে তার জানাশোনার স্তর তাদের থেকে উপরেই থাকে। [ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার-১৩/১৬৯] আর এজন্যই রাজা-বাদশাহ’রা عريف (আরেফ)-দেরকে সাথে রাখে যাতে প্রয়োজনে তাদের থেকে শলাপরামর্শ নেয়া যায়।

এই অত্যাধুনিক শেষ জামানায় বিভিন্ন দেশের সরকারগুলির ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (যারা সরকারকে গোপন তথ্য সরবরাহ করে, যেমন আমেরিকার সিআইএ, রাশিয়ার কেজিবি, ভারতের ‘র’, ইসরাঈলের মোসাদ ইত্যাদি)-এর সদস্যরা হল সবচাইতে শক্তিশালী عريف (আরেফ)। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ/মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা প্রমূখও عريف (আরেফ)-এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত। উপদেষ্টা হতে পারে যে কোনো বিষয়ে, যেমন: অর্থনৈতিক উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, নিরাপত্তা উপদেষ্টা, রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা, সংস্কৃতিক উপদেষ্টা ইত্যাদি। এদেরকে সংশ্লিষ্ট বিষয় সহ আনুষঙ্গিক আরো বিষয়আসয়, দেশ ও দুনিয়ার হালচাল, রাজনৈতিক অবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কে গভীর জানাশোনা রাখতে হয়। সরকারগুলো এজন্যই এদেরকে সাথে রাখে কারণ তারা বিশ্বাস করে তাদের উপদেষ্টারা তাদের চাইতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে বেশি জানে ও বোঝে এবং প্রয়োজনে তাদের থেকে শলাপরামর্শ নেয়। তবে আরেফ শুধু এই উপদেষ্টা’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং যারা عريف (আরেফ) -এর উদ্দেশ্য পূরণ করবে তারাও এই হাদিসের সাবধানবাণীর আওতায় পরবে। যেমন: সরকারী গুপ্তচর, সরকারের নিজেস্ব দলীয় গুপ্তচর, মিডিয়া ইত্যাদি যারা সরকারগুলিকে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে বিভিন্ন অপরাধে সহায়তা করে থাকে। এযুগের আরেক প্রকার عريف (আরেফ) রয়েছে যার খবর বেশিরভাগ মানুষই রাখে না। এরা হল সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বিভিন্ন সোসাল মিডিয়া (যেমন ফেসবুক, টুইটার, গুগোলপ্লাস, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউব ইত্যাদি)র মধ্যে গোপনে ঢুকে থাকা عريف (আরেফ), যারা কোন কোন Users সরকারের বিপক্ষে বা দ্বীন ইসলাম কায়েমের পক্ষে মানুষকে ডাকার পিছনে বিশেষ ভুমিকা রাখছে তাদের IP (Internet Protocol), মোবাইল নম্বর ও নাম-ঠিকানা ইত্যাদি যথাসম্ভব সংগ্রহ করে সরকারী কর্তৃপক্ষের হাতে দেয়, পরে তারা বাঁছাই করে কাউকে কাউকে Black Listed করে এবং প্রয়োজন হলে তাদেরকে রাজনৈতিক বেড়াজালে ফেলে নাটক সাজিয়ে দালাল মিডিয়া গুলোকে দিয়ে বাম্পার প্রচার প্রচারণা চালায় যে -‘অমুক অমুক দেশ বিরোধী, মানবতা বিরোধী, সন্ত্রাসী ইত্যাদি কর্মকান্ডে জড়িত’ !!! 

হযরত আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ أُمَرَاءُ ظَلَمَةً، وَوُزَرَاءُ فَسَقَةً، وَقَضَاةٌ خَوَنَةٌ، وَفُقَهَاءُ كَذَبَةٌ، فَمَنْ أَدْرَكَ مِنْكُمْ ذَلِكَ الزَّمَانَ فَلَا يَكُونَنَّ لَهُمْ جَابِيًا، وَلَا عَرِيفًا، وَلَا شُرْطِيًّا- رواه الطبراني في “المعجم الأوسط” ٤١٩٠ و”الصغير” ٥٦٤ , والخطيب في “التاريخ”١١/٥٧٧ ; قال الهيثمي في “المجمع” ٥/٢٣٣ : رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الصَّغِيرِ وَالْأَوْسَطِ ، وَفِيهِ دَاوُدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْخُرَاسَانِيُّ قَالَ الطَّبَرَانِيُّ : لَا بَأْسَ بِهِ ، وَقَالَ الْأَزْدِيُّ: ضَعِيفٌ جِدًّا ، وَمُعَاوِيَةُ بْنُ الْهَيْثَمِ لَمْ أَعْرِفْهُ ، وَبَقِيَّةُ رِجَالِهِ ثِقَاتٌ “انتهى – ‘শেষ জামানায় জালেম ও অন্যায়-অবিচারক শাসকদের আগমন ঘটবে। তাদের মন্ত্রীরা হবে ফাসেক (পাপিষ্ট, পঁচন ধরা), তাদের বিচারকরা হবে খেয়ানতকারী, তাদের (সাথে থাকা) আলেমরা হবে মিথ্যুক। তোমাদের মধ্যে যারা সেই জামানা পাবে, তারা ওদের কর-উসূলকারী, আরেফ এবং সৈন্য হতে যেও না।[মু’জামে আ্উসাত, ত্বাবরানী, হাদিস ৪১৯০; মু’জামে ছাগীর, ত্বাবরানী, হাদিস ৫৬৪; তারীখে বাগদাদ, খতীব-১১/৫৭৭; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৫/২৩৩]

# হযরত আবু হুরায়রাহ ও আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- ليأتين على الناس زمان يكون عليكم أمراء سفهاء يقدمون شرار الناس ويظهرون حب خيارهم ويؤخرون الصلاة عن مواقيتها فمن أدرك ذلك منكم فلا يكونن عريفا ولا شرطيا ولا جابيا ولا خازنا . أخرجه أبو يعلى ٢/٣٦٢ ، رقم ١١١٥ . قال الهيثمى ٥/٢٤٠ : رجاله رجال الصحيح خلا عبد الرحمن بن مسعود ، وهو ثقة – ‘অবশ্যই মানুষের উপর এমন জামানা আসবে, যখন তোমাদের উপর নির্বোধ-বেউকুফ শাসকদের আগমন ঘটবে, যারা নিকৃষ্ট নিকৃষ্ট লোকদেরকে কাছে রাখবে, যার প্রতি ইচ্ছা মহব্বত প্রকাশ করবে এবং নামাযকে তার ওয়াক্ত থেকে বিলম্বে (কাযা করে) আদায় করবে। তোমাদের মধ্যে যারা এটা দেখতে পাবে, তারা (ওদের) আরেফসৈন্য, কর-উসূলকারী এবং কোষাধক্ষ হতে যেও না। [মুসনাদে আবু ইয়া’লা-৫/২৪০, হাদিস ১১১৫; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৫/২৪০]

রাসুলুল্লাহ ﷺ শেষ জামানার এসব ফাসেক-ফাজের ও নির্বোধ শাসকদের উল্লেখীত সরকারী পদগুলো গ্রহণ করা থেকে দূরে থাকার নসিহত করেছেন মুমিনদেরকে। কারণ, এই শাসকগুলি ঘন ঘন যত অন্যায়-অবিচার, সম্পদ আত্বসাৎ, খুন-খারাবি ও  শরীয়ত বিরোধী পাপ করতে থাকবে তা-তো এসব পদ গ্রহনকারীদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগীতাতেই তারা বাস্তবায়ন করবে। ফলে শাসকদের পাপের ভাগি তারাও হবে। 

# আবু উমামাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ স. এরশাদ করেছেন- يَكُونُ فِي هَذِهِ الأُمَّةِ فِي آخِرِ الزَّمَانِ رِجَالٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ الْبَقَرِ , يَغْدُونَ فِي سَخَطِ اللَّهِ , وَيَرُوحُونَ فِي غَضَبِهِ . رواه أحمد: ٥/٢٥٠ و قال الهيثمي: ٥/٢٣٤: رجال أحمد ثقات ; و الحاكم: ٤/٤٣٦ و قال: “صحيح الإسناد ولم يخرجاه، و وافقه الذهبي في تلخيصه ; و ابن الأعرابي في معجمه: ١/٢١٣; و الطبراني في ” الكبير: ٨/٣٠٨ رقم ٨٠٠٠ ; و الداني في السنن: رقم ٤٣٤; ذكره الالبانى في السلسلة الصحيحة: ٤/٥١٧ رقم ١٨٩٣ – ‘শেষ জামানায় এই উম্মতের মধ্যে এমন লোকজন হবে যাদের হাতে (মানুষকে পিটানোর জন্য) গরুর লেজের মতো বেত/চাবুক থাকবে। তারা সকালেও আল্লাহ’র চরম অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকবে, সন্ধাতেও থাকবে আল্লাহ’র গজব/ক্রধের মধ্যে’। [মুসনাদে আহমদ- ৫/২৫০; মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৪৩৬; মু’জামে ইবনুল আরাবী- ১/২১৩; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ৮/৩০৮ হাদিস ৮০০০; আস-সুন্নাহ, ইমাম দানী, হাদিস ৪৩৪] 

# সওবান রা. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- إِنَّمَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي الْأَئِمَّةَ الْمُضِلِّينَ . رواه أبو داود: ٤٢٥٢; والترمذي: ٢٢٢٩; و صححه الألباني في صحيح سنن أبي داود و في سلسلة الأحاديث الصحيحة: رقم ١٥٨٢ و ١٩٨٩; و قد جود إسناده الحافظ العراقي في تخريج الإحياء: ص ٧٢، و كذا ابن كثير في مسند الفاروق: ٢/٥٣٥، والمناوي في ” التيسير: ٢/١٦٢، وأحمد: ٤/١٢٣ و ٥/٢٧٨ قال الشيخ أحمد شاكر: إسناده حسن; و قال الهيثمي في مجمع الزوائد: ٥/٢٣٩: رواه أحمد ورجاله ثقات ; قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله : حديث الأئمة المضلون محفوظ ، وأصله في الصحيح كما في بيان تلبيس الجهمية: ٢/٢٩٣; ; و الدارمي:١/٨٠ رقم ٢٠٩    – ‘আমার উম্মতের উপর আমি সব থেকে বেশি ভয় করি -পথভ্রষ্ঠ ইমামদেরকে (খলিফা/আমীর/লিডার/ রাষ্ট্রপ্রধান দেরকে)’। [সুনানে আবু দাউদ- ৪/৯৭ হাদিস ৪২৫২; জামে তিরমিযী- ৪/৫০৪ হাদিস ২২২৯; সুনানে দারেমী– ১/৮০ হাদিস ২০৯; মুসনাদে আহমদ- ১/১৫,  ৪/১২৩, ৫/২৭৮]

# হযরত আম্মার বিন ইয়াছির রা.-এর  সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- سَيَكُونُ بَعْدِي أُمَرَاءُ يَقْتَتِلُونَ عَلَى الْمُلْكِ ، يَقْتُلُ بَعْضُهُمْ عَلَيْهِ بَعْضًا ,قال الهيثمي ,رواه أحمد والطبراني وأبو يعلى ، ورجاله رجال الصحيح غير ثروان ، وهو ثقة – ‘আমার পর অতি শিঘ্রই এমনসব শাসকদের (আভির্ভাব) হবে, যারা (দ্বীন ইসলামের মাথা উঁচু করার জন্য নয়, বরং নিছক) দেশ/রাজ্যের জন্য যুদ্ধ-বিগ্রহ বাঁধাবে; এর জন্যই তারা একে অপরকে হত্যা করবে। [মুসনাদে আহমাদ- ৪/২৬৩; মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১/৯৫; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শাইবা- ৮/৬০৭; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/২৯৩]

# হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يكون عليكم أمراء هم شر من المجوس» . رواه الطبراني في “الصغير” و “الأوسط”. قال الهيثمي: “ورجاله رجال الصحيح؛ خلا مؤمل بن إهاب، وهو ثقة” –‘তোমাদের উপর এমনসব আমীর/প্রশাসকের আগমন ঘটবে যে, তারা মাজুস (অগ্নীপূজক)-এর চেয়েও খারাপ হবে’। [আল-মুজামুস সাগীর, ত্বাবরাণী: ১০১৫; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৫/২৩৫]

# হযরত মুয়ায রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ ، عَنِ السَّلْطِ بْنِ مَطَرٍ الْعِجْلِيِّ ، عَنْ عَلِيٍّ الْمُرَادِيِّ ، عَنْ مُعَاذٍ ، قَالَ : “ يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ قُرَّاءٌ فَسَقَةٌ ، وَوُزَرَاءُ فَجَرَةٌ ، وَأُمَنَاءُ خَوَنَةٌ ، وَعُرَفَاءُ ظَلَمَةٌ ، وَأُمَرَاءُ كَذْبَةٌ  . الزهد لأحمد بن حنبل: رقم الحديث:٧٧١ – ‘আখেরী জামানায় (কুরআনের) পাঠকরা হবে ফাসেক, মন্ত্রীরা হবে ফাযের, আমানত-বাহকরা হবে খেয়ানতকারী, আরেফ’রা হবে জালেম এবং আমীর-ওমরা’রা হবে মিথ্যাবাদী’। [আল-যহদ, ইমাম আহমদ- ৭৭১]

# ইয়াযীদ বিন মাছরাদ রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত, হযরত মুআয বিন জাবাল রা. বলেছেন- سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : خُذُوا الْعَطَاءَ مَا دَامَ عَطَاءً ، فَإِذَا صَارَ رِشْوَةً فِي الدِّينِ فَلَا تَأْخُذُوهُ ، وَلَسْتُمْ بِتَارِكِيهِ ؛ يَمْنَعْكُمُ الْفَقْرَ وَالْحَاجَةَ ، أَلَا إِنَّ رَحَى الْإِسْلَامِ دَائِرَةٌ ، فَدُورُوا مَعَ الْكِتَابِ حَيْثُ دَارَ ، أَلَا إِنَّ الْكِتَابَ وَالسُّلْطَانَ سَيَفْتَرِقَانِ ، فَلَا تُفَارِقُوا الْكِتَابَ ، أَلَا إِنَّهُ سَيَكُونُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ يَقْضُونَ لِأَنْفُسِهِمْ مَا لَا يَقْضُونَ لَكُمْ ، إِنْ عَصَيْتُمُوهُمْ قَتَلُوكُمْ ، وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ أَضَلُّوكُمْ . قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ ، كَيْفَ نَصْنَعُ ؟ قَالَ: كَمَا صَنَعَ أَصْحَابُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ، نُشِرُوا بِالْمَنَاشِيرَ ، وَحُمِلُوا عَلَى الْخَشَبِ ، مَوْتٌ فِي طَاعَةِ اللهِ خَيْرٌ مِنْ حَيَاةٍ فِي مَعْصِيَةِ اللهِ . اخرجه الطبراني في ” المعجم الكبير”: ٢٠/٩٠، و” المعجم الصغير”: ٢/٤٢، و مسند الشاميين : ١/٣٧٩, أبو نعيم في ” حلية الأولياء: ٥/١٦٦, قال الهيثمي : ” رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ ، وَيَزِيدُ بْنُ مَرْثَدٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ مُعَاذٍ ، وَالْوَضِينُ بْنُ عَطَاءٍ وَثَّقَهُ ابْنُ حِبَّانَ وَغَيْرُهُ ، وَضَعَّفَهُ جَمَاعَةٌ ، وَبَقِيَّةُ رِجَالِهِ ثِقَاتٌ : مجمع الزوائد:  ٥/٢٢٨; الوضين بن عطاء الشامي ، مختلف في توثيقه, قال يحيى بن معين: ” الوضين بن عطاء لا بأس به, قال الإمام أحمد: ” الوضين بن عطاء ثقة ، ليس به بأس, قال ابن أبي حاتم : سألت أبي عن الوضين بن عطاء فقال: ” تعرف وتنكر- ‘আমি রাসুলুল্লাহ সা.-কে একথা বলতে শুনেছি: (খলিফা/প্রশাসকের) উপহার গ্রহন করতে পারো যতক্ষন তা উপহার হিসেবে থাকে। তবে সেটা যদি দ্বীনের দৃষ্টিতে ঘুষ হয়ে যায়, তখন তা গ্রহন করো না। কিন্তু (আক্ষেপ হল) তোমরা (মুসলমানরা ভবিষ্যতে) তা পরিহার করে চলবে না। অভাব ও প্রয়োজন -তোমাদের জন্য (আমার এই নির্দেশ পালনে) বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। ভাল করে শুনে রাখো, (কুরআনের মাধ্যমে দ্বীন) ইসলামের পরিধি সচল হয়ে গেছে। সুতরাং তোমরা আল-কিতাব (কুরআন)-এর সাথে থাকবে তা যেখানেেই যাক না কোনো, (কোনো অবস্থাতেই কুরআনকে ছাড়বে না)। ভাল করে শুনে রাখো, নিশ্চয় আল-কিতাব ও রাষ্ট্র ক্ষমতা অতিশিঘ্রই (একটি অপরটি থেকে) আলাদা হয়ে যাবে, (আল্লাহ’র কিতাব অনুযায়ী রাষ্ট্র-ব্যবস্থা চলবে না; চলবে মানুষের বানানো আইন দিয়ে)। তখনও তোমরা আল-কিতাব থেকে আলাদা হয়ো না। ভাল করে শুনে রাখো, অতি শিঘ্রই তোমাদের উপর এমনসব আমীর-ওমরা’রা (রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রি, প্রশাসক’রা) আসবে, যারা তাদের নিজেদের জন্য (সুবিধা মতো) যে বিচার-ফয়সালা করবে, সে বিচার-ফয়সালা তারা তোমাদের জন্য করবে না। তোমরা যদি তাদের অবাধ্যতা প্রদর্শন করো তাহলে তারা তোমাদেরকে (বিভিন্ন অযুহাতে) মেড়ে ফেলবে। আর তোমরা যদি তাদের অনুগত্য করো, তাহলে তারা তোমাদেরকে (আল্লাহ’র দ্বীন থেকে) পথভ্রষ্ঠ করে দিবে। লোকেরা বললো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! (এমতাবস্থায়) আমরা কি করবো? তিনি বললেন: (তোমরাও তা-ই করবে) যেমনটা ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর সাহাবীগণ করেছিলেন। তাদেরকে করাত দিয়ে চিড়ে ফেলা হয়েছিল, শুলিতে চড়ানো হয়েছিল (কিন্তু তারা আল্লাহ’র দ্বীন ছাড়েনি)। আল্লাহ’র নাফরমানীর জীবনের চাইতে আল্লাহ’র অনুগত্যের পথে মৃত্যুও শ্রেয়। [আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ২০/৯০; আল-মু’জামুস সগীর, ত্বাবরাণী- ২/৪২;  মুসনাদে শামেয়ীন, ত্বাবরাণী- ১/৩৭৯; হিলইয়াতুল আউলিয়াহ, আবু নুআইম- ৫/১৬৬; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৫/২২৮]

# হযরত ওমর রা. থেকে বর্ণিত,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إنه تصيب أمتي في آخر الزمان من سلطانهم شدائد لا ينجو منه إلا رجل عرف دين الله فجاهد عليه بلسانه ويده وقلبه فذلك الذي سبقت له السوابق، ورجل عرف دين الله فصدق به، ورجل عرف دين الله فسكت عليه، فإن رأى من يعمل الخير أحبه عليه وإن رأى من يعمل بباطل أبغضه عليه فذلك ينجو على إبطانه كله. رواه أبو نعيم في أخبار أصبهان: ١/٨١ ، والبيهقي في شعب الإيمان: ٦/٩٥ . قال ابن رجب في جامع العلوم والحكم: : غريب وإسناده منقطع: ٢/٢٤٤، وضعفه الألباني في سلسلة الأحاديث الضعيفة: ٦٧٢٥ – ‘শেষ জামানায় আমার উম্মত রাষ্ট্রপ্রধান’দের পক্ষ থেকে কঠিন (ফিতনা ও) মুসিবতের সম্মুখীন হবে। সেই (মুসিবত) থেকে কেউ-ই বাঁচবে না, (বাঁচবে) শুধু (১) ওই ব্যাক্তি, যে আল্লাহ’র দ্বীন’কে (যথার্থ ভাবে) জেনে নিয়েছে, তারপর সেই (ইলমকে সহিহ ভাবে কাজে লাগিয়ে আগত ইসলাম বিরোধী ফিতনা ও মুসিবতের) সাথে জিহাদ করেছে জ্বিহবা দিয়ে, হাত দিয়ে এবং অন্তর দিয়ে। বস্তুত: সে এমন ব্যাক্তি যে (দ্বীনের তাকাযা ও দাবী অনুপাতে) অগ্রগামীতা দেখিয়ে (আল্লাহ’র কাছে) অগ্রগামীতার নজির স্থাপন করলো। (২) ওই ব্যাক্তি, যে  আল্লাহ’র দ্বীন’কে (যথার্থ ভাবে) জেনে নিয়েছে, তারপর (হাত ও শক্তি দিয়ে মুসিবতের সাথে জিহাদ করেনি ইমানী দূর্বলতার কারণে, কিন্তু ইসলাম বিরোধী ফিতনা ও মুসিবতের বিপক্ষে জ্বিহবা দ্বারা) দ্বীনের সত্ত্বায়ন করেছে। (৩) ওই ব্যাক্তি, যে  আল্লাহ’র দ্বীন’কে (যথার্থ ভাবে) জেনে নিয়েছে, কিন্তু (ইসলাম বিরোধী ফিতনা ও মুসিবত দেখেও তার বিপক্ষে হাত ও জ্বিহবা দ্বারা জিহাদ করেনি, বরং) চুপ থেকেছে, (তবে) সে কাউকে (আল্লাহ’র নির্দেশিত) ভাল আমল করতে দেখলে তাকে (দ্বীনের কারণেই) ভালবেসেছে, আর কাউকে (ইসলাম বিরোধী) বাতিল আমল করতে দেখলে তাকে (দ্বীনের কারণেই) ঘৃনা করেছে। এই (শেষোক্ত) ব্যাক্তি (দ্বীনের কারণে কাউকে তার ভালবাসা বা ঘৃনা করার) এসব (কথাকে) তার পেটে (গোপন করে) রাখা সত্ত্বেও (ফিতনা থেকে) বাঁচতে পারবে।’ [আখবার, আবু নুআইম- ১/৮১; শুয়াবুল ইমান, বাইহাকী- ৬/৯৫]

# ত্বলহা বিন মুসরিফ  রা. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَتَخَوَّفُهُ عَلَى أُمَّتِي فِي آخِرِ الزَّمَانِ ثَلاثًا : إِيمَانًا بِالنُّجُومِ , وَتَكْذِيبًا بِالْقَدَرِ , وَحَيْفَ السُّلْطَانِ . رواه الإمام الداني في السنن الواردة:١/١٣٢ رقم ٢٨٢ و صححه الألباني في الصحيحة: ٣/١١٨ رقم ١١٢٧  – ‘আখেরী জামানায় আমার উম্মতের উপর যে বিষয়গুলো অামাকে বেশি ভীত করে তোলে তার মধ্যে আমি বেশি ভয় পাই তিনটি জিনিসকে: (ভাল-মন্দ করার ব্যাপারে) নক্ষত্রের উপর ইমান (রাখা), তাক্বদীরকে মিথ্যা ভাবা/প্রতিপন্ন করা এবং সুলতান (শাসক) -এর জুলুম-অন্যায়-অবিচার’। [আস-সুন্নাহ, ইমাম দানী- ১/ হাদিস ২৭২]

# উবাদাহ বিন সামিত  রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন-  يَكُونُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ إِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ أَدْخَلُوكُمُ النَّارَ وَإِنْ عَصَيْتُمُوهُمْ قَتَلُوكُمْ ” . فَقَالَ رَجُلٌ مِنْهُمْ : يَا رَسُولَ اللَّهِ سَمِّهِمْ لَنَا لَعَلَّنَا نَحْثُوا فِي وُجُوهِهِمُ التُّرَابَ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – : ” لَعَلَّهُمْ يَحْثُونَ فِي وَجْهِكَ وَيَفْقَؤُونَ عَيْنَكَ ” . رواه الطبراني. قال الهيثمي:٥/٤٢٩: و فيه سنيد بن داود؛ ضعفه أحمد ووثقه ابن حبان وأبو حاتم الرازي، وبقية رجاله ثقات – ‘তোমাদের উপর এমনসব (পথভ্রষ্ঠ) শাসকরা আসবে, তোমরা যদি তাদের অনুগত্য করো, তাহলে তারা তোমাদেরকে দোযখে ঢুকবে, আর তোমরা যদি তাদেরকে অমান্য করো, তাহলে তারা তোমাদেরকে (বিভিন্ন কৌশলে) হত্যা করে ফেলবে’। তখন তাদের মধ্যে এক ব্যাক্তি জিজ্ঞেস করলো: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদেরকে তাদের নামগুলো বলে দিন, যাতে আমরা তাদের মুখে মাটি নিক্ষেপ করতে পারি’। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: ‘সম্ভাবনা রয়েছে, তারাই তোমার মুখে মাটি নিক্ষেপ করবে এবং তোমার চোখ বেড় করে ফেলবে’। [ত্বাবরাণী: মাজমাউয যাওয়ায়ীদ– ৫/৪২৯]

# আব্দুর রহমান বিন বাশির আল-আনসারী. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- أتى رجل فنادى ابن مسعود رضي الله عنه، فأكب عليه، فقال: يا أبا عبد الرحمن متى أضل وأنا أعلم؟ قال: إذا كانت عليك أمراء إذا أطعتهم أدخلوك النار، وإذا عصيتهم قتلوك “. رواه الحاكم في “مستدركه”: ٤/٦٢٩ رقم ٨٤٩٠، وقال: “هذا موقوف صحيح الإسناد ولم يخرجاه “، و وافقه الذهبي في “تلخيصه كما في إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة: ١/٢٢٠ – ‘(একবার) এক ব্যাক্তি এসে (আব্দুল্লাহ) ইবনে মাসউদ রা.-কে ডাক দিলো এবং তাঁর দিকে মুখ করে বললো: ‘হে আব্দুর রহমানের পিতা (-ইবনে মাসউদ)! (সেটা) কোন সময় (যখন) আমি (পথভ্রষ্ঠতা কী -তা) জেনেও পথভ্রষ্ঠ হয়ে যাবো?’ তিনি বললেন: ‘যখন তোমার উপর এমন শাসকরা হবে, যখন তুমি তাদের অনুগত্য করলে তারা তোমাকে দোযখে ঢুকাবে, আর তাদেরকে অমান্য করলে তারা তোমাকে (বিভিন্ন কৌশলে) হত্যা করে ফেলবে’ [মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৬২৯ হাদিস ৮৪৯০]

# হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- يَكُونُ أُمَرَاءُ يُعَذِّبُونَكُمْ وَيُعَذِّبُهُمُ اللَّهُ . رواه الحاكم في “مستدرك, كتاب الفتن والملاحم, يكون أمراء يعذبونكم ويعذبهم الله: ٤/٦٠٠ رقم ٨٤١٠، وصححه، و وافقه الذهبي في “تلخيصه كما في إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة: ١/٢٢٠ – ‘(এমন সব) শাসকরা হবে, যারা তোমাদেরকে (দুনিয়াতে বিভিন্ন কায়দায়) কষ্ট-যাতনা দিবে। আল্লাহও তাদেরকে (আখেরাতে দোযখের মর্মন্তুদ শাস্তি চাখিয়ে) কষ্ট-যাতনা দিবেন’ [মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৬০০ হাদিস ৮৪১০]

হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন- سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : إن في أمتي لنيفا وسبعين داعيا ، كلهم داع إلى النار ، لو أشاء لأنبأتكم بأسمائهم وقبائلهم . رواه أبو يعلى الموصلي فى مسنده: ١٠/٦٥ رقم ٥٧٠١ . قال ابن كثير فى البداية والنهاية , كتاب الفتن والملاحم وأشراط الساعة والأمور العظام يوم القيامة: ١٩/١١٨ وهذا إسناد لا بأس به; قال الهيثمى : رواه أبو يعلى وفيه ليث بن أبي سليم وهو مدلس،وبقية رجاله ثقات:٧/٣٣٢ –‘আমি রাসুলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি যে, আমার উম্মতের মধ্যে সত্তর জনের বেশি আহবানকারী (লিডার/গুরু) হবে। তাদের প্রত্যেকেই (একেকজন পথভ্রষ্ঠ এবং তাদের জীবনকালে তারা নিজ নিজ প্রথভ্রষ্ঠ মত ও পথকে মুক্তির সঠিক পথ বলে প্রচার করবে, ফলে আদপে তারা মানুষকে) দোযখের দিকে আহবান করবে। (তাদের থেকে সাবধান থেকো)। আমি চাইলে তোমাদেরকে তাদের নাম ও তাদের এলাকার খবর বলে দিতে পারি’। [মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১০/৬৫ হাদিস ৫৭০১; আল-বিদায়াহ ওয়ান্নিহায়াহ, ইবনে কাছির- ১৯/১৮৮; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩৩২]

# কা’ব বিন উযরা  রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন-  إنها ستكون عليكم أمراء من بعدي يعظون بالحكمة على منابر فإذا نزلوا اختلست منهم وقلوبهم أنتن من الجيف . رواه الطبراني. قال الهيثمي:٥/٤٢٩: و رجاله ثقات – ‘ নিশ্চই আমার পর অচিরেই তোমাদের উপর এমন শাসকরা আসবে, যারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে গুঢ়গভীর বক্তৃতা দিবে। তারা পরে যখন (মঞ্চ থেকে) নামবে, তখন তাদের থেকে (ধনসম্পদ) আত্মসাৎ করবে। তাদের অন্তরগুলো হবে মড়া প্রাণীর চাইতেও দূর্গন্ধময়’। [ত্বাবরাণী: মাজমাউয যাওয়ায়ীদ- ৫/৪২৯]

# আবু সুলালাহ  রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন-  سيكون عليكم أئمة يملكون أرزاقكم يحدثونكم فيكذبون ويعملون ويسيؤون العمل ، لا يرضون منكم حتى تحسنوا قبيحهم وتصدقوا كذبهم ، فأعطوهم الحق ما رضوا به فإذا تجاوزوا فمن قتل على ذلك فهو شهيد . قال الهيثمي في مجمع الزوائد ومنبع الفوائد, كتاب الخلافة, باب لا طاعة في معصية:٥/٢٢٨: رواه الطبراني وفيه عاصم بن عبيد الله وهو ضعيف – ‘অচিরেই তোমাদের উপর (এমন সব) ইমাম’রা (রাষ্ট্রপ্রধান’রা) হবে, যারা তোমাদের রিজেকের (উপর) মালিক হয়ে বসবে, তোমাদেরকে সাথে (ইনসাফ ও কল্যান নিয়ে) কথা বলবে, কিন্তু (বাস্তব ক্ষেত্রে) তারা মিথ্যা বলবে, কাজ করবে; কাজগুলো হবে মন্দ। তারা তোমাদের উপর সন্তুষ্ট হবে না, যাবৎ না তোমরা তাদের জঘন্য/মন্দ, অনিুচৎ কাজগুলোকে ভাল বলো এবং (যাবৎ না) তাদের মিথ্যাগুলোকে সত্যায়ন করো। সুতরাং, (আমার নির্দেশ হল, তারা তোমাদের কাছে কিছু চাইলে) তোমরা তাদেরকে (শরীয়ত সম্মত ন্যায্য) হক্বটুকু দিয়ে দিবে; তাতেই তারা সন্তুষ্ট (হলে) হোক। (তাদের কথায় শরীয়ত বিরোধী কোনো অন্যায্য ও না-হক্ব  কিছুতে নিজকে জড়াবে না)। এতে তারা যদি (তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট বসতঃ) সীমা লঙ্ঘন করে (তোমাদেরকে হত্যা করে ফেলে), তাহলে এতে যাকে হত্যা করা হবে, সে হবে শহিদ’। [ত্বাবরাণী: মাজমাউয যাওয়ায়ীদ- ৫/২২৮]