খুলাফায়ে রাশেদীন, পরবর্তী খলিফা, সুলতান, আমীর সম্পর্কে হাদিস সমূহ

খুলাফায়ে রাশেদীন, পরবর্তী খলিফা, সুলতান, আমীর সম্পর্কে হাদিস সমূহ

 

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَليٰ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ وَعَليٰ اٰلِ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ صَلوٰةً تُنَجِّيْنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ الْأَهْوَالِ وَاْلآفَاتِ وَتَقْضِيْ لَنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ الْحَاجَاتِ وَتُطَهِّرُنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ السَّيِّاٰتِ وَتَرْفَعُنَا بِهَا عِنْدَكَ اَعْليٰ الدَّرَجَاتِ وَتُبَلِّغُنَا بِهَا اَقْصىٰ الْغَايَاتِ مِنْ جَمِيْعِ الْخَيْرَاتِ فِي الْحَيَاتِ وَبَعْدَ الْمَمَاتِ- اِنَّكَ عَليٰ كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٍ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ

[উল্লেখ্য, এখানে উল্লেখিত যে কোনো বর্ণনা কোনো বিজ্ঞ মুহাদ্দেস ও মুহাক্কেক আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে আমার অযোগ্যতার কারণে এখানে কোনো উল্লেখযোগ্য ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধন করে নেয়ার আগেই মানব সমাজে ছড়িয়ে না যায়। এগুলো পড়ুন ইলম অর্জনের জন্য এবং যোগ্য আলেম থেকে তা বুঝিয়ে নিন। আর কোনো যোগ্য চোখে উল্লেখযোগ্য ভুল ধরা পড়লে তা আমাকে অবগত করুন।] 

 

আবু হুরায়রাহ রা. থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- كَانَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ تَسُوسُهُمْ الْأَنْبِيَاءُ كُلَّمَا هَلَكَ نَبِيٌّ خَلَفَهُ نَبِيٌّ وَإِنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدِي وَسَيَكُونُ خُلَفَاءُ فَيَكْثُرُونَ قَالُوا فَمَا تَأْمُرُنَا قَالَ فُوا بِبَيْعَةِ الْأَوَّلِ فَالْأَوَّلِ أَعْطُوهُمْ حَقَّهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ سَائِلُهُمْ عَمَّا اسْتَرْعَاهُمْ . رواه بخارى فى صحيحه, كتاب أحاديث الأنبياء, باب ما ذكر عن بني إسرائيل: رقم ٣٤٥٥; و مسلم فى صحيحه, كتاب الإمارة، باب الأمر بالوفاء ببيعة الخلفاء، الأول فالأول،,: ٣/١٤٧٢ رقم ١٨٤٢; السنة لالخلال: ١/١١ رقم ٦ اسناده صحيح ; أحمد في المسند: رقم ٧٩٤٧; ابن ماجه فى سننه: رقم ٢٨٧١; البيهقي فى دلائل النبوة: ٦/٣٣٨   – বনী ইসরাঈলের সিয়াসাতী (রাজনৈতিক/পলিটিকাল) দায়িত্ব পালন করতেন তাদের নবীগণ। যখনই কোনো নবী মৃত্যুবরণ করতেন, তাঁর খলীফা (স্থলাভিষিক্ত) হতেন (তাঁর পরবর্তী আরেকজন) নবী। আর নিশ্চই আমার পর কোনো নবী নেই। শিঘ্রই (আমার পর রাজনৈতিক/পলিটিকাল দায়িত্ব পালনের জন্য) খলিফাগণ হবেন, পরে (ভাল-মন্দ খলিফা’র সংখ্যা) অনেক হবে। জিজ্ঞেস করা হল: (খলিফাগণ সম্পর্কে) আপনি আমাদেরকে কী নির্দেশ দেন? তিনি বললেন: অনুগত্য করবে তার, যার কাছে প্রথমে বায়েত করা হয়েছে, তারপর (তিনি ইন্তেকাল করলে অনুগত্য করবে তার, যার কাছে) প্রথমে (বায়েত করা হয়েছে)। (তারা খলিফা হিসেবে তোমার কাছ থেকে শরয়ী দৃষ্টিতে যে হক্ব প্রাপ্য), তাদের কাছে তাদের (সে) হক্ব (যথাযথ ভাবে) পৌছে দিবে। নিশ্চই আল্লাহ তাদেরকে যে ব্যাপারে (তোমাদের উপর) পৃষ্ঠপোষক বানিয়েছিলেন, (কেয়ামতের দিন) তাদেরকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৩৪৫৫; সহিহ মুসলীম– ৩/১৪৭২ হাদিস ১৮৪২; আস-সুন্নাহ, ইমাম খাল্লাল-১/৭৭ হাদিস ৬; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ৭৯৪৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ২৮৭১; দালায়েলুন নাবুওত, বাইহাকী- ৬/৩৩৮]

# হযরত যাবের বিন সামুরাহ রা. থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন – سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَكُونُ اثْنَا عَشَرَ أَمِيرًا فَقَالَ كَلِمَةً لَمْ أَسْمَعْهَا فَقَالَ أَبِي إِنَّهُ قَالَ كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ . صحيح البخاري: رقم ٧٢٢٣ ; سنن الترمذي:١/٥٠١, كتاب أبواب الفتن، باب ما جاء في الخلفاء، رقم الحديث ٢٢٢٣ – ‘আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে এরশাদ করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: (আমার উম্মতের মধ্যে) বার জন আমীর হবে’। এরপর তিনি কিছু বললেন যা আমি শুনতে পেলাম না। তখন আমার আব্বা বললেন, তিনি  বলেছেন: তাদের সকলে কুরায়শ (বংশ) থেকে হবে’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৭২২৩; সুনানে তিরমিযী- ১/৫০১ হাদিস ২২২৩] 

# হযরত যাবের বিন সামুরাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يكون من بعدي اثنا عشر خليفة. فقال كلمة لم أسمعها فقال أبي إنه قال : كلهم من قريش . اخرجه البخاري فى الصحيح, كتاب الأحكام، باب الاستخلاف: ١/٨١ رقم الحديث ٧٢٢٢ ; سنن الترمذي:١/٥٠١, كتاب أبواب الفتن، باب ما جاء في الخلفاء، رقم الحديث ٢٢٢٣ ; تاريخ بغداد : ١٤/٣٥٣ رقم ٧٦٧٣– ‘আমার পর বার জন খলিফা হবে’। এরপর তিনি কিছু বললেন যা আমি শুনতে পেলাম না। তখন আমার আব্বা বললেন, তিনি  বলেছেন: তাদের সকলে কুরায়শ (বংশ) থেকে হবে’। [সহিহ বুখারী- ১/৮১ হাদিস ৭২২২; সুনানে তিরমিযী- ১/৫০১ হাদিস ২২২৩; তারিখে বাগদাদ, খতীব- ১৪/৩৫৩ হাদিস ৭৬৭৩] 

# আরেকটি সহিহ হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لَا يَزَالُ هَذَا الدِّينُ عَزِيزًا مَنِيعًا إِلَى اثْنَيْ عَشَرَ خَلِيفَةً . اخرجه مسلم فى الصحيح: ٣/١٤٥٣ رقم ١٨٢١; و البخاري فى الصحيح, كتاب الأحكام، باب الاستخلاف:  رقم الحديث ٧٢٢٢;   – ‘এই দ্বীন (ইসলাম আমার উম্মাতের) বার জন খলিফার হাতে (তাদের নিজ নিজ জামানায় তার স্ব-বৈশিষ্টে পূণর্জ্জীবিত হয়ে অপরাপর দ্বীনের উপর) প্রবল ও দুর্বেদ্ধ-মজবুত হওয়া থেকে খালি থাকবে না’। [সহিহ মুসলীম– ৩/১৪৫৩ হাদিস ১৮২১; সহিহ বুখারী, হাদিস ৭২২২] 

# হযরত আমের বিন আস বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- كَتَبْتُ إِلَى جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ مَعَ غُلَامِي نَافِعٍ ، أَنْ أَخْبِرْنِي بِشَيْءٍ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : فَكَتَبَ إِلَيَّ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ جُمُعَةٍ عَشِيَّةَ رُجِمَ الْأَسْلَمِيُّ ، يَقُولُ : ” لَا يَزَالُ الدِّينُ قَائِمًا حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ أَوْ يَكُونَ عَلَيْكُمُ اثْنَا عَشَرَ خَلِيفَةً كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ . رواه مسلم فى الصحيح , كتاب الإمارة , باب الناس تبع لقريش والخلافة في قريش, رقم ١٨٢٢; أبو عوانة في مسنده: ٤/٣٧٣ رقم ٦٩٩٦ – আমি যাবের বিন সামুরাহ’র কাছে চিঠি লিখে (তা) আমার গোলাম নাফেহ’কে দিয়ে পাঠালাম (এই বলে) যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে আপনি শুনেছেন -এমন কিছু আমাকে জানান। তিনি আমার কাছে লিখে পাঠালেন: ‘আমি জুমআর দিন বিকেলে আল-আসলামীকে রজমের সময় রাসুলুল্লাহ ﷺ -কে বলতে শুনেছি: এই দ্বীন সর্বদা কায়েম হয়ে থাকবে, যাবৎ না কেয়ামত ঘটে যায় কিংবা (যাবৎ না) তোমাদের (মুসলমানদের) উপরে বার জন খলিফাহ হয়, যাদের সকলে কুরায়শ (বংশ) থেকে (হবে)’ [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১৮২২; মুসনাদে আবু আউয়ানাহ– ৪/৩৭৩ হাদিস ৬৯৯৬]

# মাসরুক রহ. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- كنا جلوسا عند عبد الله بن مسعود وهو يقرئنا القرآن ، فقال له رجل : يا أبا عبد الرحمن هل سألتم رسول الله صلى الله عليه وسلم : كم يملك هذه الأمة من خليفة ؟ فقال عبد الله : ما سألني عنها أحد منذ قدمت العراق قبلك ، ثم قال : نعم ، ولقد سألنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال : ” اثنا عشر كعدة نقباء بني إسرائيل . المسند للإمام أحمد: ٤/٢٨ رقم ٣٧٨١ و قال احمد شاكر:اسناده صحيح ; ورواه الحاكم في مستدركه, كتاب الفتن و الملاحم: ٤/٦٨١ رقم ٤٨٩٤; و ابن حجر في فتح الباري: ١٣/١٨٣ و حسنه – আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর সাথে বসা ছিলাম। তিনি (তখন) আমাদেরকে কুরআন পড়াচ্ছিলেন। এমন সময় এক ব্যাক্তি তাকে জিজ্ঞেস করলো: হে আব্দুর রহমানের পিতা (আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ) ! আপনারা কি রাসুলুল্লাহ -কে (কখনো) একথা জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, এই উম্মত থেকে কতজন খলিফাহ শাসনক্ষমতা পাবে? তখন তিনি বললেন: আমি ইরাকে পা রাখার পর থেকে তোমার আগে অন্য আর কেউ আমাকে একথা জিজ্ঞেস করেনি। এরপর বললেন: হ্যাঁ। আমরা রাসুলুল্লাহ -কে একথা জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন: (এই উম্মতের ভিতরে) বার জন (খলিফা হবে), যেমন বনী ইসরাঈলের নকীব (আমীর)-এর সংখ্যা ছিল (বার জন)’। [মুসনাদে আহমদ– ৪/২৮ হাদিস ৩৭৮১; মুসতাদরাকে হাকিম– ৪/৬৮১ হাদিস ৪৮৯৪]

# ইরবাজ বিন সারিয়া রা. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন–  اوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة وان كان عبدا حبشيا فإنه من يعش منكم يرى بعدي اختلافا كثيرا فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين وعضوا عليها بالنواجذ وإياكم ومحدثات الأمور فان كل محدثة بدعة وان كل بدعة ضلالة . أخرجه احمد فى المسند: ٤/١٢٦ رقم ١٧١٨٤ و قال شعيب الأرنؤوط : حديث صحيح ورجاله ثقات; رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ: رقم ٤٦٠٧ و صححه الألباني في مشكاة المصابيح برقم ١٦٥ و السلسلة الصحيحة:٢/٦١٠، وَ اَلتِّرْمِذِيُّ رقم: ٢٦٧٦ وَقَالَ: حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ; و ابن ماجه في سننه: رقم ٤٤; الطحاوي في مشكل الآثار:٣/٢٢٣ و سند الحديث جيد ; البغوي في شرح السنة: ١/٢٠٥ و إسناده حسن ; الطبراني فى المعجم الكبير: ١٨/٢٤٦ رقم ٦١٧ ; ابن حبان فى الصحيح : رقم٥ قال شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح ; وقال الجورقاني في الأباطيل والمناكير: هذا حديث صحيح ثابت مشهور: ١/٤٧٢ رقم ٢٨٨; وقال الحافظ ابن حجر في موافقة: هذا حديث صحيح رجاله ثقات: ١/١٣٦-١٣٩; قال ابن عبدالبر فى جامع بيان العلم: هذا حديث ثابت صحيح: ٢/١١٦٤ رقم ٢٣٠٥ ; قال المنذري في الترغيب والترهيب: لا ينزل عن درجة الحسن وقد يكون على شرط الصحيحين أو أحدهما: ١/٦٠; قال الذهبي في سير أعلام النبلاء: إسناده صالح: ١٧/٤٨٢; قال ابن القيم في أعلام الموقعين: حسن، إسناده لا بأس به: ٤/١١٩ – তোমাদেরকে আমি উপদেশ দিচ্ছি আল্লাহকে ভয় করে চলার এবং (তোমাদের উপর নিযুক্ত আমীরের নির্দেশ) শোনা ও মানার -চাই সে কোনো হাবশী গোলামই হোক (না কেনো)। নিশ্চয় অামার (ইন্তেকালের) পরে তোমাদের মধ্যে যে ব্যাক্তি জীবিত থাকবে সে অনেক দ্বন্দ্ব-বিরোধ দেখতে পাবে। (তখন) তোমারা আমার সুন্নাহ’কে এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়েরাশেদীনের সুন্নাহ’কে তোমাদের উপর অপরিহার্য করে নিবে এবং তা মাড়ির দাঁত দিয়ে তোমরা আঁকড়ে ধরে থাকে (কোনো মতেই ছাড়বে না)। আর তোমরা (দ্বীন ইসলামের মধ্যে আমদানী হওয়া) নতুন নতুন  বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা, নিশ্চই (দ্বীনের মধ্যে সুন্নাহ বহির্ভূত) প্রত্যেক নতুন-বিষয় বিদআহ এবং নিশ্চই প্রত্যেক বিদআহ পথভ্রষ্ঠতা’। [মুসনাদে আহমাদ- ৪/১২৬ হাদিস ১৭১৮৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৬০৭; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২৬৭৬; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৫; সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস ৪৪; শারহু মাআনিল আছার, ইমাম তাহাবী- ৩/২২৩; শারহুস সুন্নাহ, ইমাম বাগাভী- ১/২০৫; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরানী- ১৮/২৪৬ হাদিস ৬১৭; মুসতাদরাকে হাকীম- ১/৯৫-৯৭]

# সাফিনাহ রা. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন–  خِلَافَةُ النُّبُوَّةِ ثَلَاثُونَ سَنَةً ثُمَّ يُؤْتِي اللَّهُ الْمُلْكَ أَوْ مُلْكَهُ مَنْ يَشَاءُ . رواه أبو داود ٤٦٤٦، قال الألباني في صحيح سنن أبي داود: حسن صحيح – ‘নবুওতী (ধারার) খিলাফত থাকবে ত্রিশ বছর। এরপর আল্লাহ বাদশাহি (শাসন ব্যবস্থার জামানা) নিয়ে আসবেন অথবা যাকে ইচ্ছে শাসক বানাবেন’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৬৪৬] আরেকটি উত্তম সনদে বর্ণিত বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- الخلافة في أمتي ثلاثون سنة ثم ملك بعد ذلك . رواه الترمذي: ٢٢٢٦ و ابن حجر في موافقة الخبر الخبر: ١/١٤١ : حسن; وصححه الألباني في صحيح سنن الترمذي; رواه أحمد: ٥/٢٢٠ رقم ٢١٩٦٩. وقال شعيب الأرناؤوط محقق المسند : إسناده حسن رجاله ثقات رجال الصحيح غير سعيد بن جمهان –‘আমার উম্মতের মধ্যে খিলাফাত (ব্যাবস্থা) থাকবে ত্রিশ বৎসর পর্যন্ত। এরপর হবে বাদশাহী (শাসন ব্যবস্থা)’। [সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২২২৬; মুসনাদে আহমদ- ৫/২২০ হাদিস ২১৯৬৯]

ফায়দা: মুহাক্কেক আলেমগণের মতে, এই হাদিসে ত্রিশ বৎসর খিলাফত ব্যবস্থা থাকার অর্থ হল: প্রথম খলীফা হযরত আবুবকর সিদ্দিক রা., দ্বিতীয় খলীফা হযরত ওমর ফারুক রা., তৃতীয় খলীফা হযরত ওসমান গণী রা, চতুর্থ খলীফা হযরত আলী রা. এবং পঞ্চম খলীফা হযরত হাসান বিন আলী রা. -এই মোট ত্রিশ বৎসর কাল একটানা খিলাফত ব্যবস্থা। [বিস্তারিত: আহকামুল কুরআন, ইবনুল আরাবী- ৪/১৭২০; শারহু মুসলীম, ইমাম নববী- ১২/২০১; আল-বিদায়াহ ওয়ান্নিহায়াহ, ইবনে কাসির- ৮/১৭; ফাইযুল কাদির, মুনাবী- ২/৪০৯]

# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ، وَمَنْ يَعْصِنِي فَقَدْ عَصَى اللهَ، وَمَنْ يُطِعِ الْأَمِيرَ فَقَدْ أَطَاعَنِي، وَمَنْ يَعْصِ الْأَمِيرَ فَقَدْ عَصَانِي . صحيح مسلم, كتاب الإمارة , باب وجوب طاعة الأمراء في غير معصية وتحريمها في المعصية: رقم ١٨٣٥; سنن النسائي, كتاب البيعة, الترغيب في طاعة الإمام: رقم ٤١٩٣ و كتاب الاستعاذة, الاستعاذة من فتنة المحيا: رقم٥٥١٠; سنن ابن ماجه, كتاب الجهاد, باب طاعة الإمام: رقم ٢٨٥٩; مسند أحمد: ٢/٢٥٣ رقم ٧٣٨٦ , ٢/٢٧٠ رقم ٧٦٠٠; مسند أبي عوانة, كتاب الأمراء: ٤/٤٠١ رقم ٧٠٩٠-٧٠٩٦; شعب الأيمان للبيهقى: ٩/٤٠٩ رقم ٦٩٦٤  – ‘যে আমার অনুগত্য করলো, সে মূলত: (আমাকে মানা সম্পর্কিত আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পালনের মাধ্যমে প্রকারন্তে) আল্লাহ’র অনুগত্য করলো। আর যে আমার অবাধ্য হল, সে মূলত: (আমাকে মানা সম্পর্কিত আল্লাহ তাআলার নির্দেশের অবাধ্য হওয়ার মাধ্যমে প্রকারন্তে) আল্লাহ’র অবাধ্য হল। আর যে আমীর -এর অনুগত্য করলো, সে মূলত: (আমীর’কে মানা সম্পর্কিত আমার নির্দেশ পালনের মাধ্যমে প্রকারন্তে) আমার অনুগত্য করলো। আর যে আমীরের অবাধ্য হল, সে মূলত: (আমীর’কে মানা সম্পর্কিত আমার নির্দেশের অবাধ্য হওয়ার মাধ্যমে প্রকারন্তে) আমার অবাধ্য হল’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১৮৩৫; সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৪১৯৩, ৫৫১০; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ২৮৫৯; মুসনাদে আহমদ- ২/২৫৩ হাদিস ৭৩৮৬, ২/২৮০ হাদিস ৭৬০০; মুসনাদে আবু আউয়ানাহ- ৪/৪০১ হাদিস ৭০৯০-৭০৯৬; শুআবুল ইমান, বাইহাকী- ৯/৪০৯, হাদিস ৬৯৬৪]

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেন- مَنْ كَرِهَ مِنْ أَمِيرِهِ شَيْئًا فَلْيَصْبِرْ عَلَيْهِ ، فَإِنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ خَرَجَ مِنَ السُّلْطَانِ شِبْرًا ، فَمَاتَ عَلَيْهِ إِلَّا مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً . صحيح مسلم, كِتَاب الْإِمَارَةِ, الأَمْرِ بِلُزُومِ الْجَمَاعَةِ عَنْدَ ظُهُورِ الْفِتَنِ: رقم ١٨٥١; صحيح بخارى, كتاب الفتن, باب قول النبي صلى الله عليه وسلم سترون بعدي أمورا تنكرونها: رقم ٧٠٥٣ – ‘যে (মুসলমান) তার আমীরের মধ্যে কিছু (দেখে) অপছন্দ করে, সে যেন অবশ্যই তার উপর সবর করে। এমন কেউ নেই নেই, যে সুলতান (ইমাম/খলিফা/আমীরের অধীনতা) থেকে এক বিঘত পরিমাণও বেড়িয়ে যায়, তারপর সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে অথচ সে জাহেলিয়াতের মড়া মড়ে না’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১৮৫১; সহিহ বুখারী, হাদিস ৮০৫৩]

# তারিক বিন শিহাব রা. থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الْغَرْزِ، أَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: كَلِمَةُ حَقٍّ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ. رواه النسائي في سننه, كتاب البيعة, فضل من تكلم بالحق عند إمام جائر, حديث رقم ٤٢٠٩, و قال المنذري في الترغيب : إسناده صحيح , وقاله النووي فى رياض الصالحين: رواه النسائي بإسناد صحيح , و صححه الألباني فى سنن النسائي و في السلسلة الصحيحة: ١/٨٨٦ رقم ٤٩١ ; و أحمد في مسنده : ٤/٣١٤ رقم ; و الطبراني فى المعجم الكبير: ٨/٣٣٨ رقم ٨٠٨٠ ; و الحاكم: ٤/٥٠٥; و الحميدي في مسنده: ٧٥٢; و الترمذي في سننه: ٢١٧٤; و ابو داود في سننه: رقم ٤٣٤٤ – রাসুলুল্লাহ তাঁর (এক) পা (বাহনের) জিন/পা’দানীর মধ্যে রেখেছেন -এমতাবস্থায় এক ব্যাক্তি জিজ্ঞেস করলো: (ইয়া রাসুলাল্লাহ!) কোন জিহাদ সর্বত্তম। তিনি বললেন: ‘অন্যায়কারী সুলতান (খলিফা/আমীর/রাষ্ট্রপ্রধান)-এর কাছে কালেমায়ে-হক্ব (পেশ করা)’। [সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৪২০৯; মুসনাদে আহমদ- ৪/৩১৪ হাদিস ১৮৮৪৭, ১৮৮৫০; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ৮/৩৩৮ হাদিস ৮০৮১; মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৫০৫; মুসনাদে হুমাইদী, হাদিস ৭৫২; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২১৭৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৩৪৪; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪০১২; শুআবুল ইমান, বাইহাকী- ২/৪১৮]

আয়েশা রা. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেন أَيُّمَا امْرَأَةٍ نُكِحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَإِنْ دَخَلَ بِهَا فَلَهَا الْمَهْرُ بِمَا اسْتَحَلَّ مِنْ فَرْجِهَا فَإِنِ اشْتَجَرُوا فَالسُّلْطَانُ وَلِىُّ مَنْ لاَ وَلِىَّ لَهُ . رواه الترمذي: ١١٠٢ و قَالَ : هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ ; و أبو داود: ٢٠٨٣ , وابن ماجه: ١٨٧٩; و الحاكم: ٢٤٢٥١; و وابن حبان: ١٢٤٨ و صححه الألباني في إرواء الغليل: رقم ١٨٤٠ و و في صحيح أبي داود: رقم ١٨٧٩; وقال الحافظُ في الفتح الباري- ٩/١٨٤ : و صحّحه أبو عوانه وابنُ خزيمة ، وابنُ حبان والحاكم -‘যে (মুসলীম) নারীই তার ওলীর অনুমতি  ব্যতিরেকে বিয়ে করবে, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল। তবে (তার ওই কথিত স্বামী) যদি তার সাথে সহবাস করে ফেলে, তাহলে তার জন্য থাকবে (ওই দেন)মোহর, যার বিনিময়ে সে তার (কথিত স্ত্রীর) লজ্জাস্থানকে হালাল করেছিল। পরে যদি উভয়(পক্ষের) মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তাহলে (সেক্ষেত্রে) যার কোনো ওলী (অভিভাবক) নেই, সুলতানই হবে তার ওলী’। [সুনানে তিরমিযী, হাদিস ১১০২; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২০৮৩; সহিহ ইবনে  হিব্বান, হাদিস ১২৪৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৮৭৯; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস ২৩২৫১]

আবু উমামাহ রা. থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- أتى رجل رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يرمي الجمرة فقال يا رسول الله أي الجهاد أحب إلى الله عز وجل قال فسكت عنه حتى إذا رمى الثانية عرض له فقال يا رسول الله أي الجهاد أحب إلى الله عز وجل قال فسكت عنه ثم مضى رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى إذا اعترض في الجمرة الثالثة عرض له فقال يا رسول الله أي الجهاد أحب إلى الله عز وجل قال كلمة حق تقال لإمام جائر. رواه أحمد فى المسند: رقم ٢٢٠٥٨ و قال حمزة احمد الزين: اسناده صحيح: ١٦/٢٢٠ و البيهقي في السنن الكبرى, كِتَابُ الضَّحَايَا, بَابُ نَذْرِ الْعُمْرَةِ فِي شَهْرٍ مُسَمًّى: ١٠/١٥٥ رقم ٢٠١٨٥  مختصرا ; و الطبراني فى المعجم الكبير: ٨/٣٣٨ رقم ٨٠٨٠ , و حسنه الألباني فى صحيح الجامع: ١/١٠٨ رقم ١٦٦   – রাসুলুল্লাহ ﷺ (হজ্জ/ওমরার সময় প্রথম) জামারা’য় রমী করছিলেন -এমন সময় এক ব্যাক্তি এসে জিজ্ঞেস করলো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলার কাছে কোন জিহাদ’ সবচেয়ে বেশি প্রিয়? আবু উমামাহ রা. বলেন: তিনি তার কথার উত্তর দিলেন না। এমনকি তিনি যখন দ্বিতীয় (জামরায়) রমী করলেন, তখন সে তাঁর কাছে (পূণরায়) আরোজ করে বললো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলার কাছে কোন জিহাদ’ সবচেয়ে বেশি প্রিয়? আবু উমামাহ রা. বলেন: তখনও তিনি তার কথার উত্তর দিলেন না, অতঃপর নিজের কাজ করতে থাকলেন। এমনকি তিনি যখন তৃতীয় জামরা’য় রমী করতে উদ্দত হলেন, তখন (পূণরায়) সে তাঁর কাছে আরোজ করে বললো : ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলার কাছে কোন জিহাদ’ সবচেয়ে বেশি প্রিয়? তখন  রাসুলুল্লাহ ﷺ  বললেন: জালেম ইমাম’কে কালেমায়ে-হক্ব বলে দেয়।[মুসনাদে আহমদ– ১৬/২২০ হাদিস ২২০৫৮; সুনানুল কুবরা, বাইহাকী- ১০/১৫৫ হাদিস ২০১৮৫; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ৮/৩৩৮ হাদিস ৮০৮০]
 
হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন-سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمْ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لا ظِلَّ إِلا ظِلُّهُ : الإِمَامُ الْعَادِلُ …. أخرجه البخاري في صحيحه : ٢/١٤٣ رقم ٦٦٠ و ١٣٢٣ و ٦٨٠٦ ; و مسلم صحيحه : ٧/١٦٩ برقم ١٧١٢; النسائي في سننه: رقم ٥٣٩٥; الترمذي في سننه: رقم ٢٣٩١ – ‘সাত (প্রকারের ব্যাক্তি রয়েছে), যাদেরকে আল্লাহ তাআলা এমন এক দিনে তাঁর (রহমতের) ছায়ার ভিতরে ছায়াচ্ছন্ন রাখবেন, যে দিন তাঁর (রহমতের) ছায়া ব্যতীত কোনো ছায়া থাকবে না। (তাদের একজন হল) الإِمَامُ الْعَادِل – ‘ইনসাফগার-ন্যায়পরায়ন ইমাম’…..’। [সহিহ বুখারী- ২/১৪৩; সহিহ ৬৬০, ১৩২৩, ৬৮০৬ মুসলীম-৭/১৬৯ হাদিস ১৭১২; সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৫৩৯৫; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২৩৯১]
 
# হযরত আওফ বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেন- خِيَارُ أَئِمَّتِكُمْ الَّذِينَ تُحِبُّونَهُمْ وَيُحِبُّونَكُمْ، وَيُصَلُّونَ عَلَيْكُمْ وَتُصَلُّونَ عَلَيْهِمْ، وَشِرَارُ أَئِمَّتِكُمْ الَّذِينَ تُبْغِضُونَهُمْ وَيُبْغِضُونَكُمْ، وَتَلْعَنُونَهُمْ وَيَلْعَنُونَكُمْ ” قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا نُنَابِذُهُمْ بِالسَّيْفِ ؟ فَقَالَ:” لَا مَا أَقَامُوا فِيكُمْ الصَّلَاةَ، وَإِذَا رَأَيْتُمْ مِنْ وُلَاتِكُمْ شَيْئًا تَكْرَهُونَهُ، فَاكْرَهُوا عَمَلَهُ، وَلَا تَنْزِعُوا يَدًا مِنْ طَاعَةٍ. رواه مسلم, كتاب الإمارة, باب خيار الأئمة وشرارهم: رقم ١٨٥٥ –‘তোমাদের ওই ইমাম (খলিফা/আমীর)গণই উত্তম, যাদেরকে তোমরা ভালবাসো এবং তারাও তোমাদেরকে ভালবাসে, তারা তোমাদের জন্য দোয়া করে এবং তোমরাও তাদের জন্য দোয়া করো। আর তোমাদের ওই ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান)গণই নিকৃষ্ট যাদেরকে তোমারা ঘৃনা করো এবং তারাও তোমাদেরকে ঘৃনা করে, তোমরা তাদেরকে অভিশাপ দেও, তারাও তোমাদেরকে অভিশাপ দেয়। বলা হল: ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে তরবারী নিয়ে বিদ্রোহ করবো না? তিনি বললেন: না, যাবৎ তারা তোমাদের মাঝে নামায আদায় করে। আর তোমরা যখন তোমাদের শাসকগণের (ইমাম/খলিফা/আমীর’গণের মাঝে এমন) কিছু দেখতে পাও যা তোমরা অপছন্দ করো, তখন তোমরা তাদের ওই কাজটিকে অপছন্দ করবে, কিন্তু (তাদের) অনুগত্য থেকে (তোমাদের) হাত’কে সরিয়ে নিবে না’। [সহিহ মুসলীম – ৬/২৪ হাদিস ১৮৫৫]
 
# হযরত হুযাইফা রা. থেকে নির্ভরযোগ্য সনদে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- تَكُونُ النُّبُوَّةُ فِيكُمْ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ، ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا ، ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةٌ عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ ، فَتَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ، ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَرْفَعَهَا ، ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا عَاضًّا ، فَيَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكُونَ ، ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا ، ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا جَبْرِيَّةً ، فَتَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ، ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا ، ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ ” . ثُمَّ سَكَتَ . قَالَ حَبِيبٌ : فَلَمَّا قَامَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ ، وَكَانَ يَزِيدُ بْنُ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ فِي صَحَابَتِهِ ، فَكَتَبْتُ إِلَيْهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ أُذَكِّرُهُ إِيَّاهُ ، فَقُلْتُ لَهُ : إِنِّي أَرْجُو أَنْ يَكُونَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ ، يَعْنِي عُمَرَ ، بَعْدَ الْمُلْكِ الْعَاضِّ وَالْجَبْرِيَّةِ ، فَأُدْخِلَ كِتَابِي عَلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ ، فَسُرَّ بِهِ ، وَأَعْجَبَهُ . اخرجه احمد فى المسند: ٤/٢٧٣ و حسنه الأرناؤوط ; رواه الحافظ العراقي في ” محجة القرب إلى محبة العرب: ٢/١٧ و قال : ” هذا حديث صحيح ، و إبراهيم بن داود الواسطي وثقه أبو داود الطيالسي و ابن حبان ، و باقي رجاله محتج بهم في الصحيح ; وروى الحديث أيضًا و البزار: ٧/٢٢٣, الطيالسي فى المسند: رقم ٤٣٨ ; والبيهقي في منهاج النبوة، والطبري فى المعجم الأوسط:٦/٣٤٥ ، و الحديث صححه الألباني في السلسلة الصحيحة: ١/٨ رقم ٥، و قال الهيثمي في ” المجمع: ٥/١٨٩ – رواه أحمد و البزار أتم منه و الطبراني ببعضه في الأوسط  ، و رجاله ثقات ” –‘আল্লাহ তোমাদের মাঝে নবুওত’কে যতদিন রাখতে চান রাখবেন, এরপর তিনি যখন সেটিকে তুলে নিতে চাবেন তুলে নিবেন। এরপর হবে নবুওতী পন্থার খিলাফত (ব্যাবস্থা), এরপর আল্লাহ যতদিন  (সেটিকে) রাখতে চান রাখবেন, অতঃপর তিনি যখন তা তুলে নিতে চাবেন তুলে নিবেন। এরপর হবে আযুয-শাসন (ব্যবস্থা)। পরে আল্লাহ যতদিন (সেটিকে) রাখতে চান রাখবেন, অতঃপর তিনি যখন তা তুলে নিতে চাবেন তুলে নিবেন। এরপর হবে জাবরিয়্যাহ শাসন (ব্যবস্থা)। এরপর আল্লাহ যতদিন (সেটিকে) রাখতে চান রাখবেন, অতঃপর তিনি যখন তা তুলে নিতে চাবেন তুলে নিবেন। এরপর (আবারো) হবে নবুওতী পন্থার খিলাফত (ব্যাবস্থা)’। অতঃপর তিনি নিশ্চুপ হয়ে গেলেন। (হাদিসেরে রাবী) হাবীব রহ. বলেন: যখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (দ্বীন ইসলাম’কে নিয়ে পূণরায় কোমর সোজা করে) দাঁড়ালেন এবং (যখন) ইয়াযিদ বিন নু’মান বিন বাশির তাঁর সহচর্যে ছিলেন, তখন আমি এই হাদিস সহকারে তাকে একটি চিঠি লিখলাম, (যার মধ্যে হাদিসের ‘সুন্নাহ পন্থার খলিফা’ নির্বাচন সম্পর্কিত ভবিষ্যৎবাণী ওমর বিন আব্দুল আযীয-এর মাধ্যমে পূর্ণ হতে পারে মর্মে সেখানে) শুধু তাঁর কথা উল্লেখ করলাম। অামি তাকে বলেছিলাম: আমার বাসনা, খেসারতী ও জবরদখলকারী বাদশাহী’র পর (মুসলমানদের) ‘আমিরুল-মু’মিনিন হবেন তিনি অর্থাৎ ওমর (বিন আব্দুল আযীয)। পরে যখন ওমর বিন আব্দুল আযীযের কাছে আমার চিঠিটা গেল, তখন তিনি তাতে আনন্দিত (যেমন) হলেন, (তেমনি) তাতে বিষ্মিতও হলেন’।[মুসনাদে আহমদ– ৪/২৭৩; মুসনাদে বাযযার- ৭/২২৩; মুসনাদে আবু দাউদ তায়ালিসী, হাদিস ৪৩৮; আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরাণী – ৬/৩৪৫; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৫/১৮৯]

# আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে নির্ভরযোগ্য সনদে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- أَوَّلُ هَذَا الْأَمْرِ نُبُوَّةٌ وَرَحْمَةٌ ، ثُمَّ يَكُونُ خِلَافَةً وَرَحْمَةً ، ثُمَّ يَكُونُ مُلْكًا وَرَحْمَةً ، ثُمَّ يَكُونُ إِمَارَةً وَرَحْمَةً ، ثُمَّ يَتَكادَمُونَ عَلَيْهِ تَكادُمَ الْحُمُرِ فَعَلَيْكُمْ بِالْجِهَادِ ، وَإِنَّ أَفْضَلَ جهادِكُمُ الرِّبَاطُ ، وَإِنَّ أَفْضَلَ رباطِكُمْ عَسْقَلَانُ. رواه الطبراني في المعجم الكبير: رقم ١١١٣٨; قال الهيثمي رحمه الله في المجمع:٥/١٩٠: رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ; وقال الألباني رحمه الله فى سلسلة الأحاديث الصحيحة :٧/٨٠٣ وهذا إسناد جيد –‘এই (দ্বীন ইসলামের) প্রথম (দিকটি) হবে নবুওত ও রহমত, তারপর হবে খিলাফত (ব্যবস্থা) ও রহমত, তারপর হবে বাদশাহী (শাসন ব্যবস্থা) ও রহমত, তারপর হবে আমীরী (শাসন ব্যবস্থা) ও রহমত, তারপর (এমন শাসকরা আসবে যে,) তারা তা নিয়ে (এমনভাবে) পরষ্পরে কামড়া-কামড়ি করবে (যেমনটা) গাধারা কামড়া-কামড়ি করে। তখন তোমরা জিহাদকে অপরিহার্য করে নিবে। নিশ্চই তোমাদের সর্বত্তম জিহাদ হল রিবাত, আর তোমাদের সর্বত্তম রিবাত হল আসকালান’। [আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরাণী, হাদিস ১১১৩৮; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৫/১৯০]

ইবনে আতিয়াহ রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আনাস বিন মালেক রা. বলেন- إنها نبوة ورحمة , ثم خلافة ورحمة , ثم ملك عضوض , ثم جبرية , ثم طواغيت . اخرجه الداني في كتاب ” السنن الواردة في الفتن , باب ما جاء أن الإسلام يدرس ويذهب أهله : ١/٨٢٤ رقم ٤١٨، و رجال اسناده ثقات، هو حديث صحيح موقف على أنس بن مالك رضي الله عنه، و له حكم الرفع لأن مثله لا يقال بالرأي، و له شواهد مرفوعة، وهذا إسناد مسلسل بالأئمة الثقات الحفاظ إلى الأعمش، وشمر بن عطية ذكره ابن سعد في الطبقات وعده من الطبقة الثالثة، من ثقات أهل الكوفة، وقد توفي في حدود سنة ١٢٠ ، و أنس بن مالك رضي الله عنه توفي بعد سنة ٩٠ فإدراكه له ثابت يقينا، ولم يعرف شمر بتدليس فتحمل عنعنته على الاتصال، وقد صحح الترمذي وابن حبان والحاكم والذهبي عنعنة الأعمش عن شمر، كما في حديث (لا تتخذوا الضيعة فترغبوا في الدنيا) . – “নিশ্চই (আমরা নবী ﷺ-এর জামানায় যে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা পেয়েছিলাম) সেটা (ছিল) নবুওত(ওয়ালা ইসলামী শাসন ব্যবস্থা) ও রহমত। এরপর (এসেছিল খুলাফায়ে রাশেদীন কর্তৃক শাসিত ইসলামী) খিলাফত ও রহমত। এরপর (আসবে) মুলকে-আযুয, তারপর (আসবে) জাবারিয়্যাহ (শাসন ব্যবস্থা), তারপর ত্বওয়াগীত (আল্লাদ্রোহী মূলক শাসন ব্যবস্থা)”। [আস-সুনানুল ওয়ারিদাহ, ইমাম দানী- ১/ ৮২৪ হাদিস ৪১৯]

# আবু তুফায়েল রা. থেকে উত্তম সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি হুযাইফা রা.-কে একথা বলতে শুনেছেন-  يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَلَا تَسْأَلُونِي فَإِنَّ النَّاسَ كَانُوا يَسْأَلُونَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْخَيْرِ وَكُنْتُ أَسْأَلُهُ عَنْ الشَّرِّ إِنَّ اللَّهَ بَعَثَ نَبِيَّهُ عَلَيْهِ الصَّلَاة وَالسَّلَامُ فَدَعَا النَّاسَ مِنْ الْكُفْرِ إِلَى الْإِيمَانِ وَمِنْ الضَّلَالَةِ إِلَى الْهُدَى فَاسْتَجَابَ مَنْ اسْتَجَابَ فَحَيَّ مِنْ الْحَقِّ مَا كَانَ مَيْتًا وَمَاتَ مِنْ الْبَاطِلِ مَا كَانَ حَيًّا ثُمَّ ذَهَبَتْ النُّبُوَّةُ فَكَانَتْ الْخِلَافَةُ عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ . اخرجه أحمد: ١٦/٦٢٤ رقم ٢٣٣٢٤ قال حمزة احمد الزين إسناده حسن – ‘হে লোকসকল! (আমি বেঁচে থাকতে) তোমরা আমাকে (রাসুলুল্লাহ -এর ভবিষ্যৎবাণী সম্পর্কে) কেনো জিজ্ঞেস করো না ? কারণ, লোকেরা রাসুলুল্লাহ -কে কল্যান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতো, আর আমি জিজ্ঞেস করতাম মন্দ সম্পর্কে। আল্লাহ তাঁর নবীকে পাঠিয়েছেন। ফলে তিনি মানুষকে ডাক দিয়েছেন কুফর থেকে ইমানের দিকে এবং পথভ্রষ্ঠতা থেকে হেদায়েতের দিকে। সুতরাং (মানুষের মধ্য থেকে তাঁর ডাকে) যার সারা দেয়ার সে সারা দিয়েছে। ফলে যে হক্ব ( ও সত্য এক সময়) মৃত ছিল তা (তাঁদের দ্বারা পূণরায়) জীবিত হয়েছে এবং যে বাতিল (ও পথভ্রষ্ঠতা এক সময়) জীবিত ছিল তা (দ্বীন ইসলামের নিচে চাঁপা পড়ে) মড়ে গেছে। এরপর (সর্বশেষ নবী ও রাসুল মুহাম্মাদ -এর ইন্তেকালের মাধ্যমে) নবুওত (-এর জামানা) চলে গেছে। পরে হয়েছে নবুওতী পন্থার খিলাফত (ব্যবস্থা, যার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হল তাঁর রেখে যাওয়া দ্বীন ইসলামকে জমিনের বুকে পরিপূর্ণ ভাবে মাথা উচু করে জীবন্ত করে রাখা; মড়তে না দেয়া)’। [মুসনাদে আহমদ– ১৬/৬২৪ হাদিস ২৩৩২৪]

# ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ বিন হুসাইন আল-আযরী রহ. (মৃ: ৩৬০ হি:) সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত ওমর বিন খাত্তাব রা. সুয়াইদ বিন গাফালা ‘কে বলেছেন- حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ الْحَرَّانِيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنِي جَدِّي ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ ، قَالَ : قَالَ لِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ : لَعَلَّكَ أَنْ تُخَلَّفَ بَعْدِي ، فَأَطِعِ الإِمَامَ ، وَإِنْ كَانَ عَبْدًا حَبَشِيًّا وَإِنْ ضَرَبَكَ فَاصْبِرْ ، وَإِنْ حَرَمَكَ فَاصْبِرْ ، وَإِنْ دَعَاكَ إِلَى أَمْرِ مَنْقَصَةٍ فِي دُنْيَاكَ فَقُلْ : سَمْعًا وَطَاعَةً ، دَمِي دُونَ دِينِي . اخرجه الإمام محمد ابن الحسين الأجرى فى كتاب الشريعة, بَابٌ فِي السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ لِمَنْ وَلِيَ أَمْرَ: رقم الحديث ٧٤ , اسناده صحيح: ١/١٦١ , تحقيق: عاصم بن عبد الله القريوتى; اللبيهقي قي السنن الكبرى: ٨/٢٧٤ رقم ١٦٦٢٨ –‘(হে আবু উমাইয়্যাহ!) তুমি হয়তো আমার পরেও (জীবিত) থাকবে (এবং নতুন কোনো খলিফা/ইমাম পাবে। তবে যাকেই পাও না কেনো, তুমি সর্বদা তোমাদের মুসলমানদের) ইমাম (খলিফা/আমীর)-এর অনুগত্য করবে -যদিও সে একজন হাবশী গোলামই হয় না কেনো। যদি সে তোমাকে পিটায়, তবে সবর (ধৈর্যধারন) করবে। সে যদি তোমাকে (ইসলামী রাষ্ট্রে থাকা) নিষিদ্ধ করে দেয়, তাহলে সবর করবে, (তবুও তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে যাবে না)’। সে যদি  তোমাকে এমন কোনো নির্দেশ মানতে বলে যা তোমার দুনিয়াবী ব্যাপারে হেয়তার কারণ হয়, তাহলেও বলবে: শুনবো ও (জায়েয নির্দেশগুলোর) অনুগত্য করবো; (শরয়ী প্রয়োজনে) আমার রক্ত (দিবো, তবুও আমি) আমার দ্বীন (ছাড়বো না)’। [কিতাবুশ শারইয়াহ, ইমাম আযরী– ১/১৬১, হাদিস ৭৪; সুনানুল কুবরা, বাইহাকী- ৮/২৭৪ হাদিস ১৬৬২৮]

# হযরত উম্মে সালামাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেন- سَتَكُونُ أُمَرَاءُ فَتَعْرِفُونَ وَتُنْكِرُونَ فَمَنْ عَرَفَ بَرِئَ وَمَنْ أَنْكَرَ سَلِمَ وَلَكِنْ مَنْ رَضِيَ وَتَابَعَ قَالُوا أَفَلَا نُقَاتِلُهُمْ قَالَ لَا مَا صَلَّوْا . رواه مسلم, كتاب الإمارة, باب وجوب الإنكار على الأمراء فيما يخالف الشرع وترك قتالهم ما صلوا ونحو ذلك: رقم ١٨٥٤; سنن الترمذي, أبواب الفتن / باب / حديث رقم ٢٢٦٥ و صححه الالبانى; سنن أبي داود, كتاب السنة / باب في قتل الخوارج / حديث رقم ٤٧٦٠ –‘শিঘ্রই (তোমাদের মুসলমানদের উপর কিছু) আমীর’রা হবে। (তাদের কাজ কারবার এমন হবে যে,) তোমরা তাদের (কিছু বিষয়ের) প্রশংসা করবে এবং (কিছু বিষয়’কে) অপছন্দ করবে। যে ব্যাক্তি (তাদের) মন্দ’কে চিনতে পেরে অপছন্দ করেছে সে নিরাপত্তা পেয়েছে। কিন্তু যে ব্যাক্তি (তাদের মন্দ’কে চিনতে পেরেও অপছন্দ করেনি, বরং মনে মনে রাজি) খুশি হয়েছে ও (সেই মন্দের) অনুগত্য করেছে (সে অপরাধী সাব্যস্থ হয়ে গেছে)। লোকেরা বললো: (এর পরেও কি) আমরা কি তাদের সাথে কিতাল (জিহাদ) করবো না? তিনি বললেন: না, (কিতাল করবে না) -যাবৎ তারা নামায আদায় করে’। [সহিহ মুসলীম– ৬/২৪ হাদিস ১৮৫৪; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২২৬৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৭৬০] 

# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- سَيَكُونُ بَعْدِي خُلَفَاءُ يَعْمَلُونَ بِمَا يَعْلَمُونَ، وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ، ثُمَّ يَكُونُ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلَفَاءُ يَعْمَلُونَ بِمَا لَا يَعْلَمُونَ، وَيَفْعَلُونَ مالا يؤمرون، فمن أنكر عليهم فقد بريء، ولكن من رضي وتابع . رواه ابن حبان في الصحيح,: رقم ٦٦٦٠ و قال الأرنؤوط: إسناده صحيح على شرط الشيخين; و البيهقي في السنن: ٨/١٥٧ و في الدلائل: ٦/٥٢١; و أبو يعلى في المسند: رقم ٥٩٠٢ – ‘শিঘ্রই আমার (ইন্তেকালের) পর খলিফা’গণ হবে, যারা -(দ্বীন ও শরীয়ত সম্পর্কে) যা জানে সেই অনুযায়ী তারা আমল করবে এবং তাদেরকে (আল্লাহ কিংবা আমার পক্ষ থেকে) যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেই অনুযায়ী কাজ করবে। অতঃপর তাদের পরে (এমন সব) খলিফারা হবে, যারা (এমন এমন) আমল করবে যে ব্যাপারে (ইসলামী শরীয়ত কী বলেছে সে সম্পর্কে তারা কোনো) জ্ঞান রাখে না এবং (এমন এমন সব মন্দ) কাজ করবে যে ব্যাপারে তাদেরকে (আল্লাহ’র কিংবা আমার পক্ষ থেকে কোনো) নির্দেশ দেয়া হয়নি। সুতরাং, যে ব্যাক্তি (তাদের মন্দ’কে চিনতে পেরে ওসব কাজের) উপর অসন্তুষ্ট হয়েছে/অস্বীকৃতি প্রদর্শন করেছে সে নিরাপত্তা পেয়েছে। কিন্তু যে ব্যাক্তি (তাদের মন্দ’কে চিনতে পেরেও অপছন্দ করেনি, বরং মনে মনে রাজি) খুশি হয়েছে ও (সেই মন্দের) অনুগত্য করেছে (সে অপরাধী সাব্যস্থ হয়ে গেছে)’। [সহিহ ইবনে হিব্বান– ১৫/৪৩ হাদিস ৬৬৬০; সুনানুল কুবরা, বাইহাকী- ৮/১৫৭; সুনানুল কুবরা, বাইহাকী- ৬/৫২১; মুসনাদে আবু ইয়া’লা, হাদিস ৫৯০২]
 
সাবি’ বিন খালিদ রহ. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, হযরত হুযাইফা রা. বলেন- إن الناس كانوا يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخير وكنت أسأله عن الشر قال قلت يا رسول الله أرأيت هذا الخير الذي أعطانا الله يكون بعده شر كما كان قبله قال نعم قلت يا رسول الله فما العصمة من ذلك قال السيف قلت وهل للسيف من بقية قال نعم قال قلت ثم ماذا قال ثم هدنة على دخن قال جماعة على فرقة فإن كان لله عز وجل يومئذ خليفة ضرب ظهرك وأخذ مالك فاسمع واطع وإلا فمت عاضا بجذل شجرة. قال قلت ثم ماذا قال يخرج الدجال …. رواه الحاكم فى المستدرك: ٤/٤٧٩ رقم ٨٣٣٢ و قال هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه, و وافقه الذهبي في التلخيص; أبو داود الطيالسي فى المسنده: ١/٥٩ رقم ٤٤٢ و ٤٤٣ هذا حديث صحيح، رواته كلهم ثقات كما قال حمود بن عبد الله التويجري فى إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة: ١/٧٤; أبو داود فى سننه: ٤/٩٥ رقم ٤٢٤٤ و حسنه الالبانى; ابن أبي شيبة فى المصنف: ٧/٤٤٧ رقم ٣٧١١٣ ; عبد الرزاق فى المصنف: ١١/٣٤١ رقم ٢٠٧١١ ; أحمد فى ال مسند: رقم ٢٢٣٣٣ و ٢٣٤٧٦; أبو عوانة فى المسند: ٤/٤٢٠ رقم ٧١٦٨; البزار فى المسند: ٧/٣٦١ رقم ٢٩٦٠‘লোকজন রাসুলুল্লাহ সা.-এর কাছে কল্যান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতো, আর আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করতাম মন্দ সম্পর্কে। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আল্লাহ (আপনার বরকতে) আমাদেরকে এই-যে কল্যান দিয়েছেন, এরপর কি কোনো মন্দ রয়েছে -যেমনটা এর আগে (জাহেলী জামানায়) ছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ! তা থেকে মুক্তির উপায় কি? তিনি বললেন: তরবারী। আমি জিজ্ঞেস করলাম: তরবারীর কারণে কি কিছু অবশিষ্ট থাকবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, (থাকবে)। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম: তারপর কি হবে? তিনি বললেন: এরপর (মুসলমানরা এমন হবে, যেন পাপ মিশ্রিত) ধোয়ার উপর (ইমান ও আমলের অপূর্ণ) স্থিরতা, তিনি বললেন: (তখন থাকবে বিভিন্ন) ফেরকার (নিজ নিজ বিশ্বোস ও চেতনার) উপর (গঠিত সব) জামাআত। সেদিন যদি আল্লাহ আযযা ওয়া যাল্লা (জমিনের বুকে কোনো) খলিফা (-কে জীবিত) রাখেন, (যে) তোমার পিঠে (অন্যায় ভাবে) আঘাত করে, তোমার ধ্বনসম্পদ (অন্যায় ভাবে) ছিনিয়ে নেয়, তবুও (সেই খলিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে না, বরং তার আদেশ-নির্দেশ) শুনবে এবং (ওর মধ্যে জায়েয বিষয়গুলোর) অনুগত্য করবে -(এর জন্য) যদিও তোমাকে গাছ’কে কামড় দিয়ে মৃত্যুকে বরন করে নিতে হয়। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম: তারপর কি হবে? তিনি বললেন: এরপর দাজ্জাল বেড় হবে।… [মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৪৭৯, হাদিস ৮৩৩২; আল-মুসনাদ, আবু দাউদ তায়ালিসী- ১/৫৯ হাদিস ৪৪২, ৪৪৩; সুনানে আবু দাউদ- ৪/৯৫ হাদিস ৪২৪৪; মুসান্নাফে ইবনু আবি শায়বাহ- ৭/৪৪৭ হাদিস ৩৭১১৩; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ১১/৩৪১ হাদিস ২০৭১১; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২২৩৩৩, ২৩৪৭৬; মুসনাদে আবু আউয়ানাহ- ৪/৪২ হাদিস ৭১৬৮; মুসনাদে বাযযার- ৭/৩৬১ হাদিস ২৯৬০

# আবু সালেম রহ. থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত হুযাইফা রা. বলেন- قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّا كُنَّا بِشَرٍّ ، فَجَاءَ اللَّهُ بِخَيْرٍ ، فَنَحْنُ فِيهِ ، فَهَلْ مِنْ وَرَاءِ هَذَا الْخَيْرِ شَرٌّ ؟ قَالَ : نَعَمْ ، قُلْتُ : هَلْ وَرَاءَ ذَلِكَ الشَّرِّ خَيْرٌ ؟ قَالَ : نَعَمْ ، قُلْتُ : فَهَلْ وَرَاءَ ذَلِكَ الْخَيْرِ شَرٌّ ؟ قَالَ : نَعَمْ ، قُلْتُ : كَيْفَ ؟ قَالَ : يَكُونُ بَعْدِي أَئِمَّةٌ لَا يَهْتَدُونَ بِهُدَايَ ، وَلَا يَسْتَنُّونَ بِسُنَّتِي ، وَسَيَقُومُ فِيهِمْ رِجَالٌ قُلُوبُهُمْ قُلُوبُ الشَّيَاطِينِ فِي جُثْمَانِ إِنْسٍ ، قَالَ : قُلْتُ : كَيْفَ أَصْنَعُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنْ أَدْرَكْتُ ذَلِكَ ؟ قَالَ : تَسْمَعُ وَتُطِيعُ لِلْأَمِيرِ ، وَإِنْ ضُرِبَ ظَهْرُكَ ، وَأُخِذَ مَالُكَ ، فَاسْمَعْ وَأَطِعْ . رواه مسلم في الصحيح, كِتَابُ الْإِمَارَةِ , بَابُ الْأَمْرِ بِلُزُومِ الْجَمَاعَةِ عِنْدَ ظُهُورِ الْفِتَنِ وتحذير الدعاة إلى الكفر: حديث رقم ١٨٤٧اسناده مرسل صحيح ; و البيهقي في السنن الكبرى: ٨/٢٧١ رقم ١٦٦١٧ – ‘আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমরা (একসময়) মন্দ জামানায় ছিলাম। পরে আল্লাহ কল্যান নিয়ে এলেন। ফলে (এখন) আমরা তাতে আছি। এই কল্যানের পর কি কোনো মন্দ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ওই মন্দের পর কি কোনো কল্যান আছে। তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ওই কল্যানের পর কি কোনো মন্দ রয়েছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞেস করলাম: কিভাবে? তিনি বললেন: আমার পর এমন ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান/লিডার)’রা আসবে, যারা না আমার দেখানো পথে চলবে আর না আমার সুন্নাহ মতো চলবে। তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক দাঁড়াবে যাদের মনুষ্য দেহের ভিতরে বিদ্যমান অন্তরগুলো হবে একেকটা শয়তানের অন্তর। আমি জিজ্ঞেস করলাম: আমি  যদি সে যুগ পেয়ে যাই, তাহলে কি করবো -ইয়া রাসুলাল্লাহ ? তিনি বললেন: আমীরের কথা শুনবে এবং অনুগত্য করবে – এমন কি যদিও সে তোমার পিঠে মাড়ে এবং তোমার ধ্বনসম্পদ কেড়ে নেয়; তারপরও শুনবে ও মানবে।  [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১৮৪৭; সুনানুল কুবরা, বাইহাকী- ৮/২৭১ হাদিস ১৬৬১৭]

আয়আয বিন হাম্মার রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন-وَ أَهْلُ الْجَنَّةِ ثَلَاثَةٌ ذُو سُلْطَانٍ مُقْسِطٌ مُتَصَدِّقٌ مُوَفَّقٌ … . رواه مسلم : ٢٨٦٥; و عبد الرزاق في المصنف: ١١/١٢١ رقم ٢٠٠٨٨; و البيهقي في السنن الكبرى: ١٠/١٤٩ رقم ٢٠١٦١; و احمد في مسند احمد: ٤/١٦٢ … আর জান্নাতবাসী (হবে -এমন) তিন প্রকারের ব্যাক্তি রয়েছে, (যার মধ্যে একজন হল এমন) সুলতান (যিনি) মুক্বসীত (ইনসাফগার-ন্যায়পরায়ন) মুতাসাদ্দিক্ব (কথা ও কাজে ন্যায়নিষ্ঠ) মুআফফাক (মানুষকে হেদায়েতের পথে পরিচালনাকারী)…..’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৮৬৫; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ১১/১২১ হাদিস ২০০৮৮; সুনানুল কুবরা, বাইহাকী- ১০/১৪৯ হাদিস ২০১৬১; মুসনাদে আহমদ- ৪/১৬২]
 
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- كُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ: فَالإِمَامُ رَاعٍ، وَهْوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ، وَالرَّجُلُ فِي أَهْلِهِ رَاعٍ، وَهْوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ. … . رواه البخاري في الصحيح: رقم ٢٥٥٨ و ٥١٨٨ و ٧١٣٨; ابن حبان في الصحيح: ١٠/٣٤٢ رقم ٤٤٩٠ اسناده صحيح على شرط مسلم ; أبو عوانة في المسند: ٤/٣٨٤ رقم ٧٠٣٩ ; و البزار فى مسنده: رقم ٥٣٧٧; أحمد فى مسنده: رقم ٥٩٩٠  – ‘তোমাদের প্রত্যেকে (কারো না কারো উপরে) তত্ত্বাবধায়ক (স্বরূপ) এবং (প্রত্যেককে) তার তত্ত্বাবধায়নী-দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসীত হবে। সুতরাং ইমাম (খলীফা/আমীর/সুলতান) হল (তার অধীনস্থ নাগরীকদের উপর নিযুক্ত একজন) তত্ত্বাবধায়ক এবং সে তার তত্ত্বাবধায়নী-দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসীত হবে। (একজন) পুরুষ হল তার পরিবারের ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক (স্বরূপ) এবং সে তার তত্ত্বাবধায়নী-দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসীত হবে।….. ’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ২৫৫৮, ৫১৮৮, ৭১৩৮; সহিহ ইবনে হিব্বান– ১০/৩৪২ হাদিস ৪৪৯০; মুসনাদে আবু আউয়ানাহ– ৪/৩৮৪ হাদিস ৭০৩৯; মুসনাদে বাযযার, হাদিস ৫৩৭৭; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ৫৯৯০] আরেকটি সহিহ হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- ألا كُلّكُم راعٍ . وكلّكُم مسئولٌ عن رعيّتهِ . فالأميرُ الذي على الناسِ راعٍ ، وهو مسئولٌ عن رعيّتهِ . والرجلُ راعٍ على أهلِ بيتهِ . رواه مسلم في الصحيح: ١٨٢٩; ابن حبان في الصحيح: ١٠/٣٤٣ رقم ٤٤٩١ اسناده صحيح على شرط مسلم; البخاري: ٧١٣٨; أبو عوانة في المسند: ٤/٣٨٢ رقم ٧٠٢٧; ; الترمذي: ١٧٠٥ و صححه الألباني فى صحيح سنن الترمذي; و ابو داؤد فى سننه: رقم ٢٩٠٨ صححه الألباني فى صحيح سنن ابي داؤد – শোন, তোমাদের প্রত্যেকে (কারো না কারো উপরে) তত্ত্বাবধায়ক (স্বরূপ) এবং তোমাদের (প্রত্যেককে) তার তত্ত্বাবধায়নী-দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসীত হবে। সুতরাং আমীর (খলীফা/ইমাম/সুলতান) হল (তার অধীনস্থ) নাগরীকদের উপর (নিযুক্ত একজন) তত্ত্বাবধায়ক এবং সে তার তত্ত্বাবধায়নী-দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসীত হবে। (একজন) পুরুষ হল তার পরিবারের সদস্যদের উপর তত্ত্বাবধায়ক (স্বরূপ)…..’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৮৬৫; মুসনাদে আবু আউয়ানাহ– ৪/৩৮২ হাদিস ৭০২৭; সহিহ ইবনে হিব্বান– ১০/৩৪৩ হাদিস ৪৪৯১; জামে তিরমিযী, হাদিস ১৭০৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২৯০৮]
 
ফায়দা: কায়েস বিন যাবের সাদাফী রহ. থেকে যয়ীফ সনদে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন-سَيَكُونُ بَعْدِي خُلَفَاءُ , وَمِنْ بَعْدِ الْخُلَفَاءِ أُمَرَاءُ , وَمِنْ بَعْدِ الأُمَرَاءِ مُلُوكٌ , وَمِنْ بَعْدِ الْمُلُوكِ جَبَابِرَةٌ , ثُمَّ يَخْرُجُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يَمْلأُ الأَرْضَ عَدْلا كَمَا مُلِئَتْ جَوْرًا , ثُمَّ يُؤَمَّرُ الْقَحْطَانِيُّ , فَوَالَّذِي بَعَثَ مُحَمَّدًا بِالْحَقِّ مَا هُوَ بِدُونِهِ . رواه ابن عساكر في تاريخ دمشق:١٤/٢٨٢ رقم ٣٥٦١ ; و ابن منده في “المعرفة: ٢/٢٣٦/٢; قال الألباني في السلسلة الضعيفة والموضوعة: ٨/١٩٨ : ضعيف ; الطبراني في المعجم الكبير:٢٢/٣٧٤ رقم ٩٣٧ و ذكر ابن حجر فى فتح الباري, كتاب الأحكام: ١٣/٢١٤ ; و الهيثمي في “مجمع الزوائد: ٥/١٩٠ وقال : رواه الطبراني ، وفيه جماعة لم أعرفهم ; و ابو نعيم الأصبهاني في معرفة الصحابة: ٤/٤٨٧ رقم ١٤٤٣; و نعيم بن حماد في الفتن: ٢٨ –‘শিঘ্রই আমার পরে (সুন্নাহ পন্থার) খলিফা’গণ হবে, তারপর হবে আমীর (ধাঁচের) খলিফাগণ, তারপর হবে বাদশাহ (ধাঁচের) আমীররা এবং তারপর হবে জাবরিয়্যাহ (ধাঁচের) শাসকরা। এরপর আমার ‘আহলে-বাইত’ -এর মধ্য থেকে এক ব্যাক্তির আবির্ভাব হবে, যে পৃথিবীকে ইনসাফ দ্বারা ভরে দিবে -যেমনটা (তাঁর আগমনের পূর্বে পৃথিবীটা) পাপ-অপরাধ দ্বারা ভরে ছিল। এরপর (এক) কাহতানী  (ব্যাক্তি) শাসক হবে। ওই সত্ত্বার কসম যিঁনি  মুহাম্মাদ’কে হক্ব সহকারে পাঠিয়েছেন, যিনি ছাড়া (ইলাহ) কেউ নেই, (এসব অবশ্যই হবে)’। [তারিখে দামেশক, ইবনুল আসাকীর- ১৪/২৮২ হাদিস ৩৫৬১; আল-মা’রিফাহ, মুনদুহু- ২/২৩৬/২; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ২২/৩৭৪ হাদিস ৯৩৭; মা’রিফাতুস সাহাবা, আবু নুআইম- ৪/৪৮৭ হাদিস ১৪৪৩; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৫/১৯০; আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ২৮]

সাঈদ বিন মুসাইয়্যেব রহ. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَقُولُ فِي مِثْلِ مَقَامِي هَذَا هَذا الْأَمْرُ بَدأ نُبُوَّةً وَرَحْمَةً ، وَسَيَعُودُ سُلْطَانًا وَرَحْمَةً ، ثُمَّ يَكُونُ مُلْكًا وَرَحْمَةً . رواه أَبو نُعَيْم الْأَصْبهَانِي فى أَخْبَارُ أَصْبَهَانَ: ٥١٥ , فيه اسماعيل بن عمر و هو ضعيف   – ‘(একবার) ওমর বিন খাত্তাব রা. খুৎবায় বললেন: আমি আমার এরকম স্থানে (দাঁড়ানো অবস্থায়) রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে এই এরশাদ করতে শুনেছি: এই আমর (দ্বীন) আরম্ভ হয়েছে নবুওত ও রহমত (দিয়ে)। অতি শিঘ্রই হবে সুলতান (খিলাফত) ও রহমত। এরপর হবে মুলক (বাদশাহী) ও রহমত। [আখবারু আসবাহান, আবু নুআইম, হাদিস ৫১৫]

আরেকটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন-  إياكم وأبواب السلطان فانه أصبح صعبا . رواه الطبراني قال الهيثمي في مجمع الزوائد:٥/٢٤٦ رواه الطبراني ورجاله رجال الصحيح.– ‘তোমরা (ফাসেক ও বদকার) সুলতানের দরজাসমূহ থেকে বেঁচে থেকো। কারণ সে সমস্যা-জটিলতা দিয়ে (তার) সকাল (শুরু) করে। (আর তোমার জানা নেই, তুমি তার থেকে কোন ফিতনায় জড়িয়ে পড়বে)’। [ত্বাবরাণী: মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৫/২৪৬]

যাবির বিন অাব্দুল্লাহ রা. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- أعاذك الله من إمارة السفهاء. قال: وما إمارة السفهاء؟ قال: “أمراء يكونون بعدي لا يهتدون بهديي ولا يستنون بسنتي، فمن صدقهم بكذبهم وأعانهم على ظلمهم؛ فأولئك ليسوا مني ولست منهم، ولا يردون علي حوضي، ومن لم يصدقهم بكذبهم ولم يعنهم على ظلمهم؛ فأولئك مني وأنا منهم، وسيردون علي حوضي . رواه: الإمام أحمد: ١١/٤٤٩رقم ١٤٣٧٨ إسناده صحيح, تحقيق: حمزة أحمد الزين ، والبزار: ٢/٢٤١ رقم ١٦٠٩, و قال الهيثمي في مجمع الزوائد: ٥/٢٤٧ رجالهما رجال الصحيح; عبد الرزاق في مصنفه: ١١/٣٤٥; ابن حبان في صحيحه: ٥/٩ رقم ١٧٢٣ و قال الأرنؤوط: صحيح على شرط مسلم ; الحاكم في المستدرك: ٣/٣٧٩ و صححه و وافقه الذهبي; وصححه أحمد شاكر في تعليقه على سنن الترمذي: ٢/٥١٤  ‘(হে কা’ব!) তুমি নির্বোধ অামীর (শাসক) থেকে আল্লাহ’র আশ্রয় চেও। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: নির্বোধ অামীর কে? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: (ওরা হল) এমন সব অামীর যারা আমার পরে আসবে। তারা না আমার দেখানো পথে চলবে, আর না আমার আদর্শ মাফিক রীতি-নীতি চালু করবে। কাজেই যে ব্যাক্তি তাদের মিথ্যাকে সত্ত্বায়ন করবে এবং তাদের জুলুম-অন্যায়-অবিচার -এর সহায়তা করবে, ওরা আমার (কেউ) নয়, আমিও তাদের (কেউ) নই এবং তারা (কেয়ামতের দিন আমার) হাউজ (-ই-কাউসার)-এর নিকটে আসতে পারবে না। আর যে ব্যাক্তি তাদের মিথ্যাকে সত্ত্বায়ন করবে না এবং তাদের জুলুম-অন্যায়-অবিচার -এর সহায়তা করবে না, ওরা আমার , আমিও তার এবং (কেয়ামতের দিন) তারা আমার হাউজ (-ই-কাউসার)-এর নিকটে সহজে আসতে পারবে’ – [মুসনাদে আহমদ, ৩/৩২১  ; সহিহ ইবনে হিব্বান– ৫/৯ হাদিস ১৭২৩; মুসনাদে বাযযার- ২/২৪১ হাদিস ১৬০৯; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ১১/৩৪৫; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৩৭৯; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৫/২৪৭]

হুযাইফা রা. থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- إنها ستكون أمراء يكذبون ويظلمون فمن صدقهم بكذبهم وأعانهم على ظلمهم فليس منا و لست منهم ولا يرد على الحوض , ومن لم يصدقهم بكذبهم ولم يعنهم على ظلمهم فهو مني وأنا منه , وسيرد علي الحوض . رواه أحمد: ١٦/٥٧١ رقم ٢٣١٥٣ بإسناد صحيح, تحقيق: حمزة أحمد الزين; و ذكر ابن حجر العسقلاني بسند في الأمالي المطلقة: رقم ١٩٦ و قال: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ; و رواه الترمذي فى سننه: ٤/٤٥٥ رقم ٢٢٥٩; النسائي فى سننه: ٧/١٦٠ رقم ٤٢٠٧; و صححه الألباني في صحيح الترمذي و في صحيح سنن النسائي: ٣/١٣٥ ; ابن حبان في الصحيح رقم ٢٧٩; – ‘নিশ্চই অতি শিঘ্রই (এমন সব) আমীররা আসবে, (যারা) মিথ্যা কথা বলবে এবং (জনগণের উপর) জুলুম-অন্যায়-অবিচার করবে। কাজেই যে ব্যাক্তি তাদের মিথ্যাকে সত্ত্বায়ন করবে এবং তাদের জুলুম-অন্যায়-অবিচার -এর সহায়তা করবে, সে আমাদের (কেউ) নয়, আমিও তাদের (কেউ) নই এবং (তারা কেয়ামতের দিন আমার) হাউজ (-ই-কাউসার)-এর নিকটে আসতে পারবে না। আর যে ব্যাক্তি তাদের মিথ্যাকে সত্ত্বায়ন করবে না এবং তাদের জুলুম-অন্যায়-অবিচার -এর সহায়তা করবে না, সে আমার , আমিও তার এবং (কেয়ামতের দিন সে আমার) হাউজ (-ই-কাউসার)-এর নিকটে সহজে আসতে পারবে’। [মুসনাদে আহমদ– ১৬/৫৭১ হাদিস ২৩১৫৩; সুনানে নাসায়ী- ৭/১৬০; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ২৭৯; জামে তিরমিযী- ৪/৪৫৫ হাদিস ২২৫৯ ]

সওবান রা. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- إِنَّمَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي الْأَئِمَّةَ الْمُضِلِّينَ . رواه أبو داود: ٤٢٥٢; والترمذي: ٢٢٢٩; و صححه الألباني في صحيح سنن أبي داود و في سلسلة الأحاديث الصحيحة: رقم ١٥٨٢ و ١٩٨٩; و قد جود إسناده الحافظ العراقي في تخريج الإحياء: ص ٧٢، و كذا ابن كثير في مسند الفاروق: ٢/٥٣٥، والمناوي في ” التيسير: ٢/١٦٢، وأحمد: ٤/١٢٣ و ٥/٢٧٨ قال الشيخ أحمد شاكر: إسناده حسن; و قال الهيثمي في مجمع الزوائد: ٥/٢٣٩: رواه أحمد ورجاله ثقات ; قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله : حديث الأئمة المضلون محفوظ ، وأصله في الصحيح كما في بيان تلبيس الجهمية: ٢/٢٩٣; ; و الدارمي:١/٨٠ رقم ٢٠٩    – ‘আমার উম্মতের উপর আমি সব থেকে বেশি ভয় করি -পথভ্রষ্ঠ ইমামদেরকে (খলিফা/আমীর/সুলতান/লিডার/ রাষ্ট্রপ্রধান দেরকে)’। [সুনানে আবু দাউদ- ৪/৯৭ হাদিস ৪২৫২; জামে তিরমিযী- ৪/৫০৪ হাদিস ২২২৯; সুনানে দারেমী– ১/৮০ হাদিস ২০৯; মুসনাদে আহমদ- ১/১৫,  ৪/১২৩, ৫/২৭৮]

আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- يَكُونُ بَعْدَ الْأَنْبِيَاءِ خُلَفَاءُ يَعْمَلُونَ بِكِتَابِ اللَّهِ ، وَيَعْدِلُونَ فِي عِبَادِ اللَّهِ ، ثُمَّ يَكُونُ بَعْدَ الْخُلَفَاءِ مُلُوكٌ يَأْخُذُونَ بِالثَّأْرِ ، وَيَقْتُلُونَ الرِّجَالَ ، وَيَصْطَفُونَ الْأَمْوَالَ ، فَمُغَيِّرُ بِيَدِهِ ، وَمُغَيِّرُ بِلِسَانِهِ ، وَمُغَيِّرُ بِقَلْبِهِ ، لَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنَ الْإِيمَانِ شَيْءٌ . رواه البيهقي في دَلَائِلُ النُّبُوَّةِ: رقم ٢٦١٧; ذكر ابن كثير في النهاية في الفتن والملاحم: ١/٥   – ‘’। [দালায়েলুন নাবুওত, বাইহাকী, হাদিস ২৬১৭; আন-নিহায়াহ ফিল ফিতান ওয়াল মালাহিম, ইবনে কাসির- ১/৫]

হযরত সওবান রা. থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يَقْتَتِلُ عِنْدَ كَنْزِكُمْ ثَلَاثَةٌ ، كُلُّهُمْ ابْنُ خَلِيفَةٍ ، ثُمَّ لَا يَصِيرُ إِلَى وَاحِدٍ مِنْهُمْ ، ثُمَّ تَطْلُعُ الرَّايَاتُ السُّودُ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ فَيَقْتُلُونَكُمْ قَتْلًا لَمْ يُقْتَلْهُ قَوْمٌ – ثُمَّ ذَكَرَ شَيْئًا لَا أَحْفَظُهُ – فَقَالَ : فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَبَايِعُوهُ وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الثَّلْجِ ، فَإِنَّهُ خَلِيفَةُ اللَّهِ الْمَهْدِيُّ – رواه ابن ماجه في ” السنن “, كتاب الفتن, باب “خروج المهدي ٢/ ١٣٦٧، رقم ٤١٨٤ , قال ابن كثير إسناده قوي صحيح: النهاية في الفتن والملاحم: ١/٢٩, وصححه القرطبي في ” التذكرة ” ص١٢٠١، وصححه البوصيري في ” مصباح الزجاجة ” ٣/٢٦٣، وصححه الشيخ حمود التويجري رحمه الله في كتابه ” إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة ” ٢/١٨٧. و رواه البزار في ” المسند ” ٢/١٢٠، والروياني رقم ٦١٩، والحاكم في ” المستدرك ” ٤/٥١٠، ومن طريقه البيهقي في ” دلائل النبوة ” ٦/٥١٥ – ‘তিন ব্যাক্তি তোমাদের ধ্বনসম্পদ’কে কেন্দ্র করে লড়াইয়ে লিপ্ত হবে; তারা প্রত্যেকেই হবে খলিফার পুত্র। পরে (সেই ধ্বনসম্পদ বাস্তবে) তাদের কারোর হাতেই আসবে না। এরপর পূর্ব দিক (-এর একটি অঞ্চল) থেকে কালো পতাকা উত্তলিত হবে, তখন তারা তোমাদেরকে এমনভাবে হত্যা করবে যে, সেরকম হত্যা কোনো জাতি করেনি। এরপর তিনি আরো কিছু উল্লেখ করলেন, যা আমার স্মরণে নেই। এরপর বললেন: সুতরাং তোমরা যদি তাঁকে দেখতে পাও, – যদি বরফের উপর দিয়েও হামাগুড়ি দিতে হয়- তবুও (সে কষ্ট সহ্য করে হলেও) তাঁর কাছে (গিয়ে) বায়াত করো। কারণ, তিনি হলেন (শেষ জামানায়) আল্লাহ’র (নিযুক্ত) খলিফাহ; আল-মাহদী’। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪১৮৪; মুসনাদে বাযযার-২/১২০; মুসনাদে রোইয়ানী- হাদিস ৬১৯; মুসতাদরাকে হাকিম-৪/৫১০; দালায়েলুন্নাবুয়াত, বাইহাকী-৬/৫১৫]

# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন-   وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيُوشِكَنَّ أَنْ يَنْزِلَ فِيكُمْ ابْنُ مَرْيَمَ حَكَمًا عَدْلًا فَيَكْسِرَ الصَّلِيبَ وَيَقْتُلَ الْخِنْزِيرَ وَيَضَعَ الْجِزْيَةَ وَيَفِيضَ الْمَالُ حَتَّى لَا يَقْبَلَهُ أَحَدٌ حَتَّى تَكُونَ السَّجْدَةُ الْوَاحِدَةُ خَيْرًا مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ وَإِنْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ إِلَّا لَيُؤْمِنَنَّ بِهِ قَبْلَ مَوْتِهِ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكُونُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا . رواه بخاري في الصحيح, كتاب أحاديث الأنبياء, باب نزول عيسى ابن مريم عليهما السلام: رقم ٣٤٤٧; و مسلم في الصحيح, كتاب الإيمان, باب نزول عيسى ابن مريم حاكما بشريعة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم: رقم ١٥٥ – ‘ওই সত্ত্বার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন, অবশ্যই অচিরেই এমন হবে যে, তোমাদের (মুসলমানদের) মাঝে (ঈসা) ইবনে মারইয়াম (একজন) ন্যায়পরায়ন হাকেম (শাসক) হিসেবে অবতীর্ণ হবেন, তারপর ক্রুশকে ভেঙ্গে ফেলবেন, শুয়োরকে মেড়ে ফেলবেন, জিযীয়া খতম করে দিবেন এবং (মানুষজনকে) ধ্বনসম্পদ দান করতে থাকবেন, এমনকি (পরে মানুষের অবস্থা এমন স্বচ্ছল হবে যে,) কেউ (সম্পদ) গ্রহন (করার প্রয়োজন অনুভব) করবে না। একসময় (অবস্থা এমন হবে যে, মানুষের) একটি সিজদাহ দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উৎকৃষ্ট হবে’। অতঃপর আবু হুরায়রাহ রা. বলেন: ‘তোমরা চাইলে পড়তে পারো- وَإِن مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ إِلَّا لَيُؤْمِنَنَّ بِهِ قَبْلَ مَوْتِهِ ۖ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكُونُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا – আর (সেদিন) আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন কেউ থাকবে না, যে তাঁর প্রতি ইমান না আনবে। আর সে কেয়ামতের দিন তাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দান করবে’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৩৪৪৭; সহিহ মুসলীম, হাদিস ১৫৫]