Uncategorized

গরিব ও অভাবীর পেটে খাবার দাও ও দান-সদকাহ করো – সহজে বেহেশত নাও

Spread the love

গরিব ও অভাবীর পেটে খাবার দাও ও দান-সদকাহ করো – সহজে বেহেশত নাও

 

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَليٰ مُحَمَّدٍ النبي الأمي عَدَدَ خَلْقِك وَ رِضَا نَفْسِك وَزِنَةَ عَرْشِك وَ مِدَادَ كَلِمَاتِك، صَلِّ عَليه صَلاَةً كَامِلَةً دَائِمَةً كَمَا يَنْبَغِي أَنْ يُصَلَّى عَلَيهِ وَ سَلِّمْ تَسلِيمَاً بِقَدرِ عَظَمَةِ ذَاتِكَ فِى كُلِّ وَقتٍ وَ حِين، صلاة تكون لك رضاء و له جزاء، صلاة لا غاية لها ولا منتهى ولا انقضاء باقية ببقائك الى يوم الدين ، و اعطه الوسيلة و الفضيلة و المقام المحمود الذي وعدته، و اجزه عنا ما هو اهله، و على اله وأصحابه و أزواجه و ذريته و أهل بيته و سلم تسليما مثل ذلك، اَللّٰهُمَّ اجمعني معه في الفردوس و جنة المأوى، اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَليٰ مُحَمَّدٍ صَلوٰةً تُنَجِّيْنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ الْأَهْوَالِ وَاْلآفَاتِ وَتَقْضِيْ لَنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ الْحَاجَاتِ وَتُطَهِّرُنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ السَّيِّاٰتِ وَتَرْفَعُنَا بِهَا عِنْدَكَ اَعْليٰ الدَّرَجَاتِ وَتُبَلِّغُنَا بِهَا اَقْصىٰ الْغَايَاتِ مِنْ جَمِيْعِ الْخَيْرَاتِ فِي الْحَيَاتِ وَبَعْدَ الْمَمَاتِ- اِنَّكَ عَليٰ كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٍ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ

[উল্লেখ্য, এই গোটা আলোচনায় উল্লেখিত বিভিন্ন আয়াতে কারিমা, হাদিস ও আছার এবং আরবী ইবারত সমূহের অনুবাদ’কে কোনো বিজ্ঞ মুহাক্কেক আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে আমার অযোগ্যতার কারণে এখানে কোনো উল্লেখযোগ্য ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধন করে নেয়ার আগেই মানব সমাজে ছড়িয়ে না যায়। এগুলো পড়ুন ইলম অর্জনের জন্য এবং যোগ্য আলেম থেকে তা বুঝিয়ে নিন। আর কোনো যোগ্য চোখে উল্লেখযোগ্য ভুল ধরা পড়লে তা আমাকে অবগত করুন।]

 

এতীম, অসহায়, গরিব ও অভাবীকে খাবার খাওয়ানো এবং দান-সদকাহ করার সওয়াব ও ফজিলত: কুরআন কারিম থেকে

আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন-

وَ يُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا – إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا – إِنَّا نَخَافُ مِن رَّبِّنَا يَوْمًا عَبُوسًا قَمْطَرِيرًا

 “আর (বেহেশতীদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট এই যে), তারা তাঁর (তথা আল্লাহ তাআলার) ভালবাসার টানে (খুশিমনে) খানা খাওয়ায় মিসকিনকে, এতিমকে এবং কয়েদীকে। (তারা বলে:) আমরা তোমাদেরকে খাওয়াই শুধুমাত্র আল্লাহ’র রাজিখুশির জন্য, আমরা (এর বিনিময়ে) তোমাদের থেকে না কোনো প্রতিদান চাই, আর না কোনো শুকরিয়া। নিশ্চই আমরা আমাদের রবের (পক্ষ) থেকে (কেয়ামতের) দিবসে (তাঁর রাগ ও গোসসা ভরা) কঠোর চাহনিকে ভয় করে থাকি”। [সূরা আদ-দাহর ৮-১০]

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা এই আয়াতটি উল্লেখ করার পিছনেইংগীত রয়েছে যে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ’র গোসসা ও রাগ ভরা কঠোর চাহনি থেকে বাঁচার একটি অন্যতম উপায় হল ‘ক্ষুধার্থকে খানা খাওয়ানো’। 

وَ مَا تُنفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَلِأَنفُسِكُمْ ۚ وَ مَا تُنفِقُونَ إِلَّا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ ۚ وَ مَا تُنفِقُوا مِنْ خَيْرٍ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَ أَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ 

 “আর তোমরা (তোমাদের রিজিক থেকে নির্দেশিত) কোনো কল্যানকর (কাজে) যা কিছু (শরয়ী নিয়ম মতো) দান করো, তা মূলত: তোমাদের নিজেদের জন্যই (কল্যানকর হবে)। আর তোমরা কেবলমাত্র আল্লাহ’র সন্তষ্টি (পাওয়া)র অন্বেষণেই (তাঁর পথে) দান করবে। আর (আজ) তোমরা (দুনিয়াতে) যা কিছু কল্যানকর (কাজে) দান করবে, তা(র পুরষ্কার) তোমাদের পুরোপুরি দিয়ে দেয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি (কোনো রকম) অবিচার করা হবে না”। [সূরা বাকারাহ ২৭২]

 الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُم بِاللَّيْلِ وَ النَّهَارِ سِرًّا وَ عَلَانِيَةً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَ لَا هُمْ يَحْزَنُونَ

 “যারা তাদের সম্পদকে (আল্লাহ’র পথে) দান করে রাতে ও দিন -প্রকাশ্যে এবং গোপনে, তাদের পুরষ্কার রয়েছে তাদের রবের কাছে। (আখেরাতের জীবনে) তাদের উপরে না থাকবে কোনো ভয়ভীতি, আর না তারা চিন্তিত হবে”। [সূরা বাকারাহ ২৭৪]

এতীম, অসহায়, গরিব ও অভাবীকে খাবার খাওয়ানো এবং দান-সদকাহ করার সওয়াব ও ফজিলত: হাদিস ও আছার থেকে

# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেনقَالَ اللَّهُ أَنْفِقْ يَا ابْنَ آدَمَ أُنْفِقْ عَلَيْكَ . رواه البخاري فيي صحيحه ، كتاب النفقات، باب فضل النفقة على الأهل : ٩/٤٩٧ رقم ٥٣٥٢، و مسلم في صحيحه : رقم ٩٩٣  –“আল্লাহ বলেন: ‘হে আদম সন্তান! (আমার পথে) খরচ করো, তোমার উপরেও খরচ করা হবে”। [সহিহ বুখারী– ৯/৪৯৭ হাদিস ৫৩৫২; সহিহ মুসলীম, হাদিস ৯৯৩]

# উকবাহ বিন আমের রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেনكُلُّ امْرِئٍ فِي ظِلِّ صَدَقَتِهِ . رواه الإمام أحمد في المسند : ٢٨/٥٦٨ و غيره، و صححه محققو المسند، و الشيخ الألباني في تخريج أحاديث مشكلة الفقر : ص ٧٥  –“(কেয়ামতের দিন) প্রত্যেক (মুসলীম) ব্যাক্তি তার সদকাহ’র ছায়ায় থাকবে”। [মুসনাদে আহমদ- ২৮/৫৬৮ হাদিস ১৭৩৩২; মুসতাদরাকে হাকিম- ১/৫৭৬; সহিহ ইবনে হিব্বান– ৮/১০৪ হাদিস ৩৩১০; মুসনাদে আবু ইয়া’লা, হাদিস ১৭৬৬; সহিহ ইবনে খুযাইমাহ, হাদিস ২৪৩১]

# যাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন يا كعبُ بنَ عُجرةَ ! الصلاةُ قُربانٌ ، و الصيامُ جُنَّةٌ ، و الصدقةُ تُطفِئُ الخطيئةَ كما يُطفئُ الماءُ النارَ . أخرجه أحمد في المسند : رقم ١٥٢٨٤ ، و عبد بن حميد في المسند : رقم ١١٣٦ مطولاً، و أبو يعلى في المسند : رقم ١٩٩٩ و اللفظ له ، و صححه الألباني في صحيح الترغيب : رقم ٨٦٦  – “হে কা’ব বিন উযরাহ! নামায হল (আল্লাহ) নৈকট্য (লাভের সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম), আর সিয়াম (রোযা) হল (নাজায়েয বিষয়াবলি থেকে বাঁচার এক মজবুৎ) ঢাল (স্বরূপ), আর সদকাহ -গোনাহকে এমন ভাবে মিটিয়ে দেয় যেমনি ভাবে আগুকে মিটিয়ে দেয় পানি”। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৫২৮৪; মুসনাদে আব্দ বিন হুমায়েদ, হাদিস ১১৩৬; মুসনাদে আবু ইয়া’লা, হাদিস ১৯৯৯]

ফায়দা: আরেক হাদিসে এভাবে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন-تصدقوا ولو بتمرة، فإنها تسد من الجائع، وتطفئ الخطيئة كما يطفئ الماء النار . رواه ابن المبارك في الزهد ، وصححه الألباني في صحيح الجامع رقم ٢٩٥١  – “তোমরা দান-সদকাহ করো -যদিও বা (একটি) খেজুর (দানা) দিয়েই হোক না কেনো। কারণ, তা ক্ষুধাকে ঠেকায় এবং গোনাহকে (তা) এমন ভাবে মিটিয়ে দেয় যেমনি ভাবে আগুকে মিটিয়ে দেয় পানি”। [আল-জুহদ, ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক: জামেউস সহিহ, হাদিস ২৯৫১]

# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ . رواه مسلم في صحيحه، كتاب البر والصلة والآداب، باب استحباب العفو والتواضع، برقم ٢٥٨٨ “সদকাহ (দান) -ধ্বনমালে ঘাটতি আনে না, (বরং পরিণামে বরকত হয়)”। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৫৮৮]

# আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন:- أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْإِسْلَامِ خَيْرٌ قَالَ تُطْعِمُ الطَّعَامَ وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ . أخرجه البخاري في صحيحه : ١/٧١ رقم ١٢ ، و مسلم في صحيحه : ١/٦٥ رقم ٣٩، و ابو داود في السنن : ٥/٣٧٩ رقم ٥١٩٣ ، و ابن ماجه في سننه : ٢/١٠٨٣ رقم ٣٢٥٣ ، و ابن حبان في صحيحه , تاب الأطعمة , “باب إطعام الطعام : ٣٢٥٢ ، و غيرهم  – “(একবার) এক ব্যাক্তি নবী ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলো: ‘(ইয়া রাসুলাল্লাহ!) কোন ইসলাম উত্তম’? তিনি বললেন: ‘তুমি (ক্ষুধার্থকে) খানা খাওয়াবে এবং (মুসলমানদের মধ্যে) যাকে তুমি চেনো কিংবা চেনো না -(উভয়কেই) সালাম দিবে”। [সহিহ বুখারী– ১/৭১ হাদিস ১২; সহিহ মুসলীম- ১/৬৫ হাদিস ৩৯; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৩২৫২; সুনানে আবু দাউদ – ৫/৩৭৯ হাদিস ৫১৯৩; সুনানে নাসায়ী- ৮/১০৭ হাদিস ৫০০০; সুনানে ইবনে মাজা- ২/১০৮৩ হাদিস ৩২৫৩; মুসনাদে আহমদ- ২/১৬৯; আল-ইমান, ইবনে মানদাহ- ১/৪৫৩ হাদিস ৩১৭]

# আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَفْشُوا السَّلاَمَ وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ وَصِلُوا الأَرْحَامَ وَصَلُّوا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلاَمٍ . أخرجه الترمذي في سننه، کتاب صفة القيامة والرقائق والورع : ٤/٦٥٢ رقم٢٤٨٥، و ابن ماجه فى السنن ، کتاب إقامة الصلاة والسنة فيها، باب في قيام الليل : ١/٤٢٣ رقم ١٣٣٤، و ابن ماجه في السنن، کتاب الأطعمة، باب إطعام الطعام : ٢/١٠٨٣ رقم ٣٢٥١، و أحمد فى المسند : ٥/٤٥١ رقم ٢٣٨٣٥، و الدارمي في السنن : ١/٤٠٥ رقم ١٤٦٠، و صححه الألباني في صحيح ابن ماجه – “হে লোক সকল! তোমরা ব্যাপক ভাবে সালাম দাও, (ক্ষুধার্থকে) খানা খাওয়াও, আত্বীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখো, লোকজন ঘুমিয়ে গেলে তোমরা রাতে (উঠে তাহাজ্জাদের) নামায পড়ো, (আর) শান্তির সাথে বেহেশতে প্রবেশ করো”। [সুনানে ইবনে মাজাহ– ১/৪২৩ হাদিস ১৩৩৪, ২/১০৮৩ হাদিস ৩২৫১; সুনানে তিরমিযী- ৪/৬৫২ হাদিস ২৪৮৫; মুসনাদে আহমদ- ৫/৪৫১ হাদিস ২৩৮৩৫; সুনানে দারেমী- ১/৪০৫ হাদিস ১৪৬০; সহিহ ইবনে হিব্বান- ২/২৬১ হাদিস ৫০৮]

# ছুহায়েব রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেনفَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: خِيَارُكُمْ مَنْ أَطْعَمَ الطَّعَامَ وَرَدَّ السَّلَامَ . أخرجه أحمد في مسنده : ٦/١٦ ، و الطحاوي في شرح معاني الآثار : رقم ٧١٠٥ ، و ابن سعد في في الطبقات الكبرى : ٣/٢٢٧، و غيرهم ، و صححه الألبانى فى السلسلة الصحيحة : رقم ٤٤ – “রাসুলুল্লাহ ﷺ বলতেন: তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হল (সেই মুসলমান) যে (ক্ষুধার্থকে) খানা খাওয়ায় এবং (অহঙ্কার মুক্ত খুশি মন নিয়ে তার মুসলমান ভাইয়ের) সালামের জবাব দেয়”। [মুসনাদে আহমদ৬/১৬; আল-মু’জামুল কাবির, ত্বাবরাণী- ৮/৩৮ হাদিস ৭৩১০; শারহু মাআনীল আছার, ইমাম ত্বাহাবী- ৪/১৬৬ হাদিস ৭১০৫; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ- ১/৩২৬ হাদিস ৪৮৩;  মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৩১০ হাদিস ৭৭৩৯; শুআবুল ইমান, বাইহাকী- ৬/৪৭৮ হাদিস ৮৯৭৩; আত-ত্ববাকাতুল কুবরা, ইবনে সা’দ- ৩/২২৭; আল-ইসতিয়াব, ইবনু আব্দিল বার- ১/২২০; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৫/১৯]

# হারেছাহ বিন নু’মান রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেনمُناولةُ المِسكينِ تَقِي ميتةَ السُّوءِ . أخرجه الطبرانى في المعجم الكبير , باب الحاء , باب من اسمه حارثة : رقم ٣٦٣٣ ، و غيره ايضا، قال الهيثمى في مجمع الزاوئد : ٣/١١٥ : رواه الطبراني في الكبير وفيه من لم أعرفه، و ضعفه الألباني في سلسلة الأحاديث الضعيفة : ١٠/١٩٨ رقم ٤٦٦٧  – “মিসকিন (-এর কাছে দান-সদকাহ) বিতরণ (আমলটি) -অপমৃত্যু থেকে মুক্তি দেয়”। [আল-মু’জামুল কাবির, ত্বাবরাণী- ৩/৬৩১ হাদিস ৩৬৩৩; তারিখুল কাবির, ইমাম বুখারী- ১/১৮০; মা’রেফাতুস সাহাবাহ, আবু নুআইম- ১/৭৩৭ হাদিস ১৯৬৪; হিলইয়াতুল আউলিয়াহ, আবু নুআইম- ২/৩০২; শুয়াবুল ইমান, বাইহাকী- ২/১৭২; আত-ত্ববাকাত, ইবনে সা’দ- ৩/৪৮৮; মুসনাদে ফিদাউস, দাইলামী- ৪/১৫৩ হাদিস ৬৪৭৩]
 
# আবু মালেক আশয়ারী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّ في الجنةِ غُرَفًا يُرَى ظَاهِرُها من باطِنِها ، و باطِنُها من ظَاهِرِها . فقال أبو مالِكٍ الأَشْعَرِيُّ : لِمَنْ هيَ يا رسولَ اللهِ ؟ قال : لِمَنْ أَطَابَ الكَلامَ ، و أَطْعَمَ الطَّعَامَ ، و باتَ قائِمًا و الناسُ نِيامٌ . رواه ابن حبان في صحيحه : ٢/٢٦٢ رقم ٥٠٩، و أحمد في مسنده : ٥/٣٤٣ رقم ٢٢٩٥٦ ، و قال الألباني في صحيح الترغيب : ٩٤٦: صحيح لغيره – “নিশ্চই জান্নাতের ভিতরে (অতীব সুন্দর সুন্দর) প্রাসাদ রয়েছে; ওর ভিতর (দিক) থেকে ওর বাইরের (দিককার সব জিনিস) দেখা যায় এবং ওর বাহির (দিক) থেকে (দেখা যায়) ওর ভিতর (দিককার সব জিনিসপত্র)’। তখন আবু মালেক আল-আশয়ারী বললেন: ‘এটা কার জন্য, ইয়া রাসুলাল্লাহ’? তিনি বললেন:তার জন্য, যে পবিত্র কথা বলে ও (ক্ষুধার্তকে) খানা খাওয়ায় এবং (এমন ব্যাক্তির জন্য, যখন) লোকজন ঘুমিয়ে যায়, আর সে রাত জেগে নামাযে দন্ডায়মান থাকে”। [সহিহ ইবনে হিব্বান- ২/২৬২ হাদিস ৫০৯; মুসনাদে আহমদ- ৫/৩৪৩ হাদিস ২২৯৫৬]
 
# যাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেনمن موجبات المغفرة إطعام المسلم السغبان . أخرجه الحاكم في المستدرك , كتاب التفسير: ٢/٥٢٤ و قال: هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه و اقره الذهبي ، و البيهقي في شعب الإيمان: ٣/٢١٧ رقم ٣٣٦٤، ضعفه الألباني في ضعيف الترغيب والترهيب : ١/٢٧٧ رقم ٥٥٠ – “ক্ষুধার্ত মুসলীমকে খানা খাওয়ানো -(আল্লাহ’র) ক্ষমা ওয়াজিবকারী (আমল)সমূহের মধ্যে একটি”। [মুসতাদরাকে হাকিম- ২/৫২৪; শুয়াবুল ইমান, ইমাম বাইহাকী- ৩/২১৭ হাদিস ৩৩৬৪; আদ-দুররুল মানসুর, ইমাম সুয়ূতী- ৮/৫২৪]
 
# আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- من أطعم أخاه خبزا حتى يشبعه وسقاه ماء حتى يرويه بعده الله عن النار سبع خنادق بعد ما بين خندقين مسيرة خمسمائة سنة . أخرجه الحاكم في المستدرك , كتاب الأطعمة , فضيلة إطعام الطعام : ٤/١٢٩ و قال : هذا حديث صحيح الاسناد ولم يخرجاه و افقه الذهبي، و البيهقي في الشعب الإيمان : ٥/٦١ رقم ٣٠٩٦، و الخرائطي في مكارم الأخلاق : رقم ٣٢٦، و الدولابي في الكنى : ١/١١٧، و وابن عساكر في تاريخ دمشق : ١٨/٩٢، . ليس هذا الحديث موضوعا، بل هو حديث مقارب حسن مع غيره، ورجاء هذا ليس بالوضاع كما زعم ابن حبان فإنه كان من المتشددين ولا دليل على كذبه كما زعم، بل رجاء شيخ عابد صالح من كبار المصريين وأشرافهم، ومما يدل على عدالته أيضا كونه كان مؤذنا، ولذلك قال عنه الذهبي ” صويلح “. و هو نفسه رجاء بن الأشيم بن كبيش كما قال النسائي وابن عساكر: ١٨/٩٣ و قد قال عنه ابن يونس وابن ماكولا :” وكان رجاء هذا شريفا بمصر ..”، وقال ابن العديم :” من أشراف أهل مصر “، وقد مدحه ورثاه عبد العزيز القاري حين قتل، ومما يدل على صلاحه وعدالته ما خرجه البيهقي في الشعب : ٥/٦١ و قال ” و أخبرنا أبو علي بن شاذان حدثنا عبد الله بن جعفر….. عن أبي الأشيم، مؤذن دمياط، وكان شيخا صالحا…. زيادة فائدة لا توثيقا لأبي الأشيم رجاء بن أبي عطاء، فيكون الوهم من الألباني في السلسلة الضعيفة لكن يحتاج إلى بحث وتحقيق، قال الهيثمى في مجمع الزاوئد : ٣/١٣٠ : رواه الطبراني في الكبير والأوسط بنحوه إلا أنه قال : ” من أطعم أخاه خبزا ” . وفيه رجاء بن أبي عطاء ، وهو ضعيف ، و قد صححه الحاكم و الذهبي وأقرهما المنذري، وقال الذهبي في تاريخ الإسلام : ١٥/٥٧ : هذا حديث غريب جيد الإسناد رواته كلهم مصريون أو نازلون بديار مصر – “যে ব্যাক্তি তার (মুসলীম) ভাইকে রুটি খাওয়ায় -এমনকি সে তাকে (খাইয়ে) পেট ভরিয়ে (পরিতৃপ্ত করে) দেয় এবং তাকে পানি পান করায় -এমনকি তার তৃষ্না মিটিয়ে দেয়, আল্লাহ (তাআলা কেয়ামতের দিন) তাকে দোযখ থেকে সত্তর খন্দক দূরে সরিয়ে রাখবেন। (আর) দুটি খন্দকের মধ্যবর্তী দূরত্ব হল পাঁচ’শ বছরের পথ ”। [মুসতাদরাকে হাকিম৪/১২৯; শুআবুল ইমান, ইমাম বাইহাকী- ৫/৬১ হাদিস ৩০৯৬; মাকারিমুল আখলাক্ব, খারাতায়ী, হাদিস ৩২৬; আল-কুনা, দাউলানী– ১/১১৭; মুসনাদে ফিরদাউস, দাইলামী- ৩/৫৭৬ হাদিস ৫৮০৭; তারিখে দামেশক, ইবনুল আসাকীর- ১৮/৯২; তারগীব, মুনযিরী- ১/২৬০ হাদিস ৩৯৯; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৩/১৩০]
 
# রাফে বিন খাদীজ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- الصدقة تسُدُّ سبعين بابا من السوء . رواه الطبراني في الكبير: ٤/٢٧٤ رقم ٤٤٠٢، قال الهيثمي في مجمع الزاوئد : فيه حماد بن شعيب وهو ضعيف، وضعفه الألباني في ضعيف الترغيب والترهيب : ١/١٣١ رقم ٥٢١  – “সদকাহ  অনিষ্টের সত্তরটি দ্বার রুদ্ধ করে দেয়”। [আল-মু’জামুল কাবির, ত্বাবরাণী- ৪/২৭৪ হাদিস ৪৪০২]
 
# আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন تصدقوا فإن الصدقة فكاككم من النار. أخرجه الطبرانى في الأوسط : ٨٠٦٠ ، و أبو نعيم في الحلية : ١٠/٤٠٣، و البيهقي في شعب الإيمان : ٣٣٥٥ ، إسناده ضعيف، تفرد به الحارث بن عمير وهو ضعيف، اورده قال الهيثمي في مجمع الزاوئد : ٣/١١٣، و ضعفه الألباني في ضعيف الترغيب والترهيب : ١/١٣٢ رقم ٥٢٣  – “তোমরা সদকাহ (দান) করো। কারণ, নিশ্চই সদকাহ তোমাদেরকে দোযখ থেকে রুখে দিবে”। [আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরাণী- ৮০৬০; হিলইয়াতুল আউলিয়াহ, আবু নুআইম- ১০/৪০৩; শুয়াবুল ইমান, বাইহাকী- ৩৩৫৫; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৩/১১৩]
 
 
 
 
 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *