গাজওয়াতুল হিন্দ ও ইমাম মাহদীর নেতৃত্ব – মহানবী সা.-এর ভবিষ্যত বাণী

Spread the love
image_pdfimage_print

গাজওয়াতুল হিন্দ ও ইমাম মাহদীর নেতৃত্ব – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যত বাণী

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و كفى و سلام على عباده الذين اصطفى

 

আমরা ইতিপূর্বে কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে (এখানে ক্লিক করুন) কিছু হাদিস ও আছার পেশ করেছি। এখানে গাজওয়াতুল হিন্দ বিষয়ক কিছু রেওয়ায়েত উল্লেখ করা হল। [উল্লেখ্য, এখানে উল্লেখিত হাদিসসমূহ কোনো বিজ্ঞ মুহাদ্দেস আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এগুলো শুধু উল্লেখ করছি, যাতে এই রেওয়ায়েতসমূহে বর্ণিত কোনো ঘটনা ঘটতে দেখলে তা চিনে নিতে পারেন এবং রেওয়াতের হক্ব আদায় করতে পারেন।

হযরত সওবান রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- عِصَابَتَانِ مِنْ أُمَّتِي أَحْرَزَهُمَا اللَّهُ مِنَ النَّارِ: عِصَابَةٌ تَغْزُو الْهِنْدَ، وَعِصَابَةٌ تَكُونُ مَعَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلَام. روى النسائي فى سننه: ٣١٧٥ ، و أحمد فى المسند:١٨/٣٧ رقم ٢٢٣٩٦, وهو حديث صحيح، صححه الإمام السيوطي في الجامع الصغير، والألباني في صحيح الجامع: ٤٠١٢ والصحيحة: ١٩٣٤ – ‘আমার উম্মতের মধ্যে দুটি দল রয়েছে, আল্লাহ তাদের উভয়কে দোযখ থেকে মুক্তি দিবেন। (১) হিন্দ (ভারত)-এর সাথে গাজওয়া (জিহাদ) করনেওয়ালা দল এবং (২) ঈসা ইবনে মানইয়াম আ.-এর সঙ্গী দল।’। [সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৩১৭৫; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২২৩৯৬]

ফায়দা: মুফতী মুহাম্মাদ রফি উসমানী দা:বা: (প্রধান মাফতী, দারুল উলূম করাচী) বলেছেন যে, সাহাবাগণের জামানা থেকে নিয়ে পরবর্তীতে হিন্দ-এর কাফেরদের সাথে মুসলমানদের বহু জিহাদ সংঘটিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হতে পারে যে, তাহলে এতগুলো জিহাদের মধ্যে কোন জিহাদটির কথা হাদিসে বলা হচ্ছে? এর উত্তরে তিনি বলেছেন যে, হাদিসটিতে উল্লেখীত সুসংবাদটি ওগুলোর মধ্যে বিশেষ কোনো জিহাদ’কে নির্দিষ্ট করেনি। বরং হিন্দ-এর বিরুদ্ধে যতগুলো (শরয়ী দৃষ্টিতে সহিহ) জিহাদ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে হবে, তার সবগুলোই হাদিসের সুসংবাদের আওতায় পড়বে, ইনশাআল্লাহ। [আলামাতে কিয়ামাত ওয়া নুজুলে মাসিহ, রফি উসমানী- ৫৮ পৃষ্ঠা] অর্থাৎ, হিন্দ-এর কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদকারী বিভিন্ন সময়ের মুহাহিদগণ একত্রে মিলে একটি দল যাঁরা ইনশাআল্লাহ দোযখের আগুন থেকে নাজাত লাভ করবেন।  الله اعلم

তবে আমার কাছে যে ব্যাখ্যাটি বেশি সঠিক মনে হয়, তা এই যে, এই হাদিসে খুব সম্ভবতঃ নিকট ভবিষ্যতে যে ‘মালহামাতুল-কুবরা (মহাযুদ্ধ) হবে মর্মে বিভিন্ন হাদিসে ইশারা করা হয়েছে, তখনকার ঘটনার দিকে ইগীত করা হয়েছে। সে সময় খলিফায়ে রাশেদ ইমাম মাহদী রা. মুসলীম উম্মাহ’র নেতৃত্ব দিবেন এবং পৃথিবী জুড়ে কাফের মুশরেকদের সাথে প্রায় ৬/৭ বছর টানা যুদ্ধ চলতে থাকবে। সে সময় মুমিনদের একটি অংশ হিন্দ (ভারত)-এর মুশরেকদের বিরুদ্ধে লড়তে থাকবে (যে যুদ্ধটি ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ নামে সমধিক পরিচিত) এবং মুমিনদের বাকি আরেকটি অংশ দাজ্জাল ও ইহুদীদের সাথে লড়বে শাম (সিরিয়া, জর্ডান, ফিলিস্তিন, লেবানন ইত্যাদি) এলাকায়। আমার মতে, উপরে সুনানে নাসায়ীর হাদিসে মুজাহিদগণের এই দুই জামাআতকে দোযখের আযাব থেকে মুক্তি দেয়ার দিকে ইশারা করা হয়েছে।

যেমন, নাহিক বিন সুরাইম আস-সাকুনী থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- لتقاتلن المشركين حتى تقاتل بقيتكم الدجال ، على نهر بالأردن ، أنتم شرقيه ، و هم غربيه ، و ما أدري أين الأردن يؤمئذ من الأرض . اخرجه البزار في كشف الأستار: ٤/١٣٨ رقم ٣٣٨٧ ; و و الطبراني في مسند الشاميين: رقم . قال الهيثمي في في ” مجمع الزوائد : ٧/٣٤٩ : رواه الطبراني والبزار ورجال البزار ثقات ; و اخرجه ايضا ابن سعد في الطبقات: ٧/٤٢٢ ; والديلمي في مسند الفردوس: ٤/١٨٦ ; وابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني برقم ٧٧٣ ; و قال الألباني في ” السلسلة الضعيفة و الموضوعة: ٣/٤٦٠ رقم ١٢٩٧  – ‘অবশ্যই মুশরেকদের সাথে তোমাদের যুদ্ধ হবে। এমনকি তোমাদের (মুসলমানদের) বাকি অংশ দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে -উরদুনে অবস্থিত (একটি) নহরের ধারে, যার পূর্ব পার্শ্বে থাকবে তোমরা, আর তার পশ্চিম পার্শ্বে থাকবে ওরা। (রাবী বলেন:) আমি জানি না, সেদিন উরদুন (অঞ্চলটি) পৃথিবীর কোথায় হবে’। [মুসনাদে বাযযার -৪/১৩৭ হাদিস ৩৩৮৭; মুসনাদে শামেঈন, ত্বাবরাণী ; আল-আহাদ ওয়াল মাছানী, ইবনু আবি আসিম, হাদিস ৭৭৩; আত-ত্ববাকাত, ইবনে সা’দ- ৭/৪২২; মুসনাদে ফিরদাউস, দাইলামী- ৪/১৮৬; তারিখে দামেশক, ইবনু আসাকীর -৬২/৩২৩; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩৪৯]

উরদুন জর্দান নহর Jordan River

এই হাদিসে ‘উরদুন’ বলতে বর্তমান সময়কার জর্দান দেশ উদ্দেশ্য। জর্দান ও ইসরাইলের মাঝখানে যে নহর/নদীটি উভয় দেশকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে, হাদিসের উরদুনে অবস্থিত নহর/নদী বলতে সেই নহরটিই উদ্দেশ্য। ২৫১ কিমি. দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট জর্দান নদীটি এশিয়া মহাদেশ এর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে দীর্ঘতম নদী, যা শেষ হয়েছে মৃত সাগর বা Dead sea তে। 

এখানে মুজাহিদগণের একটি জামাআতের সাথে দাজ্জাল ও ইহুদীদের যুদ্ধ হবে। ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. আসমান থেকে সিরিয়ার দামেশকের জামে’ মসজিদের মিনারে অবতরণ করবেন এবং ফিলিস্তিনের লুদ নামক স্থানে দাজ্জালকে হত্যা করবেন। খুব সম্ভবতঃ দাজ্জালের মৃত্যুর পর ইহূদীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালাতে থাকবে, তখন মুসলমানরা তাদেরকে পাইকারী হারে হত্যা করবে। যেমন, আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেছেন-  لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ الْيَهُودَ ، فَيَقْتُلُهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى يَخْتَبِئَ الْيَهُودِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْحَجَرِ وَالشَّجَرِ، فَيَقُولُ الْحَجَرُ أَوِ الشَّجَرُ: يَا مُسْلِمُ يَا عَبْدَ اللهِ هَذَا يَهُودِيٌّ خَلْفِي ، فَتَعَالَ فَاقْتُلْهُ ، إِلَّا الْغَرْقَدَ، فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرِ الْيَهُودِ . رواه مسلم , كتاب الْفِتَنِ وَأَشْرَاطِ السَّاعَةِ, بَاب لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ فَيَتَمَنَّى أَنْ يَكُونَ مَكَانَ الْمَيِّتِ مِنْ الْبَلَاءِ: رقم ٢٩٢٢ ; و الدانى في السنن الواردة في الفتن, بَابُ مَا جَاءَ فِي قِتَالِ هَذِهِ الأُمَّةِ أَهْلَ: ٤٥١; و أحمد في المسنده: رقم ٢٧٥٠٢ ; و الخطيب البغدادي في تاريخ: ٨/١١٤ – ‘কেয়ামত কায়েম হবে না, যাবৎ না মুসলমানরা ইহুদীদের সাথে ক্বিতাল (স্বসস্ত্র জিহাদ) করে। পরে মুসলমানরা তাদেরকে কতল করবে। এমনকি (মুসলমানদের ধাওয়া খেয়ে) ইহূদীরা পাথর ও গাছের পিছনে লুকিয়ে পড়বে। তখন পাথর বা গাছ বলবে: ‘হে মুসলীম! ওহে আল্লাহ’র বান্দা ! এই যে আমার পিছনে ইহূদী (লুকিয়ে আছে)’। তখন সে এসে তাকে কতল করবে। শুধু বাবলা গাছ স্বতন্ত্র (সে একথা বলবে না), কারণ সে ইহূদীদের গাছ’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯২২; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২৭৫০২; আস-সুনানুল ওয়ারিদাহ, ইমাম দানী, হাদিস ৪৪৯; তারিখে বাগদাদ, খতীব- ৮/১১৪] 

হাদিসটিতে মুশরেকদের সাথে যুদ্ধ বলতে আমার মতে ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ উদ্দেশ্য। মুজাহিদগণ ভারতের মুশরেকদের উপরে জয় লাভ করার পর তাদের লিডারদেরকে বেঁধে নিয়ে যখন শাম-এ যাবেন তখন সেখানে গিয়ে তাঁরা ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-কে দেখে ধন্য হবেন।

যেমন, হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- وَعَدَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَزْوَةَ الْهِنْدِ فَإِنْ أَدْرَكْتُهَا أُنْفِقْ فِيهَا نَفْسِي وَمَالِي فَإِنْ أُقْتَلْ كُنْتُ مِنْ أَفْضَلِ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ أَرْجِعْ فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ. روى النسائي ٣١٧٣ ، وأحمد ٢/٢٢٩, والحديث ضعفه الألباني في ضعيف سنن النسائي ٢٠٢ ، ٢٠٣ . وكذلك الشيخ شعيب الأرنؤوط في تخريجه لمسند أحمد ١٢/٢٩ , البداية والنهاية لابْنُ كَثِيرٍ: ١٩/١٠ – ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে গাজওয়ায়ে-হিন্দ -এর ওয়াদা করেছেন। সুতরাং  আমি যদি তা পেয়ে যাই, তাহলে আমি আমার জান ও মাল (আল্লাহ’র রাস্তায়) দিয়ে দিবো। আর যদি আমাকে (ওই যুদ্ধে) কতল করে ফেলা হয়, তাহলে আমি হবো সর্বোত্তম শহিদগণের মধ্যে একজন। আর আমি যদি (ওই জিহাদে বেঁচে) ফিরে আসি, তাহলে আমি আবু হুরায়রাহ হবো (দোযখের শাস্তি থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত ’। [সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৩১৭৩; মুসনাদে আহমদ- ২/২২৯; আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ইবনে কাসির- ১০/১৯]

ইমাম নুআইম বিন হাম্মাদ (মৃ: ২২৮ হি:) নিজ সনদে হযরত আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- عن صفوان بن عمرو ، عن بعض المشيخة ، عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم – وذكر الهند – فقال : ليغزون الهند لكم جيش يفتح الله عليهم ، حتى يأتوا بملوكهم مغللين بالسلاسل ، يغفر الله ذنوبهم ، فينصرفون حين ينصرفون فيجدون ابن مريم بالشام . قال أبو هريرة : إن أنا أدركت تلك الغزوة بعت كل طارف لي وتالد وغزوتها ، فإذا فتح الله علينا وانصرفنا فأنا أبو هريرة المحرر ، يقدم الشام فيجد فيها عيسى بن مريم ، فلأحرصن أن أدنوا منه فأخبره أني قد صحبتك يا رسول الله . قال : فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم وضحك ثم قال : هيهات ، هيهات . رواه نعيم بن حماد في ” الفتن ” : ص/٤٠٩, وفي سنده إبهام الراوي عن أبي هريرة ، كما أن في سنده بقية بن الوليد مدلس وقد عنعن – ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ (একবার) হিন্দ-এর উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: অবশ্যই তোমাদের (মুসলমানদের একটি) সৈন্যদল হিন্দে’র সাথে গাজওয়া (জিহাদ) করবে (এবং) আল্লাহ (তাআলা তোমাদের মুজাহিদগণকে) তাদের উপর বিজয় দান করবেন। এমন কি তারা ওদের রাষ্ট্রনায়কদেরকে শিকলে বেঁধে নিয়ে আসবে। আল্লাহ তাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। এরপর তারা (তাদেরকে রেখে) চলে যাবে এবং শাম-এ (গিয়ে) তারা ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পাবে’। (রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর একথা শুনে) হযরত আবু হুরায়রাহ রা. বলেন: আমি যদি (আমার জীবনকালে) সেই গাজওয়া (জিহাদ) পেয়ে যাই, তাহলে আমার নতুন-পুরাতন তল্পিতল্পা সব বিক্রি করে দিয়ে সেই গাজওয়ায় অংশ নিবো। এরপর আল্লাহ তাআলা যখন আমাদেরকে বিজয় দান করবেন এবং আমরা সেখান থেকে ফিরে আসবো, তখন আমি আবু হুরায়রাহ হবো (দোযখের আগুন থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত। (আহা ! সেই সময়ে আবু হুরায়রাহ’র কি আনন্দ হত, যখন) সে শাম-এ গিয়ে সেখানে ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পেতো! ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার খুব ইচ্ছে হয় তাঁর সান্নিধ্যে যেতে এবং তাঁকে এই খবর দিতে যে আমি আপনরা সাহাবী। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺ (আমার একথা শুনে) মুচকি হেসে দিলেন, অতঃপর বললেন: এমনটা হবার নয় ! এমনটা হবার নয়’! [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, হাদিস ১২৩৬] 

ইমাম ইসহাক বিন রাহওয়াই (মৃ: ২৩৮ হি:) নিজ সনদে হযরত আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى ، أنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو السَّكْسَكِيِّ ، عَنْ شَيْخٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يوْمًا الْهِنْدَ ، فَقَالَ : لَيَغْزُوَنَّ جَيْشٌ لَكُمُ الْهِنْدَ ، فَيَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ حَتَّى يَأْتُوا بِمُلُوكِ السِّنْدِ مُغَلْغَلِينِ فِي السَّلاسِلِ ، فَيَغْفِرُ اللَّهُ لَهُمْ ذُنُوبَهُمْ فَيَنْصَرِفُونَ حِينَ يَنْصَرِفُونَ ، فَيَجِدُونَ الْمَسِيحَ ابنَ مَرْيَمَ بِالشَّامِ ” ، قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : فَإِنْ أَنَا أَدْرَكْتُ تِلكَ الْغَزْوَةَ بِعْتُ كُلَّ طَارِد وَتَالِدٍ لِي وَغَزَوتُهَا ، فَإِذَا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْنَا انْصَرَفْنَا ، فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرِّرُ يَقْدَمُ الشَّامَ فَيَلْقَى الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ ، فَلأَحْرِصَنَّ أَنْ أَدْنُوَ مِنْهُ ، فَأُخْبِرَهُ أَنِّي صَحِبْتُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ : فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَاحِكًا  . اخرجه إسحاق بن راهويه فى المسند, رقم الحديث ٤٧١, – ‘‘রাসুলুল্লাহ ﷺ একদিন হিন্দ-এর উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: অবশ্যই তোমাদের (মুসলমানদের একটি) সৈন্যদল হিন্দে’র সাথে গাজওয়া (জিহাদ) করবে, এতে আল্লাহ (তাআলা তোমাদের মুজাহিদগণকে) তাদের উপর বিজয় দান করবেন। এমন কি তারা সিন্দ- এর (এলাকাভুক্ত) রাষ্ট্রপ্রধানদেরকে শিকলে বেঁধে নিয়ে আসবে। আল্লাহ তাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। এরপর তারা (তাদেরকে রেখে) চলে যাবে এবং শাম-এ (গিয়ে) তারা ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পাবে’। (রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর একথা শুনে) হযরত আবু হুরায়রাহ রা. বলেন: আমি যদি (আমার জীবনকালে) সেই গাজওয়া (জিহাদ) পেয়ে যাই, তাহলে আমার নতুন-পুরাতন তল্পিতল্পা সব বিক্রি করে দিয়ে সেই গাজওয়ায় অংশ নিবো। এরপর আল্লাহ তাআলা যখন আমাদেরকে বিজয় দান করবেন এবং আমরা সেখান থেকে ফিরে আসবো, তখন আমি আবু হুরায়রাহ হবো (দোযখের আগুন থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত। (আহা ! সেই সময়ে আবু হুরায়রাহ’র কি আনন্দ হত, যখন) সে শাম-এ গিয়ে সেখানে আল-মাসিহ ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পেতো! আমার খুব ইচ্ছে হয় তাঁর সান্নিধ্যে যেতে এবং তাঁকে এই খবর দিতে যে আমি আপনরা সাহাবী -ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺ (আমার একথা শুনে) মুচকি হেসে দিলেন’ [মুসনাদে ইসহাক বিন রাহুবিয়্যা – ১/৪৬২ হাদিস ৫৩৭] 

ইমাম নুআইম বিন হাম্মাদ (মৃ: ২২৮ হি:) নিজ সনদে হযরত সাফওয়ান রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو ، عَمَّنْ حَدَّثَهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : ” يَغْزُو قَوْمٌ مِنْ أُمَّتِي الْهِنْدَ ، يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ حَتَّى يَأْتُوا بِمُلُوكِ الْهِنْدِ مَغْلُولِينَ فِي السَّلاسِلِ ، فَيَغْفِرُ اللَّهُ لَهُمْ ذُنُوبَهُمْ ، فَيَنْصَرِفُونَ إِلَى الشَّامِ ، فَيَجِدُونَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلامُ بِالشَّامِ ” . رواه نعيم بن حماد في ” الفتن ” (ص/٣٩٩) قال : حدثنا الوليد ، عن صفوان بن عمرو ، عمن حدثه عن النبي صلى الله عليه وسلم . وهذا إسناد ظاهر الضعف بسبب عنعنة الوليد بن مسلم ، وظاهره ـ أيضا ـ الإرسال ، لأنه ليس فيه أن من حدث صفوان بن عمرو سمع النبي صلى الله عليه وسلم ، ولا أنه كان صحابيا – ‘অবশ্যই আমার উম্মতের একটি গোষ্ঠি হিন্দ-এর সাথে গাজওয়া (জিহাদ) করবে।আল্লাহ (তাআলা ওই মুজাহিদগণকে) তাদের উপর বিজয় দান করবেন। এমনকি তারা হিন্দে’র রাষ্ট্রনায়কদেরকে শিকল দিয়ে বেঁধে নিয়ে আসবে। আল্লাহ তাদের গোনাহ সমূহ ক্ষমা করে দিবেন। এরপর তারা শাম-এর দিকে ড়ওনা হবে। তারা শামে (গিয়ে) ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পাবে’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ৩৯৯ পৃ:]

বেনজামিন নিতানিয়াহু নরেন্দ্র মোদি ভারত গাজওয়ায়ে হিন্দ যুদ্ধআমার দীর্ঘ গবেষনার আলোকে আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি, বর্তমানকার ইসরাইলী ইহূদীরাই হল দাজ্জালের লষ্কর, যাদের সাথে ইসফাহান ও অন্যান্য স্থানের ইহূদীরা শরিক হয়ে দাজ্জালের সহগামী হবে। তার বহু কারণ রয়েছে। যেমন:

প্রথমত: আমরা ‘নবীজীর ভবিষ্যৎবাণী’ সিরিজে দেখিয়ে এসেছি যে, আমরা শেষ জামানায় ঢুকে পড়েছি। আর ইমাম মাহদী রা.-এর আগমন, মালহামাতুল কুবরা (মহাযুদ্ধ)-এর শুরু, দাজ্জালের আগমন ও ইহূদীদেরকে নিয়ে মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ ইত্যাদি সব এই শেষ জামানাতেই ঘটবে।

দ্বিতীয়ত: এই ইহূদীরা প্রায় ২০০০ হাজার বছর পর পূণরায় ইসরাইলে একটি ক্ষমতাধর দেশ হিসেবে আত্বপ্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছে এবং খোদ আমেরিকার মতো শক্তিধর দেশকে নাকে দড়ি দিয়ে তাদের নিজের কাঝে লাগাচ্ছে। এই শেষ জামানাতেই এরা ইসরাইলে তাদের শক্ত শিকড় গেড়ে নিয়েছে।

 এর আগে (রাসুলুল্লাহ সা. এর নবুওতের বহু পূর্বে) দুনিয়াতে ফিতনা ফ্যাসাদের বাজার গরম করায় আল্লাহ’র সাময়ীক দুনিয়াবী আযাব হিসেবে ইহূদীরা দু’ দুবার ভিন্ন ভিন্ন শক্রু দ্বারা চরম ভাবে আক্রান্ত হয় এবং তাদের ওই শক্রুরা তাদের রক্তের বন্যা বইয়ে দেয়। ফলে তারা দুই বার পবিত্র ভূমি থেকে বিতারিত হয় এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পরে। সুদীর্ঘ প্রায় ২০০০ বছর তারা কোনো দেশেই স্থির হয়ে জিড়িয়ে নিতে পারেনি, বরং এখানে ওখানে ঠোকড় খেয়ে বেড়িয়েছে। ফলে দীর্ঘ ২০০০ বছর পর ইহূদী ধর্ম গ্রহনকারী একটি ইউরোপিয়ান ধ্বনকুবের ব্যাংকার ইহূদী গোষ্ঠি (যাদেরকে জায়োনিষ্ট ইহূদী বলা হয় এবং যাদের সাথে বাস্তবেই প্রকৃত বনী ইসরাঈলদের বংশধারাগত কোনো সম্পর্ক নেই, যা আজ ডিএনএ টেষ্ট দ্বারাও বৈজ্ঞানীক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তারা) বিশ্বের ইহূদীদেরকে একটি একজোট শক্তিশালী জাতি হিসেবে দুনিয়ার বুকে পূণরায় দাঁড় করিয়ে তোলার একটি সুবর্ণ সুযোগের গন্ধ পায় এবং তাদের সকল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল ব্যবহার করে (যার বহু গবেষনাধর্মী ডকুমেন্টারী রয়েছে) গত শতাব্দিতে তথা ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনের মুসলমানদেরকে জোর করে তাড়িয়ে দিয়েে ইসরাঈল নামক একটি দেশ বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিস্থাপন করিয়ে নিতে পূর্ণভাবে সমর্থ হয়। এরপর থেকে আরব আজমে মুসলমানদের যে করুন দশা শুরু হয়েছে, তার পিছনে এই জায়োনিষ্ট ধ্বনকুবেড় ইহূদিদের প্রত্যক্ষ কলকাঠি নাড়ার বিষয়টি আজ সচেতন মানুষের কাছে অজানা নয়। বাহ্যতঃ সকলের মনে হচ্ছে যে, ইউরোপ আমেরিকার শয়তান পলিটিশিয়ানরা মুসলমানদের রক্ত ও ইজ্জত আব্রু নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, কিন্তু বাস্তবে দাবার গুটি চালছে এই ইহুদীরা। ইহূদীরা তৃতীয় বারের মতো পৃথিবীতে পূণরায় ফিতনা ফ্যাসাদের বাজার গরম করার প্রায় শেষ সীমায় এসে পৌচেছে। আমার ব্যাক্তিগত ক্ষুদ্র গবেষনা মতে, এই জায়োনিষ্ট ইহুদীরাই হল সেই ইহুদী যাদের কথা উপরোক্ত হাদিসে ইংগীত করা হয়েছে, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা তৃতীয়বারের মতো চুড়ান্ত শিক্ষা দিবেন মুসলমানদের হাত দ্বারা। 

তৃতীয়ত: ইসরাইলের জায়োনিষ্ট ইহুদী গোষ্ঠি এবং ভারতের হিন্দু মুশরেক গোষ্ঠির মাঝে বর্তমানে দহরম মহরম রাজনৈতিক মিত্রতা ও জিগরী বন্ধন সৃষ্টি হয়ে গেছে। ইসরাইলের পিচাশ রাষ্ট্রপ্রধান বেনজামিন নেতাননিয়াহু এবং ভারতের পিচাশ রাষ্ট্রপ্রধান নরেন্দ্র মোদি উভয়ে মিলে আমেরিকাকে চিরতরে কুপকাত করার উদ্দেশ্যে নজর দিয়েছে ইউ.এস ডলারের পতন ঘটানোর দিকে। কারণ সকলেই জানে, ইন্টারনেশনাল ডোমিনেন্ট কারেন্সির পতন মানে ইন্টারনেশনাল মুরুব্বির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া। এক সময় একই কায়দায় আমেরিকা ব্রিটেনের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছিল সে সময়কার ব্রিটেনের ইন্টারনেশনাল ডোমিনেন্ট কারেন্সি স্টারলিন পাউন্ড-এর স্থলে ডলারকে প্রতিস্থাপন করে এবং এটার জন্য বিশ্ব যুদ্ধের দরকার হয়েছিল। আর আজ ইসরাইল ও ভারত উভয়ে মিলে  পৃথিবীতে মুরুব্বি হয়ে বসার মানসে ডলারের পতন ঘটানের জন্য বিশ্ব জুড়ে বিটকয়েন নামক এক ডিজিটাল কারেন্সি চালুর পায়তারায় লেগে আছে। এর কার্যক্রম ইতিমধ্যে ব্যাপক ভাবে শুরু হয়েছে এবং হয়-তো কিছুদিনের মধ্যেই পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে তাদের এই ডিজিটাল কারেন্সি সিস্টেমের আওতায় জড়িয়ে যাবে। তখন এমন অবস্থা হবে যে, কেউ টাকা পয়সা দিয়ে চাইলেও কিছু কেনা বেচা করতে পারবে না, কারণ কেউ তা নিবে না। বরং কেনা বেচা করতে হলে তাকে ওদের ওই ডিজিটাল কারেন্সি ব্যবহার করেই লেনদেন করতে হবে। ফল দাঁড়াবে এই যে, তাদের কাছে আপনার ডিজিটাল তথ্য থাকবে, আপনার একাউন্ট তাদের কন্ট্রোলে থাকবে, আপনি সর্বদা তাদের ডিজিটাল নজরদারিতে থাকবেন এবং তাদের কথা মতো না চললে তারা যে কোনো সময় আপনার একাউন্ট বন্ধ করে দিবে -যাবৎ না আপনি তাদের দাস হয়ে যেতে রাজি হন। এরা যখন দাজ্জালের অধিনে আসবে, তখন এই পুরো ডিজিটাল সিস্টেমকে ব্যবহার করে মানুষকে হাতে রাখতে চাইবে। ডলারের পুরোপুরি পতন ঘটাতে হলে দরকার হবে একটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। আমার মতে এই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধটিই হবে ‘মালহামাতুল কুবরা’ এবং এ যুদ্ধ ইতিপূর্বেকার ইতিহাসের যে কোনো যুদ্ধের চাইতে সাংঘাতিক হবে -এতে কোনো সন্দেহ নেই। দুনিয়া যে কি পরিমান তছনছ হবে -তা ভাবতেই গা শিওরে ওঠার কথা। পুথিবীর মানুষের দূর্ভিক্ষ ও চরম দুরাবস্থার মধ্যেই দাজ্জাল বেড় হবে তার খাদ্য-পানিয় ও পার্থিব সুখ সামগ্রী নিয়ে। একেবারে খাঁটি ইমানদার ব্যাক্তি ছাড়া কে আছে যে তার ওই প্রলভনে তার বস্যতা স্বীকার না করে নিজকে বিরত রাখবে !!! 

বাইতুল মাকদিস মসজিদুল আকসা ডোম অব দা রক ইসরাইল জেরুজালেমহযরত মুয়ায বিন যাবাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- عمران بيت المقدس خراب يثرب، وخراب يثرب خروج الملحمة، وخروج الملحمة فتح القسطنطينية، وفتح القسطنطينية خروج الدجال. أخرجه أبو داود في “السنن: ٤٢٩٤ و حسّنه الألباني في صحيح أبي داود: رقم ٤٢٩٤ ; وأحمد في “مسنده: ٥/٢٤٥ رقم ٢٢١٢١; الطحاوي في “شرح مشكل الآثار: ٥١٩, ; ابن أبي شيبة في “المصنف:١٥/١٣٥ رقم ٣٨٤٧٣ ;;الطبراني في “المعجم الكبير: ٢٠/١٠٨;الحاكم في “المستدرك:٨٢٩٧ ; الديلمي في “الفردوس: ٤١٢٧; قال الحافظ ابن كثير في النهاية:١/٥٩ : وهذا إسناد جيد وحديث حسن، وعليه نور الصدق وجلالة النبوة – ‘বায়তুল-মাকদিস’-এর গড়ন (হলে ঘটনার ক্রমধারায়) ইয়াসরিব’-এর খারাবী (হবে)। ইয়াসরিব’-এর খারাবী (হলে ঘটনার ক্রমধারায়) মালহামাহ’র সূত্রপাত (হবে)।মালহামাহ’র সূত্রপাত (হলে এর ক্রমধারায় মুসলমানদের হাতে) কুসতুনতুনিয়া (তথা কনসটেন্টিনোপল, তুরষ্ক)’র বিজয় (সংঘটিত হবে), আর কুসতুনতুনিয়া’র বিজয় (সংঘটিত হলে তার কিছু কাল পর) দাজ্জালের আবির্ভাব (হবে)। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৯৪; মুসনাদে আহমদ-৫/২৪৫, হাদিস ২২১২১; শারহু মুশকিলিল আছার, ত্বাহাবী, হাদিস ৫১৯; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ- ১৫/১৩৫, হাদিস ৩৮৪৭৩; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ২০/১০৮; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস ৮২৯৭; মুসনাদে ফিদোউস, দাইলামী, হাদিস ৪১২৭]

এই হাদিসে عمران بيت المقدس – ‘বায়তুল মাকদিসের গড়ন’ বলতে কিছু বছর আগেও অনেকে মনে করতেন যে, বর্তমান ইসরাইল সেখানকার মুসলীম অমুসলীম পুরাণো বাসিন্দাদেরকে জোর করে হটিয়ে দিয়ে সেখানে অবৈধ ভাবে  তাদের যেসব বিল্ডিং বাড়ি নির্মান করছে, সম্ভবতঃ ‘বায়তুল মাকদিসের গড়ন’ বলতে সেদিকেই ইংগীত করা হয়েছে, পবিত্র বায়তুল মাকদিস অতীব দীর্ঘ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। কিন্তু এখন-তো দেখা যাচ্ছে, ইসরাইলী ইহূদীরা আরো এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে খোদ বায়তুল মাকদিসে অবস্থিত মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান ‘মসজিদুল আকসা’ (যা ‘মসজিদে ওমর’ এবং কুব্বাতুস সাখরা -দুই মসজিদকেই অন্তর্ভূক্ত করে নেয়)-কে প্রশাসনিক ভাবে পূর্ণভাবে গুড়িয়ে দিয়ে সেখানে তাদের ইহূদী গীর্যাকে প্রতিস্থাপনের প্রহর গুণছে। প্রহর গুণছে এজন্য বললাম, কারণ তাদের এবাবদ প্লান ও কাঠামোগত কার্যক্রম শেষ, এখন শুধু একটি সুবর্ণ সুযোগের অপেক্ষা। যখন তারা ভাল করে বুঝতে পারেবে যে, মুসলমানরা তাদের এই কার্যক্রম ঠেকানোর মতো শক্তি হারিয়ে ফেলেছে, তখন তারা এটা করবে বলে অনেকে অনুমান করছেন। বহু ডকুমেন্টারী এর সাক্ষ্য বহন করে যে, আজকের মুসলীম বিশ্বের মাঝে হারাজ (খুনাখুনি ও কোন্দল) লাগিয়ে দেয়ার পিছনে ইহূদীরাই সক্রিয় রয়েছে, যাতে মুসলমানরা দলে দলে বিভক্ত হয়ে পরষ্পরে পরষ্পরের শত্রু হয়ে দূর্বল হয়ে থাকে; কখনো এক হয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। আর এদিকে পাক ভারত বাংলাদেশ সহ আশেপাশের দেশগুলোতে একই মিশন নিয়ে কাজ করছে ভারতের হিন্দু রাজনীতিক ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থা ‘’। এদিক থেকে গাজওয়াতুল হিন্দ ও দাজ্জালের ইহূদী লষ্করদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ বাঁধার প্লাটফর্ম তৈরী হতে চলেছে। الله اعلم بالصواب