জিহাদ কার উপরে ফরয ? শর্ত শরায়েত ও মাসলা মাসায়েল

কিতাল / জিহাদ কার কার উপরে ফরয ? বিভিন্ন শর্ত শরায়েত ও মাসলা মাসায়েল – কুরআন সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে

 

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَليٰ مُحَمَّدٍ النبي الأمي عَدَدَ خَلْقِك وَ رِضَا نَفْسِك وَزِنَةَ عَرْشِك وَ مِدَادَ كَلِمَاتِك، صَلِّ عَليه صَلاَةً كَامِلَةً دَائِمَةً كَمَا يَنْبَغِي أَنْ يُصَلَّى عَلَيهِ وَ سَلِّمْ تَسلِيمَاً بِقَدرِ عَظَمَةِ ذَاتِكَ فِى كُلِّ وَقتٍ وَ حِين، صلاة تكون لك رضاء و له جزاء، صلاة لا غاية لها ولا منتهى ولا انقضاء باقية ببقائك الى يوم الدين ، و اعطه الوسيلة و الفضيلة و المقام المحمود الذي وعدته، و اجزه عنا ما هو اهله، و على اله وأصحابه و أزواجه و ذريته و أهل بيته و سلم تسليما مثل ذلك، اَللّٰهُمَّ اجمعني معه في الفردوس و جنة المأوى، اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَليٰ مُحَمَّدٍ صَلوٰةً تُنَجِّيْنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ الْأَهْوَالِ وَاْلآفَاتِ وَتَقْضِيْ لَنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ الْحَاجَاتِ وَتُطَهِّرُنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ السَّيِّاٰتِ وَتَرْفَعُنَا بِهَا عِنْدَكَ اَعْليٰ الدَّرَجَاتِ وَتُبَلِّغُنَا بِهَا اَقْصىٰ الْغَايَاتِ مِنْ جَمِيْعِ الْخَيْرَاتِ فِي الْحَيَاتِ وَبَعْدَ الْمَمَاتِ- اِنَّكَ عَليٰ كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٍ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ

[উল্লেখ্য,  এই গোটা আলোচনায় উল্লেখিত বিভিন্ন কুরআনের আয়াত, হাদিস ও আছার এবং আরবী ইবারত সমূহের অনুবাদ ও আনুসঙ্গিক ব্যাখ্যাকে কোনো বিজ্ঞ মুহাক্কেক আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে আমার অযোগ্যতার কারণে এখানে কোনো উল্লেখযোগ্য ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধন করে নেয়ার আগেই মানব সমাজে ছড়িয়ে না যায়। এগুলো পড়ুন ইলম অর্জনের জন্য এবং যোগ্য আলেম থেকে তা বুঝিয়ে নিন। আর কোনো যোগ্য চোখে উল্লেখযোগ্য ভুল ধরা পড়লে তা আমাকে অবগত করুন।]


 

জিহাদ কখন কার উপরে ফরয হয় ? বিভিন্ন শর্ত শরায়েত ও মাসলা মাসায়েল

আল্লাহ তাআলা যে এরশাদ করেছেন- كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ – “(হে মুসলমানগণ) তোমাদের উপরে ক্বিতাল (সমর জিহাদ)’কে বিধিবদ্ধ (ফরয) করে দেয়া হল”[সূরা বাকারাহ ২১৬] এই সম্মোধন দ্বারা সকল শ্রেণির মুসলমান উদ্দেশ্য নয়। বরং, কুরআন সুন্নাহ’র বিভিন্ন দলিলাদির আলোকে বোঝা যায় যে, মোটামুটি ভাবে ৭ (সাত)টি শর্ত যে মুসলমানের মধ্যে পাওয়া যাবে, সাধারণ অবস্থায় শুধু তার উপরেই ক্বিতাল/জিহাদ ফরয হবে, (কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া, যার আলোচনা আমরা পরে পেশ করবো ইনশাআল্লাহ)। 

ইমাম ইবনে কুদামাহ আল-মাকদেসী (মৃ: ৬৮২ হি:) রহ. বলেন- ويشترط لوجوب الجهاد سبعة شروط: الإسلام، والبلوغ، والعقل، والحرية، والذكورية، والسلامة من الضرر، ووجود النفقة – “(কারোর উপরে) জিহাদ ওয়াজিব (অপরিহার্য/ফরয) হওয়ার সাতটি শর্ত রয়েছে: (১) মুসলমান হওয়া, (২) বালেগ/প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়া, (৩) আক্বেল (জ্ঞানবোধ সম্পন্ন) হওয়া, (৪) (দাসত্ব থেকে) মুক্ত/স্বাধীন হওয়া, (৫) পুরুষ হওয়া, (৬) (দৈহিক ও মানসিক) সমস্যা থেকে সুস্থ্য/নিরাপদ থাকা এবং (৭) (জিহাদের) খরচপাতি বিদ্যমান থাকা”। [আল-মুগনী, ইবন কুদামাহ- ৮/৩৪৭]

পাঠকগণের মধ্যে যারা এব্যপারে কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে আরো বিস্তারিত ইলম হাসিল করতে আগ্রহী, তাদের জন্য নিম্নে এই শর্তগুলো’কে আলাদা আলাদা ভাবে যথাসম্ভব বিস্তারিত ভাবে পেশ করা হল।

১. মুসলীম হওয়া

একথা জানা জরুরী যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর উপরে যে সকল শরয়ী আহকাম নাজিল করেছেন, সেগুলোর অনুগত্য অনুসরণ করা ফরয/ওয়াজিব হয় শুধুমাত্র তাদের উপরে যারা মুসলীম। সুতরাং, ইসলামে ক্বিতাল/জিহাদ -এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ফরয ইবাদতটি’র যাবতীয় হুকুম আহকামও শুধুমাত্র মুসলমানদের উপরেই প্রযোজ্য; অমুসলীমদের উপরে নয়। যেমন, আল্লাহ তাআলা নিম্নোক্ত আয়াতগুলোতে শুধুমাত্র মুসলমানদেরকে উদ্দেশ্য করেই জিহাদের আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা  এরশাদ করেন-

أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا 
‘(মক্কার কাফেরদের পক্ষ থেকে যে সকল মুসলমানদের বিরুদ্ধে) ক্বিতাল (সমর যুদ্ধ) করা হচ্ছে, তাদেরকে (তাদের প্রভু আল্লাহ’র পক্ষ থেকে ক্বিতাল/সমর যুদ্ধ চালানোর) অনুমতি দেয়া হল। তা এজন্য যে, তারা  (কাফেরদের দ্বারা) নির্যাতিত হচ্ছে’। [সূরা হজ্জ ৩৯-৪১]
 
كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ 
‘(হে মুসলমানগণ) তোমাদের উপরে ক্বিতাল (জিহাদ/সমর যুদ্ধ)’কে বিধিবদ্ধ (ফরয) করে দেয়া হল’। [সূরা বাকারাহ ২১৬
 
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِّضِ المُؤْمِنِينَ عَلَى القِتَالِ 
“হে নবী (মুহাম্মাদ)! তুমি মুমিনদেরকে (আল্লাহ’র পথে ক্বিতালের (সমর যুদ্ধের) জন্য উৎসাহিত করো”। [সূরা আনফাল ৬৫] 
 
আয়েশা সিদ্দিকা রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قِبَلَ بَدْرٍ فَلَمَّا كَانَ بِحَرَّةِ الْوَبَرَةِ أَدْرَكَهُ رَجُلٌ قَدْ كَانَ يُذْكَرُ مِنْهُ جُرْأَةٌ وَنَجْدَةٌ فَفَرِحَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ رَأَوْهُ فَلَمَّا أَدْرَكَهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جِئْتُ لأَتَّبِعَكَ وَأُصِيبَ مَعَكَ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ لاَ قَالَ ‏”‏ فَارْجِعْ فَلَنْ أَسْتَعِينَ بِمُشْرِكٍ ‏”‏ ‏.‏ قَالَتْ ثُمَّ مَضَى حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالشَّجَرَةِ أَدْرَكَهُ الرَّجُلُ فَقَالَ لَهُ كَمَا قَالَ أَوَّلَ مَرَّةٍ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَمَا قَالَ أَوَّلَ مَرَّةٍ قَالَ ‏”‏ فَارْجِعْ فَلَنْ أَسْتَعِينَ بِمُشْرِكٍ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ رَجَعَ فَأَدْرَكَهُ بِالْبَيْدَاءِ فَقَالَ لَهُ كَمَا قَالَ أَوَّلَ مَرَّةٍ ‏”‏ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏:‏ فَانْطَلِقْ . رواه مسلم في صحيحه , كتاب الجهاد والسير، باب كراهة الاستعانة في الغزو بكافر : ٣/١٤٥٠ رقم ١٨١٧ ; و اخرجه ايضا غيره – “রাসুলুল্লাহ ﷺ বদরের দিকে বেড় হয়ে পড়লেন। তিনি যখন হাররাতুল-ওয়াবারাহ (নামক স্থানে) গিয়ে পৌছলেন, তখন এক ব্যাক্তি তাঁর সাথে সাক্ষাত করলো, যার নির্ভিকতা ও দু:সাহসিকতার কথা (লোক মুখে) আলোচিত ছিল। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবীগণ যখন তাকে দেখলেন (যে, তার মতো একজন যোদ্ধা তাদের সাথে যুদ্ধে শরিক হতে এসেছে), তখন তারা খুশি হলেন। সে যখন রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে সাক্ষাত করলো তখন তাঁকে বললো: ‘আমি আপনার অনুগত্য করতে এসেছি এবং আপনার সাথে (যুদ্ধে শরিক হয়ে যুদ্ধলব্ধ গনিমতের ভাগ) লোভ করতে চাই’। রাসুলুল্লাহ ﷺ তাকে বললেন: ‘তুমি কি ইমান এনেছো -আল্লাহর উপরে ও তাঁর রাসুলের উপরে’? সে বললো: ‘না’। এতে তিঁনি বললেন: ‘তাহলে তুমি ফিরে যাও। আমি কোনো মুশরিকের সাহায্য চাই না’। আয়েশা রা. বলেন: ‘অত:পর তিনি চলতে থাকলেন, এমনকি আমরা যখন সাজারাহ’য় গিয়ে পৌছলাম, তখন ওই ব্যাক্তি আবারো তাঁর সাথে সাক্ষাত করে ওই কথাই বললো যা সে প্রথমবার বলেছিল। নবী ﷺও তাকে সেই জবাবই দিলেন যা তিঁনি প্রথমবার দিয়েছিলেন। বললেন: ‘তাহলে তুমি ফিরে যাও। আমি কোনো মুশরিকের সাহায্য চাই না’। রাবী বলেন: ‘অত:পর সে ফিরে গেল এবং (পরে) বায়দা (নামক স্থানে পূণরায়) তাঁর সাথে সাক্ষাত করলো। তখন তিঁনি তাকে সেই কথাই বললেন যা তিনি প্রথমবার বলেছিলেন। (তথা) ‘তুমি কি ইমান এনেছো আল্লাহর উপরে ও তাঁর রাসুলের উপরে’? সে (এবারে বললো): ‘জি (আমি ইমান এনেছি)’। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: তাহলে (আমাদের সাথে যুদ্ধে) চলো”। [সহিহ মুসলীম– ৩/১৪৫০ হাদিস ১৮১৭; সুনানুল কুবরা, বাইহাকী- ৯/৩৭; মুসনাদে আবু আউয়ানাহ, হাদিস ৬৯০০; শারহু মুশকিলিল আছার, ইমাম ত্বাহাবী- ২/১৬২ হাদিস ২৭৫৪, ২৭৫৫]
 
কুরআন হাদিসের এজাতীয় বিভিন্ন দলিলাদি একথার প্রমাণ যে, জিহাদ ফরয হয় শুধুমাত্র মুসলমানদের উপরে; অমুসলমানদের উপরে নয়। [ফিকহুস সুন্নাহ- ৩/৮৫] এব্যাপারে ইজমা রয়েছে।
 
২. বালেগ (প্রাপ্ত বয়ষ্ক) হওয়া
 
ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে, কোনো মুসলীম শিশু যতদিন পর্যন্ত নাবালেগ (অপ্রাপ্তবয়ষ্ক) থাকে, ততদিন পর্যন্ত তার উপরে ইসলামী শরীয়তের কোনো আহকাম পালন করা ফরয/ওয়াজিব (অত্যাবশ্যক) হয় না।

যেমন, উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثلاث: عن الصَّبِى حَتَّى يَبْلُغَ، ……………. . رواه الإمام أحمد في مسنده : ٦/١٠٠، والدارمى في سننه , كتاب: الحدود، باب: رفع القلم عن ثلاثة : ٢/١٧١، وأبو داودفي سننه , كتاب: الحدود، باب: فى المجنون يسرق: ٢/٣٣٨ رقم ٤٣٩٨ ، و غيرهم، و بالجملة فالحديث صحيح، فقد صححه ابن حبان في صحيحه : رقم ١٤٩٦ – ­ موارد، وقال الحاكم في المستدرك : ٢/٥٩ و قال: صحيح على شرط مسلم و وافقه الذهبى، فالحديث صحيح بهذه الطرق والشواهد الكثيرة، و قال الشيخ أحمد شاكر ­ رحمه الله ­ فى تعليقه على الرسالة ص ­٥٨: حديث صحيح، و صححه الألباني في إرواء الغليل : ٥/٢ رقم ٢٩٧ و ايضا في صحيح سنن أبي داود، و صححه ابن العربي في عارضة الأحوذي: ٣/٣٩٢، و قال ابن كثير في إرشاد الفقيه : ١/٨٩ : إسناده على شرط مسلم – “তিন (প্রকারের) ব্যাক্তি হতে (পাপ পূন্য লেখার) কলম’কে তুলে নেয়া হয়েছে। (তাদের মধ্যে একজন হচ্ছে) কিশোর বয়সী (বালক/বালিকা) হতে -যাবৎ না সে বালেগ (প্রাপ্তবয়ষ্ক) হয়, ……………”। [মুসনাদে আহমদ- ৬/১০০; মুসতাদরাকে হাকিম- ২/৫৯; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ১৪৯৬; সুনানে দারেমী- ২/১৭১; সুনানে আবু দাউদ- ২/৩৩৮ হাদিস ৪৩৯৮; সুনানে নাসায়ী- ৬/১৫৬; সুনানে ইবন মাজাহ- ১/৬৫৭ হাদিস ২০৪১

ফায়দা: তবে একজন বালক/বালিকা কখন বালেগ (প্রাপ্তবয়ষ্ক) হয় -সে ব্যাপারে কুরআন সুন্নাহ’র বিভিন্ন দলিলাদি এবং সাহাবীগণের আমল ও ফাতওয়ার ভিন্নতার কারণে ফিকাহবীদ আইম্মায়ে কেরাম থেকেও ভিন্ন ভিন্ন মত বিদ্যমান রয়েছে। তাদের ফাতওয়া সমূহ থেকে অনুমিত হয় যে, কোনো বালক -বালেগ (প্রাপ্তবয়ষ্ক) হয়েছে কিনা, তার আলামত হল: (১) ইহতিলাম (স্বপ্নদোষ) হওয়া, (২) বির্যপাত হওয়া (৩) গোফ/দাড়ি/লজ্জাস্থানের গুপ্ত লোম গজানো ইত্যাদি। আর একটা বালিকা -বালেগা (প্রাপ্তবয়ষ্কা) হয়েছে কিনা, তার আলামত হল: (১) ইহতিলাম (স্বপ্নদোষ) হওয়া, (২) হায়েজ (ঋতুশ্রাব) আসা, (৩) গর্ভধারণ করা, (৪) স্তন বড় হওয়া ইত্যাদি। এসব আলামত স্থান কাল পাত্র ভেদে একেক জনের একেক বয়সে প্রকাশ পেতে পারে, যেমন কারোর ৯/১০ বছরে, কারোর ১২/১৩ বছরে, আবার কারোর ১৪/১৫ বছরের দিকেও প্রকাশ পেতে পারে; অর্থাৎ যখন প্রকাশ পাবে, তখন থেকেই সে বালেগ/বালেগা হিসেব গণ্য হবে এবং শরীয়তের যাবতীয় বিধিবিধান তার উপরে প্রযোজ্য হবে। অবশ্য হিজরী সন অনুসারে কোনো ছেলে/মেয়ে’র জন্মের ১৫ (পনের) বছর পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও যদি এসব আলামতের কোনো কিছুই প্রকাশ না পায়, তাহলে ১৫ (পনের) বছরই তার বালেগ/বালেগা হওয়ার নির্ধারিত বয়স হিসেবে গণ্য হবে। [সুনানে তিরমিযী- ৩/৬৩৩; আদ-দুররুল মুখতার, হাসকাফী- ৬/১৫৩; ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার- ৫/২০৩; আল-ইনায়াহ শারহুল হিদায়াহ- ৮/২০১]

যে কারণে ইসলামী শরীয়তে কারোর উপরে কোনো ইবাদত ফরয/ওয়াজিব হওয়ার জন্য তার বালেগ (প্রাপ্তবয়ষ্ক) হওয়া অন্যতম শর্ত হিসেবে গণ্য, ঠিক একই কারণে ক্বিতাল/জিহাদ ফরয হওয়ার জন্যও বালেগ (প্রাপ্তবয়ষ্ক) হওয়া একটি অন্যতম শর্ত হিসেবে গণ্য। এজন্য, শরীয়তে কোনো নাবালেগ (অপ্রাপ্তবয়ষ্ক) মুসলীম শিশু/কিশোরের উপরে ক্বিতাল/জিহাদ’কে ফরয করা হয়নি। তবে, নির্ভরযোগ্য হাদিস, সিরাত, রিজাল ও ফিকহের কিতাব সমূহে বর্ণিত বিভিন্ন রেওয়ায়েত থেকে প্রতিয়মান হয় যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ সাধারণত: কোনো বালকের বয়স নূন্যতম ১৫ (পনের) বছর হওয়ার আগে তাকে জিহাদে অংশগ্রহনের প্রশ্নে তাকে বালেগ (প্রাপ্তবয়ষ্ক) হিসেবে গণ্য করতেন না এবং একারণে তাকে জিহাদে গমনের অনুমতিও দিতেন না।

যেমন, নাফে রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন- عَرَضَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أُحُدٍ فِي الْقِتَالِ وَأَنَا ابْنُ أَرْبَعَ عَشْرَةَ سَنَةً فَلَمْ يُجِزْنِي وَعَرَضَنِي يَوْمَ الْخَنْدَقِ وَأَنَا ابْنُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً فَأَجَازَنِي ‏.‏ قَالَ نَافِعٌ فَقَدِمْتُ عَلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ خَلِيفَةٌ فَحَدَّثْتُهُ هَذَا الْحَدِيثَ فَقَالَ إِنَّ هَذَا لَحَدٌّ بَيْنَ الصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ ‏.‏ فَكَتَبَ إِلَى عُمَّالِهِ أَنْ يَفْرِضُوا لِمَنْ كَانَ ابْنَ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً وَمَنْ كَانَ دُونَ ذَلِكَ فَاجْعَلُوهُ فِي الْعِيَالِ . . اخرجه مسلم في صحيحه , كتاب الإمارة , باب بيان سن البلوغ : ٣/١٤٩٠ رقم ١٨٦٨، و غيره   – “উহুদের (যুদ্ধের) দিন (জিহাদে শরিক হওয়ার জন্য আমি উপস্থিত হলে) রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাকে পর্যবেক্ষন করলেন, তখন আমার বয়স ছিল চোদ্দ বছর। ফলে তিঁনি আমাকে যুদ্ধে শরিক হওয়ার অনুমতি দিলেন না। পরে (আমি) খন্দকের (যুদ্ধের) দিন (জিহাদে শরিক হওয়ার জন্য উপস্থিত হলে) তিঁনি আমাকে (সেদিনও) পর্যবেক্ষন করলেন। তখন আমার বয়স ছিল পনের বছর। ফলে তিঁনি আমাকে (জিহাদে শরিক হওয়ার) অনুমতি দিলেন”। নাফে রহ. বলেন: “আমি (এর পরে একবার) ওমর বিন আব্দুল আযীয রহ.-এর কাছে গেলাম; তিনি সে সময় (উম্মতে মুসলীমার) খলিফা ছিলেন। (তখন) আমি তাকে এই হাদিসটি বর্ণনা করলে তিনি বললেন: ‘বড় এবং ছোট’র মাঝে এটাই (হবে) নির্ধারিত বয়স-সীমা’। এরপর তিঁনি (রাষ্ট্রের) প্রশাসকদের কাছে (সরকারী নির্দেশ হিসেবে) লিখে দেন যে,  ‘যার বয়স পনেরো বছর হয়েছে, তাকে (সরকারী) ভাতা দাও, আর যে এ থেকে কম (বয়সের) তাকে তার পরিবারের মধ্যে (গণ্য করো)[সহিহ মুসলীম- ৩/১৪৯০ হাদিস ১৮৬৮; সহিহ বুখারী- ৫/২৭৬ হাদিস ২৬৬৪; সুনানে দ্বারাকুতনী- ৫/২০৩ হাদিস ৪২০২; সুনানুল কুবরা, বাইহাকী- ৬/৯১ হাদিস ১১২৯৭; ত্ববাকাতুল কুবরা, ইবনে সা’দ- ৪/১৪৩; তারিখে দিমাশক, ইবনে আসাকীর- ৬১/৪২৩]

এরকম ঘটনা বারা বিন আযিব রা.-এর সাথেও ঘটেছিল। বদর জিহাদের দিন তার বয়স ১৫ (পনেরো) বছরের কম হওয়ায় তাকে জিহাদে অংশ গ্রহন করতে দেয়া হয়নি। যেমন, আবু ইসহাক রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, বারা বিন আযীব রা. বলেন- استصغرت أنا وابن عمر يوم بدر . أخرجه البخاري الجامع الصحيح , كتاب المغازي , باب عدة أصحاب بدر: ٣/٨٣ رقم ٣٩٥٦ – “বদরের (জিহাদের) দিন আমাকে এবং (আব্দুল্লাহ) ইবনে ওমরকে ছোট (না-বালেগ/অপ্রাপ্তবয়ষ্ক) হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। (ফলে আমরা সেবার জিহাদে শরিক হতে পারি নি)[সহিহ বুখারী- ৩/৮৩ হাদিস ৩৯৫৬; আল-মু’জামুল কাবির, ইমাম ত্বাবরাণী- ২/২৩ হাদিস ১১৬৭] আরেক রেওয়ায়েতে এভাবে এসেছে- اسْتَصْغَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أنَا وَ ابْنُ عُمَرَ يَوْمَ بَدْرٍ فَرَدَّنَا . رواه و أحمد في المسند : ٤/٢٩٨ اسناده حسن، و محمد بن سعد في الطبقات الكبرى : ٤ / ٣٦٧، و ابن الأثير في أسد الغابة : ٢/٣٦٢،   – “বদরের (জিহাদের) দিন রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাকে এবং (আব্দুল্লাহ) ইবনে ওমরকে  ছোট (না-বালেগ/অপ্রাপ্তবয়ষ্ক) হিসেবে গণ্য করেছিলেন। ফলে আমরা (সেদিন জিহাদে গমনের সুযোগ থেকে) নাকোচ হয়ে যাই[মুসনাদে আহমদ- ৪/২৯৮; মুসনাদে রুইয়ানী, হাদিস ২৯৪; ত্ববাকাতুল কুবরা, ইমাম ইবনে সা’দ- ৪/৩৬৭; উসদুল গাবাহ, ইবনুল আছীর- ২/৩৬২; আল-ইসাবাহ, ইবনে হাজার- ১/৪১১]

এরকম ঘটনা আবু সাঈদ খুদরী রা.-এর সাথেও ঘটেছিল। যেমন, আব্দুর রহমান বিন আবি সাঈদ রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আবু সাঈদ খুদরী রা. বর্ণনা করেন- عُرِضْتُ يَوْمَ أُحُدٍ عَلَيَّ النَّبِيُّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – وَأَنَا ابْنُ ثَلاثَ عَشْرَةَ فَجَعَلَ أَبِي يَأْخُذُ بِيَدِي فَيَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ عَبْلُ الْعِظَامِ، وَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – يُصَعِّدُ فِي النَّظَرِ وَيُصَوِّبُهُ، ثُمَّ قَالَ:  رُدَّهُ . فردني . رواه الإمام ابن جرير الطبري في تاريخ الأمم والملوك : ١٠/٥٢٥ و في المنتخب من ذيل المذيل : ١/٢٩ ، و ابن عساكر في تاريخ مدينة دمشق: ٢٠/٣٨٦، و ذكره غيرهم – “উহুদের (যুদ্ধের) দিন (আমি জিহাদে শরিক হওয়ার সৌভাগ্য অর্জনের জন্য উপস্থিত হলে) রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাকে পর্যবেক্ষন করলেন, তখন আমার বয়স ছিল তেরো বছর। তখন আমার পিতা আমার হাত ধরে নিয়ে গিয়ে (রাসুলুল্লাহ ﷺ -এর কাছে আরোজ করলেন): ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! (এই হল আমার ছেলে আবু সাঈদ), সে একজন ভরপুর-পেশীওয়ালা (সুঠামদেহী বালক)’! (তখন) নবী ﷺ আমাকে নিচ থেকে উপরের দিকে খুব ভাল করে নজর বুলিয়ে নিয়ে বললেন: ‘(ও নাবালেগ এবং বেশ ছোট), ওকে (মুজাহিদগণের লিষ্ট থেকে) বাদ দিয়ে দাও’। ফলে (সেবার) আমাকে বাদ দিয়ে দেয়া হয়”। [তারিখুল উমাম, ইমাম ইবনে জারীর তাবারী- ৭/৩১৩; আল-মুনতাখাব মিন যাইয়েলিল মুযাইয়্যেল, ইমাম তাবারী- ১/২৯; তারিখে দিমাশক, ইবনে আসাকীর- ২০/৩৮৬; আত-ত্ববাকাতুল কুবরা, ইবনে সা’দ- ৯/৮০; তারিখুল কাবীর, ইমাম বুখারী- ৪/৪৪; তারিখুস সাগীর, ইমাম বুখারী- ১/১০৩, ১৩৫, ১৩৯, ১৬১; আস-সিয়ারু আ’লা মিন নুবালা, ইমাম যাহবী- ৩/১৬৮; তারিখুল ইসলাম, ইমাম যাহবী- ৩/২২০; আল-ইসতিয়াব, ইবনু আব্দিল বার- ২/৬০২; আল-জামেউল উসূল, ইবনুল আছীর- ১২/১৩৮; উসদুল গাবাহ, ইবনুল আছীর- ২/৩৬৫, ৬/১৪২; আল-ইসাবাহ, ইবনে হাজার- ৩/৭৮;  আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ইবনে কাছির- ৯/২]

এরকম ঘটনা যায়েদ বিন ছাবেত রা.-এর ক্ষেত্রেও ঘটেছিল। রাসুলুল্লাহ ﷺ  যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আসেন, তখন যায়েদ বিন ছাবেত রা.-এর বয়স ছিল ১১ (এগারো) বছর,  (যেকথাটি ইমাম তাবরাণীর ‘আল-মু’জামুল কাবীর’-এ হাসান সনদের সাথে বর্ণিত আছে)। এরপর বদর জিহাদের দিন তিনি জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে রাসুলুল্লাহ ﷺ তার বয়স ১৩ (তেরো) বছর দেখে তার আবেদন নাকোচ করে দেন। ‘গাজওয়ায়ে উহূদ’-এর দিন তার বয়স ১৪ (চোদ্দ) বছর হওয়ায় সেবারেও তার জিহাদে যাওয়ার আবেদন নাকোচ হয়ে যায়। এরপর খন্দক যুদ্ধে তিনি প্রথম বারের মতো জিহাদে শরিক হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন, যখন তার বয়স ছিল ১৫ (পনেরো) বছর। 

এমনি ভাবে না-বালেগ হওয়ার কারণে যায়েদ বিন আরকাম রা., উসামা বিন যায়েদ রা., রাফে বিন খাদিজ রা., সামুরাহ বিন জুনদুব রা., বনী হারেছা’র কয়েকজন বালোক জিহাদে শরিক হওয়ার অনুমতি পান নি মর্মে বেশ কিছু রেওয়ায়েতে বর্ণিত আছে। [তারিখে দিমাশক, ইবনে আসাকীর-১৯/২৬৪; সিরাতুন নাবুবিয়াহ, ইবনে হিশাম- ৩/৫৮৬; কানজুল উম্মাল, মুত্তাকী- ১০/৪৩৮]

তবে ব্যাক্তির ১৫ (পনেরো) বছর’কে জিহাদে গমনের “নূন্যতম” বয়স ধরার অর্থ এই নয় যে, ‘যার-ই পনেরো বছর হবে, তাকেই জিহাদে শরিক করে নেয়ার জন্য শরীয়ত খলিফা/আমীরকে বাধ্য করে’। বরং অর্থ কেবল এতটুকু যে, জিহাদের মতো কঠিন পরিশ্রমের দায়িত্ব তো আদায় করবে এ আমলের ‍উপযুক্ত মুসলমান পুরুষগণ-ই, তবে যদি ছোট বয়সী কাউকে জিহাদে শরিক করতে হয়, তাহলে সে নূন্যতম ১৫ (পনেরো) বছরের সাবালক কিনা -খলিফা/আমীর যেন সেদিকে নজর দানে যত্নবান হন। আবার তিনি ভাল মনে করলে, কেউ ১৫ (পনেরো) বছরের সাবালক হওয়া সত্ত্বেও তাকে জিহাদে শরিক হতে নাও দিতে পারেন। যেমন, বদর জিহাদের দিন উমায়ের বিন আবি ওয়াক্কাস রা.-কে তার বয়স পনেরোর উপরে হওয়া সত্ত্বেও কেবল দেহগঠনে ছোট হওয়ার কারণে তাকে জিহাদে শরিক করানো থেকে বিরত থাকেন, অবশ্য পরে এজন্য সা’দ রা.-কে কাঁদতে দেখে তাকে জিহাদে অংশ গ্রহনের অনুমতি দেন।

যেমন, আমের বিন সা’দ রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস রা. বলেন- أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : نَظَرَ إِلَى عُمَيْرِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ فَاسْتَصْغَرَهُ حِينَ خَرَجَ إِلَى بَدْرٍ ثُمَّ أَجَازَهُ قَالَ سَعْدٌ : فَيُقَالُ إِنَّهُ خَانَهُ سَيْفُهُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ (يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ الْمَخْرَمِيَّ) : قُتِلَ يَوْمَ بَدْرٍ . اخرجه البزار في مسنده البحر الزخار, مسند سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه , ومما روى عامر بن سعد عن أبيه » ومما روى إسماعيل بن محمد بن سعد عن عامر: ٣/٣١٣ رقم ١١٠٨، اورده الهيثمي في كشف الأستار عن زوائد البزار : ٢/٣١٥ رقم ١٧٧٠، و قال الهيثمي في مجمع الزوائد : ٦/٦٩ : رواه البزار و رجاله ثقات – “বদরের (ময়দানের) দিকে (জিহাদের উদ্দেশ্যে) বের হবার সময় নবী ﷺ (আমার ভাই) উমায়ের বিন আবি ওয়াক্কাসের দিকে তাকিয়ে তাকে ছোট হিসেবে গণ্য করেছিলেন, (অবশ্য) পরে (উমায়েরকে কাঁদতে দেখে) তাকে অনুমতি দিয়ে দেন’। সা’দ রা. বলেন: ‘তখন বলা হয়েছিল, সে তো তার তরবারীর থেকেও ছোট, (সে -কী যুদ্ধ করবে)’। আব্দুল্লাহ (তথা ইবনে জা’ফর আল-মাখরামী) বলেন: ‘তিনি বদরে নিহত হন”। [মুসনাদে বাযযার– ৩/৩১৩ হাদিস ১১০৬; কাশফুল আসতার আন যাওয়েদে বাযযার, হাইছামী- ২/৩১৫ হাদিস ১৭৭০; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৬/৬৯ হাদিস ৯৯৪৪]

আমের বিন সা’দ রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস রা. বলেন- رَأَيْتُ أَخِيَ عُمَيْرَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ قَبْلَ أَنْ يَعْرِضَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْخُرُوجِ إِلَى بَدْرٍ يَتَوَارَى ، فَقُلْتُ مَا لَكَ يَا أَخِي ؟ فَقَالَ : إِنِّي أَخَافُ أَنْ يَرَانِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَسْتَصْغِرَنِي فَيَرُدَّنِي ، وَأَنَا أُحِبُّ الْخُرُوجَ ، لَعَلَّ اللَّهَ يَرْزُقَنِي الشَّهَادَةَ ، قَالَ : فَعُرِضَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاسْتَصْغَرَهُ فَقَالَ : ” ارْجِعْ ” ، فَبَكَى عُمَيْرٌ فَأَجَازَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ . قَالَ سَعْدٌ : فَكُنْتُ أَعْقِدُ لَهُ حَمَائِلَ سَيْفِهِ مِنْ صِغَرِهِ ، فَقُتِلَ بِبَدْرٍ وَهُوَ ابْنُ سِتَّ عَشْرَةَ سَنَةً . قَتَلَهُ عَمْرُو بْنُ عَبْدِ وَدٍّ . رواه ابن سعد في الطبقات الكبرى: ٣/١٤٩، و ذكره الحافظ في الإصابة: ٤/٦٠٣    – “বদরের দিকে বের হবার উদ্দেশ্যে আমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে পেশ হওয়ার আগে আমি (হঠাৎ) দেখি যে, আমার (ছোট) ভাই উমায়ের বিন আবি ওয়াক্কাস (রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নজর থেকে বাঁচার জন্য মুজাহীদগণের ভিরের মাঝে) লুকিয়ে রয়েছে। তখন আমি (তাকে) জিজ্ঞেস করলাম: ‘হে ভাই! তোমার কি হয়েছে? (তুমি এমন ভাবে লুকিয়ে আছো কেনো)’? এতে সে বললো: ‘আমার ভয় হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাকে দেখে ফেলেন কিনা, তখন-তো তিঁনি আমাকে ছোট হিসেবে গণ্য করে আমাকে (জিহাদে গমন থেকে নিশ্চই) বাদ দিয়ে দিবেন। (জিহাদে) বের হতে আমি উৎগ্রীব; হতে পারে আল্লাহ (তাআলা) আমাকে শাহাদাত নসিব করবেন’! তিনি বলেন: ‘যা হোক, (শেষমেস জিহাদে বের হওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে) সে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে পেশ হলে তিঁনি (তাকে ছোটখাটো আকৃতির এক বালোক দেখে প্রথমাবস্থায়) তাকে বাদ দিয়ে দেন। এতে উমায়ের কাঁদতে আরম্ভ করলে তিঁনি (তার আগ্রহ দেখে) তাকে (জিহাদে শরিক হবার) অনুমতি দেন’। সা’দ (বিন আবি ওয়াক্কাস) রা. বলতেন: ‘(আমি দেখেছি) সে ছোট হওয়ার কারণে তার তরবারীর খাপ’টি (জমিনের সাথে) ছেঁচড়ে যাচ্ছিল। সে বদরে(র জিহাদে সব থেকে কনিষ্ট সাহাবী হিসেবে) নিতহ হয়; তখন তার বয়স ছিল ১৬ (ষোলো) বছর। তাকে আমর বিন আব্দে ওদ্দা হত্যা করে”। [ত্ববাকাতুল কুবরা, ইবনে সা’দ- ৩/১৪৯; উসদুল গাবাহ, ইবনুল আছীর- ৪/১৪৮; মুসতাদরাকে হাকিম-  ৩/১৮৮; আল-ইসাবাহ, ইবনে হাজার- ৪/৬০৩]

মাসআলাহ: উপরোক্ত দলিল সমূহের আলোকে ফিকাহবিদ আলেমগণ বলেছেন যে, না-বালেগের উপরে জিহাদ ফরয নয়। যেমন, ইমাম কামালুদ্দিন ইবনুল হুমাম (মৃ: ৮৬১ হি:) রহ. বলেন- لا يجب الجهاد على صبي – “(না-বালেগ) কিশোর বালকের উপরে জিহাদ ওয়াজিব (অপরিহার্য) নয়”। [ফাতহুল কাদীর, ইবনুল হুমাম- ৫/৪৪২] ইমাম আবু বকর আল-কাসানী হানাফী (মৃ: ৫৮৭ হি:) রহ. বলেন- ولا جهاد على صبي – “(না-বালেগ) কিশোর বালকের উপরে জিহাদের দায়িত্ব নেই”। [আল-বাদায়েউস সানায়ে, ইমাম কাসানী- ৯/৪৩০১] ইমাম মহিউদ্দিন আন-নববী (মৃ: ৬৭৬ হি:) রহ. বলেন- و لا جهاد على صبي ومجنون و امرأة ….. – “(না-বালেগ) কিশোর বালক, পাগল এবং নারী’র উপরে জিহাদের দায়িত্ব নেই…..”। [আল-মিনহাজ, ইমাম নববী- ১/১৪৩; তুহফাতুল মুহতাজ, ইমাম হাইতামী- ৯/২৩১] 

৩. আক্বল (বোধশক্তি/বিবেক) থাকা

ইমাম আবুল হাসান সাইয়্যেদুদ্দিন আছ-ছা’লাবী আল-আমেদী (মৃ: ৬৩১ হি:) রহ. বলেন- اتفق العقلاء على أن شرط المكلف أن يكون عاقلا فاهما للتكليف، لان التكليف خطاب، وخطاب من لا عقل له ولا فهم محال، كالجماد والبهيمة – “(ফিকহ্) বিশেষজ্ঞগণ (আলেমগণ) এ ব্যাপারে একমত যে, (শরীয়তের) মুকাল্লিফ (তথা দায়িত্বভার গ্রহনের উপযোগী ব্যাক্তি) হওয়ার (অন্যতম একটি) শর্ত হল, তাকে (ইবাদতের) দায়িত্বভার গ্রহনের মতো (নূন্যতম) আক্বেল (বোধশক্তি/বিবেকশক্তি সম্পন্ন) ও ফাহেম (বুঝশক্তি সম্পন্ন) হতে হবে। কারণ দায়িত্বভার অর্পণ করাটা মূলত: (মুকাল্লিফ’কে উদ্দেশ্য করে প্রদত্ত এক প্রকারের) খিতাব (বা সম্মোধন; যেন তাকে এই সম্মোধন করা হল যে, আজ থেকে এই ইবাদতের দায়িত্বভার তোমার উপরে অর্পিত হল)। আর যে ব্যাক্তির আক্বল (বোধশক্তি/বিবেকশক্তি) নেই ফহম (বুঝশক্তি) নেই, তাকে খেতাব (সম্মোধন) করাটা (মূলত:) -শুষ্ক মাটি ও চতুষ্পদ প্রাণি(কে সম্মোধন করা)র মতোই- অযৌক্তিক”। [আল-ইহকাম ফি উসূলিল আহকাম, ইমাম আমেদী- ১/১৫০]

আর আক্বল’হীন (বোধশক্তি’হীন/বিবেকশক্তি’হীন) ব্যাক্তির বিপরীত হল ‘পাগল’ ব্যাক্তি। ‘পাগল’ বলা হয় সাধারণত: এমন ব্যাক্তিকে যার মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে গেছে, ফলে তার আক্বল (বোধশক্তি/বিবেকবোধ/বুদ্ধি) সুস্থ্য-সঠিক ভাবে আর কাজ করে না। পাগল অবস্থায় সে -ভাল ও মন্দের মাঝে, পবিত্র ও অপবিত্র-নোংরা’র মাঝে, দোষ ও গুণের মাঝে, চড়াই ও উৎরাই-এর মাঝে, মানুষ ও অমানুষের মাঝে, স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে পার্থক্য করার মতো নূন্যতম আক্বল (বোধশক্তি/বিবেকবোধ/বুদ্ধি) খাটাতে পারে না। বিধায়, যে পাগল -না চেনে আল্লাহ’কে, না চেনে তাঁর হুকুম আহকাম’কে, না তাঁর আদিষ্ট ইবাদতকে, আর না বোঝে ইবাদতের নিয়ত কী -সেটাকে, তার পক্ষে কোনো ইবাদত’কে নূন্যতম পর্যায়ের হলেও তা সম্পাদন করা কি করে সম্ভব হতে পারে?!!! এজন্য, আল্লাহ তাআলাও কোনো আক্বলহীন পাগল ব্যাক্তির উপরে ইবাদতের কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন নি। যেমন, আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন-

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
“আল্লাহ (তাআলা) কারোর উপরে তার সাধ্যের বাহিরে বোঝা চাপান না”। [সূরা বাকারাহ ২৮৬]
 
এজন্য, এ ব্যাপারে উম্মাহ’র ইজমা রয়েছে যে, ইসলামী শরীয়তে যে সকল ফরয/ওয়াজিব ইবাদত আদায়ের নির্দেশ এসেছে, কোনো পাগল -সেসমস্ত ইবাদত মানার মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত) নয় -যতক্ষন পর্যন্ত না তার মস্তিষ্ক সুস্থ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। যেমন: সালাত (নামায), যাকাত, সিয়াম (রোযা), হজ্জ ইত্যাদি পালন করা কোনো পাগলের উপরে ফরয নয়। [আল-মাজমু, ইমাম নববী- ১/৩৩০; আল-হাবিউল কাবীর, মাওয়ারদী- ১/৯৭; আল-বাদায়েউস সানায়ে, কাসানী- ৯/৪৩০১; আল-বাহরুর রায়েক, ইবনে নুজাইম- ১/১০; হাশিয়ায়ে ইবনে আবিদীন- ১/৮৬; মাওয়াহিবুল জালিল, হাত্তাব- ১/২৬৪; কাশশাফুল কিনা- ১/৮৫; মারাতিবুল ইজমা, ইবনে হাযাম- ১/১১৯]
 
নির্ভরযোগ্য হাদিসেও এর দলিল রয়েছে। যেমন, আলী বিন আবি ত্বালেব রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন-رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلاَثَةٍ عَنِ الْمَجْنُونِ الْمَغْلُوبِ عَلَى عَقْلِهِ حَتَّى يُفِيقَ ………….. . أخرجه أبو داود في سننه : رقم ٢/٣٣٩ رقم ٤٤٠١، و صححه الألباني في إرواء الغليل : ٥/٢ رقم ٢٩٧، و ايضا في صحيح سنن أبي داود، و أخرجه ابن خزيمة فى صحيحه , باب ذكر الخبر الدال على أن أمر الصبيان بالصلاة قبل البلوغ على غير: ٢/١٠٢ رقم ١٠٠٣ و قال : اسناده صحيح، و أخرجه ايضا الإمام أحمد في مسنده : ، و ، و عنه ابن حبان فى صحيحه : رقم ١٤٩٧، و الحاكم في المستدرك : ٢/‏٥٩ ,‏٤/٣٨٩ ، كلاهما بالروايتين، و قال الحاكم : صحيح على شرط الشيخين و وافقه الذهبى، و الدارقطنى في سننه : رقم ٣٤٧ بالرواية الثانية من طرق عن الأعمش عن أبى ظبيان به، و له شواهد مرفوعة  – “তিন (প্রকারের) ব্যাক্তি হতে (পাপ পূন্য লেখার) কলম’কে তুলে নেয়া হয়েছে। (তাদের একজন হচ্ছে) আক্বল (বোধশক্তি/জ্ঞানবোধ)-এর উপরে (নিয়ন্ত্রন হাসিলে) পরাজয়ী পাগল হতে -যতক্ষন না সে (মস্তিষ্ক বিকৃতি/পাগলামী অবস্থা থেকে) সুস্থ্য হয়ে ওঠে …………….”। [সুনানে আবু দাউদ- ২/৩৩৯ হাদিস ৪৪০১; সহিহ ইবনে খুযাইমাহ- ২/১০২ হাদিস ১০০৩; মুসতাদরাকে হাকিম- ২/৫৯, ৪/৩৮৯; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ১৪৯৭; মুসনাদে আহমদ- ; সুনানে দ্বারাকুতনী, হাদিস ৩৪৭] 
 
উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثلاث: عن الصَّبِى حَتَّى يَبْلُغَ، وَعَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يُفِيقَ . رواه الإمام أحمد في مسنده : ٦/١٠٠، والدارمى في سننه , كتاب: الحدود، باب: رفع القلم عن ثلاثة : ٢/١٧١، وأبو داودفي سننه , كتاب: الحدود، باب: فى المجنون يسرق: ٢/٣٣٨ رقم ٤٣٩٨ ، والنسائى , كتاب: الطلاق، باب: من لا يقع طلاقه من الأزواج: ٦/١٥٦، و غيرهم، و بالجملة فالحديث صحيح، فقد صححه ابن حبان في صحيحه : رقم ١٤٩٦ – ­ موارد، وقال الحاكم في المستدرك : ٢/٥٩ و قال: صحيح على شرط مسلم و وافقه الذهبى، فالحديث صحيح بهذه الطرق والشواهد الكثيرة، و قال الشيخ أحمد شاكر ­ رحمه الله ­ فى تعليقه على الرسالة ص ­٥٨: حديث صحيح، و صححه الألباني في إرواء الغليل : ٥/٢ رقم ٢٩٧ و ايضا في صحيح سنن أبي داود، و صححه ابن العربي في عارضة الأحوذي: ٣/٣٩٢، و قال ابن كثير في إرشاد الفقيه : ١/٨٩ : إسناده على شرط مسلم – “তিন (প্রকারের) ব্যাক্তি হতে (পাপ পূন্য লেখার) কলম’কে তুলে নেয়া হয়েছে। (১) কিশোর বয়সী (বালক/বালিকা) হতে -যাবৎ না সে বালেগ (প্রাপ্তবয়ষ্ক) হয়, (২) ঘুমন্ত ব্যাক্তি হতে -যাবৎ না সে (ঘুম থেকে) জেগে ওঠে, (৩) পাগল হতে -যাবৎ না সে (মস্তিষ্ক বিকৃতি/পাগলামী অবস্থা থেকে) সুস্থ্য হয়ে ওঠে,”। [মুসনাদে আহমদ- ৬/১০০; মুসতাদরাকে হাকিম- ২/৫৯; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ১৪৯৬; সুনানে দারেমী- ২/১৭১; সুনানে আবু দাউদ- ২/৩৩৮ হাদিস ৪৩৯৮; সুনানে নাসায়ী- ৬/১৫৬; সুনানে ইবন মাজাহ- ১/৬৫৭ হাদিস ২০৪১
 
শাদ্দাদ বিন আওস রা. এবং ছাওবান রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- رفع القلم في الحد عن الصغير حتى يكبر وعن النائم حتى يستيقظ وعن المجنون حتى يفيق وعن المعتوه الهالك . رواه الطبراني في المعجم الكبير: ٧/٣٤٤ رقم ٧١٥٦، و أخرجه أيضًا فى الشاميين : ١/٢١٦ رقم ٣٨٦ ، قال الهيثمي في مجمع الزوائد : ٦/٢٥١ : رواه الطبراني ورجاله ثقات – “(শরয়ী) শাস্তির ক্ষেত্রে (পাপ পূন্য লেখার) কলম’কে (কয়েক প্রকারের ব্যাক্তি হতে) তুলে নেয়া হয়েছে –(১) ছোট (বালক/বালিকা) হতে -যাবৎ না সে বড় (সাবালক/সাবালিকা) হয়, (২) ঘুমন্ত ব্যাক্তি হতে -যাবৎ না সে (ঘুম থেকে) জেগে ওঠে, (৩) পাগল হতে -যাবৎ না সে (মস্তিষ্ক বিকৃতি/পাগলামী অবস্থা থেকে) সুস্থ্য হয়ে ওঠে, এবং (৪) বরবাদকারী মস্তিষ্ক-বিকৃত ব্যাক্তি থেকে”। [আল-মু’জামুল কাবীর, ইমাম ত্বাবরাণী- ৭/৩৪৪ হাদিস ৭১৫৬; মুসনাদে শামেয়ীন, ইমাম ত্বাবরাণী- ১/২১৬ হাদিস ৩৮৬; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৬/২৫১] 
 
এজন্য, ইসলামী শরীয়ত কোনো পাগলের উপরে ক্বিতাল/জিহাদ’কেও ফরয করে দেয় নি -যতক্ষন পর্যন্ত না তার মস্তিষ্ক সুস্থ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। [আল-মুগনী, ইবন কুদামাহ- ৮/৩৪৭] এব্যাপারে ইজমা রয়েছে।
 

৪. স্বাধীন ব্যাক্তি হওয়া (কারোর দাস না হওয়া) 

‘স্বাধীন ব্যাক্তি’ বলতে এখানে এমন মুসলীম ব্যাক্তি উদ্দেশ্য, যে ব্যাক্তি কারোর ‘দাস/গোলাম’ নয়। আর ইসলামী শরীয়ত যে ব্যাক্তি’কে দাস হিসেবে গণ্য করে, ‘দাস’ বলতে সেই ‘দাস’ই উদ্দেশ্য। অপরদিকে অন্য কোনো আইন বা সামাজিক প্রথা অনুসারে কাউকে ‘দাস’ বলে সম্মোধন করলেও যদি ইসলামী শরীয়ত মতে সে ‘দাস’ হিসেবে গণ্য না হয়, তাহলে তেমন ‘দাস’ কোনো দাস’ই না, বরং সে একজন স্বাধীন ব্যাক্তি হিসেবে গণ্য হবে। আর শরীয়তের দৃষ্টিতে, স্বাভাবিক ও সাধারণ অবস্থায় কেবলমাত্র ‘স্বাধীন ব্যাক্তি’র উপরেই জিহাদ ফরয হয়; কোনো দাসের উপরে নয়।

ইমাম শাফেয়ী (মৃ: ২০৪ হি:) রহ. বলেন-  فلما فرض الله تعالى الجهاد دل في كتابه وعلى لسان نبيه صلى الله عليه وسلم أنه لم يفرض الخروج إلى الجهاد على مملوك أو أنثى بالغ ولا حر لم يبلغ لقول الله عز وجل ” انفروا خفافا وثقالا وجاهدوا ” وقرأ الربيع الآية فكأن الله عز وجل حكم أن لا مال للمملوك ولم يكن مجاهد إلا ويكون عليه للجهاد مؤنة من المال ولم يكن للمملوك مال– “আল্লাহ তাআলা যখন- انفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ -একথা বলে জিহাদকে (মুসলমানদের উপরে ব্যাপক ভাবে) ফরয করে দেন, তখন তিঁনি তাঁর কিতাব (কুরআন মাজিদ)-এ এবং পরে তাঁর নবীর জবানে (সে কথার সাপেক্ষে) দলিলও দিয়ে দেন যে, জিহাদ যেমন ‘দাস’ ও ‘বালেগা নারী’র উপরে ফযর নয়, তেমনি ‘নাবালেগ স্বাধীন কিশোরে’র উপরেও (ফরয) নয়। তখন (দাস’দের ব্যাপারে) এই বিধান দেয়া হয় যে, দাস’দের (নিজেদের উপার্জিত)  ধ্বনমাল(-এর উপরেও তাদের নিজেস্ব কোনো মালিকানা) থাকবে না, (বরং সেই সম্পদের মালিক হবে তার শরীয়তসম্মত মনিব)। এমনি ভাবে সে (কোনো জিহাদেও) মুজাহিদ (হিসেবে শরিক হতে) পারবে না -যাবৎ না তার উপরে জিহাদে ব্যায়ের মতো ধ্বনমাল থাকে; আর (বলাই বাহুল্য যে) দাসের (নিজেস্ব) কোনো ধ্বনমাল নেই, (ধ্বনমাল তো তার মনিবের। কাজেই সে উপরোক্ত আয়াতের সম্মাধনপাত্র নয়)”। [কিতাবুল উম্ম, ইমাম শাফেয়ী- ৪/১৭০; আহকামুল কুরআন, ইমাম শাফেয়ী- ২/২১; মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার, ইমাম বাইহাকী- ১৩/১১৭ আছার ১৭৬৩৩]

ইমাম মাওয়ার্দী (মৃ: ৪৫০ হি:) রহ. বলেন- الحرية من شروط الجهاد ، فإن كان عبدا أو مكاتبا أو مدبرا أو فيه جزء من الرق – وإن قل – فليس من أهل الجهاد ، ولا يدخل فيمن توجه إليه فرض الكفاية لقوله تعالى : وجاهدوا بأموالكم وأنفسكم في سبيل الله . و هذا خطاب لا يتوجه إلى المملوك : لأنه لا يملك ، فصار داخلا في قوله تعالى : ليس على الضعفاء ولا على المرضى ولا على الذين لا يجدون ما ينفقون حرج ” لأن العبد لا يجد ما ينفق– “(কোনো ব্যাক্তি’র) জিহাদের (উপযোগী হওয়ার জন্য) একটি অন্যতম শর্ত হল: স্বাধীন হওয়া। কেউ যদি (কারোর সাধারণ) দাস হয়, অথবা মুকাতাব (তথা মনিবের কাছে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে মুক্ত হওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ দাস) হয়, কিংবা মুদাব্বির (তথা মনিবের সাথে তার মৃত্যুর পর মুক্ত/স্বাধীন হওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ দাস) হয়, অথবা (এমন দাস হয়) যার মধ্যে দাসত্ব্যের কোনো বৈশিষ্টাংশ রয়েছে -চাই তা সামান্যই হোক না কেনো -সে জিহাদের আহাল (উপযোগী ব্যাক্তি হিসেবে গণ্য) নয়। যাদের উপরে ‘ফরযে কেফায়াহ’ (পর্যায়ের বিধান) পালনের দায়িত্ব রয়েছে -সে তাদের মধ্যেও শামিল নয়। কেননা, আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন- وَ جَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ– “…. আর তারা তাদের ধ্বনমাল ও জীবন দিয়ে আল্লাহ’র পথে জিহাদ করে…”। এখানে দাসদের’কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়নি, কেননা তারা (শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো ধ্বনসম্পদের) মালিক হয় না, (বরং তাদের সকল ধ্বনসম্পদের মালিক হয় তাদের মনিব’রা। কাজেই যে দাস ধ্বনমালেরই মালিক নয়, আল্লাহ তাআলা কি করে তাকে উদ্দেশ্য করে একথা বলতে পারেন যে, তারা তাদের ধ্বনমাল দিয়ে জিহাদ করে !!!)। বস্তুত: তারা (এমন ব্যাক্তি, যারা) আল্লাহ’র এই আয়াতের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেছে-  لَيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَ لَا عَلَى الْمَرْضَىٰ وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنفِقُونَ حَرَجٌ – “দূর্বল ব্যাক্তিবর্গ, রোগাক্রান্ত ব্যাক্তিবর্গ এবং যারা (জিহাদে প্রয়োজনীয়) যাকিছু খরচ করবে তা (যোগার করতে) পায়না, তাদের উপরে (জিহাদে শরিক না হওয়াতে) কোনো দোষ বর্তাবে না…….। কারণ, (কোনো ধ্বনমালের উপরে মলিকানা না থাকায়) একজন দাস (জিহাদে প্রয়োজনীয়) যাকিছু খরচ করার তা সে (যোগার করতে) পায়না”। [আল-হাউইউল কাবীর, ইমাম মাওয়ার্দী- ১৪/২৪৩]

আবু যুবায়ের রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যাবের রা. বর্ণনা করেন- جَاءَ عَبْدٌ فَبَايَعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْهِجْرَةِ ، وَلَمْ يَشْعُرْ أَنَّهُ عَبْدٌ ، فَجَاءَ سَيِّدُهُ يُرِيدُهُ ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : بِعْنِيهِ ، فَاشْتَرَاهُ بِعَبْدَيْنِ أَسْوَدَيْنِ ، ثُمَّ لَمْ يُبَايِعْ أَحَدًا بَعْدُ حَتَّى يَسْأَلَهُ : أَعَبْدٌ هُوَ ؟ . رواه مسلم في صحيحه , كِتَابُ الْمُسَاقَاةِ , بَابُ جَوَازِ بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ مِنْ جِنْسِهِ مُتَفَاضِلًا : ٣/١٢٢٥ رقم ١٦٠٢، و الترمذي في سننه : ٣/٥٤٠ رقم ١٢٣٩ ، و ابن ماجه في سننه : ٢/٩٥٨ رقم ٢٨٦٩ ; و أحمد في مسنده : ٣/٣٤٩، و ابو داؤد في سننه : رقم ٣٣٥٨ – “(একবার এক লোকের এক) গোলাম এসে নবী ﷺ-এর কাছে হিজরতের জন্য বায়াত হল। সে যে (অপর কারোর) গোলাম ছিল, সেকথা সে ইশারা-ইংগীতেও (নবী ﷺ-কে) বলেনি। পরে তার মালিক এসে ওকে (ফেরত) চাইলো। তখন নবী ﷺ ও(র মালিক)কে বললেন: ‘ওকে আমার কাছে বিক্রি করে দাও’। ফলে তিঁনি ওকে দুটি কালো গোলামের বিনিময়ে কিনে নিলেন। এরপর (থেকে) তিঁনি আর কখনো (অচেনা) কাউকে বায়াত করেন নি, যাবৎ না তাকে (একথা) জিজ্ঞেস করতেন যে, সে (কারোর) গোলাম কিনা”? [সহিহ মুসলীম– ৩/১২২৫ হাদিস ১৬০২; সহিহ ইবনে হিব্বান- ১১/৪০১ হাদিস ৫০২৫; সুনানে তিরমিযী– ৩/৫৪০ হাদিস ১২৩৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৩৫৮; সুনানে ইবনে মাজাহ- ২/৯৫৮ হাদিস ২৮৬৯; মুসনাদে আহমদ- ৩/৩৪৯; সুনানুল কুবরা, বাইহাকী- ৯/২৩০] 

ফায়দা: ইমাম হাফেজ ইবনে জাহার আসক্বালানী রহ. তাঁর ‘তালখিসুল হাবীর’ কিতাবে ইমাম নাসায়ী’র সূত্রে যাবের রা. থেকেই আরেকটি রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন, তাতে আছে যে, যাবের রা. এরশাদ করেন- أن عبدا قدم على النبي صلى الله عليه وسلم فبايعه على الجهاد والإسلام ، فقدم صاحبه فأخبره أنه مملوك ، فاشتراه صلى الله عليه وسلم منه بعبدين ، فكان بعد ذلك إذا أتاه من لا يعرفه ليبايعه ، سأله أحر هو أم عبد ؟ فإن قال : حر بايعه على الإسلام والجهاد ، وإن قال : مملوك بايعه على الإسلام دون الجهاد . رواه النسائي ، اورده ابن حجر العسقلاني في التلخيص الحبير : ٤/١٧٦ – “(একবার এক লোকের এক) গোলাম নবী ﷺ-এর কাছে এগিয়ে গিয়ে তাঁর কাছে ‘ইসলাম ও জিহাদ’-এর উপরে বায়াত করলো। তখন তার মালিক এগিয়ে গিয়ে তাঁকে জানালো যে, ও একজন গোলাম। তখন তিঁনি ﷺ ও(ই গোলামটি)কে (তার মালিকের কাছ থেকে) দুটি গোলামের বিনিময়ে কিনে নিলেন। এরপর থেকে তাঁর কাছে যখন এমন কেউ বায়াত হওয়ার জন্য আসতো যাকে তিঁনি চিনতেন না, (তখন) তিঁনি তাকে (প্রথমে) জিজ্ঞেস করতেন -সে স্বাধীন (ব্যাক্তি) নাকি গোলাম। যদি সে বলতো ‘স্বাধীন ব্যাক্তি’, তাহলে তিঁনি তাকে ‘ইসলাম ও জিহাদ’-এর উপরে বায়াত করে নিতেন। আর যদি বলতো ‘গোলাম’, তাহলে তিঁনি তাকে জিহাদ বাদে (শুধুমাত্র) ‘ইসলাম’-এর উপরে বায়াত করে নিতেন”। [নাসায়ী: তালখিসুল হাবীর, ইবনে হাজার- ৪/১৭৬] 

আব্দুল্লাহ বিন আবি উমাইয়্যাহ রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, হারেছ বিন আব্দিল্লাহ বিন আবি রাবেয়াহ রা. বর্ণনা করেন- أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ، فَمَرَّ بِأُنَاسٍ مِنْ مُزَيْنَةَ فَاتَّبَعَهُ عَبْدٌ لِامْرَأَةٍ مِنْهُمْ فَلَمَّا كَانَ فِي بَعْضِ الطَّرِيقِ سَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَالَ‏:‏ ‏فُلَانٌ‏؟‏ ‏قَالَ‏:‏ نَعَمْ قَالَ‏:‏ مَا شَأْنُكَ‏؟‏ قَالَ‏:‏ أُجَاهِدُ مَعَكَ قَالَ‏:‏ أَذِنَتْ لَكَ سَيِّدَتُكَ‏؟‏ ‏قَالَ‏:‏ لَا‏.‏ قَالَ‏:‏ ارْجِعْ إِلَيْهَا فَأَخْبِرْهَا فَإِنَّ مَثَلَكَ مَثَلُ عَبْدٍ لَا يُصَلِّي، إِنْ مُتَّ قَبْلَ أَنْ تَرْجِعَ إِلَيْهَا وَاقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلَامَ ‏فَرَجَعَ إِلَيْهَا فَأَخْبَرَهَا الْخَبَرَ، فَقَالَتْ‏:‏ آللَّهِ هُوَ أَمَرَ أَنْ تَقْرَأَ عَلَيَّ السَّلَامَ‏؟‏ قَالَ‏:‏ نَعَمْ‏.‏ قَالَتِ‏:‏ ارْجِعْ فَجَاهِدْ مَعَهُ‏ . ‏رواه الحاكم في المستدرك على الصحيحين , كتاب الجهاد , استئذان العبد سيدته للجهاد: رقم ٢٥٥٣ : و قال: هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه ، و اقره الذهبي، و البيهقي في سنن الكبري : ٩/٣٩ رقم ١٧٨١٢ ، قال ابن الملقن في البدر المنير : ٩/٣٩ : إسناده حسن، لكن فيه عبد الله بن أبي أمية و هو مجهول و بقية رجاله ثقات و الحديث مع هذا مرسل  – “রাসুলুল্লাহ ﷺ কোনো এক গাজওয়ায় (শরিক) ছিলেন। তখন তিনি মুজায়নাহ (গোত্র)-এর লোকজনের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এমন সময় তাদের এক নারীর এক গোলাম তাঁর (মুজাহিদ বাহিনী’র পিছপিছু) অনুসরণ করতে থাকলো। তিঁনি যখন কোনো রাস্তায় (যাত্রারত) ছিলেন, তখন সে তাঁকে সালাম দিয়ে বসলো। তিনি বললেন: ‘(তুমি কি) অমুক’? সে লললো: ‘জি হ্যাঁ’। তিনি বললেন: ‘কী খবর তোমার, (তুমি আমাদের সাথে কেনো)’? সে বললো: ‘আমি আপনার সঙ্গে (থেকে কাফেরদের বিরুদ্ধে) জিহাদ করবো’। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ‘তুমি কি তোমার মালিকের অনুমতি নিয়েছো’? সে বললো: ‘না’। তিনি বললেন: ‘(তোমার মালিকের কাছে অনুমতি নাও নি?! যাও) তার কাছে ফিরে যাও, তারপর তাকে (বিষয়টি) জানাও, (সে অনুমতি দিলে তারপর তুমি আমাদের সাথে এসে শরিক হও)। (কারণ) তুমি যদি তার কাছে ফিরে যাওয়ার আগেই (তার বিনা-অনুমতিতে জিহাদ করে) মড়ে যাও, (তাহলে) তোমার উদাহরণ হল ওই দাসের মতো যে নামায পড়েনি। (কাজেই তুমি এখন তোমার মালিকের কাছে ফিরে যাও) আর তাকে আমার সালাম জানাও এবং (তোমার আমার মাঝে ঘটিত এতক্ষনকার যাবতীয়) ঘটনা তাকে অবহিত করো’। (ফলে সে তার মনিবা’র কাছে গিয়ে সব বলে পর) তখন সেই নারী (তার দাস’কে) বললো: ‘(হায়) আল্লাহ! (এ আমার কি সৌভাগ্য!) তিঁনি তোমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তুমি আমাকে (তাঁর পক্ষ থেকে) সালাম জানাও’? সে বললো: ‘জি’। তখন সে বললো: ‘(যাও, এখনই) ফিরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে (থেকে কাফেরদের বিরুদ্ধে) জিহাদ করো”। [মুসতাদরাকে হাকিম– ২/১৪২ হাদিস ২৫৯৯; সুনানুল কুবরা, বাইহাকী- ৯/৩৯ হাদিস ১৭৮১২; মুসনাদে হারেছ, হাদিস ৬৬২; তালখিসুল হাবীর, ইবনে হাজার- ৪/১৭১ হাদিস ২১৭৮] 

মাসআলাহ: ‘জিহাদ’ যদি ‘ফরযে কেফায়া’ হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে কোনো দাসের শরীয়তসম্মত মালিক যদি তাকে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি দেয়, তাহলে সে জিহাদে শরীক হতে পারবে। মালিকের অনুমতি ছাড়া দাসের জন্য জিহাদে শরিক হওয়া জায়েয নয়।

মাসআলাহ: ‘জিহাদ’ যদি ‘ফরযে আইন’ হয়ে যায়, তাহলে সেক্ষেত্রে কোনো দাসের জন্য তার শরীয়তসম্মত মালিকের অনুমতি নেয়া ওয়াজিব নয়, বরং মালিক তাকে জিহাদে যাবার অনুমতি দিক -চাই না দিক -উভয় অবস্থাতেই সেই দাসের জন্য সাধ্য মতো জিহাদ করা ‘ফরয’ হয়ে যাবে। 

মাসআলাহ: কোনো দাস যদি তার মালিকের দাসত্ব থেকে শরীয়তসম্মত ভাবে সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন/মুক্ত হয়ে যায়, তাহলে সে অপরাপর সাধারণ মুসলমানদের মতোই একজন স্বাধীন মুসলমান হিসেবে গণ্য হবে, এবং অপরাপর সাধারণ মুসলমানদের মতোই তার উপরে জিহাদের হুকুম আহকাম বর্তাবে। [আল-হাউইউল কাবির, মাওয়ার্দী- ১৪/১১৪] 

 

বাকি শর্তগুলোর আলোচনা পড়তে (এখানে ক্লিক করুন)