দাজ্জালের আগমন ও ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যতবাণী ৩

Spread the love
image_pdfimage_print

দাজ্জালের আগমন ও ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যতবাণী – (৩) 

 

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته

 

[উল্লেখ্য, নিম্নে দাজ্জাল সম্পর্কিত উল্লেখিত হাদিস ও আছার সমূহ ও তার অনুবাদ গুলিকে কোনো বিজ্ঞ মুহাক্কেক আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে আমার অযোগ্যতার কারণে এখানে কোনো উল্লেখযোগ্য ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধন করে নেয়ার আগেই মানব সমাজে ছড়িয়ে না যায়। এগুলো পড়ুন ইলম অর্জনের জন্য এবং যোগ্য আলেম থেকে তা বুঝিয়ে নিন। আর কোনো যোগ্য চোখে উল্লেখযোগ্য ভুল ধরা পড়লে তা আমাকে অবগত করুন।] 

 

দাজ্জাল সম্পর্কে আরো কিছু বিস্তারিত হাদিস ও আছার

# নওয়াস বিন সামআন রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলে-  ذَكَرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عليه وَسَلَّمَ الدَّجَّالَ ذَاتَ غَدَاةٍ، فَخَفَّضَ فيه وَرَفَّعَ، حتَّى ظَنَنَّاهُ في طَائِفَةِ النَّخْلِ، فَلَمَّا رُحْنَا إِلَيْهِ عَرَفَ ذلكَ فِينَا، فَقالَ: ما شَأْنُكُمْ؟ قُلْنَا: يا رَسُولَ اللهِ، ذَكَرْتَ الدَّجَّالَ غَدَاةً، فَخَفَّضْتَ فيه وَرَفَّعْتَ، حتَّى ظَنَنَّاهُ في طَائِفَةِ النَّخْلِ، فَقالَ: غَيْرُ الدَّجَّالِ أَخْوَفُنِي علَيْكُم، إنْ يَخْرُجْ وَأَنَا فِيكُمْ، فأنَا حَجِيجُهُ دُونَكُمْ، وإنْ يَخْرُجْ وَلَسْتُ فِيكُمْ، فَامْرُؤٌ حَجِيجُ نَفْسِهِ، وَاللَّهُ خَلِيفَتي علَى كُلِّ مُسْلِمٍ، إنَّه شَابٌّ قَطَطٌ، عَيْنُهُ طَافِئَةٌ، كَأَنِّي أُشَبِّهُهُ بعَبْدِ العُزَّى بنِ قَطَنٍ، فمَن أَدْرَكَهُ مِنكُمْ، فَلْيَقْرَأْ عليه فَوَاتِحَ سُورَةِ الكَهْفِ، إنَّه خَارِجٌ خَلَّةً بيْنَ الشَّأْمِ وَالْعِرَاقِ، فَعَاثَ يَمِينًا وَعَاثَ شِمَالًا، يا عِبَادَ اللهِ فَاثْبُتُوا، قُلْنَا: يا رَسُولَ اللهِ، وَما لَبْثُهُ في الأرْضِ؟ قالَ: أَرْبَعُونَ يَوْمًا، يَوْمٌ كَسَنَةٍ، وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ، وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ، وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ قُلْنَا: يا رَسُولَ اللهِ، فَذلكَ اليَوْمُ الذي كَسَنَةٍ، أَتَكْفِينَا فيه صَلَاةُ يَومٍ؟ قالَ: لَا، اقْدُرُوا له قَدْرَهُ، قُلْنَا: يا رَسُولَ اللهِ، وَما إِسْرَاعُهُ في الأرْضِ؟ قالَ: كَالْغَيْثِ اسْتَدْبَرَتْهُ الرِّيحُ، فَيَأْتي علَى القَوْمِ فَيَدْعُوهُمْ، فيُؤْمِنُونَ به وَيَسْتَجِيبُونَ له، فَيَأْمُرُ السَّمَاءَ فَتُمْطِرُ، وَالأرْضَ فَتُنْبِتُ، فَتَرُوحُ عليهم سَارِحَتُهُمْ، أَطْوَلَ ما كَانَتْ ذُرًا، وَأَسْبَغَهُ ضُرُوعًا، وَأَمَدَّهُ خَوَاصِرَ، ثُمَّ يَأْتي القَوْمَ، فَيَدْعُوهُمْ فَيَرُدُّونَ عليه قَوْلَهُ، فَيَنْصَرِفُ عنْهمْ، فيُصْبِحُونَ مُمْحِلِينَ ليسَ بأَيْدِيهِمْ شيءٌ مِن أَمْوَالِهِمْ، وَيَمُرُّ بالخَرِبَةِ، فيَقولُ لَهَا: أَخْرِجِي كُنُوزَكِ، فَتَتْبَعُهُ كُنُوزُهَا كَيَعَاسِيبِ النَّحْلِ، ثُمَّ يَدْعُو رَجُلًا مُمْتَلِئًا شَبَابًا، فَيَضْرِبُهُ بالسَّيْفِ فَيَقْطَعُهُ جَزْلَتَيْنِ رَمْيَةَ الغَرَضِ، ثُمَّ يَدْعُوهُ فيُقْبِلُ وَيَتَهَلَّلُ وَجْهُهُ، يَضْحَكُ، فَبيْنَما هو كَذلكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ المَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ، فَيَنْزِلُ عِنْدَ المَنَارَةِ البَيْضَاءِ شَرْقِيَّ دِمَشْقَ، بيْنَ مَهْرُودَتَيْنِ، وَاضِعًا كَفَّيْهِ علَى أَجْنِحَةِ مَلَكَيْنِ، إِذَا طَأْطَأَ رَأْسَهُ قَطَرَ، وإذَا رَفَعَهُ تَحَدَّرَ منه جُمَانٌ كَاللُّؤْلُؤِ، فلا يَحِلُّ لِكَافِرٍ يَجِدُ رِيحَ نَفَسِهِ إِلَّا مَاتَ، وَنَفَسُهُ يَنْتَهِي حَيْثُ يَنْتَهِي طَرْفُهُ، فَيَطْلُبُهُ حتَّى يُدْرِكَهُ ببَابِ لُدٍّ، فَيَقْتُلُهُ، ثُمَّ يَأْتي عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ قَوْمٌ قدْ عَصَمَهُمُ اللَّهُ منه، فَيَمْسَحُ عن وُجُوهِهِمْ وَيُحَدِّثُهُمْ بدَرَجَاتِهِمْ في الجَنَّةِ، فَبيْنَما هو كَذلكَ إِذْ أَوْحَى اللَّهُ إلى عِيسَى: إنِّي قدْ أَخْرَجْتُ عِبَادًا لِي، لا يَدَانِ لأَحَدٍ بقِتَالِهِمْ، فَحَرِّزْ عِبَادِي إلى الطُّورِ وَيَبْعَثُ اللَّهُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ، وَهُمْ مِن كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ . أخرجه مسلم في الصحيح , كتاب الفتن وأشراط الساعة : رقم ٢٩٣٧ ; و الترمذي في سننه , كتاب الفتن عن رسول الله ﷺ , باب ما جاء في فتنة الدجال : رقم ٢٢٤٠ دون السؤال ، و أحمد في مسنده : رقم ١٧٦٢٩  – “রাসুলুল্লাহ ﷺ একদিন দাজ্জালের আলোচনা করলেন। তখন তিঁনি (দ্বীনের বিচারে) তার (তথা দাজ্জালের) তুচ্ছতা/হীনতার বর্ণনা দিলেন, আবার তার (ভয়ানক ফিতনার গুরুত্বও) তুলে ধরলেন। (তিনি বিষয়গুলোকে এমন জীবন্তভাবে তুলে ধরছিলেন যে,) আমাদের মনে হচ্ছিল সে খেজুর গাছের ঝোপের মধ্যে (লুকিয়ে) আছে। (এর পরে একসময় আমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছ থেকে চলে যাই)। পরে যখন (সন্ধায়) তাঁর কাছে ফিরে আসি, তখন তিনি আমাদের মধ্যে সেটা বুঝতে পেরে জিজ্ঞেস করলেন: ‘কী হয়েছে তোমাদের’? আমরা বললাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি সকালে দাজ্জালের আলোচনা করেছিলেন। তখন তার তুচ্ছতা/হীনতার বর্ণনা দিলেন, আবার তার (ভয়ানক ফিতনার গুরুত্বও এমন জীবন্তভাবে) তুলে ধরলেন (যে,) আমাদের মনে হচ্ছিল সে খেজুর গাছের ঝোপের মধ্যে (লুকিয়ে) আছে’। তিনি বললেন: ‘দাজ্জাল নয়; তোমাদের উপরে অন্য কিছু নিয়ে আমার (বেশি) ভয় হয়। আমি তোমাদের মাঝে (জীবিত) থাকতেই যদি সে বের হয়, তাহলে তোমাদের লাগবে না, আমি (নিজেই) তাকে প্রতিহত করবো। আর সে যদি আমি তোমাদের মাঝে (জীবিত) না থাকা অবস্থায় বের হয়, তাহলে প্রতিহতের বিষয়টি (প্রত্যেক মুসলমান) নিজ দায়িত্বে থাকবে এবং (সে ক্ষেত্রে) আমার স্থলে (দয়াময় করুনাময়) আল্লাহ’ই প্রত্যেক (মুমিন) মুসলমানের উপরে তত্ত্বাবধায়ক থাকবেন। (ভাল করে দাজ্জালের বৈশিষ্ট জেনে রাখো)। নিশ্চই সে একজন অধিকমাত্রার চুল ওয়ালা যুবক, তার (এক দিকের) চোখটি (কোটরের ভিতরে) নির্জীব/অসতেজ (থাকবে)। আমি -তার সাদৃশ্যতা (কার সাথে মিলে, সেই উদাহরণ) দিলে  (বলবো, সে অনেকটা) আব্দুল উযযা বিন ক্বাতানের মতো (দেখতে)। তোমাদের (মুসলমানদের) মধ্যে যে তার সাক্ষাত পাবে, সে যেন ওর সামনে সুরা কাহফের প্রথম (১০ টি আয়াত) পড়ে নেয়। সে বের হবে ইরাক এবং শামের মাঝামাঝি (একটি) সংযোগস্থল (এলাকা) থেকে। পরে সে ফ্যাসাদ/দূর্যোগ সৃষ্টি করবে ডানে ও বামে। ওহে আল্লাহ’র বান্দাগণ, তোমরা (তার ফিতনার সময়ও দ্বীনের উপরে) দৃঢ়পদে থেকো, (কোনো মতেই ইমান ছাড়বে না)’। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! পৃথিবীতে তার স্থায়ীত্ব কত (দিন) হবে’ ? তিনি বললেন: ‘চল্লিশ দিন (থাকবে, যার) একটি দিন হবে এক বছরের মতো (দীর্ঘ), একটি দিন হবে এক মাসের মতো (দীর্ঘ), একটি দিন হবে এক সপ্তাহের মতো (দীর্ঘ) এবং তার বাদবাকি দিনগুলো হবে তোমাদের (স্বাভাবিক) দিনগুলোর মতো’। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! তার যে দিনটি এক বছরের মতো (দীর্ঘ) হবে, তাতে কি আমাদের জন্য এক দিনের নামাযই যথেষ্ট হবে’? তিনি বললেন: ‘না। (বরং) তোমরা তার (তথা নামাযের) ওয়াক্ত (হিসাব করে) নির্ণয় করে নিবে (এবং ওয়াক্ত মতো নামায আদায় করবে)’। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! পৃথিবীতে তার ভ্রমন কী (রকম) হবে’? তিনি বললেন: ‘যেমনি ভাবে বায়ু মেঘকে হাকিয়ে নিয়ে যায়। সে একটি গোষ্ঠির কাছে এসে তাদেরকে (তার ফিতনাবাদী মত ও পথের দিকে) আহবান করবে, ফলে তারা (ফিতনায় প্ররোচিত হয়ে) তার উপরে ইমান আনবে ও তার ডাকে সাড়া দিবে। তখন সে আকাশকে (তাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষানোর) নির্দেশ দিবে, ফলে তা বৃষ্টি বর্ষন করবে এবং সে ভূমিকে (ফলন ফলানোর নির্দেশ দিবে), ফলে তা ফলন দিবে। পরে তাদের গবাদী পশুগুলো (সন্ধায়) তাদের কাছে বাসস্থানে ফিরে আসবে সুউচ্চ কুঁজ, (দুধে ভরা) টইটুম্বুর স্তন ও ভর্তি পেট নিয়ে। এরপর সে (আরেক) গোষ্ঠির কাছে এসে তাদেরকে (তার ফিতনাবাদী মত ও পথের দিকে) আহবান করবে। কিন্তু তারা তার কথাকে প্রত্যাক্ষান করবে। পরে সে তাদের থেকে চলে যাবে। পরে তাদের সকাল হবে দুর্ভিক্ষগ্রস্থ অবস্থায়। তাদের হাতে ধ্বনসম্পদের কিছুই থাকবে না। পরে সে এক পরিত্যাক্ত স্থান দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাকে (সম্মোধন করে) বলবে: ‘তুমি তোমার গুপ্তধ্বনকে বের করে দাও’। ফলে গুপ্তধ্বন তাকে (তেমনি ভাবে) অনুসরণ করবে, যেভাবে মৌমাছি মৌরাণীকে অনুসরণ করে। এরপর সে পূর্ণযৌবনভরা এক যুবককে আহবান করবে, তারপর তাকে তরবারী দিয়ে আঘাত করবে। ফলে সে একদম মাঝ বরাবর দিখন্ডিত হয়ে যাবে। তারপর তাকে ডাক দিবে। ফলে সে আনন্দময় চেহারায় তার কাছে আসবে (এবং) হেসে দিবে। এ (ঘটনা)টা (যখন) ঘটতে থাকবে তখন আল্লাহ (তাঁর প্রকৃত মাসিহ) ঈসা ইবনে মারইয়ামকে পাঠাবেন। তিনি এক জোড়া উজ্জল জাফরানী কাপড়ে (আবৃতাবস্থায়) দুজন ফেরেশতার ডানার উপরে হাত রেখে দামেশকের পূর্ব সাদা মিনারের কাছে অবতরন করবেন। তিনি যখন তাঁর মাথা ঝুঁকাবেন, তখন (তাঁর মাথার চুল থেকে পানির) ফোটা টপকে টপকে পড়বে। আর তিনি যখন মাথা উঠাবেন, তখন মুক্তার দানার মতো (পানিফোটার) বিন্দুদানা ঝড়ে পড়বে। তাঁর নিঃশ্বাসের বাতাস গিয়ে যে কাফেরকে লাগবে সে না মড়ে রক্ষা পারবে না। তাঁর দৃষ্টি যতদূর পর্যন্ত যাবে, তাঁর নি:শ্বাসও ততদূর পর্যন্ত গিয়ে পৌছবে। তিঁনি তার (তথা দাজ্জালের) সন্ধানে রত থাকবেন যাবত না (ফিলিস্তিনের) বাবে-লূদে (গিয়ে) তার সাক্ষাৎ পান। পরে তিঁনি তাকে (সেখানে) হত্যা করবেন। এরপর ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.) ওই গোষ্ঠির কাছে আসবেন, যাদেরকে (তাদের ইমানী অবিচলতার কারণে) আল্লাহ ওর (তথা দাজ্জালের ফিতনা) থেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। পরে তিঁনি তাদের মুখগুলিতে (বরকতময়) হাত বুলিয়ে দিবেন এবং তাদেরকে জান্নাতে তাদের মর্তবাস্তরের কথা জানাবেন। এসব হতে থাকবে, এমন সময় ঈসা (আ.)-এর কাছে আল্লাহ (এই) ওহী পাঠাবেন (যে), আমি আমার (এমন সব) বান্দাদেরকে (আজ) বের হতে দিয়েছি, যাদের সাথে যুদ্ধ করার ক্ষমতা কারোরই নেই। তাই আমার বান্দাদেরকে নিয়ে তূর (পাহড়)-এ আশ্রয় গ্রহন করো। আল্লাহ (এরপর তাঁর ওয়াদা অনুসারে) ইয়াজুজ মাজুজ’ (গোষ্ঠি)কে প্রেরন করবেন এবং তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে বেড়িয়ে ধেয়ে আসবে”। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯৩৭; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২২৪০; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৭৬২৯; মুসতাদরাকে হাকিম– ৪/৬৬১ হাদিস ৮৫৭৩; আল-ইমান, ইমাম ইবনু মানদাহ- ২/৯৩৩ হাদিস ১০২৭]

# যাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- َ يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فِي خَفْقَةٍ مِنَ الدِّينِ ، وَإِدْبَارٍ مِنَ الْعِلْمِ ، فَلَهُ أَرْبَعُونَ لَيْلَةً يَسِيحُهَا فِي الْأَرْضِ ، الْيَوْمُ مِنْهَا كَالسَّنَةِ ، وَالْيَوْمُ مِنْهَا كَالشَّهْرِ ، وَالْيَوْمُ مِنْهَا كَالْجُمُعَةِ ، ثُمَّ سَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ هَذِهِ ، وَلَهُ حِمَارٌ يَرْكَبُهُ ، عَرْضُ مَا بَيْنَ أُذُنَيْهِ أَرْبَعُونَ ذِرَاعًا . فَيَقُولُ لِلنَّاسِ : أَنَا رَبُّكُمْ . وَهُوَ أَعْوَرُ ، وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ ، مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ ك ف ر مُهَجَّاةٌ يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ ، كَاتِبٌ وَغَيْرُ كَاتِبٍ ، يَرِدُ كُلَّ مَاءٍ وَمَنْهَلٍ ، إِلَّا الْمَدِينَةَ وَمَكَّةَ حَرَّمَهُمَا اللَّهُ عَلَيْهِ ، وَقَامَتْ الْمَلَائِكَةُ بِأَبْوَابِهَا ، وَمَعَهُ جِبَالٌ مِنْ خُبْزٍ ، وَالنَّاسُ فِي جَهْدٍ إِلَّا مَنْ تَبِعَهُ ، وَمَعَهُ نَهْرَانِ أَنَا أَعْلَمُ بِهِمَا مِنْهُ نَهَرٌ يَقُولُ : الْجَنَّةُ ، وَنَهَرٌ يَقُولُ : النَّارُ ، فَمَنْ أُدْخِلَ الَّذِي يُسَمِّيهِ الْجَنَّةَ فَهُوَ النَّارُ ، وَمَنْ أُدْخِلَ الَّذِي يُسَمِّيهِ النَّارَ فَهُوَ الْجَنَّةُ ، قَالَ : وَيَبْعَثُ اللَّهُ مَعَهُ شَيَاطِينَ تُكَلِّمُ النَّاسَ ، وَمَعَهُ فِتْنَةٌ عَظِيمَةٌ ، يَأْمُرُ السَّمَاءَ فَتُمْطِرُ فِيمَا يَرَى النَّاسُ ، وَيَقْتُلُ نَفْسًا ثُمَّ يُحْيِيهَا فِيمَا يَرَى النَّاسُ ، لَا يُسَلَّطُ عَلَى غَيْرِهَا مِنَ النَّاسِ ، وَيَقُولُ : أَيُّهَا النَّاسُ ، هَلْ يَفْعَلُ مِثْلَ هَذَا إِلَّا الرَّبُّ ؟ ، قَالَ : فَيَفِرُّ الْمُسْلِمُونَ إِلَى جَبَلِ الدُّخَانِ بِالشَّامِ ، فَيَأْتِيهِمْ فَيُحَاصِرُهُمْ ، فَيَشْتَدُّ حِصَارُهُمْ ، وَيُجْهِدُهُمْ جَهْدًا شَدِيدًا ، ثُمَّ يَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ فَيُنَادِي مِنَ السَّحَرِ ، فَيَقُولُ : يَا أَيُّهَا النَّاسُ ، مَا يَمْنَعُكُمْ أَنْ تَخْرُجُوا إِلَى الْكَذَّابِ الْخَبِيثِ ؟ ، فَيَقُولُونَ : هَذَا رَجُلٌ جِنِّيٌّ ، فَيَنْطَلِقُونَ ، فَإِذَا هُمْ بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ، فَتُقَامُ الصَّلَاةُ ، فَيُقَالُ لَهُ : تَقَدَّمْ يَا رُوحَ اللَّهِ ، فَيَقُولُ : لِيَتَقَدَّمْ إِمَامُكُمْ فَلْيُصَلِّ بِكُمْ ، فَإِذَا صَلَّى صَلَاةَ الصُّبْحِ ، خَرَجُوا إِلَيْهِ ، قَالَ : فَحِينَ يَرَى الْكَذَّابُ ، يَنْمَاثُ كَمَا يَنْمَاثُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ ، فَيَمْشِي إِلَيْهِ فَيَقْتُلُهُ ، حَتَّى إِنَّ الشَّجَرَةَ ، وَالْحَجَرَ يُنَادِي : يَا رُوحَ اللَّهِ ، هَذَا يَهُودِيٌّ ، فَلَا يَتْرُكُ مِمَّنْ كَانَ يَتْبَعُهُ أَحَدًا إِلَّا قَتَلَهُ . رواه احمد في المسند :  ٣/٣٦٧ , و قال الشيخ شعيب الأرناؤوط: إسناده صحيح  – ‘দাজ্জাল বেড় হবে দ্বীনের খলৎমলৎ অবস্থায় এবং (কুরআন সুন্নাহ’র) ইলম থেকে (উম্মাহ’র পাইকারী হারে লেজগুটিয়ে) পিছুটান কালে। (মানুষকে ফিতনায় ফেলার জন্য) তার (হাতে) থাকবে চল্লিশ রাত; (যে সময়টিতে) সে পৃথিবীতে ছুটে বেড়াবে। (ওই চল্লিশ দিনের মধ্যে) একটি দিন হবে (এমন, যার দৈর্ঘ হবে) এক বৎসরের মতো, একটি দিন হবে (এমন, যার দৈর্ঘ হবে) এক মাসের মতো, একটি দিন হবে (এমন, যার দৈর্ঘ হবে) এক সপ্তাহের মতো। অতঃপর তার (বাকি) দিনগুলোর সবটাই হবে তোমাদের এই (দুনিয়ার স্বাভাবিক) দিনগুলোর মতো। তার থাকবে গাধা, যার উপরে সে আরোহন করবে। তার (গাধার) দুই কানের মধ্যবর্তী দূরুত্ব হবে চল্লিশ হাত। সে(ই দাজ্জাল) মানুষকে বলবে: ‘আমি তোমাদের রব (প্রভু)’। সে হবে (এক-চোখ) অন্ধ (এক ব্যাক্তি), আর নিশ্চই তোমাদের (প্রকৃত) রব (আল্লাহ তাআলা) অন্ধ নন। (সুতরাং, তোমরা ওর ফেতনায় পড়ে ওকে চিনতে ভুল করো না যেন)। ওর দুই চোখের মাঝখানে (কপালের কাছে) লিখা থাকবে কাফের ‘ ك ف ر’ -(এরকম) অক্ষরে, যা সকল মুমিন পড়তে পারবে -(চাই সে) লিখাপড়া জানুক কিংবা নিরক্ষর হোক। সে মদিনা ও মক্কা ছাড়া (পৃথিবীর) সকল পানি ও ঝরনার (স্থানে) যেতে পারবে; (কারণ) ওই দুই(স্থানে প্রবেশ করা)কে আল্লাহ ওর উপরে হারাম করে দিয়েছেন। উহার বিভিন্ন প্রবেশ পথে ফেরেশতারা দাঁড়িয়ে থাকবে। ওর সাথে থাকবে রুটির পাহাড়। যে ব্যাক্তি তার অনুসরণ করবে সে ছাড়া (বাকি) মানুষ কষ্টেক্লেশে পড়ে যাবে। ওর সাথে থাকবে দুটি নহর (প্রস্রবন/নদী/নালা)। আমি ওই দুটি সম্পর্কে ভাল করে জানি। সে ওর একটি নহরকে বলবে ‘জান্নাত’ এবং একটি নহরকে বলবে ‘দোযখ’। সে সেটিকে ‘জান্নাত’ নাম দিয়ে যাকে তাতে ঢুকাবে সেটা হবে দোযখ এবং সে ‘দোযখ’ নাম দিয়ে যাকে তাতে ঢুকাবে সেটা হবে জান্নাত। আল্লাহ তার সাথে শয়তানদেরকে পাঠাবেন, তারা মানুষের সাথে কথা বলবে। তার সাথে থাকবে বিশাল ফিতনা। সে আকাশকে নির্দেশ দিবে, তখন বৃষ্টি হবে, যা মানুষজন দেখতে পাবে। সে (এক যুবক) ব্যাক্তিকে হত্যা করবে, অতঃপর (আবার) তাকে জীবিত করবে, যা মানুষজন দেখতে পাবে। সে(ই যুবকের পরে সে) ছাড়া আর কোনো (মুমিন) মানুষের উপর তার কর্তৃত্ব চলবে না। সে(ই দাজ্জাল তথাকার লোকজনকে উদ্দেশ্য করে) বলবে: ‘হে লোক সকল! (তোমাদের) রব (প্রভু) ছাড়া আর কেউ কি এমন কাজ করতে পারে’? তখন মুসলমানরা (তার থেকে) পালিয়ে শাম-এর ধুঁয়োর পাহাড়ের দিকে যাবে। তখন সে তাদের কাছে গিয়ে তাদেরকে অবরোধ করে রাখবে। পরে সে তাদের (প্রতি ওই) অবরোধকে সুকঠিন করে তুলবে (যাতে তারা ওর অনুসরন করতে বাধ্য হয়)। এতে তারা চরম কষ্টক্লেশে পড়ে যাবে। এরপর (এক সময় আসমান থেকে) ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.) নাজিল হবেন। তারপর তিনি এক জাদুময়ী ডাক দিবেন। তারপর তিনি বলবেন: ‘হে লোক সকল! (এই) খবিস মিথ্যুকের দিকে (যদ্ধের জন্য) বেরিয়ে পড়তে কী তোমাদেরকে বাঁধা দিয়ে রেখেছে’? তারা বলবে: ‘এই লোকটি জ্বীন্নী (জ্বীন দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত)। (যখন মুসলমানরা বুঝবে যে, ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর মাধ্যমে আল্লাহ’র সাহায্য এসে গেছে) তখন তারা (দাজ্জাল ও তার বাহীনির দিকে যুদ্ধের জন্য) এগুতে থাকবে। ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.) তাদের সাথে থাকাবস্থাতেই নামাযের (সময় হয়ে গেলে নামাযের জামাআতের) ইকামত দেয়া হবে। তাঁকে বলা হবে: ‘ইয়া রুহাল্লাহ ! আপনি (নামাযের ইমামতীর জন্য) এগিয়ে যান’। (কিন্তু) তখন তিঁনি তোমাদের (মুসলমানদের আমীর ও) ইমামকেই (নামাযের ইমামতীর জন্য) অগ্রসর হতে বলবেন। তখন (তোমাদের ইমাম, আল-মাহদী) নামায পড়াবেন। যখন ফজরের নামায পড়া হবে, তখন তারা (মোকাবেলার উদ্দেশ্যে সকলে মিলে) ওর দিকে অগ্রসব হবে। মিথ্যুক (খবীস দাজ্জাল) যখন (ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-কে) দেখবে, তখন -লবন যেভাবে পানিতে গলে যায়, সেও (তেমনি ভাবে) গলে যেতে থাকবে। পরে তিঁনি ওর দিকে ধাওয়া করে ওকে (বাবে-লুদ নামক স্থানে পাকড়াও করে) হত্যা করে ফেলবেন। অবশেষে গাছগাছালী এবং সমুদ্র পর্যন্ত (এই বলে) চিৎকার দিবে: ‘ইয়া রুহাল্লাহ ! এই যে (এখানে) ইহূদী’! পরে (ইহূদীদের মধ্যে) এমন কেউ অবশিষ্ট থাকবে না, যে তাঁর অনুগত্য ইত্তেবা-অনুসরণ করবে না, আর তিঁনি তাকে হত্যা না করবেন”। [মুসনাদে আহমদ- ৩/৩৬৭; শারহু মুশকিলিল আছার, ত্বাহাবী, হাদিস ৫৬৯৪; আত-তাউহীদ, ইবনে খুযাইমাহ- ১/১০২; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৫৩০]

# আবু তুফায়েল রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বর্ণনা করেন-  كُنْتُ بِالْكُوفَةِ، فَقِيلَ‏:‏ خَرَجَ الدَّجَّالُ، قَالَ‏:‏ فَأَتَيْنَا عَلَى حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ وَهُوَ يُحَدِّثُ، فَقُلْتُ‏:‏ هَذَا الدَّجَّالُ قَدْ خَرَجَ، فَقَالَ‏:‏ اجْلِسْ، فَجَلَسْتُ فَأَتَى عَلَيَّ الْعَرِيفُ، فَقَالَ‏:‏ هَذَا الدَّجَّالُ قَدْ خَرَجَ وَأَهْلُ الْكُوفَةِ يُطَاعِنُونَهُ، قَالَ‏:‏ اجْلِسْ، فَجَلَسْتُ فَنُودِيَ إِنَّهَا كَذِبَةٌ صِبَاغٌ، قَالَ‏:‏ فَقُلْنَا يَا أَبَا سَرِيحَةَ مَا أَجْلَسْتَنَا إِلَّا لِأَمْرٍ فَحَدِّثْنَا، قَالَ‏:‏ إِنَّ الدَّجَّالَ لَوْ خَرَجَ فِي زَمَانِكُمْ لَرَمَتْهُ الصِّبْيَانُ بِالْخَذْفِ، وَلَكِنَّ الدَّجَّالَ يَخْرُجُ فِي بُغْضٍ مِنَ النَّاسِ، وَخِفَّةٍ مِنَ الدِّينِ، وَسُوءِ ذَاتِ بَيْنٍ، فَيَرِدُ كُلَّ مَنْهَلٍ، فَتُطْوَى لَهُ الْأَرْضُ طَيَّ فَرْوَةِ الْكَبْشِ حَتَّى يَأْتِيَ الْمَدِينَةَ، فَيَغْلِبُ عَلَى خَارِجِهَا وَيَمْنَعُ دَاخَلَهَا، ثُمَّ جَبَلَ إِيلِيَاءَ فَيُحَاصِرُ عِصَابَةً مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَيَقُولُ لَهُمُ الَّذِينَ عَلَيْهِمْ‏:‏ مَا تَنْتَظِرُونَ بِهَذَا الطَّاغِيَةِ أَنْ تُقَاتِلُوهُ حَتَّى تَلْحَقُوا بِاللَّهِ أَوْ يَفْتَحَ لَكُمْ، فَيَأْتَمِرُونَ أَنْ يُقَاتِلُوهُ إِذَا أَصْبَحُوا، فَيُصْبِحُونَ وَمَعَهُمْ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ فَيَقْتُلُ الدَّجَّالَ وَيَهْزِمُ أَصْحَابَهُ، حَتَّى إِنَّ الشَّجَرَ وَالْحَجَرَ وَالْمَدَرَ، يَقُولُ‏:‏ يَا مُؤْمِنُ هَذَا يَهُودِيٌّ عِنْدِي فَاقْتُلْهُ ‏، قَالَ‏:‏ ‏‏ وَفِيهِ ثَلَاثُ عَلَامَاتٍ‏:‏ هُوَ أَعْوَرُ وَرَبُّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ، وَمَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ يَقْرَأُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ أُمِّيٌّ وَكَاتِبٌ، وَلَا يُسَخَّرُ لَهُ مِنَ الْمَطَايَا إِلَّا الْحِمَارُ، فَهُوَ رِجْسٌ عَلَى رِجْسٍ . أحرجه الحاكم في المستدرك : ٤/٥٢٩ رقم ٨٦١٢ و قال: هذا حديث صحيح الإسناد و لم يخرجاه و قال الذهبي في التلخيصه : علي شرط البخاري و المسلم ، و عبد الرزاق في مصنفه : ١١/٣٩٤ رقم ٢٠٨٢٧، وصححه الألباني في كتاب قصة المسيح الدجال ص ١٠٦ – “আমি (একবার ইরাকের) কুফায় ছিলাম। তখন বলা হচ্ছিল: ‘দাজ্জাল বের হয়েছে’। ফলে আমরা হুযাইফা ইবনে আসীদ রা.-এর কাছে এলাম; তিনি কথাবার্তা বলছিলেন। আমি বললাম: ‘(শুনছি) দাজ্জাল (নাকি) বের হয়েছে’। তিনি বললেন: ‘বসো’। ফলে আমি বসে পরলাম। পরে (ঘটনার খবর সম্পর্কে) জানাশোনা একজন আমার কাছে এসে বললো: ‘(আপনারা এখানে বসে আছেন, এদিকে) দাজ্জাল(তো) বের হয়েছে, আর কুফাবাসী দাজ্জালের মোকাবেলা করতে যাচ্ছে’! (তার একথা শুনে) তিনি (তাকে) বললেন: ‘বসো’। ফলে সে বসে পড়লো। পরে (আশপাশ থেকে) উচ্চ স্বরে বলা হল: ‘ওটা একটা বানানো মিথ্যা (গুজব ছিল)’। তখন আমরা (হুযাইফা রা.কে) বললাম: ‘হে সারিহ্বাহ (হুযাইফা)! আপনি আমাদেরকে যে জন্য (এখানে) বসিয়েছেন, (সে ব্যাপারে) আমাদেরকে হাদিস শোনান’। তখন তিনি বললেন: ‘যদি দাজ্জাল তোমাদের (এই) জামানায় বের হত, তাহলে নির্ঘাৎ কিশোররাই ওকে ঢেলা দিয়ে ঢিল মাড়তো’। অবশ্য দাজ্জাল বের হবে (এমন এক পঁচনধরা জামানায়) যখন মানুষজনের মাঝে (ব্যাপক মাত্রায় পারষ্পরিক) বুগ্জ (ঘৃনাভরা-ক্রধ) থাকবে, (মানুষজনের দ্বারা) দ্বীনের মধ্যে খলৎমলৎ হয়ে যাবে, (উম্মতের) নিজেদের মাঝে সম্পর্ক থাকবে মন্দ। সে(ই অবস্থায় দাজ্জাল) প্রত্যেক মানহালে (পানি-ধারায়) আসবে। তার (সফরের সহজতার) জন্য পৃথিবী এমন ভাবে গুটিয়ে যাবে, যেভাবে ভেড়ার চামড়া গুটানো হয়। এমনকি সে মদিনার কাছে আসবে (কিন্তু পাহারাদার ফেরেশতাদের কারণে মদিনার ভিতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে না)। পরে মদিনার (সীমার) বাহিরে অবস্থানকারীদের উপরে সে চড়াও হবে, কিন্তু তার (সীমার) ভিতরবাসীদের (উপরে সরাসরি চড়াও হতে) সক্ষম হবে না। পরে সে যাবে ইলইয়া’য় (বায়তুল মাকদিসে)। (সেখানে) সে মুসলমানদের একটি জামাআতকে অবরোধ করবে। তখন তারা নিজেদের মাঝে একথা বলবে: ‘এই আল্লাদ্রোহির বিরুদ্ধে জিহাদ করতে তোমরা কিসের অপেক্ষা করছো, অবশেষে-তো তোমরা (হয় শহিদ হয়ে) আল্লাহ’র সাথে গিয়ে মিলিত হবে অথবা তোমাদের বিজয় হবে, (দুটোর একটাতো হবেই)। পরে তারা এই পরিকল্পনা করবে যে, যখন সকাল হবে, তখন তারা (ওর বিরুদ্ধে) জিহাদ করবে। পরে তাদের সকাল হলে (দেখা যাবে) ঈসা ইবনে মারইয়াম (আসমান থেকে নাজিল হয়েছেন এবং তাদের সাথে (জিহাদে শরীক রয়েছেন)। পরে তিঁনি দাজ্জালকে (বাবে-লুদ নামক স্থানে পাকড়াও করে) হত্যা করবেন। ওর সঙ্গিসাথীরা পরাজয় বরন করবে। এমনকি গাছ, পাথর, মাটিদলা পর্যন্ত বলবে: ‘হে মুমিন, এই যে ইহুদী আমার কাছে (লুকিয়ে আছে), ওকে হত্যা করো’। তিনি বললেন: ‘ওর মধ্যে তিনটি আলামত রয়েছে। (১) সে হবে (এক চোখ) অন্ধ (ব্যাক্তি), অথচ তোমাদের রব (প্রভু আল্লাহ) অন্ধ নন। (২) ওর দুই চোখের মাঝখানে লিখা থাকবে ‘কাফের’, যা প্রত্যেক লেখাপড়া জানা ও নিরক্ষর মুমিন ব্যাক্তি পড়তে পারবে। (৩) আর তার জন্য গাধা ছাড়া সফর করার অন্য কোনো বাহন থাকবে না। বস্তুত: সে হবে (এমন এক ফিতনাবাজ খারাপ লোক, যার সাক্ষাত পেলে মুমিন ব্যাক্তি অনুভব করতে পারবে যে, ওর মনমানুষিকতায় যেন) পঙ্কিলের উপরে পঙ্কিল (জমে আছে)”। [মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৫২৯ হাদিস ৮৬১২; আল-মুসান্নাফ, ইমাম আব্দুর রাজ্জাক- ১১/৩৯৪ হাদিস ২০৮৬৭]

# যুনাদাহ বিন আবি উমাইয়্যাহ আল-আযদী রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- ذَهَبْتُ أَنَا وَرَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْنَا : حَدِّثْنَا مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُذْكَرُ فِي الدَّجَّالِ ، وَلَا تُحَدِّثْنَا عَنْ غَيْرِهِ وَإِنْ كَانَ مُصَدَّقًا قَالَ : خَطَبَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : أَنْذَرْتُكُمُ الدَّجَّالَ ثَلَاثًا فَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ قَبْلِي إِلَّا قَدْ أَنْذَرَهُ أُمَّتَهُ ، وَإِنَّهُ فِيكُمْ أَيَّتُهَا الْأُمَّةُ وَإِنَّهُ جَعْدٌ آدَمُ مَمْسُوحُ الْعَيْنِ الْيُسْرَى مَعَهُ جَنَّةٌ وَنَارٌ فَنَارُهُ جَنَّةٌ وَجَنَّتُهُ نَارٌ ، وَمَعَهُ جَبَلٌ مِنْ خُبْزٍ وَنَهْرٌ مِنْ مَاءٍ ، وَإِنَّهُ يُمْطِرُ الْمَطَرَ ، وَلَا يُنْبِتُ الشَّجَرَ ، وَإِنَّهُ يُسَلَّطُ عَلَى نَفْسٍ فَيَقْتُلُهَا ، وَلَا يُسَلَّطُ عَلَى غَيْرِهَا ، وَإِنَّهُ يَمْكُثُ فِي الْأَرْضِ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا يَبْلُغُ فِيهَا كُلَّ مَنْهَلٍ ، وَلَا يَقْرَبُ أَرْبَعَةَ مَسَاجِدَ مَسْجِدَ الْحَرَامِ ، وَمَسْجِدَ الْمَدِينَةِ ، وَمَسْجِدَ الطُّورِ ، وَمَسْجِدَ الْأَقْصَى ، وَمَا يُشَبَّهُ عَلَيْكُمْ ، فَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ . رواه احمد في المسنده , حديث رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم : ٥/٤٣٥ , و قال الحافظ في فتح الباري : ١٣/١٠٥ : رواه أحمد و رجاله ثقات , و قال الهيثمي في مجمع الزوائد : ٧/٣٤٣ : رواه أحمد ورجاله رجال الصحيح , و صححه الشيخ شعيب الأرناؤوط في تحقيقه ; و اخرجه ايضا الحارث في المسند : ٧٨٤ ، و الطحاوي في شرح مشكل الآثار : ٤/٣٧٦ مختصراً , و غيرهم  – “(একবার) আমি এবং এক আনসারী ব্যাক্তি -রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এক সাহাবীর কাছে গেলাম। পরে আমরা তাঁকে বললাম: ‘আপনি রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে দাজ্জালের ব্যাপারে কী আলোচনা করতে শুনেছেন তা আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। আপনি তাঁর থেকে ছাড়া অন্য কারো হাদিস আমাদের কাছে বর্ণনা করবেন না -চাই সে যতই (সত্যবাদী হিসেবে) সত্যায়িত হোক না কেনো’। তিনি বললেন: ‘নবী ﷺ (একদিন) আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে কথা বলছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি বললেন: ‘আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের ব্যাপারে সতর্ক করছি’। (এভাবে তিনি কথাটা) তিনবার (বললেন)। (অত:পর বললেন:) ‘আমার পূর্বে এমন কোনো নবী ছিলেন না, যিনি তাঁর উম্মতকে ওর ব্যাপারে সতর্ক করেন নি। (তবে দাজ্জাল তাঁদের কারোর জামানাতেই আসেনি)। হে (আমার) উম্মত! নিশ্চই সে তোমাদের মধ্যে (আসবে)। নিশ্চই সে কোকড়ানো চুল ওয়ালা বাদামী বর্ণের (ও) বাম চোখ অন্ধ (এক) ব্যাক্তি। তার সাথে (থাকবে) জান্নাত ও দোযখ। বস্তুতঃ তার দোযখটি হল জান্নাত এবং তার জান্নাতটি হল দোযখ। তার সাথে থাকবে রুটির পাহাড় এবং পানির নহর। সে (আকাশকে নির্দেশ দিয়ে) বৃষ্টি বর্ষাবে, আবার (জমিনকে নির্দেশ দিয়ে) তাতে ফলন হতে দিবে না। সে এক (যবক) ব্যাক্তির উপরে কর্তৃত্ব খাটিয়ে তাকে হত্যা করবে, (যার পর) সে ভিন্ন (মুমিনদের) অন্য কারোর উপরে সে কর্তৃত্ব খাটাতে পারবে না। সে পৃথিবীতে চল্লিশ দিন থাকবে এবং তাতে সে প্রতিটি মানহাল (পানি-ধারা)-এর কাছে পৌছবে। তবে সে চারটি মসজিদের কাছে যেতে পারবে না: (মক্কার) মসজিদে হারাম, মসজিদে মদিনা, মসজিদে তূর এবং মসজিদে আক্বসা (বায়তুল মাকদিস)। তোমাদের উপরে (যেন) ওর বিভ্রান্তি চড়াও না হতে পারে। কারণ, তোমাদের (প্রকৃত) রব (প্রভু আল্লাহ তাআলা) অন্ধ নন”। [মুসনাদে আহম ৫/৪৩৫; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ- ১৫/১৪৭ হাদিস ১৯৩৫২; মুসনাদে হারেছ, হাদিস ৭৮৪; শারহু মুশকিলিল আছার, ইমাম ত্বাহাবী- ৪/৩৭৬; আস-সুন্নাহ, ইমাম ইবনে হাম্বল- ২/৪৫২ হাদিস ১০১৬, ১২৩২; আল-বা’ছ, ইমাম বাইহাকী, হাদিস ১৪৯; আশ-শারইয়্যাহ, ইমাম আযরী- ৩৭৫; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩৪৩]

# সামুরাহ বিন যুনদুব রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- ان الدجال خارج ، وهو اعور العين الشمال عليها ظفرة غليظة ،وانه يبرئ الاكمه والابرص ، ويحى الموتى ، ويقول للناس انا ربكم فمن قال :انت ربى فقد فتن ومن قال : ربى الله حتى يموت فقد عصم من فتنته ولا فتنه بعده عليه ول عذاب فليلبث فى الارض ماشاء الله ، ثم يجئ عيسى ابن مريم من قبل المغرب مصدقا بمحمد صلى الله عليه وسلم وعلى ملته فيقتل الدجال ، ثم انما هو قيام الساعه . أخرج أحمد في مسنده : ١٥/١٣٧ رقم ٢٠٠٢٧ اسناده صحيح، أخرجه المقدسى ايضا فى أخبار الدجال والقرطبى فى الاستذكار, و إسناده حسن صحيح ، ففيه عبد الوارث بن سفيان وهو صدوق حسن الحديث  – “নিশ্চই দাজ্জাল বের হবেই। আর সে ডান চোখ অন্ধ (এক ব্যাক্তি)। ও(র ওই চোখ)টির উপরে রয়েছে বড় মোটা সাদা চামড়াখন্ড। আর নিশ্চই সে (বাহ্যত: অনেকের) চোখের দৃষ্টিহীনতা ও কুষ্ঠ রোগ দূর করে দিবে, মৃতকে জীবিত করবে এবং মানুষজনকে বলবে: ‘আমি তোমাদের রব (প্রতিপালক প্রভু)’। সুতরাং, যে বলবে: ‘তুমি আমার রব (প্রতিপালক প্রভু), সে (ওর ফিতনায়) ফিতনাগ্রস্ত হবে। আর যে বলবে: ‘আমার রব (প্রতিপালক প্রভু) আল্লাহ, এমনকি (এই ইমানের উপরেই) সে মড়ে যাবে, মূলত: সে-ই ওর ফিতনা থেকে মুক্তি পাবে। এরপর আর তার উপরে ওর না (কোনো) ফিতনা আর না কোনো আযাব (প্রভাব ফেলতে পারবে)। পরে আল্লাহ (যতদিন) চাইবেন, সে পৃথিবীতে থাকবে। অত:পর ঈসা ইবনে মারইয়াম আসবেন পশ্চিম দিকে থেকে -মুহাম্মাদ ﷺ ও তাঁর মিল্লাতের সত্যায়ন সহকারে। তারপর তিঁনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন। এরপর (এক সময়) কেয়ামত কাফেম হবে”। [মুসনাদে আহমদ– ১৫/১৩৭ হাদিস ২০০২৫; আল-মু’জামুল কাবীর, তাবরাণী- ৭/২৬৭; আত-তামহীদ, ইবনু আব্দিল বার- ৫/৪৩৫, ১৪/১৯৩; তারিখে দামেশক, ইবনুল আসাকীর- ১/৪১৫] 

ফায়দা: এর আগে আমরা বিভিন্ন হাদিসে দেখিয়ে এসেছি যে, দাজ্জালের বাম চোখটি অন্ধ এবং তা যেন দেখতে অনেকটা কোটর থেকে বেরিয়ে আসা আঙ্গুরের মতো। আর এই হাদিস থেকে অনুমিত হয়, দাজ্জালের ডান চোখটিও ত্রুটিযুক্ত। সে নিজের চোখের ত্রটি মেরামত করার ক্ষমতা রাখে না, এদিকে আবার শক্তিশালী জাদুর ভেলকিতে বাহ্যত: অন্যের চোখের দৃষ্টি সারিয়ে নিজকে বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহ বলে দাবী করবে!!!

এই হাদিসে বলা হয়েছে, ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. আসবেন নবী হিসেবে নন, বরং সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর মিল্লাতের সত্যায়ন করে। অর্থাৎ ঈসা আ. দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে এসে সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর দ্বীন ও শরীয়তের অনুসারী একজন উম্মত হিসেবে জীবন যাপন করবেন ও তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন। আর পশ্চিম দিক থেকে আসবেন বলতে শাম উদ্দেশ্য। কারণ, এর আগে আপনারা হাদিসে দেখেছেন যে, ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. সিরিয়ার দামেশক জামে মসজিদের সাদা মিনারে আসমান থেকে দুজন ফেরেশতার ডানায় ভর করে অবতরন করবেন। তৎকালীন আরবদের ‘পূর্ব দিক’ ও ‘পশ্চিম দিক’ শব্দগুলি হুবহু আমাদের এযুগের কাটাকম্পাস দিয়ে মাপা ‘পূর্ব দিক’ বা ‘পশ্চিম দিক’-এর মতো ছিল না, বরং তারা তাদের আরবীয় প্রচলন অনুসারে তাদের প্রচলীত বিভিন্ন দিকের এলাকা সমূহকে বুঝাতে এসব শব্দ যেভাবে ব্যবহার করতো, এখানেও সেই স্বাভাবিক প্রচলন অনুসারেই বলা হয়েছে ‘পশ্চিম দিক থেকে’।  الله اعلم بالصواب

# আবু উমামাহ বাহেলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এরশাদ করেন- َخَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَكَانَ أَكْثَرُ خُطْبَتِهِ حَدِيثًا حَدَّثَنَاهُ عَنِ الدَّجَّالِ وَحَذَّرَنَاهُ فَكَانَ مِنْ قَوْلِهِ أَنْ قَالَ ‏”‏ إِنَّهُ لَمْ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الأَرْضِ مُنْذُ ذَرَأَ اللَّهُ ذُرِّيَّةَ آدَمَ أَعْظَمَ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْ نَبِيًّا إِلاَّ حَذَّرَ أُمَّتَهُ الدَّجَّالَ وَأَنَا آخِرُ الأَنْبِيَاءِ وَأَنْتُمْ آخِرُ الأُمَمِ وَهُوَ خَارِجٌ فِيكُمْ لاَ مَحَالَةَ وَإِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا بَيْنَ ظَهْرَانَيْكُمْ فَأَنَا حَجِيجٌ لِكُلِّ مُسْلِمٍ وَإِنْ يَخْرُجْ مِنْ بَعْدِي فَكُلُّ امْرِئٍ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَإِنَّهُ يَخْرُجُ مِنْ خَلَّةٍ بَيْنَ الشَّامِ وَالْعِرَاقِ فَيَعِيثُ يَمِينًا وَيَعِيثُ شِمَالاً ‏.‏ يَا عِبَادَ اللَّهِ أَيُّهَا النَّاسُ فَاثْبُتُوا فَإِنِّي سَأَصِفُهُ لَكُمْ صِفَةً لَمْ يَصِفْهَا إِيَّاهُ نَبِيٌّ قَبْلِي إِنَّهُ يَبْدَأُ فَيَقُولُ أَنَا نَبِيٌّ وَلاَ نَبِيَّ بَعْدِي ثُمَّ يُثَنِّي فَيَقُولُ أَنَا رَبُّكُمْ ‏.‏ وَلاَ تَرَوْنَ رَبَّكُمْ حَتَّى تَمُوتُوا وَإِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ وَإِنَّهُ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ كَاتِبٍ أَوْ غَيْرِ كَاتِبٍ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنَّ مَعَهُ جَنَّةً وَنَارًا فَنَارُهُ جَنَّةٌ وَجَنَّتُهُ نَارٌ فَمَنِ ابْتُلِيَ بِنَارِهِ فَلْيَسْتَغِثْ بِاللَّهِ وَلْيَقْرَأْ فَوَاتِحَ الْكَهْفِ فَتَكُونَ عَلَيْهِ بَرْدًا وَسَلاَمًا كَمَا كَانَتِ النَّارُ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَقُولَ لأَعْرَابِيٍّ أَرَأَيْتَ إِنْ بَعَثْتُ لَكَ أَبَاكَ وَأُمَّكَ أَتَشْهَدُ أَنِّي رَبُّكَ فَيَقُولُ نَعَمْ ‏.‏ فَيَتَمَثَّلُ لَهُ شَيْطَانَانِ فِي صُورَةِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ فَيَقُولاَنِ يَا بُنَىَّ اتَّبِعْهُ فَإِنَّهُ رَبُّكَ ‏.‏ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يُسَلَّطَ عَلَى نَفْسٍ وَاحِدَةٍ فَيَقْتُلَهَا وَيَنْشُرَهَا بِالْمِنْشَارِ حَتَّى يُلْقَى شِقَّتَيْنِ ثُمَّ يَقُولُ انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا فَإِنِّي أَبْعَثُهُ الآنَ ثُمَّ يَزْعُمُ أَنَّ لَهُ رَبًّا غَيْرِي ‏.‏ فَيَبْعَثُهُ اللَّهُ وَيَقُولُ لَهُ الْخَبِيثُ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ وَأَنْتَ عَدُوُّ اللَّهِ أَنْتَ الدَّجَّالُ وَاللَّهِ مَا كُنْتُ بَعْدُ أَشَدَّ بَصِيرَةً بِكَ مِنِّي الْيَوْمَ ‏‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو الْحَسَنِ الطَّنَافِسِيُّ فَحَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ الْوَصَّافِيُّ عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏”‏ ذَلِكَ الرَّجُلُ أَرْفَعُ أُمَّتِي دَرَجَةً فِي الْجَنَّةِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ وَاللَّهِ مَا كُنَّا نُرَى ذَلِكَ الرَّجُلَ إِلاَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ ‏.‏ قَالَ الْمُحَارِبِيُّ ثُمَّ رَجَعْنَا إِلَى حَدِيثِ أَبِي رَافِعٍ قَالَ ‏”‏ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَأْمُرَ السَّمَاءَ أَنْ تُمْطِرَ فَتُمْطِرَ وَيَأْمُرَ الأَرْضَ أَنْ تُنْبِتَ فَتُنْبِتَ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَمُرَّ بِالْحَىِّ فَيُكَذِّبُونَهُ فَلاَ تَبْقَى لَهُمْ سَائِمَةٌ إِلاَّ هَلَكَتْ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَمُرَّ بِالْحَىِّ فَيُصَدِّقُونَهُ فَيَأْمُرَ السَّمَاءَ أَنْ تُمْطِرَ فَتُمْطِرَ وَيَأْمُرَ الأَرْضَ أَنْ تُنْبِتَ فَتُنْبِتَ حَتَّى تَرُوحَ مَوَاشِيهِمْ مِنْ يَوْمِهِمْ ذَلِكَ أَسْمَنَ مَا كَانَتْ وَأَعْظَمَهُ وَأَمَدَّهُ خَوَاصِرَ وَأَدَرَّهُ ضُرُوعًا وَإِنَّهُ لاَ يَبْقَى شَىْءٌ مِنَ الأَرْضِ إِلاَّ وَطِئَهُ وَظَهَرَ عَلَيْهِ إِلاَّ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةَ لاَ يَأْتِيهِمَا مِنْ نَقْبٍ مِنْ نِقَابِهِمَا إِلاَّ لَقِيَتْهُ الْمَلاَئِكَةُ بِالسُّيُوفِ صَلْتَةً حَتَّى يَنْزِلَ عِنْدَ الظُّرَيْبِ الأَحْمَرِ عِنْدَ مُنْقَطَعِ السَّبَخَةِ فَتَرْجُفُ الْمَدِينَةُ بِأَهْلِهَا ثَلاَثَ رَجَفَاتٍ فَلاَ يَبْقَى مُنَافِقٌ وَلاَ مُنَافِقَةٌ إِلاَّ خَرَجَ إِلَيْهِ فَتَنْفِي الْخَبَثَ مِنْهَا كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَيُدْعَى ذَلِكَ الْيَوْمُ يَوْمَ الْخَلاَصِ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَتْ أُمُّ شَرِيكٍ بِنْتُ أَبِي الْعُكَرِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَيْنَ الْعَرَبُ يَوْمَئِذٍ قَالَ ‏”‏ هُمْ يَوْمَئِذٍ قَلِيلٌ وَجُلُّهُمْ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ وَإِمَامُهُمْ رَجُلٌ صَالِحٌ فَبَيْنَمَا إِمَامُهُمْ قَدْ تَقَدَّمَ يُصَلِّي بِهِمُ الصُّبْحَ إِذْ نَزَلَ عَلَيْهِمْ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ الصُّبْحَ فَرَجَعَ ذَلِكَ الإِمَامُ يَنْكُصُ يَمْشِي الْقَهْقَرَى لِيَتَقَدَّمَ عِيسَى يُصَلِّي بِالنَّاسِ فَيَضَعُ عِيسَى يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ ثُمَّ يَقُولُ لَهُ تَقَدَّمْ فَصَلِّ فَإِنَّهَا لَكَ أُقِيمَتْ ‏.‏ فَيُصَلِّي بِهِمْ إِمَامُهُمْ فَإِذَا انْصَرَفَ قَالَ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ افْتَحُوا الْبَابَ ‏.‏ فَيُفْتَحُ وَوَرَاءَهُ الدَّجَّالُ مَعَهُ سَبْعُونَ أَلْفِ يَهُودِيٍّ كُلُّهُمْ ذُو سَيْفٍ مُحَلًّى وَسَاجٍ فَإِذَا نَظَرَ إِلَيْهِ الدَّجَّالُ ذَابَ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ وَيَنْطَلِقُ هَارِبًا وَيَقُولُ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ إِنَّ لِي فِيكَ ضَرْبَةً لَنْ تَسْبِقَنِي بِهَا ‏.‏ فَيُدْرِكُهُ عِنْدَ بَابِ اللُّدِّ الشَّرْقِيِّ فَيَقْتُلُهُ فَيَهْزِمُ اللَّهُ الْيَهُودَ فَلاَ يَبْقَى شَىْءٌ مِمَّا خَلَقَ اللَّهُ يَتَوَارَى بِهِ يَهُودِيٌّ إِلاَّ أَنْطَقَ اللَّهُ ذَلِكَ الشَّىْءَ لاَ حَجَرَ وَلاَ شَجَرَ وَلاَ حَائِطَ وَلاَ دَابَّةَ – إِلاَّ الْغَرْقَدَةَ فَإِنَّهَا مِنْ شَجَرِهِمْ لاَ تَنْطِقُ – إِلاَّ قَالَ يَا عَبْدَ اللَّهِ الْمُسْلِمَ هَذَا يَهُودِيٌّ فَتَعَالَ اقْتُلْهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏”‏ وَإِنَّ أَيَّامَهُ أَرْبَعُونَ سَنَةً السَّنَةُ كَنِصْفِ السَّنَةِ وَالسَّنَةُ كَالشَّهْرِ وَالشَّهْرُ كَالْجُمُعَةِ وَآخِرُ أَيَّامِهِ كَالشَّرَرَةِ يُصْبِحُ أَحَدُكُمْ عَلَى بَابِ الْمَدِينَةِ فَلاَ يَبْلُغُ بَابَهَا الآخَرَ حَتَّى يُمْسِيَ ‏”‏ ‏.‏ فَقِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نُصَلِّي فِي تِلْكَ الأَيَّامِ الْقِصَارِ قَالَ ‏”‏ تَقْدُرُونَ فِيهَا الصَّلاَةَ كَمَا تَقْدُرُونَهَا فِي هَذِهِ الأَيَّامِ الطِّوَالِ ثُمَّ صَلُّوا ‏ ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏”‏ فَيَكُونُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فِي أُمَّتِي حَكَمًا عَدْلاً وَإِمَامًا مُقْسِطًا يَدُقُّ الصَّلِيبَ وَيَذْبَحُ الْخِنْزِيرَ وَيَضَعُ الْجِزْيَةَ وَيَتْرُكُ الصَّدَقَةَ فَلاَ يُسْعَى عَلَى شَاةٍ وَلاَ بَعِيرٍ وَتُرْفَعُ الشَّحْنَاءُ وَالتَّبَاغُضُ وَتُنْزَعُ حُمَةُ كُلِّ ذَاتِ حُمَةٍ حَتَّى يُدْخِلَ الْوَلِيدُ يَدَهُ فِي فِي الْحَيَّةِ فَلاَ تَضُرَّهُ وَتُفِرُّ الْوَلِيدَةُ الأَسَدَ فَلاَ يَضُرُّهَا وَيَكُونُ الذِّئْبُ فِي الْغَنَمِ كَأَنَّهُ كَلْبُهَا وَتُمْلأُ الأَرْضُ مِنَ السِّلْمِ كَمَا يُمْلأُ الإِنَاءُ مِنَ الْمَاءِ وَتَكُونُ الْكَلِمَةُ وَاحِدَةً فَلاَ يُعْبَدُ إِلاَّ اللَّهُ وَتَضَعُ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا وَتُسْلَبُ قُرَيْشٌ مُلْكَهَا وَتَكُونُ الأَرْضُ كَفَاثُورِ الْفِضَّةِ تُنْبِتُ نَبَاتَهَا بِعَهْدِ آدَمَ حَتَّى يَجْتَمِعَ النَّفَرُ عَلَى الْقِطْفِ مِنَ الْعِنَبِ فَيُشْبِعَهُمْ وَيَجْتَمِعَ النَّفَرُ عَلَى الرُّمَّانَةِ فَتُشْبِعَهُمْ وَيَكُونَ الثَّوْرُ بِكَذَا وَكَذَا مِنَ الْمَالِ وَتَكُونَ الْفَرَسُ بِالدُّرَيْهِمَاتِ ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا يُرْخِصُ الْفَرَسَ قَالَ ‏”‏ لاَ تُرْكَبُ لِحَرْبٍ أَبَدًا ‏”‏ ‏.‏ قِيلَ لَهُ فَمَا يُغْلِي الثَّوْرَ قَالَ ‏”‏ تُحْرَثُ الأَرْضُ كُلُّهَا وَإِنَّ قَبْلَ خُرُوجِ الدَّجَّالِ ثَلاَثَ سَنَوَاتٍ شِدَادٍ يُصِيبُ النَّاسَ فِيهَا جُوعٌ شَدِيدٌ يَأْمُرُ اللَّهُ السَّمَاءَ فِي السَّنَةِ الأُولَى أَنْ تَحْبِسَ ثُلُثَ مَطَرِهَا وَيَأْمُرُ الأَرْضَ فَتَحْبِسُ ثُلُثَ نَبَاتِهَا ثُمَّ يَأْمُرُ السَّمَاءَ فِي السَّنَةِ الثَّانِيَةِ فَتَحْبِسُ ثُلُثَىْ مَطَرِهَا وَيَأْمُرُ الأَرْضَ فَتَحْبِسُ ثُلُثَىْ نَبَاتِهَا ثُمَّ يَأْمُرُ اللَّهُ السَّمَاءَ فِي السَّنَةِ الثَّالِثَةِ فَتَحْبِسُ مَطَرَهَا كُلَّهُ فَلاَ تَقْطُرُ قَطْرَةٌ وَيَأْمُرُ الأَرْضَ فَتَحْبِسُ نَبَاتَهَا كُلَّهُ فَلاَ تُنْبِتُ خَضْرَاءَ فَلاَ تَبْقَى ذَاتُ ظِلْفٍ إِلاَّ هَلَكَتْ إِلاَّ مَا شَاءَ اللَّهُ ‏”‏ ‏.‏ قِيلَ فَمَا يُعِيشُ النَّاسَ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ قَالَ ‏”‏ التَّهْلِيلُ وَالتَّكْبِيرُ وَالتَّسْبِيحُ وَالتَّحْمِيدُ وَيُجْرَى ذَلِكَ عَلَيْهِمْ مَجْرَى الطَّعَامِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ سَمِعْتُ أَبَا الْحَسَنِ الطَّنَافِسِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيَّ يَقُولُ يَنْبَغِي أَنْ يُدْفَعَ هَذَا الْحَدِيثُ إِلَى الْمُؤَدِّبِ حَتَّى يُعَلِّمَهُ الصِّبْيَانَ فِي الْكُتَّابِ . رواه ابن ماجه, كتاب الفتن, باب فتنة الدجال وخروج عيسى ابن مريم وخروج يأجوج ومأجوج: رقم ٤٠٧٧  – “(একবার) রাসুলুল্লাহ আমাদের উদ্দেশ্যে খুৎবা দিলেন। তখন তিনি তাঁর খুতবায় আমাদেরকে যেসব কথা বলেছিলেন তার বেশির ভাগই ছিল দাজ্জাল’কে নিয়ে। তিনি তার ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক করছিলেন। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে এও বলেছিলেন যে, আল্লাহ যেদিন থেকে আদমের বংশধর সৃষ্টি করেছেন তার পর থেকে পৃথিবীতে দাজ্জালের ফিতনার চাইতে বড় আর কোনো ফিতনা হবে না। আর আল্লাহ এমন কোনো নবীকে পাঠান নাই, যিঁনি তাঁর উম্মতকে দাজ্জালের ব্যাপারে সতর্ক করেননি। আর (শুনে রাখো,) আমি (মুহাম্মাদ) হলাম নবীগণের মধ্যে সর্বশেষ (নবী) এবং তোমরা হলে উম্মতদের মধ্যে সর্বশেষ (উম্মত)। সে(ই দাজ্জাল) তোমাদের (এই উম্মতের) মধ্যে বের হবে। এর অন্যথা হবে না। আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকাবস্থায়েই যদি সে বের হয়, তাহলে প্রত্যেক মুসলমানের পক্ষ থেকে (ওর) প্রতিহতকারী হবো আমি (নিজেই)। আর সে যদি আমার (ইন্তেকালের) পরে বের হয়, তাহলে প্রত্যেক ব্যাক্তি নিজেই (দাজ্জালের ফিতনাকে) প্রতিহত করবে এবং (সে ক্ষেত্রে) আমার স্থলে (দয়াময় করুনাময়) আল্লাহ’ই প্রত্যেক (মুমিন) মুসলমানের উপরে তত্ত্বাবধায়ক থাকবেন। (ভাল করে দাজ্জালের বৈশিষ্ট জেনে রাখো)। নিশ্চই সে বের হবে ইরাক এবং শামের মাঝামাঝি (একটি) সংযোগস্থল (এলাকা) থেকে। পরে সে ফ্যাসাদ/দূর্যোগ সৃষ্টি করবে ডানে ও বামে। হে আল্লাহ’র বান্দাগণ! হে লোকসকল ! তোমরা (তার ফিতনার সময়ও আল্লাহ’র দ্বীনের উপরে) দৃঢ়পদে থেকো, (কোনো মতেই ইমান ছেড়ো না)। নিশ্চই (আজ) আমি তোমাদেরকে তার (এমন কিছু) বৈশিষ্টের কথা বলবো, যে (সকল) বৈশিষ্টের কথা আমার আগে কোনো নবী (তাঁদের উম্মতদেরকে) বলে যাননি। (শুনে রাখো,) নিশ্চই সে তার প্রথম দিকে (লোক সম্মুখে) বলবে: ‘আমি নবী’। আর (সত্য এই যে,) আমার পরে (আর কোনো) কোনো নবী নেই। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে সে (লোকজনকে) বলবে: ‘আমি তোমাদের রব (প্রতিপালক প্রভু)’। আর (সত্য হল) তোমরা মাড়া না যাওয়া পর্যন্ত তোমাদের (প্রকৃত) রব (আল্লাহ তাআলাকে) তোমরা দেখতে পাবে না। আর নিশ্চই সে(ই খবীস দাজ্জাল) হবে অন্ধ। অথচ তোমাদের (প্রকৃত রব/প্রতিপালক প্রভু আল্লাহ তাআলা) অন্ধ নন। ওর দুই চোখের মাঝে (কপালের কাছে) লিখা থাকবে ‘কাফের’, যা প্রত্যেক মুমিন ব্যাক্তি পড়তে পারবে -(চাই) লেখাপড়া জাননেওয়ালা (হোক), আর (চাই) নিরক্ষর (হোক)। আর নিশ্চই ওর ফিতনার মধ্যে এও রয়েছে যে, ওর সাথে (মনোরম কৃত্রিম) জান্নাত ও (কৃত্রিম) দোযখ থাকবে। তবে তার দোযখটিই হচ্ছে জান্নাত এবং জান্নাতটি হচ্ছে দোযখ। যে ব্যাক্তি তার দোযখের (ফিতনার) সম্মুখীন হবে, সে যেন অবশ্যই (আল্লাহ তাআলা’র কাছে) পানাহ কামনা করে এবং অবশ্যই (সূরা) কাহফ-এর প্রথম (১০টি আয়াত) তিলাওয়াত করে। এতে তার উপরে (দাজ্জালের ওই কৃত্রিম দোয়খের শাস্তি) ঠান্ডা ও আরামদায়ক হয়ে যাবে, যেমনি ভাবে ইব্রাহিম (আ.)-এর উপরে আগুনের অবস্থা হয়েছিল। আর নিশ্চই তার ফিতনার মধ্যে এও রয়েছে যে, সে এক (গ্রাম্য) বেদুইনকে বলবে: ‘তুমি কি বলো, আমি যদি তোমার বাবা এবং তোমার মা’কে (কবর থেকে জীবিত করে তোমার সামনে) পাঠিয়ে দিই, তাহলে তুমি কি সাক্ষ্য দিবে যে, আমি তোমার রব (প্রতিপালক প্রভু)’? তখন সে বলবে: ‘হ্যাঁ (সাক্ষ্য দিবো)’। তখন দু’টি শয়তান (জ্বীন, যাদের একজন) তার পিতার (রূপে) এবং (অপরজন) তার মাতা’র রূপ ধারন করবে এবং উভয়ে তাকে বলবে: ‘হে আমার পুত্র! তার (তথা দাজ্জালের) অনুগত্য করো, নিশ্চই তিনিই তোমার রব’। আর নিশ্চই ওর ফিতনার মধ্যে এও রয়েছে যে, সে এক (যুবক) ব্যাক্তি’র উপরে চড়াও হয়ে পরে তাকে হত্যা করবে এবং করাত দিয়ে তাকে কাটবে। এমনকি (তার) দ্বিখন্ডিত (হওয়া শরীরটি দুদিকে আলাদা আলাদা হয়ে) পড়ে যাবে। তারপর সে বলবে: ‘তোমরা আমার এই বান্দার প্রতি দেখো, একে এখনই আমি পূনর্জীবিত করে আনছি। এরপরও কি (তোমরা) দাবী করবে যে, আমি ছাড়াও (তোমাদের) অন্য কোনো রব আছে’? তখন (বাস্তবে) আল্লাহ(ই) তাকে পূনর্জীবিত করে দিবেন। অথচ ওই খবিস (দাজ্জাল) তাকে বলবে: ‘(এখন বলো) কে তোমার রব?’ তখন সে(ই যুবকটি) বলবে: ‘আমার রব হলেন আল্লাহ। আর তুই হলি আল্লাহ’র দুশমন; তুই হচ্ছিস (সেই খবীস) দাজ্জাল (যার ভবিষ্যতবাণী আমাদের নবী মুহাম্মাদ করে গেছেন)। আল্লাহ’র কসম, (রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বাণীর হুবহু বাস্তবায়ন আমার নিজের চোখের সামনে খোদ্ আমারই সাথে হতে দেখে) তোর (দাজ্জাল হওয়ার) ব্যাপারে (আজ আমার যে ইমানী অন্তর্দৃষ্টি লাভ হল) এত পরিষ্কার অন্তর্দৃষ্টি  আজকের পূর্বে আমার (জীবনে আর) কখনো লাভ হয়নি’। আবু সাঈদ খুদরী রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন: ‘(শেষ জামানায় দাজ্জালের হাতে শহিদ হওয়া) আমার উম্মতের (মুমিনদের) মধ্যে এই ব্যাক্তি জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্তবায় উন্নিত হবে’। (হাদিসের) রাবী বলেন, আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেছেন: ‘আল্লাহ’র কসম, ওমর বিন খাত্তাব রা. ছাড়া অন্য আর কেউ এই ব্যাক্তি হতে পারে বলে আমরা মনে করতাম না। (কিন্তু পরে বুঝলাম যে, আমাদের ধারনা ভুল ছিল)। অবশেষে তিঁনি (দুনিয়া ছেড়ে) আল্লাহ’র পথে বিদায় নিলেন’। আর নিশ্চই ওর ফিতনার মধ্যে এও রয়েছে যে, সে আসমানকে বৃষ্টি বর্ষানোর নির্দেশ দিবে, তখন (আকাশ থেকে মুষুলধারে) বৃষ্টি বর্ষিত হবে। আবার সে জমিনকে ফলন দেয়ার নির্দেশ দিবে, তখন (জমিন) ফলন দিবে। আর নিশ্চই তার ফিতনার মধ্যে এও রয়েছে যে, সে একটি লোকালয় অতিক্রম করবে (এবং তাদেরকে তার ফিতনার দিকে আহবান করবে। কিন্তু), তখন (সেখানকার) লোকজন তাকে (তাদের রব হিসেবে মানতে) অস্বীকার করবে। ফলে তাদের গবাদী পশুপালের কোনো কিছুই ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা পাবে না। নিশ্চই ওর ফিতনার মধ্যে এও রয়েছে যে, সে একটি লোকালয় অতিক্রম করবে (এবং তাদেরকে তার ফিতনার দিকে আহবান করবে)। এতে (সেখানকার) লোকজন তাকে (তাদের রব হিসেবে) সত্যায়ন করবে। তখন সে (তাদের জন্য) আসমানকে বৃষ্টি বর্ষানোর নির্দেশ দিবে, ফলে (তাদের উপরে) বৃষ্টি বর্ষিত হবে এবং জমিনকে নির্দেশ দিবে ফলন দেয়ার, ফলে (তাদের জমিনে) ফলন হবে। এমনকি সেদিন (বিকেলে/সন্ধায়) তাদের গবাদী পশুগুলো ফিরে আসবে তাদের (অন্যান্য) দিনগুলিরে চাইতে অধিক মোটাতাজা ও অধিক বড়সড় অবস্থায় ও উদরপূর্তী করে এবং দুধে স্তন ফুলিয়ে নিয়ে। নিশ্চই শুধু মক্কা ও মদিনা ব্যতীত পৃথিবীর এমন কোনো কিছু সে বাকি রাখবে না, যেখানে সে পদচারনা না করবে ও তার উপরে প্রবল না হবে।লাল টিলা সাবখাতুল যুরফ এই দুই (অঞ্চল)-এর এমন কোনো অলিগলি নেই, যেখানে সে আসবে, অথচ ফেরেশতাদেরকে (সেখানে) উন্মুক্ত তরবারী হাতে সাক্ষাত না পাবে। অবশেষে (উপায়ন্ত না দেখে) সে (মদিনার অনতিদূরের একটি) বিচ্ছিন্ন সাবখা’র নিকটে (অবস্থিত একটি) লাল টিলার কাছে (গিয়ে) অবতরণ করবে। তখন মদিনা তার অধিবাসিদেরকে নিয়ে তিনবার (ভীষন জোরে) প্রকম্পিত হয়ে উঠবে। তখন (মদিনার) মুনাফেক পুরুষ ও মুনাফিক নারী’র (মধ্যে এমন কেউ) বাকি থাকবে না, যে (মদিনা থেকে) বের হয়ে ওর কাছে না যাবে। বস্তুতঃ (আগুনের) হাঁপড় যেভাবে লোহার (মরিচা ও) নোংরাকে দূরীভূত করে দেয়, তেমনি ভাবে মদিনাও (তার ভিতর থেকে) নোংরা-খবিছ (মানুষ)কে (সময় মতো) দূরীভূত করে দেয়। (এই ঘটনার পর) ওই দিনটিকে ‘ইয়াউমুল খালাস’ (নাজাতের দিন) নামে ডাকা হবে’। এতে উম্মে শারিক বিনতে আবি উকাইর রা. জিজ্ঞেস করলেন: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! সেদিন আরবরা কোথায় থাকবে’? তিনি বললেন: ‘সেদিন তারা (সংখ্যায়) হবে অতি অল্প; তাদের অধিকাংশই (সেদিন) বাইতুল মাকদিসে (অবস্থিত) গর্বিত (সন্তানদের মধ্যে শামিল) থাকবে। (সে সময়ে) তাদের ইমাম (আমীর/খলিফা/শাসক) হবে (আমারই মেয়ে ফাতেমার বংশধরের একজন) একজন নেককার পুরুষ (আল-মাহদী)। তাদের ইমাম যখন তাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায পড়ার জন্য অগ্রসর হতে থাকবে, এমন সময় ঈসা ইবনে মারইয়াম (আসমান থেকে দু’ ফেরেশতার ডানায় ভর দিয়ে) তাদের (জামে’ মসজিদের) উপরে (পূর্ব দিকস্থ উজ্জল সাদা মিনারায়) নাজিল হবেন -ফজরের সময়। তখন (তাদের) সেই ইমাম (তার নামাযের ইমামতীর স্থান থেকে) পিছনে(র কাতারে) সরে আসতে থাকবে, যাতে ঈসা (আ. তাদের সকলের ইমাম হয়ে) লোকজনকে নিয়ে নামায আদায়ের জন্য সামনে অগ্রসর হন। তখন ঈসা (আ.) ওনার (বরকতময়) হাত দ্বারা তার (তথা আল-মাহদীর) দুই কাঁধের মাঝখানে ধরে তাকে বলবেন: ‘আপনি এগিয়ে গিয়ে (আমাদের ইমাম হয়ে) নামায পড়ান, কারণ এই (নামাযের) ইকামত দেয়া হয়েছে আপনার জন্য’। ফলে তাদের ইমাম তাদেরকে নিয়ে নামায পড়বে। সে যখন (নামায থেকে) অবসর হবে, তখন ঈসা আ. বলবেন: ‘তোমরা (মসজিদের) দরজা খুলে দাও’। ফলে (দরজা) খুলে দেয়া হবে। (দেখা যাবে দরজা’র) পিছনে দাজ্জাল (অবস্থান নিয়ে আছে)। তার সাথে থাকবে সত্তর হাজার ইহূদী, যাদের সকলেই থাকবে তরবারীতে (যুদ্ধাস্ত্রে) সজ্জিত এবং সবুজ গাত্রাবরনে আচ্ছাদিত। যখন তাঁর দিকে দাজ্জালের দৃষ্টি পড়বে, তখন সে গলে যেতে থাকবে, যেভাবে লবন পানিতে গলে যায়। সে ভেগে পালাতে শুরু করবে। ঈসা আ. বলবেন: ‘নিশ্চই তোর ব্যাপারে আমার একটি আঘাত (অপেক্ষা করছে), যা থেকে তোর বাঁচার কোনো উপায় নেই’। পরে তিঁনি পূর্ব-বাবে-লূদের কাছে তার সাক্ষাত পেয়ে তাকে হত্যা করবেন। পরে আল্লাহ (তাআলা মুসলমানদের হাতে ওই সকল) ইহূদীদেরকে পরাজিত করে দিবেন। তখন না পাথড়, না গাছপালা, না প্রাচীর, আর না (কোনো) প্রাণী -(মানে) আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন -এমন কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, যার আড়ালে ইহূদীরা লুকাবে, অথচ আল্লাহ সেই জিনিসকে বাকশক্তি না দান করবেন এবং সে (একথা) না বলবে যে, ‘হে আল্লাহ’র বান্দা মুসলীম ! এই যে (এখানে) ইহূদী (লুকিয়ে আছে); এদিকে এসে তাকে হত্যা করো’; তবে শুধু গারক্বাদাহ (গাছ) ভিন্ন। কারণ ওটা হল তাদের গাছ, ওটা (এ জাতীয় কোনো) কথা বলবে না। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: ‘(ফিতনা ও বিপর্যয় সৃষ্টির জন্য পৃথিবীতে) তার দিনগুলো(র মোট পরিমাণ) হবে চল্লিশ বছর। একটি বছর হবে যেন অর্ধ বছর, একটি বছর হবে যেন এক মাস, একটি মাস হবে যেন এক সপ্তাহ, আর তার বাদবাকি দিনগুলো হবে যেন (একেকটা আচমকা আগুন থেকে ছিটকে পড়া) অগ্নিস্ফুলিঙ্গ (-এর মতো দ্রুতগামী)। (তখন এমনও হবে যে), তোমাদের (মুসলমানদের) কারোর সকাল হবে মদিনার (এক) দরজায়, (কিন্তু) সে (সেদিন দিনের আলোতে) অপর দরজায় গিয়ে পৌছতেই পারবেনা, এমনকি তার সন্ধা হয়ে যাবে’। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা সেই ছোট্ট দিনগুলোতে কিভাবে নামায পড়বো’? তিনি বললেন: ‘আমরা (আমাদের এই জামানার) এইসব দীর্ঘ দিনগুলোতে যেভাবে নামায (-এর ওয়াক্ত) নির্ধারণ করে থাকি, তোমরা (মুসলমানরাও) তখন (সেভাবেই) নামায (-এর ওয়াক্ত) নির্ধারণ করে নিবে, তারপর নামায পড়বে’। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: ‘পরে ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. আমার উম্মাতের মধ্যে (একজন) ন্যায়পরায়ন হাকাম (বিচারক) ও ইনসাফগার ইমাম (শাসক) হবেন। তিনি (আল্লাহ তাআলার নির্দেশে খুষ্টানদের) ক্রশকে ভেঙ্গে ফেলবেন, শুয়োর হত্যা করবেন, জিজিয়া তুলে দিবেন এবং সাদাকাহ (যাকাত) পরিত্যাগ করবেন। না ভেড়ার উপরে (যাকাত) ধার্য হবে, আর না উটের উপরে। (তাঁর জামানায় মানুষে মানুষে) দুশমনী ও পাষ্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ উঠে যাবে। প্রত্যেক বিষধর প্রাণির বিষ নি:শ্বেস হয়ে যাবে। এমনকি শিশুছেলে তার হাতকে সাপের মুখে ঢুকিয়ে দিবে কিন্তু সেটি তার কোন ক্ষতি করবে না। শিশুকন্যা সিংহকে তাড়া করবে, কিন্তু সে তার কোনো ক্ষতি করবে না। নেকড়ে ভেড়ার সাথে এমন ভাবে থাকবে যেন সে তার (পাহারাদার) কুকুর। পৃথিবীটা শান্তিতে ভরে যাবে যেমনি ভাবে পানপাত্র পানি দ্বারা ভরে যায়। (তখন সকল মানুষের) কালেমাহ হবে একটা। সুতরাং, (তখন) আল্লাহ ছাড়া আর কারোর ইবাদত করা হবে না। যুদ্ধ-সরঞ্জামাদি নি:শ্বেস হয়ে যাবে। কুরায়েশদের রাজত্বের অবসান হবে। পৃথিবীটা হয়ে যাবে রূপার (তৈরী মূল্যবান) হাতধৌতকরণ পাত্রের মতো। (পৃথিবীতে তখন তোমাদের আদী পিতা নবী) আদমের জামানার ন্যায় (উর্বরা) ফলন হবে। এমনকি কয়েকজন লোক একটি আঙ্গুরের থোকার ধারে একত্রিত হবে (এবং তা খেয়েই) তারা পরিতৃপ্ত হবে। আবার কয়েকজন লোক একটি ডালিমের ধারে একত্রিত হবে (এবং তা খেয়েই) তারা পরিতৃপ্ত হবে। আর (মানুষজনের) ধ্বনসম্পদের মধ্যে ষাঢ়/বলদ হবে এমন এমন (উচ্চ মূল্যের), আর ঘোড়া হবে অতীব অল্প মূল্যের। লোকেরা জিজ্ঞেস বরলো: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! ঘোড়ার মূল্য এত সস্তা হবে কেনো’? তিনি বললেন: ‘(কারণ) আর কখনো যুদ্ধের জন্য (ঘোড়ার পিঠে) আরোহন করা(র প্রয়োজন) হবে না’। জিজ্ঞেস করা হল: ‘ষাঢ়/বলদ এত বেশি (মূল্যের হবে) কেনো’? তিনি বললেন: ‘গোটা পৃথিবীতে (ব্যাপক হারে) চাষাবাদ হবে। আর দাজ্জাল বের হওয়ার আগে তিনটি বছর হবে চরম কষ্টের। মানুষ সে সময় ভীষন দুর্ভিক্ষে পড়ে যাবে। আল্লাহ (ওই তিনটি বৎসরের) প্রথম বছরে আসমানকে নির্দেশ দিবেন, সে যেন তার বৃষ্টির এক তৃতীয়াংশ (বর্ষানো) বন্ধ করে রাখে এবং জমিনকে নির্দেশ দিবেন, সে যেন তার ফলনের এক তৃতীয়াংশ (ফলানো) বন্ধ করে রাখে। এরপর আল্লাহ দ্বিতীয় বছরে আসমানকে (দুই তৃতীয়াংশ বৃষ্টি আটকে রাখার) নির্দেশ দিবেন, ফলে সে তার বৃষ্টির দুই তৃতীয়াংশ আটকে রাখবে এবং জমিনকে (দুই তৃতীয়াংশ ফলন আটকে রাখার) নির্দেশ দিবেন, ফলে সে তার ফলনের দুই তৃতীয়াংশ আটকে রাখবে। এরপর আল্লাহ তৃতীয় বছরে আসমানকে (তিন ভাগের তিন ভাগ বৃষ্টিই আটকে রাখার) নির্দেশ দিবেন, ফলে সে তার বৃষ্টির পুরোটাই আটকে রাখবে। ফলে এক ফোটা বৃষ্টিও হবে না। আর জমিনকে (তিন ভাগের তিন ভাগ ফলনই আটকে রাখার) নির্দেশ দিবেন, ফলে সে তার ফলনের পুরোটাই আটকে রাখবে। ফলে (জমিনে) কোনো সবুজ ঘাস/শাকসবজী (পর্যন্ত) জন্মাবে না। ফলে কোনো খুরদার প্রাণী অবশিষ্ট থাকবে না, তবে ব্যতীক্রম (ঘটবে শুধু তার ক্ষেত্রে) যা(র ব্যাপারে আল্লাহ (ব্যতীক্রম কিছু করতে) চাইবেন’। জিজ্ঞেস করা হল: ‘সে জামানায় লোকেরা কী করে জীবন ধারন করবে’? তিনি বললেন: ‘(তারা) তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার), তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) ও তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) বলতে থাকবে এবং ওগুলোই তাদের খাদ্যনালীতে প্রবাহিত হবে” [সুনানে ইবনে মাজাহ- ২/১৩৫৯ হাদিস ৪০৭৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৩২২]

ফায়দা: ‘মদিনা তৈয়্যেবা’র ‘হারাম সীমার’ বাইরে অবস্থিত ‘লাল টিলা’ এবং ‘সাবখাতুল যুরফ’ সম্পর্কে কিছুটা ধারনা পেতে এখানে ক্লিক করুন: [ , ]

 

দাজ্জাল বিষয়ক আলোচনা পড়ুন (নিচে ক্লিক দিন)

১. দাজ্জালের আগমন ও ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যতবাণী ১

২. দাজ্জালের আগমন ও ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যতবাণী ২

৩. দাজ্জালের আগমন ও ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যতবাণী ৩