শেষ জামানায় ফিতনা ফ্যাসাদ মালাহিম – মহানবী সা:-এর ভবিষ্যৎ বাণী

Spread the love
image_pdfimage_print

শেষ জামানায় ফিতনা ফ্যাসাদ মালাহিম সম্পর্কে মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যৎ বাণী 

 بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و كفى و سلام على عباده الذين اصطفى

আমরা ইতিপূর্বে কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে (এখানে ক্লিক করুন) কিছু হাদিস ও আছার পেশ করেছি। এখানেও ফিতনা ফাসাদ সম্পর্কে কিছু হাদিস ও আছার উল্লেখ করছি। [উল্লেখ্য, এখানে উল্লেখিত হাদিসসমূহ কোনো বিজ্ঞ মুহাদ্দেস আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এগুলো শুধু উল্লেখ করছি, যাতে এই রেওয়ায়েতসমূহে বর্ণিত কোনো ঘটনা ঘটতে দেখলে তা চিনে নিতে পারেন এবং রেওয়াতের হক্ব আদায় করতে পারেন।

 

হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন-  وَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ النَّاسِ بِكُلِّ فِتْنَةٍ هِيَ كَائِنَةٌ فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَ السَّاعَةِ وَمَا بِي إِلَّا أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسَرَّ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ شَيْئًا لَمْ يُحَدِّثْهُ غَيْرِي وَلَكِنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَهُوَ يُحَدِّثُ مَجْلِسًا أَنَا فِيهِ عَنْ الْفِتَنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَعُدُّ الْفِتَنَ مِنْهُنَّ ثَلَاثٌ لَا يَكَدْنَ يَذَرْنَ شَيْئًا وَمِنْهُنَّ فِتَنٌ كَرِيَاحِ الصَّيْفِ مِنْهَا صِغَارٌ وَمِنْهَا كِبَارٌ قَالَ حُذَيْفَةُ فَذَهَبَ أُولَئِكَ الرَّهْطُ كُلُّهُمْ غَيْرِي . رواه مسلم , كتاب الفتن وأشراط الساعة, باب إخبار النبي صلى الله عليه وسلم فيما يكون إلى قيام الساعة: رقم ٢٨٩١ ; و ابن حبان في صحيحه: ١٥/٦ رقم ٦٦٣٧ و اسناده جيد; و احمد: ١٦/٦٣٣ رقم ٢٣٣٥٢ و اسناده صحيح; الداني في السنن الواردة: ٣١; ابن منده في الإيمان: ٢/٩١٢ رقم ٩٩٧ – ‘আল্লাহ’র কসম, আমার এবং কেয়ামতের মাঝে ঘটিত প্রতিটি ফিতনা সম্পর্কে লোকজনের মধ্যে আমারই অধিক জানাশোনা আছে। তা এজন্য নয় যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ  আমাকে গোপনে এব্যাপারে এমন কিছু বলে গেছেন যা আর কারো কাছে বলেননি। বরং (তা এই জন্য যে), রাসুলুল্লাহ ﷺ মজলিসে বসে ফিতনা’র কথা বলেছেন আর (তখন সৌভাগ্যক্রমে) আমি সেখানে (উপস্থিত) ছিলাম। রাসুলুল্লাহ ﷺ অনেক ফিতনা’র কথা বলেছেন। ওগুলোর মধ্যে তিনটি ফিতনা (এখনো) প্রকাশ হয়নি বললেই চলে, (বরং পরে ভাল মতো প্রকাশ পাবে)। (আলোচিত) ফিতনাগুলোর মধ্যে শুষ্ক বাতাস, ছোট ফিতনা ও বড় ফিতনা’র মতো কথাও ছিল। হুযাইফা রা. বলেন: (আমার) সেই সাথিদের মধ্যে আমি ছাড়া সকলে (দৃুনয়া ছেড়ে) বিদায় নিয়ে গেছেন’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৮৯১; সহিহ ইবনে হিব্বান– ১৫/৬ হাদিস ৬৬৩৭; মুসনাদে আহমদ- ১৬/৬৩৩ হাদিস ২৩৩৫২; আল-ইমান, ইবনে মুনদুহ-২/৯১২ হাদিস ৯৯৭; আস-সুন্নাহ, ইমাম দানী, হাদিস ৩১]

হযরত মুয়াবিয়া রা.-এর থেকে বণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন- إن أهل الكتابين افترقوا في دينهم على ثنتين وسبعين ملة وإن هذه الأمة ستفترق على ثلاث وسبعين ملة يعني الأهواء كلها في النار إلا واحدة وهي الجماعة وأنه سيخرج من أمتي أقوام تجاري بهم تلك الأهواء كما يتجارى الكلب بصاحبه لا يبقى منه عرق ولا مفصل إلا دخله والله يا معشر العرب لئن لم تقوموا بما جاء به نبيكم صلى الله عليه وسلم لغيركم من الناس أحرى أن لا يقوم به – أخرجه أحمد في المسند: ١٣/٢٠٥ قم ١٦٨٧٦, اسناده حسن ، و رواه أبو داود: ٤٥٩٧ والدارمي ٢٥٦٠, والحاكم في “مستدركه ١/١٢٨, ابن أبي عاصم في “السنة: رقم ١٥; المعجم الكبير للطبراني:١٩/٣٧٧ رقم ٨٨٥  – ‘নিশ্চই আহলে কিতাবদ্বয় (ইহূদী ও খৃষ্টানরা) তাদের দ্বীনের মধ্যে (মনচাহি মতাদর্শ ও মতবাদ যুক্ত করে) বাহাত্তরটি পৃথক পৃথক মিল্লাত (sects) বানিয়ে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। আর অবশ্যই (আমার) এই উম্মত শিঘ্রই তিহাত্তর মিল্লাতে বিভক্ত হয়ে যাবে। অর্থাৎ (তারা সবাই হবে) প্রবৃত্তির দাস (এবং) তাদের সবাই  দোযখে যাবে শুধুমাত্র একটি (মিল্লাত) ছাড়া, আর সেটা হল আল-জামাআত (তারা হবে জান্নাতী)। আর নিশ্চই আমার উম্মাতের মধ্য থেকে এমন এমন জাতি/গোষ্ঠিসমূহের আবির্ভাব হবে, যারাদেরকে কুপ্রবৃত্তি এমনভাবে প্রভাবিত/আচ্ছন্ন করে ফেলবে যেভাবে কুকুর (তার কামড়ের দ্বারা) কাউকে (জলাতঙ্ক রোগে) আক্রান্ত করে ফেলে, (যে রোগ ওই আক্রান্ত ব্যাক্তির) রগ-রেশা ও (হাড়ের) জোরা -কোনো কিছুকেই আক্রান্ত না করে ছাড়ে না। [মুসনাদে আহমাদ– ১৩/২০৫, হাদিস ১৬৮৭৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৫৯৭; সুনানে দারেমী, হাদিস ২৫৬০; মুসতাদরাকে হাকিম- ১/১২৮, হাদিস ৪০৬; আস-সুন্নাহ, ইবনু আবি আসেম, হাদিস ১৫; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরানী- ১৯/৩৭৭, হাদিস ৮৮৪]

# হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা.-এর  সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- كيف بكم وبزمان أو يوشك أن يأتي زمان يغربل الناس فيه غربلة تبقى حثالة من الناس قد مرجت عهودهم وأماناتهم واختلفوا فكانوا هكذا وشبك بين أصابعه، فقالوا: وكيف بنا يا رسول الله؟ قال: تأخذون ما تعرفون وتذرون ما تنكرون وتقبلون على أمر خاصتكم وتذرون أمر عامتكم – رواه أبو داود ٤٣٤٢ ، والإمام أحمد في المسند ٧٠٢٣ ، وانظر صحيح سنن أبي داود ٣٦٤٨ – ‘ তখন তোমাদের বা (বলেছেন তোমাদের) জামানার কি অবস্থা হবে অথবা (বলেছেন) অতি শিঘ্রই এমন জামানা আসছে, যখন মানুষজন একদম (পঁচন ধরা) বিকৃত হয়ে যাবে, অবশিষ্ট থাকবে (আবর্জনায়) পরিত্যাক্ত (জিনিসের মতো নিকৃষ্ট বদ স্বভাবের এমন সব) মানুষজন, যাদের প্রতিশ্রুতি ও আমানতগুলো খলৎমলৎ হয়ে যাবে এবং তারা দ্বন্দ্ব ও বিরোধ বাঁধাবে। তখন তারা এরকম হয়ে যাবে–(একথা বলে তিঁনি) তাঁর আঙ্গুলগুলোকে একটার মাঝে অরেকটা ঢুকিয়ে দিলেন। তখন লোকেজন জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, তখন আমরা (মুসলমানরা) কি করবো? তিনি বললেন: (সে সময় -আমার আনীত দ্বীনের) যা কিছু তোমরা (নির্ভরযোগ্য ভাবে) চিনে নিতে পারো তা গ্রহন করবে এবং (শরীয়ত ও বিবেকগত ভাবে) যা কিছু নিন্দনীয় দেখো তা পরিত্যাগ করবে, আর (সংশোধনের আশা আছে- এরকম) তোমাদের বিশেষ লোকজনের ব্যাপারগুলো গ্রহন করবে (ও সে ব্যাপারে শরীয়তের হক্ব আদায় করবে) এবং তোমাদের আম-জনতার বিষয়গুলোকে ছেড়ে দিবে, (কারণ তাদের ফিতনার সাগরে গেলে তোমাদের ইমান-আমলও তাদের ঢেউ-এর তোড় তোমাদেরকে তাদের সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে)। [সুনানে আবু দাউদহাদিস ৪৩৪২; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ৭০২৩]

# হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা.-এর  সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন-  بَيْنَمَا نَحْنُ حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ ذَكَرَ الْفِتْنَةَ فَقَالَ ‏”‏ إِذَا رَأَيْتُمُ النَّاسَ قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ وَخَفَّتْ أَمَانَاتُهُمْ وَكَانُوا هَكَذَا ‏”‏ ‏.‏ وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ قَالَ فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ كَيْفَ أَفْعَلُ عِنْدَ ذَلِكَ جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاكَ قَالَ ‏”‏ الْزَمْ بَيْتَكَ وَامْلِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ وَخُذْ بِمَا تَعْرِفُ وَدَعْ مَا تُنْكِرُ وَعَلَيْكَ بِأَمْرِ خَاصَّةِ نَفْسِكَ وَدَعْ عَنْكَ أَمْرَ الْعَامَّةِ – رواه أبو داود ٤٣٤٣ – আমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে গোল হয়ে বসা ছিলাম, তখন তিনি ফিতনা সম্পর্কে কথা বলছিলেন। তিনি বললেন: তোমরা যখন মানুষজনকে দেখবে যে, তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো খলৎমলৎ হয়ে হয়ে গেছে এবং তাদের আমানতদারী নিভুপ্রায় হয়ে গেছে, তখন তারা এরকম হয়ে যাবে–(একথা বলে তিঁনি) তাঁর আঙ্গুল গুলোকে একটার মাঝে অরেকটা ঢুকিয়ে দিলেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা বলেন: তখন আমি উঠে তাঁর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম: আল্লাহ আমাকে আপনার তরে জীবন উৎসর্গ করুন। ওই অবস্থার সম্মুখীন হলে আমি কি করবো? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: (লোকজনের সংশোধনের চিন্তা পরিত্যাগ করে সময় অতিবাহিত করার জন্য) তোমার ঘরকে অপরিহার্য করে নাও, (ফিতনা’য় অংশ নিও না, বরং) তোমার জিহবাকে (যথাসাধ্য) সংযত করে রাখো (কারণ তুমি জানো না, তোমার কোন কথা ফিতনা’র আগুনকে ভরকিয়ে দিবে আর তুমি সেই পাপের অংশীদার হয়ে বসবে), এবং (সে সময় -আমার আনীত দ্বীনের) যা কিছু তুমি (নির্ভরযোগ্য ভাবে) চিনে নিতে পারো তা গ্রহন করো এবং (শরীয়ত ও বিবেকগত ভাবে) যা কিছু নিন্দনীয় দেখো তা পরিত্যাগ করো। আর তুমি শুধু তোমার নিজের বিশেষ ব্যাপার (কে নিয়ে চিন্তিত থাককাকে) অপরিহার্য করে নাও, আর সর্বসাধারণের ব্যাপারাদি থেকে নিজকে বিরত রাখো।  [সুনানে আবু দাউদহাদিস ৪৩৪৩]

# আবু যর গিফারী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يَا أَبَا ذَرٍّ ، كَيْفَ أَنْتَ إِذَا كُنْتَ فِي حُثَالَةٍ ؟ ، وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، فَمَا تَأْمُرُنِي ؟ قَالَ : اصْبِرْ ، اصْبِرْ ، اصْبِرْ ، خَالِقُوا النَّاسَ بِأَخْلَاقِهِمْ ، وَخَالِفُوهُمْ فِي أَعْمَالِهِمْ . اخرجه حاكم في المستدرك على الصحيحين : ٣/٣٨٦ و قال هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ ، وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ . و البيهقي في الزهد الكبير: رقم ٢٠٣ ; و الطبراني في المعجم الأوسط , بَابُ الْأَلِفِ , مَنِ اسْمُهُ أَحْمَدُ : ٤٧٠  – ‘হে আবু যার! তখন তোমার কেমন অবস্থা হবে যখন তুমি (আবর্জনায় ফেলে রাখা) পরিত্যাক্ত (জিনিসের মতো নিকৃষ্ট স্বভাবের মানুষজন)-এর মধ্যে থাকবে ! আমি জিজ্ঞেস করলাম: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! সে ক্ষেত্রে আপনি আমাকে কি (করার) নির্দেশ দেন’? তিনি বললেন: (তুমি তখন তোমার সাধ্য মতো আল্লাহ দ্বীনের উপরে কায়েম থাকার চেষ্টা করে যাবে এবং তা করতে গিয়ে তোমার উপরে যে মুসিবত আসবে তার উপরে তুমি আল্লাহ’র ওয়াস্তে) ‘সবর করবে! সবর করবে! সবর করবে’! তুমি (তখনকার) মানুষজনের (মন্দ) স্বভাবগুলির (বিপরীতে তাদের) সাথে (আমার প্রদর্শিত ভাল আখলাক ও) স্বভাব প্রদর্শন করে যাবে, (কোনো অবস্থায়ই সীমা লঙ্ঘন করবে না)। তবে তুমি (তোমার অন্তর, মুখ ও শক্তি দিয়ে শরয়ী তরিকায় সাধ্য মতো) তাদের (মন্দ) কাজ-কারবারের বিরুদ্ধে থাকবে, (অন্যথায় তুমিও তাদের অন্তর্ভূক্ত হিসেবে গণ্য হবে)’। [মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৩৮৬; আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরাণী- ৪৭০; আয-যুহদ আল-কাবীর, বাইহাকী-২০৩]

# হযরত অাবু উমামা বাহেলী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا طَغَى نِسَاؤُكُمْ ، وَفَسَقَ شَبَابُكُمْ ، وَتَرَكْتُمْ جِهَادَكُمْ ؟  قَالُوا : وَإِنَّ ذَلِكَ لَكَائِنٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ ، قَالَ :  نَعَمْ ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، وَأَشَدُّ مِنْهُ سَيَكُونُ  ، قَالُوا : وَمَا أَشَدُّ مِنْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ ، قَالَ : ” كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا لَمْ تَأْمُرُوا بِالْمَعْرُوفِ ، وَلَمْ تَنْهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ ؟ ” ، قَالُوا : وَكَائِنٌ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ ، قَالَ : ” نَعَمْ ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ وَأَشَدُّ مِنْهُ سَيَكُونُ ” ، قَالُوا : وَمَا أَشَدُّ مِنْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ ، قَالَ : ” كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا رَأَيْتُمُ الْمَعْرُوفَ مُنْكَرًا ، وَرَأَيْتُمُ الْمُنْكَرَ مَعْرُوفًا ؟ ” ، قَالُوا : وَكَائِنٌ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : ” نَعَمْ ، وَأَشَدُّ مِنْهُ سَيَكُونُ ، يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى : بِي حَلَفْت ، لأُتِيحَنَّ لَهُمْ فِتْنَةً , يَصِيرُ الْحَلِيمُ فِيهِمْ حَيْرَانًا . أخرجه ابن أبي الدنيا في موسوعة رسائل: ٥/٥٨٨ رقم ٨٥ و في الأمر بالمعروف و النهي عن المنكر , رقم الحديث : ٣٢ . الحافظ العراقي قال عنه إنه ضعيف الإسناد كما جاء في تخريجه لأحاديث الإحياء برقم ٢/٣٨٠ ; و اخرجه ايضا أبو يعلى مختصرا في مسنده: ١١/٣٠٤ رقم ٦٤٢٠ ; و الطبراني في المعجم الأوسط : ٩/١٢٩ رقم ٩٣٢٥ ; و ابن أبي حاتم في العلل : ٢/٤١٧ ; و أورده الهيثمي في مجمع الزوائد : ٧/٢٨٠ ; و الالباني في سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة وأثرها السيئ في الأمة : ١١/٣٤٣ – ‘তখন তোমাদের কেমন অবস্থা হবে, যখন নারীরা ত্বাগুতীপনা (আল্লাদ্রোহিতা) করবে এবং কিশর’রা ফাসেকী (পাপ ও অপরাধমূলক) কাজ করবে, আর তোমরা তোমাদের জিহাদকে পরিত্যাগ করে বসবে! (উপস্থিত) সাহাবাগণ বললেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, এমন ঘটনাও ঘটবে?! রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: হ্যা, যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ, বরং অতিশিঘ্রই এর থেকেও কঠিক অবস্থা হবে। তারা জিজ্ঞেস করলেন: এর থেকেও কঠিন কি হবে, ইয়া রাসুলাল্লাহ ?  রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: তখন তোমাদের কেমন অবস্থা হবে, যখন তোমরা আমর বিল মা’রুফ (নেকির কাজের নির্দেশ) এবং নাহি আনিল মুনকার (বদ কাজের নিষেধ করার দায়িত্ব) পালন করবে না ! তারা বললেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, এমন ঘটনাও ঘটবে?! রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: হ্যা, যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ, বরং অতিশিঘ্রই এর থেকেও কঠিন অবস্থা হবে। তারা জিজ্ঞেস করলেন: এর থেকেও কঠিন কি হবে, ইয়া রাসুলাল্লাহ ? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: তখন তোমাদের কি অবস্থা হবে, যখন তোমরা সৎকাজকেই অসৎকাজর দৃষ্টিতে দেখবে এবং অসৎকাজকে সৎকাজের দৃষ্টিতে দেখবে! তারা বললেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, এমন ঘটনাও ঘটবে?! রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: হ্যা, যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ, বরং  অতি শিঘ্রই এর থেকেও কঠিন অবস্থা হবে। আল্লাহ তাআলা বলবেন- আমি শপথ করে বলছি, তাদেরকে এমন পরীক্ষায় ফেলে দিবো যে, সেসময়কার ধৈর্যশীল মানুষও দিশেহারা হয়ে যাবে। [মাউসুআত, ইবনে আবিদ্দুনিয়া- ৫/৫৮৮ হাদিস ৮৫; আমর বিল মা’রুফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকার, ইবনে আবিদ্দুনিয়া, হাদিস ৩৩; মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১১/৩০৪ হাদিস ৬৪২০; আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরাণী- ৯/১২৯ হাদিস ৯৩২৫; আল-ইলাল, ইবনু আবি হাতিম- ২/৩১৭; মুসনাদে ফিরদাউস, দাইলামী- ৩/২৯৫ হাদিস ৪৮৮৩; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/২৮০]

# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ ، يَأْتُونَكُمْ مِنَ الْأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ، وَلَا آبَاؤُكُمْ، فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ، لَا يُضِلُّونَكُمْ، وَلَا يَفْتِنُونَكُمْ . أخرجه مسلم في المقدمة: ٧; مسند أبي يعلى الموصلي: ١١/٢٧٠٠ رقم ٦٣٨٤ إسناده صحيح ; صحيح ابن حبان: ١٥/١٦٩ رقم ٦٧٦٦ صححه شعيب; مسند أحمد: ١٤/١٩ و ١٤/٢٥٢ رقم ٨٢٦٧ و ٨٥٩٦ حسنه شعيب; مسند إسحاق بن راهويه: ١/٣٤٠ رقم ٣٣٢; المستدرك على الصحيحين للحاكم: ١/١٧٣ رقم ٣٥١; شرح السنة للبغوي: ١/٢٢٣ – ‘আখেরী জামানায় চরম-ধোকাবাজ ও চরম-মিথ্যুাবাদী’দের আবির্ভাব হবে। তারা তোমাদের (মুসলমানদের) সামনে এমনসব কথা/বিষয় নিয়ে আসবে -যা না তোমরা কখনো শুনেছো, না তোমাদের বাপ-দাদা-পূর্বপুরুষরা। (ওদের উপস্থাপিত কথা বা বিষয়গুলো হবে একেকটা পথভ্রষ্ঠতা ও ফিতনা’র আখড়া)। সুতরাং তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্ক থেকো, তারা যেন তোমাদেরকে পথভ্রষ্ঠও করতে না পারে, ফিতনা’য়ও য়েলতে না পারে। [সহিহ মুসলীম, মুকাদ্দমাহ – ৭; মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১১/২৭০ হাদিস ৬২৮৪; সহিহ ইবনে হিব্বান- ১৫/১৬৯ হাদিস ৬৭৬৬; মুসনাদে আহমদ- ১৪/১৯, ১৪/২৫২ হাদিস ৮২৬৭, ৮৫৯৬; মুসনাদে ইসহাক বিন রাহুওয়াই- ১/৩৪০; মুসতাদরাকে হাকিম- ১/১৭৩ হাদিস ৩৫১; শারহুস সুন্নাহ, বাগাভী- ১/১২৩]

আখেরী জামানায় ফিতনা ফ্যাসাদ ও মালাহিম  - মহানবীর ভবিষ্যৎ বাণী

# হযরত হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- كَانَ النَّاسُ يَسْأَلُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْخَيْرِ وَكُنْتُ أَسْأَلُهُ عَنِ الشَّرِّ مَخَافَةَ أَنْ يُدْرِكَنِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا فِي جَاهِلِيَّةٍ وَشَرٍّ فَجَاءَنَا اللَّهُ بِهَذَا الْخَيْرِ فَهَلْ بَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ شَرٌّ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ ‏”‏ فَقُلْتُ هَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الشَّرِّ مِنْ خَيْرٍ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ وَفِيهِ دَخَنٌ ‏”‏ ‏.‏ قُلْتُ وَمَا دَخَنُهُ قَالَ ‏”‏ قَوْمٌ يَسْتَنُّونَ بِغَيْرِ سُنَّتِي وَيَهْدُونَ بِغَيْرِ هَدْيِي تَعْرِفُ مِنْهُمْ وَتُنْكِرُ ‏”‏ ‏.‏ فَقُلْتُ هَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ دُعَاةٌ عَلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَذَفُوهُ فِيهَا ‏”‏ ‏.‏ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ صِفْهُمْ لَنَا ‏.‏ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ قَوْمٌ مِنْ جِلْدَتِنَا وَيَتَكَلَّمُونَ بِأَلْسِنَتِنَا ‏”‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا تَرَى إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ قَالَ ‏”‏ تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِينَ وَإِمَامَهُمْ ‏”‏ ‏.‏ فَقُلْتُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ لَهُمْ جَمَاعَةٌ وَلاَ إِمَامٌ قَالَ ‏”‏ فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا وَلَوْ أَنْ تَعَضَّ عَلَى أَصْلِ شَجَرَةٍ حَتَّى يُدْرِكَكَ الْمَوْتُ وَأَنْتَ عَلَى ذَلِكَ – ‘লোকেরা রাসুলুল্লাহ -কে কল্যান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতো, আর আমি জিজ্ঞেস করতাম মন্দ সম্পর্কে -এই ভয়ে ভীত হয়ে যে পাছে তা আমাকে পেয়ে বসে কিনা। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমরা জাহেলিয়াত ও মন্দের ভিতরে ছিলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে (আপনার মাধ্যমে দ্বীন ইসলামের মতো) এই কল্যান এনে দিলেন। এই কল্যানের পর কি কোনো মন্দ কিছু আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: সেই মন্দের পর কি কোনো কল্যানের কিছু আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আর তাতে থাকবে দাখান (ধোঁয়া)। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ওই দাখান কি? তিনি বললেন: (সে জামানায়) এমন গোষ্ঠি (-র আবির্ভাব হবে) যারা (মানব সমাজে আমার আনীত) আদর্শ বহির্ভূত আদর্শ জারি করবে এবং (আমার দেখানো) পথনির্দেশিকা বহির্ভূত (পথের দিকে মানুষজনকে) পথ দেখাবে (তাদেরকে পরিচালিত করবে)। তাদের মধ্যে মা’রুফ বিষয়ও (দেখতে) পাবে এবং মুনকার বিষয়ও পাবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এই কল্যানের পর কি কোনো মন্দ রয়েছে? তিনি বললেন: (এদের পর এমন গোষ্ঠির আবির্ভাব হবে যারা মানব জাতিকে এমন মত ও পথের দিকে ডাক দিবে, যা হবে মূলতঃ) জাহান্নামের বিভিন্ন দরজা থেকে (দেয়া) ডাক। যে ব্যাক্তি তাদের ডাকে সেদিকে সারা দিবে, তারা তাকে ওর মধ্যে নিক্ষেপ করবে। আমি বললাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদেরকে তাদের বৈশিষ্ট (কী হবে -তা) বলে দিন। তিনি বললেন: (এই জাহান্নামী পথভ্রষ্ঠ) গোষ্ঠিটির চামড়া আমাদের মতোই হবে, তারা কথাও বলবে আমাদের (মুসলমানদের) ভাষা (ভঙ্গি)তে। আমি বললাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমি যদি তাদেরকে পাই, তাহলে আপনি আমাকে কি করতে বলেন? তিনি বললেন: মুসলমানদের জামাআত’ ও তাদের ইমামকে আঁকড়িয়ে ধরে থাকবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: যদি (তখন) কোনো জামাআতও না থাকে, কোনো ইমামও না থাকে? তিনি বললেন: তাহলে ওই প্রতিটি ফেরকা থেকে নিজকে বিছিন্ন করে রাখবে- যদিও-বা তোমাকে গাছের শিকড় খেয়ে থাকতে হয় এমনকি এ অবস্থার উপরই তোমার মৃত্য চলে আসে।  [সহিহ মুসলীম, হাদিস ৪৮৯০, সহিহ বুখারী, হাদিস ৬৬৭৩]

# হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন- سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : إن في أمتي لنيفا وسبعين داعيا ، كلهم داع إلى النار ، لو أشاء لأنبأتكم بأسمائهم وقبائلهم . رواه أبو يعلى الموصلي فى مسنده: ١٠/٦٥ رقم ٥٧٠١ . قال ابن كثير فى البداية والنهاية , كتاب الفتن والملاحم وأشراط الساعة والأمور العظام يوم القيامة: ١٩/١١٨ وهذا إسناد لا بأس به; قال الهيثمى : رواه أبو يعلى وفيه ليث بن أبي سليم وهو مدلس،وبقية رجاله ثقات:٧/٣٣٢ –‘আমি রাসুলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি যে, আমার উম্মতের মধ্যে সত্তর জনের বেশি আহবানকারী (লিডার/গুরু) হবে। তাদের প্রত্যেকেই (একেকজন পথভ্রষ্ঠ এবং তাদের জীবনকালে তারা নিজ নিজ প্রথভ্রষ্ঠ মত ও পথকে মুক্তির সঠিক পথ বলে প্রচার করবে, ফলে আদপে তারা মানুষকে) দোযখের দিকে আহবান করবে। (তাদের থেকে সাবধান থেকো)। আমি চাইলে তোমাদেরকে তাদের নাম ও তাদের এলাকার খবর বলে দিতে পারি’। [মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১০/৬৫ হাদিস ৫৭০১; আল-বিদায়াহ ওয়ান্নিহায়াহ, ইবনে কাছির- ১৯/১৮৮; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩৩২]

#হযরত উমায়ের বিন হানী আল-আনশী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-  سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: كُنَّا قُعُودًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ، فَذَكَرَ الْفِتَنَ فَأَكْثَرَ فِي ذِكْرِهَا حَتَّى ذَكَرَ فِتْنَةَ الْأَحْلَاسِ، فَقَالَ قَائِلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا فِتْنَةُ الْأَحْلَاسِ؟ قَالَ: ” هِيَ هَرَبٌ وَحَرْبٌ، ثُمَّ فِتْنَةُ السَّرَّاءِ، دَخَنُهَا مِنْ تَحْتِ قَدَمَيْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يَزْعُمُ أَنَّهُ مِنِّي، وَلَيْسَ مِنِّي، وَإِنَّمَا أَوْلِيَائِي الْمُتَّقُونَ، ثُمَّ يَصْطَلِحُ النَّاسُ عَلَى رَجُلٍ كَوَرِكٍ عَلَى ضِلَعٍ، ثُمَّ فِتْنَةُ الدُّهَيْمَاءِ، لَا تَدَعُ أَحَدًا مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ إِلَّا لَطَمَتْهُ لَطْمَةً، فَإِذَا قِيلَ: انْقَضَتْ، تَمَادَتْ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا، وَيُمْسِي كَافِرًا، حَتَّى يَصِيرَ النَّاسُ إِلَى فُسْطَاطَيْنِ، فُسْطَاطِ إِيمَانٍ لَا نِفَاقَ فِيهِ، وَفُسْطَاطِ نِفَاقٍ لَا إِيمَانَ فِيهِ، فَإِذَا كَانَ ذَاكُمْ فَانْتَظِرُوا الدَّجَّالَ، مِنْ يَوْمِهِ، أَوْ مِنْ غَدِهِ “. سنن أبي داود – الفتن والملاحم: ٤٢٤٢; و الحاكم: ٤/٤٦٧ و قال: صحيح الإسناد”.ووافقه الذهبي; وأحمد: ٢/١٣٣; قال الألباني في “السلسلة الصحيحة: ٢/٧٠٢ – إسناده صحيح رجاله كلهم ثقات رجال البخاري غير العلاء بن عتبة و هو صدوق –‘আমি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-কে বলতে শুনেছি: আমরা রাসুলুল্লাহ -এর কাছে বসা ছিলাম। তখন তিনি ‘ফিতনা’র কথা আলোচনা করছিলেন। তার আলোচনার বেশির ভাগই ছিল ফিতনা নিয়ে। একসময় তিনি ‘ফিতনায়ে আহলাস’ -এর কথা বললেন। তখন এক ব্যাক্তি জিজ্ঞেস করলো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! ‘ফিতনায়ে আহলাস’ কি? তিনি বললেন: ওটা হল পলায়ন ও লড়াই (-এর ফিতনা)। এরপর হবে ‘ফিতনায়ে সাররা’ যার ধোঁয়া আমার আহলে-বায়েতের এক ব্যাক্তির পায়ের নিচ থেকে বেড় হবে। সে দাবী করবে যে, সে আমার (আহলে-বায়েতের) একজন। কিন্তু সে আমার কেউ নয়। আমার বন্ধু হল শুধুমাত্র মুত্তাকিগণ। এরপর লোকজন (এমন) এক ব্যাক্তির উপর সংঘবদ্ধ হবে, যেন পাঁজর (rib)-এর উপর নিতম্ব-হাড় (hip-bone)। এরপর হবে ‘ফিতায়ে-দুহাইমা’ (ঘন কালো অন্ধকারময় ফিতনা) যার চপেটাঘাতের পর চপেটাঘাত থেকে এই উম্মতের কেউ মুক্ত থাকবে না। যখন বলা হবে: (ওমুক ফিতনা) শেষ হয়ে গেছে, (তখন দেখা যাবে যে, তা আরো) বেড়ে গেছে। সেসময় (অবস্থা এমন হবে যে,) কোনো লোক সকালে মুমিন থাকবে, আবার (কোনো ফিতনায় ইমান নষ্ট করে) সন্ধায় হবে কাফের। (এভাবে) একসময় তারা দুটি তাবুতে বিভক্ত হয়ে যাবে। (একটি হচ্ছে) ইমানী-তাবু যার মধ্যে কোনো মুনাফেকী থাকবে না এবং (আরেকটি হল) মুনাফেকী-তাবু যার মধ্যে কোনো ইমান থাকবে না। যখন এমনটা হবে, তখন তোমরা দাজ্জালের অপেক্ষায় থেকো -সেই দিন (থেকেই) বা তার পরের দিন’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৪২; মুসতাদরাকে হাকিম-৪/৪৬৭; মুসনাদে আহমদ-২/১৩৩; অাল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ৯২]

ফায়দা: ফিতনায়ে সাররা’র ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, এটা হল মুসলমানদের মাঝে স্বচ্ছলতা, অপ্রতুল ধ্বনসম্পদ ও পার্থিব আরাম-আয়েশী জীবন লাভ করার পর তাদের গতিপথ পরিবর্তনের ফিতনা। অনেকের মতে, মূল্যবান সব খনিজ পদার্থ (যেমন: তেল, কয়লা, স্বর্ণ ইত্যাদি)র কল্যানে আরব জাহানে যখন চড়ম স্বচ্ছলতার মৌসুমের সূচনা হয়, সেটাই ছিল ‘ফিতনায়ে সাররা‘র গিজা/উপাদান, যার পরিণতিতে আজ আরব জাহান হয়ে গেছে -নারী, মদ ও মাদক, অশ্লীলতার মোহড়া, জেনা-ব্যাভিচার, ধোকা প্রতারনা বাটপারী, সূদ, জুয়া এবং ইরাক ও সিরিয়া সহ পৃথিবীতে মুসলমানের রক্ত নিয়ে ধুমিয়ে ব্যবসা করার কেন্দ্র।

হাদিসটিতে আরো বলা হয়েছে যে, এই ‘ফিতনায়ে সাররা’র ধোঁয়া বেড় হবে এক আহলে-বাইত (ফাতেমা রা.-এর বংশধর সাইয়্যেদ) -এর দাবীদারের পায়ের নিচ থেকে। বলা বাহুল্য, একটা আখেরী জামানার ছোট বা মাঝারী আলামত বলে কথা। সুতরাং, এই ব্যাক্তি নিছক সাধারণ কোনো মানুষ কেউ নয়, বরং অবশ্যই বেশ পরিচিত Figure হবে। এই শেষ জামানার সেরকম কোনো সাইয়্যেদ’ হওয়ার দাবীদারকে  এই হাদিসের সাথে মেলানোর চেষ্টা করেছেন, তাদের বক্তব্যের মধ্য থেকে  হওয়ার দাবীদা কেউ কেউ মনে করেন: (১) শরীফ হোসাইন, যিনি একজন সাইয়্যেদ এবং ব্রিটিশদের সাহায্য নিয়েছিলেন তৎকালীন আরবের হিযাযে ‘ওসমানী খিলাফত’ বিলুপ্ত করার জন্য। কিন্তু ব্রিটিশরা তাদের খাসলত অনুযায়ী ‘ওসমানী খিলাফত’ ধ্বংসের পর তাদের সাথে প্রতারণা করে, (২) আব্দুল্লাহ (সাবেক বাদশাহ, জর্ডান; শরীফ হোসাইন-এর পুত্র), যে একজন সাইয়্যেদ এবং দূর্ভাগ্যবসত: সে তুরষ্কের ওসমানী খিলাফত ধ্বংসের জন্য ব্রিটিশদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছিল এই আশ্বাসের বদৌলতে যে তাকে আরব, ইরাক, সিরিয়া ইত্যাদির প্রধান বানানো হবে। কিন্তু এক প্যালেস্টানী তাকে খোদ বায়তুল মাকদিসের ভিতরে খুন করে। (৩) হোসেইন (সাবেক বাদশাহ আব্দুল্লাহ’র পূত্র, জর্ডান), যে জায়োনিষ্ট ইসরাঈলদের সাথে হাত মেলায় এবং ৪০টিরও বেশি গোপন বৈঠকের কথা আল-জাজিরা’র ডকুমেন্টারীতে রয়েছে। (৪) সাদ্দাম হোসেন (সাবেক প্রেসিডেন্ট, ইরাক), যে নিজকে সাইয়্যেদ বলে দাবী করতো। অবশ্য তার এই দাবী খোদ একটি ইরাকী সাইয়্যেদ প্রতিষ্ঠান দাপ্তরীকভাবে নাকোচ করে দেয়। এদের মধ্যে কোনো একজনের দিকে হাদিসে ইশারা করা হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করেন। আল্লাহ’ই ভাল জানেন। 

আমার মতে, আমরা এখন ‘ফিতনায়ে-দুহাইমা’র সময় অতিক্রম করছি। ইরাকের পর সিরিয়া’য় সাধারণ মুসলমানদের সাথে যা হচ্ছে তা এদিকেই ইঙ্গীত করে। সেখানে পুরুষ, নারী, শিশুদের হত্যা করা হয়েছে, বোমা মেড়ে বাড়ি-ঘর তছনছ করে দেয়া হয়েছে, খাবার আসা যাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, বাচ্চাদের অনেকে ঘাস-পাতা চিবিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। আর আলীয়াতি-শিয়া (যারা হযরত আলী রা.-কে মনে করে যে আল্লাহ তালালাই আলীর রূপ নিয়ে এসেছেন) বাশার-আল-আসাদের লোকজন সুন্নী মুসলমানদেরকে উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে, বাচ্চা, শিশুকিশোর যুবক , বৃদ্ধ কাউকেই রেহাই দেয়নি, মেড়ে-পিটিয়ে বাশআল-আসাদ’কে ‘খোদা’ বলানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে, ছবিকে সিজদাহ করার জন্য কিংবা ‘বাশার ছাড়া কোনো উপাস্য নাই’ -একথা বলানোর জন্য চেষ্টা চালানো হয়েছে, এমনকি এজন্য জীবন্ত মাটি চাঁপা দিয়ে মেড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে সিরিয়ায়। এও হতে পারে যে, এটি ফিতনায়ে-দুহাইমা’র শুরুর দিককার সব ঘটনা, সামনে হয়-তো আরো কঠিন অবস্থা হবে এবং হয়-তো হাদিসের ইংগীত সেই কঠিন অবস্থার দিকে। (আল্লাহ রক্ষা করুন)

আমার ধারনা, ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র রেশ সামনে আগমনকারী গিয়ে ফিতনায়ে-দাহমা’ (যার আলোচনা নিচের হাদিসটিতে রয়েছে) পর্যন্ত গিয়ে ঠেঁকবে। যেমন: ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- ستكون بعدي فتن منها فتنة الأحلاس يكون فيها حرب وهرب ثم بعدها فتن أشد منها ثم تكون فتنة كلما قيل انقطعت تمادت حتى لا يبقى بيت إلا دخلته ولا مسلم إلا صكته حتى يخرج رجل من عترتي . رواه نعيم بن حماد في “الفتن: رقم ٩٥, قال مجدى بن منصور بن سيد الشوري: ص٣٣ رقم ٩٣: اسناده ضعيف ‘অচিরেই আমার পর ফিতনা সমূহ হবে। ওগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিতনায়ে-আহলাস। ওর মধ্যে পলায়ন ও লড়াই (-এর ফিতনা হবে)। এর পরে (যে) ফিতনা হবে, (সেটা হবে) তার চেয়েও কঠিন (এক ফিতনা)। এরপর একটি ফিতনা হবে, যখন বলা হবে- ‘(যাক, ফিতনাটি) কেটে গেল, তখন সেটা আরো বেড়ে যাবে। এমনকি (এর ক্রমধারায় অবস্থা এমন হবে যে,) এমন কোনো ঘর থাকবে না যার ভিতরে তা প্রবেশ করবে না এবং এমন কোনো মুসলমান হবে না যাকে সে চপেটাঘাত করবে না। এমনকি (শেষ পর্যন্ত এই অবস্থা খতম করার জন্য) আমার বংশধরের মধ্য থেকে একজন বেড় হবেন, (যিনি হলেন আল-মাহদী)’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, হাদিস ৯৫] 

বিভিন্ন হাদিসের ইশারা-ইঙগীত থেকে বোঝা যায়, ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের পর ‘মালহামাতুল-কুবরা’ (তৃতীয় মহাযদ্ধ) হবে এবং তাঁর অধীনে এই ফিতনা’র পরিসমাপ্তি ঘটবে, ইনশাআল্লাহ। সে সময় মুমিনগণের তাবুতে অবস্থানকারী মুসলমানদের আমীর/দলপ্রধান থাকবেন ইমাম মাহদী। আর বে-ইমানদের তাবুতে থাকা জনমানুষ হবে মূলতঃ ইমাম মাহদীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া  কাফের, মুশরেক ও খাঁটি মুনাফেকরা। ইমাম মাহদীর নেতৃত্বে মুমিনগণ তুরষ্কের ইস্তাম্বুলকে তৎকালীন কাফেরদের হাত থেকে মুক্ত করার পর দাজ্জাল বেড় হবে, যেমনটা উপরের হাদিসে ইংগীত রয়েছে । الله اعلم بالصواب

# হযরত হুযাইফা রা. থেকে উত্তম সনদে বর্ণিত হয়েছে,  তিনি বলেন- تَكُونُ ثَلَاثُ فِتَنٍ , الرَّابِعَةُ تَسُوقُهُمْ إِلَى الدَّجَّالِ , الَّتِي تَرْمِي بِالنَّشْفِ ، وَالَّتِي تَرْمِي بِالرَّضْفِ , وَالْمُظْلِمَةُ الَّتِي تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ . اخرجه ابن أبي شيبة فى المصنف, كِتَابُ الْفِتَنِ: ١٤/١٦ رقم ٣٨١٢٨, و اسناده حسن كما في زوائد ابن أبي شيبه على الكتب الستة لعبد الرحمان مهدلى: ص ٢٥١ رقم ١٤١; و نعيم بن حماد في “الفتن: رقم  ٩٢; أبو نعيم في حلية الأولياء: ٢/٢٧٣ – ‘তিনটি ফিতনা হবে। (তারপর) চতুর্থ (ফিতনা)টি (লোক জনকে) দাজ্জালের (ফিতনার) দিকে পৌছিয়ে দিবে। (প্রথম ফিতনাটি হবে এমন) যা (তাদেরকে যেন) নাশফ্ (কালো পাথর) নিক্ষেপ করা হবে। (দ্বিতীয় ফিতনাটি হবে এমন) যা (তাদেরকে যেন) রাযফ্ (অগ্নী শীলা) নিক্ষেপ করা। (তৃতীয় ফিতনাটি হবে এমন ঘন কালো) অন্ধকারময় (এক ফিতনা), যা সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মতো উথালপাতাল করবে’। [আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা১৪/১৬, হাদিস ৩৮১৬৮; অাল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ– ৯২ ; হিলইয়াতুল আউলিয়াহ, আবু নুআইম২/২৭৩]

ফায়দা: এই রেওয়ায়েতের একটি ব্যাখ্যা এই করা হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পর থেকে নিয়ে দাজ্জাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মুসলীম উম্মাহ’র উপর এই উল্লেখযোগ্য চারটি ফিতনা ঘটবে, যার প্রথম পর্যায়ে নাশফ্-এর ফিতনা, দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো কঠিন রাযফ্-এর ফিতনা, তারপর তৃতীয় পর্যায়ে আরো কঠিনতর অন্ধকারময় ফিতনা (যা সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মতো উথালপাতাল করবে) এবং সর্বশেষে চতুর্থ পর্যায়ে দাজ্জাল-এর ফিতনা হবে।  

তবে আরো কিছু রেওয়াতের দিকে তাকালে অনুমিত হয় যে,  এই হাদিসে চারটি ফিতনা বলতে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পর থেকে নিয়ে দাজ্জাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যেকার ফিতনা উদ্দেশ্য নয়, বরং শেষ জামানায় ঘটা ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ থেকে নিয়ে ‘দাজ্জাল’ পর্যন্ত সময়কে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, একেকটি ভাগকে একেকটি ফিতনা বলা হয়েছে, যার শেষ ভাগে দাজ্জাল বেড় হবে। যেমন ইমাম আবু উবাইদ আল-কাসেম রহ. (মৃ: ২২৪ হি:) নিজ সনদে হুযাইফা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন- أتتكم الدهيماء ترمي بالنشف ثم التي تليها ترمي بالرضف . رواه أبو عبيد القاسم بن سلام الهروي في غريب الحديث: ٢/٢٣٢ – তোমদের (মুসলমানদের) উপর (ফিতনায়ে) দুহাইমা আবির্ভূত হবে। (তখন) নাশফ্ (কালো পাথর) নিক্ষেপ করা হবে। এর পরে আসবে রাযফ্ (অগ্নী শীলা)-এর নিক্ষেপন’। [গারিবুল হাদিস, ইমাম আবু উবায়েদ- ২/২৩২] এই রেওয়ায়েত থেকে অনুমিত হয় যে, প্রথম পর্যায়ে ফিতনায়ে দুহাইমা হবে, তারপর নাশাফ (কালো পাথর) দিয়ে নিক্ষেপ, তারপর রাযাফ (অগ্নী শীলা) দিয়ে দিয়ে নিক্ষেপ করার মতো ফিতনা হবে।

এই মতের সমর্থন আসকারী রহ. (মৃ: ৩৮২ হি:)-এর আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত আরেকটি রেওয়ায়েত দ্বারা হয়, যেখানে রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে বলা হয়েছে যে- اتَتْكُمُ الدُّهَيْمَاءُ ، قَالَهَا ثَلاثًا ، تَرْمِي بِالنَّشَفِ ، وَالثَّانِيَةُ : تَرْمِي بِالرَّضْفِ ، وَالثَّالِثَةُ : سَوْدَاءُ مُظْلِمَةٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ، قَتْلاها قَتْلَى جَاهِلِيَّةٍ . خرجه العسكري في تصحيفات المحدثين: ص ٣٢٧ تحقيق: محمود أحمد ميرة ; و الدوري في ’تاريخ ابن معين، عن عمر بن راشد عن يحيى بن أبي كثير عن أبي سلمة عن أبي هريرة رضي الله عنه: ١/٣٣٥ رقم ٢١٢٦, تحقيق: د. أحمد محمد نور سيف . – ‘তিনি ﷺ তিনবার বললেন: তোমদের (মুসলমানদের) উপর (ফিতনায়ে) দুহাইমা আবির্ভূত হবে। (তখন) নাশফ্ (কালো পাথর) নিক্ষেপ করা হবে। দ্বিতীয় বারে রাযফ্ (অগ্নী শীলা) নিক্ষেপ করা হবে। তৃতীয়ত পর্যায়ে ঘন কালো অন্ধকার (রূপে এক ফিতনা আগমন করবে যা) কেয়ামত পর্যন্ত (সময়ের পূর্বে আল্লাহ যতদিন চান থাকবে। সে সময়) জাহেলিয়াতের হত্যার ন্যায় হত্যা (সংঘটিত) হবে’। [তাসহিকাতুল মুহাদ্দিসীন, আসকারী- ১/৩২৭; তারিখে ইবনে মুয়াইয়েন– ১/৩২৭] আমার কাছে এই শেষোক্ত ব্যাখ্যাটিই মনে ধরে এবং আমি মনে করি, এই চারটি ফিতনার শুরু হবে ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ থেকে এবং এর রেশ ফিতনায়ে দাজ্জাল পর্যন্ত গিয়ে ঠেঁকবে।

রেওয়ায়েত গুলিতে আরো বলা হয়েছে, প্রথমে تَرْمِي بِالنَّشَفِ – নাশফ (কালো পাথর)  নিক্ষেপ করা হবে النَّشْفُ (নাশফ্)-এর এক অর্থ কালো পাথড় যা দিয়ে হাম্মামে গা পরিষ্কার করা হয়। [তাজুল আরুস– ২৪/৪০৬, আল-ফায়েক- ১/৪২২] আমি অর্থ করেছি ‘কালো পাথড়’। আমার মনে হয়, এখানে মুসলীম উম্মাহ’র উপরে النَّشْفُ  (নাশফ্ /কালো পাথড়) নিক্ষেপ বলতে হয়-তো যুদ্ধাস্ত্রের বুলেট বোঝানো হয়েছে। হতে পারে ‘ফিতনায়ে-দুহাইমা’র প্রথম পর্যায়ে যত্রতত্র বুলেটের গুলিতে মুসলীম নারী পুরুষ ও শিশু রক্ত ঝড়ানোর মতো তুলনামূল ছোট ফিতনা শুরু হবে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ترمي بالرضف – রাযফ্ (অগ্নী শীলা) নিক্ষেপ করা হবেالرَّضْفُ (রাযফ্)-এর এক অর্থ আগুনে গরম/দগ্ধ হওয়া পাথর/শীল। আমি অর্থ করেছি অগ্নী শীলা। [আল-ফায়েক- ১/৪২২, ৪৮০] আমার মনে হয়, এখানে মুসলীম উম্মাহ’র উপরে الرَّضْفُ  (রাযফ্/অগ্নী শীলা) নিক্ষেপ বলতে হয়-তো মিসাইল জাতীয় অত্যাধুনিক ক্ষেপনাস্ত্র  বোঝানো হয়েছে। হতে পারে ‘ফিতনায়ে-দুহাইমা’র প্রথম পর্যায়ে বুলেটের রেশ মুসলীম নারী পুরুষ ও শিশুদেরকে দ্বিতীয় পর্যায়ের আরো কঠিন ফিতনার দিকে ঠেলে দিবে, যেখানে শুধু বুলেট নয়, সাথে আকাশ থেকে ড্রন ফাইটার প্লেন দিয়ে এবং পাতাল থেকে ট্যাঙ্ক ও কামান দিয়ে বোম-শেল, মিসাইল ইত্যাদি দিয়ে মুসলমানদের বাড়িঘর, কলকারখানা, হাসপাতাল সব ধ্বংস করে দেয়া হবে, লাশের পর লাশ পড়ে থাকবে ইত্যাদি।

বর্তমানকার ইরাক ও সিরিয়ায় যা হচ্ছে, তার শুরু কিভাবে হয়েছে এবং এখন কোন পর্যায় অতিক্রম করছে -তার ডকুমেন্টারীগুলোর সাথে শেষ জামানার বিভিন্ন হাদিসগুলোকে মিলিয়ে চিন্তা করে দেখুন, দেখবেন হাদিসগুলোর ইঙ্গিত এদিকেই করা হয়েছে বলে অনুমিত হয়। এটা শুধু আমার মত নয়, বিশ্বের বহু সচেতন আলেমে দ্বীন তা-ই মনে করেন। الله اعلم بالصواب

# হযরত হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত,  তিনি বলেন-  تَكُونُ فِتْنَةٌ ، فَيَقُومُ لَهَا رِجَالٌ فَيَضْرِبُونَ خَيْشُومَهَا حَتَّى تَذْهَبَ , ثُمَّ تَكُونُ أُخْرَى ، فَيَقُومُ لَهَا رِجَالٌ فَيَضْرِبُونَ خَيْشُومَهَا حَتَّى تَذْهَبَ , ثُمَّ تَكُونُ أُخْرَى ، فَيَقُومُ لَهَا رِجَالٌ فَيَضْرِبُونَ خَيْشُومَهَا حَتَّى تَذْهَبَ ، ثُمَّ تَكُونُ الْخَامِسَةُ ، دَهْمَاءُ مُجَلَّلَةٌ ، تَنْشِّقُ فِي الْأَرْضِ كَمَا يَنْشَّقُ الْمَاءُ . اخرجه ابن أبي شيبة فى المصنف: ١٤/٥٠ رقم ٣٨٢٤٤ , اسناده حسن كما جاء في زوائد ابن أبي شيبه على الكتب الستة لغالب بن محمد مهدلي : ص ٣٠٣ رقم ١٨٦  ‘(প্রথমে একটি) ফিতনা হবে। তখন এর বিরুদ্ধে লোকেরা রুখে দাঁড়াবে, তারপর সেটার নাকে আঘাত হানতে থাকবে যাবৎ না তা দূরিভূত হয়ে যায়’। এরপর (কিছু কাল অতিবাহিত হবে এবং অন্য) আরেকটি (দ্বিতীয় ফিতনা) দেখা দিবে, তখন এর বিরুদ্ধে লোকেরা রুখে দাঁড়াবে, তারপর সেটার নাকে আঘাত হানতে থাকবে যাবৎ না তা দূরিভূত হয়ে যায়। এরপর (কিছু কাল অতিবাহিত হবে এবং অন্য) আরেকটি (তৃতীয় ফিতনা) দেখা দিবে, তখন এর বিরুদ্ধে লোকেরা রুখে দাঁড়াবে, তারপর সেটার নাকে আঘাত হানতে থাকবে যাবৎ না তা দূরিভূত হয়ে যায়’। [এরপর (কিছু কাল অতিবাহিত হবে এবং অন্য) আরেকটি (চতুর্থ ফিতনা) দেখা দিবে, তখন এর বিরুদ্ধে লোকেরা রুখে দাঁড়াবে, তারপর সেটার নাকে আঘাত হানতে থাকবে যাবৎ না তা দূরিভূত হয়ে যায়।-অনুবাদক] এরপর পঞ্চম (আরেকটি ফিতনা) দেখা দিবে, (ফিতনাটি হবে) দাহমাউ-মুজাল্লালাহ (ঘন কালো অন্ধকার); এই (ফিতনাটি) এমনভাবে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, যেমনিভাবে পানি (উপর থেকে নিচের দিকে যেদিকে পথ পায় তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে) ছড়িয়ে পড়ে’। [আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা- ১৪/৫০, হাদিস ৩৮২৪৪]

ফায়দা: উপরের হাদিসে ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ বলতে যে ফিতনা বোঝানো হয়েছে, তার চাইতে গাঢ় ও ঘন অন্ধকারময় ফিতনা হল  ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ (ঘন কালো অন্ধকার)। [মাআলিমুস সুনান, খাত্তাবী– ৪/৩৩৭; আন-নিহায়া, ইবনুল আছির- ২/১৪৬; মিরক্বাতুল মাফাতিহ, আলী ক্বারী– ১০/৩৫, কিতাবুল ফিতান] 

ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ’ -এর শেষ পর্যায়ে ইমাম মাহদী রা. আবির্ভূত হবেন, (ইনশাআল্লাহ)। الله اعلم بالصواب

# অালী রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন- جُعِلَتْ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ خَمْسُ فِتَنٍ : فِتْنَةٌ عَامَّةٌ ، ثُمَّ فِتْنَةٌ خَاصَّةٌ ، ثُمَّ فِتْنَةٌ عَامَّةٌ ، ثُمَّ فِتْنَةٌ خَاصَّةٌ ، ثُمَّ تَأْتِي الْفِتْنَةُ الْعَمْيَاءُ الصَّمَّاءُ الْمُطْبِقَةُ الَّتِي تَصِيرُ النَّاسُ فِيهَا كَالْأَنْعَامِ . رواه والحاكم في المستدرك على الصحيحين ,كتاب الفتن والملاحم: ٤/٦٠٢ رقم ٨٤١٧ و قال:هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ ، وَلَمْ يُخْرِجَاهُ ، و وافقه الذهبي في “تلخيصه ; و عبد الرزاق في “مصنفه: ١١/٣٥٦ رقم ٢٠٧٣٣; – ‘এই উম্মতের মধ্যে পাঁচটি (উল্লেখযোগ্য) ফিতনা হবে: (১) আম/ব্যাপক ফিতনা, (২) তারপর খাস/ নির্দিষ্ট ফিতনা, (৩) তারপর আম/ব্যাপক ফিতনা, (৪) তারপর খাস/ নির্দিষ্ট ফিতনা। এরপর (পঞ্চম পর্যায়ে) আসবে বধিরতাপূর্ণ অন্ধকারময় আচ্ছন্নকারী (একটি) ফিতনা, যার মধ্যে (লিপ্ত) মানুষজন (গৃহপালিত) চতুষ্পদ প্রাণির মতো (অসহায় ও নির্বাক) হয়ে যাবে’। [মুসতাদরাকে হাকিম– ৪/৬০২ হাদিস ৮৪১৭; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ১১/৩৫২ হাদিস ২০৭৩৩]

ফায়দা: ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বা রহ. নিজ সনদে এই রেওয়ায়েতটি উল্লেখ করেছেন, তবে সেখানে চতুর্থ ফিতনা’র পর রয়েছে: ، ثُمَّ فِتْنَةً تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ ، يُصْبِحُ النَّاسُ فِيهَا كَالْبَهَائِمِ .رواه ابن أبي شيبة في “مصنفه: ١٥/٢٤ رقم ١٩٠٠٤, اسناده حسن كما في زوائد ابن أبي شيبه على الكتب الستة لعبد الرحمان مهدلى: ص ٢٦٩ رقم ١٥٥; و الحاكم: ٤/٤٣٧ – এরপর (পঞ্চম একটি) ফিতনা হবে, (যা) সাগরের (উত্তাল) ঢেউয়ে (অন্ধ ও বধিরের মতো কখনো) এদিক (কখনো) ওদিক ভেসে যাওয়া (র মতো এক আচ্ছন্নকারী ফিতনা), যার মধ্যে (লিপ্ত) মানুষজন গৃহপালিত জানোয়ারের মতো ভেসে বেড়াবে’ । মুসান্নাফে ইবনু আবি শায়বাহ- ১৫/২৪ হাদিস ১৯০০৪; মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৩৪৭]

এখানে পঞ্চম ফিতনা বলতে সম্ভবতঃ ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ এবং ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ’ -উভয় ফিতনাকে এক সাথে একই ফিতনার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ পঞ্চম ফিতনা’র প্রথম দিকটা হল ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ এবং শেষ দিকটা হল ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ’, যা অধিকতর কঠিন হবে। যেমন: আবু মুওয়াইহাবাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- أتت الفتن كقطع الليل؛ يركب بعضها بعضًا، الآخرة أشد من الأولى . رواه الإمام أحمد: ١٢/٤٠٨ رقم ١٥٩٣٨, و قال حمزة احمد الزين: اسناده حسن; و ابن الأعرابي في معجم شيوخ: ١/١٠٨ رقم ٩٣; الطبراني: ٢٢/٣٤٧; الخطيب: ٨/٢٢٢; و الحاكم: ٣/٥٥; البيهقي في دلائل: ٧/١٦٢ – রাতের (ঘন কালো অন্ধকারময়) টুকরা মতো একের উপর আরেকটা ফিতনা আবির্ভূত হতে থাকবে, (যার) প্রথমটির চাইতে শেষটি কঠিনতর হবে’। [মুসনাদে আহমদ- ১২/৪০৮ হাদিস ১৫৯৩৮; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৫৫; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ২২/৩৪৭; তারিখে বাগদাদ, খতীব- ৮/২২২; দালায়েলুন নাবুয়ত, বাইহাকী- ৭/১৬২] الله اعلم بالصواب

# আবু হুরায়রাহ রা. রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ أَفْلَحَ مَنْ كَفَّ يَدَهُ . رواه في سننه, كتاب الفتن والملاحم, باب ذكر الفتن ودلائلها: رقم ٤٢٤٩, اسناده صحيح كما في المرقاة : ١٠/٣٦ رقم ٥٤٠٤ – আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক (অন্ধত্বময় বধিরতাপূর্ণ বোবা) মন্দ (ফিতনা) ধেয়ে আসছে। যে ব্যক্তি (ওই ফিতনা থেকে) তার হাত’কে সরিয়ে রাখবে, সে সফলকাম হবে’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৪৯; আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ-৩৪৪]

# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدْ اقْتَرَبَ يَنْقُصُ الْعِلْمُ وَيَكْثُرُ الْهَرْجُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْهَرْجُ قَالَ الْقَتْلُ . أخرجه أحمد في المسنده, باقي مسند المكثرين , مسند أبي هريرة رضي الله عنه : ٢/٥٣٦ ; قال حمزه احمد الزين : ٩/٦٠٦ رقم ١٠٨٦٨: اسناده صحيح ; و ابو يعلي في المسنده: ٥/٥٠٩ رقم ٦٦١٤ – ‘আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক (অন্ধত্বময় বধিরতাপূর্ণ বোবা) মন্দ (ফিতনা) ধেয়ে আসছে। ইলমকে উঠিয়ে নেয়া হবে এবং ব্যাপক ভাবে হারাজ হবে’ বলা হল: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ ! হারাজ কি? বললেন: ‘কতল’। [মুসনাদে আহমদ- ২/৫৩৬; মুসনাদে আবু ইয়া’লা– ৫/৫০৯ হাদিস ৬৬১৪]

# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন- ويل للعرب من شر قد اقترب من فتنة عمياء صماء بكماء القاعد فيها خير من القائم والقائم فيها خير من الماشي والماشي فيها خير من الساعي ويل للساعي فيها من الله يوم القيامة . اخرجه ابن حبان فى الصحيحه : ١٥/٩٨ رقم ٦٧٠٥ , قال شعيب الأرنؤوط : إسناده صحيح على شرط مسلم – ‘আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক অন্ধত্বময় বধিরতাপূর্ণ বোবা মন্দ ফিতনা ধেয়ে আসছে। এ ফিতনায় বসে থাকা ব্যাক্তি দাড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, দাড়ানো ব্যাক্তি   চলমান ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, চলমান ব্যাক্তি দৌড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। আর কেয়ামতের দিন আল্লাহ’র পক্ষ থেকে এ ফিতনায় দৌড়ানো ব্যাক্তির জন্য  দূর্ভোগ-দূর্গতি রয়েছে’। [সহিহ ইবনে হিব্বান– ১৫/৯৮ হাদিস ৬৭০৫]

ফায়দা: আমার মতে, এই ফিতনা’টি হল ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ যার মধ্যে আমাদের এ জামানায় আরব জাহান তথা ইরাক, সিরিয়া, সৌদি আরব, ইয়ামেন, কাতার, ইউনাইটেড আরব আমিরাত, কুয়েত, মিশর, জরদান, লেবানন ইত্যাদি দেশগুলো জড়িয়ে পড়েছে। 

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- تَكُونُ فِتْنَةٌ تَسْتَنْظِفُ الْعَرَبَ قَتْلَاهَا فِي النَّارِ، اللِّسَانُ فِيهَا أَشَدُّ مِنْ وَقْعِ السَّيْفِ . اخرجه أحمد فى المسند: ١١/١٧٠, قال أحمد شاكر: إسناده صحيح; و أبو داود فى سننه: ٤٢٦٥ و سكت عنه و قد قال في رسالته لأهل مكة كل ما سكت عنه فهو صالح; – ‘(এমন) ফিতনা হবে (যা) আরব’কে একেবারে গ্রাস/সাবার করে ফেলতে চাইবে। (এই ফেতনায় অংশ নেয়া খুনিদের মতো)  নিহত ব্যাক্তিও দোযখে যাবে, (কারণ খুনি ও নিহত উভয়-ই একে অপরকে হত্যা করার নিয়তে এই ফিতনায় জড়িয়েছিল)। এই (ফিতনা’র আগুনকে ভরকিয়ে দেয়ার প্রশ্নে মানুষের বেসামাল) জবান -তরবারীর আঘাতের চাইতেও অধিক শক্তিশালী (ও কার্যকরী) ভূমিকা রাখবে’। [মুসনাদে আহমদ– ১১/১৭০; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৬৫; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২১৭৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৬৭; আল-ইবানাতুল কুবরা, ইবনুল বাত্তাহ- ৩৭৬; তারিখে দামেশক, ইবনুল আসাকীর- ৩১৪৭০; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা- ৭/৪৪৮]

আমার ধারনা এ ফিতনাটি’র রেশ সামনে আগমনকারী ‘মালহামাতুল-কুবরা’ (তৃতীয় মহাযদ্ধ) পর্যন্ত গিয়ে ঠেঁকবে, হাদিসের ইশারা-ইঙগীত থেকে বোঝা যায়, ইমাম মাহদীর অধীনে এই ফিতনা’র পরিসমাপ্তি ঘটবে, ইনশাআল্লাহ। الله اعلم بالصواب

# হযরত আবু হুরায়রাহ রা.-এর  সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- بَادِرُوا بِالأَعْمَالِ فِتَنا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ. يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيْهَا مُؤْمِناً وَيُمْسِي كَافِراً. أَوْ يُمْسِي مُؤْمِناً وَيُصْبِحُ كَافِراً. يَبِيعُ دِينَهُ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا – ‘তোমরা আমলের ব্যাপারে যত্নবান হও। (কারণ তোমাদের সামনে অনেক) ফিতনা হবে; (যার একেকটা) যেন রাতের অন্ধকারের ফালি/খন্ড। (সে সময়) লোকের সকাল হবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধা হবে কাফের অবস্থায়। অথবা সন্ধা হবে মুমিন অবস্থায় এবং সকাল হবে কাফের অবস্থায়। সে দুনিয়ার (সামান্য) কোনো গরজে তার দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১১৮; জামে’ তিরমিযী, হাদিস ২১৯৫; মুসনাদে আহমাদ- ২/৩৯০; সহিহ ইবনে হিব্বান- ১৫/৯৬ হাদিস ৬৭০৪]

ফায়দা: আমার মতে, এই ফিতনাটি এখন বিশেষ করে সিরিয়ায় শুরু হয়ে গেছে। উপরে বলে এসেছি যে, সেখানে আলীয়াতি-শিয়া (যারা হযরত আলী রা.-কে মনে করে যে আল্লাহ তালালাই আলীর রূপ নিয়ে এসেছেন) বাশার-আল-আসাদের লোকজন সুন্নী মুসলমানদেরকে উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে, বাচ্চা, শিশুকিশোর যুবক , বৃদ্ধ কাউকেই রেহাই দেয়নি, মেড়ে-পিটিয়ে বাশআল-আসাদ’কে ‘খোদা’ বলানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে, ছবিকে সিজদাহ করার জন্য কিংবা ‘বাশার ছাড়া কোনো উপাস্য নাই’ -একথা বলানোর জন্য চেষ্টা চালানো হয়েছে, এমনকি এজন্য জীবন্ত মাটি চাঁপা দিয়ে মেড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে সিরিয়ায়। এত অত্যাচারের মাঝে ইমান কি করে তারা রক্ষা করবে? এও হতে পারে যে, এটি ফিতনায়ে-দুহাইমা’র শুরুর দিককার সব ঘটনা, সামনে হয়-তো আরো কঠিন অবস্থা হবে এবং হয়-তো হাদিসের ইংগীত সেই কঠিন অবস্থার দিকে, যেটাকে হাদিসে ফিতনায়ে ‘দাহমাউ-মুজাল্লালাহ’ বলা হয়েছে। যেমন: আবু মুওয়াইহাবাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- أتت الفتن كقطع الليل؛ يركب بعضها بعضًا، الآخرة أشد من الأولى . رواه الإمام أحمد: ١٢/٤٠٨ رقم ١٥٩٣٨, و قال حمزة احمد الزين: اسناده حسن; و ابن الأعرابي في معجم شيوخ: ١/١٠٨ رقم ٩٣; الطبراني: ٢٢/٣٤٧; الخطيب: ٨/٢٢٢; و الحاكم: ٣/٥٥; البيهقي في دلائل: ٧/١٦٢ – রাতের (ঘন কালো অন্ধকারময়) টুকরা মতো একের উপর আরেকটা ফিতনা আবির্ভূত হতে থাকবে, (যার) প্রথমটির চাইতে শেষটি কঠিনতর হবে’। [মুসনাদে আহমদ- ১২/৪০৮ হাদিস ১৫৯৩৮; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৫৫; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ২২/৩৪৭; তারিখে বাগদাদ, খতীব- ৮/২২২; দালায়েলুন নাবুয়ত, বাইহাকী- ৭/১৬২] الله اعلم بالصواب

# হযরত আবু হুরায়রাহ রা.-এর  সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لا تقوم الساعة حتى تظهر الفتن، ويكثر الكذب، وتتقارب الأسواق، ويتقارب الزمان، ويكثر الهرج قيل: وما الهرج؟ قال: القتل – رواه الإمام أحمد في المسند ١٠٣٤٦ ، وصححه الألباني في السلسلة الصحيحة ٢٧٧٢ – ‘কেয়ামতের সংঘটিত হবে না, যাবৎ না ফিতনাহসমূহ প্রকাশ পায়, মিথ্যা ব্যাপক হয়ে যায়, বাজার/মার্কেটসমূহ পরষ্পরে কাছাকাছি এসে যায় এবং ‘হারাজ’ ব্যাপকভাবে ঘটে। জিজ্ঞেস করা হল: ‘হারাজ’ কি? তিনি বললেন: কতল (খুন-খারাবি)’। [মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ১০৩৪২]

# হযরত আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُنَا أَنَّ بَيْنَ يَدَيْ السَّاعَةِ الْهَرْجَ . قِيلَ : وَمَا الْهَرْجُ ؟ قَال : الْكَذِبُ وَالْقَتْلُ . قَالُوا : أَكْثَرَ مِمَّا نَقْتُلُ الْآنَ ؟ قَالَ : إِنَّهُ لَيْسَ بِقَتْلِكُمْ الْكُفَّارَ ، وَلَكِنَّهُ قَتْلُ بَعْضِكُمْ بَعْضًا ، حَتَّى يَقْتُلَ الرَّجُلُ جَارَهُ ، وَيَقْتُلَ أَخَاهُ ، وَيَقْتُلَ عَمَّهُ ، وَيَقْتُلَ ابْنَ عَمِّهِ . قَالُوا : سُبْحَانَ اللَّهِ ! وَمَعَنَا عُقُولُنَا ؟ قالَ : لَا ، إِلَّا أَنَّهُ يَنْزِعُ عُقُولَ أَهْلِ ذَاكَ الزَّمَانِ ، حَتَّى يَحْسَبَ أَحَدُكُمْ أَنَّهُ عَلَى شَيْءٍ وَلَيْسَ عَلَى شَيْءٍ . رواه أحمد في ” المسند: ١٤/٥٣٤ رقم ١٩٥٢٦, إسناده صحيح، رجاله ثقات رجال الشيخين غير أسِيد بن المتشمس، فمن رجال ابن ماجه، وهو ثقة, وصححه المحققون في طبعة مؤسسة الرسالة، وصححه الشيخ الألباني في ” السلسلة الصحيحة: رقم ١٦٨٢ – ‘রাসুলুল্লাহ সা. আমাদেরকে বলেছিলে যে, কেয়ামতের আগে আগে হারজ হবে। জিজ্ঞেস করা হল: হারজ কি? তিনি বললেন: (ব্যাপক হারে) মিথ্যা (কথা ও প্রচারনা) ও হত্যাকান্ড। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: আজ আমরা (জিহাদে) যেসব (কাফেরদেরকে) হত্যা করি (তারা সেই জামানায়) তার চেয়েও বেশি (কাফেরকে জিহাদে হত্যা করবে)? তিনি বললেন: বস্তুত: এটা তোমাদের (জীহাদে) কাফেরকে হত্যা করা (-র মতো) হত্যাকান্ড নয়। বরং এটা হল তোমাদের (সেই জামানার মুসলমানদের) একে অন্যকে (করা) হত্যাকান্ড। এমনকি (এই ফিতনা’র ক্রমধারায় এমনও হবে যে,) এক ব্যাক্তি তার প্রতিবেশিকে হত্যা করবে, তার ভাইকে হত্যা করবে, তার চাচাকে হত্যা করবে, তার চাচাত ভাইকে হত্যা করবে’। লোকেরা বললো: আল্লাহ পবিত্র!!! ( এমনও ঘটবে)!!! (সে সময় কি) আমাদের (মুসলমানদের) কাছে বিবেক-বোধ (বলতে কিছু) থাকবে না? তিনি বললেন: না (থাকবে না)। সেই জামানায় (বিবেকবোধের সাথে উপর্যুপরি খেয়ানত করার কারণে শাস্তি স্বরূপ) মানুষদের বিবেক-বোধ উঠিয়ে নেয়া হবে। এমন কি (তখন) তোমাদের (মুসলমানদের) কেউ (এমনও) মনে করবে যে, সে (যেন সেইরকম কোনো সঠিক ও গৌরবজনক) কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছে, কিন্তু (বাস্তবে সে আল্লাহ চোখে) কোনো কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) থাকবে না। (শয়তান তাদের পাপগুলোকে তাদের চোখে সুন্দর ও গৌরবজনক বানিয়ে ধোকা দিবে)। [মুসনাদে আহমদ– ১৪/৫৩৪, হাদিস ১৯৫২৬; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস ২০৭৪৪; মুসনাদে আবু ইয়া’লা, হাদিস ৭২৪৭; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৬৭১০]

ফায়দা: আমার মতে, এই ‘হারাজ’ হল ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র ভিতরে ঘটে যাওয়া আরব জাহানে মুসলীম উম্মাহ’র পরষ্পরের মাঝে ব্যাপক হারে ঘটে যাওয়া সব খুনখারাবি গুলো। তবে অন্যান্য আরব-অনারব দেশগুলোতে যেসব দুনিয়াবী কারণে মুসলমানে মুসলমানে খুনা-খুনি করেছে, সেগুলোও হাদিসে বর্ণিত হারজ-এর মধ্যে গণ্য হতে পারে। الله اعلم بالصواب

# হযরত হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত,  তিনি বলেন- سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الساعة فقال علمها عند ربي لا يجليها لوقتها الا هو ولكن أخبركم بمشاريطها وما يكون بين يديها فتنة وهرجا قالوا يا رسول الله الفتنة قد عرفناها فالهرج ما هو قال بلسان الحبشة القتل ويلقى بين الناس التناكر فلا يكاد أحد أن يعرف أحدا .اخرجه الإمام أحمد: ٥/٣٨٩ ; قال الهيثمي في “مجمع الزوائد”: ٧/٣٠٩ – ورجاله رجال الصحيح – ‘(একবার) রাসুলুল্লাহ সা.কে কেয়ামত সম্পর্ক জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন: এর জ্ঞান (শুধুমাত্র) আমার রবের কাছে আছে; তিনি ছাড়া এর সময়-ক্ষন প্রকাশ করে দেয়ার (দ্বিতীয়) কেউ নেই। তবে আমি তোমাদেরকে এর কিছু আলামত ও লক্ষনের খবর দিচ্ছি। এর আগে আগে (প্রকট অন্ধকারময়) ফিতনা এবং হারজ হবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! ফিতনা (কী -তা)তো অামরা চিনে নিয়েছি, তবে এই ‘হারজ’টা কি? তিনি বললেন: হাবশী ভাষায় কতল (খুনাখুনি’কে বলা হয় হারজ), যা একে-অপরকে ঘৃনাকারী জনমানুষের মাঝে নিক্ষেপীত হবে। তখন (এমন হবে যে, তাদের) একজন আরেকজনের একেবারে কাছে গিয়েও তাকে চিনতে পারবে না (যে, সে তার মুসলীম ভাই বা বোন, যাদেরকে হত্যা করা হারাম। সে শুধু এতটুকু উপলব্ধি করবে যে, অমুক তার বিপক্ষবাদী, তাই তাকে হত্যা করতে হবে মনে করে হত্য করে ফেলবে)। [মুসনাদে আহমদ- ৫/৩৮৯; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩০৯]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- تَكُونُ فِتْنَةٌ، النَّائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمُضْطَجِعِ، وَالْمُضْطَجِعُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَاعِدِ، وَالْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنِ الْقَائِمِ، وَالْقَائِمُ خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي، وَالْمَاشِي خَيْرٌ مِنَ الرَّاكِبُ، وَالرَّاكِبُ خَيْرٌ مِنَ الْمُجْرِي، قَتْلاهَا كُلُّهَا فِي النَّارِ “، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَتَى ذَلِكَ؟ قَالَ: ” ذَلِكَ أَيَّامَ الْهَرْجِ “، قُلْتُ: وَمَتَى أَيَّامُ الْهَرْجِ؟ قَالَ: ” حِينَ لا يَأْمَنُ الرَّجُلُ جَلِيسَهُ ” قَالَ: فَبِمَ تَأْمُرُنِي إِنْ أَدْرَكْتُ ذَلِكَ الزَّمَانَ؟ قَالَ: ” اكْفُفْ نَفْسَكَ وَيَدَكَ وَادْخُلْ دَارَكَ ” قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ دَخَلَ رَجُلٌ عَلَيَّ دَارِي؟ قَالَ: ” فَادْخُلْ بَيْتَكَ “، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ دَخَلَ عَلَيَّ بَيْتِي؟ قَالَ: ” فَادْخُلْ مَسْجِدَكَ، وَاصْنَعْ هَكَذَا ” فَأَتَى بِيَمِينِهِ عَلَى الْكُوعِ، وَقُلْ: ” رَبِّيَ اللَّهُ، حَتَّى تَمُوتَ عَلَى ذَلِكَ . رواه عبد الرزاق في مصنفه:١١/٣٥٠ رقم ٢٠٧٢٧, و الحاكم فى المستدرك:٣/٣٩٣ رقم ٥٤٦٥ و وقال: “صحيح الإسناد ولم يخرجاه “، ووافقه الذهبي في “تلخيصه كما في إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة:١/٣٤ ; و أحمد في مسنده:١/٤٤٨ رقم٤٢٨٦, والطبراني فى المعجم الكبير:١٠/٩; الخطابي في العزلة: ١/١٨ رقم ١١ و قال العراقى: إسناده عند الخطابي انقطاع; و نعيم بن حماد فى الفتن: ص ٧٨; و ابن عساكر في تاريخ مدينة دمشق:٦٢/٣٣٦ رقم ١٢٨٥٥; صححه الألباني فى السلسلة الصحيحة: رقم ٣٢٥٤– ‘আমি রাসুলুল্লাহ -কে বলতে শুনেছি, (সেদিন বেশি দূরে নয়, যখন এমন) ফিতনা হবে যে, (তাতে) ঘুমন্ত ব্যাক্তি (বিছানায় জেগে জেগে) শুয়ে থাকা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, শুয়ে থাকা ব্যাক্তি বসে থাকা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, বসে থাকা ব্যাক্তি দাঁড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, দাঁড়ানো ব্যাক্তি হেটে চলা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, হেটে চলা ব্যাক্তি আরোহীত ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, আরোহী ব্যাক্তি (বাহনকে নিয়ে) চালিত ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। (সেই ফিতনা’য়) কতল হওয়া প্রত্যেকেই দোযখে যাবে। (ইবনে মাসউদ রা) বলেন, আমি জেজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! সেটা কখন ঘটবে? তিনি বললেন: সেটা হবে হারজ-এর দিনগুলোতে। আমি জেজ্ঞেস করলাম:  হারজ-এর দিনগুলো কখন হবে? তিনি বললেন: যখন একজন ব্যাক্তি তার পাশে বসা ব্যাক্তি থেকেও নিরাপদ থাকবে না। আমি বললাম: আমি যদি সেই জামানা পাই তাহলে আপনি আমাকে কি করার নির্দেশ দেন? তিনি বললেন: তুমি (যথাসম্ভব তোমার) নিজকে ও তোমার হাতকে (মানুষজনের বিষয়াবলি থেকে) বাঁচিয়ে রাখবে এবং তোমার বাড়িতে ঢুকে পড়বে (জরুরত ছাড়া বাড়ির সীমানার বাইরে বেড়ুবে না)। (ইবনে মাসউদ রা) বলেন, আমি জেজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! যদি কোনো ব্যাক্তি আমার বাড়িতে ঢুকে আমার কাছে চলে আসে, (সেক্ষেত্রে) আপনোর মত কি? তিনি বললেন: তাহলে তুমি তোমার ঘরে ঢুকে পড়বে। তিনি বলেন, আমি জেজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! সে যদি আমার ঘরে ঢুকে পড়ে আমার কাছে চলে আসে, (সেক্ষেত্রে) আপনোর মত কি? তিনি বললেন: তাহলে (তোমার ঘরের) নামাযের স্থানে ঢুকে পড়বে এবং এরকম করবে (-একথা বলে) তিনি তাঁর ডান হাতকে কব্জির উপর রাখলেন। আর বলবে: আল্লাহ আমার রব। (এটা করবে,) যাবত না এর উপরই তোমার মৃত্যু হয়। (তবুও প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে যাবে না)’। [মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক -১১/৩৫০ হাদিস ২০৭২৭; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৩৯২ হাদিস ৫৪৬৫; আল-উযলাহ, খাত্তাবী- ১/১৮ হাদিস ১১; মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ১০/৯; আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ-৭৮ পৃ:; তারিখে দামেশক, ইবনে আসাকীর- ৬২/৩৩৬ ক্র:নং ১২৮৫৫]

# আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَقْتُلَ الرَّجُلُ جَارَهُ وَأَخَاهُ وَأَبَاهُ . أخرجه البخاري في الأدب المفرد : رقم ١١٨ ; و ذكره الديلمي في مسند الفردوس : ٣/١٦٨ ; إسناده جيد كما في سلسلة الأحاديث الصحيحة : رقم ٣١٨٥  – ‘কেয়ামত কায়েম হবে না -যাবৎ না কোনো ব্যাক্তি তার প্রতিবেশিকে, তার ভাইকে এবং তার পিতাকে হত্যা করে ফেলে’। [আল-আদাবুল মুফরাদ, ইমাম বুখারী, হাদিস ১১৮; মুসনাদে ফিরদাউস, ইমাম দাইলামী- ৩/১৬৮]

# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَدْرِي الْقَاتِلُ فِي أَيِّ شَيْءٍ قَتَلَ، وَلَا يَدْرِي الْمَقْتُولُ عَلَى أَيِّ شَيْءٍ قُتِلَ . رواه مسلم, كتاب الفتن وأشراط الساعة: رقم ٢٩٠٨; و الدانى فى السنن الواردة في الفتن وغوائلها والساعة وأشراطها: ٢٢٠ – ‘ওই সত্ত্বার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন, মানুষের উপর অবশ্যই এমন এক জামানা আসবে, যখন (এমনও হবে যে,) একজন খুনি জানবে না যে সে কিজন্য খুন করেছে এবং নিহত ব্যাক্তি জানবে না যে, কী প্রেক্ষিতে সে নিহত হল’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯০৮; আস-সুন্নাহ, ইমাম দানী, হাদিস ২২০]

ফায়দা: আমার ব্যাক্তিগত ক্ষুদ্র গবেষনা মতে, এই খুন বলতে ‘হারজ’ উদ্দেশ্য। অবশ্য পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে দুনিয়াবী কারণে মুসলমানে মুসলমানে খুনা-খুনি করেছে, সেগুলোও এই হাদিসের উদ্দেশ্য হতে পারে। الله اعلم بالصواب  

# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا تَذْهَبُ الدُّنْيَا، حَتَّى يَأْتِيَ عَلَى النَّاسِ يَوْمٌ لَا يَدْرِي الْقَاتِلُ فِيمَ قَتَلَ، وَلَا الْمَقْتُولُ فِيمَ قُتِلَ  فَقِيلَ: كَيْفَ يَكُونُ ذَلِكَ؟ قَالَ: الْهَرْجُ، الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ. رواه مسلم, كتاب الفتن وأشراط الساعة: رقم ٢٩٠٨ – ‘ওই সত্ত্বার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন, দুনিয়া ধ্বংস হবে না, যাবৎ না মানুষের উপর এমন দিন আসে যে, একজন হত্যাকারী জানবে না যে সে কিজন্য খুন করেছে এবং নিহত ব্যাক্তি জানবে না যে, কী প্রেক্ষিতে সে নিহত হল’। তখন বলা হল: সেটা কিভাবে হবে? তিনি বললেন: হারজ (হবে। আর তাদের মধ্যে) হত্যাকারী ও নিহত (উভয়ই) দোযখে যাবে।  [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯০৮]

ফায়দা: ইমাম কুরতুবী রহ. বলেছেন- بيَّنَ هذا الحديث أن القتال إذا كان على جهل من طلب دنيا ، أو اتباع هوى ، فهو الذي أريد بقوله : القاتل والمقتول في النار  -এই হাদিসটি বলছে যে,  যখন (কুরআন-সুন্নাহ’য় কোন অবস্থায় কাকে হত্যা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে -সে ব্যাপারে সহিহ ইলম ব্যতীত নিছক বিবেকপ্রসূত) মুর্খতা ও অজ্ঞতার ভিতিতে (কোনো) পার্থিব স্বার্থে বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে কোনো লড়াই বা হত্যাকান্ড ঘটানো হয়, তখন সেটা (হয়ে দাঁড়ায় মানুষ হত্যাকান্ডের পাপ), যার দিকে ইশারা করে বলা হয়েছে- الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ –  ‘হত্যাকারী ও নিহত (উভয়ই) দোযখে যাবে’। [ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার- ১৩/৩৪] যেমন: আবু বকরা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- إِذَا تَوَاجَهَ الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَكِلَاهُمَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ قِيلَ فَهَذَا الْقَاتِلُ فَمَا بَالُ الْمَقْتُولِ قَالَ إِنَّهُ أَرَادَ قَتْلَ صَاحِبِهِ . رواه البخاري في الصحيح , كتاب الفتن , باب إذا التقى المسلمان بسيفيهما: ٤/٣١٧ رقم ٧٠٨٣  — ‘যখন (হত্যা করার উদ্দেশ্যে) দুজন মুসলমান তাদের তরবারী নিয়ে পরষ্পরের মুখোমুখী হয়, তখন তাদের দুজনই দোযখের অধিবাসীর অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়। জিজ্ঞেস করা হল: এটা-তো হত্যাকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; নিহত ব্যাক্তির উপর কেনো আরোপিত হল? তিনি বললেন: (কারণ) সেও ওই ব্যাক্তিকে হত্যা করার ইচ্ছায় ছিল’। [সহিহ বুখারী- ৪/৩১৭ হাদিস ৭০৮৩]

ইমাম নববী রহ. বলে-  وأما كون القاتل والمقتول من أهل النار فمحمول على من لا تأويل له ، ويكون قتالهما عصبية ونحوها  – হত্যাকারী ও নিহত (উভয়ই) দোযখবাসী হবে -এটা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের (হত্যাকান্ডটির স্বপক্ষে শরয়ীসম্মত কোনো) ব্যাখ্যা নেই, (বরং তারা কুরআন-সুন্নাহ’য় কোন অবস্থায় কাকে হত্যা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে -সে ব্যাপারে সহিহ ইলম ব্যতীত নিছক তাদের মুর্খতা ও অজ্ঞতার ভিত্তেতি কোনো পার্থিব স্বার্থে বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে কোনো লড়াই বা হত্যাকান্ডে জড়িত হয়)। এমতাবস্থায় তাদের উভয়ের লড়াই বা হত্যাকান্ডটি হবে আসাবিয়াত (এলাকাপ্রীতি, জাতিপ্রীতি, গোত্রপ্রীতি) জাতীয় (পাপ)। [শারহু মুসলীম, নববী- ১৮/১৫] 

এক কথায়, আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল -এর মাধ্যমে যে অবস্থায় যার সাথে যে শর্ত সাপেক্ষে জিহাদ/কিতাল করার কিংবা কাউকে হত্যা করার অনুমতি দিয়েছেন, তা বাদে সকল প্রকার যুদ্ধ, দাঙ্গা, হত্যাকান্ডের প্রতিটি একেকটা ‘ফিতনা’ কিংবা ফ্যাসাদের অংশ বৈ নয়।

মুসলমানরা পরষ্পরে এরকম ফিতনা-ফ্যাদসাদে আজ জর্জরিত, আরব-অনারব কেউ বাকি নেই। কেউ হত্যাযজ্ঞে জড়িত হচ্ছে মানুষের রক্তের উপর বিজনেস করার জন্য, কেউ দেশ বা জাতিপ্রীতির জন্য, কেউ ইসলাম- বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র কায়েমের জন্য, আর কেউ-বা ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে নিরপরাধ মানুষের গলা কেটে মুজাহিদ সাজার জন্য, আর বুক ফুলিয়ে তাতে মাড়া যাওয়া লোকদেরকে বলছে ‘শহিদ’ !!!!

‘বুক ফুলিয়ে’ কথাটি এজন্য বললাম যে, এরা সবাই তাদের নিজ নিজ অবস্থানের উপর সন্তুষ্ট এবং গৌরবাহ্নিত বোধ করে থাকে যে, তারা খুব ভাল কাজ করছে। কিন্তু আসলে শরীয়তের সহিহ ইলম না থাকার কারণে তারা বুঝতে পারে না যে, তারা যে অবস্থায় যার সাথে যেভাবে যুদ্ধ, দাঙ্গা বা খুন-খারাবি’তে লিপ্ত হওয়াকে বৈধ মনে করে বসে আছে, সে অবস্থায় ওসব কাজ আল্লাহ’র দৃষ্টিতে বৈধ নয়। উপরের হাদিসে এদিকেই ইশারা করা হয়েছে- حَتَّى يَحْسَبَ أَحَدُكُمْ أَنَّهُ عَلَى شَيْءٍ وَلَيْسَ عَلَى شَيْءٍ – এমন কি (তখন) তোমাদের  কেউ (এমনও) মনে করবে যে, সে (যেন সেইরকম কোনো সঠিক ও গৌরবজনক) কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছে, কিন্তু (বাস্তবে সে আল্লাহ চোখে) কোনো কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) থাকবে না। (শয়তান তাদের পাপগুলোকে তাদের চোখে সুন্দর ও গৌরবজনক বানিয়ে ধোকা দিবে)। الله اعلم بالصواب

# আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ الصَّابِرُ فِيهِمْ عَلَى دِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ . رواه الترمذي, أبواب الفتن: حديث رقم ٢٢٦٠ , اسناده ضعيف و لكن هذا حديث صحيح لشواهده كما صححه الألباني في السلسلة الصحيحة: ٢/٦٨٢ رقم ٩٥٧; قال الحافظ : وقال الترمذي قاله البخاري مقارب الحديث كذا في تحفة الأحوذي – ‘মানুষের উপর এমন জামানা আসবে, যখন একজন ধৈর্যশীল ব্যাক্তির পক্ষে তার দ্বীনের উপর (কায়েম হয়ে) থাকাটা জ্বলন্ত কয়লাকে মুষ্টিবদ্ধ করে রাখনেওয়ার মতো (মনে) হবে’। [সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২২৬০]

# আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدْ اقْتَرَبَ ، فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا ، يَبِيعُ قَوْمٌ دِينَهُمْ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا قَلِيلٍ , الْمُتَمَسِّكُ يَوْمَئِذٍ بِدِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ ” ، أَوْ قَالَ : عَلَى الشَّوْكِ  . رواه الإمام أحمد في المسند, مُسْنَدُ الْعَشَرَةِ الْمُبَشَّرِينَ بِالْجَنَّةِ, بَاقِي مُسْنَد المُكْثِرِينَ مِنَ الصَّحَابَةِ : رقم ٩٠٤٩, و قال حمزة احمد الزين: ٩/٩٥ اسناده حسن – আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এমন এক (ঘন অন্ধকারময়) মন্দ ফিতনা ধেয়ে আসছে, (যার একেকটা) যেন রাতের অন্ধকারের ফালি/খন্ড। (সে সময়) লোকের সকাল হবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধা হবে কাফের অবস্থায়। (তখন) মানুষ দুনিয়ার সামান্য কোনো গরজে তাদের দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে। সে সময় দ্বীনকে আঁকড়ে-ধারনকারী ব্যাক্তি হবে জ্বলন্ত কয়লাকে মুষ্টিবদ্ধকারী অথবা বলেছেন শল্যধারনকারী ব্যাক্তির মতো’। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস৯/৯৫ হাদিস ৯০৪৯]

ফায়দা: উপরে উমায়ের বিন হানী আল-আনশী রহ. বর্ণিত সুনানে আবু দাউদের হাদিসটি ইংগীত করে যে, এই অবস্থা হবে ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র ভিতরে থাকা মুসলমানদের মধ্যে। সম্ভবতঃ কাফের মুনাফেকদের পক্ষ থেকে তাদের উপর জেঁকে বসা অসহনীয় জুলুম-অত্যাচারের কারণে তারা কখনো মুমিন থাকবে আবার কখনো কাফের হয়ে যাবে। অাবার ইমান বিরোধী আক্বীদা গ্রহন করা কিংবা জাহালাত ও বিবেকশুন্য উগ্রতার জোসে আল্লাহ’র হারামকৃত মুসলমানদের রক্ত, সম্পদ ও আব্রু’কে হালাল মনে করার কারণেও কাফের হয়ে যেতে পারে (যেমনটা ইমাম হাসান বসরী রহ. বলেছেন)। الله اعلم بالصواب

# আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا، وَيُمْسِي كَافِرًا، وَيُمْسِي مُؤْمِنًا، وَيُصْبِحُ كَافِرًا، الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ، وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي، فَكَسِّرُوا قِسِيَّكُمْ، وَقَطِّعُوا أَوْتَارَكُمْ، وَاضْرِبُوا سُيُوفَكُمْ بِالْحِجَارَةِ، فَإِنْ دُخِلَ – يَعْنِي – عَلَى أَحَدٍ مِنْكُمْ، فَلْيَكُنْ كَخَيْرِ ابْنَيْ آدَمَ . رواه أبو داود, كتاب الفتن والملاحم , باب في النهي عن السعي في الفتنة: رقم ٤٢٥٩ و صححه الألباني في “صحيح أبي داود: ٣/١١ ; و الترمذي: ٢٢٠٤ ; وابن ماجة: ٣٩٦١ صححه الألباني في “صحيح ابن ماجة: رقم ٣٩٦١ – ‘নিশ্চই কেয়ামতের আগে আগে (এমন এক) ফিতনা হবে, যেন রাতের (ঘনকালো) অন্ধকারের টুকড়া। (সে সময়) লোকের সকাল হবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধা হবে কাফের অবস্থায়। আবার সন্ধায় মু’মিন থাকলে সকালে হয়ে যাবে কাফের। (তখন) বসে থাকা ব্যাক্তি দাঁড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, দাঁড়ানো ব্যাক্তি হেটে চলা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। তখন তোমরা তোমাদের ধনুক ভেঙ্গে ফেলো, ধনুকের তারটিকে কেটে দিও এবং তোমাদের তরবারীকে পাথড় দিয়ে নষ্ট করে ফেলো। তখন কেউ যদি প্রবেশ করে -অর্থাৎ তোমাদের কারো কাছে আসে- তাহলে অবশ্যই আদমের দুই পুত্রের মধ্যে সর্বোত্তম জনের মতো হয়ে যেও’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৫৯; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২২০৪; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৬১]

# সা’দ বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرَ مَالِ المُسْلِمِ غَنَمٌ يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الجِبَالِ وَمَوَاقِعَ القَطْرِ، يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الفِتَنِ . رواه البخاري في صحيحه, كتاب الفتن. باب التعرب في الفتنة. رقم ٧٠٨٨; و النسائي: ٥٠٣٦; و ابن ماجة: ٣٩٨٠; و مالك في موطأ: ١٨١١; أحمد: ١٠٨٦١ – ‘অচিরেই (এমন জামানা আসবে) যে, (তখন দ্বীন নিয়ে মানব সমাজে বসবাস করা অনেক দ্বীনদার মুসলমানরে জন্য আগুনের কয়লা মুষ্টিবদ্ধ করে ধরে রাখার মতো সুকঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ফলে তখন) মুসলমানের সর্বোত্তম সম্পদ হবে (তার) বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের উঁচু স্থানে চলে যাবে এবং (বেঁচে থাকার মতো দানা) পানির ব্যবস্থা থাকা। সে (ধেয়ে আসা ঘন কালো অন্ধকারময়) ফিতনা থেকে (বাঁচার জন্য) তার দ্বীনকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াবে’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৭০৮৮; সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৫০৩৬; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৮০; মুআত্তা, ইমাম মালেক, হাদিস ১৮১১; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১০৮৬১]

ফায়দা: আমার ব্যাক্তিগত ক্ষুদ্র তাহক্বিক/গবেষনা মতে, বিংশ শতকে বসে আমরা ইরাক ও সিরিয়ায় সর্বজন ঘৃনীত সন্ত্রাসী গোষ্ঠি আইএস/দায়েশদ’দের দ্বারা যে ‘হারাজ’ ও ফিতনা হতে দেখছি, সেটা হল ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র প্রথম বা মাঝামাঝি পর্যায়। ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’র শেষ ভাগের শুরুতে যখন মুসলমান নারী পুরুষ ও শিশুদেরকে পাইকারী হারে কতল করা শুরু হবে, সম্ভবতঃ তখন মুমিন মুসলমানদের মধ্যে যারা দ্বীন বাঁচানোর স্বার্থে পাহাড়ের পাড়ে বা গুহায় কিংবা গুপ্ত কোনো আশ্রয়ে যেতে সমর্থ হবে, তাদের কথা বলা হচ্ছে। 

ইমাম আবু সুলইমান খাত্তাবী রহ. (মৃ: ২৮৮ হি:) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ النَّجَّادُ , قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ الْكُدَيْمِيُّ , قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْجُشَمِيُّ , قَالَ : حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ سَالِمٍ , قَالَ : حَدَّثَنَا السَّرِيُّ بْنُ يَحْيَى ، عَنِ الْحَسَنِ ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ , قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لا يَسْلَمُ لِذِي دِينٍ دِينُهُ إِلا مَنْ فَرَّ بِدِينِهِ مِنْ قَرْيَةٍ إِلَى قَرْيَةٍ , وَمِنْ شَاهِقٍ إِلَى شَاهِقٍ , وَمِنْ جُحْرٍ إِلَى جُحْرٍ كَالثَّعْلَبِ الَّذِي يَرُوغُ ” , قَالُوا : وَمَتَى ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ :  إِذَا لَمْ تُنَلِ الْمَعِيشَةُ إِلا بِمَعَاصِي اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ , فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ الزَّمَانُ حَلَّتِ الْعُزُوبَةُ , قَالُوا : وَكَيْفَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَقَدْ أَمَرْتَنَا بِالتَّزَوُّجِ ؟ قَالَ : ” لأَنَّهُ إِذَا كَانَ ذَلِكَ الزَّمَانُ كَانَ هَلاكُ الرَّجُلِ عَلَى يَدَيْ أَبَوَيْهِ ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ أَبَوَانِ فَعَلَى يَدَيْ زَوْجَتِهِ وَوَلَدِهِ ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ زَوْجَةٌ وَلا وَلَدٌ فَعَلَى يَدَيْ قَرَابَتِهِ , قَالُوا : وَكَيْفَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” يُعَيِّرُونَهُ بِضِيقِ الْمَعِيشَةِ فَيَتَكَلَّفُ مَا لا يُطِيقُ حَتَّى يُورِدَهُ مَوَارِدَ الْهَلَكَةِ . رواه أبو سليمان الخطابي فى العزلة, بَابُ : مَا جَاءَ فِي الْعُزْلَةِ:١/١٠ رقم ٩; قال الحافظ العراقي في “تخريج أحاديث الإحياء: ١/٣٧١ : ذكره الخطابي في “العزلة” من حديث ابن مسعود، والبيهقي في “الزهد” نحو من حديث أبي هريرة وكلاهما ضعيف  – ‘অবশ্যই মানুষের উপর (এমন একটি) জামানা আসবে, (যখন বদদ্বীনীর কারণে দ্বীন মতো চলা এত কঠিন হয়ে যাবে যে), দ্বীনদার ব্যাক্তির জন্য তার দ্বীনকে নিয়ে শিয়ালের কৌশলে পালানোর ন্যায় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে, এক চুড়া থেকে অন্য চুড়া’য় এবং এক পাহাড়ী-গুহা থেকে অন্য পাহাড়ী-গুহা’য় পালিয়ে ফেরা ছাড়া (কেউ তার দ্বীনকে) নিরাপদে রাখতে পারবে না। জিজ্ঞেস করা হল: সেটা কখন হবে -ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন: যখন (উপার্জনের উপায়-উপকরণের মধ্যে নাজায়েয বিষয় এত ব্যপকভাবে জড়িত থাকবে যে, তখন) আল্লাহ তাআলা’র (অসন্তুষ্টি ও) ক্রধ ব্যতীত আয়-রোজগার করা যাবে না। যখন এরকম জামানা হবে, তখন অবিবাহীত থাকাকে হালাল করে নিবে। বলা হল: সেটা কেমন করে হতে পারে -ইয়া রাসুলাল্লাহ, অথচ আপনি আমাদেরকে বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছেন!? তিনি বললেন: কারণ, যখন সেই জামানাটি আসবে, তখন পুরুষ তার পিতা-মাতার হাতে বরবাদ হয়ে যাবে। যদি সে তার পিতা-মাতার হাতে (বরবাদ) না হয়, তাহলে সে তার স্ত্রী ও সন্তানের হাতে (বরবাদ হবে)। যদি তার স্ত্রীর হাতেও না হয়, সন্তানের হাতে না হয়, তাহলে সে তার আত্বীয়-স্বজনের হাতে (বরবাদ হবে)। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: (সেটা) কেমন করে হবে -ইয়া রাসুলাল্লাহ! রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ বললেন: তারা তাকে (সামাজিকতার খাতিরে ভাল মানের) আয়-রোজগার করার জন্য কঠর পরিশ্রম করতে জোড়াজুড়ি করতে থাকবে, পরে তারা তার উপর (এমন মানুষিক ও সামাজিক) বোঝা চাপিয়ে দিবে, যা সে ধারন করতে পারবে না। অবশেষে সে (অর্থকড়ি উপার্জনের জন্য নাজায়েয ও) বরবাদীর উপকরনাদির দিকে ধাবিত হবে’। [আল-উযলাহ, ইমাম খাত্তাবী– ১/১০ হাদিস ৯; আল-যুহদুল কাবীর, বাইহাকী, হাদিস ৪৪৫] الله اعلم بالصواب

হুযাইফা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন-  وَاللَّهِ مَا أَدْرِي أَنَسِيَ أَصْحَابِي أَمْ تَنَاسَوْا وَاللَّهِ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قَائِدِ فِتْنَةٍ إِلَى أَنْ تَنْقَضِيَ الدُّنْيَا يَبْلُغُ مَنْ مَعَهُ ثَلَاثَ مِائَةٍ فَصَاعِدًا إِلَّا قَدْ سَمَّاهُ لَنَا بِاسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ وَاسْمِ قَبِيلَتِهِ . رواه أبو داود في سننه, كتاب الفتن والملاحم: رقم ٤٢٤٣, اسناده ضعيف كما في المشكاة لالالبانى: رقم ٥٣٩٣ – ‘আল্লাহ’র কসম, আমি জানি না আমার সাথিগণ ভুলে গেছেন নাকি (জামানার নাজুকতার কারণে) ভুলে যাওয়ার ভান করে আছেন। আল্লাহ’র কসম, রাসুলুল্লাহ ﷺ  (আমাদেরকে) একজন ফিতনা-প্রতিষ্ঠাতা -যার সাথে থাকবে তিন’শ জনের কিছু বেশি লোক – (তার কথা থেকে নিয়ে) কেয়ামত ধ্বংস হয়ে যাওয়া পর্যন্ত (উল্লেখযোগ্য কোনো কিছু বলা) বাদ রাখেন নি। শুধু তাই নয়, তিনি আমাদের কাছে তার নাম, তার পিতার নাম এবং তার এলাকার নামও বলে গেছেন’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৪৩]

ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে হুযাইফা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: حدثنا عبد الخالق بن يزيد الدمشقي عن أبيه عن مكحول عن حذيفة بن اليمان رضى الله عنه قال: ما من صاحب فتنة يبلغون ثلثمائة إنسان إلا ولو شئت أن أسميه باسمه واسم أبيه ومسكنه إلى يوم القيامة كل ذلك مما علمنيه رسول الله صلى الله عليه و سلم .قالوا بأعيانها قال أو أشباهها يعرفها الفقهاء أو قال العلماء إنكم كنتم تسألون رسول الله صلى الله عليه و سلم عن الخير وأسأله عن الشر وتسألونه عما كان وأسأله عما يكون . اخرجه نعيم بن حماد المروزي فى الفتن: رقم ١٨, قال مجدى بن منصور بن سيد الشوري: ص١٥ رقم ١٦: و عبد الخالق بن زيد الدمشقى: لين الحديث. قال البخارى: منكر الحديث. و قال النسائى: ليس بثقة  – ‘সাহেবুল-ফিতান (ফিতনার ধারক-বাহক) -কেয়ামত পর্যন্ত যাদের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে তিন’শ জনে -তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, আমি চাইলে যাদের প্রত্যেকের নাম, তার পিতার নাম এবং তার এলাকার নাম বলে দিতে না পারি’। এর সবই রাসুলুল্লাহ ﷺ  আমাকে জানিয়েছেন। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: (তাদের পরিচয়গুলি কি) একদম স্পষ্ট (যে, যে কেউ তাদেরকে চিনে নিতে পারবে)? তিনি বললেন: (না,) বরং (তাদের পরিচয়গুলো এমন ভাবে জানানো হয়েছে, যা) সাদৃশ্যপূর্ণ; ফকিহগণ (তথা দ্বীনের গভীর জ্ঞানীগণ) অথবা বলেছেন, আলেমগণ তাদেরকে চিনে নিতে পারবেন। তোমরা এমন ছিলে যে, তোমরা রাসুলুল্লাহ -কে জিজ্ঞেস করেতে কল্যান সম্পর্কে, আর অামি তাঁকে জিজ্ঞেস করতাম মন্দ সম্পর্কে। তোমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করেতে বর্তমান সম্পর্কে, আর অামি তাঁকে জিজ্ঞেস করতাম -সামনে কি হবে -সে সম্পর্কে। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ১৮]

# ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে হুযাইফা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করতে শুনেছি- حدثنا عبد القدوس عن عفير بن معدان قال : حدثنا قتادة قال: قال حذيفة: سمعت رسول اللّه صلّى اللّه عليه و سلّم يقول: ليخرجن من أمتى ثلاث مائة رجل معهم ثلاث مائة راية يعرفون و تعرف قبائلهم يبتغون وجه اللّه يقتلون على الضلالة . رواه نعيم بن حماد في الفتن: رقم ٢٠ , قال مجدى بن منصور بن سيد الشوري: ص١٥ رقم ١٧: إسناده منقطع أورده الهندى فى الكنز٣١١٥٤ و نسبه لنعيم فى الفتن. فيه: قتادة لم يسمع من حذيفة رضى اللّه عنه ; و اورده المتقي في كنز العمال”:١١/٢٧٥ رقم ٣١١٥٤ و قال وفيه عبد القدوس متروك – ‘ অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন তিন’শ জন ব্যাক্তির আবির্ভাব হবে, যাদের (সবার) সাথে (একটি করে মোট) তিন’শটি পতাকা থাকবে। তারা হবে (সমাজে) পরিচিতমুখ। তাদের এলাকাগুলো চেনাজানা হবে। তারা (তাদের কাজ দিয়ে) আল্লাহ’র সন্তুষ্টি অন্বেসন করবে, (কিন্তু বাস্তবে) তারা পথভ্রষ্ঠতার উপর নিহত হবে।’। [অাল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ– ২০; কাঞ্জুল উম্মাল- ১১/২৭৫ হাদিস ৩১১৫৪]

ফায়দা: এই রেওয়ায়েত থেকে অনুমিত হয়, এরা মুসলীম উম্মাহ’র মধ্যে তিন’শ জন ব্যাক্তি, যারা তাদের নিজ নিজ জামানায় গোটা উম্মাহকে নিয়ে এক পতাকার নিচে না থেকে উম্মাহকে ভিন্ন ভিন্ন পতাকা তলে বিভক্ত করে নিবে। এদের এসব কাজের পিছনে নিয়ত থাকবে আবার আল্লাহকে খুশি করা! কিন্তু তারা সবাই কারো না কারো হাতে নিহত হবে এবং তাদের মৃত্যু হবে পথভ্রষ্ঠতার উপর।   الله اعلم بالصواب

# হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন-  فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَنَفْسِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ ، يُكَفِّرُهَا الصِّيَامُ وَالصَّلَاةُ وَالصَّدَقَةُ ، وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ . رواه مسلم, كِتَاب الْفِتَنِ وَأَشْرَاطِ السَّاعَةِ , بَاب فِي الْفِتْنَةِ الَّتِي تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ: ٨/١٧٣   – ‘মানুষ ফিতনাগ্রস্ত হবে তার পরিবারের ব্যাপারে, তার ধ্বসম্পদের ব্যাপারে, তার নিজের ব্যাপারে, তার সন্তানের ব্যাপারে এবং তার প্রতিরেশির ব্যাপারে। তার রোযা, নামায, যাকাত/সাদাকাহ এবং আমর বিল মা’রুফ ও নাহি আনিল মুনকার এসবের কাফফারা হয়ে যাবে’। [সহিহ মুসলীম– ৮/১৭৩]