বদরপূর্ব গাজওয়া ও সারিয়া সমূহ – নবী ﷺ ও সাহাবাগণের জিহাদ ১

বদরপূর্ব গাজওয়া ও সারিয়া সমূহ – মহানবী ﷺ ও সাহাবায়ে কেরামের জিহাদ – ১ 

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته


>>> মূল সূচিপত্র (index) থেকে এ পেজের পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আলোচনা পড়তে [এখানে ক্লিক করুন


 
পূর্ব আলোচনার পর…

 

গাজওয়া (غَزْوَةٌ) ও সারিয়া (سَرِيَّةٌ) কী? এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও যদ্ধাভিজানের তালিকা 

গাজওয়া (غَزْوَةٌ): যে সকল জিহাদী অভিযানে রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজে সশরীরে অংশগ্রহন করেছেন এবং গোটা মুজাহিদ বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন, সে সকল জিহাদকে সিরাতের পরিভাষায় ‘গাজওয়া’ হিসেবে অবিহিত করা হয়ে থাকে -চাই সেই অভিয়ানে শেষপর্যন্ত যুদ্ধ সংঘটিত হোক চাই না হোক। নবুওতী জীবনে রাসুলুল্লাহ ﷺ সশরীরে মোট ২৭ টি গাজওয়ায় অংশ নিয়েছিলেন। 

সারিয়া (سَرِيَّةٌ) বা বা’স (بعث): আবার অনেক ক্ষেত্রে এমনও হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ কোনো কোনো অভিযানে নিজে সশরীরে অংশগ্রহন করেননি, বরং তিঁনি ছোট ছোট মুজাহিদ বাহিনীকে -দুশমনদের কোনো দলের বিপক্ষে- জিহাদী অভিযানের অংশ হিসেবে প্রেরণ করতেন কিংবা ইসলামের দুশমনদের পিছু ধাওয়া করা বা তাদের গতিবিধির উপরে নজরদারী করার জন্য পাঠাতেন, এ ধরনের ছোট ছোট অভিযানকে সিরাতের পরিভাষায় ‘সারিয়া’ বা ‘বা’স’ হিসেবে অবিহিত করা হয় –চাই শেষপর্যন্ত সেই অভিয়ানের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হোক চাই না হোক।। সারিয়ায় প্রেরিত সৈন্যবাহিনীর লোকবল সাধারণত সংখ্যায় অল্প হত, কারণ সারিয়া প্রেরণের উদ্দেশ্য হত মূলত: দুশমনদের ছোট ছোট দলের উপরে বিক্ষিপ্ত ভাবে আক্রমন চালানো, যেটা কখনো কখনো হত দুশমনদের সাথে ছোটখাটো যুদ্ধ বা সংঘর্ষ আকারে, কখনো কখনো দুশমনদের অর্থনৈতিক শক্তির অবক্ষয় ঘটানোর জন্য তাদের কাফেলার উপরে আক্রমন চালিয়ে তা ইসলামী খিলাফতের নিয়ন্ত্রনে নেয়ার উদ্দেশ্যে, কখনো দুশমনদের কোনো দলের পিছু ধাওয়া দিয়ে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে। [ফি জিলালিস সিরাহ, আবু ফারিস- পৃষ্ঠা ১২]

গাজওয়া (غَزْوَةٌ) ও সারিয়া (سَرِيَّةٌ)-এর মোট সংখ্যা কত -তা নির্ণয়ের ব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনার কারণ  

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অংশগ্রহনকৃত গাজওয়া’র সংখ্যা এবং তাঁর প্রেরিত বিভিন্ন ‘সারিয়া’র সংখ্যা নির্ণয়ে আলেমগণের মাঝে মতভিন্নতা রয়েছে। 

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অংশগ্রহনকৃত গাজওয়া’র সংখ্যা ১৯ টি’র কথা বলেছেন যায়েদ ইবনে আরকাম রা.; ২১ টি’র কথা বলেছেন যাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. এবং সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যেব; আর ২৭ টি’র কথা বলেছেন বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইসহাক, ইমাম ওয়াকিদী, ইমাম ইবনে সা’দ, ইমাম ইবনুল যাওজী প্রমুখ।      

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রেরণকৃত সারিয়া’র সংখ্যা ৩৫ টি’র কথা বলেছেন ইমাম ইবনু আব্দিল বার রহ.; ৩৮ টি’র কথা বলেছেন ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইসহাক; আর ৪০ টি’র কথা বলেছেন ইমাম ইবনে সা’দ রহ., ৪৮ টি’র কথা বলেছেন ইমাম ওয়াকিদী রহ., এবং ৫৬ টি’র কথা বলেছেন ইমাম ইবনুল যাওজী রহ.। 

গাজওয়া এবং সারিয়া’র সংখ্যা নির্ণয়ে ঐতিহাসিক আলেমগণের মাঝে এসব মতভিন্নতার অনেক কারণ চিহ্নিত করেছেন। যেমন: (১) কোনো কোনো গাজওয়া বা সারিয়া সম্পর্কে বর্ণনাকারীর কাছে ইলম না পৌছানো, (২) কোনো গাজওয়া এবং সারিয়া পরষ্পর নিকটতম সময়ে সংঘটিত হওয়ায় কেউ কেউ দুই বা ততধিক অভিযানকে একই অভিযান মর্মে গণ্য করে হিসেব করেছেন, আবার কেউ কেউ সেগুলোকে আলাদা আলাদা করে হিসেবে ধরেছেন, (৩) কেউ কেউ মাত্র দুজন/তিন জনের সমহ্নয়ে প্রেরিত জামাআতকেও সারিয়া হিসেবে গণ্য করেছেন, কেউ কেউ সেগুলোকে সারিয়া হিসেবে গণ্য করেননি বরং বিচ্ছিন্ন অভিযান হিসেবে গণ্য করেছেন, ইত্যাদি। এধরনের বিভিন্ন কারণে ঐতিহাসিকদের মাঝে গাজওয়া এবং সারিয়া’র সংখ্যা গণনায় কম বেশি হয়েছে। [শারহু মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ, যুরকানী- ২/২২০]

বদরপূর্ব উল্লেখযোগ্য কিছু গাজওয়া (غَزْوَةٌ) ও সারিয়া (سَرِيَّةٌ)-এর বিবরণ 

বলাবাহুল্য, গাজওয়া হোক বা সারিয়া -এখানে সবগুলো জিহাদী অভিযানের কথা বিস্তারিত উল্লেখ করা সম্ভব নয়। আমরা এখানে নমুনা স্বরূপ ইল্লেখযোগ্য গাজওয়া এবং সারিয়া’র ব্যাপারে কিছু কথা আরোজ করবো, যাতে জিহাদ বিষয়ক আমাদের আলোচনা ও আনুসঙ্গিক মাসলা মাসায়েল বোঝা পাঠকবৃন্দের জন্য সহজ হয়।

সারিয়ায়ে সাইফুল বাহর (سرية سيف البحر)

রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর মদিনায় হিজরতের প্রায় তিন মাস পর, তথা ১ম হিজরীর রামাযান মাস (মোতাবেক মার্চ ৬২৩ খৃষ্টাব্দ)-এ  তিঁনি তাঁর চাচা হামযা বিন আব্দিল মুত্তালিব রা.-এর নেতৃত্বে প্রায় ৩০ জন মুহাজির সাহাবীগণের সমন্নয়ে গঠিত একটি মুজাহিদ বাহিনীকে আরবের ঈস (العِيْص)’ নামক সমূদ্র উপকুলে অবস্থিত ‘সাইফুল বাহর’-এর দিকে (যা মদিনা থেকে দক্ষিন-পশ্চিমে প্রায় ২৫০ কি:মি: দূরে অবস্থিত, সেখানে) প্রেরণ করেন। উদ্দেশ্য ছিল, মক্কার বিশিষ্ট নেতা আবু জাহল  ইবনে হিশাম-এর নেতৃত্বাধীন প্রায় ৩০০ জন মুশরিকের একটি কাফেলাকে হামলা করা, যা সুদূর শাম থেকে ওই এলাকা দিয়েই মক্কার দিকে যাওয়ার কথা ছিল। যখন ‘সাইফুল বাহর’ এলাকায় উভয় পক্ষ মুখোমুখি হল, তখন জুহাইনা গোত্রের নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তি মাজদী ইবনে আমর জুহানী -যে উভয় পক্ষের সাথেই চুক্তিবদ্ধ ছিল- সে সামনে এগিয়ে আসে। যার ফলে সেদিন কোনো যুদ্ধ বা সংঘর্ষ ছাড়াই উভয় দল নিজ নিজ গন্তব্যস্থলে ফিরে আসে; মুশরিকরা মক্কায় এবং মুজাহিদগণ মদিনায়। [কিতাবুল মাগাজী, ইমাম ওয়াকিদী- ১/৯; সিরাতে ইবনে হিশাম- ১/৫৯৫; আর-রাউজুল উনফ, ইমাম সুহাইলী- ৫/৪৩; যাদুল মাআদ, ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম- ৩/১৪৬;  শারহু মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ, যুরকানী- ২/২২৯; সিরাতে হালাবিয়্যাহ- ৩/২১৪; আর-রাহীকুল মাখতুম- ১/১৫৩]

সারিয়ায়ে রাবিগ (سرية رابغ)

রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর মদিনায় হিজরতের প্রায় আট মাস পর, তথা ১ম হিজরীর শাওয়াল মাস (মোতাবেক এপ্রিল ৬২৩ খৃষ্টাব্দ)-এ উবায়দাহ বিন হারিছ রা.-এর নেতৃত্বে প্রায় ৬০/৮০ জন মুহাজির সাহাবীগণের সমন্নয়ে গঠিত একটি অশ্বারোহি মুজাহিদ বাহিনীকে আরবের ‘রাবিগ’ এলাকায় প্রেরণ করেন। এ অভিযানের সাদা পতাকা দেয়া হয় মিসতাহ বিন আছাছাহ রা.-এর হাতে। মুজাহিদগণ সেখানে পৌছলে তাঁরা মুখামুখী হন মক্কার মুশরেকদের ঘোর-সওয়ার ও পদাতিক মিলে প্রায় ২০০ জন সৈন্যের সাথে, যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল আবু সুফিয়ান বিন হারব (অথবা ইকরামাহ বিন আবু জাহল কিংবা মিকরায বিন হাফস)। সেদিনও উভয় পক্ষের মাঝে কোনো যুদ্ধ বা সংঘর্ষ হয়নি। মুসলমানদের পক্ষ থেকে শুধু সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস রা. একটি তীর নিক্ষেপ করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, সা’দ রা.-ই হলেন প্রথম মুসলমান, যিনি জিহাদের অভিযানে ইসলামে দুশমনকে উদ্দেশ্য করে প্রথম তীর নিক্ষেপ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। সেদিন মিকদাদ বিন আমর রা. এবং উৎবা বিন গাযওয়ান রা. নামের দু’জন মুসলমানও মুশরেকদের কাফেলার সাথে এসেছিলেন, যাঁরা মুশরেকদের কড়া নজরদারী ও নিয়ন্ত্রনের কারণে এর আগে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করতে পারেননি। তাঁদের দুজনেরই উদ্দেশ্য ছিল, সুযোগ বুঝে মদিনা থেকে আগত মুসলমানদের দলে শামিল হয়ে যাওয়া। উভয় পক্ষ যখন মুখোমুখী হয়, তখন তাঁরা দুজনেই সুযোগ বুঝে মুসলমানদের দলে এসে শামিল হয়ে যান। [সিরাতে ইবনে হিশাম- ১/৫৯১; কিতাবুল মাগাজী, ইমাম ওয়াকিদী- ১/১০; আত-ত্ববাক্বাত, ইবনে সা’দ- ২/৪; আর-রাউজুল উনফ, ইমাম সুহাইলী- ৫/৪৩; উয়ূনুল আছার, ইবনু সাইয়্যেদুন নাস- ১/২৫৯; যাদুল মাআদ, ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম- ৩/১৪৭; সিরাতে হালাবিয়্যাহ- ৩/১৩৫;  শারহু মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ, যুরকানী- ২/২২৬; আর-রাহীকুল মাখতুম- ১/১৫৩]

সারিয়ায়ে খাররার (سرية الخرّار)

রাসুলুল্লাহ ﷺ ১ম হিজরীর যুল-ক্বা’দাহ মাস (মোতাবেক মে ৬২৩ খৃষ্টাব্দ)-এ সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস রা.-এর নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন মুহাজির সাহাবীগণের সমন্নয়ে গঠিত একটি পদাতিক মুজাহিদ বাহিনীকে প্রেরণ করেন। এ অভিযানের সাদা পতাকা দেয়া হয় মিক্বদাদ বিন আমর রা.-এর হাতে। মুজাহিদ বাহিনীটি পায়ে হেটে হেটে সফর করছিলেন, তাঁরা দিনে কোথাও বিশ্রাম করতেন এবং রাতে সফর করে করে এগুতেন, এভাবে কয়েকদিন অতিক্রান্ত হবার পর পঞ্চমদিন সকালে আরবের ‘খাররার’ এলাকায় গিয়ে পৌঁছলে তাঁরা জানতে পারেন যে, মক্কার মুশরিকদের কাফেলাটি ততক্ষনে ওই স্থান অতিক্রম করে মাক্কাভিমুখে নাগালের বাইরে চলে গেছ। ফলে তাঁরা মদিনায় ফিরে আসেন। [কিতাবুল মাগাজী, ইমাম ওয়াকিদী- ১/১১; সিরাতে ইবনে হিশাম- ১/৬০০; আত-ত্ববাক্বাত, ইবনে সা’দ- ২/৪; তারিখুল উমাম, ইমাম তাবারী- ২/৪০৪; জাওয়ামিউস সিরাহ, ইমাম ইবনে হাযাম- ১/৭৮; আর-রাউজুল উনফ, ইমাম সুহাইলী- ৫/৫১; উয়ূনুল আছার, ইবনু সাইয়্যেদুন নাস- ১/২৬২; যাদুল মাআদ, ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম- ৩/১৪৭; শারহু মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ, যুরকানী- ২/২২৮; সিরাতে হালাবিয়্যাহ- ৩/২১৬; আর-রাহীকুল মাখতুম- ১/১৫৩]

গাজওয়ায়ে আবওয়া/ওয়াদ্দান (غزوة الأبواء أو ودّان)

মক্কার কুরায়েশদের একটি বাণিজ্য কাফেলা মক্কা থেকে শাম-এর দিকে রওনা হয়েছে মর্মে সংবাদ জানতে পেরে রাসুলুল্লাহ ﷺ ২য় হিজরীর সফর মাস (মোতাবেক আগষ্ট ৬২৩ খৃষ্টাব্দ)-এর প্রারম্ভে তিঁনি নিজ নেতৃত্বে প্রায় ৬০ জন মুহাজির সাহাবা’র সমন্নয়ে গঠিত একটি মুজাহিদ বাহিনীকে সঙ্গে করে ওই কাফেলাটির উপরে আক্রমন করার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। রওনা হবার আগে তিঁনি সা’দ বিন উবাদাহ রা.-কে মদিনার ভারপ্রাপ্ত গভর্ণর হিসেবে নিযুক্ত করে যান। এ অভিযানে যুদ্ধের সাদা পতাকা দেয়া হয় হামযা বিন আব্দিল মুত্তালিব রা.-এর হাতে। রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন মুজাহিদ বাহিনীকে নিয়ে মদিনা থেকে দক্ষিন-পশ্চিম দিকে এগুতে এগুতে (প্রায় ২৫০ কি:মি: দূরে অবস্থিত) ‘আবওয়া’ এলাকায় গিয়ে পৌছেন, তখন জানতে পারেন যে, কুরায়েশ’দের ওই কাফেলাটি ততক্ষনে ওই স্থান অতিক্রম করে মাক্কাভিমুখে নাগালের বাইরে চলে গেছ। আরবের ‘ওয়াদ্দান’ এলাকটি ‘আবওয়া’ থেকে মাত্র ছয়/আট মাইলের মতো দূরে বিধায়, এই অভিযানকে গাজওয়ায়ে ওয়াদ্দানও বলা হয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ পনের দিন পর কোনো রকম  রক্তপাত ছাড়াই এ যুদ্ধাভিযান থেকে মদিনায় ফিরে আসেন। তবে আসার পথে তিঁনি সেখানে ‘বনু দ্বামরাহ’ (بنو ضمرة) গোত্রের সর্দার মাখশী বিন আমর-এর সাথে একটি সন্ধি-চুক্তি করে এসেছিলেন। বস্তুত: এটাই ছিল রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সশরীরে অংশগ্রহন করা তাঁর জীবনের প্রথম জিহাদী অভিযান। [আনসাবুল আশরাফ, ইমাম বালাযুরী- ১/২৮৭; সিরাতে ইবনে হিশাম- ১/৫৯১; কিতাবুল মাগাজী, ইমাম ওয়াকিদী- ১/১২; আত-ত্ববাক্বাত, ইবনে সা’দ- ২/৫; আস-সিরাতুন নাববিয়্যাহ, ইমাম ইবনে হিব্বান- ১/১৫৩; আর-রাউজুল উনফ, ইমাম সুহাইলী- ৫/৩৭; উয়ূনুল আছার, ইবনু সাইয়্যেদুন নাস- ১/২৫৯; আল-কামেল, ইবনুল আছীর- ২/১০; তারিখুল ইসলাম, ইমাম যাহবী- ১/২২; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির- ৩/২৪২; ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার- ৭/২১৭; শারহু মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ, যুরকানী- ২/২২৯; আর-রাহীকুল মাখতুম- ১/১৫৩; তোহফায়ে নু’মানী- ২৩ পৃষ্ঠা]

ওই সন্ধি-চুক্তিটিতে লিখা ছিল بسم الله الرحمن الرحيم، هذا كتاب من محمد رسول الله، لبني ضمرة: بأنهم آمنون على أموالهم وأنفسهم، وأنّ لهم النصر على من رامهم، إلا أن يحاربوا في دين الله ما بل بحر صوفة. وإن النبي إذا دعاهم لنصره أجابوه. عليهم بذلك ذمّة الله وذمّة رسوله. ولهم النّصر على من برّ منهم وأتّقى. اورده السهيلي في الروض الأنف في تفسير السيرة النبوية لابن هشام: ٣/٤٢ ، و محمد حميد الله الحيدر آبادي الهندي في مجموعة الوثائق السياسية للعهد النبوي والخلافة الراشدة ، فهرس الكتاب، القسم الثاني العهد النبوي بعد الهجرة، معاهدة مع بني ضمرة : ص ٢٦٦ رقم ١٥٩– “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম (দয়াময় করুনাময় আল্লাহ’র নামে শুরু করছি)। এই (সদ্ধি-চুক্তি)পত্রটি আল্লাহ’র রাসুল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে বনু দ্বামরাহ (গোত্রের) জন্য (লিখিত হচ্ছে)। তারা যদি আল্লাহ’র দ্বীন (ইসলাম)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে না নামে, তাহলে তাদের জান ও মাল সমূহ (মুসলমানদের হাত থেকে) নিরাপদ থাকবে, আর তাদের বিরুদ্ধে যারা নামবে (তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য মুসলমানরা এই বনু দ্বামরাহ গোত্রকে সথাসাধ্য) সাহায্য করবে। (এ সন্ধিচুক্তি ততদিন পর্যন্ত) বহাল থাকবে, যাবৎ না সমূদ্র শুকিয়ে যায়। আর নবী (মুহাম্মাদ) যদি তাদেরকে তাঁর (দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের) সাহায্যার্থে (কখনো) আহবান জানায়, তাহলে তারা যদি তাঁর আহবানে সারা দেয়, তাহলে এপ্রেক্ষিতে তাদের উপরে থাকবে আল্লাহ’র জিম্মাদারী ও তাঁর রাসুলের জিম্মাদারী। আর যারা তাদের মধ্যে সৎকর্মশীল ও দায়িত্বে-যত্নবান থাকবে তাদেরকে সাহায্য করা হবে”। [আর-রাউজুল উনফ, ইমাম সুহাইলী- ৫/৫২; সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফি সিরাতি খাইরিল ঈবাদ, ইমাম সালিহী- ৪/১৫; সিরাতুল হাবাবিয়্যাহ, ইমাম হালাবী- ২/১৭৪; মাজমুআতুল ওয়াছায়িকিস সিয়াসিয়াতি লি-আহাদিন নাবুউয়ী ওয়া খিলাফাতির রাশিদাহ, ড. হামিদুল্লাহ- ১৬০ পৃষ্ঠা/পত্র নম্বর ১৫৯ ; কিতাবুস সুন্নাহ, সাইয়্যেদ সাবেক- ২/৭০৫] 

গাজওয়ায়ে বুওয়াত্ব (غزوة بواط)

মক্কার কুরায়েশদের একটি বিশাল বাণিজ্য কাফেলা শাম থেকে মক্কার দিকে রওনা হয়েছে মর্মে সংবাদ জানতে পেরে রাসুলুল্লাহ ﷺ ২য় হিজরীর ‘রাবিউল আউয়াল’ (বা ‘রাবিউস ছানি’) মাস (মোতাবেক সেপ্টেম্বর/অক্টোবর ৬২৩ খৃষ্টাব্দ)-এ তিঁনি নিজ নেতৃত্বে প্রায় ২০০ জন মুহাজির সাহাবা’র সমন্নয়ে গঠিত একটি মুজাহিদ বাহিনীকে সঙ্গে করে ওই কাফেলাটির উপরে আক্রমন করার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। রওনা হবার আগে তিঁনি মুহাজির সাহাবী সাইব বিন উসমান বিন মাযউন রা. (কিংবা সা’দ ইবনে মুয়ায রা.)-কে মদিনার ভারপ্রাপ্ত গভর্ণর হিসেবে নিযুক্ত করে যান। এ অভিযানে যুদ্ধের সাদা পতাকা দেয়া হয় সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস রা.-এর হাতে। কুরায়েশদের ওই কাফেলায় লোকসংখ্যা ছিল প্রায় একশজনের মতো, যাদের মধ্যে উমাইয়্যাহ বিন খালফও ছিল, আর তাদের সাথে ছিল প্রায় আড়াই হাজার উট। রাসুলুল্লাহ ﷺ মুজাহিদ বাহিনীকে নিয়ে (মদিনা থেকে পশ্চিম দিকে) এগুতে এগুতে যখন (প্রায় ৭৫ কি:মি: দূরে অবস্থিত) ‘বুওয়াত্ব’ এলাকায় গিয়ে পৌছেন, তখন জানতে পারেন যে, কুরায়েশ’দের ওই কাফেলাটি ততক্ষনে ওই স্থান অতিক্রম করে মাক্কাভিমুখে নাগালের বাইরে চলে গেছ। ফলে তিঁনি মুজাহিদ বাহিনীকে নিয়ে মদিনায় ফিরে আসেন। [আনসাবুল আশরাফ, ইমাম বালাযুরী- ১/২৮৭; কিতাবুল মাগাজী, ইমাম ওয়াকিদী- ১/১২; সিরাতে ইবনে হিশাম- ১/৫৯৮; আত-ত্ববাক্বাত, ইবনে সা’দ- ২/৫; আর-রাউজুল উনফ, ইমাম সুহাইলী- ৫/৪৯; উয়ূনুল আছার, ইবনু সাইয়্যেদুন নাস- ১/২৬২; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির- ৩/২৪৬; শারহু মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ, যুরকানী- ২/২৩১; আর-রাহীকুল মাখতুম- ১/১৫৩; তোহফায়ে নু’মানী (মাগাযীয়ে বুখারী)- ২৫ পৃষ্ঠা]

গাজওয়ায়ে যুল-উশাইরাহ (غَزْوَةُ ذى العُشيرة)

মক্কার কুরায়েশ নেতা আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে তাদের একটি বিশাল বাণিজ্য কাফেলা মক্কা থেকে শাম-এর দিকে রওনা হয়েছে মর্মে সংবাদ জানতে পেরে রাসুলুল্লাহ ﷺ ২য় হিজরীর ‘জমাদিউল আউআল’ (বা ‘জমাদিউছ ছানি’) মাস (মোতাবেক নভেম্বর/ডিসেম্বর ৬২৩ খৃষ্টাব্দ)-এ তিঁনি নিজ নেতৃত্বে প্রায় ১৫০/২০০ জন মুহাজির সাহাবা’র সমন্নয়ে গঠিত একটি মুজাহিদ বাহিনীকে সঙ্গে করে ওই কাফেলাটির উপরে আক্রমন করার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। এসময় তিঁনি প্রায় ৩০টি উট সঙ্গে নেন, যাতে মুজাহিদগণ পালাক্রমে তাতে আরোহন করে করে সফর করতে পারেন। রওনা হবার আগে তিঁনি আবু সালামাহ ইবনু আব্দিল আসাদ আল-মাখযুমী রা.-কে মদিনার ভারপ্রাপ্ত গভর্ণর হিসেবে নিযুক্ত করে যান। এ অভিযানে যুদ্ধের সাদা পতাকা দেয়া হয় হামযা বিন আব্দিল মুত্তালিব রা.-এর হাতে। রাসুলুল্লাহ ﷺ মুজাহিদ বাহিনীকে নিয়ে (মদিনা থেকে পশ্চিম দিকে) এগুতে এগুতে যখন (প্রায় ৪০ কি:মি: দূরে অবস্থিত) ইয়াম্বু’র পার্শ্ববর্তী ‘যুল উশাইরা’ এলাকায় গিয়ে পৌছেন, তখন জানতে পারেন যে, কুরায়েশদের ওই কাফেলাটি কয়েকদিন আগেই ওই স্থান অতিক্রম করে শাম অভিমুখে নাগালের বাইরে চলে গেছ। কিন্তু রাসুলুল্লাহ ﷺ তখনই মদিনায় ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা না দিয়ে ‘জমাদিউল আউয়াল’-এর বাকি দিনগুলো এবং ‘জমাদিউস ছানি’র কিছু দিন ‘যুল উশাইরা’ এলাকাতেই অবস্থান করেন (সম্ভবত: তিঁনি কাফেলাটির ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন)। এ সময় রাসুলুল্লাহ ﷺ সেখানে ‘বনু মুদলিজ’ (بنو مدلج) গোত্রের সাথেও সন্ধিচুক্তি সম্পাদন করেন, এরপর মনিদায় ফিরে আসেন। (উল্লেখ্য: কুরাইশদের এই কাফেলাটি যখন আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে শাম থেকে ফিরে আসতে থাকে, তখন এদেরকে কেন্দ্র করেই এঘটনার প্রায় তিন মাস পর (২য় হিজরীর ‘রামাযান’ মাসে) ইসলামের সুমহান ‘বদর জিহাদ’ সংঘটিত হয়, যার আলোচনা আমরা সামনের কোনো পৃষ্ঠায় বিস্তারিত উল্লেখ করবো)। [সিরাতে ইবনে হিশাম- ১/৫৯৮; কিতাবুল মাগাজী, ইমাম ওয়াকিদী- ১/১২; আনসাবুল আশরাফ, ইমাম বালাযুরী- ১/২৮৭; আত-ত্ববাক্বাত, ইবনে সা’দ- ২/৬; আর-রাউজুল উনফ, ইমাম সুহাইলী- ৫/৪৯; উয়ূনুল আছার, ইবনু সাইয়্যেদুন নাস- ১/২৬৩; যাদুল মাআদ, ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম- ৩/১৬৬; তারিখুল ইসলাম, ইমাম যাহাবী- ২/৪৭; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির- ৩/২৪৬; ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার- ৭/২১৮; সিরাতুল হাবাবিয়্যাহ, ইমাম হালাবী- ২/১৭৫; শারহু মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ, যুরকানী- ২/২৩১; আর-রাহীকুল মাখতুম- ১/১৫৩; তোহফায়ে নু’মানী (মাগাযীয়ে বুখারী)- ২৭ পৃষ্ঠা]

গাজওয়ায়ে সাফওয়ান/বদরে উলা (غَزْوَةُ سَفْوان أو غَزْوَةُ بَدْرٍ الْأُولَى)

‘গাজওয়ায়ে যুল-উশাইরা’ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর রাসুলুল্লাহ ﷺ মদিনায় অবস্থান করছিলেন, এরই প্রায় ১০ দিন যেতে না যেতেই কুরাইশদের এক নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তি কুরয ইবনে যাবির আল-ফিহরী এক রাতে মদিনার চারণ ভূমিতে আক্রমন চালিয়ে কিছু উট ও ছাগল লন্ঠন করে নিয়ে চলে যায়। রাসুলুল্লাহ ﷺ এ খবর জানতে পেরে, ২য় হিজরীর জমাদিউল আউআল’ বা ‘জমাদিউছ ছানি’ মাস (মোতাবেক নভেম্বর/ডিসেম্বর ৬২৩ খৃষ্টাব্দ)-এ  তিঁনি নিজ নেতৃত্বে প্রায় ৭০ জন মুহাজির সাহাবা’র সমন্নয়ে গঠিত একটি মুজাহিদ বাহিনীকে সঙ্গে করে ওই লন্ঠনকারী দলটিকে ধরার জন্য এগুতে থাকেন। রওনা হবার আগে তিঁনি যায়েদ বিন হারিসাহ রা.-কে মদিনার ভারপ্রাপ্ত গভর্ণর হিসেবে নিযুক্ত করে যান। মুজাহিদ বাহিনীর পতাকা দেয়া হয়েছিল আলী বিন আবি তালিব রা.-এর হাতে। তাঁরা মদিনা থেকে দক্ষিন পশ্চিম দিকে এগুতে এগুতে যখন (প্রায় ১৫০ কি:মি: দূরে অবিস্থত) ‘সাফওয়ান’ এলাকা পর্যন্ত গিয়ে পৌছেন, তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ জানতে পারেন যে, কুরয ইবনে যাবির আল-ফাহরী ততক্ষনে মক্কাভিমুখে নাগালের বাইরে চলে গেছে। ফলে ‍তিঁনি মদিনায় ফিরে আসেন। সাফওয়ান এলাকাটি বদরের পাশ্ববর্তী এলাকা হওয়ায় একে ‘গাজওয়ায়ে বদরে উলা’ (প্রথম বদর যুদ্ধাভিযান)ও বলা হয়ে থাকে। [সিরাতে ইবনে হিশাম- ১/৬০১; আত-ত্ববাক্বাত, ইবনে সা’দ- ২/৬; জাওয়ামিউস সিরাহ, ইমাম ইবনে হাযাম– ১/৭৮; আর-রাউজুল উনফ, ইমাম সুহাইলী- ৫/৫১; উয়ূনুল আছার, ইবনু সাইয়্যেদুন নাস- ১/২৬৩; তারিখুল ইসলাম, ইমাম যাহাবী- ২/৪৮; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির- ৩/২৪৭; শারহু মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ, যুরকানী- ২/২৩৬; সিরাতুল মুস্তাফা, ইদ্রিস কান্দালাভী- ২/৪৯; তোহফায়ে নু’মানী (মাগাযীয়ে বুখারী)- ২৯ পৃষ্ঠা] 

উল্লেখ্য, কুরয ইবনে যাবির আল-ফাহরী রা. পরবর্তীতে ইসলাম কবুল করেন। ত্বাবরাণীর রেওয়ায়েতে আছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন উরাইনীদের পশ্চাদ্ধাবনের জন্য ২০ জন অশ্বারোহী মুজাহিদকে প্রেরণ করেছিলেন তখন এই কুরয ইবনে যাবির আল-ফাহরী রা.-কেই বাহিনী-প্রধান বানিয়ে পাঠিয়েছিলেন। পরে মক্কা বিজয়ের দিন তিঁনি মুশরেকদের হাতে শহিদ হয়ে যান। [উসদুল গাবাহ, ইবনুল আছীর- ৪/৪৪৩ নম্বর ৪৪৪৯; আল-ইসাবাহ, ইবনে হাজার- ৩/২৯০] 

সারিয়ায়ে নাখলাহ (سرية نخلة)

রাসুলুল্লাহ ﷺ ২য় হিজরীর রজব মাস (মোতাবেক জানুয়ারী ৬২৪ খৃষ্টাব্দ)-এ আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ আল-আসাদী রা.-এর নেতৃত্বে প্রায় ৮/১২ জন মুহাজির সাহাবীগণের সমন্নয়ে গঠিত একটি ক্ষুদ্র বাহিনীকে মক্কা থেকে দক্ষিনে ‘মক্কা ও তায়েফ’-এর মধ্যবর্তীে একটি স্থানে অবস্থিত ‘নাখলাহ’ উপত্যকার দিকে প্রেরণ করেন, যাতে তাঁরা সেখান থেকে মক্কার মুশরেকদের গতিবিধি সম্পর্কে খবরাখবর যোগার করতে পারেন। এই বাহিনীটিকে পাঠানোর আগে রাসুলুল্লাহ ﷺ, আব্দুল্লাহ বিন জাহাশ আল-আসাদী রা.-এর কাছে একটি পত্র হস্তান্তর করে এই নির্দেশ দেন যে, এ সফরের দুই দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত যেন পত্রটি খোলা না হয়। আব্দুল্লাহ বিন জাহাশ রা. এই নির্দেশ মোতাবেক দু’দিন পার হওয়ার পর পত্রটি কুলে দেখেন যে, তাতে লিখা আছে- إِذَا نَظَرْتَ فِي كِتَابِي فَامْضِ حَتَّى تَنْزِلَ نَخْلَةَ بَيْنَ مَكَّةَ وَالطَّائِفِ فَتَرْصُدَ بِهَا قُرَيْشًا وَتَعْلَمَ لَنَا مِنْ أَخْبَارِهِمْ – “(হে ইবনে জাহাশ!) তুমি যখন আমার (এ) পত্রটির মধ্যে দৃষ্টি বুলাবে, তখন (তোমার দায়িত্ব হবে এই যে, তুমি তোমার সাথিদেরকে নিয়ে) সামনে অগ্রসর হতে থাকবে যতক্ষন পর্যন্ত না মক্কা ও ত্বায়েফের মধ্যবর্তী (এলাকা) নাখলা’য় গিয়ে অবতরন করো। তুমি সেখানে কুরায়শদের জন্য অপেক্ষা করবে এবং তাদের খবরাখবর আমাদেরকে জানাতে থাকবে”। [আল-মু’জামুল কাবীর, ইমাম তাবরানী- ]

কিন্তু ঘটনাক্রমে রজব মাসের শেষ তারিখে কুরায়েশদের একটি বাণিজ্য কাফেলা শাম থেকে ওই দিক হয়েই মক্কার দিকে আসছিল। মুজাহিদ বাহিনী ওই কাফেলাটির উপরে আক্রমন করে বসেন। ওয়াকিদ বিন আব্দুল্লাহ রা. ওই কাফেলার প্রধান আমর বিন হাযরামী’কে উদ্দেশ্য করে একটি তীর নিক্ষেপ করেন, যার ফলে সে মাড়া যায়। সে মৃত্যুবরন করা মাত্রই কাফেলার মধ্যে হৈচৈ শুরু হয়ে যায় এবং তারা পালাতে আরম্ভ করে। তখন মুসলমানগণ কাফেলাটির সকল ধ্বনসম্পদ গণিমত হিসেবে করায়ত্ত করে নেন এবং ওদের মধ্যে উসমান বিন আব্দুল্লাহ এবং হাকাম বিন কায়সান নামক দু ব্যাক্তিকে বন্দি করতে সমর্থ হন। 

আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন-

  يَسْأَلُونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ ۖ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ ۖ وَصَدٌّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ وَكُفْرٌ بِهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِخْرَاجُ أَهْلِهِ مِنْهُ أَكْبَرُ عِندَ اللَّهِ ۚ وَالْفِتْنَةُ أَكْبَرُ مِنَ الْقَتْلِ ۗ وَلَا يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّىٰ يَرُدُّوكُمْ عَن دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُوا ۚ وَمَن يَرْتَدِدْ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَٰئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۖ وَأُولَٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
“(হে নবী)!  ওরা তোমাকে হারাম মাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে (যে), তাতে ক্বিতাল (সশস্ত্র জিহাদ করা জায়েয কি-না)? তুমি বলে দাও, (আল্লাহ’র দ্বীনের মূলনীতি হল) এর মধ্যে ক্বিতাল (সশস্ত্র জিহাদ করা) মস্তবড় (অপরাধ)। তবে (ওদের এও জানা উচিৎ যে), আল্লাহ’র পথ রুদ্ধ করে দেয়া, তাঁর সাথে কুফরী করা, মসজিদে হারাম (কে আল্লাহ’র দ্বীন-কবুলকারী বান্দাদের জন্য রুদ্ধ করে রাখা) এবং এর অধিবাসীদেরকে (তাদের বাসস্থান ও জন্মভূমি থেকে) বের করে দেয়া -আল্লাহ’র কাছে আরো মস্তবড় (অপরাধ)। আর(ও একটি মূলনীতি জেনে রাখো যে, আল্লাহ’র দৃষ্টিতে) খুনের (পাপ ও অপরাধের) চাইতে ফিতনাহ (সৃষ্টিতে অবদান রাখার পাপ ও অপরাধ) আরো বড়।  ”[সূরা বাকারাহ ২১৭]

 [সিরাতে ইবনে হিশাম- ২/৬০১; আনসাবুল আশরাফ, ইমাম বালাযুরী- ১/৩৭১; কিতাবুল মাগাজী, ইমাম ওয়াকিদী- ১/১৩; আত-ত্ববাক্বাত, ইবনে সা’দ- ২/৭; সুনানুল কুবরা, ইমাম নাসায়ী- ৯/২৩ হাদিস ৮৭৫১; সহীহ বুখারী– ১/৩৬; আল-জামিউল বায়ান, ইমাম তাবারী- ২/৪৭৬; আস-সিরাতুন নাববিয়্যাহ, ইমাম ইবনে হিব্বান- ১/১৫৪; আদ-দুরার ফি ইখতিছারিল মাগাজী ওয়াস সিয়ার, ইমাম ইবনু আব্দিল বার- ১/৯৯; আর-রাউজুল উনফ, ইমাম সুহাইলী- ৫/৫২; উয়ূনুল আছার, ইবনু সাইয়্যেদুন নাস- ১/২৬৪; যাদুল মাআদ, ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম- ৩/১৫০; তারিখুল ইসলাম, ইমাম যাহাবী- ২/৪৮; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির- ৩/২৪৮; শারহু মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ, যুরকানী- ২/২৩৭]

https://khaledalsabt.com/interpretations/100/94-%D9%85%D9%86-%D9%82%D9%88%D9%84%D9%87-%D8%AA%D8%B9%D8%A7%D9%84%D9%89-%D9%8A%D8%B3%D8%A7%D9%84%D9%88%D9%86%D9%83-%D8%B9%D9%86-%D8%A7%D9%84%D8%B4%D9%87%D8%B1-%D8%A7%D9%84%D8%AD%D8%B1%D8%A7%D9%85-%D8%A7%D9%84%D8%A7%D9%8A%D8%A9-217-%D8%A7%D9%84%D9%89-%D9%82%D9%88%D9%84%D9%87-%D8%AA%D8%B9%D8%A7%D9%84%D9%89-%D9%88%D8%A7%D9%84%D9%84%D9%87-%D8%BA%D9%81%D9%88%D8%B1-%D8%B1%D8%AD%D9%8A%D9%85-%D8%A7%D9%84%D8%A7%D9%8A%D8%A9-218

فَإِذَا فِيهِ إِذَا نَظَرْتَ فِي كِتَابِي فَامْضِ حَتَّى تَنْزِلَ نَخْلَةَ بَيْنَ مَكَّةَ وَالطَّائِفِ فَتَرْصُدَ . رواه الطبراني في الكبير 2/168 رقم (1670) من حديث أبي السوار العدوي عن جندب بن عبد الله وفيه ( … وكتب له كتاباً وأمره أن لا يقرأ إلا في مكان كذا وكذا) كذا بالإبهام، قال في المجمع 6/198، ورجاله ثقات، وأخرجه البيهقي أيضاً في السنن الكبرى 9/21، والبخاري معلقاً، انظر: صحيح البخاري مع الفتح 1/153 بعد رقم (36)

 

যুরকানী https://al-maktaba.org/book/26568/745 

রাহীকুল মাখতুম http://islamport.com/w/ser/Web/2419/153.htm

https://al-maktaba.org/book/23680/58

https://www.hadithbd.com/books/link/?id=5388

ত্ববাকাতে ইবনে সা’দ http://islamport.com/k/trj/4774/765.htm

চুক্তির মাসআলা https://al-maktaba.org/book/31616/47890

গাজওয়া ও সারিয়া সংক্রান্ত মাসের তাহকিক https://www.ahewar.org/debat/show.art.asp?aid=716453

https://www.withprophet.com/ar/%D8%B3%D8%B1%D9%8A%D8%A9-%D8%B3%D8%B9%D8%AF-%D8%A8%D9%86-%D8%A3%D8%A8%D9%8A-%D9%88%D9%82%D8%A7%D8%B5-%D8%A5%D9%84%D9%89-%D8%A7%D9%84%D8%AE%D8%B1%D8%A7%D8%B1-1-%D9%87%D9%80

يُقَالُ: لَمْ يَبْعَثْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَدًا مِنْ الْأَنْصَارِ مَبْعَثًا حَتّى غَزَا بِهِمْ بَدْرًا، وَذَلِكَ لِأَنّهُمْ شَرَطُوا لَهُ أَنْ يَمْنَعُوهُ فِي دَارِهِمْ. حَدّثَنِي بِذَلِكَ عَبْدُ الرّحْمَنِ بْنُ عَيّاشٍ الْمَخْزُومِيّ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ يَرْبُوعٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيّبِ، وَعَبْدِ الرّحْمَنِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ يَرْبُوعٍ . كتاب مغازي الواقدي : ١/١١

-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.বর্ণনা করেন- قال الرَّسولُ عليه الصَّلاةُ والسَّلامُ لأصحابِه: هذه عيرُ قُريشٍ، فيها أموالُهم، فاخرُجوا إليها، لعلَّ اللهَ يُنفِلُكُموها . رواه ابن إسحاق في “السيرة : ٢/٢٩٥، و عبد الرزاق في المصنف: ٥/٣٤٨، و الطبري في جامع البيان: ١٣/٣٩٤، و البيهقي في دلائل النبوة: ٣/٣٢ بسند صحيح، و صححه الألباني في فقه السيرة: ص ٢١٨، و في تخريج أحاديث وآثار كتاب في ظلال القرآن: ١/١٤٣ – “রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর সাহাবীগণকে বললেন: ‘এটা কুরায়শদের বাণিজ্যিক কাফেলা। এর মধ্যে তোমাদের ধ্বনমাল রয়েছে। সুতরাং, তোমরা ও(ই কাফেলা)র উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ো। হয়তো আল্লাহ (তাআলা) তোমাদেরকে ওটা গণীমত হিসেবে দিয়ে দিবেন”। [সিরাতুন নাববীয়্যাহ, ইবনে ইসহাক- ২/২৯৫; আল-মুসান্নাফ, ইমাম আব্দুর রাজ্জাক- ৫/৩৪৮; জামেউল বায়ান, ইমাম তাবারী- ১৩/৩৯৪; আত-ত্ববাক্বাত, ইবনে সা’দ- ২/৬; দালায়েলুন নাবুওয়াহ, ইমাম বাইহাকী- ৩/৩২] 

ফায়দা: নি:সন্দেহে তখন মক্কা ছিল ‘দ্বারুল হরব’ এবং মক্কার কাফের মুশরেকরা ইসলাম ও মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছিল। এমতাবস্থায়, শক্তি সামর্থ ও জনবল থাকলে শরীয়ত মূলত: ইসলাম ও মুসলমানদের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাফেরদের দেশ/লোকালয় দখল করার পূর্ণ অনুমতি দেয় সেখানকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রন নেয়ার অনুমতি দেয় রাসুলুল্লাহ ﷺ চাচ্ছিলেন, এসব অর্থসম্পদ ও রসদপত্র নিয়ন্ত্রনে নেয়ার মাধ্যমে দ্বারুল হরব মক্কার মুশরেকদেরকে অর্থনৈতিক ভাবে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় চাপে ফেলা এবং এসবের সাহায্যে মুশরেকরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যে প্রস্তুতি নিয়ে যাচ্ছিল তা রুখে দেয়া। এজন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ  ওদের অর্থনৈতিক   বদরের জিহাদ অনুষ্ঠিত হয় ২য় হিজরীর ১৭-ই রামাজান (মোতাবেক  ৬২৪ খৃষ্টাব্দের ১৩-ই মার্চ) তারিখে। বদর এলাকাটি ছিল মদিনা থেকে প্রায় ১৫৫ কি:মি: দূরে অবস্থিত। এ জিহাদে অংশগ্রহনকারী মুজাহিদ মুসলমানগণের সংখ্যা ছিল ৩১৩ জন, যাঁদের মধ্যে ৮২ জন ছিলেন মুহাজির সাহাবা রা. এবং ২৩১ জন আনসার (৬১ জন আউস গোত্রের এবং ১৭০ জন খাজরায গোত্রের) সাহাবা রা.। জিহাদের সাদা পতাকা দেয়া হয়েছিল মুসআব ইবনে উমায়ের রা.-এর হাতে। 

বদর যদ্ধ সংঘটিত হওয়ার তারিখ, সৈন্যসংখ্যা ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক তথ্য 

বদরের জিহাদ অনুষ্ঠিত হয় ২য় হিজরীর ১৭-ই রামাজান (মোতাবেক  ৬২৪ খৃষ্টাব্দের ১৩-ই মার্চ) তারিখে। বদর এলাকাটি ছিল মদিনা থেকে প্রায় ১৫৫ কি:মি: দূরে অবস্থিত। এ জিহাদে অংশগ্রহনকারী মুজাহিদ মুসলমানগণের সংখ্যা ছিল ৩১৩ জন, যাঁদের মধ্যে ৮২ জন ছিলেন মুহাজির সাহাবা রা. এবং ২৩১ জন আনসার (৬১ জন আউস গোত্রের এবং ১৭০ জন খাজরায গোত্রের) সাহাবা রা.। জিহাদের সাদা পতাকা দেয়া হয়েছিল মুসআব ইবনে উমায়ের রা.-এর হাতে। 

 

ه عن كعب بن مالك يكةٍ قال: لم أتخلف عن رسول الله تك في غزوة غزاها إلا فى
غزوة تبوك» غير أني تخلفت عن غزوة بدرء ولم يعاتب أحد تخلف عنهاء إنما خرج
رسول الله كه يريد عير قريش» حتى جمع الله بينهم وبين عدوهم على غير ميعاد.

 রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ সম্পর্কে বর্ণনা করেন- أَنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَتَاهُ فِي أَوَّلِ مَا أُوحِيَ إِلَيْهِ ، فَعَلَّمَهُ الْوُضُوءَ وَالصَّلَاةَ . رواه أحمد في المسند , مسند الشاميين ,حديث زيد بن حارثة رضي الله تعالى عنه : ٤/١٦١ رقم ١٧٠٢٦ ، حسنه الشيخ الألباني في مشكاة المصابيح وذكره في السلسلة الصحيحة برقم ٨٤١ و صححه في صحيح الجامع برقم ٧٦, و المتابع هو رشدين بن سعد، وهو ضعيف كابن لهيعة، ولكن قال الشيخ الألباني رحمه الله: وهو في الضعف مثل ابن لهيعة، فأحدهما يقوي الآخر، لاسيما وله شاهد من حديث أبي هريرة مرفوعا بلفظ: جاءني جبريل، فقال: يا محمد إذا توضأت فانتضح، حسنه أيضا الشيخ ملا القاري في مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، فقد قال عنه: وَسَنَدُهُ حَسَنٌ – “(সম্মানীত ফিরিশতা হযরত) জিবরীল আ. যখন প্রথমবার তাঁর কাছে এসে তার প্রতি ওহী করেছিলেন, তখন তিঁনি তাঁকে (এর সাথে সাথে) ওজু ও নামায(ও) শিক্ষা দিয়েছিলেন”। [মুসনাদে আহমদ– ৪/১৬১ হাদিস ১৭০২৬; সুনানে ইবনে মাজাহ- ১/১৭২ হাদিস ৪৬২; সুনানে দ্বারাকুতনী- ১/৪২; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/২১৭] নবুওত লাভের 

 
 
নবুওতী কাজের 
 
http://katarat1.com/forum/showthread.php?s=de49672e732e2a6dab0ea1b035e75650&p=12085#post12085
 

 


>>> মূল সূচিপত্র (index) থেকে এ পেজের পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আলোচনা পড়তে [এখানে ক্লিক করুন