বদর জিহাদ : গাজওয়াতুল বদর আল-কুবরা (غزوة بدر الكبرى)

বদর জিহাদ : গাজওয়াতুল বদর আল-কুবরা (غزوة بدر الكبرى) – মহানবী ﷺ ও সাহাবায়ে কেরামের আত্বত্যাগ – কুরআন, হাদিস, ইতিহাস ও ফিকহি মাসায়েল 

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته


>>> মূল সূচিপত্র (index) থেকে এ পেজের পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আলোচনা পড়তে [এখানে ক্লিক করুন


 
পূর্ব আলোচনার পর…

 

বদর যদ্ধের প্রেক্ষাপট – মহানবী ﷺ-gcv নবুওত লাভের সময় থেকে নিয়ে পরবর্তী প্রায় তিন বছর পর্যন্ত মক্কার পরিবেশ পরিস্থিতি ও আয়াত সমূহ নাজিলের 

২য় হিজরীর রামাজান মাসে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে সংবাদ আসে যে, মক্কার বিশিষ্ট নেতা আবু সুফিয়ান বিন হারব-এর নেতৃত্বে কুরায়েশদের একটি ‘বাণিজ্য কাফেলা’ শাম থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়া হয়েছে, যার প্রহারায় রয়েছে মাত্র ত্রিশ/চল্লিশ জন ব্যাক্তি, আর তাদের সাথে রয়েছে প্রচুর অর্থসম্পদ (প্রায় পঞ্চাশ হাজার স্বর্ণমূদ্রার সমান সম্পদ)। রাসুলুল্লাহ ﷺ সংবাদটি যাঁচাই করার জন্য সাহাবী আদী ইবনে যাগবা রা. এবং বাসবাস ইবনে আমর রা.-কে প্রেরণ করেন, তাঁরা ফিরে এসে জানায় যে, সংবাদ সত্য। রাসুলুল্লাহ ﷺ এসম্পর্কে নিশ্চিৎ তথ্য পাবার পর, মক্কাভিমুখে গমনকারী কুরায়েশদের ওই বাণ্যিজ্যিক কাফেলাটির উপরে আক্রমন চালানোর জন্য সাহাবীগণকে প্রস্তত হতে বলেন। [আত-ত্ববাক্বাত, ইবনে সা’দ- ২/২৪; সিরাতে ইবনে হিশাম- ২/৬১; যাওয়ামিউস সিরাহ, ইবনে হাযাম- ১/১০৭; মাউসুআতু নাজরাতিন নাঈম- ১/২৮৬] -এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.বর্ণনা করেন- قال الرَّسولُ عليه الصَّلاةُ والسَّلامُ لأصحابِه: هذه عيرُ قُريشٍ، فيها أموالُهم، فاخرُجوا إليها، لعلَّ اللهَ يُنفِلُكُموها . رواه ابن إسحاق في “السيرة : ٢/٢٩٥، و عبد الرزاق في المصنف: ٥/٣٤٨، و الطبري في جامع البيان: ١٣/٣٩٤، و البيهقي في دلائل النبوة: ٣/٣٢ بسند صحيح، و صححه الألباني في فقه السيرة: ص ٢١٨، و في تخريج أحاديث وآثار كتاب في ظلال القرآن: ١/١٤٣  “রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর সাহাবীগণকে বললেন: ‘এটা কুরায়শদের বাণিজ্যিক কাফেলা। এর মধ্যে তোমাদের ধ্বনমাল রয়েছে। সুতরাং, তোমরা ও(ই কাফেলা)র উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ো। হয়তো আল্লাহ (তাআলা) তোমাদেরকে ওটা গণীমত হিসেবে দিয়ে দিবেন”। [সিরাতুন নাববীয়্যাহ, ইবনে ইসহাক- ২/২৯৫; আল-মুসান্নাফ, ইমাম আব্দুর রাজ্জাক- ৫/৩৪৮; জামেউল বায়ান, ইমাম তাবারী- ১৩/৩৯৪; আত-ত্ববাক্বাত, ইবনে সা’দ- ২/৬; দালায়েলুন নাবুওয়াহ, ইমাম বাইহাকী- ৩/৩২] 

ফায়দা: নি:সন্দেহে তখন মক্কা ছিল ‘দ্বারুল হরব’ এবং মক্কার কাফের মুশরেকরা ইসলাম ও মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছিল। এমতাবস্থায়, শক্তি সামর্থ ও জনবল থাকলে শরীয়ত মূলত: ইসলাম ও মুসলমানদের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাফেরদের দেশ/লোকালয় দখল করার পূর্ণ অনুমতি দেয় সেখানকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রন নেয়ার অনুমতি দেয় রাসুলুল্লাহ ﷺ চাচ্ছিলেন, এসব অর্থসম্পদ ও রসদপত্র নিয়ন্ত্রনে নেয়ার মাধ্যমে দ্বারুল হরব মক্কার মুশরেকদেরকে অর্থনৈতিক ভাবে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় চাপে ফেলা এবং এসবের সাহায্যে মুশরেকরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যে প্রস্তুতি নিয়ে যাচ্ছিল তা রুখে দেয়া। এজন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ  ওদের অর্থনৈতিক   বদরের জিহাদ অনুষ্ঠিত হয় ২য় হিজরীর ১৭-ই রামাজান (মোতাবেক  ৬২৪ খৃষ্টাব্দের ১৩-ই মার্চ) তারিখে। বদর এলাকাটি ছিল মদিনা থেকে প্রায় ১৫৫ কি:মি: দূরে অবস্থিত। এ জিহাদে অংশগ্রহনকারী মুজাহিদ মুসলমানগণের সংখ্যা ছিল ৩১৩ জন, যাঁদের মধ্যে ৮২ জন ছিলেন মুহাজির সাহাবা রা. এবং ২৩১ জন আনসার (৬১ জন আউস গোত্রের এবং ১৭০ জন খাজরায গোত্রের) সাহাবা রা.। জিহাদের সাদা পতাকা দেয়া হয়েছিল মুসআব ইবনে উমায়ের রা.-এর হাতে। 

বদর যদ্ধ সংঘটিত হওয়ার তারিখ, সৈন্যসংখ্যা ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক তথ্য 

বদরের জিহাদ অনুষ্ঠিত হয় ২য় হিজরীর ১৭-ই রামাজান (মোতাবেক  ৬২৪ খৃষ্টাব্দের ১৩-ই মার্চ) তারিখে। বদর এলাকাটি ছিল মদিনা থেকে প্রায় ১৫৫ কি:মি: দূরে অবস্থিত। এ জিহাদে অংশগ্রহনকারী মুজাহিদ মুসলমানগণের সংখ্যা ছিল ৩১৩ জন, যাঁদের মধ্যে ৮২ জন ছিলেন মুহাজির সাহাবা রা. এবং ২৩১ জন আনসার (৬১ জন আউস গোত্রের এবং ১৭০ জন খাজরায গোত্রের) সাহাবা রা.। জিহাদের সাদা পতাকা দেয়া হয়েছিল মুসআব ইবনে উমায়ের রা.-এর হাতে। 

 

ه عن كعب بن مالك يكةٍ قال: لم أتخلف عن رسول الله تك في غزوة غزاها إلا فى
غزوة تبوك» غير أني تخلفت عن غزوة بدرء ولم يعاتب أحد تخلف عنهاء إنما خرج
رسول الله كه يريد عير قريش» حتى جمع الله بينهم وبين عدوهم على غير ميعاد.

 রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ সম্পর্কে বর্ণনা করেন- أَنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَتَاهُ فِي أَوَّلِ مَا أُوحِيَ إِلَيْهِ ، فَعَلَّمَهُ الْوُضُوءَ وَالصَّلَاةَ . رواه أحمد في المسند , مسند الشاميين ,حديث زيد بن حارثة رضي الله تعالى عنه : ٤/١٦١ رقم ١٧٠٢٦ ، حسنه الشيخ الألباني في مشكاة المصابيح وذكره في السلسلة الصحيحة برقم ٨٤١ و صححه في صحيح الجامع برقم ٧٦, و المتابع هو رشدين بن سعد، وهو ضعيف كابن لهيعة، ولكن قال الشيخ الألباني رحمه الله: وهو في الضعف مثل ابن لهيعة، فأحدهما يقوي الآخر، لاسيما وله شاهد من حديث أبي هريرة مرفوعا بلفظ: جاءني جبريل، فقال: يا محمد إذا توضأت فانتضح، حسنه أيضا الشيخ ملا القاري في مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح، فقد قال عنه: وَسَنَدُهُ حَسَنٌ – “(সম্মানীত ফিরিশতা হযরত) জিবরীল আ. যখন প্রথমবার তাঁর কাছে এসে তার প্রতি ওহী করেছিলেন, তখন তিঁনি তাঁকে (এর সাথে সাথে) ওজু ও নামায(ও) শিক্ষা দিয়েছিলেন”। [মুসনাদে আহমদ– ৪/১৬১ হাদিস ১৭০২৬; সুনানে ইবনে মাজাহ- ১/১৭২ হাদিস ৪৬২; সুনানে দ্বারাকুতনী- ১/৪২; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/২১৭] নবুওত লাভের 

আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন-

 يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ – قُمْ فَأَنذِرْ – وَ رَبَّكَ فَكَبِّرْ – وَ ثِيَابَكَ فَطَهِّرْ – وَ الرُّجْزَ فَاهْجُرْ
“হে কম্বলে আবৃত (নবী)! তুমি (তোমার নবুওতী গুরু দায়িত্ব পালনের জন্য) উঠে পড়ো, (মানুষকে আল্লাহ’র নির্দেশ এবং মৃত্যু পরবর্তি জীবনে আল্লাহ’র সামনে আখেরাতে হিসাব নিকাশের ব্যাপারে) সতর্ক করো। আর তুমি তোমার রব (প্রভু আল্লাহ’র) তাকবীর পড়ো, এবং তোমার (আত্মীক) পোষাককে পরিত্র করো, এবং (শিরক, কুফরের সহ সকল প্রকারের) অপবিত্রতাকে বর্জন করো”[সূরা মুদ্দাসসির ১-৫]
 
নবুওতী কাজের 
 
http://katarat1.com/forum/showthread.php?s=de49672e732e2a6dab0ea1b035e75650&p=12085#post12085
 

 


>>> মূল সূচিপত্র (index) থেকে এ পেজের পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আলোচনা পড়তে [এখানে ক্লিক করুন