নামাযে রফে ইয়াদাইন না করার দলিল হাদিস – হানাফী ও মালেকী মাযহাব

নামাযে রফে ইয়াদাইন না করার দলিল – সহিহ ও নির্ভরযোগ্য হাদিসের আলোকে হানাফী ও মালেকী মাযহাব – পর্ব ২

 

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَليٰ مُحَمَّدٍ النبي الأمي عَدَدَ خَلْقِك وَ رِضَا نَفْسِك وَزِنَةَ عَرْشِك وَ مِدَادَ كَلِمَاتِك، صَلِّ عَليه صَلاَةً كَامِلَةً دَائِمَةً كَمَا يَنْبَغِي أَنْ يُصَلَّى عَلَيهِ وَ سَلِّمْ تَسلِيمَاً بِقَدرِ عَظَمَةِ ذَاتِكَ فِى كُلِّ وَقتٍ وَ حِين، صلاة تكون لك رضاء و له جزاء، صلاة لا غاية لها ولا منتهى ولا انقضاء باقية ببقائك الى يوم الدين ، و اعطه الوسيلة و الفضيلة و المقام المحمود الذي وعدته، و اجزه عنا ما هو اهله، و على اله وأصحابه و أزواجه و ذريته و أهل بيته و سلم تسليما مثل ذلك، اَللّٰهُمَّ اجمعني معه في الفردوس و جنة المأوى، اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَليٰ مُحَمَّدٍ صَلوٰةً تُنَجِّيْنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ الْأَهْوَالِ وَاْلآفَاتِ وَتَقْضِيْ لَنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ الْحَاجَاتِ وَتُطَهِّرُنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ السَّيِّاٰتِ وَتَرْفَعُنَا بِهَا عِنْدَكَ اَعْليٰ الدَّرَجَاتِ وَتُبَلِّغُنَا بِهَا اَقْصىٰ الْغَايَاتِ مِنْ جَمِيْعِ الْخَيْرَاتِ فِي الْحَيَاتِ وَبَعْدَ الْمَمَاتِ- اِنَّكَ عَليٰ كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٍ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ

[উল্লেখ্য, এই গোটা আলোচনায় উল্লেখিত বিভিন্ন হাদিস ও আছার এবং আরবী ইবারত সমূহের অনুবাদ ও আনুসঙ্গিক ব্যাখ্যাকে কোনো বিজ্ঞ মুহাক্কেক আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে আমার অযোগ্যতার কারণে এখানে কোনো উল্লেখযোগ্য ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধন করে নেয়ার আগেই মানব সমাজে ছড়িয়ে না যায়। এগুলো পড়ুন ইলম অর্জনের জন্য এবং যোগ্য আলেম থেকে তা বুঝিয়ে নিন। আর কোনো যোগ্য চোখে উল্লেখযোগ্য ভুল ধরা পড়লে তা আমাকে অবগত করুন।]

 

>>> পর্ব-১নামাযে রফে ইয়াদাইন করার দলিল – সহিহ হাদিস ও আছার থেকে<<< দেখতে লিখাটির উপরে ক্লিক করুন

 

২. ১ ইমাম আবু হানিফা রহ. এবং ইমাম মালেক রহ.-এর মতে নামাযের মধ্যে ‘রাফউল ইয়াদাইন’ (দুই হাত উত্তলন) শুধুমাত্র ‘তাকবীরে তাহরীমা’র সময় করতে হয়
 
ইমামে আজম আবু হানিফা (জ: ৮০ হি: – মৃ: ১৪৮ হি:) রহ. এবং ইমাম মালেক (জ: ৯৩ হি: – মৃ: ১৭৯ হি:) রহ. -এর মতে, নামাযের মধ্যে কেবলমাত্র ‘তাকবীরে তাহরীমা’র সময়ে রাফে ইয়াদাইন (দুই হাত উত্তলন)’ করা সুন্নাহ, এছাড়া নামাযের অপরাপর স্থানগুলোতে রাফে ইয়াদাইন (দুই হাত উত্তলন) না করেই নামায সমাপ্ত করবে। 
 
ইমাম মালেক রহ.-এর সরাসরি ছাত্র বিখ্যাত ফিকাহবীদ ও মুহাদ্দিস ইমাম আব্দুর রহমান ইবনুল কাসেম আল-মালেকী (জ: ১৩২ হি: – মৃ: ১৯১ হি:) রহ.-এর সূত্রে ইমাম সাহনুন বিন সাঈদ আল-মালেকী (জ: ১৬০ হি: – মৃ: ২৪০ হি:) রহ তাঁর কিতাব ‘আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা’য় ইমাম মালেকের বক্তব্য ও মত উল্লেখ করেছেন এভাবে- قَالَ: وَ قَالَ مَالِكٌ: لَا أَعْرِفُ رَفْعَ الْيَدَيْنِ فِي شَيْءٍ مِنْ تَكْبِيرِ الصَّلَاةِ لَا فِي خَفْضٍ وَلَا فِي رَفْعٍ إلَّا فِي افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ …………. قَالَ ابْنُ الْقَاسِمِ: وَكَانَ رَفْعُ الْيَدَيْنِ عِنْدَ مَالِكٍ ضَعِيفًا إلَّا فِي تَكْبِيرَةِ الْإِحْرَامِ . اورده الإمام سحنون في المدونة الكبرى, في رفع اليدين في الركوع و الإحرام : ١/١٦٥ -“(ইমাম) মালেক বলেছেন: ‘নামাযে শুরুতে (তাকবীরে তাহরীমার ক্ষেত্রটি) ছাড়া নামাযের আর কোনো তাকবীরের সময় রয়ে ইয়াদাইন (দুই হাত উত্তলন) করার কথা আমার জানা নেই; না (রুকু বা সিজদার  জন্য) ঝোঁকার ক্ষেত্রে, আর না (রুকু বা সিজদাহ থেকে) ওঠার ক্ষেত্রে। (ইমাম আব্দুর রহমান) ইবনুল কাসেম (আমাদের কাছে) বলেছেন: ‘(ইমাম) মালেকের নিকট (নামাযের শুরুতে শুধুমাত্র) ‘তাকবীরে-তাহরীমা’র সময় ছাড়া (নামাযের অন্যান্য স্থানে) রায়ে ইয়াদাইন (দুই হাত উত্তলন) করা(র মতটি) ছিল জয়ীফ (দূর্বল)”। [আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা, ইমাম সাহনুন মালেকী- ১/১৬৫] 
 
এই আমলটি বহু সহিহ নির্ভরযোগ্য হাদিস ও আছার দ্বারা মারফু ও মাওকুফ উভয় ভাবে শক্তিশালী দলিল দ্বারা প্রমাণিত, যা থেকে একথা প্রমাণিত হয় যে, স্বয়ং রাসুলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর মধ্যে অঁনেকে নামাযের মধ্যে ‘তাকবীরে তাহরীমা’ ছাড়া অপরাপর স্থানে রফে ইয়াদাইন (দু হাত উত্তলন) পরিত্যাগ করে নামায আদায়ের আমলটিও করে গেছেন, যা আরেকটি স্বতন্ত্র সুন্নাহ। নিম্নে রেওয়ায়েতগুলো উল্লেখ করা হল।

২.২ নামাযের মধ্যে তাকবীরে তাহরীমা ছাড়া অপরাপর স্থানে রাফউল ইয়াদাইন (দু হাত উত্তলন) না করাও সুন্নাহ – সহিহ নির্ভরযোগ্য হাদিস ও আছার থেকে দলিল

# ২.২.১ # ইমাম তিরমিযী (মৃ: ২৭৯ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-জামে’-এ সহিহ সনদের সাথে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا هَنَّادٌ قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ: أَلَا أُصَلِّي بِكُمْ صَلَاةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟ فَصَلَّى، فَلَمْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ إِلَّا فِي أَوَّلِ مَرَّةٍ . أخرجه الترمذي في سننه، كتاب الصلاة ، باب ما جاء أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يرفع إلا في أول مرة : ٢/٤٢ رقم ٢٥٧ ، و أخرجه ايضا أحمد و أبو داود و النسائي و أبو يعلى و الطحاوي وغيرهم ، قال ابن حزم في المحلي: ٤/٨٧ : إن هذا الخبر صحيح، قال قال العيني في نخب الأفكار في تنقيح مباني الأخبار في شرح معاني الآثار : ٤/١٥٥ : إنه حديث صحيح ، قال الشيخ أحمد شاكر في تحقيقه علي الترمذي: ٢/٤١: هذا حديث صححه ابن حزم وغيره من الحفاظ , وهو حديث صحيح و ما قالوه في تعليله ليس بعلة، و قال الشيخ الألباني في ‘أصل صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم’ : ٢/٦١١ : وهذا سند صحيح، رجاله رجال مسلم، … و الحق أنه صحيح ثابت، لا مطعن في إسناده  – “আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হান্নাদ, তিঁনি বলেছেন: আমাদের কাছে ওকী বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আসওয়াদ থেকে , তিনি আলকামাহ থেকে, তিনি বলেছেন, (আব্দুল্লাহ) ইবনে মাসউদ রা. (একবার আমাদের সামনে) বললেন: ‘আমি কি তোমাদের সাথে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নামায(-এর মতো নামায) আদায় করবো না, (যাতে তোমরা জানতে পারো তিঁনি কেমন করে নামায আদায় করেছেন)’? অত:পর তিনি (আমাদেরকে শিখানোর জন্য আমাদের সামনে) নামায আদায় করলেন। তখন তিনি (তাকবীরে তাহরীমার সময়ে কৃত) প্রথমবার ছাড়া (নামাযের) আর (কোনো স্থানেও) তার দু’হাত তোলেন নি; (রুকুর সময়ও নয়; রুকু থেকে ওঠার সময়ও নয়, দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ানোর সময়ও নয়, এমনকি দু’ সিজদার মাঝেও নয়। এভাবেই নামায শেষ করেছেন)” [জামে তিরমিযী– ২/৪২ হাদিস ২৫৭; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ- ২/৬৪ হাদিস ২৪৫৩; আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা, ইমাম সাহনুন মালেকী- ১/১৬৬; শারহু মাআনীল আছার, ত্বাহাবী- ১/২২৪; সুনানে নাসায়ী- ২/১৯৫ হাদিস ১০২৬; সুনানুল কুবরা, নাসায়ী- ১/২২১ হাদিস ৬৪৫; সুনানে আবু দাউদ- ১/১৯৯ হাদিস ৭৪৮;  মুসনাদে আহমদ- ১/৩৮৮ হাদিস ৩৬৮১; মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ৮/৪৫; সুনানুল কুবরা, বাইহাকী- ২/১১২ হাদিস ২৫৩১; আল-মুহাল্লা, ইমাম ইবনে হাযাম- ৪/৮৭]
 
ফায়দা: ইমাম তিরমিযী (মৃ: ২৭৯ হি:) রহ. এই হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন- حديث ابن مسعود حديث حسن وبه يقول غير واحد من أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين و هو قول سفيان الثوري وأهل الكوفة – “(আব্দুল্লাহ) ইবনে মাসউদরা.-এর হাদিসটি একটি হাসান হাদিস। নবী ﷺ-এর একাধিক প্রাজ্ঞ-আলেম সাহাবী এবং তাবেয়ীবৃন্দ এ কথাই বলেছেন। (ইমাম) সুফিয়ান সাউরী এবং আহলে-কুফা’র (আলেমগণের) মত এটাই”। [সুনানে তিরমিযী- ২/৪২] ইমাম ইবনে হাযাম (জ: ৩৮৪ হি: – মৃ: ৪৫৬ হি:) রহ. তাঁর বিখ্যাত কিতাব ‘আল-মুহাল্লা’-এ সহিহ সনদের সাথে ইমাম ওকী রহ. ও তাঁর আরেকজন ছাত্র যুহাইর বিন হারব রহ.-এর সূত্রে এই একই হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন- إن هذا الخبر صحيح – “এই বর্ণনাটি সহিহ”। [আল-মুহাল্লা, ইমাম ইবনে হাযাম- ৪/৮৭] ইমাম আলাউদ্দিন মারিদিনী (জ: ৬৮৩ হি: – মৃ: ৭৪৫ হি:) রহ. লিখেছেন-  ان رجال هذا الحديث على شرط مسلم – ‘এই হাদিসের সকল বর্ণনাকারী ইমাম মুসলীমের শর্ত অনুসারে রয়েছে’। [জাওহারুন নাকী, ইমাম মারিদিনী- ২/৭৮] ইমাম বদরুদ্দিন আইনী (মৃ: ৮৫৫ হি:) রহ. এই হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন- إنه حديث صحيح – “হাদিসটি বিলকুল সহিহ”। [নাখবুল আফকার, ইমাম আইনী- ৪/১৫৫] গায়রে-মুকাল্লিদ আহলে-হাদিস মুহাদ্দেস শায়েখ আহমদ শাকের (মৃ: ১৩৭৭ হি:) রহ. এই হাদিসের সনদ সম্পর্কে বলেছেন- هذا حديث صححه ابن حزم وغيره من الحفاظ , وهو حديث صحيح و ما قالوه في تعليله ليس بعلة – “(ইমাম) ইবনে হাযাম এবং তিঁনি ছাড়াও হাদিসের অপরাপর হাফেজগণ (অনেকেই) একে সহিহ বলেছেন; আর হাদিসটি সহিহও। আর কেউ কেউ এর যেসকল ইল্লত (ত্রুটি)-এর কথা বলে থাকেন, মূলত: তা কোনো ইল্লতই নয়”। [হাশিয়ায়ে জামে তিরমিযী, আহমদ শাকের– ২/৪১] গায়রে-মুকাল্লিদ আহলে-হাদিস শায়েখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আলবানী (মৃ: ১৪২০ হি:) রহ. এই হাদিসের সনদ সম্পর্কে বলেছেন- وهذا سند صحيح، رجاله رجال مسلم، …و الحق أنه صحيح ثابت، لا مطعن في إسناده – “এর সনদ সহিহ; এর সকল বর্ণনাকারী (সহিহ) মুসলীমের বর্ণনাকারীই।……সত্য হল, এ রেওয়াতটি সহিহ; সাবেত (প্রমাণিত); এর সনদে কোনো ইল্লত (দোষ) নেই”। [আসলু সিফাতিস সালাতিন নাবী ﷺ, আলবানী- ২/৬১১] ইমাম সাহনুন বিন সাঈদ আল-মালেকী (জ: ১৬০ হি: – মৃ: ২৪০ হি:) রহ তাঁর কিতাব ‘আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা’য় এই হাদিস সনদ সহ উল্লেখ করে ইমাম মালেকের মাযহাবের পক্ষে দলিল দিয়েছেন। [আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা, ইমাম সাহনুন মালেকী- ১/১৬৬]
 
এই হাদিসটির একজন রাবী (বর্ণনাকারী) হলেন বিশিষ্ট তাবেয়ী আলকামাহ রহ.। স্বয়ং তাঁর আমলও ছিল রফে ইয়াদাইন না করার। যেমন, ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ (মৃ: ২৩৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসান্নাফ’-এ নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ الْأَسْوَدِ، وَعَلْقَمَةَ : أَنَّهُمَا كَانَا يَرْفَعَانِ أَيْدِيَهُمَا إِذَا افْتَتَحَا ثُمَّ لَا يَعُودَانِ . اخرجه ابن أبي شيبة في المصنف ، كتاب الصلاة ، باب من كان يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود : ٢/٦٦ رقم ٢٤٦٥ – “আমাদের কাছে ওকী বর্ণনা করেছেন শারীক থেকে, তিনি যাবের থেকে, তিনি আল-আসওয়াদআলকামাহ সম্পর্কে  বর্ণনা করেছেন (এই যে): ‘তাঁরা দুজন যখন নামায শুরু করতেন,  তখন তাঁরা তাদের দু হাত উঠাতেন, এরপর (নামাযের মধ্যে) আর (কোনো স্থানেও দু হাত উত্তলন) করতেন না”। [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ – ২/৬৬ আছার ২৪৬৫]
 
এছাড়াও ইমাম ইব্রাহীম নখয়ী যিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর আমল সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত ছিলেন, তিনিও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর এই আমলের কথাই বলেছেন এবং নিজেও এমন আমলই করতেন। যেমন, ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ (মৃ: ২৩৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসান্নাফ’-এ সহিহ সনদের সাথে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي أَوَّلِ مَا يَسْتَفْتِحُ، ثُمَّ لَا يَرْفَعُهُمَا. اخرجه ابن أبي شيبة في المصنف ، كتاب الصلاة ، ، باب من كان يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود : ٢/٦٥ رقم ٢٤٥٥، اسناده صحيح و رواته كلهم ثقات، و الطحاوي و قال زيلعي في نصب الراية : ٢/٣٧٠ : قال الطحاوي : فإن قالوا : إن إبراهيم عن عبد الله غير متصل ، قيل لهم : كان إبراهيم لا يرسل عن عبد الله إلا ما صح عنده وتواترت به الرواية عنه ، كما أخبرنا ، وأسند عن الأعمش أنه قال لإبراهيم : إذا حدثتني عن عبد الله ، فأسند ، قال : إذا قلت لك : قال عبد الله : فاعلم أني لم أقله حتى حدثنيه جماعة عنه ، وإذا قلت لك : حدثني فلان عن عبد الله ، فهو الذي حدثني وحده عنه  – “আমাদের কাছে ওকী বর্ণনা করেছেন মিসআর থেকে, তিনি আবু মা’শার থেকে, তিনি ইব্রাহীম (নখয়ী) থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. সম্পর্কে বলেছেন: ‘তিঁনি সালাতের শুরুতে (তাকবীরে তাহরীমা’র সময়) তাঁর দুই হাত উঠাতেন; এরপর তিঁনি আর তাঁর দু’হাত উঠাতেন না”। [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ – ২/৬৫ হাদিস ২৪৫৫]
 
ইমাম দারাকুতনী (জ: ৩০৬ হি: – মৃ: ৩৮৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আস-সুনান’-এ সহিহ সনদের সাথে বর্ণনা করেছেন এভাবে- حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْوَكِيلُ , ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ , ثنا هُشَيْمٌ , عَنْ حُصَيْنٍ , وَحَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ , وَعُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ , قَالَا: نا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى , نا جَرِيرٌ , عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ , قَالَ: ……. قَالَ إِبْرَاهِيمُ: إِنَّمَا رَفْعُ الْيَدَيْنِ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ . اخرجه الدارقطني في سننه ,كتاب الصلاة , باب ذكر التكبير ورفع اليدين عند الافتتاح والركوع والرفع منه وقدر ذلك واختلاف الروايات : ١/٢١٢ رقم ١١٠٤، قال النيموي في آثار السنن : ١/٢٦١ رقم ٤٠٠: اسناده صحيح، و قال الألباني في كتاب أصل صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم: ٢/٧٠٧ : وهذا سند صحيح على شرط مسلم، و رواه ايضا غيره – “আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আব্দিলাহ আলওয়াকিল, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসান বিন আরাফাহ, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে হুশায়ম বর্ণনা করেছেন হুসাইন থেকে, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হুসাইন বিন ইসমাঈল ও উসমান বিন মুহাম্মাদ বিন জা’ফর, তারা দুজনে বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন মুসা, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে জারীর বর্ণনা করেছেন হুসাইন বিন আব্দির রহমান থেকে, তিনি বলেন: “…. ইব্রাহীম (নখয়ী) বললেন: রফে-ইয়াদাইন (দুই হাত উত্তলন) কেবলমাত্র নামায শুরু করার সময় (করতে হয়)”। [সুনানে দারাকুতনী– ২/৪৪ হাদিস ১১২১; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৮৮৪৪; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ১৮২৬; শারহু মাআনীল আছার, ইমাম তাহাবী- ১/২২৪; আল-মুআত্তা, ইমাম মুহাম্মাদ- ১০৭; শারহু মুশকিলিল আছার, ইমাম তাহাবী- ১৫/৩৫ হাদিস ৫৮২৬]
 
# ২.২.২ # ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ (মৃ: ২৩৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসান্নাফ’-এ সহিহ সনদের সাথে আলী রা.-এর নামাযে রফে-ইয়াদাইন করার আমলটি এভাবে বর্ণনায় এনেছেন – حدثنا وكيع عن أبي بكر بن عبد الله بن قطاف النهشلي عن عاصم بن كليب عن أبيه : أَنَّ عَلِيًّا كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ، ثُمَّ لَا يَعُودُ. اخرجه ابن أبي شيبة في المصنف ، كتاب الصلاة ، ، باب من كان يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود : ٢/٦٤ رقم ٢٤٥٤، اسناده صحيح، و الطحاوي في شرح معاني الآثار : ١/٢٢٥ و البيهقي في السنن الكبري : ٢/١١٤ رقم ٢٥٣٤، وقال العيني في البناية شرح الهداية : ٢/٢٦١ : صحيح علي شرط مسلم، و ابن حجر في الدراية : ١/١١٣ : رجاله ثقات، و قال الزيلعي في نصب الراية : ٢/٣٦٩ : وهو أثر صحيح – “আমাদের কাছে ওকী বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আব্দিল্লাহ বিন কিতাফ আন-নাহশালী থেকে, তিনি আসেম বিন কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা (কুলাইব) থেকে (এই যে, কুলাইব বলেছেন): ‘আলী (বিন আবি ত্বালেব রা.) যখন নামায আরম্ভ করতেন, তখন (শুধুমাত্র তাকবীরে-তাহরীমার সময়) তাঁর দু’ হাত উঠাতেন, তারপর তিঁনি (নামাযের মধ্যে) আর (কোনো স্থানেও তাঁর দু’ হাত উত্তলন) করতেন না” [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ – ২/৪৬ হাদিস ২৪৫৪; আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা, ইমাম সাহনুন মালেকী- ১/১৬৬; শারহু মাআনীল আছার, ইমাম তাহাবী- ১/২২৫; সুনানুল কুবরা, বাইহাকী– ২/১১৪ হাদিস ২৫৩৪; আল-মুআত্তা, ইমাম মুহাম্মাদ- ১/৯০ হাদিস ১০৯]
 
ফায়দা: এই রেওয়ায়েতটির ব্যাপারে ইমাম আলাউদ্দিন মারিদিনী (জ: ৬৮৩ হি: – মৃ: ৭৪৫ হি:) রহ. লিখেছেনرجاله ثقات – ‘এর সকল বর্ণনাকারী সিকাহ (নির্ভরযোগ্য)’। [জাওহারুন নাকী, ইমাম মারিদিনী- ২/৭৮] ইমাম হায়েজ ইবনে হাজার আসকালানী শাফেয়ী (জ: ৭৭৩ হি: – মৃ: ৮৫২ হি:) রহ লিখেছেন- رجاله ثقات – ‘এর সকল বর্ণনাকারী সিকাহ (নির্ভরযোগ্য)’। [আদ-দিরায়াহ, ইবনে হাজার- ১/১১৩] ইমাম বদরুদ্দীন আইনী (জ: ৭৬২ হি: – মৃ: ৮৫৫ হি:) রহ লিখেছেন- صحيح علي شرط مسلم – ‘ইমাম মুসলীমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ’। [আন-নিহায়াহ, ইমাম আইনী- ২/২৬১]  ইমাম যাইলায়ী রহ. হলেছেন- هو أثر صحيح ‘এই বর্ণনাটি সহিহ’। [নসবুর রায়াহ, যাইলায়ী- ২/৩৬৯]
 
ইমাম সাহনুন বিন সাঈদ আল-মালেকী (জ: ১৬০ হি: – মৃ: ২৪০ হি:) রহ তাঁর কিতাব ‘আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা’য় এই হাদিসটি একই সনদ সহকারে উল্লেখ করে ইমাম মালেকের মাযহাবের পক্ষে দলিল দিয়েছেন এবং সাথে আরো লিখেছেন- قَالَ : وَكَانَ قَدْ شَهِدَ مَعَهُ صِفِّينَ وَكَانَ أَصِحَابُ ابْنِ مَسْعُودٍ يَرْفَعُونَ فِي الْأُولَى ثُمَّ لَا يَعُودُونَ وَكَانَ إبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ يَفْعَلُهُ – ‘(ইমাম আব্দুর রহমান ইবনুল কাসেম রহ.) বলেছেন: কুলাইব (একজন বিশিষ্ট তাবেয়ী এবং তিনি) সিফফীন যুদ্ধে আলী রা.-এর সাথে শরিক ছিলেন। তিনি (বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ) ইবনে মাসউদ রা.-এরও (সাগরেদ) সাথী ছিলেন। তাঁরা সকলেই (নামাযের মধ্যে শুধুমাত্র) প্রথমবার ‘রফে ইয়াদাইন’ (দু হাত উত্তলন) করতেন, এরপর আর করতেন না। ইব্রাহীম নখয়ী আমলও এমনটাই ছিল”। [আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা, ইমাম সাহনুন মালেকী- ১/১৬৬] নিম্নের সহিহ রেওয়ায়েতটিও একই কথাই বলছে।  
 
# ২.২.৩ # ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ (মৃ: ২৩৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসান্নাফ’-এ সহিহ সনদের সাথে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَأَبُو أُسَامَةَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ: انَ أَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ وَ أَصْحَابُ عَلِيٍّ لَا يَرْفَعُونَ أَيْدِيَهُمْ إِلَّا فِي افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ، قَالَ وَكِيعٌ ثُمَّ لَا يَعُودُونَ . رواه ابن أبي شيبة الكوفي في المصنف, كتاب الصلاة , ، باب من كان يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود : ٢/٦٥ رقم ٢٤٥٨، اسناده صحيح جدا، و قال التركماني في الجوهر النقي: ٢/٧٩ : هذا سند صحيح جليل ، و ايضا رواه امام محمد بن الحسن الشيباني في كتاب الآثار, باب افتتاح الصلاة و رفع الايدى و السجود علي العمامة : ١/١٢٧     – “আমাদের কাছে ওকী এবং আবু উসামাহ বর্ণনা করেছেন শু’বা থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি বলেছেন: ‘আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা.-এর (অনুসারী শিষ্য) সাথীগণ এবং আলী রা.-এর (অনুসারী শিষ্য) সাথীগণ নামাযের শুরুতে (তাকবীরে তাহরীমা’র সময়) ছাড়া (নামাযের আর কোথায়ও) তাদের দুই হাত উঠাতেন না; (রুকুর সময়ও নয়; রুকু থেকে ওঠার সময়ও নয়, এমনকি দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ানোর সময়ও নয়। এভাবেই তাঁরা সালাত শেষ করতেন)’। ওকী (তাঁর রেওয়ায়েতের শেষে এভাবে) বলেছেন: ثم لا يعودون – ‘অত:পর তাঁরা আর পূণরায় (রায়ে ইয়াদাইন/দু’হাত উত্তলন) করতেন না [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ – ২/৬৫ হাদিস ২৪৫৮]
 
ফায়দা: ইমাম আলাউদ্দিন মারিদিনী (জ: ৬৮৩ হি: – মৃ: ৭৪৫ হি:) রহ. এই রেওয়ায়েতটি উল্লেখ করার পর লিখেছেন- وهذا أيضا سند صحيح جليل ففي اتفاق أصحابهما على ذلك ما يدل على أن مذهبهما كان كذلك – “এই রেওয়ায়েতটিও একটি অতীব উচ্চমানের সহিহ রেওয়ায়েত। কাজেই (আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.এবং আলী রা. এই) দুজঁনের সাথীগণ (নামাযের শুরু ছাড়া আর কোথায়ও দুই হাত না তোলা)-এর উপরে একমত ছিলেন, যা একথা প্রমাণ করে যে, তাঁদের দুঁজনের মাযহাব ওমনটাই ছিল”। [জাওহারুন নাকী, ইমাম মারিদিনী- ২/৭৯]
 
# ২.২.৪ # ইমাম হুমাইদী (মৃ: ২১৯ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসনাদ’-এ সহিহ সনদের সাথে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ قَالَ ثنا سُفْيان قَالَ: ثنا الزُّهْرِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ، وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ، وَبَعْدَ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَلَا يَرْفَعُ وَلَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ . رواه الحميدي في مسنده : ٢/٢٧٧ رقم ٦١٤ و اسناده صحيح، و أبو عوانة في مستخرجه : ١/٤٢٣ رقم ١٥٧٢  – “আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান (সাউরী), তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যুহরী, তিঁনি বলেছেন যে, আমাকে সালেম বিন আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা (আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.) থেকে যে, (আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. তাকে বলেছেন): ‘আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ দেখেছি, তিঁনি যখন নামায শুরু করতেন, তখন তিঁনি (তাকবিরে তাহরীমা বলে) তাঁর দুই হাতকে তাঁর কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। আর তিনি যখন রুকু করতে এবং রুকু থেকে মাথা উঠানোর ইচ্ছে করতেন, তখন তিঁনি (আর তাঁর দুই হাত) উঠাতেন না, (এমনকি তিঁনি) দুই সিজদার মাঝেও (তাঁর হাত উঠাতেন) না” [মুসনাদে হুমাইদী– ২/২৭৭ হাদিস ৬১৪; মুসনাদে আবু আউয়ানা- ১/৪২৩ হাদিস ১৫৭২]
 
ফায়দা: এর সনদ খুবই শক্তিশালী এবং ইমাম বুখারী ও মুসলীমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ। নিম্নের # ২.২.৫ # এবং # ২.২.৬ # নং রেওয়ায়েত দুটি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-এর আমলকে আরো সুস্পষ্ট করে তোলে। 
 
# ২.২.৫ # ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ (মৃ: ২৩৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসান্নাফ’-এ সহিহ সনদের সাথে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: مَا رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِلَّا فِي أَوَّلِ مَا يَفْتَتِحُ . رواه ابن أبي شيبة الكوفي في المصنف، كتاب الصلاة ، باب من كان يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود : ٢/٦٦ رقم ٢٤٦٤، قال المارديني في الجوهر النقي: ٢/٧٤ : وهذا سند صحيح، و ايضا رواه الطحاوي في شرح معاني الآثار : ١/٢٢٥، قال النيموي في اثار السنن : ١/٢٦٩ : سنده صحيح – “আমাদের কাছে আবু বকর বিন আইয়াশ বর্ণনা করেছেন হুসাইন থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে (এই যে), মুজাহিদ বলেছেন: “আমি (আব্দুল্লাহ) ইবনে ওমর রা.(-এর পিছনে অনেকবার নামায পড়েছি, কিন্তু তাঁ)কে নামাযের শুরুতে (তাকবীরে তাহরীমার সময়) প্রথমবার ছাড়া (নামাযের মধ্যে) আর (কোনো স্থানেও) তাঁর দু’হাত তুলতে দেখিনি” [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ – ২/৬৬ হাদিস ২৪৬৪; শারহু মাআনীল আছার, ইমাম তাহাবী- ১/২২৫; মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার, ইমাম বাইহাকী- ২/৪২৮ হাদিস ৩৩০৮]
 
ফায়দা: ইমাম আলাউদ্দিন মারিদিনী (জ: ৬৮৩ হি: – মৃ: ৭৪৫ হি:) রহ. এই রেওয়ায়েতটি উল্লেখ করার পর লিখেছেন- وهذا سند صحيح – “এই সনদটি সহিহ”। [জাওহারুন নাকী, ইমাম মারিদিনী- ২/৭৯] শায়েখ নিমুভী (মৃ: ১৩২২ হি:) রহ. ইমাম তাহাবীর রেওয়াতকৃত হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন- سنده صحيح – “এর সনদ সহিহ”। [আছারুস সুনান, নিমুভী- ১/২৬৯ আছার ৪০৫; ই’লাউস সুনান, উসমানী- ২/৭৪ আছার ৮১৮]
 
# ২.২.৬ # ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন হারেছ বিন আসাদ আল-কায়রাওয়ানী আল-উন্দুলুসী (মৃ: ৩৬৬ হি:) রহ. তাঁর কিতাব ‘আখবারুল ফুকাহা ওয়াল মুহাদ্দিসীন’-এ সহিহ সনদের সাথে বর্ণনা করেছেন- حدثني عثمان بن محمد قال: قال لي عبيدالله بن يحيي : حدثني عثمان بن سوادة بن عباد عن حفص بن ميسرة عن زيد بن اسلم عن عبدالله بن عمر قال : كنا مع رسول الله صلي الله عليه وسلم بمكة نرفع ايدينا في بدء الصلوة وفي داخل الصلوة عند الركوع فلما هاجر النبي صلي الله عليه وسلم الي المدينة ترك رفع يدين في داخل الصلوة عند الركوع وثبت علي رفع يدين في بدء الصلوة ۔۔۔ توفي ۔ اخرجه الإمام الحافظ أبو عبد الله محمد بن الحارث بن أسد الخشني القيرواني ثم الاندلسي في اخبار الفقهاء و المحدثين , باب عثمان: ص٢١٤ رقم ٣٧٨، اسناده صحيح – “আমার কাছে বর্ণনা করেছেন উসমান বিন মুহাম্মাদ, তিনি বলেছেন: আমাকে বলেছেন উবায়দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া, (তিনি বলেছেন) আমার কাছে উসমান বিন সাওয়াদাহ বিন আব্বাদ বর্ণনা করেছেন হাফস বিন মাইসারাহ থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন আসলাম থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন ওমর রা. থেকে (এই যে: আব্দুল্লাহ বিন ওমর রা.) বলেছেন: ‘আমরা (যখন) রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে মক্কায় ছিলাম, (তখন) আমরা নামাযের শুরুতে এবং নামাযের মধ্যে রুকুর করার সময় (আমাদের দু) হাত উঠাতাম। (পরে) নবী ﷺ যখন মদিনায় হিজরত করলেন, তখন নামাযের মধ্যে রুকু করার সময় রাফে-ইয়াদাইন (দুই হাত উত্তলন করা) পরিত্যাগ করেন এবং (শুধুমাত্র) নামাযের শুরুতে রাফে-ইয়াদাইন বহাল রেখে দেন। (আর এই আমলের উপরেই) তাঁর ওফাত হয় [আখবারুল ফুকাহা ওয়াল মুহাদ্দিসীন, ইমাম আবু আব্দুল্লাহ উন্দুলুসী- ১/২১৪ বর্ণনা নম্বর ৩৭৮]
 
ফায়দা: এই রেওয়ায়েতটির সনদ সম্পূর্ণ সহিহ। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-এর বর্ণিত এই হাদিস থেকে দিবালকের ন্যায় পরিষ্কার হয়ে যায় যে, মাক্কী জীবনে নামাযের শুরুতে তাকবীরে-তাহরীমার সময়, রুকুর সময় রাফে-ইয়াদাইন (দুই হাত উত্তলন) করার ভরপুর আমল ছিল রাসুলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবায়ে কেরামেরপরে রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আসেন, তারপর নামাযের শুধু শুরুতে তাকবীরে-তাহরীমার সময় রাফে-ইয়াদাইন বহাল রেখে দেন এবংবাদবাকি অন্যান্য ক্ষেত্রে রাফে-ইয়াদাইন (দুই হাত উত্তলন) পত্যিাগ করার আমল শুরু করেন। উল্লেখ্য, এখানে মদিনায় এসে নামাযের শুরুতে ছাড়া বাদবাকি অন্যান্য ক্ষেত্রে রাফে-ইয়াদাইন (দুই হাত উত্তলন) পত্যিাগ করার অর্থ এই নয় যে, মদিনায় পা রাখার পরপরই নামযের ওসব স্থানে রাফে-ইয়াদাইন (দুই হাত উত্তলন) পরিত্যাগ করেন। বরং এর অর্থ হল, এরপর মাদানী জীবনের কোনো এক সময় রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন ভাল মনে করেছেন, তখন নামাযের শুরুতে ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে রাফে-ইয়াদাইন (দুই হাত উত্তলন) পত্যিাগ করেন। 
 
উপরের ১ থেকে ৩ নং রেওয়াতটি দুটি হাদিসে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-এর বর্ণনা ও আমল এবং নিচে বর্ণিত হাদিসগুলোতে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকারী জলিলুল-ক্বদর মুহাজির সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে ওমর ফারূক রা., আলী রা., আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর আমল সহিহ সনদের সাথে বির্ণত হয়েছে, যার মধ্যে একথা স্পষ্ট যে, তাঁরা সকলেই শুধুমাত্র তাকবীরে-তাহরীমার সময় ‘রাফে-ইয়াদাইন’ করতেন।    
 
# ২.২.৭ #  ইমাম মুসলীম (মৃ: ২৬১ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-সহিহ’-তে সহিহ সনদের সাথে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ :‏ مَا لِي أَرَاكُمْ رَافِعِي أَيْدِيكُمْ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمْسٍ اسْكُنُوا فِي الصَّلاَةِ ‏. رواه مسلم في صحيحه , كتاب الصلاة، باب الأمر بالسكون فى الصلاة والنهى عن الإشارة باليد : رقم ‏٤٣٠، و أبو داود : ٢/٢٤١ ، و النسائي في الكبرى : ١/٣٩٥ و ٢/٣٤ ، و ابن أبي شيبة في المصنف: ٢/٢٣١ و غيرهم– “আমাদের কাছে আবু বকর ইবনু আবি শায়বা ও আবু কুরায়ব বর্ণনা করেছেন, তাঁরা দুজনে বলেছেন: আমাদের কাছে আবু মুআবিয়া বর্ণনা করেছেন আ’মাশ থেকে, তিনি মুসাইয়্যাব বিন রাফে’ থেকে, তিনি তামিম বিন ত্বরাফাহ থেকে, তিনি (সাহাবী) যাবের বিন সামুরাহ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিঁনি বলেছেন: ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ (একদিন) বের হয়ে আমাদের কাছে এসে বললেন: “কি হল, আমি তোমাদেরকে দেখছি তোমরা বেয়াড়া ঘোড়ার লেজের মতো করে (নামাযের মধ্যে) তোমাদের দু’হাত তুলছো! (এমনটা করো না, বরং) তোমরা নামাযের মধ্যে ধীরস্থির-শান্ত হয়ে থাকো” [সহিহ মুসলীম- ১/৩২২ হাদিস ৪৩০; আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ- ৭/১০৯; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস, ১৮৭৮; সুনানুল কুবরা, ইমাম নাসায়ী- ১/৩৯৫, ২/৩৪; সুনানে আবু দাউদ- ২/২৪১; আল-মু’জামুল কাবীর, ইমাম তাবরাণী- ২/২০২ হাদিস ১৮২৪-১৮২৯; আল-মুসনাদ, ইমাম আবু আয়ানাহ, হাদিস ১৫৫২; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২০৯৯৮]
 
# ২.২.৭ # ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ (মৃ: ২৩৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসান্নাফ’-এ সহিহ সনদের সাথে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ حَسَنِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبْجَرَ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ عُمَرَ، فَلَمْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ فِي شَيْءٍ مِنْ صَلَاتِهِ إِلَّا حِينَ افْتَتَحَ الصَّلَاةَ . اخرجه ابن أبي شيبة في المصنف ، كتاب الصلاة ، باب من كان يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود : ٢/٦٦ رقم ٢٤٦٦، و قال الطحاوي في شرح معاني الآثار: ١/١٦٤ : هو حديث صحيح، قال التركماني في الجوهر النقي : ٢/٧٥ : و هذا السند ايضا صحيح علي شرط مسلم، قال النيموي في اثار السنن : ١/٢٦٦ : و هو اثار صحيح، و قال عثماني في إعلاء السنن : ٢/٧١ رقم ٨١٦ : و سنده صحيح علي شرط مسلم  – “আমাদের কাছে ইয়াহইয়া বিন আদাম বর্ণনা করেছেন হাসান বিন আইয়াশ থেকে, তিনি আব্দুল মালেক বিন আবযার থেকে, তিনি যুবায়েল বিন আদী থেকে, তিনি ইব্রাহীম থেকে, তিনি আল-আসওয়াদ থেকে, তিনি বলেছেন: ‘আমি (ইসলামী জাহানের দ্বিতীয় খলিফা) ওমর (ফারূক রা.)-এর সাথে নামায পড়েছি। তিনি নামাযের শুরুর সময় ছাড়া তাঁর নামাযের আর কোনো স্থানেও তাঁর দু হাত তুলতেন না [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ – ২/৬৬ আছার ২৪৬৬; শারহু মাআনীল আছার, ইমাম তাহাবী- ১/১৬৪]
 
ফায়দা: ইমাম আবু জা’ফর তাহাবী (জ: ২৩৯ হি: – মৃ: ৩২১ হি:) রহ. বলেছেন- هو حديث صحيح – ‘এই হাদিসটি সহিহ’। [শারহু মাআনীল আছার, ইমাম তাহাবী- ১/১৬৪] ইমাম আলাউদ্দিন মারিদিনী (জ: ৬৮৩ হি: – মৃ: ৭৪৫ হি:) রহ. লিখেছেন- و هذا السند ايضا صحيح علي شرط مسلم – ‘এই সনদটিও ইমাম মুসলীমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ’। [জাওহারুন নাকী, ইমাম মারিদিনী- ২/৭৫] ইমাম হায়েজ ইবনে হাজার আসকালানী শাফেয়ী (জ: ৭৭৩ হি: – মৃ: ৮৫২ হি:) রহ লিখেছেন- رجاله ثقات – ‘এর সকল বর্ণনাকারী সিকাহ (নির্ভরযোগ্য)’। [আদ-দিরায়াহ, ইবনে হাজার- ১/১৫২] শায়েখ নিমুভী (মৃ: ১৩২২ হি:) রহ. বলেছেন- و هو اثار صحيح – “এই বর্ণনাটি সহিহ”। [আছারুস সুনান, নিমুভী- ১/২৬৬ আছার ৪০৩] শায়েখ জফর আহমদ রহ. বলেছেন- و سنده صحيح علي شرط مسلم – ‘এর সনদ ইমাম মুসলীমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ’ [ই’লাউস সুনান, উসমানী- ২/৭১]
 
# ২.২.৬ # ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ (মৃ: ২৩৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসান্নাফ’-এ হাসান সনদের সাথে বর্ণনা করেছেন যে- حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ: نا وَكِيعٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْحَكَمِ، وَعِيسَى، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ : أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ رَفَعَ يَدَيْهِ، ثُمَّ لَا يَرْفَعُهُمَا حَتَّى يَفْرُغَ . اخرجه ابن أبي شيبة في المصنف ، كتاب الصلاة ، باب من كان يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود : ٢/٦٤ رقم ٢٤٥٢ اسناده حسن٫ و اخرجه غيره ايضا – “আমাদের কাছে ওকী বর্ণনা করেছেন আবু লায়লা থেকে, তিনি হাকাম ও ঈসা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা থেকে, তিনি (সাহাবী) বারা বিন আযীব রা. থেকে (এই যে, বারা বিন আযীব রা. বলেছেন): ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন নামায শুরু করতেন তখন তিঁনি তাঁর দু হাত উঠাতেন। এরপর তিঁনি (নামায থেকে) ফারেগ হওয়া পর্যন্ত আর (কোনো স্থানেও) দু হাত উঠাতেন না [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ- ২/৬৪ হাদিস ২৪৫২; আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা, ইমাম সাহনুন মালেকী- ১/১৬৬]
 
ফায়দা: ইমাম সাহনুন বিন সাঈদ আল-মালেকী (জ: ১৬০ হি: – মৃ: ২৪০ হি:) রহ তাঁর কিতাব ‘আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা’য় এই হাদিস একই সনদ সহকারে উল্লেখ করে ইমাম মালেকের মাযহাবের পক্ষে দলিল দিয়েছেন। [আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা, ইমাম সাহনুন মালেকী- ১/১৬৬]
 
এই হাদিসটির একজন রাবী (বর্ণনাকারী) হলেন বিশিষ্ট তাবেয়ী ইবনু আবি লায়লা রহ.। স্বয়ং তাঁর আমলও ছিল রফে ইয়াদাইন না করার।  যেমন, ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ (মৃ: ২৩৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসান্নাফ’-এ নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هُشَيْمٍ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ مُسْلِمٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ: كَانَ ابْنُ أَبِي لَيْلَى، يَرْفَعُ يَدَيْهِ أَوَّلَ شَيْءٍ إِذَا كَبَّرَ. اخرجه ابن أبي شيبة في المصنف ، كتاب الصلاة ، باب من كان يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود : ٢/٦٦ رقم ٢٤٦٣ – “আমাদের কাছে মুআবিয়া বিন হুশাইম বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন মুসলীম আল-যুহানী থেকে (এই যে), তিনি বলেছেন: ‘ইবনু আবি লায়লা (নামাযের শুরুতে তাকবীরে তাহরীমার সময়) যখন তাকবীর বলতেন, (কেবল) তখনই প্রথমবার তাঁর দু হাত উঠাতেন, (তারপর নামাযের মধ্যে আর কোনো ক্ষেত্রেও তাঁর দু হাত উঠাতেন না)”। [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ – ২/৬৬ আছার ২৪৬৩]

তাবেয়ী মুহাদ্দেস আলেমগণের মধ্যে যাঁরা নামায়ের তাকবীরে তাহরীমার সময় ছাড়া বাকি আর কোথায়ও হাত উঠাতেন না

# ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ (মৃ: ২৩৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসান্নাফ’-এ সহিহ সনদের সাথে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَأَبُو أُسَامَةَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ: انَ أَصْحَابُ عَبْدِ اللَّهِ وَ أَصْحَابُ عَلِيٍّ لَا يَرْفَعُونَ أَيْدِيَهُمْ إِلَّا فِي افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ، قَالَ وَكِيعٌ ثُمَّ لَا يَعُودُونَ . رواه ابن أبي شيبة الكوفي في المصنف, كتاب الصلاة , ، باب من كان يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود : ٢/٦٥ رقم ٢٤٥٨، اسناده صحيح جدا، و قال التركماني في الجوهر النقي: ٢/٧٩ : هذا سند صحيح جليل ، و ايضا رواه امام محمد بن الحسن الشيباني في كتاب الآثار, باب افتتاح الصلاة و رفع الايدى و السجود علي العمامة : ١/١٢٧     – “আমাদের কাছে ওকী এবং আবু উসামাহ বর্ণনা করেছেন শু’বা থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি বলেছেন: ‘আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা.-এর (অনুসারী শিষ্য) সাথীগণ এবং আলী রা.-এর (অনুসারী শিষ্য) সাথীগণ নামাযের শুরুতে (তাকবীরে তাহরীমা’র সময়) ছাড়া (নামাযের আর কোথায়ও) তাদের দুই হাত উঠাতেন না; (রুকুর সময়ও নয়; রুকু থেকে ওঠার সময়ও নয়, এমনকি দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ানোর সময়ও নয়। এভাবেই তাঁরা সালাত শেষ করতেন)’। ওকী (তাঁর রেওয়ায়েতের শেষে এভাবে) বলেছেন: ثم لا يعودون – ‘অত:পর তাঁরা আর পূণরায় (রায়ে ইয়াদাইন/দু’হাত উত্তলন) করতেন না [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ – ২/৬৫ হাদিস ২৪৫৮]
 
# ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ (মৃ: ২৩৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসান্নাফ’-এ নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا ابْنُ مُبَارَكٍ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ : أَنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي أَوَّلِ التَّكْبِيرِثُمَّ لَا يَرْفَعُهُمَا . اخرجه ابن أبي شيبة في المصنف ، كتاب الصلاة ، باب من كان يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود : ٢/٦٥ رقم ٢٤٥٦ اسناده صحيح – “আমাদের কাছে (আব্দুল্লাহ) ইবনে মুবারক বর্ণনা করেছেন আশআছ থেকে, তিনি শা’বী সম্পর্কে (বলেন যে): ‘তিনি (নামাযের মধ্যে শুধুমাত্র) প্রথম তাকবীরে(র সময়) তাঁর দু’ হাত উঠাতেন, তারপর তিনি (আর কোনো স্থানেও) দু’হাত উঠাতেন না [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ – ২/৬৫ আছার ২৪৫৬]
 
# ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ (মৃ: ২৩৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসান্নাফ’-এ নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، وَمُغِيرَةُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ: أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: إِذَا كبَّرْتَ فِي فَاتِحَةِ الصَّلَاةِ فَارْفَعْ يَدَيْكَ، ثُمَّ لَا تَرْفَعْهُمَا فِيمَا بَقِيَ . اخرجه ابن أبي شيبة في المصنف ، كتاب الصلاة ، باب من كان يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود : ٢/٦٥ رقم ٢٤٥٧   – “আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হুশায়েম, তিনি বলেন: হুসাইন ও মুগীরাহ আমাদেরকে ইব্রাহীম (নখয়ী) থেকে বর্ণনা করেছেন (যে): তিঁনি বলতেন: ‘তুমি যখন নামাযের শুরুতে তাকবীর বলবে, তখন তুমি তোমার দু হাত উঠাবে। তারপর (নামাযের) বাকি অংশের কোথায়ও তুমি দু’ হাত উঠাবে না [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ – ২/৬৫ আছার ২৪৫৬]
 
# ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ (মৃ: ২৩৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসান্নাফ’-এ নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، وَمُغِيرَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: لَا تَرْفَعْ يَدَيْكَ فِي شَيْءٍ مِنَ الصَّلَاةِ إِلَّا فِي الِافْتِتَاحَةِ الْأُولَ . اخرجه ابن أبي شيبة في المصنف ، كتاب الصلاة ، باب من كان يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود : ٢/٦٥ رقم ٢٤٥٩   – “আমাদের কাছে আবু বকর বিন আইয়াশ বর্ণনা করেছেন হুসাইন ও মুগীরাহ থেকে, তারা ইব্রাহীম (নখয়ী) থেকে (বলেছেন যে): তিঁনি বলতেন: ‘তুমি নামাযের শুরু পর্যায়ে (তাকবীরে তাহরীমার সময়) প্রথমবার ছাড়া নামাযের মধ্যে আর কোনো ক্ষেত্রেও তোমার দু হাত উঠাবে না [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ – ২/৬৫ আছার ২৪৫৯]
 
# ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ (মৃ: ২৩৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসান্নাফ’-এ নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ طَلْحَةَ، عَنْ خَيْثَمَةَ، وَإِبْرَاهِيمَ، قَالَ: كَانَا لَا يَرْفَعَانِ أَيْدِيَهُمَا إِلَّا فِي بَدْءِ الصَّلَاةِ . اخرجه ابن أبي شيبة في المصنف ، كتاب الصلاة ، باب من كان يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود : ٢/٦٥ رقم ٢٤٦٠   – “আমাদের কাছে আবু বকর বিন আইয়াশ বর্ণনা করেছেন আল-হাজ্জাজ থেকে, তিনি ত্বালহা থেকে, তিনি খায়ছামাহইব্রাহীম (নখয়ী) সম্পর্কে বলেছেন: ‘তাঁরা দুজন  নামাযের শুরু পর্যায়ে (তাকবীরে তাহরীমার সময় প্রথমবার) ছাড়া (নামাযের মধ্যে আর কোনো ক্ষেত্রেও) তাঁদের দু হাত উঠাতেন না [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ – ২/৬৫ আছার ২৪৬০]
 
# ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ (মৃ: ২৩৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসান্নাফ’-এ নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: كَانَ قَيْسٌ، يَرْفَعُ يَدَيْهِ أَوَّلَ مَا يَدْخُلُ فِي الصَّلَاةِ، ثُمَّ لَا يَرْفَعُهُمَا . اخرجه ابن أبي شيبة في المصنف ، كتاب الصلاة ، باب من كان يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود : ٢/٦٥ رقم ٢٤٦١ – “আমাদের কাছে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল থেকে (এই যে), তিনি বলেছেন: ‘কায়েস যখন নামায শুরু করতেন, তখন (শুধুমাত্র তাকবীরে তাহরীমার সময় সেই) প্রথমবারই তাঁর দু হাত উঠাতেন। এরপর (নামাযের মধ্যে আর কোনো স্থানেও) তিঁনি দু হাত উঠাতেন না [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ – ২/৬৫ আছার ২৪৬১]
 
# ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ (মৃ: ২৩৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসান্নাফ’-এ নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هُشَيْمٍ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ مُسْلِمٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ: كَانَ ابْنُ أَبِي لَيْلَى، يَرْفَعُ يَدَيْهِ أَوَّلَ شَيْءٍ إِذَا كَبَّرَ. اخرجه ابن أبي شيبة في المصنف ، كتاب الصلاة ، باب من كان يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود : ٢/٦٦ رقم ٢٤٦٣ – “আমাদের কাছে মুআবিয়া বিন হুশাইম বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন মুসলীম আল-যুহানী থেকে (এই যে), তিনি বলেছেন: ‘ইবনু আবি লায়লা (নামাযের শুরুতে তাকবীরে তাহরীমার সময়) যখন তাকবীর বলতেন, (কেবল) তখনই প্রথমবার তাঁর দু হাত উঠাতেন, (তারপর নামাযের মধ্যে আর কোনো ক্ষেত্রেও তাঁর দু হাত উঠাতেন না) [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ – ২/৬৬ আছার ২৪৬৩]
 
# ইমাম আবু বকর ইবনু আবি শায়বাহ (মৃ: ২৩৫ হি:) রহ. তাঁর হাদিসের কিতাব ‘আল-মুসান্নাফ’-এ নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন- حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ الْأَسْوَدِ، وَعَلْقَمَةَ : أَنَّهُمَا كَانَا يَرْفَعَانِ أَيْدِيَهُمَا إِذَا افْتَتَحَا ثُمَّ لَا يَعُودَانِ . اخرجه ابن أبي شيبة في المصنف ، كتاب الصلاة ، باب من كان يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود : ٢/٦٦ رقم ٢٤٦٥ – “আমাদের কাছে ওকী বর্ণনা করেছেন শারীক থেকে, তিনি যাবের থেকে, তিনি আল-আসওয়াদআলকামাহ সম্পর্কে  বর্ণনা করেছেন (এই যে): ‘তাঁরা দুজন যখন নামায শুরু করতেন,  তখন তাঁরা তাদের দু হাত উঠাতেন, এরপর (নামাযের মধ্যে) আর (কোনো স্থানেও দু হাত উত্তলন) করতেন না [আল-মুসান্নাফ, ইমাম ইবনু আবি শায়বাহ – ২/৬৬ আছার ২৪৬৫]
 

রফে ইয়াদাইন (দু হাত উত্তলন) করার পক্ষের হাদিস গুলোর জবাবে হানাফী ফুকুহায়ে কেরাম যে জবাব দিয়েছেন 

আমরা এখানে ইতিপূর্বে দেখিয়ে এসেছি যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর মধ্যে অঁনেকে নামাযের মধ্যে ‘তাকবীরে তাহরীমা’র সময় ছাড়াও নামযের অপরাপর স্থানেও (যেমন রুকু ও সিজদা’র সময়) রফে ইয়াদাইন (দু হাত উত্তলন) করতেন মর্মে বহু সহিহ ও নির্ভরযোগ্য হাদিস রয়েছে। বরং, এই পক্ষের হাদিসের সংখ্যাই অনেক বেশি ও শক্তিশালী। আবার এদিকে রফে ইয়াদাইন (দু হাত উত্তলন) পরেত্যগের আমলও রাসুলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবায়ে কেরাম রা. থেকে প্রমাণিত। হানাফীগণ এর যে সকল ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার সারমর্ম হল, তাঁদের ইজতেহাদ মতে, রাসুলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবায়ে কেরাম রা. একসময় নামাযে রুকু ও সিজদা’র সময় রফে ইয়াদাইন (দু হাত উত্তলন) করার আমল করেছেন, তবে পরে তা ছেড়ে দিয়েছেন। এজন্য দু ধরনের আমলের কথা হাদিসে পাওয়া যায়। এমনকি একই সাহাবী থেকে এই বিষয়ে বিভিন্ন রকমের হাদিস ও আমল পাওয়া যায়। এর একটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-এর বর্ণিত হাদিস ও আমল সমূহ। উপরে আমরা # ২.২.৬ # নং-এ যে রেওয়ায়েতটি উল্লেখ করেছি, সেটিও হানাফীদের ইজতিহাদকে আরো শক্তিশালী করে তোলে।
 
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন হারেছ বিন আসাদ আল-কায়রাওয়ানী আল-উন্দুলুসী (মৃ: ৩৬৬ হি:) রহ. তাঁর কিতাব ‘আখবারুল ফুকাহা ওয়াল মুহাদ্দিসীন’-এ সহিহ সনদের সাথে বর্ণনা করেছেন- حدثني عثمان بن محمد قال: قال لي عبيدالله بن يحيي : حدثني عثمان بن سوادة بن عباد عن حفص بن ميسرة عن زيد بن اسلم عن عبدالله بن عمر قال : كنا مع رسول الله صلي الله عليه وسلم بمكة نرفع ايدينا في بدء الصلوة وفي داخل الصلوة عند الركوع فلما هاجر النبي صلي الله عليه وسلم الي المدينة ترك رفع يدين في داخل الصلوة عند الركوع وثبت علي رفع يدين في بدء الصلوة ۔۔۔ توفي ۔ اخرجه الإمام الحافظ أبو عبد الله محمد بن الحارث بن أسد الخشني القيرواني ثم الاندلسي في اخبار الفقهاء و المحدثين , باب عثمان: ص٢١٤ رقم ٣٧٨، اسناده صحيح – “আমার কাছে বর্ণনা করেছেন উসমান বিন মুহাম্মাদ, তিনি বলেছেন: আমাকে বলেছেন উবায়দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া, (তিনি বলেছেন) আমার কাছে উসমান বিন সাওয়াদাহ বিন আব্বাদ বর্ণনা করেছেন হাফস বিন মাইসারাহ থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন আসলাম থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন ওমর রা. থেকে (এই যে: আব্দুল্লাহ বিন ওমর রা.) বলেছেন: ‘আমরা (যখন) রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে মক্কায় ছিলাম, (তখন) আমরা নামাযের শুরুতে এবং নামাযের মধ্যে রুকুর করার সময় (আমাদের দু) হাত উঠাতাম। (পরে) নবী ﷺ যখন মদিনায় হিজরত করলেন, তখন নামাযের মধ্যে রুকু করার সময় রাফে-ইয়াদাইন (দুই হাত উত্তলন করা) পরিত্যাগ করেন এবং (শুধুমাত্র) নামাযের শুরুতে রাফে-ইয়াদাইন বহাল রেখে দেন। (আর এই আমলের উপরেই) তাঁর ওফাত হয় [আখবারুল ফুকাহা ওয়াল মুহাদ্দিসীন, ইমাম আবু আব্দুল্লাহ উন্দুলুসী- ১/২১৪ বর্ণনা নম্বর ৩৭৮]
 
এছাড়াও আলী বিন আবি ত্বালেব রা. এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর মতো প্রথম সারির ফিকাহবীদ সাহাবায়ে কেরামকে কুফাবাসী যেভাবে আমল করতে দেখেছেন এবং তাঁদের অনুসরণে তাঁদের উভয়ের সাগরেদ তাবেয়ীগণ এবং পরে তাবা-তাবেয়ীগণ যেভাবে আমল করেছেন, সে সম্পর্কিত হাদিস ও আছার এবং কুফায় তাদের পরম্পরা আমলও হানাফীদের একটি মজবুত দলিল। সুতরাং, হানাফীগণ নামাযের তাকবীরে-তাহরীমা ছাড়া বাদ বাকি স্থানে রফে ইয়াদাইন পরিত্যাগ করার যে আমল করছেন, সেটিও সুন্নাহ। আলী বিন আবি ত্বালেব রা. এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর মধ্যে কেউই রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ পরিত্যাগকারী ছিলেন না, তাও আবার নামাযের মতো সবচেয়ে বড় ইবাদতের ক্ষেত্রে। (আল্লাহ’র পানাহ)  
 

নামাযে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে রফে ইয়াদাইন ‘করা’ এবং ‘না করা’ -দুটোই সুন্নাহ; উভয় পক্ষই সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করছেন

এব্যাপারে চমৎকার কথা বলেছেন ইমাম ইবনে হাযাম (জ: ৩৮৪ হি: – মৃ: ৪৫৬ হি:) রহ. তাঁর ‘আল-মুহাল্লা’ কিতাবে। তিনি বলেছেন- فلما صح أنه عليه السلام كان يرفع في كل خفض ورفع بعد تكبيرة الاحرام ولا يرفع، كان كل ذلك مباحا لا فرضا، وكان لنا أن نصلى كذلك، فان رفعنا صلينا كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلى، وان لم نرفع فقد صلينا كما كان عليه السلام يصلى – “যখন সহিহ সূত্রে একথা প্রমাণিত হল যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ (নামাযের মধ্যে) তাকবীরে তাহরীমার পর প্রত্যেক ঝোঁকা ও ওঠার স্থানে (দু হাত) উত্তলন করতেন এবং করতেন না, কাজেই (করা, না করার) ওই প্রত্যেকটি আমলই মুবাহ (অনুমোদিত); (কোনো) ফরয (আমল) নয়। আমাদের জন্য ওভাবে নামায পড়তে পারি। আমরা যদি রফে-ইয়াদাইন করি, তাহলেও আমরা ওইভাবে নামায পড়লাম যেভাবে রাসুলুল্লাহ ﷺ নামায পড়েছেন। আবার আমরা যদি রফে-ইয়াদাইন না করি, তাহলেও আমরা ওইভাবেই নামায পড়লাম যেভাবে রাসুলুল্লাহ ﷺ নামায পড়েছেন”। [আল-মুহাল্লা, ইমাম ইবনে হাযাম- ৩/২৩৫]
 
 
 

>>> পর্ব-১নামাযে রফে ইয়াদাইন করার দলিল – সহিহ হাদিস ও আছার থেকে<<< দেখতে লিখাটির উপরে ক্লিক করুন