হাদিসে জিহাদের ফজিলত ও গুরুত্ব – ক্বিতাল ফি সাবিলিল্লাহ

হাদিসে জিহাদের ফজিলত ও গুরুত্ব – ক্বিতাল ফি সাবিলিল্লাহ

 

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَليٰ مُحَمَّدٍ النبي الأمي عَدَدَ خَلْقِك وَ رِضَا نَفْسِك وَزِنَةَ عَرْشِك وَ مِدَادَ كَلِمَاتِك، صَلِّ عَليه صَلاَةً كَامِلَةً دَائِمَةً كَمَا يَنْبَغِي أَنْ يُصَلَّى عَلَيهِ وَ سَلِّمْ تَسلِيمَاً بِقَدرِ عَظَمَةِ ذَاتِكَ فِى كُلِّ وَقتٍ وَ حِين، صلاة تكون لك رضاء و له جزاء، صلاة لا غاية لها ولا منتهى ولا انقضاء باقية ببقائك الى يوم الدين ، و اعطه الوسيلة و الفضيلة و المقام المحمود الذي وعدته، و اجزه عنا ما هو اهله، و على اله وأصحابه و أزواجه و ذريته و أهل بيته و سلم تسليما مثل ذلك، اَللّٰهُمَّ اجمعني معه في الفردوس و جنة المأوى، اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَليٰ مُحَمَّدٍ صَلوٰةً تُنَجِّيْنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ الْأَهْوَالِ وَاْلآفَاتِ وَتَقْضِيْ لَنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ الْحَاجَاتِ وَتُطَهِّرُنَا بِهَا مِنْ جَمِيْعِ السَّيِّاٰتِ وَتَرْفَعُنَا بِهَا عِنْدَكَ اَعْليٰ الدَّرَجَاتِ وَتُبَلِّغُنَا بِهَا اَقْصىٰ الْغَايَاتِ مِنْ جَمِيْعِ الْخَيْرَاتِ فِي الْحَيَاتِ وَبَعْدَ الْمَمَاتِ- اِنَّكَ عَليٰ كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٍ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ

[উল্লেখ্য, এখানে উল্লেখিত যে কোনো বর্ণনা কোনো বিজ্ঞ মুহাদ্দেস ও মুহাক্কেক আলেমের পরামর্শ ব্যাতীত কারো কাছে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে আমার অযোগ্যতার কারণে এখানে কোনো উল্লেখযোগ্য ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধন করে নেয়ার আগেই মানব সমাজে ছড়িয়ে না যায়। এগুলো পড়ুন ইলম অর্জনের জন্য এবং যোগ্য আলেম থেকে তা বুঝিয়ে নিন। আর কোনো যোগ্য চোখে উল্লেখযোগ্য ভুল ধরা পড়লে তা আমাকে অবগত করুন।] 

 

# আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি এরশাদ করেন- جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ يَعْدِلُ الْجِهَادَ قَالَ لَا أَجِدُهُ قَالَ هَلْ تَسْتَطِيعُ إِذَا خَرَجَ الْمُجَاهِدُ أَنْ تَدْخُلَ مَسْجِدَكَ فَتَقُومَ وَ لَا تَفْتُرَ وَتَصُومَ وَ لَا تُفْطِرَ قَالَ وَمَنْ يَسْتَطِيعُ ذَلِكَ . رواه البخاري في صحيحه : رقم ٢٧٨٥، و احمد في مسنده : ٢/٣٤٥ قال احمد شاكر : ٨/٣٤٣ رقم ٨٥٢١ : اسناده صحيح  – “(একবার) এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে বললো: ‘আমাকে এমন আমলের কথা জানান, যা জিহাদের বরাবর হয়’। তিনি বললেন: ‘আমি তা পাচ্ছি না’। (তারপর) বললেন: ‘(তুমি ঘরে বসে মুজাহিদের সমান ফজিলত পেতে চাও!) তোমার পক্ষে কি এটা সম্ভব যে, মুজাহিদ যখন (জিহাদের ‍উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে) বের হবে, তখন তুমি মসজিদে প্রবেশ করে নামায পড়তে থাকবে, (আর তাতে) ক্লান্ত হবে না এবং (অনবরত) রোযা রাখতে থাকবে, (আর তা) ভাংবে না’? সে বললো: ‘সেটা কার পক্ষে সম্ভব’?! [সহিহ বুখারী, হাদিস ২৬১৬; মুসনাদে আহমদ- ৮/৩৪৩]

# মুআয বিন যাবাল রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ (একবার) এরশাদ করলেন- أَلاَ أُخْبِرُكَ بِرَأْسِ الأَمْرِِ وَعَمُودِهِ وَذِرْوَةِ سَنَامِهِ؟ قُلْتُ: بَلى يَا رسولَ اللهِ . قالَ : رَأْسُ الأَمْرِ الإِسْلاَمُ، وَعَمُودُهُ الصَّلاَةُ، وَذِرْوَةُ سَنَامِهِ الْجِهَادُ . رواه التِّرمذيُّ في سننه , كتاب الإيمان عن رسول الله صلى الله عليه وسلم : رقم ٢٦١٦ , وقالَ: حديث حسن صَحيح ، و صححه الألباني في صحيح الترمذي، أخرجه ايضا ابن ماجه في سننه : رقم ٣٩٧٢ ، و الحاكم في المستدرك : ٢/٧٦ و صححه – “আমি কি তোমাকে দ্বীনের মস্তক, সেটার স্তম্ভ ও তার সর্বোচ্চ চুড়া’র ব্যাপারে জানাবো না’? আমি বললাম: ‘অবশ্যই (বলুন), ইয়া রাসুলাল্লাহ! (তখন) তিঁনি এরশাদ করলেন: ‘দ্বীনের মস্তক হল ইসলাম, তার স্তম্ভ হল নামায এবং তার সর্বোচ্চ চুড়া হল ‘আল-জিহাদ”। [সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২৬১৬; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৭২; মুসতাদরাকে হাকিম- ২/৭৬]

# মুআয বিন যাবাল রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فُوَاقَ نَاقَةٍ فَقَدْ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ ، وَمَنْ سَأَلَ اللَّهَ الْقَتْلَ مِنْ نَفْسِهِ صَادِقًا ، ثُمَّ مَاتَ أَوْ قُتِلَ ، فَإِنَّ لَهُ أَجْرَ شَهِيدٍ زَادَ ابْنُ الْمُصَفَّى مِنْ هُنَا : وَمَنْ جُرِحَ جُرْحًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ، أَوْ نُكِبَ نَكْبَةً ، فَإِنَّهَا تَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَغْزَرِ مَا كَانَتْ : لَوْنُهَا لَوْنُ الزَّعْفَرَانِ وَرِيحُهَا رِيحُ الْمِسْكِ ، وَمَنْ خَرَجَ بِهِ خُرَاجٌ فِي سَبِيلِ اللَّهَ ، فَإِنَّ عَلَيْهِ طَابَعَ الشُّهَدَاءِ . ﺧﺮﺟﻪ ﻭﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ في سننه , كِتَاب الْجِهَادِ, بَابٌ فِيمَنْ سَأَلَ اللَّهَ تَعَالَى الشَّهَادَةَ : ٣/٢١ رقم ٢٥٤١ ، ﻭ ﺍﻟﺘﺮمذﻯ في سننه : ٤/١٨٥ رقم ١٦٥٧ ‏، و ﺃﺣﻤد في مسنده : ٥/٢٤٤ رقم ٢٢١٦٩ ، ﻭ غيرهم و صححه الألباني في صحيح أبي داود – “যে ব্যাক্তি -উটের দুধ দোহনের সময়টুকু পরিমান (হলেও)- আল্লাহ’র পথে ক্বিতাল (সশস্ত্র জিহাদ) করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। আর যে ব্যাক্তি সত্যসত্যই আন্তরিক ভাবে আল্লাহ’র কাছে (জিহাদের ময়দানে দুশমনের হাতে) নিহত হওয়ার কামনা করে অত:পর (তার আগেই) মাড়া যায় কিংবা নিহত হয়, তার জন্য একজন শহিদের পুরষ্কার রয়েছে”। আর (রাবী) ইবনে মুসফফা অতিরিক্ত এও বর্ণনা করেছে: ‘যে ব্যাক্তি আল্লাহ’র পথে ক্ষতগ্রস্থ/আঘাতপ্রাপ্ত হয় কিংবা কোনো মুসিবতের সম্মুখীন হয়, নিশ্চই কেয়ামতের দিন ওসব (ক্ষত/আঘাত বা মুসিবত এমন ভাবে) হাজির হবে (যে,) তা (দুনিয়াতে) যেমন ছিল (ওখানে তার চাইতে) আরো অধিক পরিমানের মতো হবে। ওসব (ক্ষত/আঘাতের স্থানে)-এর রং হবে ফারান রং (যেমন হয়) এবং ওগুলোর গন্ধ হবে মিশকের সুবাস (যেমন হয়)। আর যে ব্যাক্তি শরীরের খোসপাচড়া নিয়েই আল্লাহ’র পথে বের হয়, নিশ্চই তার উপরে শহিদগণের মোহড় মেড়ে দেয়া হয়”। [সুনানে আবু দাউদ– ৩/২১ হাদিস ২৫৪১; সুনানে তিরমিযী-৪/১৮৫ হাদিস ১৬৫৭; মুসনাদে আহমদ– ৫/২৪৪ হাদিস ২২১৬৯; সুনানে ইবনে মাজাহ- ২/৯৩৩ হাদিস ২৭৯২; মুসতাদরাকে হাকিম- ২/৮৭; সহিহ ইবনে হিব্বান-১০/৪৭৮ হাদিস ৪৬১৮]

# আবু সাঈদ খুদরী রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- عَلَيْكَ بِتَقْوَى اللَّهِ فَإِنَّهَا جِمَاعُ كُلِّ خَيْرٍ ، وَعَلَيْكَ بِالْجِهَادِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ، فَإِنَّهَا رَهْبَانِيَّةُ الْمُسْلِمِينَ . رواه الطبراني في الصغير, باب الميم , من اسمه محمد: رقم ، قال الألباني في صحيح الترغيب: ٣/٩٦ رقم ٢٨٦٩ : صحيح لغيره – “আল্লাহ-ভীতিকে তোমার উপরে অত্যাবশ্যক করে নাও। কারণ, এটা সকল কল্যানের সমষ্টি। আর আল্লাহ’র পথে জিহাদকে তোমার উপরে অপরিহার্য করে নাও। কারণ, এটা মুসলমানদের রাহাবানিয়্যাত (দরবেশী/দুনিয়া-বিমুখতা)”। [আল-মু’জামুস সাগীর, ইমাম তাবরানী- ২/৬৬; মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১/৪৪২; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ২/৬০]