ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা আ.-এর আগমন অচিরেই : দলিল ও সত্য স্বপ্ন

৩য় বিশ্বযুদ্ধের রেশ ধরে ইমাম মাহদী , দাজ্জাল ও ঈসা আ.-এর আবির্ভাব অচিরেই : মহানবী ﷺ-এর বহু ভবিষ্যৎবাণী এবং সত্য স্বপ্ন সাক্ষ্য দিচ্ছে
 

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته

 

ইমাম মাহদী,ইমাম মাহদী রা. তবে কখন আসবেন তা শুধু শুধু আল্লাহ তাআলাই জানেন। তবে নির্ভরযোগ্য বহু রেওয়ায়েত দ্বারা প্রমাণিত যে, ইমাম মাহদী রা. আসবেন আখেরী জামানায়। (রেওয়ায়েতগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন)।

এখন প্রশ্ন হল, ইমাম মাহদী রা. আসার সময় কি হয়ে গেছে, নাকি আরো বহু দেরি রয়েছে? আজ ২০১৯ ইং সালে এসে আমরা এব্যাপারে ৩ ধরনের মত দেখতে পাচ্ছি।

(১) একটি মত হল, আমরা এখনো আরেখী জামানাতে প্রবেশই করিনি, সেখানে ইমাম মাহদী রা-এর আগমনের সময় হয়ে আসার দাবী করাটাই অযৌক্তিক।

(২) দ্বিতীয় একটি মত হল, ইমাম মাহদী রা. আসার পূর্বের প্রায় সকল আলামত ও লক্ষন প্রকাশ পেয়ে গেছে এবং দু-একটি যা বাকি আছে তার প্লাটফরমও তৈরী হতে চলেছে বলে অনুভূত হচ্ছে।

পৃথিবীর বহু ওলামায়ে কেরাম যাঁরা হাদিস ও আছারের প্রসস্থ ভান্ডারের উপরে গভীর নজর রাখার পাশাপাশি বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির উপরেও যথেষ্ঠ ভাল ধারনা রাখেন, তাদের অনেককেই এই ধরনের মত পোষন করতে দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তানের মুফতিয়ে আজম মুফতি মওলানা রফি উসমানী সাহেবের একটি বয়ান শোনার পর আমার মনে হয়েছে, তিনিও এই এরকম মত পোষন করেন। [বয়ানটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন]।

(৩) তৃতীয় একটি মত হল, আমরা আখেরী জামানার ভিতরে প্রবেশ করেছি আজ থেকে বহু আগেই, এখন-তো ইমাম মাহদী রা. আসার পর্বটি একেবারেই দারগোড়ায় চলে এসেছে।

বিশ্বের অনেকই- ‘আখেরী জামানা’, ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ইত্যাদি সম্পর্কিত রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণিত বহু ভবিষ্যৎবাণী, বর্তমান বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে ওগুলোর অভাবনীয় মিল ও নির্ভরোযোগ্য বহু মুমিন নারী-পুরুষের বহু স্বপ্নের উপরে দৃষ্টি রেখে ইশারা দিচ্ছেন যে, ইমাম মাহদী রা. আনুমানিক ২০১৯ ইং থেকে ২০২৪ ইং-এর হজ্জের মৌসুমেই আসার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। (সঠিক সময় আল্লাহই ভাল জানেন)

এ সম্পর্কে আমার ঝোঁক -৩য় মতটির দিকে:

‘জি হ্যাঁ, আমার সুচিন্তিত মত হল, উপরের ৩য় মতটি ফলার সম্ভাবনা অধিক এবং এত বড় দাবীর স্বপক্ষে পেশ করার মতো অনেক কিছুই রয়েছে, যা আমি নিচে পেশ করছি। শুধু অনুরোধ, সংকীর্ন মন নিয়ে নয়, অনেক বড় খোলা মন নিয়ে আলোচনাটি পড়ুন।

(১) আমরা আখেরী জামানায় প্রবেশ করেছি বহু আগেই:-

আমরা এই ওয়েবসাইটের ‘‘ভবিষ্যৎবাণী’ সিরিজে প্রমাণ করে এসেছি যে, আমরা আখেরী জামানার সীমার ভিতরে ঢুকে পড়েছে আজ থেকে বহু আগেই। [আমার মতে, কম করে হলেও আজ ২০১৯ ইং থেকে প্রায় ৭০/৮০ বছর আগে। আমি-তো আরো সাহস করে বলতে চাই যে, আখেরী জামানায় প্রবেশ করার আজ প্রায় ১’শ বছর হয়ে আসছে, কিংবা তারও বেশি। এ দাবী কেনো করছি, তার মজবুৎ একটা ধারণা পাবেন -এ বর্ণিত হাদিস ও আছারগুলোর অধিনে লিখিত ‘ফায়দা’ সমূহের মধ্যে]।

আমাদের ‘‘ভবিষ্যৎবাণী’ সিরিজ থেকে দিবালোকের ন্যায় প্রমাণিত হয় যে, যারা মনে করেন যে, ‘আমরা এখনো আখেরী জামানার ভিতরেই প্রবেশ করিনি’, তারা একটা বড়সড় ভুলের উপরে রয়েছেন’। [তাদের এরকম চিন্তাধারার কারণ কী -তা আমরা নিচে শেষের দিকে তুলে ধরার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ]।

(২) ইমাম মাহদী রা. আসবেন আখেরী জামানার প্রথম অংশে:-

বহু হাদিস ও আছার প্রমাণ করে যে, ইমাম মাহদী রা. আসবেন আখেরী জামানায়। যেমন, আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- يَخْرُجُ فِي آخِرِ أُمَّتِي الْمَهْدِيُّ يَسْقِيهِ اللَّهُ الْغَيْثَ ، وَتُخْرِجُ الْأَرْضُ نَبَاتَهَا، وَ يُعْطِي الْمَالَ صِحَاحًا ، وَتَكْثُرُ الْمَاشِيَةُ وَتَعْظُمُ الْأُمَّةُ ، يَعِيشُ سَبْعًا أَوْ ثَمَانِيًا . اخرجه الحاكم فى المستدرك , كتاب الفتن والملاحم , المهدي يعيش سبعا أو ثمانيا : ٤/٦٠١ , وقال : هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه ، ووافقه الذهبي . وقال الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة : ٢/٣٣٦ رقم ٧١١ : هذا سند صحيح رجاله ثقات – ‘আমার উম্মতের শেষভাগে আল-মাহদী’র আবির্ভাব হবে। আল্লাহ তাকে প্রচুর (বরকতের) বৃষ্টি চাখাবেন এবং জমিন তার ফলন দিবে। তিনি (মানুষকে) সহিহ ভাবে ধ্বনসম্পদ দান করবেন। গবাদী পশু বেড়ে যাবে, উম্মত সম্মানীত হবে। তিনি সাত কিংবা আট বছর জীবিত থাকবেন’। [মুস্তাদরাকে হাকিম-৪/৬০১]

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে- ইমাম মাহদী রা. আখেরী জামানায় আসবেন -হাদিসের আলোকে তাতে-তো কোনো সন্দেহ নেই, এর সাথে আপনাদের ‘‘ভবিষ্যৎবাণী’ সিরিজে বর্ণিত ব্যাখ্যাগুলোর আলোকে যদি ধরেও নেই যে, আমরা আখেরী জামানায় প্রবেশ করেছি আজ থেকে কমপক্ষে ৭০/৮০ বছর কিংবা তারও বহু আগে, তারপরও কি করে বলা যায় যে, ‘অচিরেই ইমাম মাহদীর আগমন ঘটতে যাচ্ছে’, যেখানে আখেরী জামানার শুরু থেকে কেয়ামত কায়েমের দিন পর্যন্ত সময়ের দৈর্ঘ কতবড় তা আল্লাহ ছাড়া কারোরই জানা নেই এবং ইমাম মাহদী আ. এই দীর্ঘ সময়ের ভিতরে ঠিক কখন কোন সময় আসবেন তাও পরিষ্কার বলা নেই ?!!!

এখন প্রশ্ন হল, শেষ জামানার কোন অংশে ইমাম মাহদী রা. আসবেন। এর জবাব এক পৃষ্ঠার মধ্যেই কি করে দেয়া সম্ভব? আপনি বরং আমাদের ‘নবীজীর ভবিষ্যৎবাণী’ সিরিজের যাবতীয় হাদিস ও আছারগুলো ভাল করে পড়ুন, একটা আইডিয়া পাবেন। সংক্ষেপে ধারাটি হবে এই:-

(৩) মুসলমানদের নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন স্বপ্ন ও সুখবর:-

আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ لَمْ تَكَدْ تَكْذِبُ رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ وَرُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنْ النُّبُوَّةِ . رواه بخاري في صحيحه , كتاب التعبير , باب القيد في المنام : رقم ٧٠١٧ ، ومسلم في صحيحه : رقم ٢٢٦٣ – “যখন (কেয়ামতের নিকটবর্তী) জামানা ঘনিয়ে আসবে, (সেই আখেরী জামানায়) মুমিনের স্বপ্ন কদাচই মিথ্যা হবে’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৭০১৭; সহিহ মুসলীম, হাদিস ২২৬৩]

এই হাদিসে ‘আখেরী জামানা’র মুমিন নর-নারীদের স্বপ্নের দিকে ইশারা করা হয়েছে। আর আমরা যখন বহু আগেই ‘আখেরী জামানা’য় প্রবেশ করে ফেলেছি, তখন এ জামানার কিছু মুমিনের স্বপ্ন -যা অন্ততঃ আমার কাছে নির্ভরযোগ্য বলে অনুভূত হয়েছে- আমি তা এখানে যুক্ত করে দিচ্ছি, যা আমাদের উপরোক্ত দাবীকে আরো শক্তিশালী করে তোলে। [ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন ]

আমার অনুরোধ, সামনে অগ্রসর হওয়ার আগে প্রথমেই এখানে ক্লিক করুন এবং ভিডিওটি আগা-গোড়া ভাল করে দেখে নিন, এতে করে আমাদের সামনের আলোচনাটি বোঝা আপনার জন্য অনেকটা সহজ হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি। কারণ, এই ভিডিওটিতে যে গুটি কয়েক স্বপ্ন ও খবর বর্ণিত হয়েছে, তার প্রত্যেকটিকেই অন্ততঃ আমার কাছে সন্দেহাতীত মাত্রার নির্ভরযোগ্য সুসংবাদ বলে মনে হয়েছে, এজন্য আমি তা দায়িত্ব নিয়ে তা এই ব্লগে যুক্ত করে দিয়েছি।

এই ভিডিওতে যা পাবেন:-

(ক) জানুয়ারী ৬, ২০০৭ ইং সালে আমেরিকার নিউ-জার্সিতে অনুষ্ঠিত একটি ঘরোয়া মজলিসে ১৫ বছর বয়সী এক মুসলীম মেয়ে তার দেখা একটি আশ্চর্যজনক স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে আলোচক শায়েখ সুফী হিশাম কাব্বানীর কাছে। স্বপ্নের সার-সংক্ষেপ হল, মেয়েটি স্বপ্নে তার উট হারিয়ে ফেলে। পরে সে উম্মুল মু’মিনিন আয়েশা রা.-এর দেখা পায় এবং আয়েশা রা. তাকে রাসুলুল্লাহ সা.-এর কাছে নিয়ে যান। এরপর সে দেখে যে, আকাশ থেকে একটি সিংহাসন নেমে এসে আবু-জাহলের পায়ের কাছে এল, তারপর সেটা আবু-জাহলের পা থেকে তার পায়ের মধ্যে চলে এত, যার কারণে সে পায়ে ব্যাথা অনুভব করছিল। তখন সে দেখে যে, নবী ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. তার কাছে এসে বলছেন যে, ‘হে ছোট মেয়ে, তুমি কোনো চিন্তা করো না, তুমি আমার স্ত্রী হবে’।

শায়েখ সুফী হিশাম কাব্বানীর এই স্বপ্নের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দানের চেষ্টা করেছেন এবং বলেছেন যে, ইমাম মাহদী ও ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. আগমনের সময় খুবই কাছে চলে এসেছে। কারণ, ২০০৭ ইং সালে মেয়েটির বয়স যদি ১৫ বছর হয়, তাহলে গত ২০১৭ ইং সালে তার বয়স দাঁড়ায় ২৫ বছর। আর আমরা জানি ইমাম মাহদী’র আবির্ভাবের প্রায় ৬/৭ বছর পর ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. আসমান থেকে দ্বিতীয়বারের মতো নাজিল হবেন (যখন তাঁর বয়স থাকবে ৩৩ বছর বয়সী যুবক), বিয়ে করবেন, বাচ্চাও হবে এবং ৪০( চল্লিশ) বছর পর্যন্ত জীবিত থাকবেন (আমার ব্যাক্তিগত গবেষনা মতে, তাঁর ৩৩ বছর + আরো ৪০ বছর= মোট ৭৩ বছর বয়সের হিসেবে নয়, বরং ৩৩ বছর + আরো ৭ বছর = মোট ৪০ বছর পর্যন্ত বয়স হওয়ার হিসাব হবে। আল্লাহই ভাল জানেন)। সে যাই হোক, ঈসা আ. কত বছর বয়সী মেয়ে বিয়ে করবেন,মেয়েটি তাঁর চেয় বয়সে বড় হবে না ছোট -তার কোনো উল্লেখ কোনো রেওয়ায়েতে আছে মর্মে আমার নজরে পরেনি। তবে ঈসা আ. যদি তাঁর নাজিল হওয়ার বছরেই তাঁর একেবারে সমবয়সী মেয়েকে বিয়ে করেন, তাহলেও ২০১৭ ইং সালে উপরোক্ত প্রশ্নকারী মেয়েটির ২৫ বছর বয়স হিসেবে ২০১৭ ইং থেকে মাত্র (৩৩ বছর – ২৫ বছর = ৮ বছর) হাতে থাকার কথা ঈসা আ. নাজিল হওয়ার। অর্থাৎ, উপরোক্ত স্বপ্নটি যদি সত্য হয়, তাহলে ২০১৭ ইং সালের প্রায় ৮ বছর পর ২০২৫ ইং সালের দিকে ঈসা আ. নাজিল হওয়ার আশা করা যায়। আর যেহেতু ঈসা আ.-এর প্রায় ৬/৭ বছর আগে ইমাম মাহদী রা. আসবেন, তাহলে ২০২৫ ইং থেকে ৬/৭ বছর বিয়োগ দিলে-তো ২০১৯ ইং সালের দিকেই ইমাম মাহদী রা. আসার ইশারা পাওয়া যায় !!! ঈসা আ.-এর ৩৩ বছর বলতে-তো একেবারে ৩৩ বছরের ১লা মহররম নয়, ৩৩-এর সাথে কিছু মাসও তো যক্তি থাকতে পারে। এমনি ভাবে ইমাম মাহদীর আগমের ৬/৭ বছর বলতে-তো একেবারে কাটায় কাটায় ৬/৭ বছর বোঝায় না, বরং সাথে কিছু মাস ও দিনও তো যুক্ত থাকবে। এই হিসেবে ২০১৯ বা ২০২০ ইং -এর মধ্যে ইমাম মাহদী রা. আসার কি ইংগীত আমরা উক্ত স্বপ্ন থেকে পাই না ? আর যদি ওই মেয়ে স্বপ্ন দেখার দ্বারা শায়েখ কাব্বানীর ব্যাখ্যা মতে সে নিজে উদ্দেশ্য না হয়ে তারই অন্য কোনো পরিচিত মেয়ের সাথে (যার বয়স আমরা জানিনা) ঈসা আ.-এর বিয়ের ইংগীত উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলেও কি আমরা ২০১৯ ইং থেকে ২০২৪/২৫ ইং সালের মধ্যে ইমাম মাহদী রা. আগমের সম্ভাবনা দেখতে পাইনা ?

(খ) বাংলাদেশের পরিচিত মুখ মুফতি কাজি ইব্রাহীম দা:বা: বলছেন যে, তার ভাই ইউসুফ (যিনি মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র) তার এক বন্ধুর দেখা একটি স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলেন, যে বন্ধুটি একসময় (মুহাম্মাদুল্লাহ) হাফিজজী হুজুর রহ.-এর সাথে সম্পর্ক রাখতো। বন্ধুটি একবার স্বপ্নে দেখেন যে, ‘হাফিজজী হুজুর রহ. তাকে স্বপ্নে বলছেন যে, ২০১৯ সালে ইমাম মাহদী রা.-এর বয়স হবে ৪০ (চল্লিশ) বছর’। ইউসুফ সাহেব তার বড় ভাই মুফতি কাজি ইব্রাহীম দা:বা:-এর কাছে এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলেন।

মুফতি কাজি ইব্রাহীম দা:বা: এই ভিডিওতে বলেছেন যে, (স্বপ্নটি অনুসারে) এটা শুধু হাফিজজী হুজুরের কথা নয়, বরং এটা বিশ্বের বহু স্কলারদেরও ধারনা। দেখুন, এই স্বপ্নটিও বলছে ২০১৯ ইং সালের কথা। আমরা উপরোক্ত মেয়ের স্বপ্নটির যে হিসেব কষে দেখিয়েছে, তার সাথে এই স্বপ্নের কি কোনো মিল নেই।

(গ) শায়েখ ঈসা বাদওয়ান ফিলিস্তিনী গত ৬ ফেবৃুয়ারী ২০০৮ ইং তারিখে গাজা’র ‘আল-আকসা টিভি’তে অনুষ্ঠিত এক সাক্ষাতকারে (যা https://www.memri.org -এ “PALESTINIAN CLERIC ISSA BADWAN: THE MAHDI WAS BORN IN PALESTINE FOUR YEARS AGO; MUSLIM CONQUEST OF ROME IS IMMINENT” নামে ইংরেজী অনুবাদ সহ সংযুক্ত করা রয়েছে) বলছিলেন যে, তার বিশ্বস্ত এক পরিচিত ব্যাক্তি (যার নাম তিনি নিরাপত্তার জন্য উল্লেখ করতে চাননি) তাকে (২০০৮ ইং-এর) ৪ বছর আগে ওনার নিজের সামনে ঘটে যাওয়া একটি আশ্চর্যজনক ঘটনার কথা শুনিয়েছেন। ঘটনাটি হল, ওই ব্যাক্তিটি একদিন গাড়িতে করে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথে এক বৃদ্ধা মহিলা অনুরোধ জানায় তাকে একটি হাসপাতালে পৌছে দিতে, যেখানে তার মেয়ে একটি শিশু প্রসব করেছে। লোকটি দয়াপরবশ হয়ে তাকে সেই হাসপাতালে পৌছে দেয়। কিন্তু বৃদ্ধা মহিলাটি অনুরোধ জানায় তাকে তার মেয়ে ও নাতি সহ বাড়িতে পৌছে দিতে। লোকটি সেই অনুরোধও রক্ষা করেন। ফলে হাসপাতালে কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর বৃদ্ধাটি তার মেয়ে ও নাতি সহ বেড়িয়ে এসে গাড়িতে চড়ে। তখন শিশুটি গাড়ির সকলকে সালাম দিয়ে একথা বলেছে যে, ‘আমিই হলাম সে যাকে দাজ্জাল কতল করবে এবং তারপর আর কাউকে কতল করতে পারে না’। শায়েখ ঈসা বাদওয়ান ফিলিস্তিনী সেই সাক্ষাতকারে আরো বলেছেন যে, ঘটনাটি তিনি শায়েখ নিসার সহ আরো অনেকের কাছে আলোচনা করেছিলেন, বাচ্চাটি ফিলিস্তিনে আছে, তার যত্ন নেয়া হচ্ছে এবং তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

[উল্লেখ্য, এই সাক্ষাতকারের পর ২০০৮/০৯ ইং-এ ইসরাঈল কর্তৃক রাসায়নীক গ্যাস ও বোমা নিক্ষেপের ফলে প্রায় ১৪০০ শিশু নিহত হয় এবং প্রায় ৪০০০ শিশু আহত হয়। এই সাক্ষাতকারের প্রায় ১১ মাস পর ইসরাঈল তাদের এফ-১৬ ফাইটার বিমানের ২০০০ পাউন্ড শেল-বোমা দিয়ে গাজা’র অন্যতম প্রভাবশালী শায়েখ নেসারকে তার স্ত্রী ও ১১ সন্তান সহ শহিদ করে দেয়। এরপর ২০১২ ইং সালের ১৯ নভেম্বর তারিখে ইসরাঈল গাজা’র ‘আল-আকসা টিভি চ্যানেলের মূল বিল্ডিং-কে বোমা মেড়ে ধ্বংস করে দেয়।]

উপরের বর্ণনা অনুসারে, শিশুটির বয়স এখন (২০১৯ ইং সালে) প্রায় ১৫ বছরের মতো। সে যদি বাস্তবেই ওই যুবক হয়ে থাকে যাকে দাজ্জাল কতল করে আবার জীবিত করবে মর্মে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তাহলে সে একজন ২০ বছর বয়সী যবক হবে আগামী ২০২৪/২০২৫ ইং সালের দিকে এবং একজন ২৫ বছর বয়সী যবক হবে আগামী ২০২৯/২০৩০ ইং সালের দিকে। আমার এমন কোনো রেওয়ায়েত চোখে পড়েনি, যেখানে উল্লেখ আছে যে, তার কত বছর বয়সে দাজ্জাল তাকে কতল করবে। যদি অনুমান করে তার ২৫ বছর বয়সটিকে ধরি, তাহলে ২০২৯/২০৩০ ইং সালের প্রায় ৭ বছর আগে ইমাম মাহদী রা. আসার একটা আইডিয়ামূলক সময় পাওয়া যায় প্রায় ২০২২/২০২৩ ইং সালের দিকে। আর যদি যুবকটি ২৫ বছরের আগেই (যেমন ২২/২৩ বছরের দিকে) কতল হয়, তাহলে ইমাম মাহদী রা. আসার সময় আরো এগিয়ে ২০১৯/২০২০ ইং সালের দিকে অনুভূত হয়, যে সাল টি উপরের অপরাপর স্বপ্নগুলোর সম্ভাব্য সালের অনুরূপ।

(ঘ) আখেরী জামানার উপরে মশহুর আলোচক শায়েখ ইমরান হোসেইন ২০০২ ইং সালে এক আলোচনায় তার নিজের দেখা দুটি স্বপ্ন এভাবে বর্ণনা দেন। তিনি বলেন যে, তিনি ১৯৯৯ ইং সালে একটি স্বপ্ন দেখেন যে, ‘তিনি আমেরিকার ম্যানহ্যাটেন দ্বীপের এক পাশে দাঁড়িয়ে আছেন এবং অনেকগুলো অতীব উচু উচু বিল্ডিং-এর উপরে আগুনের কুন্ডলি আছড়ে পড়ছে এবং ওই আগুনের কুন্ডলিগুলো এক বিল্ডিং থেকে আরেক বিল্ডিং-এ লাফিয়ে লাফিয়ে চলতে চলতে অবশেষে ম্যানহ্যাটেনের বাইরে গিয়ে তা গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লো’। এই স্বপ্নের প্রায় ২ বছর পর ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইনটাওয়ারে হামলার ঘটনা ঘটে, যা ‘৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা’ নামে বিশ্বে পরিচিত। তিনি আরো বলেন যে, ওই ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই তাকে যেতে হয় ইরানে একটি নকফারেন্সে শরিক হতে। সেখানে তিনি একই রাতে একই স্বপ্ন দুই দুইবার দেখেন। তিনি দেখেন যে, ‘অনেকগুলো নিউক্লিয়ার মিসাইল আকাশের দিকে ছোড়া হল, যা নিউক্লিয়ার যুদ্ধের দিকে ইংগীত করলো। তিনি আরো দেখলেন যে, পাকিস্তান সেই নিউক্লিয়ার যুদ্ধে অংশ নিয়েছে’।

শায়েখ ইমরান হোসেইন উপরোক্ত আলোচনায় বলেছেন যে, ১৯৯৯ সালে তার দেখা স্বপ্নটি মাত্র ২ বছর পর তথা ২০০১ সালে ‘আমেরিকার টুইনটাওয়ারে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা’ আকারে ফলে যায়। তার ধারনা, ২০০১ সালে ইরানে দেখা তার “নিউক্লিয়ার যুদ্ধ বিষয়ক” স্বপ্নটি আল্লাহ’র পক্ষ থেকে তার প্রতি একটি আগাম ইশারা যে, সামনে অচিরেই গোটা পৃথিবীতে “নিউক্লিয়ার যুদ্ধ” শুরু হতে যাচ্ছে এবং তার মতে এই “নিউক্লিয়ার যুদ্ধ”টিই হবে আখেরী জামানার সেই ‘মালহামাতুল কুবরা’ (মহাযুদ্ধ) যার রেশ ধরে ইমাম মাহদীর আবির্ভূত হবেন। শায়েখ ইমরান হোসেইন ধারনা করেছিলেন, ১৯৯৯ সালের স্বপ্নটির মতো পরের স্বপ্নটিও ২ বছর পর (২০০৩ ইং সালে) ফলতে পারে। আজ (২০১৯ সালে) তার স্বপ্নটি দেখার প্রায় ১৮ বছর হতে চলেছে, কিন্তু আমরা আজ পর্যন্ত কোনো “নিউক্লিয়ার যুদ্ধ” হতে দেখিনি। কিন্তু বর্তমানে ২০১৯ সালে ইরানের তেল উপরে আমেরিকার স্যাংশনের কর্তৃক ‘নিউক্লিয়ার বোমা’ বানানোর প্রকাশ্য ঘোষনা দেয়ার পর আমেরিকা ইরানের চারপাশে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার সৈন্য পাঠিয়ে দিয়েছে ইরানকে ‘নিউক্লিয়ার বোমা’ তৈরী থেকে বিরত রাখার হুমকি দেয়ার জন্য, সাথে আমেরকিার ‘নিউক্লিয়ার বোমা’বাহী প্লেন বোম্বার-কেও পাঠানো হয়েছে। আল্লাহই ভাল জানেন যে, ২০১৯ থেকে ২০২২ -এর মধ্যে ঘটনার মোর কোন দিকে যায়। তাহলে কি শায়েখ ইমরান হোসেইনের ২য় স্বপ্নটি ২ বছর পর নয় বরং ২০ বছর পর ঘটার দিকে ইংগীত রয়েছে ?! দেখা যাক, সামনে কি হয়। হাদিসে বর্ণিত ‘মালহামাতুল কুবরা’ (মহাযুদ্ধ)-তো অবশ্যই ঘটবে।

(ঙ) মুফতি কাজি ইব্রাহীম দা:বা: নিজের দেখা একটি স্বপ্ন বর্ণনা করছেন যে, তিনি দেখেছেন যে, তিনি মরুভূমিতে দাড়িয়ে আছেন, এমন সময় আরবের একটি সরল সোজা পথ ধরে ৭০-৮০ জন যুবক ঘোড়ায় চড়ে এগিয়ে আসছেন, তাদের মাথার উপরে ট্রাফিকের ছাতার মতো ছাতা রয়েছে। তারা তার থেকে ২০-২৫ গজ দূরে এসে থেমে গেলো। তখন মুফতি সাহেব নিজকে বলছেন যে, (এই দলের প্রধান) ইনিই ইমাম মাহদী।

মুফতি কাজি ইব্রাহীম দা:বা: আরো বলেছেন যে, কয়েকদিন আগেই বায়তুল মাকদিসের খতিব সাহেব তার দেখা একটি স্বপ্নের কথা শুনালেন যে, তিনি স্বপ্নে দেখেন যে, “রাসুলুল্লাহ ﷺ ইমাম মাহদীকে এমনটা বলছেন যে, আমার উম্মতকে বলো, গোটা পৃথিবীর উম্মত আমার যেন এক হয়ে যায়। আর তাদেরকে বলো তারা যেন এক বছরের খাদ্য প্রস্তুত রাখে”। [এই খাদ্য প্রস্তুত করে রাখার ইংগীতবহ একটি হাদিস ব্যাখ্যা সহ আমারা এখানে বর্ণনা করেছি, পড়ে দেখুন]

(চ) শায়েখ বেলাল হোসাইন সাহেব মসজিদের মিম্বরে ববসে একটি আশ্চর্য ঘটনার কথা শুনিয়েছেন এভাবে যে, তিনি ২০০৬ সালে (মাদ্রাসার জালালাইন জামাআতের ছাত্র থাকাবস্থায়) তাবলীগের কাজে বেড় হওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকার কাকরাইল মারকাজ মসজিদে আসেন। সেখানে ওলামাগণের কামড়ায় এক আরব আলেম আব্দুর রহমান আল-কুরাইশী (যিনি কুরাইশ বংশের লোক) ছিলেন, যিনি তখন তাবলীগের উদ্দেশ্যে কাকরাইলে আসেন নি, তিনি এসেছিলেন অন্য একটি সফরে, পরে তাবলীগ জামাআতের ওলামায়ে কেরামের আমন্ত্রনে কাকরাইল মসজিদে আসেন। শায়েখ আব্দুর রহমান আল-কুরাইশী সেদিন কামড়ায় উপস্থিত ব্যাক্তিদেরকে একটি আশ্চর্যজনক ঘটনার কথা শোনান, (উপস্থিত লোকদের মধ্যে আলোচ্য শায়েক বেলাল হোসাইন সাহেবও সেখানে ছিলেন)। শায়েখ আব্দুর রহমান আল-কুরাইশী বলেছিলেন যে, সৌদি আরবের তার একজন বড় ওস্তাদ (যাঁর নাম বেলাল হোসাইন সাহেবের স্মরণে নেই) একদিন তাদেরকে বলেছেন যে, “তিনি একবার অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে একটি হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলার একটি রূমে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তিনি ‘কিভাবে উম্মতকে হেদায়েতের পথে নিয়ে আসা যায়’ -এই চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েন। স্বপ্নে দেখেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে এমনটা বলছেন যে, ‘চিন্তা করো না, আল্লাহ’র খলিফা আসছেন, যিনি তোমাদের মুসলমানদেরকে সর্বাবস্থায় বিজয় দান করবেন’। এরকম একটি স্বপ্ন দেখার পর তার ঘুম ভেঙে যায় এবং প্রায় এক-দেড় ঘন্টা ধরে শুধু চিন্তা করতে থাকেন যে, এটা কী দেখলেন ! এরপর একসময় তার কেবিনের দরজাটা খোলা হয়, ঘটনাক্রমে তার রূমের সামনের রূমটির দরজাটাও খোলা ছিল। তিনি দেখতে পেলেন ৫/৬ বছরের একটি বাচ্চা খাটে ঘুমিয়ে আছে -কিছুটা তার দিকে উপরে মুখ করে। বাচ্চাটাকে দেখেই তিনি আঁতকে উঠলেন; কেন যেন তার কাছে মনে হচ্ছিল যে, মুখটা খুব চেনা-পরিচিত, বাচ্চার কপাল ও নাকটাও কেন যেন মনে হচ্ছিল রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কপালের মতো। তারপর তিনি চোখ সরিয়ে নিয়ে ভাবতে থাকলেন, ‘এসব আমি কী দেখছি! হয়-তো রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে কিছুক্ষন আগে স্বপ্নে দেখার কারণে (অতি আবেগে) এমনসব মনে হচ্ছে’। তারপর যখন দরজাটা বন্ধ করে দেয়া হয়, তার কিছুক্ষন পরেই পাশের রূম থেকে একজন পুরুষের আওয়াজ আসে: ‘আমেনা ! তাড়াতাড়ি রেডি হও, (আমাদেরকে এখনিই বেড়ুতে হবে)’। একথা শুনতেই তিনি হতচকিত হয়ে উঠলেন এবং মনে হল যেন তার সব অসুস্থ্যতা দূর হয়ে গেছে। তিনি দরজার দিকে উঠে যেতে থাকলে শায়েখ আব্দুর রহমান আল-কুরাইশী তার উস্তাদকে বললেন: ‘ওস্তাদ, কোথায় যাচ্ছেন (এই অসুস্থ্য অবস্থায়)’। ওস্তাদ তাকে বললেন যে, ‘তুমি এখানে থাকো’। এরপর তার ওস্তাদ হাসপাতালের একেবারে নিচে নেমে হাসপাতালের রিসিপশন ডেস্কের কাউকে জিজ্ঞেস করলেন যে, এখানে কিছুদিন আগে ‘আব্দুল্লাহ’ নামের কেউ বুকিং দিয়েছিল কিনা। তারা কনফার্ম করে বললো যে, ‘আব্দুল্লাহ’ নামের একজন ৬ তলার অমুক রূমটি বুকিং করেছিল। একথা শুনেই তার ওস্তাদ সাহেব সেখানেই অজ্ঞান হয়ে যান। পরে ধরাধরি করে তাকে ৬ তলায় তার রূমে পৌছে দেয়া হয়। ওস্তাদ সাহেব কিছুক্ষন পর জ্ঞান ফিরে পেলে তিনি উঠে ৬ তলার ওই রূমে গিয়ে খটখটান, যে রূমে ওই শিশুটিকে দেখেছিলেন। কিন্তু তাকে হাসপাতালের লোক জানায় যে, ওই কেবিনের লোকজন কিছুক্ষন আগেই চলে গেছেন। একথা শুনে ওস্তাদ আক্ষেপ করলেন যে, এমন একটি বাচ্চা যার কপাল ও নাকটি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কপাল ও নাকের মতো দেখতে মনে হল, বাচ্চার বাবার নাম ‘আব্দুল্লাহ’ আর মায়ের নাম ‘আমেনা’ -এমন একটি ঘটনা হাতের কাছে ঘটেও পুরোপুরি কিছু জেনে নিশ্চিত হতে পারলেন না !!! এর কিছুদিন পর শায়েখ আব্দুর রহমান আল-কুরাইশ’র উস্তাদ মহোদয় মাড়া যান।

বি:দ্র: আবারো আনুরোধ জানাচ্ছি, ভিডিওটি এখনো না দেখে থাকলে একবার হলেও তা অবশ্যই দেখুন। (এখানে ক্লিক করুন)।

এজাতীয় আরো বহু স্বপ্ন আমাদের উপরের দাবীকে শক্তিশালী করে তোলে যে, ইমাম মাহদী রা. ও ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. আসার সময় একেবারে সন্নিকটে চলে এসেছে, এবং তাঁরা এই জামানাতেই আসবেন, ইনশাআল্লাহ; এটাই শেষ জামানা

দেখুন, যদিও স্বপ্ন কোনো দলিল নয়, কিন্তু যখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যাক্তি একই (common) কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বপ্ন দেখে চলে, তখন সেটাকে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া অহেতুক অবহেলার চোখে দেখা চলে না, বরং মনে করা উচিত গায়েবী ভাবে কোনো বিশেষ কিছুর দিকে ইশারা করা হচ্ছে।

উপরে স্বপ্ন সম্পর্কে যে হাদিসটি উল্লেখ করেছি, তার পূর্ণ অংশটি এই, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ لَمْ تَكَدْ تَكْذِبُ رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ وَرُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنْ النُّبُوَّةِ . رواه بخاري في صحيحه , كتاب التعبير , باب القيد في المنام : رقم ٧٠١٧ و ، ومسلم في صحيحه : رقم ٢٢٦٣ – “যখন (কেয়ামতের নিকটবর্তী) জামানা ঘনিয়ে আসবে, (সেই আখেরী জামানায়) মুমিনের স্বপ্ন কদাচই মিথ্যা হবে। আর মুমিনের স্বপ্ন (একজন নবী’র) নবুওতের (মর্তবাস্তরে দেখা স্বপ্নের) ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ (পরিমাণ সত্যতা রাখে)”। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৭০১৭; সহিহ মুসলীম, হাদিস ২২৬৩]

নবী’গণের ঘুমের সময়ও তাঁদের অন্তকরণ থাকে ইমান, নূর ও হেদায়েতে ভরপুর, তাঁদের অন্তরের ভিতরে শয়তানের কোনো আনাগোনার সুযোগ নেই যে, তাতে মিথ্যা ও ধোকামূলক কোনো খবর শয়তান প্রক্ষেপ করতে সমর্থ হবে। এজন্য নবীগণ যা ঘুমন্ত অবস্থায়ও দেখতে বা শুনতে বা অনুভব করে বুঝতে পান, সেটাও আল্লাহ’র তরফ থেকে প্রদত্ত ওহী’র মর্যাদা রাখে -চাই আল্লাহ তাআলা সেই ওহীটিকে সেই নবী আ.-এর অন্তরে সরাসরি ঢেলে দিন, কিংবা জিবরীল আ.-এর মাধ্যমে প্রক্ষেপিত করে দেয়ার ব্যবস্থা করে দিন না কেনো। কিন্তু বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সা.-এর মৃত্যুর মাধ্যমে যদিও নবুয়তের ধারা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার দ্বারা ওহী নাজিলের ধারাও বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে স্বপ্নের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাল-মন্দ বিষয়ের ইশারা ইংগীত দানের ব্যবস্থা আজও খোলা রেখেছেন। হাদিসে এই বিষয়টির দিকেই ইংগীত করে বলা হয়েছে- وَرُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنْ النُّبُوَّةِ – “আর মুমিনের স্বপ্ন (একজন নবী’র) নবুওতের (মর্তবাস্তরে দেখা স্বপ্নের) ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ (পরিমাণ সত্যতা রাখে)”

আমার নিজের দেখা একটি স্বপ্ন: আমি ২০১৯ ইং সালের খুব সম্ভবতঃ জানুয়ারীর শেষের দিকে একটি স্বপ্ন দেখি যে, “আমি আমার দাদার বাড়ির কলের পারের উঠানে দাঁড়িয়ে আছি এবং আমার আব্বাকে ডাক দিলাম। স্বপ্নে আমার এই অনুভুতি ছিল যে, তখন সকাল সারে ছয়টার মতো বাজে। তখন আরো মনে হচ্ছিল যে, ওটা ফজরের ওয়াক্তের শেষ দিককার সময়টি, যখন সূর্য ওঠা শুরু হওয়ার কথা কিংবা আকাশে আলো উঁকি দেয়ার কথা, কিন্তু আকাশটা অন্ধকারই থেকে যাচ্ছে। স্বপ্নেই আমার মনে হচ্ছিল যে, এই অন্ধকারটি আরো একদিন (বা দুদিন) বিরাজমান থাকবে, আমাদেরকে সূর্য বিহীন অন্ধকারচ্ছন্ন অবস্থাতেই ঘুম না হওয়ার ছটফটানিতে কাটাতে হবে ওই দুই/তিন দিন। তারপর সূর্য উঠবে পশ্চিম দিক থেকে !!! তখন স্বপ্নে আমার মনকে (বা আমার আব্বাকে) বলছিলাম যে, ইমাম গ্রহনের শেষ সময় শুরু হয়ে গেছে, পশ্চিমাকাশে সূর্য উঠলে আর কারো ইমান কবুল করা হবে না। সাথে আমি আরো দেখলাম, ওই অন্ধকার আকাশের কিছু তারা’র মাঝে একটি হালকা রক্ত/খয়েরী বর্ণের গোলাকার চাঁদ; যেমনটা কোরবানীর পশুর রক্ত শুকিয়ে যাওয়ার পর কিছুটা কালচে লাল বা খয়েরী বর্ণের হয়, তার একটা হালকা বর্ণের আকারে দেখলাম চাঁদটিকে। তখন স্বপ্নে আমার মনকে (বা আমার আব্বাকে) বলছিলাম যে, ওই যে ইমাম মাহদী রা. আসার সময় হয়ে গেছে…এটা তারই একটা নিদর্শন”। এরপর ঘুম ভেঙ্গে যায়। [আমি জানি না হালকা লালচে রঙের ‘চাঁদ’ কেনো দেখেছি, তবে মোটের উপরে ওই স্বপ্নে অনুভূত হয়েছে যে, ইমাম মাহদী রা. অচিরেই আসছেন এবং পশ্চিম দিকে সূর্য উদয়ের সময়ও ঘটিনে আসছে]

(৪)আহলে কিতাব’ (ইহুদী ও খুষ্টান) আলেমরাও অচিরেই ‘মাসিহ’ আবির্ভূত হবেন মর্মে সময় গুণছে:-

‘আহলে কিতাব’ তথা ইহুদী ও খৃষ্টানদের বহু পন্ডিত এই মত পোষন করছেন যে, এটাই তাদের কিতাবের প্রতিশ্রুত ‘মাসিহ’ আসার শেষ জামানা (End Time) এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তার আবির্ভাব ঘটবে।

ইযহাক কাদুরী Yitzchak Kaduriইসরাইলের নামকরা খাবালী ইহুদী পন্ডিত ইযহাক কাদুরী (Yitzchak Kaduri / יצחק כדורי‎) ১০৬ বছর বয়সে গত ২৮ জানুয়ারী ২০০৬ ইং তারিখে জেরুজালেমের এক হাসপাতালে মাড়া যায়। তিনি মাড়া যাওয়ার আগে বলে গেছেন যে, তার ধারনা, ইহুদীদের প্রতিক্ষিত ‘মাসিহ’ অচিরেই আগমন করবেন। তিনি আরো বলেছেন যে, তাদের প্রতিক্ষিত ‘মাসিহ’ আসবে ইসারইলের (তৎকালীন) প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল শ্যারন মাড়া যাওয়ার পরে; আগে নয়। তিনি আরো বলেছেন যে, এক বছর আগে (সম্ভবত: স্বপ্নে) ‘মাসিহ’র সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটেছে। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তার ছেলে ‘ডেভিড কাদুরী’র কাছে একটি খামে ভরা সিলকৃত লিখিত কাগজ দিয়ে যান এবং বলে যান, এটা যেন তার মৃত্যুর ১ বছর পর খোলা হয়। ২০০৭ ইং সালে খামটি খুলে দেখা যায় যে, একটি কাগজে ‘মাসিহ’র নাম ‘ইয়েহোসুয়া’ (ঈসা) হবে মর্মে ইংগীত করা হয়েছে। অনেক ইহূদী পন্ডিত-তো এ দাবীও করছেন যে, তাদের প্রতিক্ষিত ‘মাসিহ’ (দাজ্জাল, যাকে তারা মাসিহ মনে করে অনুসরণ করবে মর্মে হাদিসে ইশারা রয়েছে) এখন পৃথিবীতেই আছে; নির্ধারিত মুহূর্তে শুধু নিজকে প্রকাশ করার পালা; আর সে সময়টিও খুব নিকটে চলে এসেছে।

বহু খৃষ্টান পন্ডিত মনে করছেন যে, তাদের ‘মাসিহ’ Jesus (ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.) দ্বিতীয়বারের মতো আসমান থেকে পৃথিবীতে এসে Anti-Christ (দাজ্জাল)-কে হত্যা করার শেষ জামানা এটাই এবং অচিরেই Anti-Christ বেড় হবে এবং তার দলকে হত্যা করতে Jesus (ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.) আসমান থেকে আগমন করবেন। [আমার কথা বিশ্বাস না হলে নিজেই এব্যাপারে সময় নিয়ে রিসার্স করে দেখুন]

এখানে কারো একথা বলা চরম মুর্খতা হবে যে, ‘ইহুদী ও খৃষ্টানদের কাছে যেসব কিতাব রয়েছে সেগুলো-তো তাদের পূর্বপুরুষরা কলুষিত করে ফেলেছে, ওগুলোর বর্ণনা এবং তাদের পন্ডিতদের ব্যাখ্যায় কি এসে যায়’?! এরকম ধারনা করা এজন্য মুর্খতার পরিচায়ক, কারণ (১) তাদের কিতাবাদি বুহুলাংশে কলুসিত হয়ে গেলেও আজও তা আসমানী হেদায়েত থেকে একেবারে সম্পূর্ণ রূপে বঞ্চিত হয়ে যায়নি, বরং আল্লাহ’র ফজলে তাতে বিবৃত বহু বর্ণনা ও ভবিষ্যৎবাণীর মধ্যে হেদায়েতের আলো আজও চকমক করতে দেখা যায়, যার জন্য কেবল দরকার তা বোঝার মতো অন্তকরণ ও ইলম। (২) একথা কি সত্য নয় যে, আল্লাহ তাআলার সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর জন্মেরও বহু বছর আগে ইহূদী পন্ডিতগণ মদিনায় এসে বসবাস করা শুরু করেছিল শুধু এজন্য যে, তাদের ‘তাওরাত’-এ (চাই তা যতই কলুসিত হোক না কেনো) বর্ণিত প্রতিক্ষিত ‘নবী’ আসার সময় ঘনিয়ে এসেছে মর্মে তারা গন্ধ পাচ্ছিল। তারা কি এই নবীর অচিরেই আগমনের কথা উল্লেখ করেই মক্কার মুশরেকদেরকে থ্রেট করে কথা বলতো না যে, তাদের প্রতিক্ষিত নবী যখন আসবে, তখন মক্কাওয়ালাদেরকে মজা চাখাবে! ইহুদীরা সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ-কে তাদের তাওরাতে বর্ণিত সেই নবী হিসেবে চিনতে পারার সত্ত্বেও শুধু এজন্য গ্রহন করেনি যে, তাদের কামনা ছিল উক্ত প্রতিক্ষিত নবী তাদের নবী ইসহাক আ.-এর বংশধর থেকে হবেন, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নবীকে পাঠালেন ইসমাঈল আ.-এর বংশ থেকে। তার মানে তাদের তাওরাতে তারা উক্ত নবীর বংশ সম্পর্কে কোনো আলামত পায়নি, বাদ বাকি নবীকে চিনতে পারার জন্য যা বোঝা দরকার তা ঠিকই বুঝে ফেলেছিল। শুধু বংশের কারণে মুহাম্মাদ ﷺ-কে কবুল না করে আল্লাহ’র সাথে কুফরী করলো।

সুতরাং, একথা ভাবা অমুলক যে, আহলে কিতাবদের মধ্যে ‘মাসিহ’ আসার জামানার গন্ধ পাওয়ার মতো কোনো পন্ডিত কেউ থাকবে না। যদি থাকে (আর অবশ্য আছেও), তাহলে কি করে ধারনা করতে পেলেন যে, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর উম্মতের মধ্যে ইমাম মাহদী, দাজ্জাল ও ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর আসার জামানার গন্ধ পাওয়ার মতো আলেমগণ বিদ্যমান থাকবেন না, বরং অবশ্যই আছেন এবং তারা ঠিকই দেখতে পাচ্ছেন যে, আমরা শেষ জামানার মালহামাতুল কুবরা, ইমাম মাহদী, গাজওয়াতুল হিন্দ, দাজ্জাল এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর একেবারে দারগোড়ায় চলে এসেছি।

(৫) বিশ্ব রাজনীতি একেবারে মোড় নিয়ে ফেলেছে -ইমাম মাহদীর নেতৃত্বে ‘মালহামাতুল কুবরা’ ও ‘গাজওয়াতুল হিন্দে’র দিকে

হযরত সওবান রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- عِصَابَتَانِ مِنْ أُمَّتِي أَحْرَزَهُمَا اللَّهُ مِنَ النَّارِ: عِصَابَةٌ تَغْزُو الْهِنْدَ، وَعِصَابَةٌ تَكُونُ مَعَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلَام. روى النسائي فى سننه: ٣١٧٥ ، و أحمد فى المسند:١٨/٣٧ رقم ٢٢٣٩٦, وهو حديث صحيح، صححه الإمام السيوطي في الجامع الصغير، والألباني في صحيح الجامع: ٤٠١٢ والصحيحة: ١٩٣٤ – ‘আমার উম্মতের মধ্যে দুটি দল রয়েছে, আল্লাহ তাদের উভয়কে দোযখ থেকে মুক্তি দিবেন। (১) হিন্দ (ভারত)-এর সাথে গাজওয়া (জিহাদ) করনেওয়ালা দল এবং (২) ঈসা ইবনে মানইয়াম আ.-এর সঙ্গী দল (যারা দাজ্জালের বাহিনীর সাথে জিহাদ করবে)’। [সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৩১৭৫; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২২৩৯৬]

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য হাদিসে আখেরী জামানায় যে ‘মালহামাতুল-কুবরা (মহাযুদ্ধ) হবে মর্মে ইশারা করা হয়েছে, উপরোক্ত হাদিসে সেই ঘটনার দিকেই ইংগীত করা হয়েছে। মালহামাহ’ (মহাযুদ্ধ)-এর সময় ইমাম মাহদী রা. গোটা মুসলীম উম্মাহ’র খিলাফতের নেতৃত্ব দিবেন এবং তাঁর হাতে আবির্ভাবের পর থেকে প্রায় ৬/৭ বছর টানা জিহাদ করতে থাকবেন পৃথিবী জুড়ে কাফের মুশরেকদের সাথে । সে সময় মুমিনদের একটি অংশ হিন্দ (ভারত)-এর মুশরেকদের বিরুদ্ধে লড়তে থাকবে (যে যুদ্ধটি ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ নামে সমধিক পরিচিত) এবং মুমিনদের বাকি আরেকটি অংশ দাজ্জাল ও ইহুদীদের সাথে লড়বে শাম (সিরিয়া, জর্ডান, ফিলিস্তিন, লেবানন ইত্যাদি কেন্দ্রিক) এলাকায়।

অন্য হাদিসে নাহিক বিন সুরাইম আস-সাকুনী থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- لتقاتلن المشركين حتى تقاتل بقيتكم الدجال ، على نهر بالأردن ، أنتم شرقيه ، و هم غربيه ، و ما أدري أين الأردن يؤمئذ من الأرض . اخرجه البزار في كشف الأستار: ٤/١٣٨ رقم ٣٣٨٧ ; و و الطبراني في مسند الشاميين: رقم . قال الهيثمي في في ” مجمع الزوائد : ٧/٣٤٩ : رواه الطبراني والبزار ورجال البزار ثقات ; و اخرجه ايضا ابن سعد في الطبقات: ٧/٤٢٢ ; والديلمي في مسند الفردوس: ٤/١٨٦ ; وابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني برقم ٧٧٣ ; و قال الألباني في ” السلسلة الضعيفة و الموضوعة: ٣/٤٦٠ رقم ١٢٩٧ – ‘অবশ্যই (তোমাদের মুসলমানদের একটি অংশ) মুশরেকদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে। এমনকি (এরই ক্রমধারায় এক সময় দাজ্জাল বেড় হবে এবং) তোমাদের বাকি অংশ দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে -উরদুনে অবস্থিত (একটি) নহরের ধারে, যার পূর্ব পার্শ্বে থাকবে তোমরা, আর তার পশ্চিম পার্শ্বে থাকবে ওরা। (রাবী বলেন:) আমি জানি না, সেদিন উরদুন (অঞ্চলটি) পৃথিবীর কোথায় হবে’[মুসনাদে বাযযার -৪/১৩৭ হাদিস ৩৩৮৭; মুসনাদে শামেঈন, ত্বাবরাণী ; আল-আহাদ ওয়াল মাছানী, ইবনু আবি আসিম, হাদিস ৭৭৩; আত-ত্ববাকাত, ইবনে সা’দ- ৭/৪২২; মুসনাদে ফিরদাউস, দাইলামী- ৪/১৮৬; তারিখে দামেশক, ইবনু আসাকীর -৬২/৩২৩; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩৪৯]

এই হাদিসে ‘উরদুন’ বলতে বর্তমান সময়কার জর্দান দেশ উদ্দেশ্য। জর্দান ও ইসরাইলের মাঝখানে যে নহর/নদীটি উভয় দেশকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে, হাদিসের উরদুনে অবস্থিত নহর/নদী বলতে সেই নহরটিই উদ্দেশ্য। ২৫১ কিমি. দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট জর্দান নদীটি এশিয়া মহাদেশ এর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে দীর্ঘতম নদী, যা শেষ হয়েছে মৃত সাগর বা Dead sea তে। এই নদীর কাছেই ইমাম মাহদী ও মুমনি মুজাহিদগণ জিহাদ করতে থাকবেন দাজ্জাল ও ইহুদী বাহিনীর সাথে। এক পর্যায়ে ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. আসমান থেকে সিরিয়ার দামেশক জামে’ মসজিদের মিনারে অবতরণ করবেন এবং ইমাম মাহদীর পিছনে ফজরের নামায আদায় করে মুসলমানদের নেতৃত্ব দিবেন। পরে ফিলিস্তিনের লুদ নামক স্থানে দাজ্জালকে ধরে হত্যা করবেন। খুব সম্ভবতঃ দাজ্জালের মৃত্যুর পর ইহূদীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালাতে থাকবে, তখন মুসলমানরা তাদেরকে পাইকারী হারে হত্যা করবে। যেমন, আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন- لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ الْيَهُودَ ، فَيَقْتُلُهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى يَخْتَبِئَ الْيَهُودِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْحَجَرِ وَالشَّجَرِ، فَيَقُولُ الْحَجَرُ أَوِ الشَّجَرُ: يَا مُسْلِمُ يَا عَبْدَ اللهِ هَذَا يَهُودِيٌّ خَلْفِي ، فَتَعَالَ فَاقْتُلْهُ ، إِلَّا الْغَرْقَدَ، فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرِ الْيَهُودِ . رواه مسلم , كتاب الْفِتَنِ وَأَشْرَاطِ السَّاعَةِ, بَاب لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ فَيَتَمَنَّى أَنْ يَكُونَ مَكَانَ الْمَيِّتِ مِنْ الْبَلَاءِ: رقم ٢٩٢٢ ; و الدانى في السنن الواردة في الفتن, بَابُ مَا جَاءَ فِي قِتَالِ هَذِهِ الأُمَّةِ أَهْلَ: ٤٥١; و أحمد في المسنده: رقم ٢٧٥٠٢ ; و الخطيب البغدادي في تاريخ: ٨/١١٤ – ‘কেয়ামত কায়েম হবে না, যাবৎ না মুসলমানরা ইহুদীদের সাথে ক্বিতাল (স্বসস্ত্র জিহাদ) করে। পরে মুসলমানরা তাদেরকে কতল করবে। এমনকি (মুসলমানদের ধাওয়া খেয়ে) ইহূদীরা পাথর ও গাছের পিছনে লুকিয়ে পড়বে। তখন পাথর বা গাছ বলবে: ‘হে মুসলীম! ওহে আল্লাহ’র বান্দা ! এই যে আমার পিছনে ইহূদী (লুকিয়ে আছে)’। তখন সে এসে তাকে কতল করবে। শুধু বাবলা গাছ স্বতন্ত্র (সে একথা বলবে না), কারণ সে ইহূদীদের গাছ’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৯২২; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ২৭৫০২; আস-সুনানুল ওয়ারিদাহ, ইমাম দানী, হাদিস ৪৪৯; তারিখে বাগদাদ, খতীব- ৮/১১৪]

হাদিসটিতে মুশরেকদের সাথে যুদ্ধ বলতে আমার মতে ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ (হিন্দুস্থানের মুর্তিপুজারী মুশরেকদের সাথে জিহাদ) উদ্দেশ্য। মুজাহিদগণ হিন্দুস্থানের মুশরেকদের উপরে জয় লাভ করার পর তাদের লিডারদেরকে বেঁধে নিয়ে যখন শাম-এ যাবেন তখন সেখানে গিয়ে তাঁরা ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-কে দেখে ধন্য হবেন।

যেমন, হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- وَعَدَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَزْوَةَ الْهِنْدِ فَإِنْ أَدْرَكْتُهَا أُنْفِقْ فِيهَا نَفْسِي وَمَالِي فَإِنْ أُقْتَلْ كُنْتُ مِنْ أَفْضَلِ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ أَرْجِعْ فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ. روى النسائي ٣١٧٣ ، وأحمد ٢/٢٢٩, والحديث ضعفه الألباني في ضعيف سنن النسائي ٢٠٢ ، ٢٠٣ . وكذلك الشيخ شعيب الأرنؤوط في تخريجه لمسند أحمد ١٢/٢٩ , البداية والنهاية لابْنُ كَثِيرٍ: ١٩/١٠ – ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে গাজওয়ায়ে-হিন্দ -এর ওয়াদা করেছেন। সুতরাং আমি যদি তা পেয়ে যাই, তাহলে আমি আমার জান ও মাল (আল্লাহ’র রাস্তায়) দিয়ে দিবো। আর যদি আমাকে (ওই যুদ্ধে) কতল করে ফেলা হয়, তাহলে আমি হবো সর্বোত্তম শহিদগণের মধ্যে একজন। আর আমি যদি (ওই জিহাদে বেঁচে) ফিরে আসি, তাহলে আমি আবু হুরায়রাহ হবো (দোযখের শাস্তি থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত ’। [সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৩১৭৩; মুসনাদে আহমদ- ২/২২৯; আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ইবনে কাসির- ১০/১৯]

ইমাম নুআইম বিন হাম্মাদ (মৃ: ২২৮ হি:) নিজ সনদে হযরত আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- عن صفوان بن عمرو ، عن بعض المشيخة ، عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم – وذكر الهند – فقال : ليغزون الهند لكم جيش يفتح الله عليهم ، حتى يأتوا بملوكهم مغللين بالسلاسل ، يغفر الله ذنوبهم ، فينصرفون حين ينصرفون فيجدون ابن مريم بالشام . قال أبو هريرة : إن أنا أدركت تلك الغزوة بعت كل طارف لي وتالد وغزوتها ، فإذا فتح الله علينا وانصرفنا فأنا أبو هريرة المحرر ، يقدم الشام فيجد فيها عيسى بن مريم ، فلأحرصن أن أدنوا منه فأخبره أني قد صحبتك يا رسول الله . قال : فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم وضحك ثم قال : هيهات ، هيهات . رواه نعيم بن حماد في ” الفتن ” : ص/٤٠٩, وفي سنده إبهام الراوي عن أبي هريرة ، كما أن في سنده بقية بن الوليد مدلس وقد عنعن – ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ (একবার) হিন্দ-এর উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: অবশ্যই তোমাদের (মুসলমানদের একটি) সৈন্যদল হিন্দে’র সাথে গাজওয়া (জিহাদ) করবে (এবং) আল্লাহ (তাআলা তোমাদের মুজাহিদগণকে) তাদের উপর বিজয় দান করবেন। এমন কি তারা ওদের রাষ্ট্রনায়কদেরকে শিকলে বেঁধে নিয়ে আসবে। আল্লাহ তাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। এরপর তারা (তাদেরকে রেখে) চলে যাবে এবং শাম-এ (গিয়ে) তারা ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পাবে’। (রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর একথা শুনে) হযরত আবু হুরায়রাহ রা. বলেন: আমি যদি (আমার জীবনকালে) সেই গাজওয়া (জিহাদ) পেয়ে যাই, তাহলে আমার নতুন-পুরাতন তল্পিতল্পা সব বিক্রি করে দিয়ে সেই গাজওয়ায় অংশ নিবো। এরপর আল্লাহ তাআলা যখন আমাদেরকে বিজয় দান করবেন এবং আমরা সেখান থেকে ফিরে আসবো, তখন আমি আবু হুরায়রাহ হবো (দোযখের আগুন থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত। (আহা ! সেই সময়ে আবু হুরায়রাহ’র কি আনন্দ হত, যখন) সে শাম-এ গিয়ে সেখানে ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পেতো! ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার খুব ইচ্ছে হয় তাঁর সান্নিধ্যে যেতে এবং তাঁকে এই খবর দিতে যে আমি আপনরা সাহাবী। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺ (আমার একথা শুনে) মুচকি হেসে দিলেন, অতঃপর বললেন: এমনটা হবার নয় ! এমনটা হবার নয়’! [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, হাদিস ১২৩৬]

ইমাম ইসহাক বিন রাহওয়াই (মৃ: ২৩৮ হি:) নিজ সনদে হযরত আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى ، أنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو السَّكْسَكِيِّ ، عَنْ شَيْخٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يوْمًا الْهِنْدَ ، فَقَالَ : لَيَغْزُوَنَّ جَيْشٌ لَكُمُ الْهِنْدَ ، فَيَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ حَتَّى يَأْتُوا بِمُلُوكِ السِّنْدِ مُغَلْغَلِينِ فِي السَّلاسِلِ ، فَيَغْفِرُ اللَّهُ لَهُمْ ذُنُوبَهُمْ فَيَنْصَرِفُونَ حِينَ يَنْصَرِفُونَ ، فَيَجِدُونَ الْمَسِيحَ ابنَ مَرْيَمَ بِالشَّامِ ” ، قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : فَإِنْ أَنَا أَدْرَكْتُ تِلكَ الْغَزْوَةَ بِعْتُ كُلَّ طَارِد وَتَالِدٍ لِي وَغَزَوتُهَا ، فَإِذَا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْنَا انْصَرَفْنَا ، فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرِّرُ يَقْدَمُ الشَّامَ فَيَلْقَى الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ ، فَلأَحْرِصَنَّ أَنْ أَدْنُوَ مِنْهُ ، فَأُخْبِرَهُ أَنِّي صَحِبْتُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ : فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَاحِكًا . اخرجه إسحاق بن راهويه فى المسند, رقم الحديث ٤٧١, – ‘‘রাসুলুল্লাহ ﷺ একদিন হিন্দ-এর উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: অবশ্যই তোমাদের (মুসলমানদের একটি) সৈন্যদল হিন্দে’র সাথে গাজওয়া (জিহাদ) করবে, এতে আল্লাহ (তাআলা তোমাদের মুজাহিদগণকে) তাদের উপর বিজয় দান করবেন। এমন কি তারা সিন্দ- এর (এলাকাভুক্ত) রাষ্ট্রপ্রধানদেরকে শিকলে বেঁধে নিয়ে আসবে। আল্লাহ তাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। এরপর তারা (তাদেরকে রেখে) চলে যাবে এবং শাম-এ (গিয়ে) তারা ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পাবে’। (রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর একথা শুনে) হযরত আবু হুরায়রাহ রা. বলেন: আমি যদি (আমার জীবনকালে) সেই গাজওয়া (জিহাদ) পেয়ে যাই, তাহলে আমার নতুন-পুরাতন তল্পিতল্পা সব বিক্রি করে দিয়ে সেই গাজওয়ায় অংশ নিবো। এরপর আল্লাহ তাআলা যখন আমাদেরকে বিজয় দান করবেন এবং আমরা সেখান থেকে ফিরে আসবো, তখন আমি আবু হুরায়রাহ হবো (দোযখের আগুন থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত। (আহা ! সেই সময়ে আবু হুরায়রাহ’র কি আনন্দ হত, যখন) সে শাম-এ গিয়ে সেখানে আল-মাসিহ ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পেতো! আমার খুব ইচ্ছে হয় তাঁর সান্নিধ্যে যেতে এবং তাঁকে এই খবর দিতে যে আমি আপনরা সাহাবী -ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ ﷺ (আমার একথা শুনে) মুচকি হেসে দিলেন’ [মুসনাদে ইসহাক বিন রাহুবিয়্যা – ১/৪৬২ হাদিস ৫৩৭]

ইমাম নুআইম বিন হাম্মাদ (মৃ: ২২৮ হি:) নিজ সনদে হযরত সাফওয়ান রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو ، عَمَّنْ حَدَّثَهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : ” يَغْزُو قَوْمٌ مِنْ أُمَّتِي الْهِنْدَ ، يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ حَتَّى يَأْتُوا بِمُلُوكِ الْهِنْدِ مَغْلُولِينَ فِي السَّلاسِلِ ، فَيَغْفِرُ اللَّهُ لَهُمْ ذُنُوبَهُمْ ، فَيَنْصَرِفُونَ إِلَى الشَّامِ ، فَيَجِدُونَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلامُ بِالشَّامِ ” . رواه نعيم بن حماد في ” الفتن ” (ص/٣٩٩) قال : حدثنا الوليد ، عن صفوان بن عمرو ، عمن حدثه عن النبي صلى الله عليه وسلم . وهذا إسناد ظاهر الضعف بسبب عنعنة الوليد بن مسلم ، وظاهره ـ أيضا ـ الإرسال ، لأنه ليس فيه أن من حدث صفوان بن عمرو سمع النبي صلى الله عليه وسلم ، ولا أنه كان صحابيا – ‘অবশ্যই আমার উম্মতের একটি গোষ্ঠি হিন্দ-এর সাথে গাজওয়া (জিহাদ) করবে।আল্লাহ (তাআলা ওই মুজাহিদগণকে) তাদের উপর বিজয় দান করবেন। এমনকি তারা হিন্দে’র রাষ্ট্রনায়কদেরকে শিকল দিয়ে বেঁধে নিয়ে আসবে। আল্লাহ তাদের গোনাহ সমূহ ক্ষমা করে দিবেন। এরপর তারা শাম-এর দিকে ড়ওনা হবে। তারা শামে (গিয়ে) ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর দেখা পাবে’[আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ- ৩৯৯ পৃ:]

সুদীর্ঘ ১০ বছরের গবেষনার আলোকে আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, বর্তমান ইহুদী রাষ্ট্র ‘ইসরাইল’ এবং হিন্দু রাষ্ট্র ‘ভারত’ পৃথিবী জুড়ে মুসলমানদের রক্তের নদীর উপরে যে খবিসী রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরী করতে সমর্থ হয়েছে, তা থেকে সুদৃঢ়তার সাথে বলা যায়, মালহামাহ’র রেশ ধরে ইমাম মাহদী রা. আসা মাধ্যমে পাকা ধান কাটার প্লাটফর্ম প্রস্তুত হয়ে রয়েছে। এর বহু কারণ রয়েছে:-

প্রথমত: বর্তমান ইসরাঈলের ইহূদীরা সুদীর্ঘ প্রায় ২০০০ হাজার বছর পর জেরুজালেমের উপরে তাদের ক্ষমতা গেড়ে নিতে সমর্থ হয়েছে। ইহুদীদের বিগত ৫০০০ বছরের ইতিহাসে বর্তমান ইসরালের ইহূদীদের মতো ক্ষমতাধর ইহুদী জাতির কোনো নজির দেখা যায়নি। এরা অর্থবল, অস্ত্রবল, ক্ষমতাবল, আধুনিক জ্ঞানবল, প্রশাসিনিক বল, মিডিয়া বল ইত্যাদি এমন কোনো প্রয়োজনীয় ফিল্ড নেই, যেখানে তাদের একচ্ছত্র রাজতত্ব নেই। তাদের ক্ষমতাবল অনুমান করা যায় যে, খোদ আমেরিকার মতো শক্তিধর দেশকে তারা নাকে দড়ি দিয়ে নিজের কাজে লাগিয়ে থাকে। আজ ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, সুদান, লিবিয়া, সোমালিয়া সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের রক্ত ও ইজ্জতের উপরে আমেরিকার যে দাপট দেখতে পাচ্ছেন, সেই আমেরিকা এসব করছে মূলত: ওই জায়োনিষ্ট ইহুদীদের কথা মতো।

এর আগে (রাসুলুল্লাহ সা. এর নবুওতের বহু পূর্বে) দুনিয়াতে ফিতনা ফ্যাসাদের বাজার গরম করায় আল্লাহ’র সাময়ীক দুনিয়াবী আযাব হিসেবে ইহূদীরা দু’ দুবার ভিন্ন ভিন্ন শত্রু দ্বারা চরম ভাবে আক্রান্ত হয় এবং তাদের ওই শত্রুরা তাদের রক্তের বন্যা বইয়ে দেয়। ফলে তারা দুই বার পবিত্র ভূমি থেকে বিতারিত হয় এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পরে। সুদীর্ঘ প্রায় ২০০০ বছর তারা কোনো দেশেই স্থির হয়ে জিড়িয়ে নিতে পারেনি, বরং এখানে ওখানে ঠোকড় খেয়ে বেড়িয়েছে। ফলে দীর্ঘ ২০০০ বছর পর ইহূদী ধর্ম গ্রহনকারী একটি ইউরোপিয়ান ধ্বনকুবের ব্যাংকার ইহূদী গোষ্ঠি (যাদেরকে জায়োনিষ্ট ইহূদী বলা হয় এবং যাদের সাথে বাস্তবেই প্রকৃত বনী ইসরাঈলদের বংশধারাগত কোনো সম্পর্ক নেই, যা আজ ডিএনএ টেষ্ট দ্বারাও বৈজ্ঞানীক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তারা) বিশ্বের ইহূদীদেরকে একটি একজোট শক্তিশালী জাতি হিসেবে দুনিয়ার বুকে পূণরায় দাঁড় করিয়ে তোলার একটি সুবর্ণ সুযোগের গন্ধ পায় এবং তাদের সকল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল ব্যবহার করে (যার বহু গবেষনাধর্মী ডকুমেন্টারী রয়েছে) গত শতাব্দিতে তথা ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনের মুসলমানদেরকে জোর করে তাড়িয়ে দিয়েে ইসরাঈল নামক একটি দেশ বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিস্থাপন করিয়ে নিতে পূর্ণভাবে সমর্থ হয়। এরপর থেকে আরব আজমে মুসলমানদের যে করুন দশা শুরু হয়েছে, তার পিছনে এই জায়োনিষ্ট ধ্বনকুবেড় ইহূদিদের প্রত্যক্ষ কলকাঠি নাড়ার বিষয়টি আজ সচেতন মানুষের কাছে অজানা নয়। বাহ্যতঃ সকলের মনে হচ্ছে যে, ইউরোপ আমেরিকার শয়তান পলিটিশিয়ানরা মুসলমানদের রক্ত ও ইজ্জত আব্রু নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, কিন্তু বাস্তবে দাবার গুটি চালছে এই ইহুদীরা। ইহূদীরা তৃতীয় বারের মতো পৃথিবীতে পূণরায় ফিতনা ফ্যাসাদের বাজার গরম করার প্রায় শেষ সীমায় এসে পৌচেছে। আমার ব্যাক্তিগত ক্ষুদ্র গবেষনা মতে, এই জায়োনিষ্ট ইহুদীরাই হল সেই ইহুদী যাদের কথা উপরোক্ত হাদিসে ইংগীত করা হয়েছে, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা তৃতীয়বারের মতো চুড়ান্ত শিক্ষা দিবেন মুসলমানদের হাত দ্বারা।

Sheikh Imran Hosein & Islamic Eschatology নরেন্দ্র মোদী বেনজামিন নেতানইয়াহু ইসরাঈলদ্বিতীয়ত: ইসরাইলের জায়োনিষ্ট ইহুদী গোষ্ঠি এবং ভারতের হিন্দু মুশরেক গোষ্ঠির মাঝে বর্তমানে দহরম মহরম রাজনৈতিক মিত্রতা ও জিগরী বন্ধন সৃষ্টি হয়ে গেছে। ইসরাইলের পিচাশ রাষ্ট্রপ্রধান বেনজামিন নেতাননিয়াহু এবং ভারতের পিচাশ রাষ্ট্রপ্রধান নরেন্দ্র মোদি উভয়ে মিলে আমেরিকাকে চিরতরে কুপকাত করার উদ্দেশ্যে নজর দিয়েছে ইউ.এস ডলারের পতন ঘটানোর দিকে। কারণ সকলেই জানে, ইন্টারনেশনাল ডোমিনেন্ট কারেন্সির পতন মানে ইন্টারনেশনাল মুরুব্বির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া। এক সময় একই কায়দায় আমেরিকা ব্রিটেনের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছিল সে সময়কার ব্রিটেনের ইন্টারনেশনাল ডোমিনেন্ট কারেন্সি স্টারলিন পাউন্ড-এর স্থলে ডলারকে প্রতিস্থাপন করে এবং এটার জন্য বিশ্ব যুদ্ধের দরকার হয়েছিল। আর আজ ইসরাইল ও ভারত উভয়ে মিলে পৃথিবীতে মুরুব্বি হয়ে বসার মানসে ডলারের পতন ঘটানের জন্য বিশ্ব জুড়ে বিটকয়েন নামক এক ডিজিটাল কারেন্সি চালুর পায়তারায় লেগে আছে। এর কার্যক্রম ইতিমধ্যে ব্যাপক ভাবে শুরু হয়েছে এবং হয়-তো কিছুদিনের মধ্যেই পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে তাদের এই ডিজিটাল কারেন্সি সিস্টেমের আওতায় জড়িয়ে যাবে। তখন এমন অবস্থা হবে যে, কেউ টাকা পয়সা দিয়ে চাইলেও কিছু কেনা বেচা করতে পারবে না, কারণ কেউ তা নিবে না। বরং কেনা বেচা করতে হলে তাকে ওদের ওই ডিজিটাল কারেন্সি ব্যবহার করেই লেনদেন করতে হবে। ফল দাঁড়াবে এই যে, তাদের কাছে আপনার ডিজিটাল তথ্য থাকবে, আপনার একাউন্ট তাদের কন্ট্রোলে থাকবে, আপনি সর্বদা তাদের ডিজিটাল নজরদারিতে থাকবেন এবং তাদের কথা মতো না চললে তারা যে কোনো সময় আপনার একাউন্ট বন্ধ করে দিবে -যাবৎ না আপনি তাদের দাস হয়ে যেতে রাজি হন। এরা যখন দাজ্জালের অধিনে আসবে, তখন এই পুরো ডিজিটাল সিস্টেমকে ব্যবহার করে মানুষকে হাতে রাখতে চাইবে। ডলারের পুরোপুরি পতন ঘটাতে হলে দরকার হবে একটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। আমার মতে এই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধটিই হবে ‘মালহামাতুল কুবরা’ এবং এ যুদ্ধ ইতিপূর্বেকার ইতিহাসের যে কোনো যুদ্ধের চাইতে সাংঘাতিক হবে -এতে কোনো সন্দেহ নেই। দুনিয়া যে কি পরিমান তছনছ হবে -তা ভাবতেই গা শিওরে ওঠার কথা। পুথিবীর মানুষের দূর্ভিক্ষ ও চরম দুরাবস্থার মধ্যেই দাজ্জাল বেড় হবে তার খাদ্য-পানিয় ও পার্থিব সুখ সামগ্রী নিয়ে। একেবারে খাঁটি ইমানদার ব্যাক্তি ছাড়া কে আছে যে তার ওই প্রলভনে তার বস্যতা স্বীকার না করে নিজকে বিরত রাখবে !!!

হযরত মুয়ায বিন যাবাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- عمران بيت المقدس خراب يثرب، وخراب يثرب خروج الملحمة، وخروج الملحمة فتح القسطنطينية، وفتح القسطنطينية خروج الدجال. أخرجه أبو داود في “السنن: ٤٢٩٤ و حسّنه الألباني في صحيح أبي داود: رقم ٤٢٩٤ ; وأحمد في “مسنده: ٥/٢٤٥ رقم ٢٢١٢١; الطحاوي في “شرح مشكل الآثار: ٥١٩, ; ابن أبي شيبة في “المصنف:١٥/١٣٥ رقم ٣٨٤٧٣ ;;الطبراني في “المعجم الكبير: ٢٠/١٠٨;الحاكم في “المستدرك:٨٢٩٧ ; الديلمي في “الفردوس: ٤١٢٧; قال الحافظ ابن كثير في النهاية:١/٥٩ : وهذا إسناد جيد وحديث حسن، وعليه نور الصدق وجلالة النبوة – ‘বায়তুল-মাকদিস’-এর গড়ন (হলে ঘটনার ক্রমধারায়) ইয়াসরিব’-এর খারাবী (হবে)। ইয়াসরিব’-এর খারাবী (হলে ঘটনার ক্রমধারায়) মালহামাহ’র সূত্রপাত (হবে)। মালহামাহ’র সূত্রপাত (হলে এর ক্রমধারায় মুসলমানদের হাতে) কুসতুনতুনিয়া (তথা কনসটেন্টিনোপল, তুরষ্ক)’র বিজয় (সংঘটিত হবে), আর কুসতুনতুনিয়া’র বিজয় (সংঘটিত হলে তার কিছু কাল পর) দাজ্জালের আবির্ভাব (হবে)। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৯৪; মুসনাদে আহমদ-৫/২৪৫, হাদিস ২২১২১; শারহু মুশকিলিল আছার, ত্বাহাবী, হাদিস ৫১৯; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ- ১৫/১৩৫, হাদিস ৩৮৪৭৩; আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ২০/১০৮; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস ৮২৯৭; মুসনাদে ফিদোউস, দাইলামী, হাদিস ৪১২৭]

এই হাদিসে عمران بيت المقدس – ‘বায়তুল মাকদিসের গড়ন’ বলতে কিছু বছর আগেও অনেকে মনে করতেন যে, বর্তমান ইসরাইল সেখানকার মুসলীম অমুসলীম পুরাণো বাসিন্দাদেরকে জোর করে হটিয়ে দিয়ে সেখানে অবৈধ ভাবে তাদের যেসব বিল্ডিং বাড়ি নির্মান করছে, সম্ভবতঃ ‘বায়তুল মাকদিসের গড়ন’ বলতে সেদিকেই ইংগীত করা হয়েছে, পবিত্র বায়তুল মাকদিস অতীব দীর্ঘ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। কিন্তু এখন-তো দেখা যাচ্ছে, ইসরাইলী ইহূদীরা আরো এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে খোদ বায়তুল মাকদিসে অবস্থিত মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান ‘মসজিদুল আকসা’ (যা ‘মসজিদে ওমর’ এবং কুব্বাতুস সাখরা -দুই মসজিদকেই অন্তর্ভূক্ত করে নেয়)-কে প্রশাসনিক ভাবে পূর্ণভাবে গুড়িয়ে দিয়ে সেখানে তাদের ইহূদী গীর্যাকে প্রতিস্থাপনের প্রহর গুণছে। প্রহর গুণছে এজন্য বললাম, কারণ তাদের এবাবদ প্লান ও কাঠামোগত কার্যক্রম শেষ, এখন শুধু একটি সুবর্ণ সুযোগের অপেক্ষা। যখন তারা ভাল করে বুঝতে পারেবে যে, মুসলমানরা তাদের এই কার্যক্রম ঠেকানোর মতো শক্তি হারিয়ে ফেলেছে, তখন তারা এটা করবে বলে অনেকে অনুমান করছেন। বহু ডকুমেন্টারী এর সাক্ষ্য বহন করে যে, আজকের মুসলীম বিশ্বের মাঝে হারাজ (খুনাখুনি ও কোন্দল) লাগিয়ে দেয়ার পিছনে ইহূদীরাই সক্রিয় রয়েছে, যাতে মুসলমানরা দলে দলে বিভক্ত হয়ে পরষ্পরে পরষ্পরের শত্রু হয়ে দূর্বল হয়ে থাকে; কখনো এক হয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। আর এদিকে পাক ভারত বাংলাদেশ সহ আশেপাশের দেশগুলোতে একই মিশন নিয়ে কাজ করছে ভারতের হিন্দু রাজনীতিক ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থা ‘’। এদিক থেকে গাজওয়াতুল হিন্দ ও দাজ্জালের ইহূদী লষ্করদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ বাঁধার প্লাটফর্ম তৈরী হতে চলেছে।

 

সার কথা:-

উপরোক্ত পয়েন্টগুলো কি ইশারা করেনা যে, ইমাম মাহদী, দাজ্জাল এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর আগমন বার্তা এসে আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে ? আর স্বপ্নগুলো সত্য হলে কি আমরা এই ধারনা পাই না যে, ২০১৯ ইং সালের হজ্জের মৌসুম থেকেই ইমাম মাহদী রা.কে খোঁজ করা উচিৎ?

আমি নিজে শেষ জামানার ছোট-বড়-মাঝারি আলামত সমূহ, ইমাম মাহদী, দাজ্জাল, ইয়াজুজ মাজুজ, ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর দ্বিতীয়বার আগমন ইত্যাদি সম্পর্কিত হাদিস ও আছার সমূহের বর্ণনাদি নিয়ে আমার যথাসাধ্য পড়াশুনা, বর্তমান প্রতারণাময় বৈশ্বিক রাজনীতি ও অবস্থাদির উপরে দীর্ঘদিনের নজরদারী, এসব নাজুক বিষয়ের উপরে তৈরীকৃত পক্ষে-বিপক্ষের এমনকি তৃতীয় পক্ষের তৈরীকৃত অসংখ্য ভিডিও, নিউজ, ছোট-বড় ক্লিপ, বিভিন্ন ওয়েবসাইট, এমনকি ইহূদী-খৃষ্টানদের বাইবেল-এ বর্ণিত ভবিষ্যৎবাণীগুলোর উপরে তৈরীকৃত বহু ভিডিও ও  ডকুমেন্টারী গুলোকে সাধ্যমতো মন্থন করে দেখার পর অবশেষে আমার সুদৃঢ় বিশ্বাস জন্মে গেছে যে, এটাই শেষ জামানা, এটাই ইমাম মাহদী আসার জামানা এবং তাঁর আগমন এতটাই নিকটে অনুভূত হচ্ছে, যার কল্পনা সাধারণ মুসলমানদের আসা-তো দূরের কথা, খোদ আলেমদেরও আসছে না।  الله اعلم بالصواب

 




আইএস, দায়েশ: শেষ জামানার খারেজী গোষ্ঠী – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যৎবাণী

আইএস, দায়েশ সন্ত্রাসী দল : এরা শেষ জামানার খারেজী গোষ্ঠী – মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যৎবাণী’র সাথে মিলিয়ে নিন
 

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته

 

আমার মতে, আইএস/দায়েশ গোষ্ঠিটি একটি চরম পথভ্রষ্ঠ সন্ত্রাসী গ্রুপ। আপনি আপনার নিজকে এবং আপনার সন্তান-সন্ততি, পরিবার-পরিজন, পাড়া প্রতিবেশি সকলকে এদের চক্রান্ত ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ব্যাপারে সচেতন করুন। আমার মতে, এরা হল শেষ জামানার খারেজী গোষ্ঠি।  

খারেজী গোষ্ঠির ব্যাপারে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার সবগুলো এখানে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। তবে আমরা এখানে বিশেষ বিশেষ কিছু বিষয় উল্লেখ করার চেষ্টা করবো।

খারেজী সম্পর্কে সম্ভাব্য সকল হাদিস ও আছার সমূহকে একত্র করলে বোঝা যায়-

(১) খারেজী গোষ্ঠীর ‘কায়েদে আজম/জাতির পিতা’ হল বনু তামীম গোত্রের যুল খুওয়াইসিরাহ, যে খোদ রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে এসে ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বন্টনকার্যে ইনসাফ হচ্ছেনা’ মর্মে দোষারোপ করে গিয়েছিল এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে, এই ব্যাক্তির বংশ থেকে খারেজীদের আবির্ভাব হবে।

(২) রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জামানার আরব’রা মদিনার পূর্ব দিকস্থ ইরাকের নজদ এলাকা বলতে যা বুঝতো, হাদিসের বর্ণনা মতে, রাসুলুল্লাহ ﷺ সেদিকে ইশারা করে বলেছিলেন যে, সেখানে ফিতনা হবে, সেখান থেকে শয়তানের শিং উত্থিত হবে এবং সেখান থেকে এমন একটি গোষ্ঠীর আবির্ভাব হবে, যারা কুরআন পড়বে কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। 

(৩) চতুর্থ খলিফা আলী রা. প্রথমবারের মতো খারেজীদের সঙ্গবদ্ধ গ্রুপের সাথে যুদ্ধ করে তাদেরকে পাইকারী হারে কতল করেন।

(৪) খারেজীদের দৌরাত্বের শিং যতবারই ভেঙ্গে ফেলা হবে, ততবারই বিভিন্ন জামানায় নতুন করে গজিয়ে উঠবে। এমনকি খারেজীদের শেষাংশের মধ্যে দাজ্জাল বেড় হবে।

ইবনু আবি আউফা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- الْخَوَارِجُ كِلَابُ النَّارِ . روى ابن ماجة: ١٧٣ و صححه الألباني في “صحيح ابن ماجة ، و أحمد: ١٩١٣٠, الترمذي: ٣٠٠٠ من حديث أبي أمامة رضي الله عنه . وصححه الألباني في “صحيح الترمذي – ‘খারেজী’রা হল দোযখের কুকুর’। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৭৩; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ৩০০০; মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১৯১৩০]

প্রথম জামানার খারেজী গোষ্ঠী

# ইউসাইর বিন আমর রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- قُلْتُ لِسَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ هَلْ سَمِعْتَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي الْخَوَارِجِ شَيْئًا قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ ـ وَأَهْوَى بِيَدِهِ قِبَلَ الْعِرَاقِ ـ ‏ يَخْرُجُ مِنْهُ قَوْمٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلاَمِ مُرُوقَ السَّهْمِ مِنَ الرَّمِيَّةِ . رواه البخاري: ٦٩٣٤ و مسلم: ١٠٦٨ – ‘আমি সাহল বিন হুনায়েফ রা.-কে জিজ্ঞেস করলাম: ‘আপনি কি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে খারেজীদের ব্যাপারে কিছু বলতে শুনেছেন?’ তিনি বললেন: আমি তাঁকে ইরাকের দিকে ইশারা করে বলতে শুনেছি: ‘সেখান থেকে একটি গোষ্ঠীর আবির্ভাব হবে, যারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু (কুরআনের মর্ম ও আহকামের বুঝ) তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না, (তা অন্তরে প্রবেশ করা-তো আরো পরের কথা)। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে ছিটকে বেড়িয়ে যাবে, যেভাবে তীর শিকারকে ভেদ করে (অপর দিক দিয়ে) ছিটকে বেড়িয়ে যায়’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৬৯৩৪; সহিহ মুসলীম, হাদিস ১০৬৮]
 
# আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُشِيرُ بِيَدِهِ يَؤُمُّ الْعِرَاقَ : هَا ، إِنَّ الْفِتْنَةَ هَاهُنَا ، هَا ، إِنَّ الْفِتْنَةَ هَاهُنَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ . رواه أحمد في مسنده:١٠/٣٩١ رقم ٦٣٠٢ و ٦١٢٩ , واسناد صحیح علی شرط الشیخین- ‘আমি দেখেছি, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরাকের দিকে ইশারা করে বললেন: ওখানে, নিশ্চই ফিতনা ওখানে, নিশ্চই ফিতনা ওখানে, যেখানে শয়তানের শিং উত্থিত হবে’। [মুসনাদে আহমদ- ১০/৩৯১ হাদিস ৬৩০২, ৬১২৯]
 
# আবু যর রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- إِنَّ بَعْدِي مِنْ أُمَّتِي أَوْ سَيَكُونُ بَعْدِي مِنْ أُمَّتِي قَوْمٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ حَلَاقِيمَهُمْ يَخْرُجُونَ مِنْ الدِّينِ كَمَا يَخْرُجُ السَّهْمُ مِنْ الرَّمِيَّةِ ثُمَّ لَا يَعُودُونَ فِيهِ هُمْ شَرُّ الْخَلْقِ وَالْخَلِيقَةِ . رواه مسلم في الصحيح, كتاب الزكاة, باب الخوارج شر الخلق والخليقة: رقم ١٠٦٧; و ابن ماجه: رقم ١٧٠ – ‘আমার (ইন্তেকালের) পরে আমার উম্মতের মধ্যে অথবা (বলেছেন) অচিরেই আমার পরে আমার উম্মতের মধ্যে থেকে একটি গোষ্ঠীর আবির্ভাব হবে। তারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু (কুরআনের মর্ম ও আহকামের বুঝ) তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না, (তা অন্তরে প্রবেশ করা-তো আরো পরের কথা)। তারা (এক সময়) দ্বীন থেকে এমনভাবে (ছিটকে) বেড়িয়ে যাবে, যেভাবে তীর শিকারকে ভেদ করে (অপর দিক দিয়ে) বেড়িয়ে (চলে) যায়। তারা আর তাতে ফিরে আসবে না। ওরা হচ্ছে নিকৃষ্ট সৃষ্টি ও সৃষ্ট-প্রাণি’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১০৬৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৭০]
 
# আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي اخْتِلَافٌ وَفُرْقَةٌ قَوْمٌ يُحْسِنُونَ الْقِيلَ وَيُسِيئُونَ الْفِعْلَ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنْ الدِّينِ مُرُوقَ السَّهْمِ مِنْ الرَّمِيَّةِ لَا يَرْجِعُونَ حَتَّى يَرْتَدَّ عَلَى فُوقِهِ هُمْ شَرُّ الْخَلْقِ وَالْخَلِيقَةِ طُوبَى لِمَنْ قَتَلَهُمْ وَقَتَلُوهُ يَدْعُونَ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ وَلَيْسُوا مِنْهُ فِي شَيْءٍ مَنْ قَاتَلَهُمْ كَانَ أَوْلَى بِاللَّهِ مِنْهُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا سِيمَاهُمْ قَالَ التَّحْلِيقُ . رواه ابو داؤد في سننه, كتاب السنة, باب في قتال الخوارج: رقم ٤٧٦٥ و صححه الالباني في صحيح أبى داود; و الحاكم في المستدرك: ٢/١٧٦ رقم ٢٧٠٦ – ‘শিঘ্রই আমার উম্মাতের মধ্যে মতদ্বন্দ্ব ও দলাদলীর সময় একটি গোষ্ঠীর আবির্ভাব হবে। তারা কথাবার্তা সুন্দর করে বলবে, তবে (দ্বীনের নামে) মন্দ কাজ করবে।তারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু (কুরআনের মর্ম ও আহকামের বুঝ) তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না, (তা অন্তরে প্রবেশ করা-তো আরো পরের কথা)। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে ছিটকে বেড়িয়ে যাবে, যেভাবে তীর শিকারকে ভেদ করে (অপর দিক দিয়ে) বেড়িয়ে চলে যায়’ এবং তারা আর (দ্বীনের ভিতরে) ফিরে আসবে না যেমনিভাবে (তীর) অার (ধনুকের) উপর ফিরে আসে না। ওরা হচ্ছে নিকৃষ্ট সৃষ্টি ও সৃষ্ট-প্রাণি। সুসংবাদ তার জন্য যে তাদেরকে কতল করবে এবং তারাও তাকে কতল করবে। তারা আল্লাহ’র কিতাবের দিকে (মানুষকে) ডাকবে, কিন্তু তাদের (নিজেদের) মধ্যে তার কিছুই থাকবে না। যে ব্যাক্তি তাদেরকে কতল করবে সে আল্লাহ’র কাছে তাদের চেয়ে উত্তম (বিবেচিত) হবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! তাদের চিহ্ন কী? তিনি বললেন: (তাদের মাথা) মুন্ডানো (থাকবে)’। [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৭৬৫; মুসতাদরাকে হাকিম- ২/১৭৬ হাদিস ২৭০৬]
 

# অন্য হাদিস সমূহে তাদের আরো কিছু বৈশিষ্টের কথা বর্ণিত আছে, যেমন: আবু সাঈদ খুদরী রা. -এর হাদিসে আছে: يقتلون أهل الإسلام ويدعون أهل الأوثان، لئن أنا أدركتهم لأقتلنهم قتل عاد . أخرجه البخاري في باب: قتل الخوارج والملحدين بعد إقامة الحجة عليهم رقم: ٣١٦٦; و مسلم في الزكاة، باب: ذكر الخوارج وصفاتهم، رقم: ١٠٦٤ – ‘তারা মুসলমানদেরকে হত্যা করবে, আর মুর্তিপুজকদেরকে (নিরাপত্তা ও বন্ধুত্বের জন্য) আহবান করবে। আমি যদি তাদের সাক্ষাত পেতাম, তাহলে অবশ্যই আমি তাদেরকে আদ (জাতিকে পাইকারী হারে) কতল করার ন্যায় কতল করতাম’[সহিহ বুখারী, হাদিস ৩১৬৬; সহিহ মুসলীম, হাদিস ১০৬৪]

# আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- بينما نحنُ عند رسولِ اللهِ صلَّى اللهُ عليهِ وسلَّمَ وهو يَقْسِمُ قِسْمًا ، أتاهُ ذو الخويصرةِ ، وهو رجلٌ من بني تميمٍ ، فقال : يا رسولَ اللهِ اعدلْ ، فقال : ويلكَ ، ومن يعدلْ إذا لم أعدلْ ، قد خبتُ وخسرتُ إن لم أكن أعدلُ . فقال عمرُ : يا رسولَ اللهِ ، ائذن لي فيهِ فأضربُ عنقَهُ ؟ فقال : دَعْهُ ، فإنَّ لهُ أصحابًا يُحَقِّرُ أحدكم صلاتَهُ مع صلاتهم ، وصيامَهُ مع صيامِهم ، يقرؤونَ القرآنَ لا يُجاوزُ تراقيهم ، يمرقونَ من الدِّينِ كما يمرقُ السهمُ من الرَّمِيَّةِ ، ينظرُ إلى نصلِهِ فلا يوجد فيهِ شيٌء ، ثم ينظرُ إلى رِصَافِهِ فما يوجد فيهِ شيٌء ، ثم ينظرُ إلى نَضِيِّهِ – وهو قَدَحُهُ – فلا يوجد فيهِ شيٌء ، ثم ينظرُ إلى قُذَذِهِ فلا يوجد فيهِ شيٌء ، قد سبقَ الفرثُ والدمُ ، آيتهم رجلٌ أسودُ ، إحدى عضديْهِ مثلُ ثديْ المرأةِ ، أو مثلُ البضعَةِ تَدَرْدَرُ ، ويخرجونَ على حين فُرْقَةٍ من الناسِ . قال أبو سعيدٍ : فأشهدُ أني سمعتُ هذا الحديثَ من رسولِ اللهِ صلَّى اللهُ عليهِ وسلَّمَ ، وأشهدُ أنَّ عليَّ بنَ أبي طالبٍ قاتلهم وأنا معهُ ، فأمر بذلكَ الرجلَ فالتُمِسَ فأُتِيَ بهِ ، حتى نظرتُ إليهِ على نَعْتِ النبيِّ صلَّى اللهُ عليهِ وسلَّمَ الذي نَعَتَهُ . أخرجه مسلم : ١٠٦٤; البخاري: ٣٦١٠; ابن حبان: ٦٧٤١ – ‘রাসুলুল্লাহ ﷺ (একবার সম্পদ) বন্টন করে দিচ্ছিলেন, তখন আমরা তাঁর কাছেই ছিলাম। (এমন সময়) যুল খুওয়াইসিরাহ এলো (রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে)। সে ছিল বনু তামীম গোত্রের লোক। সে বললো: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! (বন্টনে) ইনসাফ করেন, (আপনি-তো ইনসাফ করছেন না)’। এতে রাসুলুল্লাহ ﷺ বললে: ‘দুর্ভোগ তোমার। আমি (নবী হয়ে) যদি ইনসাফ না করি, তাহলে আর কে ইনসাফ করবে? আমি যদি ইনসাফ না করি, তবে তো আমি (দুনিয়া ও আখেরাতে) বরবাদ ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাবো’। তখন ওমর রা. বলে উঠলেন: ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে ওর গর্দানটা নেয়ার অনুমতি দিবেন না’ !? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: ‘ওকে যেতে দাও (তোমরা)! নিশ্চই তার (এমন সব) সঙ্গী-সাথী রয়েছে, যাদের নামাযের কাছে তোমাদের যে কারো নামায এবং যাদের রোযার কাছে তোমাদের রোযা তুচ্ছ মনে হবে। (অথচ বাস্তবতা হল) তারা কুরআন পাঠ করে, কিন্তু (কুরআনের মর্ম ও আহকামের বুঝ) তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করে না, (সেখানে অন্তরে প্রবেশ করা-তো আরো পরের কথা)। তারা (এক সময়) দ্বীন থেকে এমনভাবে ছিটকে বেড়িয়ে যাবে, যেভাবে তীর শিকারকে ভেদ করে (অপর দিক দিয়ে) ছিটকে বেড়িয়ে (চলে) যায়; (এবং তখন) সেটির (চোখা) ফলকের দিকে তাকালে তাতে (শিকারের রক্ত, চর্বি, গোস্তের) কিছুই পাওয়া যায়না, অতঃপর সেটির রিসাফের দিকে তাকালে তাতেও কিছু পাওয়া যায় না, অতঃপর সেটির নাযী’ -আর সেটা হল ক্বিদহ- এর দিকে তাকালে তাতেও কিছু পাওয়া যায় না, অতঃপর সেটির কুযাযে’র দিকে তাকালে তাতেও কিছু পাওয়া যায়না। অথচ, (তীরটি আগা গোড়া পশুর) গোশত ও রক্তের ভিতর দিয়ে চলে গেছে। এদের চিহ্ন হবে, (এদের মধ্যে এমন) একজন কালো ব্যাক্তি থাকবে, যার এক হাতের কনুই’-এ নারীর স্তনের মতো বা গোস্তের সামান্য টুকড়ার মতো থাকবে, (যা) নড়াচড়া করবে। এরা লোকজনের মাঝে বিভক্তির সময় আত্বপ্রকাশ করবে’। আবু সাঈদ (খুদরী) রা. বলেন: ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এই হাদিসটি আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে শুনেছি। আমি (এও) সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী বিন আবি ত্বালেব আমার উপস্থিতিতে তাদেরকে হত্যা করেন। তখন তিনি (ওই কালো) লোকটির (খোঁজ বেড় করার) নির্দেশ দেন। পরে (তাকে মৃত অবস্থায়) পাওয়া যায়। এমনকি আমি তাকিয়ে দেখলাম যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ তার যেমনটা বর্ণনা দিয়েছিলেন, সে তেমনই (দেখতে)’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ১৭৩; সহিহ মুসলীম, হাদিস ৩০০০; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ১৯১৩০]
 
# ইউসুর বিন সাঈদ রহ. উবাইদুল্লাহ বিন আবি রাফে’ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে- أَنَّ الْحَرُورِيَّةَ لَمَّا خَرَجَتْ وَهُوَ مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالُوا لَا حُكْمَ إِلَّا لِلَّهِ قَالَ عَلِيٌّ كَلِمَةُ حَقٍّ أُرِيدَ بِهَا بَاطِلٌ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصَفَ نَاسًا إِنِّي لَأَعْرِفُ صِفَتَهُمْ فِي هَؤُلَاءِ يَقُولُونَ الْحَقَّ بِأَلْسِنَتِهِمْ لَا يَجُوزُ هَذَا مِنْهُمْ وَأَشَارَ إِلَى حَلْقِهِ مِنْ أَبْغَضِ خَلْقِ اللَّهِ إِلَيْهِ مِنْهُمْ أَسْوَدُ إِحْدَى يَدَيْهِ طُبْيُ شَاةٍ أَوْ حَلَمَةُ ثَدْيٍ فَلَمَّا قَتَلَهُمْ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ انْظُرُوا فَنَظَرُوا فَلَمْ يَجِدُوا شَيْئًا فَقَالَ ارْجِعُوا فَوَاللَّهِ مَا كَذَبْتُ وَلَا كُذِبْتُ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا ثُمَّ وَجَدُوهُ فِي خَرِبَةٍ فَأَتَوْا بِهِ حَتَّى وَضَعُوهُ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ وَأَنَا حَاضِرُ ذَلِكَ مِنْ أَمْرِهِمْ وَقَوْلِ عَلِيٍّ فِيهِمْ زَادَ يُونُسُ فِي رِوَايَتِهِ قَالَ بُكَيْرٌ وَحَدَّثَنِي رَجُلٌ عَنْ ابْنِ حُنَيْنٍ أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ ذَلِكَ الْأَسْوَدَ . رواه مسلم, كتاب الزكاة, باب التحريض على قتل الخوارج : رقم ١٠٦٦ – ‘হারুরিয়্যাহ’রা যখন বেড় হল, তখন তিনি (তথা উবাইদুল্লাহ বিন আবি রাফে) আলী রা.-এর সাথে ছিলেন। তারা বললো: لَا حُكْمَ إِلَّا لِلَّهِ – ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো হুকুমদাতা নেই’। তখন: আলী রা. বললেন: ‘কথাটা বরহক্ব-সত্য, (কিন্তু) তা বাতিল উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। নিশ্চই রাসুলুল্লাহ ﷺ (আমাদের কাছে এক শ্রেণির) মানুষের বৈশিষ্ট বর্ণনা করেছিলেন (যে, নিকট ভবিষ্যতে তাদের আবির্ভাব হবে এবং মুসলীম উম্মাহ’র মাঝে ফিতনা ঘটাবে)। আমি অবশ্যই এইসব লোকদের মধ্যে (সেসব বিশেষ) বৈশিষ্ট (দেখে বিলক্ষন) চিনে নিতে পারছি। তারা তাদের মুখে (কুরআনের) হক্ব কথা বলে বটে, (কিন্তু সেটা) তাদের কারো এই অংশ অতিক্রম করে না -একথা বলে তিনি কন্ঠনালীর দিকে ইশারা করলেন। (আরো বললেন:) আল্লাহ’র সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে ক্রধের পাত্র তারা। তাদের মধ্যে একজন কালো ব্যাক্তি হবে, যার এক হাতে ভেড়া’র স্তনবৃন্ত বা (নারীর) স্তনের বোঁটার মতো থাকবে’। (এরপর এক সময় যখন বাস্তবেই তাদের আবির্ভাব হল এবং) আলী রা. (যুদ্ধ করে) তাদেরকে কতল করলেন, তখন বললেন: তোমরা (ওই কালো ব্যাক্তিটিকে) খোঁজো’। ফলে (মৃতদেহ গুলোর মধ্যে) তার খোঁজ করা হল, কিন্তু (সম্ভাব্য কারো হাতের মধ্যে সেরকম) কিছুই পাওয়া গেল না। তিনি বললেন: ‘তোমরা (ওখানে আবার) ফিরে যাও, (সে অবশ্যই আছে)। আল্লাহ’র কসম, আমি মিথ্যা বলিনি এবং আমাকেও মিথ্যা বলা হয়নি’। (একথা তিনি) দুবার বা তিন বার বললেন। অতপর (তারা সেখানে আবার ফিরে গিয়ে খুঁজতে লাগলো। অবশেষে) তাকে তারা (মৃত দেহের) স্তুপের মধ্যে (মড়া অবস্থায় পড়ে) পেলো। তখন তারা তাকে এনে একেবারে তাঁর সামনে রেখে দিলো’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১০৬৬; সুনানুল কুবরা, বাইহাকী– ৮/২৯৬ হাদিস ১৬৭০১]
 
ফায়দা: খারেজীদের ব্যাপারে বহু হাদিস রয়েছে, যার মধ্য থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস এখানে উল্লেখ করলাম। এসকল হাদিসে এবং নিম্নের মূল হাদিসগুলোতে দেখা যায়, সকল খারেজীদের একটি বিশেষ common বৈশিষ্ট রয়েছে, আর সেটা হল: ‘তারা কুরআন পড়ে, কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করে না’। অর্থাৎ, কুরআনের মর্ম ও আহকামের সঠিক বুঝ ও প্রয়োগবিধি তাদের হৃদয়ঙ্গম হয় না।
 
কিন্তু প্রশ্ন হল, খারেজীরা ছাড়াও-তো অপরাপর জাহেল-মূর্খদের কুরআনের মর্ম ও আহকামের সঠিক বুঝ ও প্রয়োগবিধি হৃদয়ঙ্গম হয় না এবং এর ফলে আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাই যে, সমাজের সর্বসাধারণ মুসলমানরা সামান্য কিছু আয়াত বা  হাদিসের অনুবাদ পড়ে অথবা অ-মুহাক্কেক আলেমরা কুরআন সুন্নাহ’র উপর অগভীর পড়াশোনার উপর ভিত্তি করে -এবং সাথে কিছুটা নিজেদের বিবেকের যুক্তি’কে কাজে লাগিয়ে- শরীয়তের কোনো মাসআলাহ’র ব্যাপারে অহরহ তর্ক করছে বা  নিজের মতামত দিচ্ছে, অথচ, বড় আলেমগণ জানেন যে ওগুলোর একটাও শরয়ী ফাতওয়া/সমাধানের আওতায় পড়ে না, তাহলে ওইসকল সর্বসাধারণ মুসলমান এবং অ-মুহাক্কেক আলেমরা সবাই কি ‘খারেজী’র হুকুমে পড়ে?

এর উত্তর হল: ‘না’। খারেজীদের কন্ঠনালী দিয়ে কুরআনের মর্ম ও আহকামের সঠিক বুঝ ও প্রয়োগবিধি হৃদয়ঙ্গম না হওয়ার অর্থ আপনারা যেমনটা বুঝেছেন, ব্যাপার তেমনটা নয়। খারেজীদের বিভিন্ন বৈশিষ্টের মধ্যে মূল দুটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট হল:

(১) সাহাবায়ে কেরাম রা., তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন ও মুহাক্কিক ওলামায়ে কেরামগণ -যাঁরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তুর্ভূক্ত- তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহ’র আলোকে নূন্যতম যে যে বৈশিষ্টের অধিকারী নারী ও পুরুষ’কে ‘মুসলীম’-এর মধ্যে গণ্য হওয়ার আক্বিদা পোষন করেন এবং তাদেরকে ইসলামের সীমা থেকে বেড় হয়ে গেছে বলে মর্মে আক্বিদা পোষন করেন না, খারেজীরা তাদেরকেই ‘কাফের/মুরতাদ’ হয়ে গেছে মর্মে আক্বিদা পোষন করে খোদ কুরআনের আয়াতের দলিল দেখিয়েই।

ফলে খারেজীদের মতে, খাঁটি মুসলমান বলতে শুধু তারাই, আর যারা তাদের মতাদর্শ ও কর্তৃত্ব অস্বীকার করে, তারা ‘কাফের/মুরতাদ’ এবং তাদেরকে মুরতাদ হিসেবে কতল করা হালাল, তাদের ধ্বনসম্পদ ‘মুরতাদের’ গ্রহন করা হালাল ইত্যাদি।

(২) সাহাবায়ে কেরাম রা., তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন ও মুহাক্কিক ওলামায়ে কেরামগণ -যাঁরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তুর্ভূক্ত- তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহ’র আলোকে নূন্যতম যে যে বৈশিষ্টের অধিকারী আমীর/খলিফা/শাসক’কে ‘মুসলীম’-এর মধ্যে গণ্য করে তার অনুগত্যাধীনে থাকাকে  সর্বসাধারণ মুসলমান নর-নারীর উপর ওয়াজিব মনে করেন এবং উক্ত আমীর/খলিফা/শাসক’কের তার অনুগত্য থেকে বেড় হয়ে বিদ্রোহ ঘোষনা করাকে হারাম মনে করেন, খারেজীরা সেই একই বৈশিষ্টের আমীর/খলিফা/শাসক’কে কুরআন থেকে দলিল দিয়েই ‘কাফের/মুরতাদ’ গণ্য করে তার অনুগত্যাধীনে থাকাকে হারাম ও কুফর বলে বিশ্বাস করে এবং তার অনুগত্য থেকে বেড়িয়ে যাওয়াকে ফরয ও ইমানের অঙ্গ বলে বিশ্বাস করে। যে সকল মুসলমান নর-নারী তার অনুগত্য স্বীকার করে, খারেজীরা তাদেরকেও পাইকারী হারে ‘কাফের/মুরতাদ’ হয়ে গেছে মর্মে বিশ্বাস করে।

ফলে খারেজীদের মতে, এসকল মুরতাদ আমীর/খলিফা/শাসক’-কে উৎখাত করার জন্য তার বিরুদ্ধে জিহাদ/কিতাল করা হালাল ও ফরয, সেই জিহাদ/কিতালে পরাজিতদের নারীদেরকে দাসী বানানো ও তাদের সাথে যৌন-সঙ্গম করা হালাল, তাদেরকে দাস-দাসী হিসেবে ক্রয়-বিক্রয় করা হালাল, তাদের পরিত্যাক্ত সকলপ্রকার ধ্বনসম্পদ ‘গণীমতের মাল’ হিসেবে ভোগ করা হালাল ইত্যাদি!!! 

মূলতঃ তারা উগ্র জাহেল-পন্ডিত হওয়ার কারণে খিলাফত, জিহাদ/কিতাল, কিসাস, হদ্, অন্যান্য বিচার কার্য প্রভৃতি বিষয়ে কুরআন থেকে নিজেদের উগ্র ভাসা ভাসা বুঝ মতো এমন সব ব্যাখ্যা ও আইন তৈরী করে সেটাকে ‘ইসলামী শরীয়ত’ মনে করে চলে, যেগুলো বাস্তবে কুরআন নির্দেশিত ‘ইসলামী শরীয়ত’ নয়। বরং ওটা হল তাদের অপব্যাখ্যা মূলক একটা কাট্টা ‘খারেজী শরীয়ত’। ‘ইসলামী শরীয়ত’ হল কুরআন-সুন্নাহ’র সেই ব্যাখ্যা ও আইনের নাম, যার উপর সাহাবায়ে কেরাম থেকে নিয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র আইম্মায়ে মুহাদ্দেসীন, মুজতাহিদীন ও মুহাক্কিক আলেমে-দ্বীনগণের ইজমা (ঐক্যমত) রয়েছে এবং শরয়ী ইজতিহাদের আলোকে ইস্তেম্বাত করা হয়।   

ফলে তারা কুরআন মানার নামে বাস্তবে পদে পদে আল্লাহ’র কুরআনের বিভিন্ন নির্দেশ অমান্য করতে থাকে এবং (শরীয়তশিদ্ধ) ‘খলিফা/আমীর/শাসক ও তার অনুগত্যাধীন মুসলীম উম্মাহ’র’ ইজমায়ী জামাআতের মাঝে ফাটল ধরিয়ে নতুন একটা স্বতন্ত্র পথভ্রষ্ঠ তাকফিরি (অর্থাৎ সামান্য কারণেই কাফের কাফের বলার) ফেরকা/দল/Cult তৈরী করে, আর ভাবে যে তারাই কুরআনের সাচ্চা অনুসারী ও আল্লাহ’র প্রিয় মুসলীম বান্দা! কিন্তু বাস্তবে তারাই দ্বীন ইসলাম থেকে ছিটকে বেড় হয়ে যায় এবং তারাই হল দোযখের কুকুর।

কিন্তু এদের বড় সমস্য হল, এরা একদমই বোঝে না যে, তারা বোঝেনা। তারা শুধু এতটুকুই বোঝে যে, তারাই শুধু বোঝে। এই জাতীয় ব্যাক্তিদেরকে একথা বোঝানো মুশকিল যে, তারা বোঝে না এবং ভূল পথের উপর রয়েছে।

তাদের মনমগজে উগ্রতা ও ক্রধধারী এররোখা কট্টর মনমানষিকতার অন্ধকার হল কুরআন বোঝার পথে প্রথম অন্তরায়দ্বিতীয় অন্তরায় হল, তারা কুরআন ও সুন্নাহ’কে ওইসকল মুহাক্কিক ওস্তাদগণের কাছ থেকে শিক্ষা করাকে জরুরী মনে করে না, যে ধারাটির শুরুতে রয়েছে বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সা., তারপর সাহাবায়ে কেরাম এবং তার পরে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’র অন্তুভূক্ত আইম্মায়ে মুহাদ্দেসীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন ও মুহাক্কেক আলেমে দ্বীন, যাঁদের কাঁধে থাকে ইলমের ঝান্ডা বহনের দায়িত্ব। আর তৃতীয় অন্তরায় হল, নিজে কুরআন থেকে যা বুঝেছে, সেটাই একমাত্র সহিহ বুঝ মনে করে গর্বীত হওয়া, আর সেই বুঝের বিপরীত পাশে থাকা সকল সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুহাদ্দেসীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন ও মুহাক্কেক আলেমে দ্বীনের বুঝ ভুল মনে করা। চতুর্থ অন্তরায় হল, অন্যের মতের কাছে নিজের মতকে পরাজিত হওয়াটাকে মেনে নিতে পারে না -চাই অপরজনের মতটি যত সহিহই হোক না কেনো। 

এই খারাপ স্বভাবগুলিকে শয়তান যখন খারেজীদের নিজেদের চোখে সুন্দর, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সহিহ বানিয়ে দেয়, তখন সেটার পরিণতি অত্যন্ত ভয়ঙ্করী এক কট্টর রূপ ধারণ করে।  

চতুর্থ খলিফা আলী রা.-এর জামানার খারেজীরা- (১) সকল সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের অনুসারী সাধারণ মুমিন মুসলমানদের সবাই ‘কাফের/মুরতাদ’ হয়ে গেছেন- বলে বিশ্বাস করতো এবং শুধু নিজেদেরকে মুসলমান মনে করতো। (২) এই বিশ্বাস থেকেই তারা খলিফা আলী রা. সহ তাঁর অধিনস্ত সকল প্রশাসকের অনুগত্য থেকে বেড় হয়ে গিয়ে আলাদা ফেরকা/দল গঠন করেছিল। (৩) এই বিশ্বাস থেকেই তারা সকল সাহাবী ও তাদের অনুসারী সাধারণ মুমিন মুসলমানদের বিরুদ্ধে (মানে তাদের মতে কাফেরদের বিরুদ্ধে) জিহাদ করাকে ফরয মনে করতো। (৪) সাহাবীগণের কেউ কুরআনের আয়াত ও সুন্নাহ’র ভিত্তিতে কিয়াস করে কোনো মাসআলায় রায় দিলে তারা সূরা মায়েদা’র নং ৪৪ আয়াত – وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ – ‘আর আল্লাহ’ যা নাজিল করেছেন, যা তা দিয়ে বিচার করে না, তারাই কাফের’ -তেলাওয়াত করে বলতো যে, এভাবে নিজের রায় দেয়ার কারণে রায় দাতা কাফের হয়ে গেছে। (৫) তারা প্রকৃত মুসলমানদেরকে তো কাফের/মুরতাদ বলতো, আর অন্য দিকে কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করে মুশরেক কাফেরদের সমর্থন করতো। ইত্যকার পথভ্রষ্ঠতা ছিল তাদের দ্বীন তাদের শরীয়ত, যার সাথে দ্বীন ইসলাম ও শরীয়তের কোনো সম্পর্ক ছিল না। দ্বীন ইসলামকে এদের থেকে হিফাজত করা ছিল সময়ের অপরিহার্য দাবী। এজন্য হযরত অালী রা. তাঁর খিলাফত কালে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে তাদেরকে পাইকারী হারে কতল করেন। খারেজীদের ব্যাপারে খোদ রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছিলেন- لَئِنْ أَدْرَكْتُهُمْ لأَقْتُلَنَّهُمْ قَتْلَ ثمود – ‘আমি যদি তাদের সাক্ষাত পেতাম তাহলে অবশ্য অবশ্যই তাদেরকে ছামুদ (জাতি)কে (পাইকারী হারে) কতল করার ন্যায় কতল করতাম’[সহিহ বুখারী, সহিহ মুসলীম]

খারেজী গোষ্ঠী’র দৌরাত্ব শেষ জামানায় দাজ্জাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে

আজ থেকে প্রায় চোদ্দ’শ বছর আগে আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী রা.-এর খিলাফতের জামানায় খারেজী গোষ্ঠি’র প্রথম দলবদ্ধ আবির্ভাব ও গণ পতন হলেও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অন্য ভবিষ্যৎবাণী থেকে বোঝা যায়, খারেজীদের উত্তরসূরীদের দৌরাত্ব বিভিন্ন জামানায় প্রকাশ পাবে, এমনকি ওদের শেষাংশের মধ্যেই ‘মাসিহ দাজ্জাল’ -এর আবির্ভাব হবে।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- سَمِعْتُ رسولَ اللَّهِ صلَّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ يقولُ : يَخرجُ قومٌ من قَبَلِ المشرقِ ، يقرَؤونَ القرآنَ لا يجاوِزُ تراقيَهُم ، كلَّما قُطِعَ قرنٌ نشأَ قَرنٌ حتَّى يخرُجَ في بقيَّتِهِمُ الدَّجَّالُ . اخرجه أحمد في المسند: ٦/٤١٣ رقم ٦٩٥٢, و قال أحمد شاكر: إسناده صحيح ; و الحاكم في المستدرك: رقم ٨٥٥٨ ; قال الهيثمي في مجمع الزوائد: ٦/٢٣٠: رواه الطبراني وإسناده حسن; و ابو داود طيالسي: رقم ٢٢٩٣ و رواته ثقات كما في إتحاف الخيرة ألبوصيرى :٨/١١٨ رقم ٧٦٢٢ – ‘আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে এরশাদ করতে শুনেছি: পূর্ব দিক থেকে একটি গোষ্ঠী বেড় হবে, তারা কুরঅান পড়বে, (কিন্তু আয়াতগুলো) তাদের (গলার) কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। (প্রকৃত অর্থ ও মর্ম কলবে ঢোকা তো পরের কথা)। যতবারই (তাদের দৌরাত্বের) শিং-কে কেটে ফেলা হবে, (ততবারই তাদের) নতুন শিং গজাবে। এমনকি (এভাবে চলতে চলতে) তাদের অবশিষ্ঠাংশের মধ্যে দাজ্জাল বেড় হবে’[মুসনাদে আহমাদ-৬/১৫৩ হাদিস ৬৯৫২; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস ৮৫৫৮; আবু দাউদ তায়ালিসী, হাদিস ২২৯৩; ত্বাবরাণী: মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৬/২৩০]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: كُلَّمَا خَرَجَ قَرْنٌ قُطِعَ , أَكْثَرَ مِنْ عِشْرِينَ مَرَّةً حَتَّى يَخْرُجَ فِي عِرَاضِهِمُ الدَّجَّالُ . رواه ابن ماجة: ١٧٤ ; وصححه البوصيري في “الزوائد”: ١/٢٦ ، وحسنه الألباني في “صحيح ابن ماجة – ‘আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে এরশাদ করতে শুনেছি: ‘যতবারই তাদের (দৌরাত্বের) শিং বেড় হবে, (ততবারই তা) কেটে ফেলা হবে’। (এই একই কথা তিনি বিশ বারেরও বেশি বললেন। তারপর বললেন:) এমনকি (এভাবে চলতে চলতে) তাদের শেষাংশের মধ্যে দাজ্জাল বেড় হবে’[সুনানে ইবনে মাজাহ- ১/৪৭ হাদিস ১৭৪]

এই হাদিসেও আপনার দেখেতে পেলেন যে, সব খারেজীদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট রয়েছে, আর সেটা হল: ‘তারা কুরআন পড়ে কিন্তু কুরআনের মর্ম তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করে না’।

শেষ জামানার খারেজী গোষ্ঠী / ফেরকা : আইএস, দায়েশ

আলী রা. থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেছেন- سَيَخْرُجُ قَوْمٌ فِي آخِرِ الزَّمَانِ، أَحْدَاثُ الأَسْنَانِ، سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ، يَقُولُونَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ البَرِيَّةِ، لاَ يُجَاوِزُ إِيمَانُهُمْ حَنَاجِرَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ، كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ، فَأَيْنَمَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاقْتُلُوهُمْ، فَإِنَّ فِي قَتْلِهِمْ أَجْرًا لِمَنْ قَتَلَهُمْ يَوْمَ القِيَامَةِ . رواه بخاري , كتاب استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم, باب قتل الخوارج والملحدين بعد إقامة الحجة عليهم: رقم ٦٩٣٠ ; و مسلم: رقم ١٠٦٦; احمد: ١/٤٣١ رقم ٦١٦ بإسناد صحيح, تحقيق: حمزة أحمد الزين; – ‘শিঘ্রই শেষ জামানায় (এমন একটি) গোষ্ঠীর আবির্ভাব হবে, (যারা হবে) কাঁচা- বয়সের (সব ছেলেপুলে/উর্তি যুবক এবং) জ্ঞান-বুদ্ধিতে অপরিপক্ক/নির্বোধসূলভ। তারা কথা বলবে উৎকৃষ্ট কথা (কিন্তু কথাগুলোর সহিহ ব্যাখ্যা না বোঝার কারণে তারা মুর্খতা বসতঃ তা গলত স্থানে প্রয়োগ করবে)। তারা কুরআন পাঠ করবে, (কিন্তু আয়াতগুলো) তাদের (গলার) কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না, (ক্বলবে ঢোকা তো পরের কথা)। তারা দ্বীন (ইসলাম) থেকে (এমনভাবে) ছিটকে বেড় হয়ে যাবে, যেভাবে তীর শিকার ভেদ করে ছিটকে বেড় হয়ে যায়। তোমরা তাদেরকে যেখানেই সাক্ষাত পাবে, কতল করে ফেলবে। কারণ, যে তাদের কতল করবে, নিশ্চই তার জন্য কেয়ামতের দিন আল্লাহ’র কাছে তাদেরকে কতলের মধ্যে পুরষ্কার রয়েছে ’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৬৯৩০; সহিহ মুসলীম, হাদিস ১০৬৬; মুসনাদে আহমদ– ১/৪৩১ হাদিস ৬১৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৭৬৭; সুনানে নাসায়ী, হাদিস ৪১১৩; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২১৮৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৬৮]

এরা হল শেষ জামানার খারেজী গোষ্ঠি এবং তাদেরও ওই বিশেষ বৈশিষ্টটি রয়েছে, অর্থাৎ: ‘তারা কুরআন পড়ে কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করে না’। 

ইমাম হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. يَقُولُونَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ البَرِيَّةِ – ‘তারা কথা বলবে উৎকৃষ্ট কথা’ -এর ব্যাখ্যায় লিখেছেন যে, এর অর্থ: কুরআন। [ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার- ৬/৬১৯] অর্থাৎ, এই শেষ জামানার খারেজীরাও কুরআনের আয়াত দিয়েই তাদের কথা ও কাজের স্বপক্ষে দলিল দিবে বা মানুষকে তাদের দিকে ডাকবে, যেমন: ইসলামী খিলাফত, কিতাল/জিহাদ, কেসাস, শরীয়াহ ভিত্তিক বিচার ইত্যাদির কথা বলবে বা সেদিকে মানুষকে ডাকবে, কিন্তু বাস্তবতা হবে তা-ই যা হযরত আলী রা. বলেছিলেন: كلمة حق يراد بها باطل — কথা সত্য, (কিন্তু) তা বাতিল উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত। 

তবে শেষ জামানার খারেজীদের চেনার আরো দুটি বিশেষ বৈশিষ্টের কথা উল্লেক করা হয়েছে যে, তারা হবে  أَحْدَاثُ الْأَسْنَانِ এবং سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ। এই বৈশিষ্ট দুটি শেষ জামানার খারেজী ছাড়া ইতিপূর্বেকার অন্য কোনো জামানার খারেজীদের ব্যাপারে কোনো হাদিসে বর্ণিত হয়েছে মর্মে আমার ক্ষুদ্র চোখে ধরা পরেনি। 

শব্দগুচ্ছ أَحْدَاثُ الْأَسْنَانِ -এর মধ্যে আরবী শব্দ حدث অর্থ: নভিস, নতুন, প্রারম্ভ, আরম্ভ ইত্যাদি যার বহুবচন হল أحداث । আর سن অর্থ (বয়স/বৎসর) এবং এর বহুবচন হল اﻷسنان । আমি এর বঙ্গানুবাদ করেছি: কাঁচা- বয়সের (সব ছেলেপুলে/উর্তি যুবক)’আর শব্দগুচ্ছ سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ -এর মধ্যে আরবী শব্দ حلم অর্থ: আকল, আক্কেল-জ্ঞান, বিবেক-বোধ, বুদ্ধি ইত্যাদি যার বহুবচন হল الأحلام। আর سَفِيه অর্থ নির্বোধ, বেউকুফ (stupid), আহাম্মক, বুদ্ধিভ্রষ্ট, স্থুলবুদ্ধিসম্পন্ন ইত্যাদি এবং এর বহুবচন হল سُفَهاءُ । আমি এর বঙ্গানুবাদ করেছি:জ্ঞান-বুদ্ধিতে অপরিপক্ক/নির্বোধসূলভ’।

এই শেষ জামানার খারেজী গোষ্ঠিকে চেনা মুসলীম উম্মাহ’র জন্য অপরিহার্য। আর আমরা ‘নবীজীর ভবিষ্যৎবাণী’ সিরিজে দেখিয়ে এসেছি যে, আমরা নিঃসন্দেহে শেষ জামানায় ঢুকে পড়েছি। এখন দেখার বিষয়, এই জামানায় এই সবগুলো বৈশিষ্টের কোন গোষ্ঠি রয়েছে?

এ জামানার অনেকে বিভিন্ন বই, পত্রপত্রিকা, ওয়েবপেজ ইত্যাদিতে মুসলীম উম্মাহ’র মাঝে বিদ্যমান বিভিন্ন গ্রুপকে শেষ জামানার ‘খারেজী গোষ্ঠী’ বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ওগুলোর বেশিরভাগই এমন যে, তাদের কারো কারো মধ্যে খারেজীদের বিশেষ বৈশিষ্টের কম-বেশি সাদৃশ্যতা রয়েছে মর্মে অনুভূত হলেও, তাদেরকে আমার মন ‘খারেজী ফেরকা/দল’ বলতে পুরোপুরি সায় দেয় না। সন্দেহ নিয়ে নিশ্চিত কোনো মত দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তবে যাদেরকে কোনো সন্দেহ ছাড়াই শেষ জামানার খারেজী বলা যায় (এবং বিশ্বের বহু ওলামায়ে কেরাম যাদেরকে শেষ জামানার খারেজী বলে মত প্রকাশ করেছেন,) তারা হল: ইরাক ও সিরিয়ায় আস্তানা গাড়া ‘আইএসআইএস’ বা ‘দায়েশ’ নামক সেই তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি

আল্লাহ তাআলা আমাদের আইম্মায়ে মুহাদ্দেসীনের কবরকে নূরে নূরান্নীত করুন। তাঁরা আমাদের জন্য সহিহ ও নির্ভরযোগ্য সনদে বর্ণিত হাদিস ও আছারগুলোকেই শুধু সংরক্ষন করে যান নি, তাঁদের অনেকে দূর্বল সনদ বা অতীব দূর্বল সনদ কিংবা জাল সনদে বর্ণিত হাদিস ও আসারগুলোকেও তাঁদের কিতাবে উল্লেখ করে গেছেন, যাতে তাঁদের পরবর্তী মুসলীম প্রজন্মরা -(১) সনদের আলোকে যাচাই বাঁছাই করে সম্ভাব্য জাল, মিথ্যা, অনির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত রেওয়ায়েত সমূহ থেকে যথাসম্ভব বেঁচে থাকতে পারে, (২) সহিহ ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত রেওয়ায়েত গুলো থেকে শরীয়ত বুঝতে ও আহকাম ইস্তেম্বাত করতে পারে, (৩) দূর্বল বা অতীব দূর্বল সনদে বর্ণিত রেওয়াতেরগুলো থেকে উসূলের আলোকে ফায়দা হাসিল করতে পারে।

এমনই একজন হলেন, তৎকালীন ইরাকের মুহাদ্দেস ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:)। ইমাম আহমদ, ইমাম ইবনে মুঈন, ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম প্রমূখের মতে তিনি ‘সিকাহ’ (নির্ভরযোগ্য) রাবী। খোদ সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলীমে তাঁর বর্ণিত হাদিস রয়েছে। তাঁর একটি প্রসিদ্ধ কিতাব হল الفتن (আল ফিতান)। তবে এই কিতাবে তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ, বিভিন্ন সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন বা তাবে তাবেয়ীন থেকেমারফু ও মুরসাল সূত্রে এবং সহিহ, হাসান, ফয়ীফ, মুনকার, মাউযু -সকল প্রকার সনদে ‘ফিতনা’ সম্পর্কিত প্রায় ২০০০ রেওয়ায়েত উদ্ধৃত করেছেন, যার মধ্যে এমন কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়, যা বিশ্বের বহু আলেমে দ্বীনের মত এই শেষ জামানার কালো পতাকাধারী আইএস বা দায়েশদের দিকে ইশারা করে। নিম্নের রেওয়ায়েত গুলোর প্রতি লক্ষ্য করুন:-

ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ হাসান সনদে হযরত যুহরী রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَرْوَانَ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ التَّنُوخِيِّ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، قَالَ : “ تُقْبِلُ الرَّايَاتُ السُّودُ مِنَ الْمَشْرِقِ ، يَقُودُهُمْ رِجَالٌ كَالْبُخْتِ الْمَجَلَّلَةِ ، أَصْحَابُ شُعُورٍ ، أَنْسَابُهُمُ الْقُرَى ، وَأَسْمَاؤُهُمُ الْكُنَى ، يَفْتَتِحُونَ مَدِينَةَ دِمَشْقَ ، تُرْفَعُ عَنْهُمُ الرَّحْمَةُ ثَلاثَ سَاعَاتٍ . رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن: رقم ٥٦٤, قال مجدى بن منصور بن سيد الشوري: ص١٣٤ رقم ٥٥٠: اسناده حسن – ‘পূর্বদিকে কালো পতাকা(ধারী একটি গোষ্ঠি)র আবির্ভাব হবে, (তাদের) পুরুষরা -কাপড়ে ঢাকা বুখতী উটের (কুঁজের) মতো (তাদের মাথা ও মুখকে) পেঁচিয়ে রাখবে, তারা হবে (লম্বা) চুলধারী, তাদেরকে সম্মোধন করা হবে (শহর/গ্রামের) এলাকার সাথে (সম্পর্কযুক্ত করে), তাদের নামগুলো হবে কুনিয়া-যুক্ত (উপনাম বিশিষ্ট), তারা (সিরিয়ার) দামেষ্ক দখল করবে, তাদের (অন্তর) থেকে তিনটি (বিশেষ) সময়ে দয়া-মায়া উঠে যাবে’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, আছার ৫৬৪]

এই ভবিষ্যতবাণীটি  বিশিষ্ট তাবেয়ী ও হাদিসের নির্ভরযোগ্য রাবী ইমাম যুহরী রহ. থেকে উত্তম সনদে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েত। তবে তিনি কার কাছ থেকে শুনে তা বর্ণনা করেছেন -তার কোনো উল্লেখ নেই। ইমাম যুহরীর এই বর্ণনার সমর্থন হয় নিম্নোক্ত রেওয়ায়েত থেকে। 

 

ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. নিজ সনদে হযরত আলী রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ ، وَرِشْدِينُ ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ ، عَنْ أَبِي قَبِيلٍ ، عَنْ أَبِي رُومَانَ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : ” إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّايَاتِ السُّودَ فَالْزَمُوا الأَرْضَ فَلا تُحَرِّكُوا أَيْدِيَكُمْ ، وَلا أَرْجُلَكُمْ ، ثُمَّ يَظْهَرُ قَوْمٌ ضُعَفَاءُ لا يُؤْبَهُ لَهُمْ ، قُلُوبُهُمْ كَزُبَرِ الْحَدِيدِ ، هُمْ أَصْحَابُ الدَّوْلَةِ ، لا يَفُونَ بِعَهْدٍ وَلا مِيثَاقٍ ، يَدْعُونَ إِلَى الْحَقِّ وَلَيْسُوا مِنْ أَهْلِهِ ، أَسْمَاؤُهُمُ الْكُنَى ، وَنِسْبَتُهُمُ الْقُرَى ، وَشُعُورُهُمْ مُرْخَاةٌ كَشُعُورِ النِّسَاءِ ، حَتَّى يَخْتَلِفُوا فِيمَا بَيْنَهُمْ ، ثُمَّ يُؤْتِي اللَّهُ الْحَقَّ مَنْ يَشَاءُ . رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن: رقم ٥٧٣, و إسناده ضعيف جدا; و ذكرالمتقي الهندي في كنز العمال: ١١/٢٨٣ رقم ٣١٥٣٠‘যখন তোমরা (পূর্ব দিক থেকে আবির্ভূত একটি গোষ্ঠির হাতে) কালো পতাকা দেখতে পাবে, তখন জমিনকে আঁকড়ে ধরে থেকো, (কোনো অবস্থাতেই) তোমাদের হাত’কে নড়াচড়া করো না, তোমাদের পা’কেও না। (তোমরা তাদেরকে কোনো রকম সাহায্য করবে না)। এরপর একটি দূর্বল গোষ্ঠির আবির্ভাব হবে, তাদের কোনো মূল্য থাকবে না, তাদের অন্তরগুলো হবে লোহার টুকড়ার মতো (শক্ত; দয়া-মায়া বলে কিছু থাকবে না)। তারা (একটি) রাষ্ট্রের হর্তাকর্তা (হয়ে বসবে)। এরা না কোনো ওয়াদা/অঙ্ঘিকার পূরণ করবে, আর না কোনো চুক্তি। তারা আল-হক্ব (আল-কুরআন/দ্বীন ইসলাম)-এর দিকে আহবান করবে, কিন্তু (বাস্তবে) তারা (নিজেরা) তার ধারকবাহক হবে না, (তারা হবে মূলতঃ গোমরাহী ও ফিতনা-ফ্যাসাদে’র ধারকবাহক)। তাদের নামগুলো হবে কুনিয়া-যুক্ত (উপনাম বিশিষ্ট), তাদেরকে সম্মোধন করা হবে (শহর/গ্রামের) এলাকার সাথে (সম্পর্কযুক্ত করে), তাদের চুলগুলো হবে নারীদের চুলের মতো লেপানো। একসময় তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিরোধ দেখা দিবে। এরপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আল-হক্ব (সত্য দ্বীনের বুঝ ও তাঁর কবুলিয়াত) দান করবেন’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, আছার ৫৭৩; কাঞ্জুল উম্মাল- ১১/২৮৩ ক্রমিক নং ৩১৫৩০]

# ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে আলী বিন আবি ত্বালহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন – حدثنا ابن أبي هريرة عن أبيه عن علي بن أبي طلحة قال يدخلون دمشق برايات سود عظام فيقتتلون فيها مقتلة عظيمة شعارهم بكش بكش . رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن: رقم ٥٦٥; قال مجدى بن منصور بن سيد الشوري: ص١٣٤ رقم ٥٥١: فيه مجهول; و ذكرالمتقي الهندي في كنز العمال: ١١/٢٨٣ رقم ٣١٥٢٩ – ‘তারা কালো পতাকা নিয়ে (শাম/সিরিয়ার) দামেশকে ব্যাপক সংখ্যায় প্রবেশ করবে। পরে সেখানে তারা খুনাখুনি ও যুদ্ধবিগ্রহের মারাত্মক এক ময়দান/মৌসুম বানিয়ে ফেলবে। তাদের পরিচয়-চিহ্ন হবে, (তারা সামান্যতেই বলবে:) হত্যা করো, হত্যা করো’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, আছার ৫৬৫; কাঞ্জুল উম্মাল- ১১/২৮৩ ক্রমিক নং ৩১৫২৯]

# ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- حدثنا يحيى بن سعيد العطار عن ضرار بن عمرو عن إسحاق بن عبد الله بن أبي فروة عمن حدثه عن أبي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم: تَأْتِيكُمْ بَعْدِي أَرْبَعُ فِتَنٍ ، الأُولَى يُسْتَحَلُّ فِيهَا الدِّمَاءُ ، وَالثَّانِيَةُ يُسْتَحَلُّ فِيهَا الدِّمَاءُ ، وَالأَمْوَالُ ، وَالثَّالِثَةُ يُسْتَحَلُّ فِيهَا الدِّمَاءُ ، وَالأَمْوَالُ ، وَالْفُرُوجُ ، وَالرَّابِعَةُ صَمَّاءُ عَمْيَاءُ مُطْبِقَةٌ ، تَمُورُ مَوْرَ الْمَوْجِ فِي الْبَحْرِ ، حَتَّى لا يَجِدَ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ مِنْهَا مَلْجَأً ، تُطِيفُ بِالشَّامِ ، وَتَغْشَى الْعِرَاقَ ، وَتَخْبِطُ الْجَزِيرَةَ بِيَدِهَا وَرِجْلِهَا ، وَتُعْرَكُ الأُمَّةُ فِيهَا بِالْبَلاءِ عَرْكَ الأَدِيمِ ، ثُمَّ لا يَسْتَطِيعُ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ يَقُولُ فِيهَا : مَهْ مَهْ ، ثُمَّ لا يَعْرِفُونَهَا مِنْ نَاحِيَةٍ إِلا انْفَتَقَتْ مِنْ نَاحِيَةٍ أُخْرَى . رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن: رقم ٨٩, اسناده ضعيف جداً , اورده المتقي في كنز العمال: ١١/١٦٣ رقم ٣١٠٤٧ – ‘আমার পর তোমরা (মুসলমানরা) চারটি ফিতনার সম্মুখিন হবে। প্রথমটির ক্ষেত্রে (মুসলমানদের) রক্ত’কে হালাল বানানো হবে। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে (মুসলমানদের) রক্ত ও সম্পদ’কে হালাল বানানো হবে। তৃতীয়টির ক্ষেত্রে (মুসলমানদের) রক্ত, সম্পদ ও লজ্জাস্থান’কে হালাল বানানো হবে। আর চতুর্থ (ফিৎনা)টি হবে ‘(রাতের ঘন) অন্ধকারময় সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে (-র তোড়ে) রধির হয়ে দৃষ্টিশক্তিহীন অবস্থায় (কখনো) এদিক (কখনো) ওদিক ভেসে যাওয়া(র ন্যায় একটি মারাত্মক ফিতনা)। এমনকি (অবস্থা এমন হবে যে,) লোকেরা এ থেকে (নিরাপদ থাকার) কোনো আশ্রয় (খুঁজে) পাবে না। এ(ফিতনা)টি শাম-এর চার পাশ প্রদক্ষিন করবে, আর ইরাক’কে আচ্ছন্ন করে নিবে। সে তার হাত-পা দ্বারা জাজিরাতুল-আরবে যত্রতত্র বিচরন করে বেড়াবে। (মুসলীম) উম্মাহ’কে এর মধ্যে বালা-মুসিবতের দ্বারা চামড়া কষানোর মতো কষিত করা হবে। (তখন জালেমদের পক্ষ থেকে চাপানো বালা-মুসিবত এত চরমে পৌছবে যে, এসব পরিবর্তনের জন্য) কেউ সে সময় টুহ্-টাহ্ করার (মতো) সামর্থ রাখবে না। অতঃপর তারা এ(ফিতনা)টির এক দিক চিনতে পারবে না – যাবৎ না এর অপর দিকটি উন্মুক্ত করা হয়’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, হাদিস ৮৯ ; কাঞ্জুল উম্মাল- ১১/১৬৩ হাদিস ৩১০৪৭]

# ইমাম নুয়াইম বিন হাম্মাদ রহ. তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ নিজ সনদে হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন – قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ : وَحَدَّثَنِي الْجُنَيْدُ بْنُ مَيْمُونٍ ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : “ الْفِتْنَةُ الرَّابِعَةُ عَمْيَاءُ مُظْلِمَةٌ تَمُورُ مَوْرَ الْبَحْرِ ، لا يَبْقَى بَيْتٌ مِنَ الْعَرَبِ وَالْعَجَمِ إِلا مَلأَتْهُ ذُلا وَخَوْفًا ، تُطِيفُ بِالشَّامِ ، وَتَغْشَى بِالْعِرَاقِ ، وَتَخْبِطُ بِالْجَزِيرَةِ بِيَدِهَا وَرِجْلِهَا ، تُعْرَكُ الأُمَّةُ فِيهَا عَرْكَ الأَدِيمِ ، وَيَشْتَدُّ فِيهَا الْبَلاءُ حَتَّى يُنْكَرَ فِيهَا الْمَعْرُوفُ ، وَيُعْرَفَ فِيهَا الْمُنْكَرُ ، لا يَسْتَطِيعُ أَحَدٌ ، يَقُولُ : مَهْ مَهْ ، وَلا يَرْقَعُونَهَا مِنْ نَاحِيَةٍ إِلا تَفَتَّقَتْ مِنْ نَاحِيَةٍ ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا ، وَلا يَنْجُو مِنْهَا إِلا مِنْ دَعَا كَدُعَاءِ الْغَرَقِ فِي الْبَحْرِ ، تَدُومُ اثْنَيْ عَشَرَ عَامًا ، تَنْجَلِي حِينَ تَنْجَلِي وَقَدِ انْحَسَرَتِ الْفُرَاتُ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ ، فَيَقْتَتِلُونَ عَلَيْهَا حَتَّى يُقْتَلَ مِنْ كُلِّ تِسْعَةٍ سَبْعَةٌ . رواه نعيم بن حماد في كتاب الفتن: رقم ٦٧٦, رجاله ثقات غير جنيد أو حميد بن ميمون أبو عبد الحميد لم يُترجم له غير الدولابي وخرج له الضياء في المختارة محتجا به، وقد ذكر أبو حاتم أن بقية روى عن أبي عبد الحميد، فالله اعلم ، وصفوان بن عمرو الحمصي ثقة صدوق، وقد ورد هذا الحديث عن ضرار بن عمرو أيضا وضرار ضعيف

‘চতূর্থ ফিৎনাটি হবে ‘(রাতের ঘন) অন্ধকারময় সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে (-র তোড়ে রধির হয়ে ও) দৃষ্টিশক্তিহীন অবস্থায় (কখনো) এদিক (কখনো) ওদিক ভেসে যাওয়া(র ন্যায় একটি মারাত্মক ফিতনা, যা) আরব-আজম (অনারব) কারো ঘরকে এর জিল্লতী (অপদস্থতা) ও ভয়-ভীতিতে আচ্ছন্ন না করে ছাড়বে না, তা শাম-এর চারপাশে প্রদক্ষিন করে বেড়াবে, আর ইরাক’কে আচ্ছন্ন করে নিবে, সে তার হাত-পা দ্বারা জাজিরাতুল-আরবে যত্রতত্র বিচরন করে বেড়াবে। (মুসলীম) উম্মাহ’কে এর মধ্যে চামড়া কষানোর মতো কষিত করা হবে, তখন (জালেমদের পক্ষ থেকে চাপানো) বালা-মুসিবত চরমে পৌছবে। এমনকি সেই ফিতনায় (এমন অবস্থা হবে যে, কুরআন-সুন্নাহ’র নির্দেশিত বহু) মা’রুফ (ভাল বিষয়)কে মুনকার (অপছন্দনীয়/ঘৃনার্হ) মনে করা হবে এবং (কুরআন-সুন্নাহ’র দৃষ্টিতে বহু) মুনকার (বাতিল/অপছন্দনীয়/ঘৃনার্হ বিষয়)কে ভাল মনে করা হবে। (এসব পরিবর্তনের জন্য) কেউ টুহ-টাহ করার (মতো) সামর্থ রাখবে না। এ(ফিতনা)র এক দিক ঢাকতে গেলে অপর দিক উন্মুক্ত করা ছাড়া তা (পুরোপুরি আচ্ছাদিত) করা যাবে না। তখন মানুষ সকাল কাটাবে মুমিন অবস্থায়, আর সন্ধা কাটাবে কাফের অবস্থায়। সেই ফেতনা থেকে শুধু ওই ব্যাক্তি বাঁচতে পারবে, যে সমুদ্রে ডুবন্ত অবস্থায় করা দোয়ার ন্যায় (আল্লাহ’কে) ডাক দিবে। এ অবস্থা বার বছর বহাল থাকবে। এটা গড়াতে গড়াতে (একসময়) ফুরাত নদী (তার বুক চিড়ে) স্বর্ণের পাহাড় উন্মুক্ত করে দিবে। তখন লোকজন তা নিয়ে লড়াই করবে এবং প্রতি নয় জনের সাতজন মারা পড়বে’। [আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ, আছার ৬৭৬]

এই রেওয়ায়েত গুলোকে এবারে ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামী রাষ্ট্রের দাবীদার আইএস/দায়েশ’দের সাথে মিলিয়ে দেখিা যাক। 

(১) বলা হয়েছে- إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّايَاتِ السُّودَ  ‘যখন তোমরা (পূর্ব দিক থেকে আবির্ভূত একটি গোষ্ঠির হাতে) কালো পতাকা দেখতে পাবে….’। আইএস/দায়েশ’দের ঝান্ডা/পতাকার রং কালো -একথা সচেতন কাউকে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই।

(২) বলা হয়েছে- يَقُودُهُمْ رِجَالٌ كَالْبُخْتِ الْمَجَلَّلَةِ – ‘(তাদের) পুরুষরা -কাপড়ে ঢাকা বুখতী উটের (কুঁজের) মতো (তাদের মাথা ও মুখকে) পেঁচিয়ে রাখবে’। আইএস/দায়েশ’দের মধ্যে -পুরো মুখকে কাপড় দিয়ে ঢেকে শুধু চোখদুটোকে বেড় করে রাখার অভ্যাস উল্লেখযোগ্য মাত্রায় লক্ষনীয়।

http://islamic-culture.faith/wp-content/uploads/2018/10/দায়েশ-আইএস-আইএসএল-জঙ্গি-নারীর-মতো-লম্বা-চুল কলো পতাকা

(৩) বলা হয়েছে- شُعُورُهُمْ مُرْخَاةٌ كَشُعُورِ النِّسَاءِ তাদের চুলগুলো হবে নারীদের চুলের মতো লেপানো’। আইএস/দায়েশ’দের মধ্যে মেয়েদের মতো লেপানো লম্বা লম্বা চুল রাখার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় লক্ষনীয়।

(৪) বলা হয়েছে- أَسْمَاؤُهُمُ الْكُنَى – ‘তাদের নামগুলো হবে কুনিয়া-যুক্ত (উপনাম বিশিষ্ট)’। আইএস/দায়েশ’দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যাক্তিদের নামগুলো আজ কুনিয়া/উপনাম (আবু অমুক, আবু অমুক) দিয়েই সমধিক পরিচিত। যেমন: আবু বকর আল-বাগদাদী (মূল নাম: ইব্রাহীম  আওআদ ইব্রাহীম আলী), আবু আব্দুর রহমান আল-বাইলাবী (মূল নাম: আদনান ইসমাঈল), আবু বিলাল আল-মাসহাদানী (মূল নাম: সামির), আবু আইমান আল-ইরাকী, আবু আলী আল-আম্বারী, আবু মুসআব আল-আলুস, আবু উমার আশ-শিসানী, আবু নাসের আল-আমনী  ইত্যাদি।

(৫) বলা হয়েছে- نِسْبَتُهُمُ الْقُرَى – ‘তাদেরকে সম্মোধন করা হবে (শহর/গ্রামের) এলাকার সাথে (সম্পর্কযুক্ত করে)’। আইএস/দায়েশ’দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যাক্তিদের পরিচয় বিভিন্ন শহর বা গ্রাম বা এলাকার সাথে যুক্ত করে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। যেমন: ইরাকের বাগদাদ শহরের সাথে সম্মন্ধযুক্ত করে বলা হয় আবু বকর আল-বাগদাদী।

(৬) বলা হয়েছে- قُلُوبُهُمْ كَزُبَرِ الْحَدِيدِ তাদের অন্তরগুলো হবে লোহার টুকড়ার মতো (শক্ত; দয়া-মায়া বলে কিছু থাকবে না)’। এখানে পাথরের সাথে তুলনা না করে তার থেকেও শক্ত পদার্থ লোহার টুকড়োর সাথে তুলনা করা হয়েছে। তার মানে লোহার মতো শক্ত নির্দয় অন্তরের প্রমাণ দিতে হলে নারী পুরুষ ও শিশুদের সাথে কী পরিমাণ ভয়ঙ্কর দয়ামায়াহীন আচোরণ করতে হবে -একবার ভেবে দেখেছেন? আইএস/দায়েশ’রা কি জঘন্য ভাবে নারী পুরুষ ও শিশুদেরকে হত্যা করেছে তার কিছু জ্বলজ্যান্ত ভিডিও দেখলে গা শিউরে ওঠে। 

(৬) বলা হয়েছে- هُمْ أَصْحَابُ الدَّوْلَةِ – ‘তারা (একটি) রাষ্ট্রের হর্তাকর্তা (হয়ে বসবে)’। ২০০৬ ইং সালে আইএস/দায়েশ’রা তাদের প্রধান নেতা আবুবকর আল-বাগদাদী’র আবির্ভাবের পর তার নেতৃত্বে ৮ এপ্রিল ২০১৩ ইং তারিখে প্রথম ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড লেভান্ত (আই এসআইএল) গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়, পরে তারা সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিরাট এলাকায় দখলদারী স্থাপন করে। ২৯ জুন ২০১৪ ইং সালে তাদের দখলকৃত এলাকাকে তথাকথিত ‘ইসলামী খিলাফত’ (ইসলামীক স্টেট/ইসলামী রাষ্ট্র) এবং আবুবকর আল-বাগদাদী’কে ‘খলিফা’ ঘোষণা করা হয়।

(৮) বলা হয়েছে চতুর্থ ফিতনাটি- تَغْشَى الْعِرَاقَ ইরাক’কে আচ্ছন্ন করে নিবে। আইএস/দায়েশ’দের ফিতনা’র মূল ঘাটিই হল ইরাক। ইরাক দখল করার পরই তারা সেটাকে ‘ইসলামী খিলাফত’ (ইসলামীক স্টেট/ইসলামী রাষ্ট্র) নাম দিয়ে তার হর্তাকর্তা হয়ে বসেছে। 

(৯) বলা হয়েছে চতুর্থ ফিতনাটি- تُطِيفُ بِالشَّامِ তা শাম-এর চারপাশে প্রদক্ষিন করে বেড়াবেশাম বলতে এখানে ‘বালাদে শাম’ (সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, জর্ডান -এর বিভিন্ন এলাকার সামগ্রীক রূপ)ও উদ্দেশ্য হতে পারে, আবার শুধু সিরিয়ার দামেষ্কও উদ্দেশ্য হতে পারে। (১) যদি শুধু সিরিয়ার দামেষ্ক উদ্দেশ্য হয়, তাহলে ফিতনাটি তার চারপাশে ঘোরা/ প্রদক্ষিন করার অর্থ হয়তো দামেশকে ঢুকতে না পেরে তার চারপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে তৎপড় থাকা, যেমনটা দেখা যাচ্ছে যে, আইএস/দায়েশ’রা বাশার আল-আসাদের কর্তৃত্বাধীন দামেশক ও তার আশে পাশে অঞ্চলগুলোকে দখলে নিতে পারে নি, বাদ বাকি সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিরাট এলাকায় তারা দখলদারী স্থাপন করে নিয়েছে ও তৎপড়তা চালাচ্ছে। (২) আর যদি ‘বালাদে শাম’ (সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, জর্ডান -এর বিভিন্ন এলাকার সামগ্রীক রূপ) উদ্দেশ্য হয়, তাহলে হাদিসটির উদ্দেশ্য হয়তো এসব এলাকা জুড়ে শিয়া-সুন্নি কেন্দ্রিক সৃষ্ট হারাজ ও ফিতনা’র দিকে ইংগীত করা। এ দু’য়ের যে অর্থই নিন না কেনো তা ওখানকার বাস্তব অবস্থার সাথে দারুন ভাবে মিলে যায়। আল্লাহ’ই ভাল জানেন।

(১০) বলা হয়েছে চতুর্থ ফিতনাটি- تَخْبِطُ بِالْجَزِيرَةِ بِيَدِهَا وَرِجْلِهَا – ‘সে তার হাত-পা দ্বারা জাজিরাতুল-আরবে যত্রতত্র বিচরন করে বেড়াবে। রাসুলুল্লাহ সা.- এর সময়ে যেসব আরবী অঞ্চলগুলোকে নিয়ে ‘জারিরাতুল আরব’ বোঝানো হতো, তা বর্তমান জামানায় এই দেশগুলোকে অন্তর্ভূক্ত করে নিয়ে বিভক্ত: সৌদি আরব, ইয়ামেন, বাহরাঈন, ইউনাইটেড আরব আমিরাত, কাতার, ওমান এবং কুয়েত, যা আজ Arabian Peninsula হিসেবে পরিচিত। আজ আমেরিকা, ইসরাঈল ও ইউরোপিয়ান দেশগুলো শিয়া-সুন্নির রক্তের উপর অস্ত্র-বিজনেস করার জন্য সুন্নি আইডিওলজীর সৌদি আরব, কাতার ও ইউনাইটেড আরব আমিরাতকে এতে মোটা অংকের বিনিয়োগ করিয়েছে এবং তারা সন্ত্রসী আইএস/দায়েশকে অস্ত্র, অর্থ, গাড়ি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। এদিকে শিয়া আইডিওলজীর সন্ত্রসীদেরকে ইরান, সিরিয়া, ইরাক, ইয়ামেন ও লেবানন অর্থ, সৈন্য, অস্ত্র ইত্যাদি দিচ্ছে শিয়া আইডিওলজীর সন্ত্রসীদেরকে; আর এর সাথ দিচ্ছে রাশিয়া ও চিন। আর জর্ডানের কিং আব্দুল্লাহ এই যুদ্ধ মৌসুমে তার দেশে খুলে বসেছে অস্ত্র-মেলা; ধুমিয়ে ব্যবসা করে নিচ্ছে। আমেরিকা ও সৌদি আরবের মধ্যে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি হয়েছে। 

(১১) বলা হয়েছে চতুর্থ ফিতনাটি- لا يَبْقَى بَيْتٌ مِنَ الْعَرَبِ وَالْعَجَمِ إِلا مَلأَتْهُ ذُلا وَخَوْفًا – ‘আরব-আজম (অনারব) কারো ঘরকে এর জিল্লতী (অপদস্থতা) ও ভয়-ভীতিতে আচ্ছন্ন না করে ছাড়বে না। আইএস/দায়েশ’দের যাবতীয় অকাম-কুকামের কারণে পৃথিবীর কোনো আরব ও অনারব ঘর নেই, যারা তাদেরকে ভয় করে না। তারা গোটা মুসলীম উম্মাহর মুখকে বিশ্বের সামনে লজ্জিত করে দিয়েছে, তাদেরই কারণে সাধারণ মুসলমানদেরকে পৃথিবীর কোণে কোণে বিভিন্ন ভাবে অপদস্থ ও হেনস্ত হতে হচ্ছে। 

আমার মতে বিভিন্ন হাদিসে শেষ জামানায় ‘ফিতনায়ে দুহাইমা’ ও ‘হারাজ (খুনাখুনি)’, যা ‘আরব জাহানের দিকে ধেয়ে আসবে বলে ইংগীত দেয়া হয়েছে, সেটা একটি উল্লেখযোগ্য অংশীদার হল এই দায়েশ/আইএস/আইএসএল/আইএসআইএস। নিচের হাদিসগুলোর প্রতি লক্ষ্য করুন।

আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- 

وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدْ اقْتَرَبَ ، فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ ، يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا ، يَبِيعُ قَوْمٌ دِينَهُمْ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا قَلِيلٍ , الْمُتَمَسِّكُ يَوْمَئِذٍ بِدِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ ” ، أَوْ قَالَ : عَلَى الشَّوْكِ  . رواه الإمام أحمد في المسند, مُسْنَدُ الْعَشَرَةِ الْمُبَشَّرِينَ بِالْجَنَّةِ, بَاقِي مُسْنَد المُكْثِرِينَ مِنَ الصَّحَابَةِ : رقم ٩٠٤٩, و قال حمزة احمد الزين: ٩/٩٥ اسناده حسن

আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এমন এক (ঘন অন্ধকারময়) মন্দ ফিতনা ধেয়ে আসছে, (যার একেকটা) যেন রাতের অন্ধকারের ফালি/খন্ড। (সে সময়) লোকের সকাল হবে মুমিন অবস্থায় এবং সন্ধা হবে কাফের অবস্থায়। (তখন) মানুষ দুনিয়ার সামান্য কোনো গরজে তাদের দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে। সে সময় দ্বীনকে আঁকড়ে-ধারনকারী ব্যাক্তি হবে জ্বলন্ত কয়লাকে মুষ্টিবদ্ধকারী অথবা বলেছেন শল্যধারনকারী ব্যাক্তির মতো’। [মুসনাদে আহমদ, হাদিস৯/৯৫ হাদিস ৯০৪৯]

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- تَكُونُ فِتْنَةٌ تَسْتَنْظِفُ الْعَرَبَ قَتْلَاهَا فِي النَّارِ، اللِّسَانُ فِيهَا أَشَدُّ مِنْ وَقْعِ السَّيْفِ . اخرجه أحمد فى المسند: ١١/١٧٠, قال أحمد شاكر: إسناده صحيح; و أبو داود فى سننه: ٤٢٦٥ و سكت عنه و قد قال في رسالته لأهل مكة كل ما سكت عنه فهو صالح; – ‘(এমন) ফিতনা হবে (যা) আরব’কে একেবারে গ্রাস/সাবার করে ফেলতে চাইবে। (এই ফেতনায় অংশ নেয়া খুনিদের মতো)  নিহত ব্যাক্তিও দোযখে যাবে, (কারণ খুনি ও নিহত উভয়-ই একে অপরকে হত্যা করার নিয়তে এই ফিতনায় জড়িয়েছিল)। এই (ফিতনা’র আগুনকে ভরকিয়ে দেয়ার প্রশ্নে মানুষের বেসামাল) জবান -তরবারীর আঘাতের চাইতেও অধিক শক্তিশালী (ও কার্যকরী) ভূমিকা রাখবে’। [মুসনাদে আহমদ– ১১/১৭০; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪২৬৫; সুনানে তিরমিযী, হাদিস ২১৭৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩৯৬৭; আল-ইবানাতুল কুবরা, ইবনুল বাত্তাহ- ৩৭৬; তারিখে দামেশক, ইবনুল আসাকীর- ৩১৪৭০; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা- ৭/৪৪৮]

# হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন-

ويل للعرب من شر قد اقترب من فتنة عمياء صماء بكماء القاعد فيها خير من القائم والقائم فيها خير من الماشي والماشي فيها خير من الساعي ويل للساعي فيها من الله يوم القيامة . اخرجه ابن حبان فى الصحيحه : ١٥/٩٨ رقم ٦٧٠٥ , قال شعيب الأرنؤوط : إسناده صحيح على شرط مسلم

আরবে’র জন্য দূর্ভোগ; এক অন্ধত্বময় বধিরতাপূর্ণ বোবা মন্দ ফিতনা ধেয়ে আসছে। এ ফিতনায় বসে থাকা ব্যাক্তি দাড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, দাড়ানো ব্যাক্তি   চলমান ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে, চলমান ব্যাক্তি দৌড়ানো ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। আর কেয়ামতের দিন আল্লাহ’র পক্ষ থেকে এ ফিতনায় দৌড়ানো ব্যাক্তির জন্য  দূর্ভোগ-দূর্গতি রয়েছে’। [সহিহ ইবনে হিব্বান– ১৫/৯৮ হাদিস ৬৭০৫]

# হযরত আবু মুসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন-

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُنَا أَنَّ بَيْنَ يَدَيْ السَّاعَةِ الْهَرْجَ . قِيلَ : وَمَا الْهَرْجُ ؟ قَال : الْكَذِبُ وَالْقَتْلُ . قَالُوا : أَكْثَرَ مِمَّا نَقْتُلُ الْآنَ ؟ قَالَ : إِنَّهُ لَيْسَ بِقَتْلِكُمْ الْكُفَّارَ ، وَلَكِنَّهُ قَتْلُ بَعْضِكُمْ بَعْضًا ، حَتَّى يَقْتُلَ الرَّجُلُ جَارَهُ ، وَيَقْتُلَ أَخَاهُ ، وَيَقْتُلَ عَمَّهُ ، وَيَقْتُلَ ابْنَ عَمِّهِ . قَالُوا : سُبْحَانَ اللَّهِ ! وَمَعَنَا عُقُولُنَا ؟ قالَ : لَا ، إِلَّا أَنَّهُ يَنْزِعُ عُقُولَ أَهْلِ ذَاكَ الزَّمَانِ ، حَتَّى يَحْسَبَ أَحَدُكُمْ أَنَّهُ عَلَى شَيْءٍ وَلَيْسَ عَلَى شَيْءٍ . رواه أحمد في ” المسند: ١٤/٥٣٤ رقم ١٩٥٢٦, إسناده صحيح، رجاله ثقات رجال الشيخين غير أسِيد بن المتشمس، فمن رجال ابن ماجه، وهو ثقة, وصححه المحققون في طبعة مؤسسة الرسالة، وصححه الشيخ الألباني في ” السلسلة الصحيحة: رقم ١٦٨٢

‘রাসুলুল্লাহ সা. আমাদেরকে বলেছিলে যে, কেয়ামতের আগে আগে হারজ হবে। জিজ্ঞেস করা হল: হারজ কি? তিনি বললেন: (ব্যাপক হারে) মিথ্যা (কথা ও প্রচারনা) ও হত্যাকান্ড। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো: আজ আমরা (জিহাদে) যেসব (কাফেরদেরকে) হত্যা করি (তারা সেই জামানায়) তার চেয়েও বেশি (কাফেরকে জিহাদে হত্যা করবে)? তিনি বললেন: বস্তুত: এটা তোমাদের (জীহাদে) কাফেরকে হত্যা করা (-র মতো) হত্যাকান্ড নয়। বরং এটা হল তোমাদের (সেই জামানার মুসলমানদের) একে অন্যকে (করা) হত্যাকান্ড। এমনকি (এই ফিতনা’র ক্রমধারায় এমনও হবে যে,) এক ব্যাক্তি তার প্রতিবেশিকে হত্যা করবে, তার ভাইকে হত্যা করবে, তার চাচাকে হত্যা করবে, তার চাচাত ভাইকে হত্যা করবে’। লোকেরা বললো: আল্লাহ পবিত্র!!! ( এমনও ঘটবে)!!! (সে সময় কি) আমাদের (মুসলমানদের) কাছে বিবেক-বোধ (বলতে কিছু) থাকবে না? তিনি বললেন: না (থাকবে না)। সেই জামানায় (বিবেকবোধের সাথে উপর্যুপরি খেয়ানত করার কারণে শাস্তি স্বরূপ) মানুষদের বিবেক-বোধ উঠিয়ে নেয়া হবে। এমন কি (তখন) তোমাদের (মুসলমানদের) কেউ (এমনও) মনে করবে যে, সে (যেন সেইরকম কোনো সঠিক ও গৌরবজনক) কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছে, কিন্তু (বাস্তবে সে আল্লাহ চোখে) কোনো কিছুর উপর (প্রতিষ্ঠিত) থাকবে না। (শয়তান তাদের পাপগুলোকে তাদের চোখে সুন্দর ও গৌরবজনক বানিয়ে ধোকা দিবে)। [মুসনাদে আহমদ– ১৪/৫৩৪, হাদিস ১৯৫২৬; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস ২০৭৪৪; মুসনাদে আবু ইয়া’লা, হাদিস ৭২৪৭; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৬৭১০]

 

 

 

 

 

الله اعلم بالصواب و أخر دعوانا عن الحمد لله رب العالمين و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته و استغفر الله و أتوب إليه




আমানত (الأَمَانَةُ) ও শেষ জামানা – রাষ্ট্র, বিচার, প্রশাসন সর্ব স্তরে খেয়ানত

আমানত (الأَمَانَةُ) ও শেষ জামানা – রাষ্ট্র, বিচার, প্রশাসন সর্ব স্তরে খেয়ানত ও বরবাদী বিশ্বনবী সা. -এর ভবিষ্যতবাণীকে অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করে

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیۡمِ

الحمد لله و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته

 

আল্লাহ তাআলা ‘আল-আমানত’ সম্পর্কে এরশাদ করেন-

….إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَنْ يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنْسَانُ 

 ‘নিশ্চই আমি ‘আল-আমানত’কে আসমানসমূহ, জমিন ও পর্বতমালার সামনে  পেশ করেছিলাম। তখন তারা তা বহন করতে অপারগতা প্রকাশ করলো এবং সকলে এতে ভীত হয়ে গেল। আর একে গ্রহন করে নিলো মানুষ…..’। [সুরা আহযাব ৭২]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা, হযরত মুজাহিদ, হাসান বসরী, সাঈদ বিন যুবায়ের, যিহহাক, কাতাদাহ রহ. প্রমূখ থেকে ‘আমানত’- কথাটির যে সকল ব্যাখ্যা এসেছে তার সারমর্ম একই, অর্থাৎ আল্লাহ’র দ্বীন ও শরীয়ত পালনের দায়দায়িত্ব, যা তাঁর নাজিলকৃত সকল আদেশ নিষেধ ও উপদেশকে অন্তর্ভূক্ত করে। [তাফসীরে তাবারী- ২০/৩৩৬; তাফসীরে ইবসে কাসির-৬/৪৮৮;  তাফসীরে কুরতুবী-১৪/২৫২; ফাতহুল কাদীর, ইবনুল হুমাম-৪/৪৩৭]

 আর আল্লাহ তাআলা ‘আমানত’ সম্পর্কে আরো এরশাদ করেন-

إِنَّ اللهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا 
 ‘নিশ্চই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতগুলিকে তার (স্ব-স্ব) আহাল (তথা হক্বদার/উপযুক্ত ব্যাক্তি)র কাছে সোপর্দ করে দিবে’ [সুরা নিসা ৫৮]
 
কিন্তু কেয়ামতের আগে অর্থাৎ শেষ জামানায় আমানত’কে তার উপযুক্ত ব্যাক্তি তথা হক্বদারের দায়িত্বে সোপর্দ করা হবে না, বরং আমানতের সাথে ব্যাপকভাবে খেয়ানত করা হবে। খেয়ানতের এই মহামারীর সময় পেলে তখন থেকে কিয়ামতের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

 আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- بَيْنَمَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَجْلِسٍ يُحَدِّثُ القَوْمَ، جَاءَهُ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: مَتَى السَّاعَةُ؟ فَمَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُ، فَقَالَ بَعْضُ القَوْمِ: سَمِعَ مَا قَالَ فَكَرِهَ مَا قَالَ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ: بَلْ لَمْ يَسْمَعْ، حَتَّى إِذَا قَضَى حَدِيثَهُ قَالَ: «أَيْنَ – أُرَاهُ – السَّائِلُ عَنِ السَّاعَةِ» قَالَ: هَا أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «فَإِذَا ضُيِّعَتِ الأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ»، قَالَ: كَيْفَ إِضَاعَتُهَا؟ قَالَ: «إِذَا وُسِّدَ الأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ . رواه البخاري في الصحيح, كتاب العلم, باب من سئل علما وهو مشتغل في حديثه، فأتم الحديث ثم أجاب السائل: حديث رقم ٥٩ –‘(একদিন) রাসুলুল্লাহ ﷺ মজলিসে (বসে) লোকদের সাথে কথা বলছিলেন, এমন সময় এক বেদুইন এসে (তাঁকে) জিজ্ঞেস করলো: কেয়ামত করে হবে? (কিন্তু) রাসুলুল্লাহ ﷺ (তার কথার উত্তর না দিয়ে) আলোচনা করতে থাকলেন। তখন (মজলিসে উপস্থিত লোকদের মধ্যে) কেউ কেউ (নিজেদের মধ্যে) বললো: সে যা বলেছে, তিঁনি তা শুনেছেন, কিন্তু সে যেটা জিজ্ঞেস করেছে, তিনি (মনে হয় কোনো কারণে ) তা অপছন্দ করেছেন, (তাই উত্তর দিচ্ছেন না)। আবার তাদের কেউ কেউ বললো: বরং, তিনি (আসলে তার কথাই) শুনতে পাননি। একসময় যখন তাঁর আলোচনা শেষ হলো, তখন জিজ্ঞেস করলেন: কেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেসকারী কোথায় -দেখি! সে বললো: (এই যে) এখানে -ইয়া রাসুলাল্লাহ! তখন তিনি বললেন: فَإِذَا ضُيِّعَتِ الأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ – ‘যখন আল-আমানত’কে নষ্ট-বরবাদ করে ফেলা হবে, তখন কেয়ামতের অপেক্ষা করো’। সে জিজ্ঞেস করলো: ‘সেটা কিভাবে নষ্ট-বরবাদ করা হবে’? তিনি বললেন: إِذَا وُسِّدَ الأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ – ‘যখন (বিভিন্ন পদাধিকার সম্পর্কিত শরয়ী) নির্দেশিত ব্যাপারে সেটির হক্বদার ভিন্ন অন্য কাউকে কর্তাধিকারী/প্রাধিকারী (authority) বানানো হবে’, তখন কেয়ামতের অপেক্ষা করো’। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৫৯]

ইমাম হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. (মৃ: ৮৫২ হি:) হাদিসটিতে বর্ণিত الأمر (নির্দেশিত বিষয়)-এর ব্যাখ্যায় লিখেছেন:  والمراد من الأمر جنس الأمور التي تتعلق بالدين كالخلافة والامارة والقضاء والافتاء وغير ذلك – ‘এখানে الأمر (নির্দেশীত বিষয়) দ্বারা উদ্দেশ্য হল দ্বীনের সাথে সম্পর্ক রাখে -এমন বিভিন্ন নির্দেশীত বিষয়, যেমন:  খিলাফত, ইমারত (আমীরত্ব/প্রশাসনীক দায়িত্ব), বিচারকার্য, ফাতওয়া কার্য ইত্যাদি’। [ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার- ১১/২৮৬] একই ব্যাখ্যা অন্যান্য মুহাদ্দেসগণও করেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন: অাল-কাওয়াকিবুদ দারারী, ইমাম কিরমানী- ২/৭; উমদাতুল ক্বারী, ইমাম আইনী- ২/৭ইরশাদুস সারী শারহুল বুখারী, ইমাম কাস্তালানী- ১/১৫৫]

মোল্লা আলী ক্বারী রহ. (মৃ: ১০১৪ হি:) وُسِّدَ -(দায়িত্বে বসাবে) -এর ব্যাখ্যায়  লিখেছেন : أسند وفوض – ‘(যখন) মসনদে/দায়িত্বের আসনে বসাবে ও নিয়োগ দিবে’। [মিরক্বাত, আলী ক্বারী- ১০/৭৯] খোদ বুখারী শরিফের আরেকটি হাদিসে আছে- إِذَا أُسْنِدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرْ السَّاعَةَ‘যখন (বিভিন্ন পদাধিকার সম্পর্কিত শরয়ী) নির্দেশিত ব্যাপারে সেটির হক্বদার ভিন্ন অন্য কাউকে মসনদে/দায়িত্বর আসনে বসানো হবে, তখন কেয়ামতের অপেক্ষা করো’ [সহিহ বুখারী, হাদিস ৬৪৯৬] এখানে  وُسِّدَ -এর স্থলে  أُسْنِدَ (মসনদে/দায়িত্বর-আসনে বসানো হবে) কথাটি এসেছে। এজন্য মোল্লা আলী ক্বারী রহ. -এর এ ব্যাখ্যাটি যথার্থ। الله اعلم بالصواب

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, ইসলামী শরীয়তে -ছোট হোক বড় হোক- যে কোনো পদ আল্লাহ’র একেকটি আমানত এবং শরীয়ত যে পদের জন্য যে বৈশিষ্টের ব্যাক্তিকে তার আহাল/হক্বদার বলে নির্ণয় করে দিয়েছে, সেই পদে সেই বৈশিষ্টের ব্যাক্তি ছাড়া অন্য কোনো ব্যাক্তিকে সমাসীন করলে বা নিয়োগ দিলে সেটা হবে আল্লাহ’র দেয়া আমানতের সাথে খেয়ানত। এই খেয়ানতের মাত্রা নূন্যতম থেকে উচ্চতর মাত্রার হতে পারে। যেমন:

(১) রাষ্ট্রপ্রধান/প্রশাসক পদ ও শাসনকার্যের মধ্যে খেয়ানত

আল্লাহ’র নির্দেশিত খিলাফত ব্যবস্থা হল আল্লাহ’র দেয়া একটি আমানত এবং তা তাঁর বিধান মতো পরিচালনা করা আরেকটি আমানত।

ইসলামী শরীয়তে মুসলমানদের উপর নিযুক্ত রাষ্ট্রপ্রধান/প্রশাসক (যেমন খলিফা/আমীর/আমেল) পদটির জন্য নূন্যতম শর্ত হল- মুসলীম হওয়া, পুরুষ হওয়া, বালেগ (প্রাপ্তবয়ষ্ক) হওয়া, আকেল (বোধ-বুদ্ধিসম্পন্ন) হওয়া ইত্যাদি। আর এর অতিব গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চতর শর্ত হল- ইসলামী শরীয়ত সম্পর্কে উচ্চতর আলেম হওয়া, দ্বীনদার হওয়া, অর্ভন্তরীন ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক অংগন সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকা ইত্যাদি। যদি রাষ্ট্রপ্রধান/প্রশাসকের মধ্যে এসকল অতিব গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চতর শর্তের মধ্যে কোনো ব্যাপারে দূর্বলতা বা কমতী থাকে, আহলে-শূরা (শরয়ী পার্লামেন্ট) – এ এমন সদস্য রাখতে হবে, যার উক্ত বিষয়ে ভাল জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধান/শাসকের মধ্যে নূন্যতম শর্তগুলোর কোনো একটি মাত্র শর্ত পাওয়া না গেলেই তাকে মুসলমানদের উপর  রাষ্ট্রপ্রধান/শাসকে  বানানো নাজায়েয। [বিস্তারিত]

এজন্য মুসলমানদের উপর (উদাহরণ স্বরূপ) কোনো অমুসলীম/কাফের/মুরতাদ’কে কিংবা কোনো নারীকে রাষ্ট্রপ্রধান/প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলে সেটা হবে আল্লাহ’র দেয়া রাষ্ট্রীয় পদ সংশ্লিষ্ট  আমানতের সাথে উচ্চ মাত্রার খেয়ানত করা। কারণ যেখানে নূন্যতম শর্তটুকু পর্যন্ত পরিত্যাজ্য হল, সেখানে সেই খেয়ানতটি-তো তার লাল দাগ ক্রস করে ইসলাম বিরোধীতা ও আল্লাদ্রোহিতার পর্যায়ে চলে গেল! কিন্তু যদি রাষ্ট্রপ্রধান / প্রশাসক নিয়োগ পর্যায়ে ইসলামী শরীয়তের নূন্যতম শর্তগুলো পালন করা হয়, তবে উচ্চতর গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোতে অনিয়ম করা হয়, যেমন: বদদ্বীন (ফাসেক/ফাজর) প্রকৃতির মুসলীম জাহেল পুরুষ ব্যাক্তি’কে এপদে নিয়োগ দেয়া হয়, তাহলে সেটা অবশ্যই আমানতের থেয়ানত হবে, তবে সেই খেয়ানতটা হবে তুলনামূলক কম খেয়ানত। এভাবে বুঝে নিন যে, রাষ্ট্রপ্রধান/প্রশাসক নিয়োগ পর্যায়ে শরীয়তের ছোট বড় শর্তগুলো যতই মেনে চলা হতে থাকবে, খেয়ানতের পরিমান ততই কম হতে থাকবে।

আমরা এই শেষ জামানায় দেখতে পাচ্ছি, মুসলমান নামধারীরা দ্বীন ইসলামকে বাদ দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও গণতন্ত্র’কে তাদের রাষ্ট্রীয় চেতনা ও আদর্শ হিসেবে গ্রহন করে নেয়ায় এই পদ সম্পৃক্ত আমানতের সাথে এইভাবে খেয়ানত হতে দেখছি :

(ক) তারা মুসলমানদের উপর নিযুক্ত রাষ্ট্রপ্রধান/শাসক -এর ‘মুসলমান’ হওয়ার শর্তটিকে উঠিয়ে দিয়ে তদস্থলে আইন করে মুসলীম-অমুসলীম নির্বিশেষে সবার জন্য এই পদের আহাল/হক্বদার হওয়াকে হালাল বানিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে ইহূদী, খৃষ্টান, হিন্দু, বৈদ্ধ, শিক, কাদিয়ানী সহ সকল অমুসলীম কাফের/মুরতাদ এ জামানায় সাংবিধানিক ভাবে মুসলমানদের উপর রাষ্ট্রপ্রধান/শাসক হতে পারবে। বস্তুতঃ এটা আল্লাহ তাআলা’র দেয়া আমানতের খেয়ানত প্রসঙ্গে তাদের লাল দাগ ক্রস করার একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।

(খ) তারা মুসলমানদের উপর নিযুক্ত রাষ্ট্রপ্রধান/শাসক -এর ‘পুরুষ’ হওয়ার শর্তটিকে উঠিয়ে দিয়ে তদস্থলে আইন করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য এই পদের আহাল/হক্বদার হওয়াকে হালাল বানিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে ইহূদী, খৃষ্টান, হিন্দু, বৈদ্ধ, শিক, কাদিয়ানী সহ সকল অমুসলীম কাফের/মুরতাদ -চাই নারী হোক চাই পুরুষ- এ জামানায় সাংবিধানিক ভাবে মুসলমানদের উপর রাষ্ট্রপ্রধান/শাসক হতে পারবে। বস্তুতঃ এটা আল্লাহ তাআলা’র দেয়া আমানতের খেয়ানত প্রসঙ্গে তাদের লাল দাগ ক্রস করার আরেকটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।

(গ) এসব পদে সমাজের উল্লেখযোগ্য মাত্রার সব অসৎ, হারামখোর, ঘুষখোর, খুনি, ধর্ষক, মুনাফেক, প্রতারক, স্বার্থপর ইত্যকার সব বৈশিষ্টের লোকগুলিকে বসানো হচ্ছে। জনগণ যেমন দ্বীনী আমানতের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বরং তাদের দুনিয়াবী স্বার্থ (যেমন: এলাকাপ্রীতি, দলপ্রীতি, আত্বীয়তাপ্রীতি, অর্থ-সম্পদ ইত্যাদি)র জন্য বিভিন্ন কৌশলে খেয়ানত করে তাদেরকে ক্ষমতায় বসাচ্ছে, তেমনি ক্ষমতাসীনরাও বিভিন্ন কৌশলে ধুমিয়ে জনগণের সম্পদ কুক্ষিগত করা সহ ক্ষমতার অপব্যাবহার করে আমানতের খেয়ানত করছে। এই অবস্থা এখন ব্যাপক মহামারীর রূপ নিয়েছে। 

বস্তুতঃ উপরের (ক) ও (খ) পয়েন্টের বিষয় দুটি এই জামানায় আল্লাহ তাআলা’র নির্দেশীত আমানতের সাথে এমন এক নব-পদ্ধতির খেয়ানত, যা রাসুলুল্লাহ সা.-এর জামানা থেকে নিয়ে ১৯১৮ ইং সালে উসমানী খিলাফত ধ্বংসের আগ পর্যন্ত মুসলীম জাতি তাদের শাসন ব্যবস্থায় ঢুকায়নি। মূলতঃ এই ফিতনাটি এনেছে ব্রিটিশ ইহূদী-খৃষ্টানরা এবং সেটাকে তারা মুসলীম জাতির মাঝে রপ্তানী করেছে তাদের কৌশলী শিক্ষা-কারিকুলামে পরিচালিত স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে ব্রেন-ওয়াশ হওয়া (মুসলীম নামধারী) বুদ্ধিজীবী ও নেতা শ্রেণীর লোকদের হাত দিয়ে, যারা দ্বীন ইসলামকে বাদ দিয়ে  ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ , সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র’কে তাদের আদর্শ ও চেতনা হিসেবে মনে প্রাণে গ্রহন করে নিয়েছিল। আমার মতে, এ সব পথভ্রষ্ঠ বুদ্ধিজীবী ও নেতা শ্রেণীর লোকদের দিকে ইংগীত করা হয়েছে নিম্নোক্ত হাদিসে। 

হযরত হুযাইফা রা. থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন- كَانَ النَّاسُ يَسْأَلُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْخَيْرِ وَكُنْتُ أَسْأَلُهُ عَنِ الشَّرِّ مَخَافَةَ أَنْ يُدْرِكَنِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا فِي جَاهِلِيَّةٍ وَشَرٍّ فَجَاءَنَا اللَّهُ بِهَذَا الْخَيْرِ فَهَلْ بَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ شَرٌّ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ ‏”‏ فَقُلْتُ هَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الشَّرِّ مِنْ خَيْرٍ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ وَفِيهِ دَخَنٌ ‏”‏ ‏.‏ قُلْتُ وَمَا دَخَنُهُ قَالَ ‏”‏ قَوْمٌ يَسْتَنُّونَ بِغَيْرِ سُنَّتِي وَيَهْدُونَ بِغَيْرِ هَدْيِي تَعْرِفُ مِنْهُمْ وَتُنْكِرُ ‏”‏ ‏.‏ فَقُلْتُ هَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ دُعَاةٌ عَلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَذَفُوهُ فِيهَا ‏”‏ ‏.‏ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ صِفْهُمْ لَنَا ‏.‏ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ قَوْمٌ مِنْ جِلْدَتِنَا وَيَتَكَلَّمُونَ بِأَلْسِنَتِنَا ‏”‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا تَرَى إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ قَالَ ‏”‏ تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِينَ وَإِمَامَهُمْ ‏”‏ ‏.‏ فَقُلْتُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ لَهُمْ جَمَاعَةٌ وَلاَ إِمَامٌ قَالَ ‏”‏ فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا وَلَوْ أَنْ تَعَضَّ عَلَى أَصْلِ شَجَرَةٍ حَتَّى يُدْرِكَكَ الْمَوْتُ وَأَنْتَ عَلَى ذَلِكَ – ‘লোকেরা রাসুলুল্লাহ -কে কল্যান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতো, আর আমি জিজ্ঞেস করতাম মন্দ সম্পর্কে -এই ভয়ে ভীত হয়ে যে পাছে তা আমাকে পেয়ে বসে কিনা। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমরা জাহেলিয়াত ও মন্দের ভিতরে ছিলাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে (আপনার মাধ্যমে দ্বীন ইসলামের মতো) এই কল্যান এনে দিলেন। এই কল্যানের পর কি কোনো মন্দ কিছু আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: সেই মন্দের পর কি কোনো কল্যানের কিছু আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আর তাতে থাকবে দাখান (ধোঁয়া)। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ওই দাখান কি? তিনি বললেন: (সে জামানায়) এমন গোষ্ঠি (-র আবির্ভাব হবে) যারা (মানব সমাজে আমার আনীত) আদর্শ বহির্ভূত আদর্শ চালু করবে এবং (আমার দেখানো) পথনির্দেশিকা বহির্ভূত (পথের দিকে মানুষজনকে) পথ দেখাবে (তাদেরকে পরিচালিত করবে)। তাদের মধ্যে (শরীয়ত সম্মত) মা’রুফ/ভাল বিষয়ও (দেখতে) পাবে এবং মুনকার/শরীয়ত-বহির্ভূত বিষয়ও পাবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এই কল্যানের পর কি কোনো মন্দ রয়েছে? তিনি বললেন: হ্যা, (এদের পর এমন গোষ্ঠির আবির্ভাব হবে যারা মানব জাতিকে এমন মত ও পথের দিকে ডাক দিবে, যা হবে মূলতঃ) জাহান্নামের বিভিন্ন দরজা থেকে (দেয়া) ডাক। যে ব্যাক্তি তাদের ডাকে সেদিকে সারা দিবে, তারা তাকে ওর মধ্যে নিক্ষেপ করবে। আমি বললাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদেরকে তাদের বৈশিষ্ট (কী হবে -তা) বলে দিন। তিনি বললেন: (এই জাহান্নামী পথভ্রষ্ঠ) গোষ্ঠিটির চামড়া আমাদের মতোই হবে, তারা কথাও বলবে আমাদের (মুসলমানদের) ভাষা (ভঙ্গি)তে। আমি বললাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমি যদি তাদেরকে পাই, তাহলে আপনি আমাকে কি করতে বলেন? তিনি বললেন: মুসলমানদের জামাআত’ ও তাদের ইমামকে (আমীরকে) আঁকড়িয়ে ধরে থাকবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: যদি (তখন) কোনো জামাআতও না থাকে, কোনো ইমামও (আমীরও) না থাকে? তিনি বললেন: তাহলে ওই প্রতিটি ফেরকা থেকে নিজকে বিছিন্ন করে রাখবে- যদিও-বা তোমাকে গাছের শিকড় খেয়ে থাকতে হয় এমনকি এ অবস্থার উপরই তোমার মৃত্য চলে আসে।  [সহিহ মুসলীম, হাদিস ৪৮৯০, সহিহ বুখারী, হাদিস ৬৬৭৩] আরেক হাদিসে এও আছে-  فتنة عمياء صماء عليها دعاة على أبواب النار وأنت أن تموت يا حذيفة وأنت عاض على جذل خير لك من أن تتبع أحدا منهم. مسند الإمام أحمد: ٥/٣٨٦ رقم ٢٣٣٣٠ , تعليق شعيب الأرنؤوط : حديث حسن – ‘…(এমন এক) ফিতনা যা (আকিদা ও বিশ্বাসগত) অন্ধত্ব ও বধিরতা (-র অন্ধকার নিয়ে আবির্ভূত হবে), যার উপর ভিত্তি করে দোযখের বিভিন্ন দরজায় দাঁড়িয়ে (পথভ্রষ্ঠতার ধারক-বাহক নেতা ও লিডার’দের পক্ষ থেকে তোমাদের মুসলমানদেরকে তাদের আদর্শ গ্রহনের দিকে) ডাক দেয়া হবে। হে হুযাইফা, তুমি যদি (তখন আল্লাহ’র রাস্তায় মড়ে যেতে পরো, তো) মড়ে যেও (তবুও কোনো অবস্থাতেই ওদের অনুসরণ করতে যেও না)। ওদের (মতো পথভ্রষ্ঠ লিডারদের) কোনো একজনের অনুগত্য-অনুসরণ করার থেকে তুমি আনন্দ-উল্লাসে (তোমার ধ্বনসম্পদ) উড়িয়ে দিবে সেটাও তোমার জন্য অধিক কল্যানকর হবে’। [মুসনাদে আহমদ- ৫/৩৮৬, হাদিস ২৩৩৩০; সুনানুল কুবরা, নাসায়ী- ৫/১৮ হাদিস ৮০৩২, ৮০৩৩; আত-তবাকাত, ইবনে সা’দ- ৪/২৫২]

হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন- سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : إن في أمتي لنيفا وسبعين داعيا ، كلهم داع إلى النار ، لو أشاء لأنبأتكم بأسمائهم وقبائلهم . رواه أبو يعلى الموصلي فى مسنده: ١٠/٦٥ رقم ٥٧٠١ . قال ابن كثير فى البداية والنهاية , كتاب الفتن والملاحم وأشراط الساعة والأمور العظام يوم القيامة: ١٩/١١٨ وهذا إسناد لا بأس به; قال الهيثمى : رواه أبو يعلى وفيه ليث بن أبي سليم وهو مدلس،وبقية رجاله ثقات:٧/٣٣٢ – ‘আমি রাসুলুল্লাহ -কে একথা বলতে শুনেছি: ‘আমার উম্মতের মধ্যে সত্তর জনের বেশি আহবানকারী (লিডার/গুরু) হবে। তাদের প্রত্যেকেই (একেকজন পথভ্রষ্ঠ এবং তাদের জীবনকালে তারা নিজ নিজ প্রথভ্রষ্ঠ মত ও পথকে মুক্তির সঠিক পথ বলে প্রচার করবে, ফলে আদপে তারা মানুষকে) দোযখের দিকে আহবান করবে। (তাদের থেকে সাবধান থেকো)। আমি চাইলে তোমাদেরকে তাদের নাম ও তাদের এলাকার খবর বলে দিতে পারি’। [মুসনাদে আবু ইয়া’লা- ১০/৬৫ হাদিস ৫৭০১; আল-বিদায়াহ ওয়ান্নিহায়াহ, ইবনে কাছির- ১৯/১৮৮; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৭/৩৩২]

আরেক হাদিসে এসছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেন-  يكون بعدى أئمة لا يهتدون بهداى ولا يستنون بسنتى وسيقوم فيهم رجال قلوبهم قلوب الشياطين فى جثمان أنس – ‘আমার পর এমন নেতা/লিডার’রা আসবে, যারা না আমার দেখানো পথে চলবে আর না আমার সুন্নাহ মতো চলবে। তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক দাঁড়াবে যাদের মনুষ্য দেহের ভিতরে বিদ্যমান অন্তরগুলো হবে একেকটা শয়তানের অন্তর’। [সহিহ মুসলীম, হাদিস ১৮৪৭]

(২) বিচারকের পদ ও বিচারকার্যের মধ্যে খেয়ানত

আল্লাহ’র নাজিলকৃত আইনগুলো হল আল্লাহ’র দেয়া একটি আমানত। আর তা দিয়ে ইনসাফের সাথে বিচার করার দায়িত্ব হল আরেকটি আমানত।

ইসলামী শরীয়তে মুসলমানদের উপর নিযুক্ত বিচারক (কাযী/হাকেম) পদটির জন্য নূন্যতম প্রধান শর্ত হল- মুসলীম হওয়া, পুরুষ হওয়া, বালেগ (প্রাপ্তবয়ষ্ক) হওয়া, আকেল (বোধ-বুদ্ধিসম্পন্ন) হওয়া  ইত্যাদি। আর এ পদের অপরিহার্য শর্ত হল- ইসলামী শরীয়ত সম্পর্কে এমন উচ্চতর আলেম হওয়া, যিনি উদ্ভত বিষয়ে শরয়ী ফাতওয়া ও রায় দানের পূর্ণ যোগ্যতা রাখেন। নূন্যতম প্রধান প্রধান শর্তের সাথে এই অপরিহার্য শর্ত পাওয়া না গেলে তাকে মুসলমানদের উপর বিচারক বানানো সম্পূর্ণ নাজায়েয। কারণ শরীয়তের ইলম ছাড়া মুসলমানদের মামলা-মুকাদ্দমার রায় দান করার দ্বিতীয় কোনো পথ কাযী/বিচারকের জন্য খোলা নেই। 

আমরা এই শেষ জামানায় দেখতে পাচ্ছি, মুসলমান নামধারীরা দ্বীন ইসলামকে বাদ দিয়ে সমাজতন্ত্র কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও গণতন্ত্র’কে তাদের রাষ্ট্রীয় চেতনা ও আদর্শ হিসেবে গ্রহন করে নেয়ায় তারা মুসলমানদের উপর নিযুক্ত বিচারক/কাযী -এর ‘মুসলীম, পুরুষ ও মুফতী’ হওয়ার শর্তকে উঠিয়ে দিয়ে তদস্থলে আইন করে মুসলীম-অমুসলীম, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য এই পদের আহাল/হক্বদার হওয়াকে হালাল বানিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে ইহূদী, খৃষ্টান, হিন্দু, বৈদ্ধ, শিক, কাদিয়ানী সহ সকল অমুসলীম কাফের/মুরতাদ -চাই নারী হোক চাই পুরুষ- এ জামানায় সাংবিধানিক ভাবে মুসলমানদের উপর বিচারক/কাযী হতে পারবে।

এই ফিতনাটিও ঢুকেছে ব্রিটিশদের মাধ্যমে, তাদের শিক্ষা-কারিকুলামে ব্রেন-ওয়াশ হওয়া ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও গণতন্ত্র’কে তাদের আদর্শ ও চেতনা হিসেবে মনে প্রাণে গ্রহন করে নেয়া (মুসলীম নামধারী) বুদ্ধিজীবী ও নেতা শ্রেণীর লোকদের হাত দিয়ে। এর আগে এই ফিতনাটি ছিল না। 

ইয়াযীদ বিন মাছরাদ রহ.-এর সূত্রে বর্ণিত, হযরত মুআয বিন জাবাল রা. বলেছেন-

سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : خُذُوا الْعَطَاءَ مَا دَامَ عَطَاءً ، فَإِذَا صَارَ رِشْوَةً فِي الدِّينِ فَلَا تَأْخُذُوهُ ، وَلَسْتُمْ بِتَارِكِيهِ ؛ يَمْنَعْكُمُ الْفَقْرَ وَالْحَاجَةَ ، أَلَا إِنَّ رَحَى الْإِسْلَامِ دَائِرَةٌ ، فَدُورُوا مَعَ الْكِتَابِ حَيْثُ دَارَ ، أَلَا إِنَّ الْكِتَابَ وَالسُّلْطَانَ سَيَفْتَرِقَانِ ، فَلَا تُفَارِقُوا الْكِتَابَ ، أَلَا إِنَّهُ سَيَكُونُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ يَقْضُونَ لِأَنْفُسِهِمْ مَا لَا يَقْضُونَ لَكُمْ ، إِنْ عَصَيْتُمُوهُمْ قَتَلُوكُمْ ، وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ أَضَلُّوكُمْ . قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ ، كَيْفَ نَصْنَعُ ؟ قَالَ: كَمَا صَنَعَ أَصْحَابُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ، نُشِرُوا بِالْمَنَاشِيرَ ، وَحُمِلُوا عَلَى الْخَشَبِ ، مَوْتٌ فِي طَاعَةِ اللهِ خَيْرٌ مِنْ حَيَاةٍ فِي مَعْصِيَةِ اللهِ . اخرجه الطبراني في ” المعجم الكبير”: ٢٠/٩٠، و” المعجم الصغير”: ٢/٤٢، و مسند الشاميين : ١/٣٧٩, أبو نعيم في ” حلية الأولياء: ٥/١٦٦, قال الهيثمي : ” رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ ، وَيَزِيدُ بْنُ مَرْثَدٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ مُعَاذٍ ، وَالْوَضِينُ بْنُ عَطَاءٍ وَثَّقَهُ ابْنُ حِبَّانَ وَغَيْرُهُ ، وَضَعَّفَهُ جَمَاعَةٌ ، وَبَقِيَّةُ رِجَالِهِ ثِقَاتٌ : مجمع الزوائد:  ٥/٢٢٨; الوضين بن عطاء الشامي ، مختلف في توثيقه, قال يحيى بن معين: ” الوضين بن عطاء لا بأس به, قال الإمام أحمد: ” الوضين بن عطاء ثقة ، ليس به بأس, قال ابن أبي حاتم : سألت أبي عن الوضين بن عطاء فقال: ” تعرف وتنكر – ‘আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে একথা বলতে শুনেছি: (খলিফা/প্রশাসকের) উপহার গ্রহন করতে পারো যতক্ষন তা উপহার হিসেবে থাকে। তবে সেটা যদি দ্বীনের দৃষ্টিতে ঘুষ হয়ে যায়, তখন তা গ্রহন করো না। কিন্তু (আক্ষেপ হল) তোমরা (মুসলমানরা ভবিষ্যতে) তা পরিহার করে চলবে না। অভাব ও প্রয়োজন -তোমাদের জন্য (আমার এই নির্দেশ পালনে) বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। ভাল করে শুনে রাখো,  (কুরআনের মাধ্যমে দ্বীন) ইসলামের পরিধি সচল হয়ে গেছে। সুতরাং তোমরা আল-কিতাব (কুরআন)-এর সাথে থাকবে তা যেখানেেই যাক না কোনো, (কোনো অবস্থাতেই কুরআনকে ছাড়বে না)। ভাল করে শুনে রাখো, নিশ্চয় আল-কিতাব ও রাষ্ট্র ক্ষমতা অতিশিঘ্রই (একটি অপরটি থেকে) আলাদা হয়ে যাবে, (আল্লাহ’র কিতাব অনুযায়ী রাষ্ট্র-ব্যবস্থা চলবে না; চলবে মানুষের বানানো আইন দিয়ে)। তখনও তোমরা আল-কিতাব থেকে আলাদা হয়ো না। ভাল করে শুনে রাখো, অতি শিঘ্রই তোমাদের উপর এমনসব আমীররা (রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রি, প্রশাসক’রা) আসবে, যারা তাদের নিজেদের জন্য (সুবিধা মতো) যে বিচার-ফয়সালা করবে, সে বিচার-ফয়সালা তারা তোমাদের জন্য করবে না। তোমরা যদি তাদের অবাধ্যতা প্রদর্শন করো তাহলে তারা তোমাদেরকে (বিভিন্ন অযুহাতে) মেড়ে ফেলবে। আর তোমরা যদি তাদের অনুগত্য করো, তাহলে তারা তোমাদেরকে (আল্লাহ’র দ্বীন থেকে) পথভ্রষ্ঠ করে দিবে। লোকেরা বললো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! (এমতাবস্থায়) আমরা কি করবো? তিনি বললেন: (তোমরাও তা-ই করবে) যেমনটা ঈসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর সাহাবীগণ করেছিলেন। তাদেরকে করাত দিয়ে চিড়ে ফেলা হয়েছিল, শুলিতে চড়ানো হয়েছিল (কিন্তু তারা আল্লাহ’র দ্বীন ছাড়েনি)। আল্লাহ’র নাফরমানীর জীবনের চাইতে আল্লাহ’র অনুগত্যের পথে মৃত্যুও শ্রেয়। [আল-মু’জামুল কাবীর, ত্বাবরাণী- ২০/৯০; আল-মু’জামুস সগীর, ত্বাবরাণী- ২/৪২;  মুসনাদে শামেয়ীন, ত্বাবরাণী- ১/৩৭৯; হিলইয়াতুল আউলিয়াহ, আবু নুআইম- ৫/১৬৬; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৫/২২৮]

আল্লাহ’র আইনগুলো-তো নাজিলই হয়েছিল তা দিয়ে বিচার করে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আল্লাহ’র আইন গুলোর সাথে সাংঘর্ষিক সকল মানব রচিত আইনই-তো অবিচার বেইনসাফী। কিন্তু  ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও গণতন্ত্রের ধারক-বাহক বুদ্ধিজীবী ও নেতা/শাসকরা মুসলীম প্রধান দেশ গুলো থেকে এজন্য আল্লাহ’র আইন প্রয়োগের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে, কারণ তারা বিশ্বাস করে, আল্লাহ’র আইনগুলোর মধ্যে বহু আইনে অমুসলীম ও নারীদের প্রতি বে-ইনসাফী করা হয়েছে !!! তাই তারা নিজেরা আইন রচনা করে তাদের সাথে ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের দ্বার খুলে দিয়ে আল্লাহ’র বে-ইনসাফীর পথ বন্ধ করে দিয়েছে !!! আজ পৃথিবীতে আমরা মুসলীম উম্মাহ (!) বলতে যাদেরকে বুঝি, তাদের বেশিরভাগ (প্রায় ৮০%-৯০%) জনগণ এই কুফরী আক্বিদাটা মনে প্রাণে গহন করে নিয়েছে। আপনাদের কি মনে হয়, সমাজে আল্লাহ’র আইন দিয়ে মুসলমানদের বিচার করার ব্যাবস্থা চালু হোক -তারা তা কামনা করে?! আপনার কি মনে হয়, আল্লাহ তাআলা এই রকম লোকদের জন্য আসমান-জমিনে তাঁর রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দিবেন ?! আপনার বাড়ির চাকর-চাকরানী দিয়েই একবার চিন্তা করে দেখুন, তারা আপনার বাড়িতে আপনার হুকুম দানের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে নিজেরা বাড়ির হুকুমদাতা হয়ে বসলে আপনি খুশি হয়ে হয়-তো বলবেন: ‘আমি তোদের উপর খুশি, তোরা আজ আমার কাছে যা যা চাওয়া চা, আমি তোদের চাওয়াকে পূরণ করবো’!!! না কি? মনে হয়, আমার উত্তর দেয়ার প্রয়োজন নেই।

আর সকল দেশে একে-তো আল্লাহ’র দেয়ার আইন দিয়ে ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, তদুপরি তারা তাদের নিজেদের তৈরী যে আইন গুলোকে ন্যায়বিচার বলে বিশ্বাস করে, সেগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রেও ‘অবিচার’ আজ মহামারী আকার ধারণ করেছে। বিচারক ও বিচার-তো আজ টাকা ও ক্ষমতার খেলা হয়ে গেছে। মানুষ মামলা-মোকাদ্দমার নাম শুনলেই আঁতকে ওঠে। মানুষ কোনো আশার আলো দেখছে না, শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার। 

(৩) ইলম ও ফাতওয়ার পদ ও দায়িত্বের মধ্যে খেয়ানত

আল্লাহ তাআলা তাঁর সর্ব শেষ নবী ও রাসুল মুহাম্মাদ ﷺ-এর মাধ্যমে এই উম্মতকে কুরআন ও সুন্নাহ’র মতো আজিমুশ শান নেয়ামত দ্বারা ধন্য করেছেন, সম্মানীত করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল ﷺ-এর কারণে এই উম্মতের উপর আরেকটি এহসান করেছেন এভাবে যে, দ্বীন ইসলাম কেয়ামতের আগ পর্যন্ত যতদিন বাকি থাকবে, ততদিন এই দ্বীনের হিফাজত করার জন্য এই উম্মতের মধ্যে বিভিন্ন জামানায় সুযোগ্য আলেমগণের একটি জামাআত সবসময় বিদ্যমান থাকবে। 

হযরত মুয়াবিয়া রা.-এর সূত্রে বণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সা. এরশাদ করেন- مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ ، وَإِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ وَيُعْطِي اللَّهُ وَلَنْ يَزَالَ أَمْرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ مُسْتَقِيمًا حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ ، أَوْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ – আল্লাহ যার কল্যান করতে চান, তাকে দ্বীনের (ফকিহ বানান) গভীর জ্ঞান দান করেন। আর আমি (দ্বীনী ইলমের) নিছক একজন বন্টনকারী মাত্র, (বাস্তবে ইলম) আল্লাহ’ই দান করেন। আর এই উম্মতের (দ্বীনী) বিষয়াদি সব সময় (সিরাতে) মুস্তাকিম (সোজা পথের উপর স্থাপিত) থাকবে যাবৎ না কিয়ামত এসে যায় অথবা যাবৎ না আল্লাহ’র নির্দেশ আসে। [সহীহ বুখারী-১/১৬, হাদিস ৬৭৯৫] 

যেমন: সহিহ হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- لاَ يَزَالُ مِنْ أُمَّتِي أُمَّةٌ قَائِمَةٌ بِأَمْرِ اللَّهِ ، لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ ، وَلاَ مَنْ خَالَفَهُمْ ، حَتَّى يَأْتِيَهُمْ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ عَلَى ذَلِكَ আমার উম্মতের মধ্যে একটি উম্মত (জামাআত/দল/গোষ্ঠি) সর্বদা আল্লাহ’র নির্দেশের উপর কায়েম থাকবে। যারা তাঁদেরকে দমন করতে যাবে এবং যারা তাঁদের বিরোধীতায় লাগবে, তারা তাঁদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি তাঁদের কাছে আল্লাহ’র হুকুম না এসে পৌছা পর্যন্ত তারা এর উপরই কায়েম থাকবে। [সহিহ বুখারী, হাদিস ৩৬৪১]  

আর হযরত সওবান রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেন- لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَذَلِكَ আমার উম্মতের একটি গোষ্ঠি  সর্বদা  সত্যের উপর বিরাজমান থাকবে। যারা তাঁদেরকে দমন করতে যাবে, তারা তাঁদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। এমন কি তাঁদের কাছে আল্লাহ’র হুকুম না এসে পৌছা পর্যন্ত তারা (এভাবে সত্যের উপরই) বিরাজমান থাকবে। [সহীহ মুসলীম- ২/১৪৩, হাদিস ১৯২০] 
 
ইমাম নববী রহ. লিখেছেন- وأما هذه الطائفة فقال البخاري : هم أهل العلم ، وقال أحمد بن حنبل : إن لم يكونوا أهل الحديث فلا أدري من هم ؟ قال القاضي عياض : إنما أراد أحمد أهل السنة والجماعة ، ومن يعتقد مذهب أهل الحديث ، قلت : ويحتمل أن هذه الطائفة مفرقة بين أنواع المؤمنين منهم شجعان مقاتلون ، ومنهم فقهاء ، ومنهم محدثون ، ومنهم زهاد وآمرون بالمعروف وناهون عن المنكر ، ومنهم أهل أنواع أخرى من الخير ، ولا يلزم أن يكونوا مجتمعين بل قد يكونون متفرقين في أقطار الأرض . وفي هذا الحديث معجزة ظاهرة ؛ فإن هذا الوصف ما زال بحمد الله تعالى من زمن النبي صلى الله عليه وسلم إلى الآن ، ولا يزال حتى يأتي أمر الله المذكور في الحديث . وفيه دليل لكون الإجماع حجة …, এই الطائفة (গোষ্ঠি/দল) সম্পর্কে ইমাম বুখারী রহ. বলেছেন- هم أهل العلمতাঁরা হলেন আহলে ইলম (ইলমের ধারক-বাহকগণ)। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. বলেছেন- إن لم يكونوا أهل الحديث فلا أدري من هم ؟ তাঁরা যদি আহলুল হাদিস (হাদিসের ধারক-বাহক) না হন তাহলে তাঁরা আর কারা – তা আমি জানি না। কাযি আইয়ায রহ. বলেছেন- (একথার দ্বারা) ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের উদ্দেশ্য হল ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’ এবং যাঁরা আহলুল হাদিস (হাদিসের ধারক-বাহক) হিসেবে বিবেচিত। (ইমাম নববী বলেন:) আমার মতে, এই الطائفة  (জামাআত/গোষ্ঠি/দল) দ্বারা এমন ব্যাক্তিবর্গ উদ্দেশ্য, যাঁরা (পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে বিদ্যমান) বিভিন্ন ধরনের মুমিনদের ভিতরে (ছড়িয়ে ছিটিয়ে) থাকা একটি (বিশেষ মর্যাদাবান) গোষ্ঠি, যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হলেন বীর মুজাহীদ, কেউ কেউ ফকিহ (ফিকাহশ্বাস্ত্রবিদ আলেম), কেউ কেউ মুহাদ্দেস, কেউ বা জাহেদ (দুনিয়ার মায়া ত্যাগী আবেদ), কেউ নেকির কাজে আদেশকারী ও অন্যায় কাজের নিষেধকারী, এভাবে তাঁদের মধ্যে (ইসলামের) কল্যানকারী অন্য আরো অনেক ধরনের ব্যাক্তিগণ থাকতে পারেন। (আর) এর জন্য এমনটা হওয়া আবশ্যক নয় যে, তাঁরা সবাই মিলে এক সাথে বসবাস করবেন। বরং তাঁরা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে পারেন। (তবে তাঁরা যেখানেই থাকুন না কেনো, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁরা ইজমাবদ্ধ/ঐক্যবদ্ধ থাকবেন)। আর (দেখুন) এই যে হাদিসভান্ডার, এটা-তো একটি সুস্পষ্ট মু’জিযা। বস্তুতঃ (মুহাদ্দেসগণের প্রচেষ্টায় সংরক্ষিত হাদিসের) এই বিস্তারিত ভান্ডার নবী সা.-এর জামানা থেকে আজ পর্যন্ত আল্লাহ’র মহিমার প্রতিফলন ঘটিয়ে আসছে। আর এ ধারা অব্যাহত থাকবে যাবৎ উপরোক্ত হাদিসে বণিত আল্লাহ’র নির্দেশ এসে না পৌছে। এটা একথারই দলিল যে, (আহলে হক্ব আলেমগণের ঐক্যমত বা) ইজমা হল (শরীয়তের) হুজ্জত/দলিল।….[শারহুল মুসলীম, ইমাম নববী- ১৩/৬৭]
 
আব্দুর রহমান উযরী রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ এরশাদ করেন- يَحْمِلُ هَذَا الْعِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُولُهُ ، يَنْفُونَ عَنْهُ تَحْرِيفَ الْغَالِينَ ، وَانْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ ، وَتَأْوِيلَ الْجَاهِلِينَ . رواه البيهقي في السنن الكبرى: ١٠/٢٠٩, و و ابن عبد البر في التمهيد: ١/٥٩; صححه الإمام أحمد كما ذكر الخطيب البغدادي في شرف أصحاب الحديث: ص ٢٨-٢٩ ‘(আমা কর্তৃক কুরআন ও সুন্নাহ’র) এই (রেখে যাওয়া) ইলম’কে বহন করবে প্রত্যেক পরবর্তী ন্যায়ানুগ ব্যাক্তিগণ। তাঁরা একে বাড়াবাড়িকারীদের তাহরিফ (পরিবর্তন) থেকে, বাতিলপন্থিদের অনাধিকার চর্চা থেকে এবং মুর্খ-জাহেলদের অপব্যাখ্যা থেকে বাঁচাবেন’। [সুনানুল কুবরা, বাইহাকী- ১০/২০৯; আত-তামহীদ, ইমাম আব্দুল বার- ১/৫৯] 
 
এ থেকে বোঝা গেল, ইসলামী দ্বীন ও শরীয়ত হিফাজতের জন্য প্রত্যেক জামানাতেই সহিহ ইলম বহনকারী ওলামায়ে কেরাম বিদ্যমান থাকবেন -কেয়ামতের আগ পর্যন্ত -যতদিন দ্বীন থাকবে, যাঁদের ইলম হাসিলের উস্তাদ থাকবে এবং উস্তাদগণের ইলম হাসিলের উর্ধ্বতন সূত্র গিয়ে ঠেঁকবে সকল মুসলমানের দ্বীনী উস্তাদ বিশ্বনবী মুহাম্মাদ ﷺ। সহিহ দ্বীনী ইলম হাসিল করতে হলে আলেমগণের এই ধারার জামাআত থেকেই সহিহ উসূলের আওতায় ইলম হাদিস করতে হবে। বড় মুহাক্কি আলেম, মুহাদ্দেস ও মুফতী সাহেবগণের সন্ধান এই ধারাতেই পাবেন। 
 
কিন্তু শেষ জামানায়, ইলম হাসিলের ক্ষেত্রে বেশিরভাগের এই অবস্থা হবে যে- 
 
(১) এই ধারায় পূর্ণ যোগ্যতা হাসিল না করেও ফাতওয়াদাতা, হাদিসবেত্তা, আল্লামাহ’র আসনে সমাসীন হবে বা মানুষ তাদেরকেই এসব পদের জন্য মান্যবর হিসেবে গ্রহন করে নিবে; (প্রকৃত আলেম, মুহাদ্দিস ও মুফতীগণের কাছে যাবে না)। আজকালকার বেশিরভাগ ওয়ায়েজ, মসজিদের ইমাম ও খতিব, ছোট ছোট মাদ্রাসা-মক্তবের দ্বীনী শিক্ষকদের মধ্যে ইলমী দৈন্যের এই সমস্যা প্রকট আকার ধারন করেছে। এদের বেশির ভাগই মসজিদ, পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও কসর -এর সামান্য কিছুটা ভিতরের মাসআলাহ’র ইলমও পূর্ণ ভাবে রাখে না, সেখানে খিলাফত, জিহাদ, আমর বিল মা’রুফ নাহি আনিল মুনকার, শরয়ী বিচার ব্যবস্থা, সনাতন ও আধুনিক শরয়ী অর্থনীতি ইত্যাদি অন্যান্য বড় বড় বিষয়ের ভারী, সুক্ষ ও জটিল মাসআলাহ জানা-তো আরো পরের কথা। তা সত্ত্বেও এসব বিষয়ে কেউ প্রশ্ন করলে তাদের বেশিরভাগের মুখ থেকে ‘জানি না’ বের হয় না, কিংবা ‘বড় কোনো মুফতীর কাছে জিজ্ঞেস করে জানাবো’ -তাও বলে না, অথবা ‘অমুক বড় মুফতী সাহেবের কাছে জিজ্ঞেস করে নিন’ -তাও বলে না, বরং ফস্ করে একটি ফতওয়া বা ব্যাখ্যা দিয়ে দেয় !!! এদের শরয়ী জ্ঞানের দৈন্যের অবস্থা যখন সাধারণ মানুষের কাছে দৃষ্টিকটুভাবে ধরা পড়ে, তখন তারা মনে করে যে, সব আলেমই এরকম। ফলে এরা বড় আলেমগণের কাছে যাওয়ার পথে একটি প্রাথমিক বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।   
 
(২) এই ধারা বহির্ভূত লোকেরা শুধুমাত্র নিজে নিজে বই পড়ে একেকজন শরীয়তের পন্ডিত হিসেবে আত্বপ্রকাশ করবে এবং মুর্খ মানুষজন তাদের কুরআন-হাদিসের আলোচনা ও কথাবার্তায় আকৃষ্ট হয়ে তাদেরকে অনুসরণ করে। এযুগের আধুনিক শিক্ষিতদের মধ্যে (হাতে গোণা সচেতন কিছু মুমিন বাদে) প্রায় ১০০% -ই এরকম স্ব-শিক্ষিত হাতুড়ে মুফতী, মুহাদ্দেস ও আল্লামাহ’র পদ গ্রহন করে আছে, যারা যে কোনো ব্যাপারে আলেম-জাহেল সকলের কোথায় কী ভুল -তা  স্ক্যান করার মতো জ্ঞান ও যোগ্যতা পূর্ণমাত্রায় আছে বলে তাদের নিজেদের ধারনা। এই মহামারী আজ এমন এক বিকট আকার ধারণ করেছে যে, বাজার আজকে এরাই দখল করে নিয়েছে। শহুরে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে গ্রাম্য সাধারণ ব্যাক্তি পর্যন্ত এই মহামারীতে আক্রান্ত। আর আম পাবলিকের অবস্থাও এত সোচনীয় যে, তারা বিবেকের মাথা খেয়ে এদের কাছে কুরআন ও সুন্নাহ’র ইলম অন্বেষন করে, মাসআলাহ জিজ্ঞেস করে, কোন আলেম কোথায় ভুল করেছে -তার সমাধান তলব করে ইত্যাদি।
 
এই শেষ জামানা এই দুই শ্রেণির লোকজন (তথা অল্প ইলমধারী আলেম ও স্বশিক্ষিত ইলমধারী লোকদের) এবং বিবেকহীন সাধারণ মুর্খ জনগণ দিয়ে প্রায় গোটা পৃথিবী কাণয় কাণায় পূর্ণ। মুহাক্কিক আলেম ও সচেতন বিবেকবান সাধারণ মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে অতি নগন্য।
 
সম্ভবতঃ কিছু হাদিসের ইশারা এদিকেই। যেমন: হযরত  আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন-  إن من أشراط الساعة أن يرفع العلم ويظهر الجهل – ‘কেয়ামতের লক্ষনসমূহের মধ্যে এও রয়েছে যে, (দ্বীনী) ইলম উঠে যাবে এবং মুর্খতা প্রকাশ পাবে।[সহিহ বুখারী, হাদিস ৬৮০৮; সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৬৭১;  মুসনাদে আহমাদ-৩/১৫১; জামে তিরমিযী, হাদিস ২২০৫; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪০৪৫] আরেক হাদিসে এসেছে , রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّ اللَّهَ لاَ يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا، يَنْتَزِعُهُ مِنَ الْعِبَادِ، وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ، حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا، اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالاً فَسُئِلُوا، فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ، فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا . رواه البخاري: رقم ١٠٠ , و مسلم : ٢٦٧٣, و الترمذي :٢٦٥٢ , وابن ماجه : المقدمة٥٢ , وأحمد: ٢/١٦٢ , والدارمي : المقدمة ٢٣٩ –‘নিশ্চই আল্লাহ (কুরআন ও সুন্নাহ’র সহিহ) ইলমকে লোকজনের অন্তর থেকে ছিনিয়ে নেয়ার ন্যায় ছিনিয়ে নিবেন না। তবে তিনি আলেমগণকে (একে একে মৃত্যু দিয়ে দুনিয়া থেকে) উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমে ইলমকে তুলে নিবেন। যখন কোনো আলেম থাকবে না, তখন লোকজন তাদের জাহেল-মুর্খ প্রধানদেরকে ধরে তাদের কাছে প্রশ্ন করবে। তখন তারা ইলম ছাড়াই ফাতওয়া/জবাব দিবে। ফলে তারা (নিজেরাও) পথভ্রষ্ঠ হবে, (যারা প্রশ্ন করেছে) তাদেরকেও পথভ্রষ্ঠ করবে’।[সহিহ বুখারী, হাদিস ১০০; সহিহ মুসলীম, হাদিস ২৬৭৩;  মুসনাদে আহমাদ-২/১৬২; জামে তিরমিযী, হাদিস ২৬৫২; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৫২; সুনানে দারেমী, হাদিস ২৩৯] 
 
ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. তাঁর কিতাব ‘আল-যুহদ’-এ উত্তম সনদে হযরত আবু উমাইয়্যাহ আল-যামহী রা.-এর  সূত্রে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ ثَلاثًا : إِحْدَاهُنَّ أَنْ يُلْتَمَسَ الْعِلْمُ عِنْدَ الأصَاغِرِ- أخرجه ابن المبارك في ” الزهد ” ٦١ , و عنه أبو عمرو الداني في ” السنن الواردة في الفتن “٢/٦٢ رقم ٤٣٨, و اللالكائي في ” شرح أصول السنة ” ١/٢٣٠ كواكب ٥٧٦, قال الألباني في “السلسلة الصحيحة” ٢/٣١٦: قلت اسناده جيد, والطبراني في الكبير ٢٢/٣٦١، ابن عبد البر في جامع بيان العلم وفضله: ٢/٢٤٩ , الهيثمي في المجمع ١/١٣٥, – ‘কেয়ামতের লক্ষনসমূহের মধ্যে তিনটি লক্ষন আছে, যার একটি হল- (দ্বীনের) ইলম’কে একদম ছোটদের কাছে তলব করা হবে’। [আল-যুহদ, ইবনুল মুবারকহাদিস ৬১; ‘আস-সুন্নাহ, ইমাম দানী-২/৬২, হাদিস ৪৩৮; শারহু উসূলীস সুন্নাহ, আলকানী-১/২৩০, কাওয়াকিব ৫৭৬; আল-মু’জামুল কাবির, ত্বাবরানী- ২২/৩৬১; জামেঊ বায়ানিল ইলম, ইবনে আব্দল বার-২/২৪৯; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ১/১৩৫] ছোটদের কাছ থেকে ইলম হাসিলের অর্থ আমরা এখানে করে এসেছি।
 
(৪) মসজিদের মুতাওয়াল্লি (সেক্রেটারী) পদ ও দায়িত্বের মধ্যে খেয়ানত: আল্লাহ তাআলা’র অনুগত বান্দা মুসলমানদের জন্য নামায ও যিকিরের সর্বত্তম স্থান হল আল্লাহ’র ঘর মসজিদ। যে ব্যাক্তি শরীয়তের দৃষ্টিতে নূন্যতম মাত্রারও মুসলমান, তার জন্য মসজিদে প্রবেশ করে নামায ও আল্লাহ’র যিকির করার হক্ব রয়েছে -যতক্ষন পর্যন্ত তারা কুরআন ও সুন্নাহ’র অপরাপর সংশ্লিষ্ট বিধান লঙ্ঘন না কর এটা আল্লাহ’র পক্ষের লোকদের ইবাদতখানা; বিপক্ষের লোকদের েনয়। কিন্তু এই শেষ জামানায় এসে ভাল করে খোঁজ করে দেখুন, মসজিদগুলোর কমিটিতে মুতাওল্লী/সেক্রেটারী/সভাপতি, অর্থরক্ষক ও সাধারণ সদস্যরা হল তারা-
(ক) যাদের একজনও -পূর্ণ ইসলাম কায়েম হোক -তা চায় না, মানে সেকুলার (রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামী শরীয়ত বাদ দেয়ার) আদর্শে বিশ্বাসী মর্মে সমাজে পরিচিত।
(খ) যারা সারাটা জীবন সূদী ব্যাংকের কর্মকর্তা বা কর্মচারী হিসেবে চাকুরী করে প্রকাশ্যভাবে হারাম খেয়েছে মর্মে সমাজে পরিচিত। 
(গ) যারা সূদ ও জুয়া নির্ভর ইন্সুরেন্স কোম্পনীর কর্মকর্তা বা কর্মচারী হিসেবে চাকুরী করে প্রকাশ্যভাবে হারাম খেয়েছে মর্মে সমাজে পরিচিত। (ঘ) যারা সমাজের এমন নেতা যার -মাস্তান পোষা, অর্থ আত্বসাৎ, অন্যান্য অসততা, এমনকি কাউকে খুন করার দোষে দোষী মর্মে সমাজে পরিচিত।
(ঘ) যারা এযুগের নাজায়েয কায়দায় কন্ট্রক্টরী ব্যবসার মাধ্যমে হারাম কামাই করে মর্মে সমাজে পরিচিত।
(ঙ) যারা কুরআন-সুন্নাহ’র পর্দা ব্যবস্থাকে নারীর অধিকার হনন বলে বিশ্বাস করে অথবা নিজের পরিবারের মধ্যে পর্দার কোনো ব্যবস্থা রাখে না -এমন ব্যাক্তি মর্মে সমাজে পরিচিত। ইত্যাদি
 
মসজিদ কমিটিগুলোতে হাতে গোণা দুই একজন বাদে প্রায় সকলের এই একই অবস্থা। যেমন মুসুল্লী সমাজ তেমনি তাদের মসজিদ কমিটির সদস্যরা। 
 
একটা জামানা ছিল যখন রাসুলুল্লাহ সা. সকল মুসলমানকে তিন জন সাহাবী রা.-এর সাথে প্রায় চল্লিশ দিন সালাম-কালাম করতে নিষেধ করে দিয়েছিলেন -‘জিহাদে অংশগ্রহন না করার অপরাধে’, যদিও-বা তখন তাঁদের তিন জনের জিহাদে যাওয়া না যাওয়ার উপর জিহাদের বিজয় নির্ভরশীল ছিল না। পরে তাঁদের তওবা কবুল হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ সা. সকল মুসলমানকে তাঁদের সাথে সালাম-কালামের অনুমতি দেন। আমরা এও দেখতে পাই যে, রাসুলুল্লাহ সা. বহু মুনাফেককে নাম ধরে ধরে মসজিদ থেকে বেড় করে দিয়েছিলেন রাসুলুল্লাহ সা.-এর বিরুদ্ধে ষঢ়যন্ত্র করার এক অপরাধে।
 
কিন্তু এই শেষ জামানায় অবস্থা হয়ে গেছে একেবারে উল্টো। আজ উপরের (ক) থেকে (ঙ) পর্যন্ত লোকগুলি মসজিদের নামাযের প্রথম কাতারে দাড়ানোর বা মুসুল্লদের প্রতিনিধি হয়ে মসজিদের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলা সম্মান পায়, তারাই মিটিং করে নির্ধারণ করে যে, কোন খতীব/ইমাম/মুয়াযযীনকে মসজিদে রাখা হবে আর কাকে বেড় করে দেয়া হবে !!! ধর্মনিরপেক্ষতার মতো কুফরী আক্বিদা অন্তরে রেখে আর হারাম কামাইয়ের শরীর নিয়ে মসজিদে গমন ও নামায পড়ে কোন বেহেশতের আশা করা যায়!!!

শাদ্দাদ বিন মা’কিল আল-আসাদী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-কে বলতে শুনেছি: أَوَّلُ مَا تَفْقِدُونَ مِنْ دِينِكُمَ الأَمَانَةُ ، وَآخِرُ مَا تَفْقِدُونَ مِنْهُ الصَّلاَةُ ، وَسَيُصَلِّي قَوْمٌ وَلاَ دَيْنَ لَهُمْ – ‘তোমাদের দ্বীন (ইসলাম) থেকে প্রথমে যে জিনিসটিকে উঠিয়ে নেয়া হবে (সেটা হল) ‘আমানত’, আর সর্বশেষে যে জিনিসটিকে উঠিয়ে নেয়া হবে (সেটা হল) নামায। একটি কওম নামায পড়বে কিন্তু (ইসলাম) তাদের দ্বীন হবে না, (তাদের দ্বীন হবে অন্য কোনো বিশ্বাস বা মতবাদ)’। [আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বাহ- ১৪/১৬১]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত,  তিনি বলেন-  يأتي على الناس زمان يجتمعون في المساجد ليس فيهم مؤمن ” . أخرجه الحاكم في المستدرك: ٤/٤٨٩ و قال هذا حديث صحيح الإسناد على شرط الشيخين ولم يخرجاه . و وافقه الذهبي. والطحاوي في “مشكل الآثار”- ٥٩٠ , ابن أبي شيبة في “المصنف: ٣٠٣٥٥, ٣٧٥٨٦ , ابن عدي في “الكامل: ٢/٢١٤, والفريابي في “صفة المنافق”: ١٠٨, ١٠٩, ١١٠, الخلال في السُّنَّة: ٥/٥٩, رقم ١٦٠٩ – ‘মানুষের উপর এমন জামানা আসবে, যখন (লোকজন) মসজিদে একত্রিত হবে, (কিন্তু) তাদের মধ্যে কোনো মু’মিন ব্যাক্তি থাকবে না। [মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৪৮৯; শারহু মুশকিলিল আছার, ত্বাহাবী- ৫৯০; আল-মুসান্নাফ, ইবনু আবি শায়বা, আছার ৩০৩৫৫, ৩৭৫৮৬; আল-কামেল, ইবনুল আদী- ২/২১৪; সিফাতুল মুনাফেক, ফারইয়াবী- ১০৮, ১০৯, ১১০; আস-সুন্নাহ, ইমাম খাল্লাল- ৫/৫৯, আছার ১৬০৯]

ইমাম দাইলামী রহ. বর্ণনা করেছেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেছেন- سيأتي على الناس زمان يصلي في المسجد منهم ألف رجل أو زيادة لا يكون فيهم مؤمن. رواه الديلمي في الفردوس بمأثور الخطاب: ١/٢٣٣ رقم ٣٤٤٧ -‘অতি শিঘ্রই মানুষের উপর এমন জামানা আসবে, যখন মসজিদের মধ্যে (জামাআতে) নামায হবে, যাদের মধ্যে এক-হাজার বা তার বেশি পুরুষ (লোক জামাআতে শরীক) থাকবে, (কিন্তু) তাদের মধ্যে কোনো মু’মিন ব্যাক্তি থাকবে না’। [আল-ফিরদাউস, দাইলামী- ১/২৩৩, আছার ৩৪৪৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে,  তিনি বলেন-  إن من اقتراب الساعة أن يصلي خمسون نفسا لا تقبل لأحدهم صلاة‏ .‏ رواه  ‏أبو الشيخ في كتاب الفتن كذا فى كنز العمال : ٣٨٤٢٧ , بإسناد ضعيف كذا فى التيسير بشرح الجامع الصغير لالمناوي: ١/٧٠٣  – ‘কেয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে (এমনও হবে যে, মসজিদে গিয়ে জামাআতে) পঞ্চাশন মানুষ নামায পড়বে, কিন্তু তাদের কারোর নামাযই কবুল হবে না’। [আবুশ শায়েখ: কাঞ্জুল উম্মাল, আছার ৩৮৪৬৭; আত-তাইসির, মুনাবী-  ১/১৭২] ইমাম আবু শুআইব রহ. বর্ণনা করেছেন –  يأتي على الناس زمان يحجون ويصلون ويصومون وما فيهم مؤمن . رواه أبو شعيب الحراني في “فوائده”، وإسناده لا بأس به. كذا فى إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة لحمود بن عبد الله التويجري : ٢/٦٤ ‘মানুষের উপর এমন জামানা আসবে, যখন (মুসলমান হিসেবে পরিচিত লোকজন) হজ্জ করবে, নামায পড়বে, রোযা রাখবে, কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো মু’মিন ব্যাক্তি থাকবে না’। [আল-ফাওয়ায়িদ, ইমাম আবু শুআইব: ইতহাফুল জামাআহ বিমা যাআ ফিল ফিতান ওয়াল মালাহিম ওয়া আশরাতিস সাআহ- ২/৬৪] 

 

শেষ কথা:

এখানে মাত্র কয়েকটি বিশেষ পদ ও তার কার্যাবলির মধ্যে খিয়ানত করার উদাহরণ দিলাম; সবগুলো এক এক করে উল্লেক করা সম্ভব নয়। একইভাবে প্রতিটি প্রশাসনিক পদ, শিক্ষাগত পদ, ইন্টেলিজেন্স ও ইনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (যেমন: পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি, বিবিডি, সিআইএ ইত্যাদি)র পদ সহ বাকিগুলোও বুঝে নিন। মুসলীম উম্মাহ’র বেশিরভাগ অংশে আজ খেয়ানতের পঁচন ধরে গেছে। আমার বিশ্বাস, নিম্নোক্ত হাদিসগুলোতে এদিকেই ইংগীত করা হয়েছে।

 হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা.-এর  সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- كيف بكم وبزمان أو يوشك أن يأتي زمان يغربل الناس فيه غربلة تبقى حثالة من الناس قد مرجت عهودهم وأماناتهم واختلفوا فكانوا هكذا وشبك بين أصابعه، فقالوا: وكيف بنا يا رسول الله؟ قال: تأخذون ما تعرفون وتذرون ما تنكرون وتقبلون على أمر خاصتكم وتذرون أمر عامتكم – رواه أبو داود ٤٣٤٢ ، والإمام أحمد في المسند ٧٠٢٣ ، وانظر صحيح سنن أبي داود ٣٦٤٨ – ‘তখন তোমাদের বা (বলেছেন তোমাদের) জামানার কি অবস্থা হবে অথবা (বলেছেন) অতি শিঘ্রই এমন জামানা আসছে, যখন মানুষজন একদম (পঁচন ধরা) বিকৃত হয়ে যাবে, অবশিষ্ট থাকবে (আবর্জনায়) পরিত্যাক্ত (জিনিসের মতো নিকৃষ্ট বদ স্বভাবের এমন সব) মানুষজন, যাদের প্রতিশ্রুতি ও আমানতগুলো খলৎমলৎ হয়ে যাবে এবং তারা দ্বন্দ্ব ও বিরোধ বাঁধাবে। তখন তারা এরকম হয়ে যাবে–(একথা বলে তিঁনি) তাঁর আঙ্গুলগুলোকে একটার মাঝে অরেকটা ঢুকিয়ে দিলেন। তখন লোকেজন জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ, তখন আমরা (মুসলমানরা) কি করবো? তিনি বললেন: (সে সময় -আমার আনীত দ্বীনের) যা কিছু তোমরা (নির্ভরযোগ্য ভাবে) চিনে নিতে পারো তা গ্রহন করবে এবং (শরীয়ত ও বিবেকগত ভাবে) যা কিছু নিন্দনীয় দেখো তা পরিত্যাগ করবে, আর (সংশোধনের আশা আছে- এরকম) তোমাদের বিশেষ লোকজনের ব্যাপারগুলো গ্রহন করবে (ও সে ব্যাপারে শরীয়তের হক্ব আদায় করবে) এবং তোমাদের আম-জনতার বিষয়গুলোকে ছেড়ে দিবে, (কারণ তাদের ফিতনার সাগরে গেলে তোমাদের ইমান-আমলও তাদের ঢেউ-এর তোড় তোমাদেরকে তাদের সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে)। [সুনানে আবু দাউদহাদিস ৪৩৪২; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ৭০২৩]

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা.-এর  সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন-  بَيْنَمَا نَحْنُ حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ ذَكَرَ الْفِتْنَةَ فَقَالَ ‏”‏ إِذَا رَأَيْتُمُ النَّاسَ قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ وَخَفَّتْ أَمَانَاتُهُمْ وَكَانُوا هَكَذَا ‏”‏ ‏.‏ وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ قَالَ فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ كَيْفَ أَفْعَلُ عِنْدَ ذَلِكَ جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاكَ قَالَ ‏”‏ الْزَمْ بَيْتَكَ وَامْلِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ وَخُذْ بِمَا تَعْرِفُ وَدَعْ مَا تُنْكِرُ وَعَلَيْكَ بِأَمْرِ خَاصَّةِ نَفْسِكَ وَدَعْ عَنْكَ أَمْرَ الْعَامَّةِ – رواه أبو داود ٤٣٤٣ – আমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে গোল হয়ে বসা ছিলাম, তখন তিনি ফিতনা সম্পর্কে কথা বলছিলেন। তিনি বললেন: তোমরা যখন মানুষ জনকে দেখবে যে, তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো খলৎমলৎ হয়ে হয়ে গেছে এবং তাদের আমানতদারী নিভুপ্রায় হয়ে গেছে, তখন তারা এরকম হয়ে যাবে–(একথা বলে তিঁনি) তাঁর আঙ্গুল গুলোকে একটার মাঝে অরেকটা ঢুকিয়ে দিলেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা বলেন: তখন আমি উঠে তাঁর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম: আল্লাহ আমাকে আপনার তরে জীবন উৎসর্গ করুন। ওই অবস্থার সম্মুখীন হলে আমি কি করবো? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: (লোকজনের সংশোধনের চিন্তা পরিত্যাগ করে সময় অতিবাহিত করার জন্য) তোমার ঘরকে অপরিহার্য করে নাও, (ফিতনা’য় অংশ নিও না, বরং) তোমার জিহবাকে (যথাসাধ্য) সংযত করে রাখো (কারণ তুমি জানো না, তোমার কোন কথা ফিতনা’র আগুনকে ভরকিয়ে দিবে আর তুমি সেই পাপের অংশীদার হয়ে বসবে), এবং (সে সময় -আমার আনীত দ্বীনের) যা কিছু তুমি (নির্ভরযোগ্য ভাবে) চিনে নিতে পারো তা গ্রহন করো এবং (শরীয়ত ও বিবেকগত ভাবে) যা কিছু নিন্দনীয় দেখো তা পরিত্যাগ করো। আর তুমি শুধু তোমার নিজের বিশেষ ব্যাপার (কে নিয়ে চিন্তিত থাককাকে) অপরিহার্য করে নাও, আর সর্বসাধারণের ব্যাপারাদি থেকে নিজকে বিরত রাখো’। [সুনানে আবু দাউদহাদিস ৪৩৪৩]

 

الله اعلم بالصواب و أخر دعوانا عن الحمد لله رب العالمين و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته و استغفر الله و أتوب إليه




শেষ জামানার বুদ্ধিজীবী, মিথ্যুক মিডিয়া ও পলিটিশিয়ান, – মহানবী সা.-এর ভবিষ্যত বাণী

শেষ জামানার বুদ্ধিজীবী, মিথ্যুক মিডিয়া ও পলিটিশিয়ান সম্পর্কে মহানবী ﷺ-এর ভবিষ্যত বাণী

হযরত আবু হুরায়রাহ রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন-

سيَأتي علَى النَّاسِ سنواتٌ خدَّاعاتُ يصدَّقُ فيها الكاذِبُ ويُكَذَّبُ فيها الصَّادِقُ ويُؤتَمنُ فيها الخائنُ ويُخوَّنُ فيها الأمينُ وينطِقُ فيها الرُّوَيْبضةُ قيلَ وما الرُّوَيْبضةُ قالَ الرَّجلُ التَّافِهُ في أمرِ العامَّةِ . رواه ابن ماجه رقم ٤٠٤٢, الحاكم في المستدرك ٤/٤٦٥, المعجم الأوسط للطبراني  ٣٢٥٨, مسند أحمد ٢/٢٩١ , الطحاوى في “مشكل الآثار : ١/٤٠٥, والبزار ٢٧٤٠ , و الطبراني في “معجمه الكبير”١٢٥/٦٨/١٨ , وفي مسند الشاميين  ٤٨,  , وأبو يعلى ٣٧١٥

‘অতি শিঘ্রই মানুষের উপর এমন সব প্রতারনাপূর্ণ সনের আগমন ঘটবে, যখন (পৃথিবীর মানুষের সামনে আসল) মিথ্যুককে সত্যবাদি আর (প্রকৃত) সত্যবাদিকে মিথ্যুক বানানো হবে, এমনিভাবে (আসল) খেয়ানতকারীকে আমানতদার আর (প্রকৃত) আমানতদারকে খেয়ানতকারী বানানো হবে। (আর মানুষজন প্রতারকদের প্রতারনা ও ধাপ্পাবাজী বুঝতে না পেরে ওগুলোকেই সত্য মনে করতে থাকবে, আর প্রকৃত সত্য ও সত্যপন্থিরা সর্বসাধারণের দৃষ্টির আরালে থাকবে)। আর সে জামানায় রুওয়াইবাজা ‘কে কথা বলতে দেয়া হবে। জিজ্ঞেস করা হল: রুওয়াইবাজাহ কি? রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন- الرَّجلُ التَّافِهُ في أمرِ العامَّةِ – সর্বসাধারণ মানুষের বিষয়-আসয়ে (কথা বলার) একদম অযোগ্য-অপদার্থ ব্যাক্তি। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪০৪২; মুসতাদরাকে হাকিম- ৪/৪৬৫; আল-মু’জামুল আউসাত, ত্বাবরানী- ৩২৫৮; মুসনাদে আহমাদ- ২/২৯১; শারহু মুশকিলিল আছার, ত্বাহাবী- ১/৪০৫; মুসনাদে বাযযার, হাদিস ২৭৪০; আল-মু’জামুল কাবির, ত্বাবরানী-১৮/৬৮/১২৫; মুসনাদে শামেয়ীন, ত্বাবরানী ৪৮; মুসনাদে আবু ইয়া’লা ৩৮১৫]

ফায়দা: এখানে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষনীয়-

(১) উপরের হাদিসেরে বিষয়গুলো ঘটবে শেষ জামানায়; দাজ্জাল বেড় হওয়ার বেশ কিছু বছর আগে, (আর বহু নির্ভরযোগ্য হাদিস ও আছার দ্বারা প্রমাণিত যে, দাজ্জাল বেড় হবে শেষ জামানায়)।

যেমন: হযরত আওফ বিন মালেক আশযায়ী রা.-এর বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন-  إِنَّ أَمَامَ الدَّجَّالِ سِنِينَ خَوَادِعَ يَكْثُرُ فِيهَا الْمَطَرُ ، وَيَقِلُّ فِيهَا النَّبْتُ ، وَيُصَدَّقُ فِيهَا الْكَاذِبُ ، وَيُكَذَّبُ فِيهَا الصَّادِقُ ، وَيُؤْتَمَنُ فِيهَا الْخَائِنُ ، وَيُخَوَّنُ فِيهَا الأَمِينُ ، وَيَنْطِقُ فِيهَا الرُّوَيْبِضَةُ ” , قِيلَ وَمَا الرُّوَيْبِضَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : ” مَنْ لا يُؤْبَهُ لَهُ ” . وَبِهِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ ، عَنْ أَنَسٍ ، مِثْلَهُ , غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ : ” قِيلَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَمَا الرُّوَيْبِضَةُ ؟ قَالَ : الْفُوَيْسِقُ يَتَكَلَّمُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ . أخرجه الطحاوى في “مشكل الآثار : ١/٤٠٥, والبزار ٢٧٤٠ , و الطبراني في “معجمه الكبير”١٢٥/٦٨/١٨ , وفي مسند الشاميين ٤٨ , و الروياني ٥٨٨ -‘নিশ্চই দাজ্জালে (আগমনের) আগে কিছু প্রতারনাপূর্ণ বছর এমন হবে, যখন তাতে অনেক বৃষ্টিপাত হবে, কিন্তু তাতে শস্য-ফলন হবে কম। তখনকার  মিথ্যুককে সত্যবাদি বলে গণ্য করা হবে এবং সত্যবাদিকে গণ্য করা হবে মিথ্যুক রূপে। এমনিভাবে তখনকার খেয়ানতকারীকে আমানতদার হিসেবে গণ্য করা হবে, আর আমানতদারকে গণ্য করা হবে খেয়ানতকারী রূপে। সেসময় রুওয়াইবাজাহ’কে কথা বলতে দেয়া হবে। জিজ্ঞেস করা হল: রুওয়াইবাজাহ কি – ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন- مَنْ لا يُؤْبَهُ لَهُ -‘‘এমন ব্যাক্তি যার (বাস্তবে আল্লাহ’র দৃষ্টিতে) মূল্য নেই, (যে তার উপযুক্তই নয়)’আর হযরত আনাস রা.-এর বর্ণনায় আছে: জিজ্ঞেস করা হল: রুওয়াইবাজাহ কি – ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন: الْفُوَيْسِقُ يَتَكَلَّمُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ – ফাসেক (পাপাবিষ্ঠ ও মনুষ্যত্বে পচনধরা সব) ব্যাক্তিরা, যারা সর্বসাধারণ মানুষের বিষয়-আসয়ে কথা বলবে [শারহু মুশকিলিল আছার, ত্বাহাবী-১/৪০৫; মুসনাদে বাযযার, হাদিস ২৭৪০; আল-মু’জামুল কাবির, ত্বাবরানী-১৮/৬৮/১২৫; মুসনাদে শামেয়ীন, ত্বাবরানী ৪৮; মুসনাদে রুইয়ানী, হাদিস ৫৮৮; মুসনাদে আবু ইয়া’লা ৩৮১৫] 

ইমাম নুআইম বিন হাম্মাদ রহ. (মৃ: ২২৮ হি:) তাঁর কিতাব ‘আল-ফিতান’-এ হযরত আবু হুরায়রাহ রা.-এর সূত্রে একটি রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন- حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عِيَاضٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ السَّبَّاقِ ، قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، يَقُولُ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : “ يَكُونُ قَبْلَ خُرُوجِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ سَنَوَاتُ خُدْعَةٍ ، يُكَذَّبُ فِيهَا الصَّادِقُ ، وَيُصَدَّقُ فِيهَا الْكَاذِبُ ، وَيُؤْتَمَنْ فِيهَا الْخَائِنُ ، وَيُخَوَّنُ فِيهَا الأَمِينُ ، وَيَتَكَلَّمُ الرُّوَيْبِضَةُ الْوَضِيعُ مِنَ النَّاسِ – মাসিহ দাজ্জাল বেড় হওয়ার আগে কিছু বছর এমন হবে যে, তখনকার সত্যবাদিকে মিথ্যুক বলে গণ্য করা হবে এবং মিথ্যুককে গণ্য করা হবে সত্যবাদি রূপে। এমনিভাবে তখনকার খেয়ানতকারীকে আমানতদার হিসেবে গণ্য করা হবে, আর আমানতদারকে গণ্য করা হবে খেয়ানতকারী রূপে। আর (তখন)  রুওয়াইবাজাহ কথা বলব, (যারা) الْوَضِيعُ مِنَ النَّاسِ -মানুষের মধ্যে ছোটলোক/তুচ্ছ-অথর্ব ব্যাক্তি’। [আল-ফিতান, ইমাম নুআইম বিন হাম্মাদ, হাদিস ১৪৫৫] আর ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহ. মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করা হল: রুওয়াইবাজাহ কি – ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি ﷺ বললেন- سِفْلَةُ النَّاسِ -‘নিচুমানের মানুষ’ । [আল-মুসান্নাফ, ইমাম আব্দুর রাজ্জাক- ১১/৩৮২]

আর আমরা ‘নবীজীর ভবিষ্যৎবাণী’ সিরিজে দেখিয়ে এসেছি যে, আমরা নিঃসন্দেহে শেষ জামানায় ঢুকে পড়েছি। আর আমি যখন এই প্রবন্ধটি লিখছি, তখন বিশ্বের বড় বড় আলেমগণ ইমাম মাহদী’র আগমনের গন্ধ বেশ ভালমতোই পাচ্ছেন (এবং তাঁরা ২০১৯ সাল থেকে ২০৩০ ইং সালের মধ্যেই তাঁর আবির্ভাবের আশাবাদী; আমিও আশাবাদী)। ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের পর তিনি প্রায় সারে সাত কিংবা নয় বছর জীবিত থাকবেন, আর দাজ্জাল বেড় হবে ইমাম মাহদীর শেষ দিককার বছরে।

(২) উপরের মূল হাদিসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, শেষ জামানায় সেই উল্লেখীত সময়টি হবে এমন, যখন গোটা পৃথিবী প্রতারক ও প্রতারনার গাঢ় অন্ধকারে আবিষ্ট হয়ে থাকবে, মানুষজনের স্বভাব-চরিত্র এতটাই ঘোলাটে হয়ে যাবে যে, তখন এটা বোঝাই মুশকিল হয়ে যাবে যে, কে সত্য বলছে আর কে মিথ্যা, কে প্রতারক করছে আর কে সৎ। শুধু তাই নয়, তখন يصدَّقُ فيها الكاذِبُ ويُكَذَّبُ فيها الصَّادِقُ ويُؤتَمنُ فيها الخائنُ ويُخوَّنُ فيها الأمينُ – (পৃথিবীর মানুষের সামনে আসল) মিথ্যুককে সত্যবাদি আর (প্রকৃত) সত্যবাদিকে মিথ্যুক বানানো হবে, এমনিভাবে (আসল) খেয়ানতকারীকে আমানতদার আর (প্রকৃত) আমানতদারকে খেয়ানতকারী বানানো হবে। (আর মানুষজন প্রতারকদের প্রতারনা ও ধাপ্পাবাজী বুঝতে না পেরে ওগুলোকেই সত্য মনে করতে থাকবে, আর প্রকৃত সত্য ও সত্যপন্থিরা সর্বসাধারণের দৃষ্টির আরালে থাকবে)।

আমার মতে (আর শুধু আমার মতে নয়, বরং বিশ্বের চোখ-কান-খোলা-রাখা সচেতন মুসলীম-অমুসলীমদের কাছে একথা দিনের আলোর ন্যায় প্রতিভাত হয়ে গেছে যে), এই দায়িত্বটা নিয়েছে বিশ্বের সকল দেশের চালবাজ/অসৎ/মিথ্যুক/প্রতারক পলিটিশিয়ানরা ও তাদের দালাল মিডিয়াগুলো। শুধুমাত্র ৯/১১-এ টুইন টাওয়ারে হামলা, ৭/৭-এ লন্ডনে বোম ব্লাষ্ট, দায়েশ/আই.এস.আই.এস -এর মতো গরম টপিকগুলোকে হাতে নিন এবং কয়েক মাস রিসার্স করুন, দেখবেন এর সবগুলো ইসরাঈল, আমেরিকা ও ব্রিটেনের জায়োনিষ্ট রাজনীতিকদের নোংরা এজেন্ডার বাস্তব রূপ, যা তাদের নিজেদের প্লান-প্রোগ্রাম অনুপাতে সুদক্ষভাবে সম্পাদন করা হয়েছে ইসলামকে ‘সন্ত্রাসের ধর্ম’ এবং মুসলমানদেরকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্টি’ হিসেবে বিশ্বের চোখে তুলে ধরার জন্য। আর এই প্রোপাগান্ডাকে মানুষের মনমগজে ঢুকিয়ে দেয়ার জন্য বিশেষ দালালী দায়িত্ব পালন করে চলছে দেশি-বিদেশি মিডিয়াগুলো। আমার প্রায় ১০ বছরের ক্ষুদ্র গবেষনা থেকে আমানতদারীর সাথে বলছি, আমার ব্যাক্তিগত মতে,  ইসরাঈল, আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ভারত’র বদ পলিটিশিয়ান, বদ ইন্টেলিজেন্স এজন্সি ও বদ মিডিয়া’কে সবচাইতে ধুর্ত-কৌশলী, মিথ্যুক ও প্রতারক বলে অনুভূত হয়েছে। এদের সাথে মুসলীম প্রধান দেশগুলোর মুনাফেক পলিটিশিয়ানরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজেদের ফায়দা লুটছে।  

(২) উপরের মূল হাদিসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এরকম মিথ্যা ও প্রতারনাপূর্ণ জামানাকে যুৎসই কায়দায় কাজে লাগানোর জন্য খল-নায়কের ভুমিকা পালন করতে আবির্ভূত হবে একটি জ্ঞানপাপী গোষ্ঠি, যাদেরকে রুওয়াইবাজাহ বলে ইশারা করা হয়েছে। তাদের পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে হাদিসে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে:  الرَّجلُ التَّافِهُ في أمرِ العامَّةِ – সর্বসাধারণ মানুষের বিষয়-আসয়ে (কথা বলার) একদম অযোগ্য-অপদার্থ ব্যাক্তি।

ইমাম শাতেবী রহ. লিখেছেন- قَالُوا : هُوَ الرَّجُلُ التَّافَةُ الحَقِيرُ يَنْطِقُ فِي أُمُورِ العَامَّةِ ، كَأَنَّهُ لَيْسَ بِأَهْلٍ أَنْ يَتَكَلَّمَ فِي أُمُورِ العَامَّةِ فَيَتَكَلَّمُ -আলেমগণ বলেছেন: الرَّجُلُ التَّافَةُ (অযোগ্য-অপদার্থ ব্যাক্তি) হল এমন  الحَقِيرُ (হাকীর/অপদার্থ) ব্যাক্তি যে সর্বসাধারণ মানুষের বিষয়-আসয় নিয়ে কথা বলবে। কিন্তু বাস্তবে সে এমন যে, সর্বসাধারণ মানুষের বিষয়-আসয় নিয়ে কথা বলার উপযুক্ত সে নয়; তথাপি সে কথা বলবে। [আল-ই’তিসাম, শাতেবী-১২/৬৮১]

হাদিসে রুওয়াইবাজাহ‘র পরিচয়ে আরো বলা হয়েছে: مَنْ لا يُؤْبَهُ لَهُ -‘এমন ব্যাক্তি যার (বাস্তবে আল্লাহ’র দৃষ্টিতে) মূল্য নেই, (যে তার উপযুক্তই নয়)’। বলা হয়েছে: الْفُوَيْسِقُ يَتَكَلَّمُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ – ফাসেক (পাপাবিষ্ঠ ও মনুষ্যত্বে পচনধরা সব) ব্যাক্তিরা, যারা সর্বসাধারণ মানুষের বিষয়-আসয়ে কথা বলবে। বলা হয়েছে: الْوَضِيعُ مِنَ النَّاسِ -মানুষের মধ্যে ছোটলোক/তুচ্ছ-অথর্ব ব্যাক্তি’। বলা হয়েছে: سِفْلَةُ النَّاسِ -‘নিচুমানের (ছোটলোক) মানুষ’। 

আমার মতে, এখানে রুওয়াইবাজাহ ব্যাক্তিরা হল- এই শেষ জামানায় যাদেরকে পৃথিবীর মানুষ লিবারাল বুদ্ধিজীবী বা শুশিল সমাজ বলে মনে করে বা মিডিয়ার জোরে সেই উপাধির মেডেল গলায় ধারন করে। জনগণের কী করা উচিৎ, কী না-করা উচিত, দেশ ও সমাজের জন্য কী কী পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ, কোন সরকার কী ভুল করছে কী তার সমাধান, কোন রাজনৈতিক ইস্যু কোন কারণে উথলে উঠলো ও তা কি করে দমানো উচিত -তারা সর্বসাধারণ মানুষকে ইত্যকার হাজারো উপদেশ ও নসিহত খয়রাত করে থাকে মিডিয়ার টক-শো’তে, গোল-টেবিলে, শালিশ ময়দানে বা মিটিং ও জনসভা গুলোতে। প্রত্যেকটি দেশেই এধরনের বুদ্ধিজীবী বা শুশিল সমাজ ঘরানার লোক পাবেন এবং মিডিয়া বলেন বা সভা-সমাবেশ বলেন -যেখানেই জনগণের সমস্যা সেখানেই তাদের মুখ ও কলম অবশ্যই সচল পরিলক্ষিত হবে। 

যেকোনো দেশের ইসলাম বিরোধী সরকার, পলিটিশিয়ান ও তাদের দালাল মিডিয়া গুলোকে দেখবেন এই রুওয়াইবাজাহ’দেরকে জনগণের সামনে জোরেসোরে কভারেজ দেয় এবং যখন যেভাবে প্রয়োজন হয় তাদের মতামতকে ফলাও করে প্রচার করে; উদ্দেশ্য থাকে এদেরকে দিয়ে বিশেষ করে ইসলামের বিপক্ষে কথা বলানো, ইসলামী শরীয়াহ’কে মানুষের চোখে সেকেলে (Backdated) বা অন্যায়-অবিচারমূলক মর্মে তুলে ধরা, ইসলামের ধারক বাহক আহলে-হক্ব ওলামায়ে কেরাম ও সাধারণ মুমিন মুসলমানদেরকে ছোট ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্লের পাত্র বানানো, মহা-পন্ডিত সেজে কুরআন-সুন্নাহ’র নতুন নতুন ব্যাখ্যার আবর্জনা ও ঝোপঝাড় উপস্থাপন করে সর্বসাধারণ মানুষের মনে আমাদের মুসলীম উম্মাহ’র সম্মানীত  মুহাদ্দেসীন, মুসতাহীদীন ও মুহাক্কেক আলেমগণের ব্যাখ্যা ও ফাতওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ জন্মিয়ে দেয়া ইত্যাদি। কাফের, মুশরেক, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফেক – সবধরনের   রুওয়াইবাজাহ আপনি পাবেন আমাদের এই শেষ জামানায়। 

আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ ﷺ -এর উপর লক্ষ-কোটি দরূদ ও সালাম বর্ষিত হতে থাক অনন্তকাল, যিনি তাঁর প্রাণপ্রিয় উম্মত’র জন্য এমন কোনো ক্ষতিকারক কিছু নেই যা বর্ণনা করতে বাদ রেখেছেন। তিনি এধরনের কাফের, মুশরেক, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফেক সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন ১৪০০ বছর আগে, যা দৃশ্য আজ আমরা অবলোকন করছি। 

ইমাম হাকেম তিরমিযী, ইমাম ত্বাবরাণী এবং ইমাম ইবনু আব্দিল বার রহ. নিজ নিজ সনদে হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন-

শেষ জামানার বুদ্ধিজীবী, মিথ্যুক মিডিয়া ও পলিটিশিয়ান সম্পর্কে মহানবী সা.-এর ভবিষ্যত বাণী musrek hindu

سيأتي على أمتي زمان تكثر فيه القراء ، وتقل الفقهاء ويقبض العلم ، ويكثر الهرج ” قالوا : وما الهرج يا رسول الله ؟ قال : ” القتل بينكم ، ثم يأتي بعد ذلك زمان يقرأ القرآن رجال لا يجاوز تراقيهم ، ثم يأتي من بعد ذلك زمان يجادل المنافق الكافر المشرك بالله المؤمن بمثل ما يقول “- اخرجه الحاكم فى المستدرك : ٤/ ٤٥٧ رقم ٨٤١٢ , كتاب الفتن والملاحم و قال: هذا حديث صحيح الإسناد ، ولم يخرجاه و وافقه الذهبى,  المعجم الأوسط للطبراني, رقم الحديث ٣٣٨٥; جامع بيان العلم وفضله لابن عبد البر: , رقم ١٠٤٣  ;  مجمع الزوائد – ١/١٢٩, الجامع الصغيرلالسيوطي: ٢ / ٥٧, هذا الحديث حسن

 ‘অতি শিঘ্রই আমার উম্মাতের উপর এমন জামানা আসবে, যখন (কুরআনের) পাঠক হবে প্রচুর, কিন্তু (কুরআনের গভীর জ্ঞনের ধারক) ফকিহ হবে অল্প, (আল্লাহ তাআলাে একে একে ফকিহ আলেমবৃন্দকে তাঁর কাছে উঠিয়ে নিবেন এবং এভাবেই) ইলম উঠে যাবে, (ফলে সর্বক্ষেত্রে জাহেল ও মুর্খ মানুষদের ঢল নামবে) এবং (এর ক্রমধারায় এমন পরিবেশ সৃষ্টি হবে যে,) হারাজ বেড়ে যাবে। জিজ্ঞেস করা হল: হারাজ কী -ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি ﷺ বললেন: (শেস জামানায়) তোমাদের (মুসলমানদের) মধ্যে (সংঘটিত) খুনাখুনি (-যা হবে একটি বিশেষ ফিতনা)। সেই জামানার পর আমার উম্মতের মধ্যে থেকে এমনসব ব্যাক্তিদের আবির্ভাব হবে, যারা কুরআন-তো পড়বে, কিন্তু (কুরআনের মর্মার্থ জিহবা থেকে) তাদের (গলার) হলকূমও অতিক্রম করবে না, (ক্বলব ও মস্তিষ্কে ঢোকা-তো পরের কথা)। সেই জামানার পর এমন হবে যে, মুনাফেক, কাফের ও মুশরেক ব্যাক্তি মুমিনের সাথে আল্লাহ’র ব্যাপারে বাক-বিতন্ডা করবে -এমন উদাহরণ টেনে, যা সে বলে থাকে[মুসতাদরাকে হাকীম- ৪/৫০৪, হাদিস ৮৪১২; আল-মু’জামুল আউসাত, তাবরাণী, হাদিস ৩২৭৭; জামেউ বায়ানিল ইলম, ইবনু আব্দিল বার- ১০৪৩; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ১/১২৯; জামেউস সাগীর, সুয়ূতী- ২/৫৭]

# হযরত উকবা বিন আমের রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন-

 سيهلك من أمتي أهل الكتاب وأهل اللبن ” ، قال عقبة : ما أهل الكتاب يا رسول الله ؟ قال : ” قوم يتعلمون كتاب الله يجادلون به الذين آمنوا ” قال : فقلت : ما أهل اللبن يا رسول الله ؟ ” قال : ” قوم يتبعون الشهوات ويضيعون الصلوات ” . اخرجه الحاكم فى المستدرك: ٦/٣٧٤, و قال: هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه و وافقه الذهبى; و ابن جرير الطبري فى تفسيره: تحت سورة الغفير -٦٩ , و الرويانى فى المسند: ١/١٨٣ رقم ٢٣٩, ٢٤٠

কাফের মুনাফেক, মুশরেক, মুমিন, মুর্তি সংস্কৃতি বিতর্ক http://islamic-culture.faith

‘অতি শিঘ্রই আমার উম্মতের মধ্যে কিতাবধারী ও দুধধারী’রা বরবাদ হয়ে যাবে। হযরত উকবা রা. জিজ্ঞেস করলেন: কিতাবধারী কে -ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি ﷺ বললেন: ওই সকল (মুনাফেক) লোক, যারা আল্লাহ’র কিতাব (আল-কুরআন)-কে শিখবে এবং তা দিয়ে বাকবিতন্ডা/ঝগড়াবিবাদ করবে তাদের সাথে যারা ইমানদার। হযরত উকবা রা. বলেন: আমি  জিজ্ঞেস করলাম: দুধধারী কি -ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি ﷺ বললেন: ওইসমস্ত লোক যারা কুপ্রবৃত্তির পিছে পিছে চলবে এবং নামাযকে নষ্ট ও বরবাদ করে ফেলবে’। [মুসতাদরাকে হাকিম- ৬/৩৭৪; মুসনাদে রুইয়ানী– ১/১৮৩, হাদিস ২৩৯, ২৪০; তাফসীরে তাবারী, ইবনে জারীর- ১৮/২৯৬]

ইমাম ত্বাবরাণী রহ. হযরত উকবা বিন আমের রা. থেকে বর্ণনা করেছে যে,  রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- أتخوف على أمتي اثنتين: يتبعون الأرياف والشهوات، ويتركون الصلاة والقرآن يتعلمه المنافقون يجادلون به أهل العلم. اخرجه طبراني ,كنز العمال: ١١/١١٦ رقم ٣٠٨٤٢ -‘আমি আমার উম্মতের উপর দুটি বিষয় নিয়ে ভয় করি: (১) তারা গ্রামকে শহরে রুপান্তর (করার পিছনে পড়ে যাবে) ও নফসানী-খাহেশাতের অনুগত্য করবে এবং নামায ও কুরআন’কে ছেড়ে দিবে। (তখন মোক্ষম সুযোগ দেখে মুসলমানদের মধ্যে ফিতনা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে) মুনাফেকরা কুরআনের ইলম শিখে নিবে (এবং) তা দিয়ে আহলে-ইলম (হক্কানী আলেম)গণের সাথে বাকবিন্ডা করবে’। [ত্বাবরাণী: কাঞ্জুল উম্মাল– ৫/৬৪৫, হাদিস ৩০৮৪৬]

এদের যদি উদাহরণ চান, তাহলে বোঝার সুবিধার্থে কয়েক জনের নাম উল্লেখ করছি মাত্র। বুদ্ধি-সুদ্দি থাকলে বাকিদেরকেও চিনে নিতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। যেমন: বাংলাদেশের ‘শাহরিয়ার কবিব’, ভারতের ‘তারিক ফাতাহ’, আমেরিকার ‘উইলিয়াম বিল ম্যাহের’  (William Bill Maher), যুক্তরাজ্যের ইমাম তাউহিদী প্রমূখের নাম বিশেষভাবে নিতে পারেন।

এরা আসলে সমাজের হাতুরে ডাক্তার, যারা আল্লাহ তাআলার সৃষ্ট পৃথিবীতে ঘটিত যাবতীয় সমস্যা ও ফিতনা-ফাসাদের প্রকৃত কারণ ও সমাধান সম্পর্কে অজ্ঞ হয়েও সমাজ সংষ্কারের নামে যখন যা মনে করছে তা-ই চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। আর অপদার্থ রোগীরাও এসব হাতুড়ে ডাক্তারদের প্রেসকিপশন অনুযায়ী ঔষধ সেবন/ব্যবহার করে হাহাকার তুলছে -মরে গেলাম..অমাদেরকে বাঁচান!!! 

 

 

الله اعلم بالصواب و أخر دعوانا عن الحمد لله رب العالمين و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته و استغفر الله و أتوب إليه

 




ভারত -এর ৭টি কোম্পানী ISIS কে বিষ্ফোরক দ্রব্য সাপ্লাই দানে বিশ্বের ২য় বৃহত্তর দেশ

ভারত -এর ৭টি কোম্পানী ISIS কে বিষ্ফোরক দ্রব্য সাপ্লাই দানে বিশ্বের ২য় বৃহত্তর দেশ; ভারতের -এর ৭টি কোম্পানী এই Crime-এ জড়িত

কথায় আছে ‘চোরের মায়ের বড় গলা’। ‘বেটা বড় চোর হয়েও মানুষ হয়েছে’ -একথা জোর করে বিশ্বাস করে তার নির্লজ্জ মা’ যদি ‘চুরির বিরুদ্ধে’ বড় গলাবাজি করে এবং ‘চুরিকে না বলুন’ -এই কথাকে প্রচার করতে তাকে পাগলপানা দেখা যায়, তাহলে কেমটা লাগে…বলুন !!!

Conflict Armament Research (CAR) এবং EU-mandated study থেকে যেসকল তথ্য বেড়িয়ে এসেছে, তাতে দেখা যায়, সন্ত্রাসী সংগঠন Islamic State of Iraq and Syria (ISIS)-কে যে সকল দেশ বিষ্ফোরোক দ্রব্য তৈরীর উপাদান সরবরাহ করে আসছে, তাদের মধ্যে ভারত হল বিশ্বের ২য় বৃহত্তর দেশ ভারতের United Progressive Alliance (UPA) -এর শাসন আমলে ISIS-এর কাছে বিষ্ফোরোক ও এর উপাদান সাপ্লাই করা হয়েছে Improvised Explosive Devices (IEDs) প্রস্তুতের সহায়ক হিসেবে। ভারতের যে ৭টি কোম্পানী সরকারী নাইসেন্স নিয়ে ISIS-এর কাছে ৭০০ প্রকারের বিষ্ফোরোক দ্রব্য তৈরীর উপাদান সরবরাহের জমজমাট ব্যবসা করে যাচ্ছে, তাদের তালিকা দেয়া হল; (সাথে একটি মোবাইল কোম্পানীর নামও দেয়া হল)।  

 Indian Companies Supplying Materials 
Gulf Oil Corporation Detonating Cord
Solar Industries Detonating Cord
Premier Exprosives Detonating Cord & Detonators
Rajasthan Explosives & Chemicals Detonating Cord & Detonators
Chamundi Explosives Safety fuse
Economic Explosives Detonators
IDEAL Industrial Explosives Detonators
Nokia Solutions and Networks India Mobile Telephones 

 ISIS সন্ত্রাসীদের প্রায় সবাই ভারতের Nokia 105 RM-908 মোবাইল ফোন ব্যবহার করে যোগাযোগ রক্ষা করে দূরবর্তী জায়গায় বিষ্ফোরোন ঘটানোর জন্য।

বিস্তারিত জানার জন্য নিদেনপক্ষে নিম্নোক্ত ওয়েব পেজগুলো একবার হলেও চেক করে দেখুন:-

ভারতের বাবরী মসজীদ’কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট গুজরাট রায়োটের প্রধান হোতা নরেন্দ্র মোদী সাহেব খুব চিন্তিত ডা. জাকির নায়েককে নিয়ে, কারণ হিসেবে তার সরকার দালাল মিডিয়ার সাহায্যে একথা প্রচার করছে যে, ঢাকার হোলি আর্টিজেনে সন্ত্রাসী হামলাকারীদের একজন নাকি ডা. জাকির নায়েকের লেকচার দ্বারা প্রভাবিত ছিল। একথার প্রধান সূত্র তারা পেয়েছিল বাংলাদেশের ডেইলি-ষ্টার পত্রিকায়, আর সেটাকেই মোক্ষম সুযোগ হিসেবে লুফে নিয়েছিল। যারা বিবেককে আজও টাকার কাছে বিক্রি করেনি, সেসকল সচেতন বুদ্ধিমান মানুষ মাত্রই জানে আজকের খবিস রাজনীতি ও মিডিয়া ময়দানে তারাই রাজার হালে টিকে আছে যারা প্রতিনিয়ত মিথ্যা কথা বলে, উপর্যুপুরি প্রতারনামূলক প্রচারণার আশ্রয় নেয়, ঘটনা ঘটায় ও নিউজ বানায়, ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে গুন্ডামী ও বাটপারী করতে পারে, পারে সিমারের পাষাণ হার্ট নিয়ে মানুষ খুন করতে বা করাতে।

নরেন্দ্র মোদী ও তার সরকার বাস্তবেই কি আই.এস.আই.এস’কে নিয়ে খুব চিন্তিত বলে মনে করে আছেন ? নাকি তিনি তাদের সাথে গড়াগড়ি খেয়ে অস্ত্র ব্যাবসা চালাচ্ছেন ধুমিয়ে।

ইন্ডিয়া / ভারত’কে চিনতে ভুল করছেন নাতো ?!!! এত লোক থাকতে বিশেষ করে ডা. জাকির নায়েকের পিছনে লাগার নেপথ্য কারণ কি মনে করেছেন ডেইলি-ষ্টার পত্রিকার ওই মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয়ে প্রকাশিত ওই নিউজটি ? যারা আই.এস.আই,এস-কে বিষ্ফোরোক দ্রব্য সাপ্লাইয়ের এত জমজমাট ব্যাবসা করার কাজে বিশ্বের ২য় বৃহত্তর দেশ, তাদের গোয়েন্দা সংস্থা র’-এর নজরে কি এত বড় খরর নেই বলে মনে করেন? আপনি কি মনে করে বসে আছেন যে, বাংলাদেশে র’-এর গোয়েন্দারা ছদ্দবেশে নেই? রামপাল-বিদ্যুতকেন্দ্রের পুরো প্রজেক্টটিকে ভারতের কয়েকজন ব্যবসায়ীর হাতে দেয়ার বিষয়টিকে আওয়ামী হাসিনা সরকার কার্যকরী করতে পারছিল না বাংলাদেশের সচেতন জনগণের বিরোধীতার মুখে, সেখানে গুলশানের হোলি আর্টিজেনে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটির মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই কাউকে কিছু না জানতে বা বলবার সুযোগ না রেখে আওয়ামী হাসিনা সরকার চোরের মতো ভারতের সাথে রামপাল-বিদ্যুতকেন্দ্রের চুক্তি পাকাপোক্ত করে ফেললো ! তাহলে, গুলশানের হোলি আর্টিজেনে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটি কি জনগণের নজর অন্যদিকে ব্যাস্ত রাখার নাট্য-কৌশল ছিল, যাতে বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্বকে ওসব বিষয়কে কেন্দ্র করে মনমগজ ব্যাস্ত রাখে, আর এদিকে ভারতের ব্যবসায়ীদের সাথে রামপাল-বিদ্যুতকেন্দ্রের চুক্ত ‘র কাম সেরে নেয়া যায় চট করে? হাসিনা বাস্তব কথাই বলেছে- ’আমরা ভারতকে যা দিয়েছি সেটা ভারত সারা জীবন মনে রাখবে’। তা-ই বৈকি আফা !!!!

 

الله اعلم بالصواب و أخر دعوانا عن الحمد لله رب العالمين و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته و استغفر الله و أتوب إليه




একদম ছোটদের (الأصَاغِرُ) থেকে ইলমে দ্বীন শিক্ষা কেয়ামতের আলামত

একদম ছোটদের (الأصَاغِرُ) থেকে ইলমে দ্বীন শিক্ষা কেয়ামতের আলামত

ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. তাঁর কিতাব ‘আল-যুহদ’-এ উত্তম সনদে হযরত আবু উমাইয়্যাহ আল-যামহী রা.-এর  সূত্রে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন-

إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ ثَلاثًا : إِحْدَاهُنَّ أَنْ يُلْتَمَسَ الْعِلْمُ عِنْدَ الأصَاغِرِ- أخرجه ابن المبارك في ” الزهد ” ٦١ , و عنه أبو عمرو الداني في ” السنن الواردة في الفتن “٢/٦٢ رقم ٤٣٨, و اللالكائي في ” شرح أصول السنة ” ١/٢٣٠ كواكب ٥٧٦, قال الألباني في “السلسلة الصحيحة” ٢/٣١٦: قلت اسناده جيد, والطبراني في الكبير ٢٢/٣٦١، ابن عبد البر في جامع بيان العلم وفضله: ٢/٢٤٩ , الهيثمي في المجمع ١/١٣٥,

‘কেয়ামতের লক্ষনসমূহের মধ্যে তিনটি লক্ষন আছে, যার একটি হল- (দ্বীনের) ইলম’কে একদম ছোটদের কাছে তলব করা হবে’। [আল-যুহদ, ইবনুল মুবারকহাদিস ৬১; ‘আস-সুন্নাহ, ইমাম দানী-২/৬২, হাদিস ৪৩৮; শারহু উসূলীস সুন্নাহ, আলকানী-১/২৩০, কাওয়াকিব ৫৭৬; আল-মু’জামুল কাবির, ত্বাবরানী-২২/৩৬১; জামেঊ বায়ানিল ইলম, ইবনে আব্দল বার-২/২৪৯; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ১/১৩৫]

এখানে الأَصَاغِرُ (একদম ছোট) বলতে বুঝানো হয়েছে তাদেরকে যারা দ্বীনের ইলমী ময়দানে বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ নয় বরং শিশু ; যাদের ইলমী বিষয়ে মুখ খোলা সাজে না, বরং একদম অনধিকারচর্চার পর্যায়ে পড়ে। এখানে বেশি বা কম বয়স মুখ্য বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হল ইলমী পান্ডিত্ব ও গভীরতা থাকা-নাথাকা। যদি বয়সে কম হয়েও কেউ বয়ষ্কদের চাইতে ইলমী ময়দানে বেশি পান্ডিত্ব ও গভীরতার অধিকারী হয়, তাহলে সে এর মধ্যে গণ্য নয়।

ইমাম ইবনে আব্দুল বার রহ. উপরোক্ত হাদিসটি সনদ সহ বর্ণনা করার পর লিখেছেন- . قَالَ نُعَيْمٌ : قِيلَ لابْنِ الْمُبَارَكِ : مَنِ الأَصَاغِرُ ؟ قَالَ : الَّذِينَ يَقُولُونَ بِرَأْيِهِمْ ، فَأَمَّا صَغِيرٌ يَرْوِي عَنْ كَبِيرٍ فَلَيْسَ بِصَغِيرٍ . وَذَكَرَ أَبُو عُبَيْدٍ فِي تَأْوِيلِ هَذَا الْخَبَرِ ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُ كَانَ يَذْهَبُ بِالأَصَاغِرِ إِلَى أَهْلِ الْبِدَعِ وَلا يَذْهَبُ إِلَى السِّنِّ ، – নুয়াইম রহ. বলেছেন যে, ইবনে মোবারক রহ.-কে জিজ্ঞেস করা হলالأَصَاغِرُ (একদম ছোট) কারা? তিনি বললেন- الَّذِينَ يَقُولُونَ بِرَأْيِهِمْ ، فَأَمَّا صَغِيرٌ يَرْوِي عَنْ كَبِيرٍ فَلَيْسَ بِصَغِيرٍ যারা (শরীয়তের ইলমে বিশেষজ্ঞ না হওয়া সত্ত্বেও শরীয়তের ব্যাপারে) নিজেদের মত/রায় পেশ করে কথা বলে। তবে যে সকল ছোটরা (নিজেরা কোনো দেওয়ানী না করে বরং শরীয়তের ইলমে অভিজ্ঞ আলেম যাঁরা সেই) বড়দের কাছ থেকে (কোনো বিষয়ে শরয়ী সিদ্ধান্ত কী -তা জেনে নিয়ে অন্যকে ) মতামতটি বলে দেয় সে (হাদিসে উল্লেখিত) ছোট’র মধ্যে গণ্য নয়  ইমাম আবু  উবাইদ রহ. এব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা এনেছেন। ইবনে মুবারক রহ. থেকে الأَصَاغِرُ (একদম ছোট) সম্পর্কে এই ব্যাখ্যাও বলা হয়েছে যে, তারা হল أَهْلِ الْبِدَعِ (বিদআত-এর ধারক-বাহক), আর এটা কোনো বয়সের সাথে সম্পৃক্ত নয়, (বরং বয়ষ্ক, যুবক, বালক যে কোনো বয়সের হতে পারে)। [জামেঊ বায়ানিল ইলম, ইবনে আব্দল বার-২/২৪৯]

الأَصَاغِرُ (একদম ছোট)-এর মধ্যে যারা অেন্তর্ভূক্ত হতে পারে তাদের নমুনা নিম্নরূপ-

(ক) জাহেল (মুর্খ)– শুধুমাত্র মস্তিষ্কের যুক্তি দিয়ে শরীয়তের বিভিন্ন বিষয়ে মত দেয়, আর বলে যে -‘আমার মতে (!) অমুক ব্যাখ্যা বা মতটি সঠিক!! অমুক অমুক আলেমের মতটি ভুল!!’

(খ) কিছু ইলম আছে– এর উপর ভিত্তি করেইে সে ভেবে আছে যে সে ‘জানে’, আর এর সাথে কিছুটা মস্তিষ্কের যুক্তি দিয়ে শরীয়তের বিভিন্ন বিষয়ে মত দেয়, আর বলে যে -‘আমার মতে (!) অমুক ব্যাখ্যা বা মতটি সঠিক!! অমুক অমুক আলেমের মতটি ভুল!!’

(গ) ফাসেক আলেম– ইলমের প্রসস্থতা আছে কিন্তু বাছিরাত/গভীরতা নেই। নেকির সাথে সাথে স্বভাবে ফিসক ও গোনাহ’র মাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমানে থাকায় অন্তকরণ ইলমী গাম্ভির্যতা ও নূর থেকে মাহরুম হয়ে আছে, কিন্তু তার ধারনা সে আলেম এবং যে কোনো ইলমী বিষয়ে মুখ খোলার অধিকার তার আছে। ফলে বলে যে -‘আমার মতে (!) অমুক ব্যাখ্যা বা মতটি সঠিক!! অমুক অমুক আলেমের মতটি ভুল!!’ এদের থেকে বিদআত ও পথভ্রষ্ঠতা ছড়ায় বেশি। 

(ঘ) মুনাফেক আলেম: শাসকদের দরবারী আলেম (!), যারা শরীয়তের হিফাজত না করে উল্টো শাসকদের মনতুষ্টির জন্য শরীয়তের অপব্যাখ্যা করে শাসকদের শরীয়ত-বিরোধী মতবাদ ও কু’কর্মগুলোর তোষামেদি করে এবং এর বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে যত সামান্য কিছু সম্মান ও সম্পদ লাভ করে থাকে। এরা দুনিয়ার বিনিময়ে আখেরাতকে পরিত্যাগ করে। 

উপরোক্ত এই শ্রেণীগুলি বাস্তবে আলেম নয়, এরা হল বিদআত ও গোমরাহীর একেকটা দোকানদার। যারাই এদের থেকে ইলম গ্রহন করবে, তারাও বিদআত ও পথভ্রষ্ঠতার আরো অতল গহবরে তলিয়ে যাবে।

 

 

الله اعلم بالصواب و أخر دعوانا عن الحمد لله رب العالمين و الصلاة و السلام على رسوله محمد و على أله و أمّته و استغفر الله و أتوب إليه